শিরোনাম

শিল্প সাহিত্য

মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া’র কবিতা

M G Kibria

 

 

কথোপকথন : পিতা পুত্র

মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া

পিতা: শোনো, এটি পরিবর্তনের সময় নয়
একটু শান্ত হও
সবকিছু সহজ ভাবে নাও
এখনো তুমি ছোট্টটি
সবকিছু জানতে চাও
এটুকুই তোমার ত্রুটি
যদি কোন সুখ বালিকা পাও
ঠিকঠাক জীবনসঙ্গী করে নাও
দেখছ না আমাকে
জীবনের ওপারে উপনীত
তবু জীবনের আলোয় বিমোহিত
একদিন আমারও যৌবন ছিল তোমার মত।

জানি পাওয়াা সহজ নয়
তবু চেয়ে যেতে হয়
হয়তো বুঝিবে যেতে
চলছে সব আপন পথে
একটু সময় নাও
মম পানে তাকাও আর শান্ত হও
হয়তো আগামি ভোরে স্বপ্নরা হারিয়ে যাবে
কেবল তুমিই রয়ে যাবে!

পুত্রঃ কীভাবে বোঝাই সব কিছু
ধরতে যাই তারে
সে চলে অতীতের পিছু পিছু
বাজে পুরাতন সূর বিমর্ষ ইথারে।

যেদিন কথা বলা শুরু
আদেশের শুরুও সেদিন থেকেই
শুধু শুনে যাও শুধু শুনেই যাও।

কিন্তু এখনতো সেই পথ সমাগত
আর আমাকে জানতেই হবে
জানতেই হবে আমাকে
পিতার স্বপ্ন কতটা মম স্বপ্নের বাহক
কেননা, যেতে হবে দূর-বহুদূর
খুজে পেতে হবে পিতার বুকের অধরা সুর।

পিতাঃ এটা পরিবতর্নের সময় নয়
একটু বসো, শান্ত হও
এখনো তুমি ছোট্টটি
সবকিছু জানতে চাও
এটুকুই তোমার ত্রুটি
যদি কোন সুখ বালিকা পাও
ঠিকঠাক জীবনসঙ্গী করে নাও
দেখছ না আমাকে
জীবনের ওপারে উপনীত
তবু জীবনসুখে বিমোহিত।

পুত্রঃ প্রতিটি মুহূর্তে আমি কেঁদেছি
কেঁদেছি সত্যটুকু লভিবার তরে
জানি এর সন্ধান পাওয়া কঠিন
তার চেয়েও কঠিন
অবহেলায় ছুড়ে ফেলা তোমার স্বপ্নগুলো
তাইতো কেঁদেছি সারাবেলা
কেঁদেছি অবেলায় অসংলগ্ন মর্মযাতনায়
তবু চলেছি পথ
জানি যেতে হবে দূর বহুদূর
অসময়ের এই অবেলায়।

মূলঃ কেট স্টিভেন

আল্টমাস লেলিনের কবিতা

Lelin 2

 

 

আল্টমাস লেনিন

একাকিত্ব

 
একাকিত্ব আমার ভাল লাগে
কখনো কখনো,
যখন আমি নস্টালজিয়ায় ভোগী।
মনে পরে যায় অনেক কথা,
অনেক হাসি, অনেক কান্না
অনেক স্মৃতি বিজরীত ঘটনা-দূর্ঘটনা।
সে সব কথা ভেবে কখনো আনন্দের
এক চিলতে হাসি ফুটে উঠে।
আবার কখনো কষ্টের নীলিমায়
নীলাম্বরী হয়ে চোখ দুটি অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠে।
হাতছানি দিকে অতীত যেন ডেকে বলে,
এসো, এসো আমার মনের গহীনে
অবগাহন করে আমায়।
অনেক মুখচ্ছবি ভেসে উঠে মনের আয়নায়,
আবার অনেক মুখচ্ছবি মলিন হতে গেছে,
স্মৃতি যেন খুঁজে ফিরে বেড়ায় তাদের।
করতোয়া নদী হতে বংশী নদী পর্যন্ত
কত না সুখ- দুঃখ- আনন্দে ঘেরা স্মৃতি
আজ বেদনার নীল কারাগারে বন্দী।
আজ আমি একা, বড্ড একা
আমার একাকিত্বের অংশিদার
শুধু আমিই একা।।।

চিকিৎসার অজুহাতে লন্ডনে বসে বেগম খালেদা জিয়া দেশ বিরোধী ষঢ়যন্ত্র করছেন সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ

লন্ডন প্রতিনিধিঃ বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার অজুহাতে লন্ডনে বসে দেশ বিরোধী ষঢ়যন্ত্র করছেন, উন্নয়নের অগ্রযাত্রা ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতাকে নাস্যাৎ করতে দেশী-বিদেশীদের সাথে নিয়ে নতুন করে চক্রান্ত শুরু করেছেন। সোমবার ২৪ জুলাই স্থানীয় সময় বিকেল তিনঘটিকায় লন্ডনে যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বেগম জিয়া ও তার পুত্র বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লন্ডনে পালিয়ে থাকা তারেক রহমানের বিরোদ্ধে লিখিত বক্তব্যে আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ ্এঅভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয় বেগম জিয়া জ¦ালাও পোড়াও, খুন রাহাজানির মাধ্যমে বিগত বছর গুলোতে দেশে যেভাবে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন, লন্ডনে বসে নতুন করে সরকার উৎখাত এবং দেশে নৈরাজ্যকার পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে দেশী বিদেশী ষঢ়যন্ত্রকারীদের সাথে গোপন বৈঠক করছেন।
5

1 লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করে বলা হয় দেশে হাওয়া ভবনের মাধ্যমে তারেক রহমান যে ভাবে চাঁদাবাজি করতেন ঠিক একই কায়দায় লন্ডনের কিংষ্টনে বসে চাদাবাজি করছেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয় ইউটিউব খুললেই এখানকার নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তারেক রহমানের চাদাবাজির কথা শুনতে পারবেন। সংবাদ সস্মেলনে বলা ২০১৩ সালের নির্বাচন পূর্ব ও পরবর্তিতে স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে বিএনপির আন্দোলনের নামে ধ্বংশাত্মক কর্মকান্ডের চিত্র তুলে ধরে বরা বলা হয় তাদের ধ্বংমাত্মক কর্মকান্ডেন কারনে দেশের ২৫বিলিয়ন টাকার ক্ষতি হয়। যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী নইমুদ্দিন রিয়াজের সঞ্চালনায় ও প্রেসিডেণ্ট প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জালাল উদ্দিন, সামসুদ্দিন মাষ্টার, হরমুজ আলী, যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান, চৌধুরী, দেওয়ান গৌস সুলতান, সৈয়দ মোজাম্মিল আলী, শাহ শামীম, সাজ্জাদ মিয়া, আনসারুল হক, কাওসার চৌধুরী, সিতাব চৌধুরী, সৈয়দ ছুরুক আলী, কয়েছ চৌধুরী, নূরুল হক লালা মিয়া, ব্যরিস্টার অনুকুল তাকূলদার ডালটন, আ.স.ম মিসবাহ, ব্যারিস্টার শাহ আলম,জামাল খান জোবায়ের আহমদ, হোসনেয়ারা মতিন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্চাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, আওয়ামী আইনজীবি পরিষদের নেতৃবৃন্দ।2সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাহ শামীম, সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন সুলতান মাহমুদ শরীফ, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, নইমুদ্দিন রিয়াজ, হরমুজ আলী, দেওয়ান গৌস সুলতান, মোজাম্মিল আলী প্রমুখ। এজকন সাংবাদিক সন্ত্রাসের কারনে উন্নয়ন ব্যহত হচ্চে কিনা জানতে চাইলে বলা উন্নয়ন ব্যাহত করতেই বিএনপির ইন্দনে দেশে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদ গজিয়ে উঠে। সরকার জঙ্গি দমনে জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। জঙ্গি দমনে দেশের সাধানর মানুষের সহযোগীতা রয়েছে। বৃটেনে জামাতের এজেন্ট হয়ে কারা কাজ করে জানতে চাইলে বলা হয় বড় বড় যুদ্ধাপরাধীদের ফাাঁসি কার্যকর হওয়ার পর যারা বৃটেনে গয়েবানা জানাজা পড়ে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে যারা ধর্মকে ব্যহার করে মানবতা বিরোধীদের সাফাই গায় এরাই বৃটেনে জামাতের এজেন্ট।

প্রসঙ্গঃ ‘ঈদ’ না ‘ইদ’ : বাংলা একাডেমি নিজেই অসংগত

Nazmul Islam

নাজমুল ইসলাম

দেশের মানুষের রক্ত আর ঘামঝরানো টাকায় পোষা হয় বাংলা একাডেমির কর্মকর্তাদের। তাদের কাজ সময় ও পারিপার্শ্বিকতার নিরিখে ভাষার গবেষণা-উন্নয়ন। কিন্তু তারা এর কতটুকু করছেন; বৎসরে একটা মেলার আয়োজন করেন। এতে স্টল পেতে হলে দেখা যায় তাদের রাজনৈতিক তোষণের গভীরতা। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় দলবাজিই তাদের প্রধান কাজ, নেশা ও পেশা। সম্প্রতি তাদের সুমহান গবেষণাযজ্ঞের কথা জানতে পারলাম। ‘ঈদ’ বানানে ‘ইদ’ হবে। ঈদের ‘ঈ’ দিয়ে নয়, ইতরের ‘ই’ দিয়ে! এরা বাংলা বানানের নিয়মে এক বাইবেলীয় বিধান সংযুক্ত করেছিলেন, “বিদেশি শব্দে ঈ-কার থাকবে না , তদস্থলে ই-কার দিতে হবে।” কেন থাকবে না এর সঠিক ব্যাখ্যা নেই। এই ভিত্তিহীন নিয়ম অনুযায়ীই ‘ঈ’ স্থলে ‘ই’ লিখতে হবে। জলের মত সহজ আইন । এ আইন অনুযায়ীই ঈদ বানানে ‘ই’ সংগত, আর ‘ঈ’ অসংগত। না মানার কী আছে। কেউ না মেনে পাণ্ডিত্য দেখাতে চাইলে জামাতি তকমা তো আছেই। ইতোমধ্যেই ডিজি সাহেব বলেও ফেলেছেন যে, জামাতিরাই নাকি এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করছে। বিদেশি শব্দের বানান, অর্থ ও ব্যুৎপত্তির দিকে না তাকিয়ে এরকম গাঁজাখুরি বিধান চালু করলে আফ্রিকার জঙ্গলবাসীও মেনে নিবে না। অবশ্য একাডেমি দুই যুগ ধরে নিজেই এ আইন লঙ্ঘন করে তাদের সব বই ও সাইনে ‘বাংলা একাডেমী’ লিখে আসছিল। কত উপহাস্য এ প্রতিষ্ঠানটি। নিজেরাই নিজেদের প্রণীত বিধান মানে না। ডিজি সাহেব তো প্রধানমন্ত্রীর প্রিয়ভাজন। তিনি ঈদটা যেভাবে ইদ করলেন, সে নিয়মে তো আওয়ামী লীগও ভুল শব্দ; এটা শুদ্ধ করে আওয়ামি লিগ লিখতে বলুন, দেখি তার বিধান কথটা কার্যকর হয়। ভণ্ডামিরও একটা সীমা থাকা দরকার। এ অবস্থায় কী করবে দেশের শিক্ষিত সমাজ; সব জায়গায় জবরদস্তি চালিয়ে অজ্ঞানতার অন্ধকারে ঠেলে দেয়া হচ্ছে নতুন প্রজন্মকে। বলা হচ্ছে ভাষার সহজীকরণ হচ্ছে; বিশেষত বাচ্চাদের জন্য। এভাবে না জেনে না বুঝে হুটহাট বানানরীতি বদলালে এবং নিজেদের বইয়েই তা না মানলে কেমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তা সহজেই অনুমেয়। অজস্র সময় ও কোটি কোটি টাকার অপচয় হয়, শব্দের প্রকৃত অর্থ বদলে যেতে থাকে; আর তা যদি হয় ধর্মগ্রন্থীয় শব্দ তবে তো কথাই নেই; স্থানবিশেষে কুরুক্ষেত্র বেঁধে যায়; সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প ছড়ায়, (কারণ বানানবিধানে আছে তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ অক্ষুণ্ণ থাকবে, এগুলোর দীর্ঘস্বরকে হ্রস্ব করলে অর্থের পরিবর্তন হয় বলে সনাতন ধর্মবেত্তাগণ কড়া আপত্তি তোলেছিলেন। এ ধরনের আপত্তি তো একই কারণে আরবি ফারসির ক্ষেত্রে মুসলিম ধর্মবেত্তাগণও করবেন) সর্বোপরি এ ধরনের ভিত্তিহীন ও অপরিণামদর্শী পরিবর্তনের ফলে ভাষা শ্রীহীন, দুর্বোধ্য ও বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। এত বিকল্প শিশুদের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। তারা একেক বিষয় পড়তে গিয়ে একেক বানান দেখে আরো বিভ্রান্ত হয়। তখন তাদের কাছে ইংরেজিকেই সহজ ভাষা মনে হয়। অথচ বাংলা পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ ও সুপ্রাচীন ভাষা। এর রয়েছে শৃঙ্খলাবদ্ধ সুন্দর বর্ণমালা, অফুরন্ত শব্দভাণ্ডার। তাই মনগড়া বিধান চালু করে শিশুদের মধ্যে মাতৃভাষা-ভীতি তৈরি করা গর্হিত অপরাধ। তাই সংস্কৃতের মত বিদেশি শব্দেরও প্রচলিত বানান অক্ষুণ্ণ রাখার কোনো বিকল্প নেই। যেমন- আওয়ামি নয়, আওয়ামী ই থাকবে; লিগ নয় লীগ থাকবে; সুপ্রিম নয় সুপ্রীম থাকবে; ইদ নয়, ঈদ থাকবে। দেশবাসী ক্ষিপ্ত হওয়ার আগে এরকম সব সঠিক বানান অক্ষুণ্ণ না রেখে উপায় নেই। আধুনিক বাংলা অভিধানে ‘ইদ’ শব্দটির ভুক্তিতে বলা হয়েছে, ” ‘ইদ/ইদ্/[আ.]বি. ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব; (ইদুল ফিতর বা ইদুল আজহা); খুশি, উৎসব; ঈদ-এর সংগততর ও অপ্রচিলত বানান। ইদ মোবারক /ইদ্ মোবারক্/বি. ইদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে উচ্চারিত অভিবাদন।’ অন্যদিকে, অভিধানের ‘ঈদ’ ভুক্তিতে বলা হয়েছে, ‘/ইদ/[আ.]বি. ইদ-এর প্রচলিত ও অসংগত বানান।’ আবার বাংলা একাডেমি ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে ‘ইদ’ শব্দের ভুক্তিতে নির্দেশ করা হয়েছে ‘ঈদ’।” যাই হোক, তাঁরা বোঝাচ্ছেন, ‘ইদ’ বানানটি সংগত আর ‘ঈদ ‘অসংগত? হায়রে পাণ্ডিত্য! এবার আমরা দেখব বাংলা একাডেমি কতটা সংগত। যদিও ডিজি শামসুজ্জামান খান ইতোমধ্যেই বলে বসেছেন, “এই পরিবর্তনে এত মাতামাতি করার কিছু নেই। আমার মনে হচ্ছে, জামায়াত অথবা কোনও উগ্রবাদী মতাদর্শের লোকজনের বিষয়টি নিয়ে বেশ মাথা ব্যথা শুরু হয়েছে।” রাজনৈতিক নেতাদের মত কথা বললেন; অথচ তার ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে তিনি রাজনীতিক নন; রাষ্ট্রের চাকর হিসেবে তার এ বক্তব্যও অসংগত। এই পরিবর্তনে বাংলা একাডেমির কারো মাতামাতির কিছু নেই- এক্ষেত্রে কথাটি ঠিকই আছে। কারণ যাদের মাথা নেই তাদের ব্যথাও নেই। কোনো বিষয না জানলে মাতামাতির কী বা থাকে বলুন? তবে একাডেমি ‘ঈদ’ এর বদলে ‘ইদ’ লিখে কী অপকর্মটি করেছে তা জানা দরকার । আরবি ‘ঈদ’ ( عيد) এর বাংলা অর্থ- আনন্দ, উৎসব, পর্ব ইত্যাদি । আর ‘ইদ’ (عد) এর বাংলা অর্থ- ব্রণ, ফোঁড়া, বিষফোঁড়া ইত্যাদি। একাডেমির সবাই আরবিতে অজ্ঞ, অথচ আমাদের বাংলা ভাষার শব্দভাণ্ডারে বিদেশি শব্দের মধ্যে আরবির সংখ্যাই সর্বাধিক! আর এ ভাষা গবেষণার সুমহান দায়িত্ব যারা পালন করছেন তাদের কেউই আরবি জানেন না। তাইতো তারা আনন্দের বদলে বিষফোঁড়ার জন্ম দেন। ভাষা না জেনেও এর গবেষণা কেবল বাংলাদেশেই সম্ভব- কত হতচ্ছাড়া জাতি আমরা। বহুভাষাবিদ পণ্ডিতদের আসনে কারা বসে আছে! কে নেয় এসব খবর!

ঢাকা, ২৪ জুন ২০১৭১৭

“আপনার সন্তানেরাই আপনাকে হত্যা করবে”- বঙ্গবন্ধুকে ফিডেল ক্যাস্ট্রো

মতিয়ার চৌধুরীঃ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের বিশালতা এবং উদারতা নিয়ে নিয়ে বিপ্লবী নেতা ফিডেল ক্যাস্ট্রোর প্রতিটি উক্তি অক্ষরে অক্ষরে প্রতিফলিত হয়েছে, তিনি বলেছিলেন ‘‘আমি হিমালয় দেখিনি বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি’’। আমার এখনও স্পষ্ট মনে আছে ১৯৭৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ৭৩জাতি সম্মেলনে ফিডেল ক্যাস্ট্রো বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে জানতে চেয়েছিলেন নব্যস্বাধীন বাংলাদেশের সামরিক ব্যবস্থা সম্পর্কে এবং তিনি যুদ্ধ শেষ হবার পর বিরুধীদের হত্যা করেছেন কিনা, উত্তরে বঙ্গবন্ধু বলেছেলিন সবইতো আমার সন্তান আর তাদের হত্যা করার প্রশ্নই আসেনা, তিনি ফিডেলকাষ্টকে আরো বলেছিলেন পাকিস্তান থেকে আমাদের বাঙ্গালী সামরিক অফিসারদের ফিরিয়ে এনেছি তারাই ডিফেন্স সহ দেশ পূনর্গঠনে কাজ করবে। উত্তরে ফিডেল কাষ্ট বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন তা হয়না আমি বিপ্লবের পর সাড়ে চার হাজারেরও অধিক বিরুধীকে হত্যা করেছি। বঙ্গবন্ধু ফিডেল কাষ্টকে বলেছিলেন আমার পক্ষে হত্যা সম্ভব নয় এরাতো আমারই সন্তান। আমার বেশ মনে পড়ে তাৎক্ষনিক ফিডেল কাষ্ট বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন আপনার সন্তানেরাই আপনাকে হত্যা করবে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ফিডেল কাষ্টের উক্তিটির প্রতিফলন আমরা দেখতে পেলাম ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। এ মন্তব্য প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর। গতকাল ১২ মে শুক্রবার বিকেলে পূর্ব লন্ডনের লন্ডনের মাইক্রো বিজনেন্স সেন্টারে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনের মিনিস্টার প্রেস সাংবাদিক নাদিম কাদিরের লিখা ‘‘ মুক্তিযুদ্ধ:অজানা অধ্যায়’’ প্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী একথা বলেন। তিনি বলেন, আজও আমরা মুক্তিযুদ্ধের একটি পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস পাই নি, স্বাধীনতা পরবর্তিতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিএনপি যেমন বিকৃত করেছেন আওয়ামী লীগও করেছে। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান নাদিম কাদির রচিত আমাদের মুক্তিযুদ্ধ : অজানা অধ্যায় গ্রন্থটি একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিবেকর নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে লিখা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হলে নাদিম কাদিরের এই গ্রন্থটি গ্রহণযোগ্য। লেখক বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের প্রতি যে আনুগত্য দেখিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসনীয়। ব্রিটেনের প্রাচীনতম বাংলা সংবাদপত্র সাপ্তাহিক জনমত সম্পাদক নবাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক সায়েম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্টিত প্রকাশনা অনুষ্ঠনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন, গ্রন্থের উপর আলোচনায় অংশ নেন সাবেক প্রেস মিনিস্টার সাংবাদিক কলামিস্ট সৈয়দ বদরুল আহসান, লন্ডন বাংলা প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাহাস পাশা, সাংবাদিক লেখক ইসহাক কাজল। অনুষ্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে সঙ্গীত পরিবেশন করেন ড. শ্যামল চৌধুরী, মোস্তাফা কামাল মিলন।

সেই সব দিনের গল্প (পর্ব-২)

IMG_0739

 

 

 

মোহাম্মদ গোলাম মাহদী

কিছুদিন হলো আপার বিয়ে হয়েছে। দুলাভাইয়ের আত্মীয়স্বজনের বাড়ি থেকে একের পর এক ছোট ছোট দাওয়াত। বেশির ভাগ দাওয়াতেই আপার সফর সঙ্গী আমি।এবার আসলো দুলাভাইয়ের ঢাকাস্থ খালার বাসা থেকে।বড় দাওয়াত। কমপক্ষে ১০ দিন না থাকলে খালা নাকি খুব রাগ করবেন। এদিকে আপার এতো লম্বা সফরে যাওয়ার ইচ্ছে নেই। আমাকে সঙ্গে দিবেন বলে সবাই আপাকে অনেক বুঝিয়েসুঝিয়ে রাজি করালেন। চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে পারবো ভেবে আমিও মহাখুশি। তাছাড়া জীবনে প্রথমবারের মত ঢাকা যাওয়ার সুযোগ। কেউ কী মিস করে? আমার জন্ নতুন কাপড়চোপড়,জুতা কেনা হল। আপাও অনেক কেনাকাটা করলো। ঢাকা যাওয়ার জন্য আমরা একদম প্রস্তুত এখন যেতে বললে এখনই চলে যাই এই অবস্থা। কিন্তু ১০দিনের লম্বা সফরে ঢাকা গেলে আমার বকের ছানার কী হবে? কে খাওয়াবে তাকে এতদিন? বিরাট চিন্তায় পড়ে গেলাম। বুদ্ধি দিতে আম্মাকে বললাম ভাই দুজনের কাছে রেখে যাওয়ার বুদ্ধি দিলেন আম্মা। কিন্তু তারা কী মানবে? মানানোর দায়িত্বও আম্মার। আম্মা খুব কম সময় ব্যয় করেই দায়িত্ব পালনে ৯৯ ভাগ সফল হলেন। ভাইয়েরা ছানার লালন পালনে রাজি তবে একটা শর্তে। মালিকানায় সমান সমান ভাগ দিতে হবে। প্রথমে এমন ফাজিল মার্কা শর্ত শুনে রাগ করলেও শেষমেশ ঢাকা যাওয়ার স্বপ্নের কাছে আমার বিড়াল মার্কা রাগটা হেরেই গেল। সব মেনে নিয়ে তখন ছানার কাছে সারাদিন ঘুরঘুর করতাম। আদর করে দিতাম। অতি আদরে আমার প্রতি আপার আদরের ব্যঘাত ঘটতো। শরীরে মাছ আর শামুকের বিদঘুঁটে গন্ধে আমার নতুন বিবাহিত আপা ডাইনির মত মুখ করে আচ্ছা মত চুল টানতো। কান টেনে বাথরুমে নিয়ে শরীর ঘষার নামে চামড়া ছিলতো। কেয়া সাবান ঢলতে ঢলতে মানুষ করার চেষ্টা করতো। আমি মানুষ হতাম না। কিছুক্ষণ পর পরই আবার বকবাবা হয়ে বক ছানার কাছেই যেতাম। ফলে সেই গন্ধ, সেই কানমলা, সেই চামড়া ছেলা গোসল, আর সেই মার আমার সহ্য করতেই হত। অতঃপর একদিন ট্রেনের টিকিট হাতে দুলাভাই হাজির। আমি মানুষের মত গোসলটোসল করে কাপড়চোপড় পড়ে সেন্টবেন্ট মেরে আপার হাত ধরে ঢাকার উদ্দেশ্যে দিলাম রওয়ানা। বকছানা রইল বাড়ি।

( চলবে… )

 

সেই সব দিনের গল্প

IMG_0739

মোহাম্মদ গোলাম মাহদী

(পর্ব-১)

এক বয়সে বকের ছানা চুরি করতে প্রায়ই দল বেঁধে ঝোপঝাড়ওয়ালা পাশের গ্রামে যেতাম। কতবার যে কত ছানা চুরি করেছি তার হিসেব নেই। একবার আট কি নয় দিনের এক ছানা চুরি করে ছিলাম বাঁশের মাথা থেকে। নরম তুলতুলে তার শরীর।মাত্র লোম ওঠা শুরু করেছিল।আমি বাঁশের ঠিক মাথায়। মা বকের দলবল নিয়ে সে কী হুঙ্কার । দূর থেকে বাড়ির মালিকের চীৎকার করে উজাড় করা লুঙ্গির নিচের গালি। যে যার মতো তাড়াহুড়ো করে নেমে এক দৌড় দিতাম বাড়ির দিকে।

বকের ছানার প্রধান খাবার ছিল শামুক। গ্রামের খাল থেকে শামুক কুড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে খাওয়াতে হত।দিনে কয়েক বেলা। কিন্তু শামুক কাটার দা সংগ্রহ করতে যে আমার কী পরিমাণ বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হত, আর এই অপরাধে কী পরিমাণ যে মার খেতে হত তা কেবল আমার পাগলাটে শৈশবই জানে। তারপরও বকছানার পেট ভরে তো মন ভরে না। উনার প্রত্যেক বেলা শামুক খেতে বিরক্ত লাগে। মাঝে মাঝে মাছ চাই। ছোট ছোট পুটি মাছ, মলা মাছ, ঢেলা মাছ… আরও কত কী। বাপ রে, কী নবাব আমার!
রাগ হলেও লুকিয়ে লুকিয়ে মাছ মেরে উনাকে খাওয়াতাম, একখান জোয়ান নেশা মিটতো বলে। মাছ মারার অপরাধেও যে কত মার খেয়েছি তাও আমার ঐ শৈশবই জানে (কোনো দিন তাকে পেলে জিজ্ঞেস করে সত্য-মিথ্যা জেনে নিবেন)।

আমাকে নিয়ম করে প্রতিদিন বড়দের চোখ ফাঁকি দিতে হত, শামুক কুড়োতে হত, মাছ ধরতে হত। মার খাওয়ার ব্যাপারটাও বিপরীত নিয়মে হত না, নিয়ম করেই স্বাভাবিক দু্’য়েক বেলা।

এভাবে পাঁচ সাত দিন চলে গেল।উনার এখন লোম ওঠে যাচ্ছে। শরীর আরও বড় আর লম্বা হয়ে গেল। ইতোমধ্যে আমাকে ভাল করে চিনেও নিয়েছেন। দেখলেই মাথা নিচু করে ডানা ঝাপটে খাবার চান। খাঁচা থেকে বের করলেও দৌড় দেন না। শরীর ঘেষে এমন ভাব করেন যেন আমি উনার মাই-বাপ।

সে যত আদরই করতাম না কেন দুষ্টুমি করলে মাঝেমধ্যে আচ্ছা করে বকেও দিতাম কিন্তু। তার দুষ্টুমির ধরন ছিল এমন- খাবার-দাবার নষ্ট করা। পেট ভরে গেলেও অতি আহ্লাদের চোটে বেখেয়ালে তিনি খেতেই থাকতেন, খেতেই থাকতেন। যখন খেতে খেতে গলা পর্যন্ত চলে আসতো,মানে গেলার আর জায়গা থাকতো না তখন বেমালুম সব উগলে ফেলে দিতেন। মানে ‘নষ্ট করলে বাপের গেল, আমার কী?’ -এই টাইপ। রাগ হত, চরম রাগ। দাঁতে দাঁত চেপে যা মনে আসতো মুখ বন্ধ করে তাই ঝেড়ে দিতাম। শাস্তিস্বরূপ খাঁচার নাগালে বিড়াল এনে রাখতাম।

গেল এমনি করে আরও দিন কয়েক। এই কদিনে আমি ছাড়াও আমার দুই ভাইয়ের সাথে ভাল খাতির জমে গেছে তার। আমি স্কুলে থাকাকালীন তারা তাকে খাবার দিত। এ থেকেই সখ্যতা। এতে আমিও খুশি। কিছু চাপ তো কমলো। তারাও দেখছি চাচার দায়িত্ব পালনে ভালই আগ্রহী। তিন ভাইয়ের যত্নে তিনি তখন রীতিমত আহ্লাদি সোনা।

এবার তার ডানা লোমের চাপে ধীরে ধীরে বেশ ভারী হচ্ছে। শরীর জুড়ে কম বয়সি নরম নরম লোম। ছুঁলে বেশ ভালই লাগে। মায়া বাড়ে। আবার ছুঁতে ইচ্ছে করে।

(চলবে…)

থিয়েটার মুরারীচাঁদের মঙ্গল শোভাযাত্রায় হাওরে ফসলহানির প্রতিবাদ

সিলেট, ১৫ এপ্রিল: পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় হাওরে ফসলহানির প্রতিবাদMahdy জানিয়েছে থিয়েটার মুরারীচাঁদ। শুক্রবার সকাল ১০টায় এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে এই মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে কলেজ প্রশাসন।
এতে অংশ নিয়ে সুনামMahdy 2গঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাওরে অকাল বন্যায় ফসল হানির প্রতিবাদ জানানো হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রায় থিয়েটারের কয়েকজন কর্মী ফসল হারানো কয়েকজন কৃষক সেজে একটি ঠেলাগাড়িতে চড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পূনবার্সনের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে ১৪০টি হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে। এতে হাজার কোটি টাকার ফসলহানি ঘটেছে। ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন সুনামগঞ্জের কৃষকরা।

মিন্টু কান্তি দাশ’র কবিতা

 

Mintu

 

মনে পরে জয়শ্রী

 

পঁচিশ বছর পেরিয়ে,
আজও মনে পরে জয়শ্রী তোমায়,

বলেছিলে তুমি,
আমি দেখতে কালো,
আমার চেহারা দেখতে সুন্দর নয়,
তাতে কিছু যায় আসেনি তোমার,
তবুও বেসেছিলে ভালো।
বলেছিলে আমি যেন একটি রোদ্র চশমা পড়ি,
বলেছিলে আমি যেন সাদা শার্টের সাথে কালো
সুটটাই পরি ,আরও বলেছিলে কালো
বুটজোড়া যেন আয়নার মত চাকচিক্য হয়,
দেখতে চেয়েছিলে আমায় চাঞ্চল্য স্মার্ট।
অপেক্ষায় কাটতো না প্রহর,
রোজরোজ মনের ক্যানভাসে ছবি আঁকতাম
তোমার, গেইট থেকে মাঠ পেরিয়ে কলেজের
দোতালার করিডোর পর্যন্ত পায়চারি করতাম,
বিচলিত থাকতাম প্রতিটিক্ষণ।
শুধু একপলক তোমায় দেখবো বলে।
বাস্তবতা বড় নিষ্ঠুর তুমি,
একদিন স্বপ্নভঙ্গে ফিকে হয়ে যায় সব
আয়োজন, হলোনা তোমার সাথে
আর কখনো দেখা ,খুব কাছে পেয়েও
হারিয়েছিলাম তোমায়, আজ মনে পরে সেই
অনুভূতি, আবার ফিরে পেতে চাই তোমায়।

বাংলার প্রাচীন দুই মহিলাকবি সৈয়দা ছামিনা ভানু ও সহিফা ভানু উরফে (হাজীবিবি) ——-মতিয়ার চৌধুরী

বাংলাসাহিত্যের উজ্বল নক্ষত্র বৃহত্তর সিলেট তথা সমগ্রবাংলার গর্ব দুই প্রাচীন মুসলিম মহিলা কবি সৈয়দা সামিনা ভানু ও সহিফা ভানু উরফে হাজিবিবি সম্পর্কে এই প্রজন্মের অনেকই জ্ঞাত নন। বৃহত্তর সিলেটের কৃতি দুই মুসলিম মহিলাকবিকে নিয়ে আলোকপাত করতে চাই।
নারী জাগরনের কবি সহিফা ভানু ওরফে ( হাজীবিবি)
কবি সহিফা ভানু ওরফে ( হাজীবিবি) আজ থেকে দেড়’শ বছর পূর্বে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সিলেটবাসীর গর্ব এই মহিলা কবির সঠিক জন্ম তারিখ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তবে গবেষকদের অনেকেই মনে করেন তিনি ১৮৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তা-ও অনুমান নির্ভর। কেউ কেউ তাঁকে সিলেটের প্রথম মহিলা কবি বললেও এর সাথে আমাদের দ্বিমত রয়েছে। সিলেটের প্রথম মহিলা কবি হলেন মরমী সাধক সৈয়দ শাহনুরের সহর্ধীর্মিনী দেওয়ান সৈয়দা ছামিনা ভানু। সে যাক প্রথমে আমরা কবি সহিফাভানু উরফে হাজীবিবি ও তার সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে আলোচনা করতে চাই। তার পিতার নাম দেওয়ান আলী রেজা চৌধুরী, বড় ভাই দেওয়ান উবেদুর রাজা চৌধুরী ছিলেন ফার্সী ভাষায় সুপন্ডিত এবং একজন নাম করা কবি। মরমী কবি দেওয়ান হাছন রাজা কবি সহিফাভানুর বৈমাত্রেয় ভ্রাতা। গবেষক মরহুম মনির উদ্দিন চৌধুরী এবং ফজলুর রহমান সাহেবের মতে হাজীবিবি ছিলেন সুশিক্ষিত একজন মহিলা, উর্দূ, ফার্সী এবং বাংলা ভাষায় তাঁর বেশ দখল ছিল। মরমী সাধক দেওয়ান হাছন রাজা এই মহিলাকে বেশ শ্রদ্ধা করতেন ,শুধু বড় বোন হিসেবে নয় একজন কবি হিসেবে। সহিফা ভানুর বিয়ে হয় সিলেট শহরের কুয়ারপার নিবাসী আব্দুল ওয়াহেদ উরফে হাজী হিরন মিয়ার সাথে, হাজী হিরন মিয়া ছিলেন সে সময়কার একজন জ্ঞানী মানুষ, সহজ সরল এবং উদার। সহিফা ভানু একাধিকবার হ্জ্জ্ব পালন কারায় সাধারণ মানুষের কাছে হাজী বিবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ছিলেন ধার্মিক তবে ধর্মান্ধ ছিলেন না। সে আমালে খান্দানী মুসলিম পরিবারের মহিলারা বোরখা ব্যবহার করলেও তিনি তা পছন্ধ করতেন না। তিনি দক্ষতার সাথে জমিদারী পরিচালনা করতেন। কোন সময়ই তিনি সমালোচনার সম্মুখীন হননি। এই মহিলা ছিলেন নিঃসন্তান। তিনি খুব সৌখিন মহিলা ছিলেন, গরীব এবং অসহায়দের সব সময় সাহায্য করতেন। সে সময় হাজী বিবি সিলেট শহরে নিজের বসবাসের জন্যে যে বাড়ী নির্মাণ করেন। ঐ বাড়ীটি ছিল সে আমলে দেখার মতো তাই সিলেটে হাজী বিবির বাড়ীকে ঘিরে এমন একটি গানও আছে।
গানটি হলো ঃ

“ আমরা যাইমুনিগ সুরমা নদীর পাড়
আমরা দেখমুনি’গ হাজী বিবির বাড়ী
সিলেট কুয়ার পাড়।’’

তার ছোট ভাই মরমী সাধক দেওয়ান হাছন রাজা প্রথম জীবনে একজন অত্যাচারী জমিদার ছিলেন। সহিফাভানু হাছন রাজাকে সমীহ করতেন কিন্তু ভাইয়ের অধঃপতনে ব্যথিত হয়ে উর্দূতে একটি কবিতা লিখেন ঃ-
‘‘হাছন রাজনে এয়সা জুলুম কিয়া
এতিম কু -কসকে লেকে আতশ মে ঢাল দিয়া।
ইয়ে দুনিয়া ফানি হায়, একরোজ যানা হোগা,
জোর জুলুম কা মজা উধার যাকে চাখনা হোগা
সহিফা বেউকুফ নে এয়সা বেওকুফি কিয়া-
হাছন কু খাতির করকে , এতিম কু ডুবা দিয়া।’’

’’সহিফা সঙ্গীত’’ ’’ ছাহেবানের জারী’’ ও ’’ইয়াদগারে ছহিফা’’ নামে তার তিনটি গ্রন্থের উল্লেখ পাওয়া যায়। ইতিহাস বেত্তা মনির উদ্দিন চৌধুরীর মতে সহিফাভানুর সাহিত্যে আধ্যাত্মিক সুরে অতরঞ্জিত হলেও মর্ত্য জীবনের প্রতি তার বিমুখতা নেই। তিনি স্বর্গ ও মর্ত্যকে এক করে একেঁছেন তার কাব্যে। তিনি ছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদুত। নির্যাতিত নারী সমাজের বেদনায় তিনি প্রতিবাদ মুখর। নারী জাগরনে বা নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে তার বেশ কয়েকটি সুন্দর লেখা রয়েছে এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য কয়েকটি লিখা আমাদের পাঠকদের জন্যে তুলে ধরতে চাই।

‘সহিফা বলে শোন পুরুষের পাষান মন,
জন্মের সতী সীতা ছিল
রামে সীতা না চি্িনল
তাই সীতারে ত্যাগ করিল , ঘটে গেল অঘটন।’

সমাজের শঠতা ও চৌর্যবৃত্তিতে তাঁর দৃষ্ঠি এড়ায়নি, মন্দ লোকের ব্যাপারে তিনি ছিলেন সোচ্চার তাইতো লিখেছেন ঃ
-‘চোরা যারা ভালা তারা
টাকার বল তাই যায় না ধরা।’
তার লিখা থেকে সে সময়কার বিচার ব্যবস্থারও একটি চিত্র ফুটে উঠেছে সুন্দর ভাবে। বিভাগীয় দীর্ঘসূত্রতা, এবং বিচার দুর্ভোগ নিয়ে তিনি লিখেছেন ঃ
‘‘ মোন্সেফী হইতে হাইকোর্টে যায়
পাঁচ সাত বৎসরে।’’
এছাড়া রাষ্ঠ্রীয় সামাজিক এবং রাজনৈতিক ত্রুটি বিচ্যুতি এবং অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি লিখেছেন, তার সাহিত্যে হিন্দু- মুসলিম সংস্কৃতির সমন্বয় খুঁজে পাওয়া যায়।

স্বরস্বতীকে প্রণাম করে ভক্তি ভরে চরণ ধরে
গাব নাম মধুর স্বরে, যদি মা কৃপা করে।
আবার লিখেছেন ঃ-
‘মা গঙ্গাকে স্মরণ করি গানের বোঝা লৈয়া ফিরি
ছহিফায় বলে মাগো আছি তোমার চরণ ধরি।

কবি সহিফাভানুর লেখনিতে ইসলামী জীবনদর্শন, বৈষ্ণব সাধনা, বাউল চর্চা পীর প্রসস্তি সমান ভাবে স্থান পেয়েছে। শেষ জীবনে তিনি সুফীবাদের প্রতি আকৃষ্ঠ হন। এসব তার লেখনিতেই ফুটে উঠেছে। তার বাছাইকৃত লিখা থেকে কয়েকটি লিখা তুলে ধরতে চাই। প্রথমে তার রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক একটি গান ঃ-
দেখে আস গে রাধা রাণী আছেরে কেমন
মথুরাতে আছি আমি হৈয়া রাজন
রাধার জন্য ত্যাগ করিব রাজ্য সিংহাসন।
সহিফা বলে শুন ভূবন মোহন-
কুঞ্জার কুবুদ্ধিয়ে তুমি হয়েছ বন্ধন।

যখন তিনি হজ¦ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা যাত্রা করেন তখন একটি গান লিখেন জানা যায় এটিই তার শেষ লিখা।
আমি তোমার তুমি আমার আর’ত কেহ নাই।
জন্মের মত বিদায় হয়ে মদিনাতে যাই।
বঙ্গদেশের বড় ওলি শাহজালাল পীর
আনন্দে বিদায় দিয়ে আমায় কর স্থির।

গবেষক ফজলুর রহমান সিলেটের একশতএকজন গ্রন্থে পীর মাহমুদ আলী শাহ সহিফাভানুর মুর্শিদ বলে উল্লেখ করেছেন। সাধক হাছন রজা ও সহিফা ভানু আপন ভাই বোন হলেও সাহিত্য চর্চা করেছেন একই সময়ে। হাছন রাজার কথা এ প্রজন্মের মানুষ জানলেও সহিফাভানু রয়ে গেছেন অজ্ঞাত। হাছন রাজাকে উদ্দেশ্য করে সহিফাবানুর একটি গান তা হলোঃ-

সুনামগঞ্জের হাছন রাজা আলী রাজার নন্দন
টাকা-কড়ি অন্ন-বস্ত্র সদাই করে বিতরন
আইস ভাই ধন , বইস তুমি মসলন্দের উপর।

কবি সহিফাভানু ১৯১৭ সালে ইহলোক ত্যাগ করেন। তবে তার সঠিক জন্মমৃত্যু তারিখ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বাউল কবি সৈয়দা ছামিনা ভানুঃ
সৈয়দা ছামিনা ভানু বাংলাদেশের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি। অধ্যাপক আসাদ্দর আলী তার জন্মকাল ১৭৬০ খৃস্টাব্দ বলে উল্লেখ করেছেন। কবি সহিফা ভানু উরফে (হাজীবিবি) এবং সৈয়দা ছামিনা ভানু প্রায় দেড়শ বছরের ব্যবধানে একই এলাকা জন্মগ্রহণ করলেও তাদের সাহিত্য সাধনার মাঝে একই ভাবধারা লক্ষনীয়। উভয়েই সোনার চামচ মুখে নিয়ে জমিদার পরিবারে জন্ম নিলেও কাজ করে গেছেন সাধারন মানুষের জন্যে । একজন জমিদারী ত্যাগ করে নিজকে নিয়োজিত করেন সুফী সাধনায়। অন্যজন কোনদিনই জমিদারীর ধারেকাছে যাননি স্বামীর হাত ধরে বাউল হিসেবে ঘুরেছেন গ্রামে গঞ্জে। উভয়ের ক্ষেত্রেই বাউল অভিধা প্রযোজ্য। সাধক কবি সৈয়দা ছামিনা ভানু তার লিখা একটি গানে বলেছেনঃ——
‘‘ কহে বিবি ছামিনা ভানু শাহানুরের তিরি
মুর্শিদের লাগিয়া আমি দিবানিশি ঝুরি।।
সৈয়দা ছামিনা ছিলেন নবীগঞ্জের দিনারপুরের সদরঘাটের দেওয়ান বসির উদ্দিনের প্রথম কন্যা । সৈয়দ শাহনূর তার একটি গানে তিনটি বিয়ের কথা উল্লেখ করেছেনঃ-
তিনবার পাগলে শরীয়ত করিল
এর অর্থ তিনি তিনটি বিয়ে করেন। ছামিনা ভানু ছাড়া অন্য স্ত্রীদের নাম পাওয়া যায়নি।
বর্তমান সময়ে সৈয়দ শাহানুরের অনেক গানই মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। একজনের কাছ থেকে শুনে যখন অন্যজন গায় এতে গানের অর্থ এবং উŽচারন বদলে যাচ্ছে। সৈয়দ শাহানুর শুধু একজন মরমী কবিই ছিলেন না, একজন মওজুফ ফকিরও।

্এছাড়া সৈয়দ শাহনূর তার আরো ্একটি গানে বলেছেনঃ——
কদমহাটা বিনেছিরি
শানূরে না পাইলা বাড়ি
সৈয়দ শাহনূর সিলেটের বিভিন্ন স্থানে গিয়েছেন বসত করেছেন। কোথাও তিনি স্থায়ী আবাস গড়েননি। তিনি যেথায় গেছেন ছামিনা ভানু সব সময়ই তার সাথে ছিলেন। সৈয়দ শাহানুরের তিনপুত্র তারা হলেন সৈয়দ আব্দুল জব্বার, সৈয়দ আব্দুল জহুর, সৈয়দ আব্দুল জাহির। সৈয়দ শাহানুর (১)নূর নছিহত (২) রাগনূর (৩) নূরের বাগান (৪) সাত কইন্যার বাখন এবং মনিহার নামক কয়েকটি মূল্যবান পুঁথি সিলেটী নাগরী হরফে লিখে গেছেন। তার লিখা ঐসব পুঁথিতে কয়েক হাজার মরমী গান স্থান পেয়েছে, লিখেছেন সমসাময়িক ঘটনার কথাও, তার নিজের স¤পর্কে অনেক তথ্য রয়েছে ঐসব পুথিতে।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net