শিরোনাম

বাংলাদেশ

বহুল আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

ঢাকা সংবাদদাতাঃ রাজধানীর পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে বহুল আলোচিত দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এ মামলায় নিম্ন আদালতে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। রোববার বিকালে বিচারপতি মো: রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর যুগ্ম-বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই মামলায় নিম্ন আদালতে রফিকুল ইসলাম শাকিল ও রাজন তালুকদারকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মাহফুজুর রহমান নাহিদ, এমদাদুল হক এমদাদ, জিএম রাশেদুজ্জামান শাওন এবং মীর মো. নূরে আলম লিমনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে।এছাড়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কাইয়ুম মিঞা টিপু ও সাইফুল ইসলামকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে এএইচএম কিবরিয়া ও গোলাম মোস্তফাকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।তবে নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বাকি ১১ আসামি কোনো আপিল না করায় তাদের বিষয়ে মন্তব্য করেননি আদালত। এর ফলে এসব আসামির যাবজ্জীবন সাজা বহাল থাকছে।যাবজ্জীবন বহাল থাকা আসামিরা হলেন- ইউনুস আলী, তারিক বিন জোহর তমাল, আলাউদ্দিন, ওবায়দুর কাদের তাহসিন, ইমরান হোসেন, আজিজুর রহমান, আল-আমিন, রফিকুল ইসলাম, মনিরুল হক পাভেল, মোশাররফ হোসেন ও কামরুল হাসান। এদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডও করা হয়।উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রলীগ কর্মীরা নির্মমভাবে খুন করেন দর্জি দোকানি বিশ্বজিৎ দাসকে।বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ছাত্রলীগের ২১ কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এই ২১ আসামির মধ্যে ৮ জন কারাগারে এবং বাকিরা পলাতক।গত ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর বহুল আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার চার নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবিএম নিজামুল হক।রায়ের এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। পাশাপাশি নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ড সাজার বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা।গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এ হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা।এরপর ১৬ মে হাইকোর্টে বিশ্বজিৎ দাস হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শুরু হয়। গত ১৭ জুলাই উভয়পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইট কমিশন যুক্তরাজ্য শাখা’র মতবিনিময় সভা

লন্ডনঃ যেখানেই মানবতা লংঘিত হচ্ছে সেখানেই হিউম্যান রাইট কমিশন। বাংলাদেশ হিউম্যানরাইট কমিশন জন্মলগ্ন থেকে মানব সেবায় কাজ করে যাচ্ছে। এমন্তব্য লন্ডন সফররত বাংলাদেশ হিউম্যানরাইট কমিশন হবিগঞ্জ জেলা ইউনিট প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট সাংবাদিক ও হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি হারুনুর রশিদ চৌধুরী’র। তিনি বলেন, সমাজ থেকে অন্যায়, অনিয়ম এবং অবিচার দূর করতে হলে প্রতিটি মানবাধিকার কর্মিকে প্রকৃত সেবার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সেন্ট্রাল লন্ডনের ডামন স্ট্রিটের ফালাহিল কাফে রেস্তোঁরায় বাংলাদেশ হিউম্যানরাইট কমিশন যুক্তরাজ্য শাখা আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এমন্তব্য করেন।
তিনি হবিগঞ্জে হিউম্যান রাইটকমিশনের কার্য্যক্রমের বিবরন তুলে ধরে বলেন হিউম্যানরাইট কমিশন হবিগঞ্জ ইউনিট অসহায় ও অতিদরিদ্রদের জন্যে বিনামূল্যে আইনী সেবা চালু করেছে আর এতে এগিয়ে এসেছেন হবিগঞ্জ বারের কয়েকজন আইনজীবি। তিনি বলেন জেলার সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রতি মাসের শেষ শনিবার হবিগঞ্জ জেলা ইউনিট নিয়মিত সভা করে থাকে। তিনি যুক্তরাজ্যের হিউম্যান রাইট কমিশনের সদস্যদের বাংলাদেশে গেলে হবিগঞ্জ ইউনিট পরিদর্শনের আহবান জানান। বাংলাদেশ হিউম্যানরাইট কমিশন যুক্তরাজ্য শাখার প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ আব্দুল আহাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী জেনারেল তারাউল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএইচআরসি‘র ইউরোপীয়ান এম্বেসেডর সহিদুর রহমান, বিএইচআরসি ইংল্যান্ড শাখার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, সেক্রেটারী আব্দুল হাফিজ বক্কর, প্রেস সেক্রেটারী সাংবাদিক ফজলুল হক,ইউকে শাখার উপদেষ্টা শাহাব উদ্দিন সাবুল, ইউকে শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা চৌধুরী, কবীর মিয়া , কুতুব উদ্দিন প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে আব্দুল আহাদ চৌধুরী ইউকে এবং ইউরোপে বিএইচআরসি‘র কার্য্যক্রম তুলে ধরে বলেন ইংল্যান্ড এবং ইউরোপে বিএইচআরসি‘র শতাধিক সদস্য কাজ করছেন, তিনি তাঁর বক্তব্যে ইসরাইলী সেনাবাহিনী কর্তৃক পিলিস্থিনীদের উপর নির্যাতন ও মসজিদে নামাজ আদায় করতে বাধা প্রদানে উদবেগ প্রকাশ করেন।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ২৬১ জনের অপরাধের তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের সাথে সম্পৃক্ত থাকা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ২৬১ জনের তালিকা ও অপরাধের তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিচারের দাবিতে ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন’ নামের সংগঠন গঠন করেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। এরপর পালিয়ে যাওয়া পাকিস্তানি সেনাদের বিচারের দাবিতে ২১ দফা কর্মসূচী পালন করে আসা সংগঠনটি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
মাহবুব উদ্দিন বীরবিক্রমকে আহবায়ক, ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন বীর উত্তম ও হাবিবুল আলম বীর প্রতীককে সদস্য করে গঠন করা ওই তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ কমিটিই ২৬১ জন পাকিস্তানি সেনার যুদ্ধাপরাধের তথ্য প্রকাশ করলো।
এতে জেনারেল ইয়াহিয়া খান, জেনারেল আবদুল হামিদ খান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল পীরজাদাসহ শীর্ষস্থানীয় অনেক পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব উদ্দিন বীরবিক্রম বলেন, আমরা সর্বসাকুল্যে ২৬১ জনের বিরুদ্ধে যে তথ্য সংগ্রহ করেছি তা জাতির সামনে উপস্থাপন করছি। এদের মধ্যে ৪৩ জন সিনিয়র পাকিস্তানি জেনারেল, মেজর জেনারেল ব্রিগেডিয়ার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং দু-একজন বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও আছেন।
তিনি বলেন, হামুদুর রহমান কমিশন রিপোর্টেই এদের বিরুদ্ধে অনেক স্বাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া পাকিস্তানি উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের লিখিত পুস্তকে এই চিহ্নিত সামরিক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে অনেক স্বাক্ষ্য বিধৃত আছে।
মাহবুব উদ্দীন বলেন, আমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অপরাধের যে ভয়াবহতা লক্ষ্য করছি তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে, তাদের অপরাধের বিপরীতে এটিই যথেষ্ট নয়। তথ্য সংগ্রহ কমিটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রাপ্ত তথ্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কমিটির নিকট অর্পণ করা হবে।
এ সংগঠনের আহ্বায়ক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। ৬ জনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। অনেকগুলো মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বর্বর পাক সেনাদের বিচার ত্বরান্বিত করা এবং তাদের কাছে বাংলাদেশের পাওনা ৩৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লড়াইয়ে সকলকে এক হতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের পাক হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোসর-রাজাকার-আলবদরদের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ ও সৃষ্টি করতে হবে। পাকিস্তানিরা মুক্তিযুদ্ধের সময় যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, লুট করেছে সেজন্য এখনো তারা বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি। তাদেরকে অবশ্যই তাদের অপকর্ম ও নৃশংসতার জন্য বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংসদ শিরীন আক্তার, ইসমত কাদির গামা, আলাউদ্দিন মিয়া, ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন বীর উত্তম, হাবিবুল আলম বীর প্রতীক প্রমুখ।

নবীগঞ্জে গরুর মাংসে আল্লাহু নাম

রাকিল হোসেন নবীগঞ্জ থেকেঃ হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের দেওতৈল গ্রামের সৌদিআরব প্রবাসী মজুমদার মিয়ার বিয়ের অনুষ্ঠানে অলৌকিক ভাবে তরকারীর মধ্যে গরুর মাংসে দেখা গেল আল¬াহু লেখা । মাংসে আল্লাহু লেখা দেখা গেছে এমন খবরে বিভিন্নস্থান থেকে লোকজন ভিড় জমান বিয়ে বাড়িতে। জানা যায়,গত শনিবার দেওতৈল গ্রামের প্রবাসী মজুমদার মিয়ার বিয়ের বৌভাত অনুষ্ঠানে কনে পক্ষের লোকজনের জন্য বাজার থেকে গরু ক্রয় করে গরুটি জবাই করে রান্না করা হয়। দুপুরে বৌভাত অনুষ্ঠানে খেতে বসলে হঠাৎ তরকারীর মাংসের মধ্যে আল্লাহু লেখা দেখা যায়। অলৌকিক ভাবে মাংসে আল্লাহু লেখা দেখে উপস্থিত বৌভাত অনুষ্ঠানের অতিথি সহ সবাই চমকে যান। এসময় লোকজন একসাথে আল¬াহু আল¬াহু জপতে থাকেন। এখবর চারদিকে ছড়য়ে পরলে উৎসুক জনতা ভিড় জমান সৌদি আরব প্রবাসী মজুমদার মিয়ার বাড়িতে ।

বাহুবলের সুন্দ্রাটিকি গ্রামের চার শিশু হত্যা মামলায় তিন জনের ফাঁসির আদেশ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের চাঞ্চল্যকর চার শিশু হত্যা মামলার ঘোষিত রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তাদের অভিমত, সকল আসামীরা হত্যা পরিকল্পনার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল, যা তাদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া আদালতের সাক্ষ্যতেও তা প্রমাণ করা গেছে। এরপরেও মূল আসামী আব্দুল আলী বাগালসহ তিন জন খালাস পেয়েছেন। এ কারণে রায়ে সন্তোষ হতে পারেননি তারা।
বুধবার বেলা ১১টা ৩৩ মিনিটে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক মকবুল আহসান আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে তিন জনকে ফাঁসির দন্ড এবং আরো ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া, আরো দুই আসামীকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড একই সাথে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। তাছাড়া, অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তিনজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত।
রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের পিপি কিশোর কুমার কর সাংবাদিকদের জানান, এ রায়ে সন্তোষ নন তারা। তাদের আশা ছিল সকল আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। এ কারণে রায়ের পুরো কপি হাতে পাওয়ার পর পর্যালোচনা করে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন বলেও জানান তিনি।
ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছে-রুবেল মিয়া, আরজু মিয়া ও উস্তার মিয়া। ৭ বছরের কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে-জুয়েল মিয়া ও শাহেদ। মামলার অপর আসামী আব্দুল আলী বাগাল, বাবুল মিয়া ও বিলালকে খালাস দেয়া হয়েছে।
এর আগে এ মামলায় কারাগারে থাকা আসামি পঞ্চায়েত প্রধান আব্দুল আলী বাগাল, তার দুই ছেলে রুবেল মিয়া ও জুয়েল মিয়া, তার সেকেন্ড ইন কমান্ড আরজু মিয়া ও শাহেদ মিয়াকে আদালতে তোলা হয়। সকাল ১০টা ৪১ মিনিটে প্রিজন ভ্যানে করে তাদের আদালতে নিয়ে আসা হয়।
আসামিদের মধ্যে বাচ্চু মিয়া নামের একজন র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। আর এ মামলার আসামি উস্তার মিয়া, বাবুল মিয়া ও বিল্লাল পলাতক রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরে ১২ ফেব্রুয়ারি বিকালে বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সুন্দ্রাটিকি গ্রামের আবদাল মিয়া তালুকদারের ছেলে মনির মিয়া (৭), ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), আব্দুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) ও আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০)।
মনির সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে, তার দুই চাচাত ভাই শুভ ও তাজেল একই স্কুলে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। আর তাদের প্রতিবেশী ইসমাইল ছিল সুন্দ্রাটিকি মাদ্রাসার ছাত্র।
নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ইছাবিল থেকে তাদের বালিচাপা লাশ উদ্ধার হলে দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বাহুবল থানায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মনির মিয়ার বাবা আবদাল মিয়া।
২০১৬ বছরের ২৯ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তৎকালীন ওসি মোক্তাদির হোসেন নয়জনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দেন। সুন্দ্রাটিকি গ্রামের দুই পঞ্চায়েত আবদাল মিয়া তালুকদার ও আব্দুল আলী বাগালের মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে মামলার তদন্ত ও আসামিদের দেয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার কার্য শুরু হয়। হবিগঞ্জ আদালতে মামলার ৫৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৫ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়। পরে গত ১৫ মার্চ মামলাটি সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে আরও ৭ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়।

লতিফিয়া ফুলতলী কমপ্লেক্সের উদ্যোগে স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল

বার্মিংহাম: যুক্তরাজ্যের অন্যতম শহর বার্মিংহামের ঐতিহ্যবাহী লতিফিয়া ফুলতলী কমপ্লেক্সের উদ্যোগে গত ২৩ জুলাই রবিবার দুপুরে দি ব্রিটিশ মুসলিম স্কুল হলরুমে কমপ্লেক্সের অন্যতম লাইফ মেম্বার ও বার্মিংহাম আল ইসলাহর প্রেসিডেন্ট বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, মরহুম মাওলানা কাজী সেলিম উদ্দিন (র:) ও কমপ্লেক্সের ফাউন্ডার মেম্বার বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব মরহুম আলহাজ্ব রইছ মিয়া স্মরণে এক সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
লতিফিয়া ফুলতলী কমপ্লেক্সের চেয়ারম্যান প্রিন্সিপাল মাওলানা এম এ কাদির আল হাসানের সভাপতিত্বে ও কমপ্লেক্সের প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারি মাওলানা মোঃ হুসাম উদ্দিন আল হুমায়দীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত মাহফিলে মরহুমদ্বয়ের জীবনের বিভিন্ন কল্যাণমূলক দিক তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন লতিফিয়া ফুলতলী কমপ্লেক্সের অন্যতম ফাউন্ডার মেম্বাAnjuman pic 2র মাওলানা রুকনুদ্দীন আহমদ, কমপ্লেক্সের ভাইস চেয়ারম্যান কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আলহাজ কাজী আংগুর মিয়া, সেক্রেটারি মোঃ মিসবাউর রহমান, জয়েন্ট সেক্রেটারি মোঃ খুরশেদ উল হক, ফাউন্ডার মেম্বার আলহাজ হিরণ মিয়া, আলহাজ কাজী ইকবাল হোসাইন (দলা মিয়া), কমিউনিটি নেতা রাজা মিয়া, মেম্বারশিপ সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল মুনিম, মরহুম কাজী মাওলানা সেলিম উদ্দিনের একমাত্র ছেলে কাজী মহসিন উদ্দিন, মরহুম আলহাজ রইছ মিয়ার বড় ভাই আলহাজ নূর মিয়া, মরহুমের ছেলে সাদেক মিয়া সরওয়ার, কমিউনিটি নেতা আবু নওশাদ ও মোঃ সফিক মিয়া চৌধুরী গণি ।
হাফিজ সাকির মিয়ার পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত ও মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মাহবুব কামালের নাশিদ পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হওয়া উক্ত মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্যান্ডওয়েল কাউন্সিলের মেয়র আলহাজ আহমেদুল হক এমবিই, স্যান্ডওয়েল আল ইসলাহর প্রেসিডেন্ট মাওলানা রফিক আহমদ, সেক্রেটারি হাফিজ আলী হোসেন (বাবুল), লতিফিয়া ফুলতলী কমপ্লেক্সের জয়েন্ট সেক্রেটারি মোঃ আব্দুল হাই, বার্মিংহাম আল ইসলাহর ভাইস প্রেসিডেন্ট হাজী হাসান আলী হেলাল, ক্যাশিয়ার হাজী সাহাব উদ্দিন, সুফী ইদরিছ আলী প্রমুখ।
সভায় বক্তারা মরহুম মাওলানা কাজী সেলিম উদ্দিন (র:) ও মরহুম আলহাজ রইছ মিয়ার জীবনের নানাবিধ জনকল্যাণ ও দ্বীনি খেধমতের কথা তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, তাঁদের জীবনের বেশির ভাগ সময়ই তাঁরা দ্বীনি খেদমতে এবং মানুষের কল্যাণে অতিবাহিত করেছেন। তাঁদের পরিশ্রম, ত্যাগ ও দ্বীনি খেদমত বর্তমান এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি উজ্জল দৃষ্টান্ত হিসেবে যুগে যুগে অনুপ্রেরণা দিয়ে যাবে। বক্তারা বলেন, মরহুম মাওলানা কাজী সেলিম উদ্দিন (র:) লতিফিয়া ফুলতলী কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠায় এবং আনজুমানে আল ইসলাহর প্রচারে ও প্রসারে অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে কাজ করেন। তাঁরা মরহুম আলহাজ রইছ মিয়াকে সমাজের একজন প্রকৃত খেদমতগার ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর অবদান আজীবন মানুষের হৃদয়ে জাগ্রত রবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন।
লতিফিয়া ফুলতলী কমপ্লেক্সে যতদিন পবিত্র কুরআন শরীফ তেলাওয়াত এবং আল্লাহর প্রিয় রাসুল (স:) এর হাদিস পাঠ করা হবে তার সওয়াব মরহুমদ্বয়ের আমলনামায় লেখা হবে বলে বক্তারা জানান। আলোচকরা আরো বলেন, আল্লাহর পথে খেদমত করে গেলে তার বিনিময়ে আল্লাহ পাক দুনিয়ার মঙ্গল এবং মৃত্যুর পর রুহের মাগফিরাত ও শান্তি দান করেন।
মরহুমদ্বয়ের ইসালে ছাওয়াব উপলক্ষে লতিফিয়া ফুলতলী কমপ্লেক্সে খতমে কুরআন, খতমে দালায়েলুল খায়রাত, ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মিলাদ শেষে মরহুমদ্বয়ের রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়।

নবীগঞ্জ ৭ নং করগাঁও ইউনিয়নের শ্রেষ্ট শিক্ষক মনোনীত হয়েছেন সহকারী শিক্ষক তপন কুমার পাল

নবীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নবীগঞ্জ উপজেলার ৭ নং করগাঁও ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ট শিক্ষক মনোনয়নে মুক্তাহার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তপন কুমার পাল শ্রেষ্ট শিক্ষক মনোণীত হয়েছেন। তাকে করগাও ইউনিয়নের শ্রেষ্ট শিক্ষক মনোণীত করায় বড় শাখোয়া ক্লাস্টার ও করগাও ইউনিয়নের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল প্রধান শিক্ষক,সহকারী শিক্ষকবৃন্দকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শিক্ষক তপন কুমার পাল।

নবীগঞ্জের বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্ট নিয়ে পরিস্থিতি আবারো উত্তাল

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি : নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের পারকুল গ্রামে অবস্থিত বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্টের পানিতে এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি তলিয়ে যাওয়ায় ৩ গ্রামের বিক্ষুব্ধ জনতা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রাস্তা অবরোধ করে পাওয়ার প্লান্টের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এতে পাওয়ার প্লান্টের ১ থেকে ৪ পর্যন্ত সবগুলো সাইটের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করতে দেয়নি জনতা। ৪ ঘন্টা অবরোধের কারণে বিঘ্ন ঘটে বিদ্যুত প্লান্টের কাজের।

খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি এস এম আতাউর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপস্থিত হয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান মুহিবুর রহমানের হারুনের সহযোগীতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। এ সময় স্থানীয় জনতা পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটার দেয়। অন্যতায় আবারো ইউনিয়ন বাসীকে নিয়ে কঠোর কর্মসুচীর ডাক দেয়া হবে বলে হুসিয়ারী দেয়া হয়।

জানাযায়, উপজেলার পাওয়ার প্লান্ট এলাকার পারকুল, পাহাড়পুর ও বনগাঁও সহ আশপাশ এলাকার মানুষের একমাত্র যাতায়াতের রাস্তা পাওয়ার প্লান্টের পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রতিদিন সামান্য বৃষ্টিপাত হলে সড়কে পানি জমাট হয়ে হাটু পানি থেকে কোথাও কোথাও কোমর পানি পর্যন্ত হয়ে যায়। এতে ঐ এলাকার হাজার হাজার মানুষের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ ‘করছি’ বলে কালক্ষেপন করতে থাকে।

এক পর্যায়ে উক্ত গ্রামের লোকজন অতিষ্ট হয়ে জনতা রাস্তায় বাঁশ বেধে বিবিয়ানা পাওয়ার প্লান্টের যানবাহনসহ সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় এবং খন্ড খন্ড মিছিল সহকারে এর প্রতিবাদ জানায়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় এলাকার ইউপি সদস্য দুলাল মিয়া, সুমন আহমেদ, প্রতিবাদকারী আনহার মিয়া, রোহেল মিয়া, আশিক মিয়া, হাবিব উল্লাহ, সাজু আহমেদ, ডাঃ আব্দুর নুরসহ অনেকেই বলেন- সামিট পাওয়ার প্লান্টে কর্মরত অনেকের কাছে আমরা একাধিকবার উক্ত রাস্তার পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ব্যাপারে গিয়েছি। এছাড়া পিডিবির কর্মকর্তাদের কাছেও ধর্না দিয়েছি। কিন্তু, তারাও কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এতে আমাদের এলাকার রাস্তাঘাটসহ গ্রামের অনেক ঘরবাড়ী ও পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। আমরা অতিষ্ট হয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছি।

এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউপি চেয়্যারম্যান মুহিবুর রহমান হারুন বলেন- “জনগনের প্রতিনিধি হিসেবে জনতার দাবীর সাথে আমি একমত। এটা ছাড়াও আমাদের আরো ১৩ দফা দাবী তাদের কাছে রয়েছে। পরবর্তীতে যদি কর্তৃপক্ষ এই কাজে গাফিলতি করেন, তাহলে এর দায়ভার তাদেরকেই নিতে হবে।”

এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি এস এম আতাউর রহমান বলেন- “ঘটনার খবর পেয়ে আমি সাথে সাথে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করি। এখানকার কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

বৃহত্তর কাজিটুলা প্রবাসী ইউকের সভা অনুষ্ঠিত

লন্ডন, ৫ জুলাই:  যুক্তরাজ্যে বসবাসরত সিলেট শহরের বৃহত্তর কাজিটুলার প্রবাসীদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। Imranগত ৩ জুলাই সোমবার বিকেলে পূর্ব লন্ডনের স্থানীয় এক রেষ্টুরেন্টে বৃহত্তর কাজিটুলা প্রবাসী ইউকের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন হিরক চৌধুরী। সামসুদ্দিন বাবলুর পরিচালনায় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। শাহরীন ইসলামকে আহবায়ক এবং মীর জসিম উদ্দিন জিলহাদকে সদস্য সচিব করে ৪৯ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আর এ চৌধুরী, মোঃ ফয়সল আহমদ, এনামুল হক, আফসর আহমদ,এলিছ খাঁন, শাহ জামাল হোসেন টিপু ,সোহেল আহমদ, শাহ কামাল হোসেন দিপু, সুজাদ আহমদ, আমিনুল হক মাসুম, মোঃ আশরাফুর রহমান, ওয়াহিদুর রহমান নাবেদ, ওমর শরীফ বাদশা, মোঃ আমিন খছরু ইমন, মনসুর আহমদ রুবেল, মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, রাজিব আহমদ, মীর জসিম উদ্দিন জিলহাদ, আব্দুস ছালিম জাদীদ, মোঃ আতিকুর রহমান আতিক, আশরাফ আহমদ টিপু, হাসনাত আবুল কালাম, মীর জামাল উদ্দিন জালেক, নুরুল ইসলাম, আব্দুল হামিদ সামাদ, বুলবুল আহমদ ,লাহিন আহমদ, আজিজুল আম্বিয়া সজিব, মিলাদ আহমদ, আবুল হায়াত মাসুম, ইকবাল আহমদ, শাকিল আহমদ ,শাহ নজরুল হোসেন শিপু , সজিব আহমদ প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আতিকুর রহমান চৌধুরী পাপ্পু, তোফায়েল বাছিত তপু, আব্দুর রাজ্জাক রোকন, মোহনুজ্জামান চৌধুরী, জাবেদ কাদির, জাবেদ আহমদ, নাসিম আহমদ প্রমুখ।
আহবায়ক কমিটি আহবায়ক শাহরীন ইসলাম, যুগ্ম আহবায়ক এনামুল হক, আফসর আহমদ, সামসুদ্দিন বাবলু, মোঃ আশরাফুর রহমান, মনসুর আহমদ রুবেল, মোস্তাক আহমদ চৌধুরী, সদস্য সচিব মীর জসিম উদ্দিন জিলহাদ, সদস্যরা হলেন আর এ চৌধুরী, মোঃ ফয়সল আহমদ, সোহেল আহমদ, শাহ কামাল হোসেন দিপু, সুজাদ আহমদ, আমিনুল হক মাসুম, মোঃ আশরাফুর রহমান, ওয়াহিদুর রহমান নাবেদ, ওমর শরীফ বাদশা, মোঃ আমিন খছরু ইমন, আব্দুল জব্বার খান পাপ্পা, রাজিব আহমদ, মীর জসিম উদ্দিন জিলহাদ, আব্দুস ছালিম জাদীদ, মোঃ আতিকুর রহমান আতিক, আশরাফ আহমদ টিপু, হাসনাত আবুল কালাম, মীর জামাল উদ্দিন জালেক, নুরুল ইসলাম, আব্দুল হামিদ সামাদ, লাহিন আহমদ, আজিজুল আম্বিয়া সজিব, মিলাদ আহমদ, আবুল হায়াত মাসুম, ইকবাল আহমদ, সজিব আহমদ, নুর আহমদ ফয়সল, নিজাম উদ্দিন ফরহাদ, আরিফ আহমদ জাবেদ, রুম্মান আহমদ, আব্দুল মুনিম চৌধুরী, আবুল মহসিন চৌধুরী।

আদালতের রায়ে হতাশ অ্যাটর্নি জেনারেল

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর রক্তের আঁখরে লেখা বাহাত্তরের সংবিধানে ফিরে যেতে না পারার স্বপ্ন ভঙ্গে হতাশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। সোমবার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী আপিল বিভাগে বাতিলের রায়ের পর নিজ কার্যালয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য এসব কথা বলেন। মাহবুবে আলম বলেন, ‘আমি অত্যন্ত হতাশ। আমি দুঃখ পেয়েছি। আমার যে স্বপ্ন ছিল বাহাত্তরের মূল সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদে ফিরে যাওয়ার, তা হয়নি।’
তিনি আরো বলেন, ‘আজকের রায়ের পর বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের কাছে পুনর্বহাল হয়নি। আদালতের রায়ের পর এটি রিস্টোর হবে না। সংসদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।’
‘আমি আরো হতাশ এ জন্য, সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিল শুধু পাকিস্তানে আছে। যার অনুকরণে মেজর জিয়াউর রহমান তার সামরিক শাসনের সময় মূল সংবিধান সংশোধন করে বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের হাতে দেয়। আমরা সংবিধান থেকে সামরিক শাসনের নাম মুছে ফেলতে চাই’ যোগ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
দেশের বিচার বিভাগ আদৌ স্বাধীন কিনা জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘বিচার বিভাগ নিয়ে অনেকে প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে। আজকের রায় প্রমাণ করে বিচার বিভাগ কতটা স্বাধীন।’
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ ঐক্যমতের ভিত্তিতে এ-সংক্রান্ত সরকার পক্ষের আপিল খারিজ করে রায় দেন।
বেঞ্চের অপর ছয় সদস্য হলেন—বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।
গত ১ জুন সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষামাণ (সিএভি) রাখা হয়। এরপর রোববার বিকেলে আজকের কার্যতালিকার এক নম্বরে রাখা হয় মামলাটি।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা।
গত ৮ মে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়। ধারাবাহিকভাবে টানা ১১ দিন এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
আপিল শুনানিতে আদালতে মতামত উপস্থাপনকারী ১০ অ্যামিক্যাস কিউরির (আদালত বন্ধু) মধ্যে শুধু ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসি সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে মত দেন।
অপর নয় অ্যামিক্যাস কিউরি- জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন, এম আই ফারুকী, আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, প্রাক্তণ অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ এম হাসান আরিফ, ব্যারিস্টার এম. আমীর-উল ইসলাম, বিচারপতি টিএইচ খান, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, ফিদা এম কামাল, এ জে মোহাম্মদ আলী সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর বিপক্ষে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি ষোড়শ সংশোধনীর বিষয়ে মতামত নিতে অ্যামিক্যাস কিউরিদের নিয়োগ দেন আপিল বিভাগ।
গত বছরের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজা-উল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় দেন।
এরপর ১১ আগস্ট এ রায় সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আইনসভার কাছে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে। দেশের সংবিধানেও শুরুতে এই বিধান ছিল। তবে সেটি ইতিহাসের দুর্ঘটনা মাত্র।
রায়ে বলা হয়, কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর ৬৩ শতাংশের অ্যাডহক ট্রাইব্যুনাল বা ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলরের মাধ্যমে বিচারপতি অপসারণের বিধান রয়েছে।
আদালত আরো বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদের ফলে দলের বিরুদ্ধে এমপিরা ভোট দিতে পারেন না। তারা দলের হাইকমান্ডের কাছে জিম্মি। নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা নেই। ৭০ অনুচ্ছেদ রাখার ফলে এমপিদের সব সময় দলের অনুগত থাকতে হয়। বিচারপতি অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও তারা দলের বাইরে যেতে পারেন না। যদিও বিভিন্ন উন্নত দেশে এমপিদের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা আছে।
রায়ে আরো পর্যবেক্ষণ দিয়ে বলা হয়, মানুষের ধারণা হলো, বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে থাকলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হবে। সেক্ষেত্রে বিচার বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে যাবে। মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়।
২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়, যেটি ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল।
সংবিধানে এই সংশোধনী হওয়ায় মৌল কাঠামোতে পরিবর্তন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করবে; এমন যুক্তিতে ওই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একই বছরের ৫ নভেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়।
ওই রিটের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর রুল জারি করেন। এরপর গত বছরের ১০ মার্চ মামলাটির চূড়ান্ত শুনানি শেষে ৫ মে হাইকোর্ট রায় দেন।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net