শিরোনাম

অন্যান্য

পূর্ব লন্ডনে ঈদ জামায়াতের সময় সূচি

চাঁদ দেখার উপর নির্ভর করে আগামী ২৫জুন রোববার অথবা ২৬জুন সোমবার গ্রেট ব্রিটেন ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পবিত্র ঈদের ফিতর উদযাপন করা হবে। নিম্নে পূর্ব লন্ডনের কয়েকটি ঈদ জামাতের সময় সূচি দেয়া হল।
মাইল্যান্ড ষ্টেডিয়ামঃ
মাইল্যান্ড ষ্টেডিয়ামে অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও খোলা মাটে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিতি হবে সকাল সাড়ে নয়টায়।
ইস্ট লন্ডন মসজিদঃ
ইস্ট লন্ডন মসজিদে মোট ৫টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জমাত সকাল সাড়ে ৭টা। দ্বিতীয় জামাত সকাল সাড়ে ৮টা। তৃতীয় জামাত সাড়ে ৯টা। চতুর্থ জামাত সকাল সাড়ে ১০টা এবং পঞ্চম জামাত সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।
ব্রিকলেন জামে মসজিদঃ
ঈদের ৪টি জমাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৮টা। দ্বিতীয় জামাত ৯টা। । তৃতীয় জামাত ১০টা এবং শেষ জামাত ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।
দারুল উম্মাহ মসজিদঃ
প্রথম জামাত সকাল সাড়ে সাতটায়। দ্বিতীয় জামাত সাড়ে ৮টা । তৃতীয় জামাত সকাল সাড়ে ৯টা এবং শেষ জামাত পৌনে ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।
ফোর্ড স্কোয়ার মসজিদঃ
ফোর্ড স্কোয়ার মসজিদে ৫টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল সাড়ে ৬টা। দ্বিতীয় জামাত সাড়ে ৭টা। তৃতীয় জামাত সাড়ে ৮টা। চতুর্থ জামাত সাড়ে ৯টা এবং শেষ জামাত সকাল সাড়ে ১০টায় অনুষ্ঠিত।
বায়তুল আমান মসজিদঃ
৪টি জামাত। প্রথম জামাত সকাল ৮টা । দ্বিতীয় জামাত ৯টা। তৃতীয় জামাত সকাল ১০টা এবং শেষ জামাত ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।

শাহপরান মসজিদ হ্যাকনি রোডঃ
৪টি জামাতঃ প্রথম জামা্ত ৮টা। দ্বিতীয় জামাত ৯টা। তৃতীয় জামাত ১০টা এবং শেষ জামাত ১১টায়।
আলহুদা মসজিদ ক্যাবল স্ত্রিটঃ
৫টি জামাত। প্রথম জামাত সকাল ৭টায়। দ্বিতীয় জামাত ৮টা। তৃতীয় জামাত ৯টা। চতুর্থ জামাত ১০টা ও শেষ জামাত ১১টায়।
রেডকোর্ট মসজিদঃ
প্রথম জামাত ৭টা। দ্বিতীয় জামাত ৮টা। তৃতীয় জামাত ৯টা। চতুর্থ জামাত ১০টা এবং শেষ জামাত ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে।
ফরেস্ট গেট মসজিদঃ
ফরেস্ট গেট মসজিদে সকাল সাতটা আটটা নয়টা ও সাড়ে দশটায় পর পর চারটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

Racist murder of Altab Ali: Pledge to stand up to intolerance Ansar Ahmed Ullah

‘We must pledge to stand up to intolerance’ said, Mayor of Tower Hamlets John Biggs. He was speaking as the chief guest at the book launch of ‘Racist Murder of Altab Ali’ edited by Nobab Uddin on Friday 5 May at the Osmani Centre, East London. The event was organised by Weekly Janomot and supported by Altab Ali Foundation as part of Altab Ali Day observations this year.

The book launch was chaired by London Bangla Press Club’s president Syed Nahas pasha and conducted by Janomot’s editor Sayem Chowdhury. Janomot’ s director Amirul Islam Chowdhury opened the meeting with Tower Hamlets communications officer Mahbub Rahman reading out book review by Md Sattar. Guests on the panel were Rushanara Ali MP, former MP Shofiqur Rahman Chowdhury, pro-liberation activist Sultan Sharif and Nadeem Qadir amongst others.

All the speakers said all our present achievements owes to the sacrifice of Altab Ali and the subsequent anti-racist movement that mobilised and united the entire community. Altab Ali’s murder was a catalyst that united the whole Bengali community. Nobab Uddin who compiled and edited the book said the large presence at the book launch will inspire and encourage him to do more work in future. His book both in Bengali & English will preserve community history and inform future generations.

Others who spoke at the event were Altab Ali Foundation’s vice chair Nooruddin Ahmed, Jamal Hassan, Ayub Korom Ali, journalist Ishaque Kajol, Musleh Uddin Ahmed and Press Club’s secretary Md Jubair amongst other activists. S U Ahmed Belal, Nurul Islam, Altafur Rahman Mujahid, Julie Begum of the Swadhinata Trust and Cathy Peters were introduced for their activism in the 1970s to 1990s.

Anti-racist poems were recited by Munira Parveen, Dilu Naser, Salauddin Shahin, Shahidul Islam Sagor and Touhid Shakil. Songs were performed by Mostafa kamal Milon.

নবীগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র “ভূবন মাঝি”

উত্তম কুমার পাল হিমেল: নবীগঞ্জ চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর সংসদের উদ্যোগে গত শনিবার নবীগঞ্জ উপজেলা মিলানায়তনে বাংলাদেশ সরকারের আর্থিক অনুদানে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র “ভূবন মাঝি” চলচ্চিত্রের প্রদর্শন হয়। সকাল ১০ ঘটিকায় এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়। নবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিনা সারোয়ার ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগমের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠান পরিদর্শন করেন নবীগঞ্জ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ মিলু, নবীগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু দাশ রানা, নবীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক লোকমান আহমেদ খাঁন নবীগঞ্জ প্রেসকাবের সাবেক সাধার সম্পাদক উত্তম কুমার পাল হিমেল, নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সলিল বরণ দাশ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের পরিচালনায় ছিলেন সাইফুর রহমান খান, তনুজ রায়, আছাদ ইকবাল সুমন, রাজন চন্দ্র দাশ, সৈকত দাশ শাওন, দেবাশিষ রায়, রাজর্ষী চৌধুরী গৌরব, অরিন্দম পাল আবির, কিশওয়ার আল ইসলাম, কৌশিক রায়, আলী আহমেদ লায়েছ, কৃপাময় দত্ত ইমন, মাজহারুল ইসলাম তারেক, পিয়াল রায় দূর্জয়, সপ্তক রায়, জান্নাতুল নাহার মুক্তা। দিনব্যাপী উক্ত চলচিত্রটি ৪টি শোতে প্রদর্শন করা হয়। এতে প্রচুর দর্শকশ্রোতার ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়।

বাংলার প্রাচীন দুই মহিলাকবি সৈয়দা ছামিনা ভানু ও সহিফা ভানু উরফে (হাজীবিবি) ——-মতিয়ার চৌধুরী

বাংলাসাহিত্যের উজ্বল নক্ষত্র বৃহত্তর সিলেট তথা সমগ্রবাংলার গর্ব দুই প্রাচীন মুসলিম মহিলা কবি সৈয়দা সামিনা ভানু ও সহিফা ভানু উরফে হাজিবিবি সম্পর্কে এই প্রজন্মের অনেকই জ্ঞাত নন। বৃহত্তর সিলেটের কৃতি দুই মুসলিম মহিলাকবিকে নিয়ে আলোকপাত করতে চাই।
নারী জাগরনের কবি সহিফা ভানু ওরফে ( হাজীবিবি)
কবি সহিফা ভানু ওরফে ( হাজীবিবি) আজ থেকে দেড়শ বছর পূর্বে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সিলেটবাসীর গর্ব এই মহিলা কবির সঠিক জন্ম তারিখ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তবে গবেষকদের অনেকেই মনে করেন তিনি ১৮৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তা-ও অনুমান নির্ভর। কেউ কেউ তাঁকে সিলেটের প্রথম মহিলা কবি বললেও এর সাথে আমাদের দ্বিমত রয়েছে। সিলেটের প্রথম মহিলা কবি হলেন মরমী সাধক সৈয়দ শাহনুরের সহর্ধীর্মিনী দেওয়ান সৈয়দা ছামিনা ভানু। সে যাক প্রথমে আমরা কবি সহিফাভানু উরফে হাজীবিবি ও তার সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে আলোচনা করতে চাই। তার পিতার নাম দেওয়ান আলী রেজা চৌধুরী, বড় ভাই দেওয়ান উবেদুর রাজা চৌধুরী ছিলেন ফার্সী ভাষায় সুপন্ডিত এবং একজন নাম করা কবি। মরমী কবি দেওয়ান হাছন রাজা কবি সহিফাভানুর বৈমাত্রেয় ভ্রাতা। গবেষক মরহুম মনির উদ্দিন চৌধুরী এবং ফজলুর রহমান সাহেবের মতে হাজীবিবি ছিলেন সুশিক্ষিত একজন মহিলা, উর্দূ, ফার্সী এবং বাংলা ভাষায় তাঁর বেশ দখল ছিল। মরমী সাধক দেওয়ান হাছন রাজা এই মহিলাকে বেশ শ্রদ্ধা করতেন ,শুধু বড় বোন হিসেবে নয় একজন কবি হিসেবে। সহিফা ভানুর বিয়ে হয় সিলেট শহরের কুয়ারপার নিবাসী আব্দুল ওয়াহেদ উরফে হাজী হিরন মিয়ার সাথে, হাজী হিরন মিয়া ছিলেন সে সময়কার একজন জ্ঞানী মানুষ, সহজ সরল এবং উদার। সহিফা ভানু একাধিকবার হ্জ্জ্ব পালন কারায় সাধারণ মানুষের কাছে হাজী বিবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ছিলেন ধার্মিক তবে ধর্মান্ধ ছিলেন না। সে আমালে খান্দানী মুসলিম পরিবারের মহিলারা বোরখা ব্যবহার করলেও তিনি তা পছন্ধ করতেন না। তিনি দক্ষতার সাথে জমিদারী পরিচালনা করতেন। কোন সময়ই তিনি সমালোচনার সম্মুখীন হননি। এই মহিলা ছিলেন নিঃসন্তান। তিনি খুব সৌখিন মহিলা ছিলেন, গরীব এবং অসহায়দের সব সময় সাহায্য করতেন। সে সময় হাজী বিবি সিলেট শহরে নিজের বসবাসের জন্যে যে বাড়ী নির্মাণ করেন। ঐ বাড়ীটি ছিল সে আমলে দেখার মতো তাই সিলেটে হাজী বিবির বাড়ীকে ঘিরে এমন একটি গানও আছে।
গানটি হলো ঃ
“ আমরা যাইমুনিগ সুরমা নদীর পাড়
আমরা দেখমুনি’গ হাজী বিবির বাড়ী
সিলেট কুয়ার পাড়।’’
তার ছোট ভাই মরমী সাধক দেওয়ান হাছন রাজা প্রথম জীবনে একজন অত্যাচারী জমিদার ছিলেন। সহিফাভানু হাছন রাজাকে সমীহ করতেন কিন্তু ভাইয়ের অধঃপতনে ব্যথিত হয়ে উর্দূতে একটি কবিতা লিখেন ঃ-
‘‘হাছন রাজনে এয়সা জুলুম কিয়া
এতিম কু -কসকে লেকে আতশ মে ঢাল দিয়া।
ইয়ে দুনিয়া ফানি হায়, একরোজ যানা হোগা,
জোর জুলুম কা মজা উধার যাকে চাখনা হোগা
সহিফা বেউকুফ নে এয়সা বেওকুফি কিয়া-
হাছন কু খাতির করকে , এতিম কু ডুবা দিয়া।’’
’সহিফা সঙ্গীত’ ’’ ছাহেবানের জারী’’ ও ’’ইয়াদগারে ছহিফা’’ নামে তার তিনটি গ্রন্থের উল্লেখ পাওয়া যায়। ইতিহাস বেত্তা মনির উদ্দিন চৌধুরীর মতে সহিফাভানুর সাহিত্যে আধ্যাত্মিক সুরে অতরঞ্জিত হলেও মর্ত্য জীবনের প্রতি তার বিমুখতা নেই। তিনি স্বর্গ ও মর্ত্যকে এক করে একেঁছেন তার কাব্যে। তিনি ছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদুত। নির্যাতিত নারী সমাজের বেদনায় তিনি প্রতিবাদ মুখর। নারী জাগরনে বা নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে তার বেশ কয়েকটি সুন্দর লেখা রয়েছে এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য কয়েকটি লিখা আমাদের পাঠকদের জন্যে তুলে ধরতে চাই।

‘সহিফা বলে শোন পুরুষের পাষান মন,
জন্মের সতী সীতা ছিল
রামে সীতা না চি্িনল
তাই সীতারে ত্যাগ করিল , ঘটে গেল অঘটন।’
সমাজের শঠতা ও চৌর্যবৃত্তিতে তাঁর দৃষ্ঠি এড়ায়নি, মন্দ লোকের ব্যাপারে তিনি ছিলেন সোচ্চার তাইতো লিখেছেন ঃ
-‘চোরা যারা ভালা তারা
টাকার বল তাই যায় না ধরা।’
তার লিখা থেকে সে সময়কার বিচার ব্যবস্থারও একটি চিত্র ফুটে উঠেছে সুন্দর ভাবে। বিভাগীয় দীর্ঘসূত্রতা, এবং বিচার দুর্ভোগ নিয়ে তিনি লিখেছেন ঃ
‘‘ মোন্সেফী হইতে হাইকোর্টে যায়
পাঁচ সাত বৎসরে।’’
এছাড়া রাষ্ঠ্রীয় সামাজিক এবং রাজনৈতিক ত্রুটি বিচ্যুতি এবং অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি লিখেছেন, তার সাহিত্যে হিন্দু- মুসলিম সংস্কৃতির সমন্বয় খুঁজে পাওয়া যায়।
স্বরস্বতীকে প্রণাম করে ভক্তি ভরে চরণ ধরে
গাব নাম মধুর স্বরে, যদি মা কৃপা করে।
আবার লিখেছেন ঃ-
‘মা গঙ্গাকে স্মরণ করি গানের বোঝা লৈয়া ফিরি
ছহিফায় বলে মাগো আছি তোমার চরণ ধরি।
কবি সহিফাভানুর লেখনিতে ইসলামী জীবনদর্শন, বৈষ্ণব সাধনা, বাউল চর্চা পীর প্রসস্তি সমান ভাবে স্থান পেয়েছে। শেষ জীবনে তিনি সুফীবাদের প্রতি আকৃষ্ঠ হন। এসব তার লেখনিতেই ফুটে উঠেছে। তার বাছাইকৃত লিখা থেকে কয়েকটি লিখা তুলে ধরতে চাই। প্রথমে তার রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক একটি গান ঃ-
দেখে আস গে রাধা রাণী আছেরে কেমন
মথুরাতে আছি আমি হৈয়া রাজন
রাধার জন্য ত্যাগ করিব রাজ্য সিংহাসন।
সহিফা বলে শুন ভূবন মোহন-
কুঞ্জার কুবুদ্ধিয়ে তুমি হয়েছ বন্ধন।

যখন তিনি হজ¦ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা যাত্রা করেন তখন একটি গান লিখেন জানা যায় এটিই তার শেষ লিখা।
আমি তোমার তুমি আমার আর’ত কেহ নাই।
জন্মের মত বিদায় হয়ে মদিনাতে যাই।
বঙ্গদেশের বড় ওলি শাহজালাল পীর
আনন্দে বিদায় দিয়ে আমায় কর স্থির।

গবেষক ফজলুর রহমান সিলেটের একশতএকজন গ্রন্থে পীর মাহমুদ আলী শাহ সহিফাভানুর মুর্শিদ বলে উল্লেখ করেছেন। সাধক হাছন রজা ও সহিফা ভানু আপন ভাই বোন হলেও সাহিত্য চর্চা করেছেন একই সময়ে। হাছন রাজার কথা এ প্রজন্মের মানুষ জানলেও সহিফাভানু রয়ে গেছেন অজ্ঞাত। হাছন রাজাকে উদ্দেশ্য করে সহিফাবানুর একটি গান তা হলোঃ-

সুনামগঞ্জের হাছন রাজা আলী রাজার নন্দন
টাকা-কড়ি অন্ন-বস্ত্র সদাই করে বিতরন
আইস ভাই ধন , বইস তুমি মসলন্দের উপর।

কবি সহিফাভানু ১৯১৭ সালে ইহলোক ত্যাগ করেন। তবে তার সঠিক জন্মমৃত্যু তারিখ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বাউল কবি সৈয়দা ছামিনা ভানুঃ
সৈয়দা ছামিনা ভানু বাংলাদেশের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি। অধ্যাপক আসাদ্দর আলী তার জন্মকাল ১৭৬০ খৃস্টাব্দ বলে উল্লেখ করেছেন। কবি সহিফা ভানু উরফে (হাজীবিবি) এবং সৈয়দা ছামিনা ভানু প্রায় দেড়শ বছরের ব্যবধানে একই এলাকা জন্মগ্রহণ করলেও তাদের সাহিত্য সাধনার মাঝে একই ভাবধারা লক্ষনীয়। উভয়েই সোনার চামচ মুখে নিয়ে জমিদার পরিবারে জন্ম নিলেও কাজ করে গেছেন সাধারন মানুষের জন্যে । একজন জমিদারী ত্যাগ করে নিজকে নিয়োজিত করেন সুফী সাধনায়। অন্যজন কোনদিনই জমিদারীর ধারেকাছে যাননি স্বামীর হাত ধরে বাউল হিসেবে ঘুরেছেন গ্রামে গঞ্জে। উভয়ের ক্ষেত্রেই বাউল অভিধা প্রযোজ্য। সাধক কবি সৈয়দা ছামিনা ভানু তার লিখা একটি গানে বলেছেনঃ——
‘‘ কহে বিবি ছামিনা ভানু শাহানুরের তিরি
মুর্শিদের লাগিয়া আমি দিবানিশি ঝুরি।।
সৈয়দা ছামিনা ছিলেন নবীগঞ্জের দিনারপুরের সদরঘাটের দেওয়ান বসির উদ্দিনের প্রথম কন্যা । সৈয়দ শাহনূর তার একটি গানে তিনটি বিয়ের কথা উল্লেখ করেছেনঃ-
তিনবার পাগলে শরীয়ত করিল
এর অর্থ তিনি তিনটি বিয়ে করেন। ছামিনা ভানু ছাড়া অন্য স্ত্রীদের নাম পাওয়া যায়নি। বর্তমান সময়ে সৈয়দ শাহানুরের অনেক গানই মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। একজনের কাছ থেকে শুনে যখন অন্যজন গায় এতে গানের অর্থ এবং উŽচারন বদলে যাচ্ছে। সৈয়দ শাহানুর শুধু একজন মরমী কবিই ছিলেন না, একজন মওজুফ ফকিরও।

্এছাড়া সৈয়দ শাহনূর তার আরো ্একটি গানে বলেছেনঃ——
কদমহাটা বিনেছিরি
শানূরে না পাইলা বাড়ি
সৈয়দ শাহনূর সিলেটের বিভিন্ন স্থানে গিয়েছেন বসত করেছেন। কোথাও তিনি স্থায়ী আবাস গড়েননি। তিনি যেথায় গেছেন ছামিনা ভানু সব সময়ই তার সাথে ছিলেন। সৈয়দ শাহানুরের তিনপুত্র তারা হলেন সৈয়দ আব্দুল জব্বার, সৈয়দ আব্দুল জহুর, সৈয়দ আব্দুল জাহির। সৈয়দ শাহানুর (১)নূর নছিহত (২) রাগনূর (৩) নূরের বাগান (৪) সাত কইন্যার বাখন এবং মনিহার নামক কয়েকটি মূল্যবান পুঁথি সিলেটী নাগরী হরফে লিখে গেছেন। তার লিখা ঐসব পুঁথিতে কয়েক হাজার মরমী গান স্থান পেয়েছে, লিখেছেন সমসাময়িক ঘটনার কথাও, তার নিজের স¤পর্কে অনেক তথ্য রয়েছে ঐসব পুথিতে।

Bangladesh High Commission dedicates cultural programme to freedom fighters & martyrs Ansar Ahmed Ullah

The Bangladesh High Commission in London hosted the “Summit Bangladesh Evening” on 9 October at the Brady Arts Centre in the heart of London’s Bengali diaspora. It was dedicated to the freedom fighters and martyrs of the 1971 Bangladesh War.

The programme, which started with the song “Joi Bangla, Banglar Joi”. Nadeem Qadir, Minister (Press), anchored the programme, while British-Bangladeshi artists Shameem Azad, Smrity Azad, Gouri Chowdhury, Hashi Rani and Sobira Sultana Sonia performed at the event.

Nadeem Qadir, in his introductory remarks said, he was happy to be able to organise the programme, the first ever by the High Commission in the Brady Arts Centre. He said the programme had three dimensions, to present Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman’s Golden Bangla, provide young talents a platform and bridge Bangladeshis and British-Bengalis. Prime Minister Sheikh Hasina in particular wants that Bangladesh and its youths are projected properly, Nadeem Qadir added.

He thanked the sponsors Summit Communications Ltd, Dhaka, London Borough of Tower Hamlets, London Tradition, Hillside Travels, Sonali Business Centre, Faith Printers, Quantum securities, JMG Cargo, BBCCI, Bangla TV and Hamlets Training Centre.

Media partners were Bangla TV, Weekly Janomot and Betar Bangla. Speaking on the occasion, Mr. Nahas Pasha, Chief Editor of weekly Janomot said that such programmes should be held regularly. Channel I Europe Managing Director Mr. R. A. Faisol Chowdhury (Shoaib) praised Nadeem Qadir, saying the press (minister) was very active and have been doing things that none had done before. Hillside Travel Managing Director, Mr. Helal Uddin Khan, said he would continue to support High Commission programmes. Mr. Unmesh Desai of the Greater London Council said the programme was perfect to uphold Bangladesh. A similar programme was staged at the London’s prestigious Nehru Centre on 6 Oct.

গুজব নাকি সত্যি! ফোন আসলেই মৃত্যু

উত্তম কুমার পাল হিমেলঃ বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। এ তথ্য প্রযুক্তির যুগে মানুষ কে বিভ্রান্ত করা জন্য গুজব ছড়ানো হয়েছে যে কোন মোবাইলে,,,২৮২৮/০০০১১/০০০৮৮, এ রকম ৪/৫ ডিজিটের নম্বর থেকে ফোন আসলেই নাকি মানুষের মৃত্যু হয়। আসলেই কি এটা গুজব নাকি বিভ্রান্তিকর এনিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানান আলোচনা-সমালোচনার ঝড়। গ্রামীন ফোন সিম কোম্পানি’র একজন কাষ্টমার কেয়ারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে জানান কিছু অসাধু ব্যাক্তি আমাদের সমাজের গ্রামের সহজ-সরল মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য এরকম গুজব ছড়াচ্ছে। আসলে বাস্তবতার দিক থেকে এটা সম্পুর্ন ভূয়া । তাছাড়া রবি বাংলাদেশে ব্যবহৃত বেশীর ভাগ সিম কোম্পানির কাষ্টমার ম্যানেজার এরকম তথ্য দিয়েছেন। এদিকে বিষয়টি নিয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জানতে চাইলে কর্তৃপক্ষ জানান এটি সম্পুর্ন বিভ্রান্তিকর একটি সংবাদ। যা মানুষের মাঝে আতংক ছড়াচ্ছে। এ রকম কোন রোগী আসছে কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান ২/৩জন রোগী এসেছে তবে তারা পেসার’র রোগী তাই তাদের এরকম হতেই পারে। বাস্তবে রোগীর সংঙ্গে আলাপকালে সে জানায় তার কাছে ২৮২৮ নম্বর থেকে ফোন আসে এবং সে ফোনটি রিসিভ করে পরে কোন সব্দ শুনতে না পেরে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। পরে তাকে পরিবারের লোকজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন এবং চিকিৎসা করান। তাই বুঝা যায় এই গুজবটি কতটুকু বাস্তব সম্মত। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যোগে এরকম বিভ্যান্তিতে কান নাদেয়াই ভাল।

৫০

“জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনী ও কিছু কথা” ——–উত্তম কুমার পাল হিমেল

অবিসংবাদিত নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙ্গারী বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধু মানেই ৫৬ হাজার বর্গ মাইলের বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধু মানেই মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধু মানেই বিশ্ব দরবারে বাঙ্গালীর মাথা উচুঁ করে দাড়ানো। বাঙ্গালীর রক্ত আর বঙ্গবন্ধু ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলার প্রাণ ও স্পন্দন,বাঙ্গালীর চেতনা আর বাঙ্গালীর শৃঙ্খল মুক্তির পথ প্রদর্শক হলেন বঙ্গবন্ধু। ১৯২০ সালের ১৭ ই মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে শেখ লুৎফুর রহমান ও সায়রা বেগমের ঘরে বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্ম গ্রহন করেন। শিশুকাল থেকেইে তিনি ছিলেন অদম্য সাহসের অধিকারী। আর এই অসীম সাহসের কারনেই ১৯৩৯ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়ে সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ সভা করার দুঃসাহসের কারনে বঙ্গবন্ধুর জীবনে প্রথম কারাবরন করেন। ১৯৩৮ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তিনি বেগম ফজিলাতুন্নেসার বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শারিরিক অসুস্থতার কারনে ১৯৪২ সালেএন্ট্রাস(প্রবেশিকা) পাস করে কলিকাতা ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৪ সালেবঙ্গবন্ধু কুষ্টিয়ায় অনুষ্টিত নিখিলবঙ্গ মুসলীম ছাত্রলীগের সম্মেলনে যোগদান করে আণুষ্টানিকভাবে রাজনীতিতে অভিসিক্ত হন। এ বছরই তিনি ফরিদপুর ডিস্ট্রিক এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক নিযুক্ত হন। পরে ১৯৪৬ সালে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় কলকাতা ইসলামীয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৪৮ সালের ২৩ শে ফেব্রুয়ারী পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিম উদ্দিন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে ঘোষনা করলে বঙ্গবন্ধু তাৎক্ষনিকভাবে তার ঘোষনার প্রতিবাদ করেন। এরই প্রেক্ষিতে ১৯৪৮ সালের ২রা মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে বঙ্গবন্ধুর প্রস্তাবে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ঐ সালের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে সাধারন ধর্মঘট আহবানকালে বঙ্গবন্ধু গ্রেপ্তার হন। ১৯৪৯ সালের ২৩ শে জুন পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলীমলীগ গঠিত হয় এবং জেলে থাকাবস্থায় বঙ্গবন্ধু ঐ সংগঠনের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৪৯ সালের ২৭ শে জুলাই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে না গিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৫০ সালের ১লা জানুয়ারী তিনি দুর্ভিক্ষ মোকাবেলায় খাদ্যের দাবীতে আন্দোলন করতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন। ১৯৫২ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে বঙ্গবন্ধু কারাগারেই অনশন শুরু করেন। ১৯৫২ সালের ২১শে ফ্রেব্রুয়ারী রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিবাদ মিছিলে গুলি চলে, এতে শহীদ হন সালাম,বরকত,রফিক,জব্বারসহ অনেকেই। জেলে থেকে বঙ্গবন্ধু এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একটানা ৩ দিন বিৃবতি দেন। ১৯৫৩ সালের ১৬ ই নভেম্বর প্রাদেশিক আওয়ামী মুসলীমলীগের কাউন্সিল অধিবেশনে তিনি সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৫৪ সালের ১০ ই মার্চ সাধারন নির্বাচনে ২৩৭ টি আসনের মধ্যে যুক্তফন্ট ২২৩টি আসনে বিজয়ী হয়। এই নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী হিসাবে গোপালগঞ্জ আসনে বিজয়ী হন। ১৪ মে বঙ্গবন্ধু যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভায় সর্বকনিষ্ট মন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহন করেন। ১৯৫৫ সালের ৫ জুন বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৭ জুন ঢাকার পল্টনের জনসভায় বঙ্গবন্ধু প্রথম পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্ত্বশাসন দাবী করেন। ১৯৫৫ সালে ২১ অক্টোবর আওয়ামী মুসলীমলীগের বিশেষ কাউন্সিল অধিবেশনে ধর্ম নিরপেক্ষতাকে আদর্শ হিসাবে গ্রহন করে দলে নাম থেকে মুসলীম শব্দ প্রত্যাহার করে নতুন নামকরন করা হয় আওয়ামীলীগ। বঙ্গবন্ধুকে পুনরায় দলের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। ১৯৬৪ সালের ৫ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। এছাড়া ১১ মার্চ বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে সাম্প্রদায়িকদাঙ্গা বিরোধী দাঙ্গা প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হয়। ১৯৬৬ সালের ১৮ই মার্চ আওয়ামীলীগের কাউন্সিল অধিবেশনে ৬ দফা গৃহীত হয়। ৬ দফার পক্ষে সারাদেশে ব্যাপক প্রচারনা শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। এ সময় তাকে ঢাকা,ময়মনসিং,সিলেট থেকে ৩ মাসে ৮ বার গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৬৮ সালের ৩রা জানুয়ারী পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে এক নম্বর আসামী করে মোট ৩৫ জন বাঙ্গালী সেনা ও সিএসপি অফিসারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে বিছিন্ন করার অভিযোগে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। ১৯৬৯ সালে ২৩ ফ্রেব্রুয়ারী সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ এবং পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগ রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানকে এক বিশাল সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করে। ঐ সভায় শেখ মুজিবরি রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এ সময় বঙ্গবন্ধু ছাত্রজনতার ১১ দফা সমর্থন করেন। ১৯৬৯ সালের ১০ মার্চ রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আইয়ুব খান গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেন। এ বৈঠকে বঙ্গবন্ধু ৬ দফার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেন। ১৯৭০ সালের ১লা জানুয়ারী ১৯৫৮ সালের পর প্রথম রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। বঙ্গবন্ধু প্রথমদিন থেকেই ৬ দফার পক্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচারনা শুরু করেন। ১৯৭০ সালের ৫ জুন পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচনী এলাকা বিষয়ে সরকারের চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পরিষদে ৩১০টি আসন আর জাতীয় পরিষদে ১৬৯টি (সংরক্ষিত মহিলা আসনসহ) আসন নির্দিষ্ট করা হয়। ১৯৭০ সালের ৮ অক্টোবর ইসলামাবাদ থেকে ১৯টি রাজনৈতিক দলের প্রতিক ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন। আওয়ামীলীগ তখন নৌকা প্রতিক বরাদ্দ পায়। ¯œরনীয় যে, ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তানের সাধারন নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতিক ছিল নৌকা। ১৯৭০ সালের ২৮ অক্টোবর বঙ্গবন্ধু বেতার ও টেলিভিশনে নির্বাচনী ভাষন দেন। তিনি বলেন,প্রতিকুল অবস্থার মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগের জন্ম হয়েছে। আর সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগের বিকাশ । এ সময় তিনি দেশবাসীর কাছে ৬ দফার পক্ষে ম্যান্ডেট চান। ১৯৭০ সালে ১২ নভেম্বর পূর্ব বাংলায় ভয়াবহ ঝড় এবং জলোচ্ছাসে ১০/১২ লাখ মানুষ মারা যান। বঙ্গবন্ধু তার নির্বাচনী প্রচারনা স্থগিত করে ত্রান কাজে ঝাপিয়ে পড়েন। এ সময় “সোনার বাংলা শ্মশান কেনো” শিরোনামে তথ্য সংবলিত একটি পোস্টার জাতিকে নাড়া দেয়। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর দেশের বন্যা দূর্গত এলাকা বাদে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে আওয়ামীলীগ সরাসরি ভোটে ১৬২টি আসনের মধ্যে ১৬০টি এবং সংরক্ষিত মহিলা মিলে ১৬৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করে। ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ পূর্ব পাকিস্তানের ৩১০টি আসনের মধ্যে ৩০২টি আসন লাভ করে। ১৯৭১ সালের ৩রা জানুয়ারী আওয়ামীলীগের সকল নির্বাচিত সদস্য ৬ দফার ভিত্তিতে শাসনতন্ত্র প্রনয়ণ তথা ৬ দফা বাস্তবায়নের শপথ গ্রহন করেন। “আমার সোনার বাংলা,আমি তোমায় ভালবাসি” এই রবীন্দ্র সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্টানের উদ্বোধন হয়। বঙ্গবন্ধু জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে বাঙ্গালী জাতির মুক্তির সংকল্প ব্যক্ত করেন। শপথ অনুষ্টানের উদ্বোধনী সঙ্গীতের পর “জয় বাংলা, বাংলার জয়” গানটিও পরিবেশিত হয়। ১৯৭১ সালের ১০ জানুয়ারী প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ঢাকায় এসে তিনি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ৩ দফা বৈঠক করেন। ৪ দিন পরে তিনি ফিরে যাবার সময় বলেন শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চলছেন। ১৯৭১ সালের ১লা মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগের সংসদীয় দলের বৈঠক শুরু হয় হোটেল পূর্বনীতে। ঐদিন আকস্মিকভাবে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান জাতীয় পরিষদের অদিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষনা করেন। সারা বাংলা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিক্ষুব্দ জনসমুদ্রে পরিনত হয় রাজপথ। বঙ্গবন্ধু এটাকে শাসকদের আরেকটি চক্রান্ত বলে চিহ্নিত করেন। তিনি ২রা মার্চ ও ৩রা মার্চ সারা পূর্ব পাকিস্তানে হরতাল আহবান করেন। ৩রা মার্চ বিক্ষুব্দ জনতা জান্তা সরকার ইয়াহিয়া খানের কারফিউ উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে। এ সময় শামরিক জান্তার গুলিতে মারা যান ৩ জন আহত হন অন্তত ৬০ জন। এই সময় পুরো দেশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পরিচালিত হতে থাকে। ১৯৭১ সালের ৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধু তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে এক যুগান্তকারী ভাষনে ঘোষনা করেন,“এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম”। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষনেই স্পষ্ট হয়ে যায় স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষৎ। সারাদেশ শুরু হয় অভুতপূর্ব অসহযোগ আন্দোলন। ১৯৭১ সালের ১৬ই মার্চ বিষ্ফোরনমূক বাংলাদেশে আসেন ইয়াহিয়া খান। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিলে বঙ্গবন্ধু তার গাড়িতে কালো পতাকা লাগিয়ে হেয়ার রোড়ে প্রেসিডেন্ট ভবনে আলোচনার জন্য যান। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ প্রতিরোধ দিবস পালনের ঘোষনা দেন। সকল সরকারী এবং বে-সরকারী ভবনে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু এ দিন সরকারী ছুটি ঘোষনা করেন। ২৫ মার্চ সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে মানুষের ঢল নামে। সন্ধ্যায় খবর পাওয়া যায় ইয়াহিয়া খান ঢাকা ত্যাগ করেছেন। এ সময় বঙ্গবন্ধু আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ন নেতাদের সাথে বৈঠক করেন। রাত সাড়ে এগারটায় শুরু হয় নিরীহ বাঙ্গালীর উপর বর্বরুচিত হামলা অপারেশন সার্চ লাইট। ইতিহাসের জঘন্যতম গণহত্যা। ২৫ শে মার্চ রাত পৃথিবীর ইতিহাসে নৃশংসতম কালো রাত। ২৫ মার্চ শেষ রাত অথ্যাৎ ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহর রাত ১২.৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানী সেনাবাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার হবার পূর্বে বাংলাদেশের স¦াধীনতার ঘোষনা বার্তা ওয়ারলেস যোগে চট্টাগ্রামের জহুরুল আহমদ চৌধুরীকে প্রেরন করেন। চট্টগ্রাম বেতার কেন্দ্র থেকে আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল হান্নান বঙ্গবন্ধু এই স্বাধীনতা ঘোষনার বাণী স্বকন্ঠে প্রচার করেন। পরে ২৭ শে মার্চ চট্টগ্রামে অস্টম ইষ্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান ঐ ঘোষনা পুনরায় বঙ্গবন্ধুর পক্ষে পাঠ করেন। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তার করে করাচিতে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৭শে মার্চ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন এবং স্বাধীনতার ঘোষনার আলোকে বীর বাঙ্গালী গড়ে তোলে স্বতঃস্ফুর্ত প্রতিরোধ। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধের গৌরবউজ্বল অধ্যায়। ১৯৭১ সালে ১৭ই এপ্রিল তৎকালীন মেহেরপুর মহকুমার ভবেরপাড়ার বৈদ্যনাথতলা আম্রকাননে এক অনাড়ম্বর অনুষ্টানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংরাদেশ সরকারের নতুন মন্ত্রীসভা গঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমদ ঘোষনা করেন আজ থেকে বৈদ্যনাথতলা এলাকার নাম মুজিবনগর এবং অস্থায়ী রাজধানী মুজিবনগর থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা করা হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি এবং তাঁর অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাস্ট্রপতি ঘোষনা করা হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মে মুক্তিযোদ্ধারা ক্রমেই সংগঠিত হতে শুরু করেন । এইদিন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করা হয়। এই কেন্দ্রে সিগনেচার টিউন ছিল “জয় বাংলা,বাংলার জয়”। কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর ভাষন প্রচারিত হতে থাকে।এই কেন্দ্র থেকে প্রচারিত“ শোন একটি মুজিবুরের কন্ঠে” গানটি বাঙ্গালীর উদ্দীপনাকে আরো বাড়িয়ে দেয়। ১৯৭১ সালের ৩রা আগষ্ট পাকিস্তান টেলিভিশন থেকে বলা হয় ১১ আগষ্ট থেকে সামরিক আদালতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিচার শুরু হবে। এই ঘোষনায় বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ উদ্বেগের ঝড় বয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ১১ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুকে ইয়াহিয়া খানের সামনে হাজির করা হয়। ইয়াহিয়ার সঙ্গে ছিলেন ভুট্রো এবং জেনারেল আকবর। ইয়াহিয়া খান করমর্দনের জন্য হাত বাড়ালে বঙ্গবন্ধু বলেন দুঃখিত ওহাতে বাঙ্গালীর রক্ত লেগে আছে ওহাত আমি স্পর্শ করবো না। এ সময় অনিবার্য বিজয়ের দিকে এগুতে থাকে আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। ১৯৭১ সালের ২রা ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী মানুষের মুক্তির সংগ্রাম যখন বিজয়ের দারপ্রান্তে তখন লায়লাপুর কারাগারে ইয়াহিয়া বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করে সমঝোতার প্রস্তার দেব। কিন্তু ঐ সমঝোতা প্রস্তাব বঙ্গবন্ধু ঘৃনাভরে প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর ত্রিশ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ মা-বোনদের ইজ্বতের বিনিময়ে আসে আমাদের বিজয়। আত্মসমর্পন করে পাকিস্তানী বাহিনী। বাঙ্গালী জাতি মুক্ত হয় পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে। কিন্তু মুক্তির অপূর্নতা রয়ে যায়। স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু তখনও নির্জন কারাগারে । ১৯৭২ সালের ৩রা জানুয়ারী পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসাবে জুলফিকার আলী ভুট্রো করাচিতে ঘোষনা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে বিনাশর্তে মুক্তি দেওয়া হবে। ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু কারাগার থেকে মুক্তি পান। পিআইয়ের একটি বিশেষ বিমানে লন্ডন পাঠানো হয়। ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারী সকালে তৎকালীন ব্রিট্রিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের আগ্রহে ব্রিটেনের রাজকীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ ফ্লাইটে বঙ্গবন্ধুকে ভারতের নয়াদিল্লীতে পৌছালে রাষ্টপতি ভি,ভি গিরি এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের রাস্ট্রপতিকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে বঙ্গবন্ধু বলেন “অশুভের বিরুদ্ধে শুভের বিজয় হয়েছে”। ঐদিন বিকালে ভারতীয় বিমানের একটি বিশেষে ফ্লাইটে বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিমান বন্দরে অবতরন করেন। লাখো মানুষের জনসমুদ্র বাধভাঙ্গা আবেগে অশ্রুসিক্ত জাতির পিতা বলেন আজ আমার জীবনের স্বাদ পূর্ন হয়েছে। ঐদিন জনসমুদ্রে বঙ্গবন্ধু হৃদয়কাড়া ভাষন দেন। ঐদিন রাতেই তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহন করেন। ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারী দেশে রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিবর্তে সংসদীয় শাসন কাঠামো প্রবর্তন করে নতুন মন্ত্রী পরিষদ গঠন করে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহন করেন। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ শোষনহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে প্রথম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয়। ১৯৭২ সালে ২০ এপ্রিল শুরু হয় গণপরিষদের উদ্বোধনী অনুষ্টান। বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষনা সম্পর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাশ হয়। ১৯৭২ সালে ১৬ই ডিসেম্বর নতুন সংবিধান কার্যকর করে বাতিল করা হয় গণপরিষদ। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ নতুন সংবিধানের আওতায় বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্টিত হয়। নির্বাচনে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯২টি আসনে বিজয়ী হয়। ১৯৭৪ সালের ২৩ শে সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রথম বাঙ্গালী নেতা হিসাবে জাতিসংগের সাধারন পরিষদে বাংলাভাষায় বক্তৃতা দেন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারী দেশে বিরাজমান পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু জাতীয় সংসদে চতুর্থ সংশোধনী বিল পাশ করেন। এই বিলের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে বাংলাদেশের নবযাত্রা শুরু হয়। ১৯৭৫ সালের ২৫ ফ্রেব্রুয়ারী রাষ্ট্রপতির এক ডিক্রির মাধ্যমে সমগ্র রাজনৈতিক দলের সম্মিলনে বাংলাদেশ কৃষক-শ্রমিক আওয়ামীলীগ নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ১৯৭৫ সালে ১৫ই আগষ্ট দেশের স্বাধীনতা বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ষড়যন্ত্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডি ৩২ নম্বর নিজ বাড়ীতে আত্মঘাতী হামলায় সপরিবারে শহীদ হন। ভাগ্যক্রমে দেশের বাহিরে থাকায় আজকের সফল প্রধানমন্ত্রী ধরিত্রী কণ্যা শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছোটবোন শেখ রেহানা বেচেঁ যান। ১৯২০ থেকে ১৯৭৫ মাত্র ৫৫ বছর বঙ্গবন্ধুর জীবন অধ্যায় যা পৃথিবীর ইতিহাসে এক আলোকময় অধ্যায়। ‘৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট যারা তাঁকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে এ অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়েছিল। তারা সেদিন জানতো না বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের প্রতিটি ক্ষন একটি এক একটি আলোক কণিকা। যার জীবনকাল আজ লাভ করেছে অমরত্ম। মাত্র ৫৫ বছরের জীবনকালে তিনি যেভাবে এদেশে আলো ছড়িয়েছেন। আজও সেই আলোয় বাংলার ১৬ কোটি মানুষ উদ্ভাসিত। তাইতো আজ বাংলার মানুষ সমসুরে গেয়ে উঠেন “বদলে গেছে ঢাকার শহর বদলে গেছে দেশ, এইতো হলো বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ”।

বৈশাখী মেলার মাধ্যমে বৃটেনে জন্ম নেয়া তৃতীয় প্রজন্মের ব্রিটিশ বাঙ্গালীরা নিজেদের শেকড়ের সন্ধান পাচ্ছে ——মেয়র জনবিগস

লন্ডনঃ গতকাল রোববার (৩১জুলাই) তৃতীয়বাংলা খ্যাত লন্ডনে বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব বৈশাখী মেলায় মানুষের ঢল নেসেছিল ইষ্ট লন্ডনের বাংলা টাউনের উইভার্স ফিল্ডে । অন্যান্য বছরের চেয়ে ব্যতিক্রমী এই মেলার মূল আকর্ষন ছিল বাংলাদেশ থেকে আগত জনপ্রয়ি দুই শিল্পি আইয়ুব বাচ্চু আর হাবিব ওয়াহিদ। মেলা উপভোগ করতে বৃটেনের বিভিন্ন শহর থকে পরিবার পরিজন সহ মেলায় যোগদেন সংস্কৃতিপ্রিয় বাঙ্গালীরা। সকাল ১১টায় ইষ্টলন্ডনের বাস্কটন ষ্ট্রীট থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য শোভা যাত্রা এর নেতৃত্ব দেন টাওয়ার হ্যামলেটস মেয়র জন বিগস। লন্ডনের বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী সাংস্কৃতি কর্মীরা অংশ নেন শুভযাত্রায়। শুভযাত্রার পরপরই মুল মঞ্চ থেকে ধারাবাহিক ভাবে পরিবেশন করা হয় নৃত্য,সঙ্গীত ও ফ্যাশনশো।এবারে বৈশাখী মেলা সরাসরি প্রচার করা হয় স্কাই চ্যানেল ৮৩৮ নাম্বারে লন্ডনের এনটিভি থেকে। ইউরোপজুরে জঙ্গি হুমকী থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল প্রচুর, আগতদের তল্লাশীর মাধ্যমে প্রবেশ করতে দেয়া হয় মেলার মূল ষ্টেজের কাছে। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র জনবিগস বলেন বৃটেনের এই বহুজাতিক সমাজে বাংলার কৃষ্টিও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতেই এই আয়োজন। বৈশাখী মেলার মাধ্যমে বৃটেনে জন্ম নেয়া তৃতীয় প্রজন্মের ব্রিটিশ বাঙ্গালীরা যেমন নিজেদের শেকড়ের সন্ধান পাচ্ছে ঠিক তেমনি অন্যরাও বাংলা সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হচ্ছেন। আগামীতে এর পরিধি আরো বাড়ানো হবে। অনুষ্টারে আরো বক্তব্য রাখেন লন্ডন্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রেস মিনিষ্টার সাংবাদিক নাদিম কাদির, ডেপুটি মেয়র সিরাজুল ইসলাম, মেলা শেষ হয় সন্ধ্র্যে সাত ঘটিকায়। টাওয়ার হ্রঅমলেটস কাউন্সিলের সহয়োগীতায় ১৯৯৬ সালে বৃটেনে বাংলা সংস্কৃতির প্রচার প্রসার ও ইষ্ট লন্ডনে বাংলা টাউনের পরিচিতির লক্ষ্যে সংস্কৃতি প্রিয় বাঙ্গালীরা এর যাত্রা শুরু করেন, পরবর্তিতে মেলা আয়োজনের দায়িত্ব পায় বৈশাখী মেলা ট্রাষ্ট নামে একটি সংগঠন এবছর সম্পুর্ণ কাউন্সিলের তত্বাবধানের আয়োজন করা হয় বৈশাখী মেলার।

বাবা হতে চলেছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক

ফুটা গাছে ফুল ফুটেছে অবশেষে বাবা হচ্ছেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। স্ত্রী হনুফা আক্তারকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিগগিরই দেশবাসীকে সু-সংবাদ জানাবেন রেলমন্ত্রী। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে রেলমন্ত্রীর স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন মা হওয়ার। বৃদ্ধ বয়সে ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর নিজ জেলা কুমিল্লার মেয়ে হনুফা আক্তারকে বিয়ে করেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। বছরের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল সেই জাকজমকপূর্ণ বিয়ে। বরযাত্রায় ছিলেন ৬ জন মন্ত্রী, এমপিসহ ৭০০ বরযাত্রীর বিশাল গাড়িবহর। পরবর্তীতে ঢাকায় সম্পন্ন হয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনা।

নবীগঞ্জে আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হলো বাংলা নববর্ষ

উত্তম কুমার পাল হিমেল, নবীগঞ্জ থেকেঃ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবীগঞ্জে পালিত হয়েছে নতুন স্বপ্ন, উদ্যম আর প্রত্যাশার আবির ছড়ানো বাঙালি জাতির সবচেয়ে বড় উৎসব পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষ ১৪২৩ বাংলা উৎসব। বরাবরের মতো ভোরের আলো ফুটতেই নবীগঞ্জে শুরু হয় নতুনকে বরণ করে নেয়ার আয়োজন। সব বয়সের মানুষ এসে জড়ো হয় নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মাঠ ও হিরা মিয়া গার্লস স্কুলের মাঠ প্রাঙ্গনে। সাদা রঙের শাড়ি পরে মাথায় বেলি ফুলের খোপায় রমনীদের আনন্দ অনেকটাই ছিল লক্ষনীয়। শুধু তাই নয় ছেলেরা পায়জামা পাঞ্জাবি পরে মণে করিয়ে দিলো বৃহস্পতিবার বাঙ্গালীদের মিলন মেলার দিন। শুধু ছেলে মেয়ে নয় শিশু থেকে শুরু করে প্রাপ্ত বয়স্ক সবাই মগ্ন পহেলা বৈশাখ উদযাপন করতে। অনূষ্ঠানস্থলগুলোতে বেলা বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। বন্ধু-বান্ধব একসাথে দলবেধে আসে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে। নববর্ষের আনন্দে মেতে উঠে সব বয়সের নারী পুরুষ। প্রাণের বন্ধনে সবাই একত্র করতে প্রতিটি অনুষ্টানকে নজর কাড়া রুপ দেয়া হয়। নবীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন আনন্দ নিকেতনে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদের সহযোগীতায় নানা অনুষ্টানমালার আয়োজন করে। উপজেলা পরিষদের মাঠ প্রাঙ্গনে তাদের দিনব্যাপী লোক উৎসবে বিশেষ আকর্ষন ছিল কালজয়ী লোকনাট্য রহিম বাদশা-রুপবান কন্যা। নববর্ষ উৎসব ও অনুষ্টানগুলো পরিদর্শন করেন, নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আনোয়ার হোসেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আব্দুল বাতেন খান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার নূর উদ্দিন , উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ মিলু, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নির্মেলেন্দু দাশ রানা, পৌরসভার প্যানেল মেয়র- ১ এটিএম সালাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছাদেক খান, নজরুল ইসলাম, সমবায় কর্মকর্তা হাসনা হেনা, নবীগঞ্জ উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদেও সাধারন সম্পদাক ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি প্রভাষক উত্তম কুমার পাল হিমেল, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক সলিল বরন দাশ, অফিস সম্পাদক ও ৭১ নিউজ টিভির প্রতিনিধি মতিউর রহমান মুন্না প্রমুখ। এই জমকালো অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন, সাংস্কৃতিক কর্মী ও আনন্দ নিকেতনের বর্ষবরন অনুষ্টানের আহবায়ক সাংবাদিক উজ্বল দাশ, আনন্দ নিকেতনের সভাপতি প্রনব দেব, সাধারন সম্পাদক জসিম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি তনুজ রায়, কাঞ্চন বনিক, সদস্য জাহাঙ্গীর বখত চৌধুরী প্রমুখ।উক্ত অনুষ্ঠানে নবীগঞ্জের গর্ব আনন্দ নিকেতন ও চ্যানেল আই, এনটিভি, বিটিভি, এটি এন বাংলার নৃত্যশিল্পী শাহরিয়ার তানভীর মোহন নৃত্যু পরিবেশন করে সবার মন জয় করে। এদিকে নববর্ষ উদযাপন নির্বিঘœ করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে নবীগঞ্জ থানা পুলিশ। নবীগঞ্জ শহরের বাইরে আউশকান্দি রঃ.পঃ স্কুল এন্ড কলেজসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানেও শান্তিপূর্ণভাবে নববর্ষ পালিত হয়েছে।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net