শিরোনাম

শিল্প সাহিত্য

বাংলা একাডেমি পুরস্কার পাচ্ছেন ১২ জন

এ বছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ১০ বিভাগে ১২ জন বিশিষ্ট কবি, লেখক ও গবেষক। শনিবার একাডেমির শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৭ পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন কবিতায় মোহাম্মদ সাদিক ও মারুফুল ইসলাম, কথাসাহিত্যে মামুন হুসাইন, প্রবন্ধে অধ্যাপক মাহবুবুল হক, গবেষণায় রফিক উল্লাহ খান, অনুবাদ সাহিত্যে আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাহিত্যে কামরুল ইসলাম ভূঁইয়া ও সুরমা জাহিদ, ভ্রমণ কাহিনিতে শাকুর মজিদ, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনিতে মোশতাক আহমেদ, নাটকে মলয় ভৌমিক ও শিশুসাহিত্যে ঝর্নাদাশ পুরকায়স্থ।

বিজয়ীদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গতকাল শুক্রবার একাডেমির কার্যনির্বাহী পরিষদ এ বছরের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম অনুমোদন করে। আসাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আবুল হাসনাত, মামুনুর রশীদ, অধ্যাপক সৈয়দ মনজরুল ইসলাম, অধ্যাপক ফকরুল আলম, কবি রুবি রহমান এবং বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

আগামী পয়লা ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার তুলে দেবেন।

পুরস্কার ঘোষণার সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন একাডেমির পরিচালক শাহিদা খাতুন, জালাল আহমেদ প্রমুখ।

এ কে এম আব্দুল্লাহ’কবিতা

AKM Abdullah (2)

 

 

 

মুদ্রিত চিরকুট

১.
অতপরঃ
আজও হাঁটছি ইসমাইলি পথ ধরে
মাঝেমধ্যে হোঁচট খাই ইজমের খুঁটিতে।
পৃথিবীতে এখন একবিংশ শতাব্দী
চর্মচক্ষে কী আর দেখা যায় ইবলিশ ?
মানুষের হাতে দেখি মানুষের রক্ত।

২.
এবং…
আমরা খাই গাই
আর ভুলে যাই মৃত্যুর মত ভয়ঙ্কর সত্য।
ও আমার স্বজনশিকারী
এসো, ছুঁয়ে দেখি একবার আগুনের উত্তাপ।

৩.
আমার কাছে মাটির গন্ধ আজও প্রিয়

আজকাল তুমি এত ফরাসী গন্ধ মাখো
আমি হারিয়ে ফেলেছি দেহের আসল ঘ্রাণ।
মাটিরঙ দেহ আর খুশবোতেই ছিলাম মুগ্ধ
এখন কেন প্রয়োজন আমদানী রঙ প্রলেপের ?
সেই কবে হারিয়েছে চুল তার খুশবু
হাতের চুড়িতেও এখন নেই সেই ছন্দ !

আজও বুকের গোলায় ধানের মত জমা করি
তোমার স্পর্শ গুলো। অথচ গোলার ভিতর থেকে
এখন আর আসেনা সেই মৌ মৌ ফসলি ঘ্রাণ।

মায়ের খাঁটি সরিষার তেল ভর্তি বোতলের জায়গা
দখল করেছে আলোভেরা শিশি। আর বাবার হুক্কায়
এখনও ধুয়া ওড়ে, তবে কুম্ভ পাতার নয়
রঙিন সিসার ধূয়া, নানা ফ্লেভারের।

সময়ের সাথে অনেক কিছু বদলে গেলও; আজও
আমার কাছে মাটির রঙ খুব পছন্দ, মাটির গন্ধও।

এ কে এম আব্দুল্লাহ’র দুটি কবিতা

AKM Abdullah (2)
বিস্ময়বৃক্ষ

…একদিন বসন্ত এলে পাহাড়ের বুকে –

আমরা মিলিত হলাম পর্বতচূড়ায়।
আকাশের পবিত্র জ্যোৎস্না মেখে
চারপাশে শুরু হলো ফুলের নাঙা উৎসব।ছুটে যাওয়া
নক্ষত্রবৃন্তের-কষ ; দেহে ল্যেপটে আমরা ঘুমিয়ে গেলে,
রমণীদের হাতে হাতে অঙ্কিত হলো গাঢ় মেহেদীর আলপনা।
বুকের ঘন সৌরভে কুয়াশার মতো ঢেকে গেলো পুরো পৃথিবী।

আর আমাদের মিলনে জন্ম নিল সূর্য এবং সাগর।

সময়ের হাত ধরে নাড়িকাটা উৎসবে একদিন বিচ্ছিন্ন

হলো রাত আর দিন।আর চোখের ক্লান্তি ভোরের ডানায়
উড়ে গেলে,দেখি: নূহের মহাপ্লাবনের শেষপৃষ্ঠার মতো
চারদিকে পড়ে আছে ; ছিন্ন-ভিন্ন বিছানা, চুড়ির

টুকরো,ভাঙা আবেগপাত্র…

পাশ ফিরে তাকাই। দেখি – তুমি সেজদারত ;

ঈশ্বরের খোঁজে।

 

গৃহযাত্রা

জান্নাত থেকে নেমে এলো যে মাটির পুতুল
সে ভুলে গেলো ফিরে যাবার পথ
এখন,কোস্টায় বসে জীবনপেয়ালায়
পান করে হটচকলেটের বুদবুদ।
বহুযুগ কেটে গেলো ঘুমে
যে ঘুমের ভিতর ভাঙলো পর্বত, নূহার তান্নুর
ফেটে গেলো আকাশের বিশাল দুয়ার
সে এখন ভাসমান খড়ের মতো –
ঘুরপাক খায় কুইয়ারা জলকুণ্ডলীর ভিতর।

ক্ষত-বিক্ষত অদৃশ্য ভাবনা
ফ্রেমের মতো ঝুলে আছে দেয়ালে,দ্বিধান্বিত।
নি:স্বজীবন সীমান্তে-এখন চেয়ে থাকে মুখপানে
মায়ার পাঁজর ছিঁড়ে অবশেষে পরাজিত সৈনিক।

মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া’র কবিতা

M G Kibria

 

 

কথোপকথন : পিতা পুত্র

মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া

পিতা: শোনো, এটি পরিবর্তনের সময় নয়
একটু শান্ত হও
সবকিছু সহজ ভাবে নাও
এখনো তুমি ছোট্টটি
সবকিছু জানতে চাও
এটুকুই তোমার ত্রুটি
যদি কোন সুখ বালিকা পাও
ঠিকঠাক জীবনসঙ্গী করে নাও
দেখছ না আমাকে
জীবনের ওপারে উপনীত
তবু জীবনের আলোয় বিমোহিত
একদিন আমারও যৌবন ছিল তোমার মত।

জানি পাওয়াা সহজ নয়
তবু চেয়ে যেতে হয়
হয়তো বুঝিবে যেতে
চলছে সব আপন পথে
একটু সময় নাও
মম পানে তাকাও আর শান্ত হও
হয়তো আগামি ভোরে স্বপ্নরা হারিয়ে যাবে
কেবল তুমিই রয়ে যাবে!

পুত্রঃ কীভাবে বোঝাই সব কিছু
ধরতে যাই তারে
সে চলে অতীতের পিছু পিছু
বাজে পুরাতন সূর বিমর্ষ ইথারে।

যেদিন কথা বলা শুরু
আদেশের শুরুও সেদিন থেকেই
শুধু শুনে যাও শুধু শুনেই যাও।

কিন্তু এখনতো সেই পথ সমাগত
আর আমাকে জানতেই হবে
জানতেই হবে আমাকে
পিতার স্বপ্ন কতটা মম স্বপ্নের বাহক
কেননা, যেতে হবে দূর-বহুদূর
খুজে পেতে হবে পিতার বুকের অধরা সুর।

পিতাঃ এটা পরিবতর্নের সময় নয়
একটু বসো, শান্ত হও
এখনো তুমি ছোট্টটি
সবকিছু জানতে চাও
এটুকুই তোমার ত্রুটি
যদি কোন সুখ বালিকা পাও
ঠিকঠাক জীবনসঙ্গী করে নাও
দেখছ না আমাকে
জীবনের ওপারে উপনীত
তবু জীবনসুখে বিমোহিত।

পুত্রঃ প্রতিটি মুহূর্তে আমি কেঁদেছি
কেঁদেছি সত্যটুকু লভিবার তরে
জানি এর সন্ধান পাওয়া কঠিন
তার চেয়েও কঠিন
অবহেলায় ছুড়ে ফেলা তোমার স্বপ্নগুলো
তাইতো কেঁদেছি সারাবেলা
কেঁদেছি অবেলায় অসংলগ্ন মর্মযাতনায়
তবু চলেছি পথ
জানি যেতে হবে দূর বহুদূর
অসময়ের এই অবেলায়।

মূলঃ কেট স্টিভেন

আল্টমাস লেলিনের কবিতা

Lelin 2

 

 

আল্টমাস লেনিন

একাকিত্ব

 
একাকিত্ব আমার ভাল লাগে
কখনো কখনো,
যখন আমি নস্টালজিয়ায় ভোগী।
মনে পরে যায় অনেক কথা,
অনেক হাসি, অনেক কান্না
অনেক স্মৃতি বিজরীত ঘটনা-দূর্ঘটনা।
সে সব কথা ভেবে কখনো আনন্দের
এক চিলতে হাসি ফুটে উঠে।
আবার কখনো কষ্টের নীলিমায়
নীলাম্বরী হয়ে চোখ দুটি অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠে।
হাতছানি দিকে অতীত যেন ডেকে বলে,
এসো, এসো আমার মনের গহীনে
অবগাহন করে আমায়।
অনেক মুখচ্ছবি ভেসে উঠে মনের আয়নায়,
আবার অনেক মুখচ্ছবি মলিন হতে গেছে,
স্মৃতি যেন খুঁজে ফিরে বেড়ায় তাদের।
করতোয়া নদী হতে বংশী নদী পর্যন্ত
কত না সুখ- দুঃখ- আনন্দে ঘেরা স্মৃতি
আজ বেদনার নীল কারাগারে বন্দী।
আজ আমি একা, বড্ড একা
আমার একাকিত্বের অংশিদার
শুধু আমিই একা।।।

চিকিৎসার অজুহাতে লন্ডনে বসে বেগম খালেদা জিয়া দেশ বিরোধী ষঢ়যন্ত্র করছেন সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ

লন্ডন প্রতিনিধিঃ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার অজুহাতে লন্ডনে বসে দেশ বিরোধী ষঢ়যন্ত্র করছেন, উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতাকে নাস্যাৎ করতে দেশী-বিদেশীদের সাথে নিয়ে নতুন করে চক্রান্ত শুরু করেছেন। সোমবার ২৪ জুলাই স্থানীয় সময় বিকেল তিনঘটিকায় লন্ডনে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বেগম জিয়া ও তার পুত্র বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লন্ডনে পালিয়ে থাকা তারেক রহমানের বিরোদ্ধে লিখিত বক্তব্যে আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ্এঅভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয় বেগম জিয়া জ¦ালাও পোড়াও, খুন রাহাজানির মাধ্যমে বিগত বছর গুলোতে দেশে যেভাবে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন, লন্ডনে বসে নতুন করে সরকার উৎখাত এবং দেশে নৈরাজ্যকার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেশী বিদেশী ষঢ়যন্ত্রকারীদের সাথে গোপন বৈঠক করছেন।
5

1 লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলা হয় দেশে হাওয়া ভবনের মাধ্যমে তারেক রহমান যে ভাবে চাঁদাবাজি করতেন ঠিক একই কায়দায় লন্ডনের কিংষ্টনে বসে চাদাবাজি করছেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় ইউটিউব খুললেই এখানকার নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তারেক রহমানের চাদাবাজির কথা শুনতে পারবেন। সংবাদ সস্মেলনে বলা ২০১৩ সালের নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তিতে স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে বিএনপির আন্দোলনের নামে ধ্বংশাত্মক কর্মকান্ডের চিত্র তুলে ধরে বরা বলা হয় তাদের ধ্বংমাত্মক কর্মকান্ডেন কারনে দেশের ২৫বিলিয়ন টাকার ক্ষতি হয়। যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী নইমুদ্দিন রিয়াজের সঞ্চালনায় ও প্রেসিডেণ্ট প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জালাল উদ্দিন, সামসুদ্দিন মাষ্টার, হরমুজ আলী, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান, চৌধুরী, দেওয়ান গৌস সুলতান, সৈয়দ মোজাম্মিল আলী, শাহ শামীম, সাজ্জাদ মিয়া, আনসারুল হক, কাওসার চৌধুরী, সিতাব চৌধুরী, সৈয়দ ছুরুক আলী, কয়েছ চৌধুরী, নূরুল হক লালা মিয়া, ব্যরিস্টার অনুকুল তাকূলদার ডালটন, আ.স.ম মিসবাহ, ব্যারিস্টার শাহ আলম,জামাল খান জোবায়ের আহমদ, হোসনেয়ারা মতিন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্চাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, আওয়ামী আইনজীবি পরিষদের নেতৃবৃন্দ।2সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহ শামীম, সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সুলতান মাহমুদ শরীফ, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, নইমুদ্দিন রিয়াজ, হরমুজ আলী, দেওয়ান গৌস সুলতান, মোজাম্মিল আলী প্রমুখ। এজকন সাংবাদিক সন্ত্রাসের কারনে উন্নয়ন ব্যহত হচ্চে কিনা জানতে চাইলে বলা উন্নয়ন ব্যাহত করতেই বিএনপির ইন্দনে দেশে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ গজিয়ে উঠে। সরকার জঙ্গি দমনে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। জঙ্গি দমনে দেশের সাধানর মানুষের সহযোগীতা রয়েছে। বৃটেনে জামাতের এজেন্ট হয়ে কারা কাজ করে জানতে চাইলে বলা হয় বড় বড় যুদ্ধাপরাধীদের ফাাঁসি কার্যকর হওয়ার পর যারা বৃটেনে গয়েবানা জানাজা পড়ে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে যারা ধর্মকে ব্যহার করে মানবতা বিরোধীদের সাফাই গায় এরাই বৃটেনে জামাতের এজেন্ট।

প্রসঙ্গঃ ‘ঈদ’ না ‘ইদ’ : বাংলা একাডেমি নিজেই অসংগত

Nazmul Islam

নাজমুল ইসলাম

দেশের মানুষের রক্ত আর ঘামঝরানো টাকায় পোষা হয় বাংলা একাডেমির কর্মকর্তাদের। তাদের কাজ সময় ও পারিপার্শ্বিকতার নিরিখে ভাষার গবেষণা-উন্নয়ন। কিন্তু তারা এর কতটুকু করছেন; বৎসরে একটা মেলার আয়োজন করেন। এতে স্টল পেতে হলে দেখা যায় তাদের রাজনৈতিক তোষণের গভীরতা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় দলবাজিই তাদের প্রধান কাজ, নেশা ও পেশা। সম্প্রতি তাদের সুমহান গবেষণাযজ্ঞের কথা জানতে পারলাম। ‘ঈদ’ বানানে ‘ইদ’ হবে। ঈদের ‘ঈ’ দিয়ে নয়, ইতরের ‘ই’ দিয়ে! এরা বাংলা বানানের নিয়মে এক বাইবেলীয় বিধান সংযুক্ত করেছিলেন, “বিদেশি শব্দে ঈ-কার থাকবে না , তদস্থলে ই-কার দিতে হবে।” কেন থাকবে না এর সঠিক ব্যাখ্যা নেই। এই ভিত্তিহীন নিয়ম অনুযায়ীই ‘ঈ’ স্থলে ‘ই’ লিখতে হবে। জলের মত সহজ আইন । এ আইন অনুযায়ীই ঈদ বানানে ‘ই’ সংগত, আর ‘ঈ’ অসংগত। না মানার কী আছে। কেউ না মেনে পাণ্ডিত্য দেখাতে চাইলে জামাতি তকমা তো আছেই। ইতোমধ্যেই ডিজি সাহেব বলেও ফেলেছেন যে, জামাতিরাই নাকি এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে। বিদেশি শব্দের বানান, অর্থ ও ব্যুৎপত্তির দিকে না তাকিয়ে এরকম গাঁজাখুরি বিধান চালু করলে আফ্রিকার জঙ্গলবাসীও মেনে নিবে না। অবশ্য একাডেমি দুই যুগ ধরে নিজেই এ আইন লঙ্ঘন করে তাদের সব বই ও সাইনে ‘বাংলা একাডেমী’ লিখে আসছিল। কত উপহাস্য এ প্রতিষ্ঠানটি। নিজেরাই নিজেদের প্রণীত বিধান মানে না। ডিজি সাহেব তো প্রধানমন্ত্রীর প্রিয়ভাজন। তিনি ঈদটা যেভাবে ইদ করলেন, সে নিয়মে তো আওয়ামী লীগও ভুল শব্দ; এটা শুদ্ধ করে আওয়ামি লিগ লিখতে বলুন, দেখি তার বিধান কথটা কার্যকর হয়। ভণ্ডামিরও একটা সীমা থাকা দরকার। এ অবস্থায় কী করবে দেশের শিক্ষিত সমাজ; সব জায়গায় জবরদস্তি চালিয়ে অজ্ঞানতার অন্ধকারে ঠেলে দেয়া হচ্ছে নতুন প্রজন্মকে। বলা হচ্ছে ভাষার সহজীকরণ হচ্ছে; বিশেষত বাচ্চাদের জন্য। এভাবে না জেনে না বুঝে হুটহাট বানানরীতি বদলালে এবং নিজেদের বইয়েই তা না মানলে কেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তা সহজেই অনুমেয়। অজস্র সময় ও কোটি কোটি টাকার অপচয় হয়, শব্দের প্রকৃত অর্থ বদলে যেতে থাকে; আর তা যদি হয় ধর্মগ্রন্থীয় শব্দ তবে তো কথাই নেই; স্থানবিশেষে কুরুক্ষেত্র বেঁধে যায়; সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ায়, (কারণ বানানবিধানে আছে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ অক্ষুণ্ণ থাকবে, এগুলোর দীর্ঘস্বরকে হ্রস্ব করলে অর্থের পরিবর্তন হয় বলে সনাতন ধর্মবেত্তাগণ কড়া আপত্তি তোলেছিলেন। এ ধরনের আপত্তি তো একই কারণে আরবি ফারসির ক্ষেত্রে মুসলিম ধর্মবেত্তাগণও করবেন) সর্বোপরি এ ধরনের ভিত্তিহীন ও অপরিণামদর্শী পরিবর্তনের ফলে ভাষা শ্রীহীন, দুর্বোধ্য ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। এত বিকল্প শিশুদের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। তারা একেক বিষয় পড়তে গিয়ে একেক বানান দেখে আরো বিভ্রান্ত হয়। তখন তাদের কাছে ইংরেজিকেই সহজ ভাষা মনে হয়। অথচ বাংলা পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ ও সুপ্রাচীন ভাষা। এর রয়েছে শৃঙ্খলাবদ্ধ সুন্দর বর্ণমালা, অফুরন্ত শব্দভাণ্ডার। তাই মনগড়া বিধান চালু করে শিশুদের মধ্যে মাতৃভাষা-ভীতি তৈরি করা গর্হিত অপরাধ। তাই সংস্কৃতের মত বিদেশি শব্দেরও প্রচলিত বানান অক্ষুণ্ণ রাখার কোনো বিকল্প নেই। যেমন- আওয়ামি নয়, আওয়ামী ই থাকবে; লিগ নয় লীগ থাকবে; সুপ্রিম নয় সুপ্রীম থাকবে; ইদ নয়, ঈদ থাকবে। দেশবাসী ক্ষিপ্ত হওয়ার আগে এরকম সব সঠিক বানান অক্ষুণ্ণ না রেখে উপায় নেই। আধুনিক বাংলা অভিধানে ‘ইদ’ শব্দটির ভুক্তিতে বলা হয়েছে, ” ‘ইদ/ইদ্/[আ.]বি. ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব; (ইদুল ফিতর বা ইদুল আজহা); খুশি, উৎসব; ঈদ-এর সংগততর ও অপ্রচিলত বানান। ইদ মোবারক /ইদ্ মোবারক্/বি. ইদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে উচ্চারিত অভিবাদন।’ অন্যদিকে, অভিধানের ‘ঈদ’ ভুক্তিতে বলা হয়েছে, ‘/ইদ/[আ.]বি. ইদ-এর প্রচলিত ও অসংগত বানান।’ আবার বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে ‘ইদ’ শব্দের ভুক্তিতে নির্দেশ করা হয়েছে ‘ঈদ’।” যাই হোক, তাঁরা বোঝাচ্ছেন, ‘ইদ’ বানানটি সংগত আর ‘ঈদ ‘অসংগত? হায়রে পাণ্ডিত্য! এবার আমরা দেখব বাংলা একাডেমি কতটা সংগত। যদিও ডিজি শামসুজ্জামান খান ইতোমধ্যেই বলে বসেছেন, “এই পরিবর্তনে এত মাতামাতি করার কিছু নেই। আমার মনে হচ্ছে, জামায়াত অথবা কোনও উগ্রবাদী মতাদর্শের লোকজনের বিষয়টি নিয়ে বেশ মাথা ব্যথা শুরু হয়েছে।” রাজনৈতিক নেতাদের মত কথা বললেন; অথচ তার ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে তিনি রাজনীতিক নন; রাষ্ট্রের চাকর হিসেবে তার এ বক্তব্যও অসংগত। এই পরিবর্তনে বাংলা একাডেমির কারো মাতামাতির কিছু নেই- এক্ষেত্রে কথাটি ঠিকই আছে। কারণ যাদের মাথা নেই তাদের ব্যথাও নেই। কোনো বিষয না জানলে মাতামাতির কী বা থাকে বলুন? তবে একাডেমি ‘ঈদ’ এর বদলে ‘ইদ’ লিখে কী অপকর্মটি করেছে তা জানা দরকার । আরবি ‘ঈদ’ ( عيد) এর বাংলা অর্থ- আনন্দ, উৎসব, পর্ব ইত্যাদি । আর ‘ইদ’ (عد) এর বাংলা অর্থ- ব্রণ, ফোঁড়া, বিষফোঁড়া ইত্যাদি। একাডেমির সবাই আরবিতে অজ্ঞ, অথচ আমাদের বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারে বিদেশি শব্দের মধ্যে আরবির সংখ্যাই সর্বাধিক! আর এ ভাষা গবেষণার সুমহান দায়িত্ব যারা পালন করছেন তাদের কেউই আরবি জানেন না। তাইতো তারা আনন্দের বদলে বিষফোঁড়ার জন্ম দেন। ভাষা না জেনেও এর গবেষণা কেবল বাংলাদেশেই সম্ভব- কত হতচ্ছাড়া জাতি আমরা। বহুভাষাবিদ পণ্ডিতদের আসনে কারা বসে আছে! কে নেয় এসব খবর!

ঢাকা, ২৪ জুন ২০১৭১৭

“আপনার সন্তানেরাই আপনাকে হত্যা করবে”- বঙ্গবন্ধুকে ফিডেল ক্যাস্ট্রো

মতিয়ার চৌধুরীঃ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের বিশালতা এবং উদারতা নিয়ে নিয়ে বিপ্লবী নেতা ফিডেল ক্যাস্ট্রোর প্রতিটি উক্তি অক্ষরে অক্ষরে প্রতিফলিত হয়েছে, তিনি বলেছিলেন ‘‘আমি হিমালয় দেখিনি বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি’’। আমার এখনও স্পষ্ট মনে আছে ১৯৭৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ৭৩জাতি সম্মেলনে ফিডেল ক্যাস্ট্রো বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে জানতে চেয়েছিলেন নব্যস্বাধীন বাংলাদেশের সামরিক ব্যবস্থা সম্পর্কে এবং তিনি যুদ্ধ শেষ হবার পর বিরুধীদের হত্যা করেছেন কিনা, উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছেলিন সবইতো আমার সন্তান আর তাদের হত্যা করার প্রশ্নই আসেনা, তিনি ফিডেলকাষ্টকে আরো বলেছিলেন পাকিস্তান থেকে আমাদের বাঙ্গালী সামরিক অফিসারদের ফিরিয়ে এনেছি তারাই ডিফেন্স সহ দেশ পূনর্গঠনে কাজ করবে। উত্তরে ফিডেল কাষ্ট বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন তা হয়না আমি বিপ্লবের পর সাড়ে চার হাজারেরও অধিক বিরুধীকে হত্যা করেছি। বঙ্গবন্ধু ফিডেল কাষ্টকে বলেছিলেন আমার পক্ষে হত্যা সম্ভব নয় এরাতো আমারই সন্তান। আমার বেশ মনে পড়ে তাৎক্ষনিক ফিডেল কাষ্ট বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন আপনার সন্তানেরাই আপনাকে হত্যা করবে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ফিডেল কাষ্টের উক্তিটির প্রতিফলন আমরা দেখতে পেলাম ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। এ মন্তব্য প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর। গতকাল ১২ মে শুক্রবার বিকেলে পূর্ব লন্ডনের লন্ডনের মাইক্রো বিজনেন্স সেন্টারে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনের মিনিস্টার প্রেস সাংবাদিক নাদিম কাদিরের লিখা ‘‘ মুক্তিযুদ্ধ:অজানা অধ্যায়’’ প্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী একথা বলেন। তিনি বলেন, আজও আমরা মুক্তিযুদ্ধের একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস পাই নি, স্বাধীনতা পরবর্তিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিএনপি যেমন বিকৃত করেছেন আওয়ামী লীগও করেছে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান নাদিম কাদির রচিত আমাদের মুক্তিযুদ্ধ : অজানা অধ্যায় গ্রন্থটি একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিবেকর নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে লিখা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হলে নাদিম কাদিরের এই গ্রন্থটি গ্রহণযোগ্য। লেখক বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের প্রতি যে আনুগত্য দেখিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ব্রিটেনের প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র সাপ্তাহিক জনমত সম্পাদক নবাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক সায়েম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্টিত প্রকাশনা অনুষ্ঠনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন, গ্রন্থের উপর আলোচনায় অংশ নেন সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাংবাদিক কলামিস্ট সৈয়দ বদরুল আহসান, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাহাস পাশা, সাংবাদিক লেখক ইসহাক কাজল। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ড. শ্যামল চৌধুরী, মোস্তাফা কামাল মিলন।

সেই সব দিনের গল্প (পর্ব-২)

IMG_0739

 

 

 

মোহাম্মদ গোলাম মাহদী

কিছুদিন হলো আপার বিয়ে হয়েছে। দুলাভাইয়ের আত্মীয়স্বজনের বাড়ি থেকে একের পর এক ছোট ছোট দাওয়াত। বেশির ভাগ দাওয়াতেই আপার সফর সঙ্গী আমি।এবার আসলো দুলাভাইয়ের ঢাকাস্থ খালার বাসা থেকে।বড় দাওয়াত। কমপক্ষে ১০ দিন না থাকলে খালা নাকি খুব রাগ করবেন। এদিকে আপার এতো লম্বা সফরে যাওয়ার ইচ্ছে নেই। আমাকে সঙ্গে দিবেন বলে সবাই আপাকে অনেক বুঝিয়েসুঝিয়ে রাজি করালেন। চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে পারবো ভেবে আমিও মহাখুশি। তাছাড়া জীবনে প্রথমবারের মত ঢাকা যাওয়ার সুযোগ। কেউ কী মিস করে? আমার জন্ নতুন কাপড়চোপড়,জুতা কেনা হল। আপাও অনেক কেনাকাটা করলো। ঢাকা যাওয়ার জন্য আমরা একদম প্রস্তুত এখন যেতে বললে এখনই চলে যাই এই অবস্থা। কিন্তু ১০দিনের লম্বা সফরে ঢাকা গেলে আমার বকের ছানার কী হবে? কে খাওয়াবে তাকে এতদিন? বিরাট চিন্তায় পড়ে গেলাম। বুদ্ধি দিতে আম্মাকে বললাম ভাই দুজনের কাছে রেখে যাওয়ার বুদ্ধি দিলেন আম্মা। কিন্তু তারা কী মানবে? মানানোর দায়িত্বও আম্মার। আম্মা খুব কম সময় ব্যয় করেই দায়িত্ব পালনে ৯৯ ভাগ সফল হলেন। ভাইয়েরা ছানার লালন পালনে রাজি তবে একটা শর্তে। মালিকানায় সমান সমান ভাগ দিতে হবে। প্রথমে এমন ফাজিল মার্কা শর্ত শুনে রাগ করলেও শেষমেশ ঢাকা যাওয়ার স্বপ্নের কাছে আমার বিড়াল মার্কা রাগটা হেরেই গেল। সব মেনে নিয়ে তখন ছানার কাছে সারাদিন ঘুরঘুর করতাম। আদর করে দিতাম। অতি আদরে আমার প্রতি আপার আদরের ব্যঘাত ঘটতো। শরীরে মাছ আর শামুকের বিদঘুঁটে গন্ধে আমার নতুন বিবাহিত আপা ডাইনির মত মুখ করে আচ্ছা মত চুল টানতো। কান টেনে বাথরুমে নিয়ে শরীর ঘষার নামে চামড়া ছিলতো। কেয়া সাবান ঢলতে ঢলতে মানুষ করার চেষ্টা করতো। আমি মানুষ হতাম না। কিছুক্ষণ পর পরই আবার বকবাবা হয়ে বক ছানার কাছেই যেতাম। ফলে সেই গন্ধ, সেই কানমলা, সেই চামড়া ছেলা গোসল, আর সেই মার আমার সহ্য করতেই হত। অতঃপর একদিন ট্রেনের টিকিট হাতে দুলাভাই হাজির। আমি মানুষের মত গোসলটোসল করে কাপড়চোপড় পড়ে সেন্টবেন্ট মেরে আপার হাত ধরে ঢাকার উদ্দেশ্যে দিলাম রওয়ানা। বকছানা রইল বাড়ি।

( চলবে… )

 

সেই সব দিনের গল্প

IMG_0739

মোহাম্মদ গোলাম মাহদী

(পর্ব-১)

এক বয়সে বকের ছানা চুরি করতে প্রায়ই দল বেঁধে ঝোপঝাড়ওয়ালা পাশের গ্রামে যেতাম। কতবার যে কত ছানা চুরি করেছি তার হিসেব নেই। একবার আট কি নয় দিনের এক ছানা চুরি করে ছিলাম বাঁশের মাথা থেকে। নরম তুলতুলে তার শরীর।মাত্র লোম ওঠা শুরু করেছিল।আমি বাঁশের ঠিক মাথায়। মা বকের দলবল নিয়ে সে কী হুঙ্কার । দূর থেকে বাড়ির মালিকের চীৎকার করে উজাড় করা লুঙ্গির নিচের গালি। যে যার মতো তাড়াহুড়ো করে নেমে এক দৌড় দিতাম বাড়ির দিকে।

বকের ছানার প্রধান খাবার ছিল শামুক। গ্রামের খাল থেকে শামুক কুড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে খাওয়াতে হত।দিনে কয়েক বেলা। কিন্তু শামুক কাটার দা সংগ্রহ করতে যে আমার কী পরিমাণ বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হত, আর এই অপরাধে কী পরিমাণ যে মার খেতে হত তা কেবল আমার পাগলাটে শৈশবই জানে। তারপরও বকছানার পেট ভরে তো মন ভরে না। উনার প্রত্যেক বেলা শামুক খেতে বিরক্ত লাগে। মাঝে মাঝে মাছ চাই। ছোট ছোট পুটি মাছ, মলা মাছ, ঢেলা মাছ… আরও কত কী। বাপ রে, কী নবাব আমার!
রাগ হলেও লুকিয়ে লুকিয়ে মাছ মেরে উনাকে খাওয়াতাম, একখান জোয়ান নেশা মিটতো বলে। মাছ মারার অপরাধেও যে কত মার খেয়েছি তাও আমার ঐ শৈশবই জানে (কোনো দিন তাকে পেলে জিজ্ঞেস করে সত্য-মিথ্যা জেনে নিবেন)।

আমাকে নিয়ম করে প্রতিদিন বড়দের চোখ ফাঁকি দিতে হত, শামুক কুড়োতে হত, মাছ ধরতে হত। মার খাওয়ার ব্যাপারটাও বিপরীত নিয়মে হত না, নিয়ম করেই স্বাভাবিক দু্’য়েক বেলা।

এভাবে পাঁচ সাত দিন চলে গেল।উনার এখন লোম ওঠে যাচ্ছে। শরীর আরও বড় আর লম্বা হয়ে গেল। ইতোমধ্যে আমাকে ভাল করে চিনেও নিয়েছেন। দেখলেই মাথা নিচু করে ডানা ঝাপটে খাবার চান। খাঁচা থেকে বের করলেও দৌড় দেন না। শরীর ঘেষে এমন ভাব করেন যেন আমি উনার মাই-বাপ।

সে যত আদরই করতাম না কেন দুষ্টুমি করলে মাঝেমধ্যে আচ্ছা করে বকেও দিতাম কিন্তু। তার দুষ্টুমির ধরন ছিল এমন- খাবার-দাবার নষ্ট করা। পেট ভরে গেলেও অতি আহ্লাদের চোটে বেখেয়ালে তিনি খেতেই থাকতেন, খেতেই থাকতেন। যখন খেতে খেতে গলা পর্যন্ত চলে আসতো,মানে গেলার আর জায়গা থাকতো না তখন বেমালুম সব উগলে ফেলে দিতেন। মানে ‘নষ্ট করলে বাপের গেল, আমার কী?’ -এই টাইপ। রাগ হত, চরম রাগ। দাঁতে দাঁত চেপে যা মনে আসতো মুখ বন্ধ করে তাই ঝেড়ে দিতাম। শাস্তিস্বরূপ খাঁচার নাগালে বিড়াল এনে রাখতাম।

গেল এমনি করে আরও দিন কয়েক। এই কদিনে আমি ছাড়াও আমার দুই ভাইয়ের সাথে ভাল খাতির জমে গেছে তার। আমি স্কুলে থাকাকালীন তারা তাকে খাবার দিত। এ থেকেই সখ্যতা। এতে আমিও খুশি। কিছু চাপ তো কমলো। তারাও দেখছি চাচার দায়িত্ব পালনে ভালই আগ্রহী। তিন ভাইয়ের যত্নে তিনি তখন রীতিমত আহ্লাদি সোনা।

এবার তার ডানা লোমের চাপে ধীরে ধীরে বেশ ভারী হচ্ছে। শরীর জুড়ে কম বয়সি নরম নরম লোম। ছুঁলে বেশ ভালই লাগে। মায়া বাড়ে। আবার ছুঁতে ইচ্ছে করে।

(চলবে…)

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net