শিরোনাম

বাংলাদেশ

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রছাত্রীদের পুনর্মিলনী ২৩ অক্টোবর

সংবাদ রিপোর্ট: যুক্তরাজ্যে বসবাসরত হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রছাত্রীদের উদ্যোগে বার্মিংহামের ইকবাল 7b2a2065-7158-4324-852e-66e627b61a9cব্যাংকুয়েটিং হলে আগামি ২৩ অক্টোবNewcastleর সোমবার এক পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত ইনাতগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অত্র এলাকার সর্ব স্তরের মানুষকে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিতব্য এই পুনর্মিলনী সভাকে সাফল্যমণ্ডিত করার লক্ষে বার্মিংহাম, লন্ডন, নিউক্যাসল, লুটন, কার্ডিফসহ বিভিন্ন শহরে সাবেক শিক্ষার্থী, স্কুলের দাতাগণ, অভিভাবকমণ্ডলী ও শুভাকাঙ্খিদের সমন্বয়ে কয়েকটি প্রস্তুতি সভা অনুুষ্ঠত হয়। এতে সাবেক শিক্ষার্থীসহ ইনাতগঞ্জ এলাকার ব্যাপকসংখ্যক লোক সমাগমের আশা করা যাচ্ছে।

নবীগঞ্জে ঘরে আগুন থানায় অভিযোগ বৃষ্টির মধ্যে ছিলনা বিদ্যুৎ ভেন্টিলেটার ভাঙ্গা নিয়ে রহস্য

উত্তম কুমার পাল হিমেল- নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ)থেকেঃ নবীগঞ্জ পৌর শহরে ‘রহস্যজনক ভাবে’ ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে একটি বসত ঘর সম্পূর্ণ পুঁড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে পৌর শহরের আনমনু রোডে শিবপাশা এলাকায় হিমাশু শেখর দাশ’র বসত ঘরে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কম পক্ষে ২০ লক্ষাধীক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয়দের। অনেকেই বলছেন, গ্যাসের চুলা থেকে আগুনের সুত্রপাত আবার কেউ কেউ তা মানতে নারাজ কারণ যখন অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে তখন বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল। এর মধ্যে ভেন্টিলেটার ভাঙ্গা নিয়েও নানা রহস্যের ধাঁনা বেধেছে। ঘটনার খবর পেয়ে সরজমিনে পরিদর্শন করেছেন সিলেট এর এডিশনাল ডিআইজি নজরুল ইসলাম ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে নবীগঞ্জ পৌর এলাকার শিবপাশা আনমনু রোডের দিবাংশু শেখর দাশ রিন্টু’র বাড়ির লোকজন ঘরে তালা দিয়ে দুর্গাপূজা উৎযাপন করতে আশেপাশের পূজা মন্ডপে যান। রাত সাড়ে ৮ টায় হঠাৎ দিবাংশু শেখর দাশ এর বাড়িতে দাউ দাউ করে আগুন জ¦লতে দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। তখন তাদের পরিবারের সদস্যরা অনুপস্থিত ছিল। মূহুর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা দাউ দাউ করে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে আশেপাশের মানুষ ওই বাড়ীতে দৌড়ে ছুটে আসেন। অনেক চেষ্টা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ব্যর্থ হয়ে নবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। এর কিছুক্ষনের মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে প্রাণপন প্রচেষ্টায় ১ ঘন্টা পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হন। কিন্তু এর আগেই হিমাংশু শেখর দাশ’র বসত ঘর সম্পূর্ণ পুঁড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে, স্বর্ণ, আসবাবপত্র, কম্পিউটার, নগদ অর্থ সহ অন্তত ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয় ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হয়েছে ।
দিবাংশু শেখর দাশ ও স্থানীয়দের ভাষ্যে দীর্ঘদিন ধরে তাদের জায়গা জমি সহ বিভিন্ন বিষয়াদী নিয়ে এলাকার কয়েক পক্ষের সাথে বিরুধ চলে আসছে। এই অগ্নিকান্ড কোন শত্রুপক্ষের ষড়যন্ত্রও হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। কারন অগ্নিকান্ডেরে সময় বৃষ্টি হচ্ছিল এমনকি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও বন্ধ ছিল। তবে অবাক কান্ড হচ্ছে একটি ভেন্টিলেটারে ভাঙ্গার কিছু আলামত পাওয়া গেছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ব্যাপারে দিবাংশু শেখর দাশ রিন্টু বাদী হয়ে গত শনিবার নবীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ তৈয়ব আলী হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনি । তবে কিভাবে আগুনের সূত্রপাত হয় তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছেনা।
এদিকে এ ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন, সিলেট এর এডিশনাল ডিআইজি নজরুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর চৌধুরী, থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম আতাউর রহমান, পৌর সভার মেয়র আলহাজ্ব ছাবির আহমদ চৌধুরী, বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, নবীগঞ্জ উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নারায়ন রায়,সাধারন সম্পাদক উত্তম কুমার পাল হিমেল, পৌর সভার প্যানেল মেয়র এটিএম সালাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ মিলুুসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বঙ্গবন্ধু তনয়াদের আন্দোলন-সংগ্রাম-সফলতার কাহিনী নিয়ে লন্ডনে যুদ্ধজয়ের গল্প —–সুজাত মনসুর

স্বপ্নটি দীর্ঘদিন অন্তরে লালিত ছিলো। বঙ্গবন্ধু তনয়াদের আন্দোলন-সংগ্রাম-সফলতার কাহিনী নিয়ে নতুন প্রজন্মকে সংশ্লিষ্ট করে একটা কিছু করা যায় কি না। তবে অবশ্যই গতানুগতিকার বাইরে গিয়ে, চর্বিত-চর্বনের মত একই কথা বারবার পুরনো স্টাইলে(বক্তৃতা) না বলে ভিন্ন আঙ্গিকে বলা। যা সহজেই মানুষের মনের গভীরে আঘাত করে। আমি মনেকরি সঙ্গীত হলো সবচেয়ে উত্তম মাধ্যম, যা অত্যন্ত সহজেই মানুষের মনের গভীরে আঘাত করতে পারে। আরেকটি বিষয় মাথায় ছিলো, নতুন প্রজন্মকে যদি আমাদের কাজে-কর্মে সংশ্লিষ্ট না করা যায় এবং তাদের নিকট যদি দেশমাতৃকাকে ইতিবাচক(পজিটিভ) ভাবে তুলে না ধরা যায় তাহলে, আমরা যখন থাকবো না তখন আমাদের সন্তানরা(প্রবাসী) আর শেকড়ের সাথে, আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সাথে তাদের অন্তরের টান অনুভব করবেনা, এমনকি এখনো করে না। কিভাবে নতুন প্রজন্মকে, বিশেষ বিলেত প্রবাসী নতুন প্রজন্মকেও আমাদের স্বপ্নের ভাগিদার করা যায়, তাদের মতো করে আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, সাহিত্য, উন্নয়ন-অগ্রগতি জানতে পারে সে চিন্তাটাও ছিল। সেই স্বপ্নেরই সফল রূপায়ন হলো, গত ২৪শে সেপ্টেম্বর লন্ডনে যুদ্ধজয়ের গল্প শীর্ষক একটি সফল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। যেখানে মুলতঃ গানে গানে আর শিশু-কিশোর রচনা, বক্তৃতা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু তনয়াদের আন্দোলন-সংগ্রাম-সফলতা, বাংলাদেশের চলমান অগ্রগতি ও সম্ভাবনা, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু। একথায় বলা যায় সমগ্র বাংলাদেশকে। যুদ্ধজয়ের গল্পের গর্বিত ভাগিদার হতে ছুটে এসেছিলেন লন্ডনসহ বিলেতের বিভিন্ন শহর থেকে ছেলেমেয়েদের নিয়ে অভিভাবকরা। এসেছিলেন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, কবি-সাহিত্যিক-সাংবাদিক। অনুষ্ঠানটি ছিলো সত্যিকার অর্থেই ব্যতিক্রমি। ছিলো চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতা।
শিশু-কিশোরদের বক্তৃতা আর এক ঝাঁক গানের পাখির পরিবেশনায় সম্পুর্ন নতুন গানের পরিবেশনা। যে গানগুলো লিখেছেন বিলেতের গীতিকাররা। সুরও করেছেন শিল্পী-গীতিকার মিলে সম্মিলিতভাবে। যাকে একটি সফল টিম ওয়ার্ক বলে আখ্যায়িত করা যেতে পারে। ছিলো এক ঝাঁক প্রতিশ্রুতিশীল মুজিব সৈনিকদের অক্লান্ত পরিশ্রম। অনুষ্ঠানে যুদ্ধজয়ের গল্প নামে একটি সংকলনও প্রকাশিত হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া প্রতিটি শিশু-কিশোরকে মেডেল ও বিশেষ পুরষ্কার প্রদান করা হয়। চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতায় যারা বিজয়ী হয়েছে তারা হলো, সুস্মিতা ধর, অন্তুজিত চক্রবর্তী, ইব্রাহিম তালুকদার, মেহা রুজিনা খান, অভিজিত চক্রবর্তী, মাহিন, মাহি আলম, সাহার সরদার ও হেনা আল বাসিত। রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরা হলো মোহনা হোসেন মিলি, মাহি মোহাম্মদ, নাবিদ নেহাল ইসলাম, সুপ্রত মনসুর, ফাইজা খান, অভিজিত চক্রবর্তী, নাফিসা ইসলাম, মাহি আলম, শফি মোহাম্মদ ও উদিতা মন্ডল গত তিনটি মাস ধরে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আমাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে গুরুত্ব অবদান রেখেছেন এবং গানে গানে মানুষের মনে এক নতুন ধরনের অনুভুতির সঞ্চালন করতে পেরেছেন তারা হলেন, নবগঠিত সোনারতরী শিল্পী গোষ্ঠির আহ্বায়ক শর্মিলা দাশ, যুগ্ম আহ্বায়ক রুমি হক, সদস্য সচিব অবিনাশ রায়, সদস্য সিলভি ইকবাল, সীমা চৌধুরী, কৃষ্ণা সাহা, ফুয়াদ মনি, উর্মি ধর, মোহাম্মদ উজ্জল। গান লিখেছেন মুজিবুল হক মনি, সৈয়দ দুলাল, আহমেদ হোসেন বাবলু, একেএম আব্দুল্লাহ, এম মোসাইদ খান, জুয়েল রাজ, আফিয়া বেগম শিরি ও সৈয়দ হিলাল সাইফ। পুরো অনুষ্ঠানটি যিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার শেষে সমন্বয় করেছেন তিনি হলেন, বঙ্গবন্ধু লেখক এবং সাংবাদিক ফোরাম, গ্রেটার লন্ডন কমিটির সভাপতি বাতিরুল হক সরদার। সার্বিক উপস্থাপনায় আমাদের সাথে ছিলেন হেনা বেগম ও নাজরাতুন নাঈম ইসলাম। রচনা প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করেন আনসার আহমেদ উল্লাহ। যন্ত্রে ছিলেন জুন, সাগর ও রিয়াজ। শিশু-কিশোরদের মধ্যে যারা বক্তব্য রাখেন, তারা হলেন, মাহি আলম, নাবিদ নেহাল ইসলাম, মোহনা হোসেন মিলি, অভিজিত চক্রবর্তী ও শফি মোহাম্মদ। এই পর্বের সুচনা বক্তব্য রাখেন তরুন প্রজন্মের প্রতিনিধি সেজুতি মনসুর। এদের সবার বক্তব্য বিশেষভাবে সমাদৃত হয়েছে। অতিথিদের মধ্যে যারা বক্তব্য রাখেন তাদের মধ্যে সাবেক এমপি সৈয়দা জেবুন্নেসা হক, জননেতা সুলতান মাহমুদ শরীফ, সিতাব চৌধুরী, সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, খালেদা মুশতাক কোরেশি, আব্দুল আহাদ চৌধুরী, বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরাম, ইউকের সভাপতি মোহাম্মদ মনির হোসেইন। উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী ও গ্রেটার সাসেক্স যুবলীগের সভাপতি ফয়সাল আম্বিয়া টিটু হলেন আমাদের মুল স্পন্সর। এটিএন বাংলা ইউকে ছিল মিডিয়া পার্টনার। যুদ্ধজয়ের গল্পে শরিক হতে ছুটে এসেছিলেন বার্মিংহাম থেকে কাবুল ভাই, লুৎফুর রহমান শিরণ চৌধুরী, শরীফ, শেবুল চৌধুরী, ফিরোজ রব্বানী, রাশিয়া খাতুন, জুবের আলম, মোহাম্মদ আলী, আশেক আলী। ওল্ডহাম থেকে আফিয়া বেগম শিরি, ব্রাইটন থেকে কয়েস আহমেদ, মোহাম্মদ আতিক। এনফিল্ড থেকে নাজমুল হোসেন চৌধুরী, সুহেল আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী খোকন, মিজানুর রহমান প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য মহিলা আওয়ামী লীগের হুসনা মতিন, আঞ্জুমান আরা অঞ্জু, নাজমা হোসেন, সাবেক মেয়র মোহাম্মদ শহীদ আলী, কবি ময়নুর রহমান বাবুল ও মোহাম্মদ ইকবাল, যুক্তরাজ্য যুবলীগের ফখরুল ইসলাম মধু ও সেলিম আহমেদ খান, শ্রমিক লীগ নেতা সামসুল ইসলাম চৌধুরী।3
বঙ্গবন্ধু লেখক এবং সাংবাদিক ফোরাম, ইউকের সবাই অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন বিশেষ করে মতিয়ার চৌধুরী, হেমায়েত উদ্দিন খান হিমু, তওহীদ ফিতরাত হোসেন, একেএম আব্দুল্লাহ, শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল, জামাল খান, মীরা বড়ুয়া প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শিল্পী-গীতিকার-সুরকার-যন্ত্রশিল্পীদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অত্যন্ত প্রতিশ্রুতি ও নির্ভরশীল দম্পতি সম্মাননায় ভুষিত হন বাতিরুল হক সরদার এবং রুমি হক। যারা অর্থ দিয়ে ও বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

নবীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ) প্রতিনিধিনবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারন সভা গতকাল শুক্রবার সকালে অনুষ্ঠিত হয়। নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ আহমদ আজাদ সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, দৈনিক আমাদের সময় পত্রিকার নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ও সাধারণ সম্পাদক সলিল বরন দাশ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ সরওয়ার শিকদার (দৈনিক যুগান্তর), সহ-সভাপতি এম মুজিবুর রহমান (দৈনিক আমার সংবাদ), সহ-সভাপতি এম,এ মুহিত, যুগ্ম সম্পাদক মতিউর রহমান মুন্না (বাংলা টিভি (ইউকে)/দি বাংলাদেশ টুডে), অর্থ সম্পাদক আকিকুর রহমান সেলিম (দৈনিক বিজয়ের প্রতিধ্বনি), অফিস সম্পাদক এটিএম জাকিরুল ইসলাম (দি ইন্ডিপেন্ডেন্ট/শাখা বরাক), সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক সুলতান মাহমুদ (দৈনিক প্রতিদিনের বাণী)। নির্বাহী সদস্য নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক এম, মছদ্দর আলী, দৈনিক বিবিয়ানার সম্পাদক ফখরুল ইসলাম চৌধুরী, সাইফুল জাহান চৌধুরী (দৈনিক ইত্তেফাক) ফখরুল আহসান চৌধুরী (দৈনিক ইনকিলাব), এটিএম সালাম (দৈনিক আলোকিত সময়/হবিগঞ্জের জনতার এক্সপ্রেস), উত্তম কুমার পাল হিমেল (দৈনিক উত্তর পূর্ব/দৈনিক খোয়াই), রাকিল হোসেন (চ্যানেল এস ও দৈনিক সিলেটের ডাক), আশাহীদ আলী আশা (দৈনিক স্বদেশ বার্তা), শাহ মনসুর আলী নোমান (দৈনিক খবর পত্র) শেখ মোঃ শামছুল ইসলাম ( দৈনিক ঢাকা) মোঃ আবু ইউসুফ ( জনতার দলিল) দৈনিক বিবিয়ানার বার্তা সম্পাদক মোঃ হাবিবুর রহমান চৌধুরী শামীম ( দৈনিক খবর বাংলাদেশ) নিয়ামুল করিম অপু (দৈনিক তরফ বার্তা) শওকত আলী (দৈনিক সংগ্রাম) মিজানুর রহমান সোহেল(সময়ের বানী)

মা

রোহিঙ্গা নারীকে জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হন আয়েশা বেগমের স্বামী, বাবা ও ভাই। দুই সন্তানকে নিয়ে কোনো রকমে প্রাণ বাঁচাতে পেরেছেন তিনি। এরপর মিয়ানমারের মংডু খয়েরিপাড়ার এই রোহিঙ্গা নারী দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাছে পেয়ে আয়েশা চোখের সামনে স্বজন হত্যার মতো নিজের জীবনের নির্মমতা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে এ সময় শেখ হাসিনাও নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। আয়েশাকে জড়িয়ে ধরে তিনি কেঁদে ফেলেন। সঙ্গে থাকা ছোট বোন রেহেনাও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। পরে দুই বোন আয়েশাকে সান্ত্বনা দেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় আয়েশা ছাড়াও ১২ রোহিঙ্গা নারী-শিশু ও আহত পুরুষদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।এ সময় তারাও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে পরিবারের সদস্যদের করুণ মৃত্যুর বর্ণনা করেন।
তাদের কাছেও নির্যাতনের বর্ণনা শুনে প্রধানমন্ত্রীর চোখে পানি চলে আসে।নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলা শেষে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানান।প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের কোনো অন্যায় মেনে নেওয়া হবে না বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।যতদিন মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে পারবে না, ততদিন তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা থেকে বিমানযোগে কক্সবাজার যান প্রধানমন্ত্রী। পরে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে তিনি উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে যান।সেখানে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করে তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।উল্লেখ্য, বিগত কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধদের নির্যাতন বেড়ে গেছে। সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযানে অন্তত ৩ হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। আর প্রাণ বাঁচাতে ৩ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।জাতিসংঘ মিয়ানমারের এই হত্যাযজ্ঞকে ‘জাতিগত গণহত্যা’ উল্লেখ করেছে।

রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে প্রবীণ সাংবাদিক ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সালেহ চৌধুরীর

সুনামগঞ্জ: রবিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বাদ যোহর মরহুমের নিজ গ্রাম সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার গচিয়া বাজার মাঠে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিপুল মানুষের সমাগম ঘটে। জানাজা শেষে গ্রামে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকায় মারা যান সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী। সেখানে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় প্রথম জানাজা ও জাতীয় প্রেসক্লাবে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিক সালেহ চৌধুরীর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাবিরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম. এনামুল কবির ইমন, দিরাই উপজেলা চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরু, উপজেলা চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক, সুনামগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি আবু সুফিয়ান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সদস্যসচিব মালেক হুসেন পীর, অভিনেতা ফজলুল কবির তুহিন প্রমুখ।জানাজার আগে তার মরদেহে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয় বিভিন্ন সংগঠন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পরে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে ৬ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জে যে অনন্য শহীদ মিনার নির্মিত হয় তার নক্সাকার ছিলেন। সবুজ জমিনে লালবৃত্তের উপরে লেখা ‘যাদের রক্তে মুক্ত এ দেশ’ তার দেওয়া স্লোগান।এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অপরাজেয় বাংলার’ নামকরণও তিনি করেছেন। বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী সাংবাদিক সালেহ চৌধুরী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গঠিত সেক্টরস কমান্ডার ফোরামের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আল্টমাস লেলিনের কবিতা

Lelin 2

 

 

আল্টমাস লেনিন

একাকিত্ব

 
একাকিত্ব আমার ভাল লাগে
কখনো কখনো,
যখন আমি নস্টালজিয়ায় ভোগী।
মনে পরে যায় অনেক কথা,
অনেক হাসি, অনেক কান্না
অনেক স্মৃতি বিজরীত ঘটনা-দূর্ঘটনা।
সে সব কথা ভেবে কখনো আনন্দের
এক চিলতে হাসি ফুটে উঠে।
আবার কখনো কষ্টের নীলিমায়
নীলাম্বরী হয়ে চোখ দুটি অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠে।
হাতছানি দিকে অতীত যেন ডেকে বলে,
এসো, এসো আমার মনের গহীনে
অবগাহন করে আমায়।
অনেক মুখচ্ছবি ভেসে উঠে মনের আয়নায়,
আবার অনেক মুখচ্ছবি মলিন হতে গেছে,
স্মৃতি যেন খুঁজে ফিরে বেড়ায় তাদের।
করতোয়া নদী হতে বংশী নদী পর্যন্ত
কত না সুখ- দুঃখ- আনন্দে ঘেরা স্মৃতি
আজ বেদনার নীল কারাগারে বন্দী।
আজ আমি একা, বড্ড একা
আমার একাকিত্বের অংশিদার
শুধু আমিই একা।।।

বহুল আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

ঢাকা সংবাদদাতাঃ রাজধানীর পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে বহুল আলোচিত দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এ মামলায় নিম্ন আদালতে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। রোববার বিকালে বিচারপতি মো: রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর যুগ্ম-বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই মামলায় নিম্ন আদালতে রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জিএম রাশেদুজ্জামান শাওন এবং মীর মো. নূরে আলম লিমনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে।এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কাইয়ুম মিঞা টিপু ও সাইফুল ইসলামকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে এএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফাকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।তবে নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বাকি ১১ আসামি কোনো আপিল না করায় তাদের বিষয়ে মন্তব্য করেননি আদালত। এর ফলে এসব আসামির যাবজ্জীবন সাজা বহাল থাকছে।যাবজ্জীবন বহাল থাকা আসামিরা হলেন- ইউনুস আলী, তারিক বিন জোহর তমাল, আলাউদ্দিন, ওবায়দুর কাদের তাহসিন, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল-আমিন, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, মোশাররফ হোসেন ও কামরুল হাসান। এদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও করা হয়।উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রলীগ কর্মীরা নির্মমভাবে খুন করেন দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে।বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ছাত্রলীগের ২১ কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই ২১ আসামির মধ্যে ৮ জন কারাগারে এবং বাকিরা পলাতক।গত ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার চার নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক।রায়ের এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ড সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা।গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা।এরপর ১৬ মে হাইকোর্টে বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু হয়। গত ১৭ জুলাই উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইট কমিশন যুক্তরাজ্য শাখা’র মতবিনিময় সভা

লন্ডনঃ যেখানেই মানবতা লংঘিত হচ্ছে সেখানেই হিউম্যান রাইট কমিশন। বাংলাদেশ হিউম্যানরাইট কমিশন জন্মলগ্ন থেকে মানব সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। এমন্তব্য লন্ডন সফররত বাংলাদেশ হিউম্যানরাইট কমিশন হবিগঞ্জ জেলা ইউনিট প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট সাংবাদিক ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হারুনুর রশিদ চৌধুরী’র। তিনি বলেন, সমাজ থেকে অন্যায়, অনিয়ম এবং অবিচার দূর করতে হলে প্রতিটি মানবাধিকার কর্মিকে প্রকৃত সেবার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সেন্ট্রাল লন্ডনের ডামন স্ট্রিটের ফালাহিল কাফে রেস্তোঁরায় বাংলাদেশ হিউম্যানরাইট কমিশন যুক্তরাজ্য শাখা আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এমন্তব্য করেন।
তিনি হবিগঞ্জে হিউম্যান রাইটকমিশনের কার্য্যক্রমের বিবরন তুলে ধরে বলেন হিউম্যানরাইট কমিশন হবিগঞ্জ ইউনিট অসহায় ও অতিদরিদ্রদের জন্যে বিনামূল্যে আইনী সেবা চালু করেছে আর এতে এগিয়ে এসেছেন হবিগঞ্জ বারের কয়েকজন আইনজীবি। তিনি বলেন জেলার সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি মাসের শেষ শনিবার হবিগঞ্জ জেলা ইউনিট নিয়মিত সভা করে থাকে। তিনি যুক্তরাজ্যের হিউম্যান রাইট কমিশনের সদস্যদের বাংলাদেশে গেলে হবিগঞ্জ ইউনিট পরিদর্শনের আহবান জানান। বাংলাদেশ হিউম্যানরাইট কমিশন যুক্তরাজ্য শাখার প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আব্দুল আহাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী জেনারেল তারাউল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএইচআরসি‘র ইউরোপীয়ান এম্বেসেডর সহিদুর রহমান, বিএইচআরসি ইংল্যান্ড শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, সেক্রেটারী আব্দুল হাফিজ বক্কর, প্রেস সেক্রেটারী সাংবাদিক ফজলুল হক,ইউকে শাখার উপদেষ্টা শাহাব উদ্দিন সাবুল, ইউকে শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা চৌধুরী, কবীর মিয়া , কুতুব উদ্দিন প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল আহাদ চৌধুরী ইউকে এবং ইউরোপে বিএইচআরসি‘র কার্য্যক্রম তুলে ধরে বলেন ইংল্যান্ড এবং ইউরোপে বিএইচআরসি‘র শতাধিক সদস্য কাজ করছেন, তিনি তাঁর বক্তব্যে ইসরাইলী সেনাবাহিনী কর্তৃক পিলিস্থিনীদের উপর নির্যাতন ও মসজিদে নামাজ আদায় করতে বাধা প্রদানে উদবেগ প্রকাশ করেন।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ২৬১ জনের অপরাধের তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের সাথে সম্পৃক্ত থাকা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ২৬১ জনের তালিকা ও অপরাধের তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিচারের দাবিতে ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন’ নামের সংগঠন গঠন করেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। এরপর পালিয়ে যাওয়া পাকিস্তানি সেনাদের বিচারের দাবিতে ২১ দফা কর্মসূচী পালন করে আসা সংগঠনটি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
মাহবুব উদ্দিন বীরবিক্রমকে আহবায়ক, ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন বীর উত্তম ও হাবিবুল আলম বীর প্রতীককে সদস্য করে গঠন করা ওই তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ কমিটিই ২৬১ জন পাকিস্তানি সেনার যুদ্ধাপরাধের তথ্য প্রকাশ করলো।
এতে জেনারেল ইয়াহিয়া খান, জেনারেল আবদুল হামিদ খান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল পীরজাদাসহ শীর্ষস্থানীয় অনেক পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব উদ্দিন বীরবিক্রম বলেন, আমরা সর্বসাকুল্যে ২৬১ জনের বিরুদ্ধে যে তথ্য সংগ্রহ করেছি তা জাতির সামনে উপস্থাপন করছি। এদের মধ্যে ৪৩ জন সিনিয়র পাকিস্তানি জেনারেল, মেজর জেনারেল ব্রিগেডিয়ার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং দু-একজন বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও আছেন।
তিনি বলেন, হামুদুর রহমান কমিশন রিপোর্টেই এদের বিরুদ্ধে অনেক স্বাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া পাকিস্তানি উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের লিখিত পুস্তকে এই চিহ্নিত সামরিক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে অনেক স্বাক্ষ্য বিধৃত আছে।
মাহবুব উদ্দীন বলেন, আমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অপরাধের যে ভয়াবহতা লক্ষ্য করছি তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে, তাদের অপরাধের বিপরীতে এটিই যথেষ্ট নয়। তথ্য সংগ্রহ কমিটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রাপ্ত তথ্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কমিটির নিকট অর্পণ করা হবে।
এ সংগঠনের আহ্বায়ক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। ৬ জনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। অনেকগুলো মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বর্বর পাক সেনাদের বিচার ত্বরান্বিত করা এবং তাদের কাছে বাংলাদেশের পাওনা ৩৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লড়াইয়ে সকলকে এক হতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের পাক হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোসর-রাজাকার-আলবদরদের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ ও সৃষ্টি করতে হবে। পাকিস্তানিরা মুক্তিযুদ্ধের সময় যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, লুট করেছে সেজন্য এখনো তারা বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি। তাদেরকে অবশ্যই তাদের অপকর্ম ও নৃশংসতার জন্য বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংসদ শিরীন আক্তার, ইসমত কাদির গামা, আলাউদ্দিন মিয়া, ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন বীর উত্তম, হাবিবুল আলম বীর প্রতীক প্রমুখ।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net