শিরোনাম

রংবেরঙ

২২ মার্চ অনুষ্ঠেয় প্রথম ধাপের নির্বাচনে দুই শতাধিক আসামি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন

Matiar chowdhury

 মতিয়ার চৌধুরী

স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচনে আসামি বা অপরাধীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি অতীতে বহুবার গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে। এবার যেহেতু প্রথমবারের মতো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরাসরি রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন নিয়ে প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সে জন্য অতীতের মতো অপরাধীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি আর ঘটবে না, এটাই ছিল প্রত্যাশিত। জনগণ স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা করেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় ইমেজ যাতে ক্ষুণœ না হয় সেটা বিবেচনায় রেখে তুলনামূলক বেশি যোগ্যতাসম্পন্ন প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হবে। যেহেতু তৃণমূলের এসব নেতার পরবর্তী সময়ে আরও বড় পদে মনোনয়ন পাওয়ার সুুযোগ তৈরি হবে, সেহেতু সৎ, ত্যাগী, শিক্ষিত, যোগ্য এবং সমাজে গুণী ও সজ্জন বলে পরিচিত- এমন ব্যক্তির বাইরে কেউ চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পাবে না, এটাও ছিল প্রত্যাশিত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে বাস্তবে তেমনটি লক্ষ করা যাচ্ছে না। বুধবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২২ মার্চ অনুষ্ঠেয় প্রথম ধাপের নির্বাচনে দুই শতাধিক আসামি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এসব আসামি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে সমাজে গুণী ও সজ্জন বলে পরিচিত ব্যক্তিরা নানাভাবে কোণঠাসা হবেন এমন আশংকা করা যায়। প্রথম ধাপের নির্বাচনে যারা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তাদের অনেকের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রথম ধাপের নির্বাচনে যারা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তাদের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্কুলের গণ্ডিই পেরোতে পারেননি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে একজন ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রতিমুহূর্তে অতিগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। কোনো ব্যক্তির প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও তিনি সফলভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হতেই পারেন। তবে বর্তমান বাস্তবতায় যে ব্যক্তির প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কম অথবা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, তার পক্ষে তেমনটি সম্ভব নাও হতে পারে। যিনি স্কুলের গণ্ডিই পেরোতে পারেননি, তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচিত হলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির পদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনে কতটা দক্ষতার পরিচয় দিতে পারবেন, সে প্রশ্ন থেকেই যায়। এ প্রেক্ষাপটে কোনো অপরাধী ও অযোগ্য ব্যক্তি যাতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ না পায়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট

স্মার্টফোন দিয়ে শনাক্ত করা যাবে বিশ্বব্যাপী মরণঘাতী রোগ ক্যান্সার

স্মার্টফোন দিয়ে শনাক্ত করা যাবে বিশ্বব্যাপী মরণঘাতী রোগ ক্যান্সার। সঙ্গে প্রয়োজন ৭০ পাউন্ড মূল্যের একটি ডিভাইস যা অনলাইনে কেনা-বেচার সাইট অ্যামাজনে পাওয়া যাবে।‘এইচইউডি’ নামের এই ডিভাইসটি মেডিক্যাল পেশাদারদের কাছে ডার্মাটোস্কোপ নামেই পরিচিত। এতে থাকা ম্যাগনিফায়িং গ্লাস এবং এলইডি লাইট ব্যবহার করে ত্বকের পৃষ্ঠে হওয়া প্রতিফলনের মাধ্যমে এটি ত্বকের ক্ষত পর্যবেক্ষণ করতে পারে।প্রচলিত ডার্মাটোস্কোপগুলোর দাম শত পাউন্ডের মতো হলেও, থ্রিজেন নামের প্রতিষ্ঠানটি এইচইউডি বানিয়েছে প্লাস্টিক দিয়ে। এ কারণে, ডাক্তারদের ব্যবহৃত ডিভাইসের এর চেয়ে এটি সস্তায় পাওয়া যাবে।সুবিধাটি পেতে ব্যবহারকারীকে অবশ্যই ফার্স্ট ডার্ম অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। আর এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অ্যাপে ক্ষতের ছবি আর তাদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন।
আর এ বিষয়ে নিবন্ধিত ডার্মাটোলজিস্টরা তাদের উত্তর দেবেন।

  শেকড় টানছে প্রবাসী প্রজন্মকে  ব্রিটিশ-বাংলাদেশী প্রজন্মের নাটকে অভিনয় করলেন বঙ্গবন্ধুর নাতনিও

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘প্রবাসে বেড়ে ওঠা আমরা এই প্রজন্ম শেকড়বিমূখ নই, শেকড় আমাদের অবিরত টানে’- এই মন্তব্য জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ রেহানার মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রুপন্থী’র। এ যেন শেকড়ের টান, শেকড় খোঁজার চেষ্টা। এলএসই, ইউসিএল, কিংস কলেজ, সোয়াস, কুইনমেরী’র মত ব্রিটেনসহ সাড়া বিশ্বের মরযাদাপূর্ণ ইউনিভার্সিটিগুলোতে অধ্যায়নরত ব্রিটিশ-বাংলাদেশী প্রজন্মের এ শেকড় খোঁজার চেষ্টা অভিভুত করেছে পুরো হল ভর্তি প্রায় ৬শত দর্শককে। দর্শকদের ৯০ ভাগই আবার নতুন প্রজন্ম, বাকী ১০ ভাগ নিজেদের পরিবার সদস্য। অংশ বিশেষ করে নিজেদের লেখা গল্প এবং নিজেদের অভিনয়ে বুধবার পূর্ব লন্ডনের আর্টিয়াম হলে ইউসিএল বাংলা সোসাইটির উদ্যোগে মঞ্চায়িত নাটক ‘বাসন্তী’ প্রমান করেছে, প্রবাসে বেড়ে ওঠা আমাদের নতুন প্রজন্ম শেকড় বিমুখ নয়, বরঞ্চ আমারা বর্তমান মধ্য প্রজন্মের চেয়েও বলতে গেলে বেশিই তাঁরা অনুভব করে নিজের শেকড়কে, খুজতে চায় তাদের পূর্ব প্রজন্মের ইতিহাস, এতিহ্য ও সংষ্কৃতি। ব্রিটেনে বসবাসরত একটি সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের গল্প নিয়ে তৈরী ‘বাসন্তী’ নামের পূর্ণ দৈর্ঘ্য এই মঞ্চ নাটকে ইংরেজী, সিলেটি ও প্রমিত বাংলা এই তিন ভাষায়ই সংলাপ আওড়েছে ব্রিটিশ-বাংলাদেশী মেধাবী প্রজন্ম, যারা লন্ডনে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম মরযাদাপূর্ণ ইউনিভার্সিটিগুলোতে কৃতিত্বের সাথে পড়াশোনা করছে।

pict-1

নাটকের পুরো গল্প ভাগ ভাগ করে নিজেরাই লিখেছে, আবার নাটকটিতে অভিনয়ও করেছে এই মেধাবী প্রজন্মের প্রতিনিধি নিজেরাই। বাংলাদেশের স্থপতি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি, শেখ রেহানা কন্যা অক্সফোর্ড গ্রেজুয়েট আজমিনা সিদ্দিক রুপন্থি যেমন নাটকের একটি অংশে নৃত্য পরিবেশন করেছে, ঠিক তেমনি এলএসই, ইউসিএল, সোয়াস ও কুইনমেরীতে অধ্যায়নরত মেধাবীরা্ও অভিনয় করেছে নাটকে। ব্রিটেনে বসবাসরত একটি পরিবার, যাদের রয়েছে যৌথ পারিবারিক ব্যবসা (রেষ্টুরেন্ট) তাদেরই গল্প নিয়ে মঞ্চায়িত নাটক ‘বাসন্তী’। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা নিজেদের সন্তানদের শেকড়মূখী করতে চান, সুন্দর মাতৃভূমিটির প্রতি তাদের আকৃষ্ট করতে চান, এমনই গল্প দিয়ে মেধাবী প্রজন্মের তৈরী এই নাটক। বাংলাদেশে বসবাসরত পরিবারের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ মহিলার (নানী) অসুস্থতাকে কেন্দ্র করে একসময় পুরো পরিবারই বাংলাদেশে গমন করে। সেখানে দেশ, দেশের সংষ্কৃতি ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতি প্রবাসী সন্তানদের আকৃষ্ট করার বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রাণান্তকর চেষ্টা লক্ষ্য করা যায় নাটকটিতে। শেষ পরযন্ত একসময় সন্তানরা আকৃষ্ট হতে শুরু করে নিজ শেকড়ের প্রতি, ভালবাসতে শুরু করে পূর্ব প্রজন্মের দীর্ঘ সংগ্রামের ফসল বাংলাদেশ নামক দেশটিকে, এমনি এগিয়ে যায় কমেডি নাটক ‘বাসন্তী’র কাহিনী। নাটকে মিউজিক, গান সবকিছু নিজেরাই তৈরী করেছে প্রবাসী মেধাবী প্রজন্ম। ছোট চাচার চরিত্রে অভিনয়কারী কুইনমেরী স্টুডেন্ট নিশাত মনসুরের লেখা, সুর ও কন্ঠে ‘‘চলো আমরা বাংলাদেশটা ঘুরে আসি’’ গান, বড় চাচার চরিত্রে অভিনয়কারী এলএসই স্টুডেন্ট ইউনিয়নের বিএমই অফিসার মাহাথির পাশা’র ‘‘বাংলাদেশ ইজ মোর দেন জাষ্ট এ ল্যান্ড অব বেগারস, মস্কিউটোজ এন্ড সুটকি। লুক এট ইট, ইটস এ বিউটিফুল প্লেইস’’, মেঝোচাচার চরিত্রে অভিনয়কারী ইউসিএল’র মেধাবী ছাত্র সাহমাত হকের ‘‘ওহ নো আই হেভনট এনি ক্যাশ, টেইক মাই কার্ড, মাই পিন নং ইজ 1971’’, নানীর চরিত্রে অভিনয়কারী ইউসিএল ছাত্রী নিশাত আহমেদের নিজের নাতি নাতনীকে কবিতা প্রেমিক স্বামীর গল্প শোনানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা ইত্যাদি বিষয়গুলো দর্শকদের যেমন আলোড়িত ও আবেগাপ্লুত করেছে, ঠিক তেমনি তাদের ব্যাপক আনন্দও দিয়েছে এই কমেডি নাটক। ইউসিএল ইউনিভার্সিটি বাংলা সোসাইটির প্রেসিডেন্ট মেহজাবিন আহমেদ ও সাবাহ হোসেনের পরিচালনায় মঞ্চায়িত নাটকটিতে অভিনয় করেছেন মাহাথির পাশা, নিশাত মনসুর, নিশাত আহমেদ, সাহমাত হক, রত্না আখতার, তাহমিদুর রহমান, তাফসির আহমেদ ও আয়শা চৌধরী প্রমুখ। গ্রুপ নৃত্যে অন্যান্যের সাথে অংশ নেন শেখ রেহানা কন্যা আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী। নাটকটির অন্যতম পরিচালক ইউসিএল ইউনিভার্সিটি বাংলা সোসাইটির প্রেসিডেন্ট মেহজাবিন আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, প্রতি বছরই আমরা এরকম উদ্যোগ নিয়ে থাকি। নাটকের টিকেট বাবদ যে অর্থ উঠে তা নির্দিষ্ট একটি চ্যারিটিকে দান করে দেয়া হয় বলে জানান মেহজাবিন। এমন উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের শেকড় যেমন জানার চেষ্টা হয়, ঠিক তেমনি চ্যারিটি ওয়ার্কেও তারা ভূমিকা রাখতে পারেন, এমনটিই জানান তিনি।

pict-3শেখ রেহানা কন্যা রুপন্থিকে কোন প্রশ্ন করার আগেই এই প্রতিবেদককে নিজেই আগে প্রশ্ন করে বসেন ‘কেমন লাগলো আমাদের নাটক’। ‘খুবই ভালো’, এমন উত্তর শুনে এর সাথে জড়িত থাকতে পারায় নিজের খুশির কথা জানালেন রুপন্থী বাংলানিউজকে। তাঁর মন্তব্য, ‘প্রবাসে বেড়ে ওঠা আমরা এই প্রজন্ম শেকড়বিমূখ নই, শেকড় আমাদের অবিরত টানে’। এধরনের পরিবেশনা নিজ প্রজন্মের শেকড় সন্ধানি মনোভাবেরই প্রতিফলন বলে বাংলানিউজের কাছে মন্তব্য করেন বঙ্গবন্ধুর এই নাতনি। নাটক দেখতে এসে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম নুরু ও গোলাম মোস্তফা আবেগাপ্লুত হয়ে ওঠেন। বাংলানিউজকে তারা বলেন, সন্তানরা আমাদের শেকড় চিনবে কিনা, এমন একটি সন্দেহ থেকে অনেকটা নিস্কৃতি পেলাম আজ।  আসলে দেশীয় রাজনৈতিক সভা-সমাবেশের চেয়ে এধরনের উদ্যোগই হবে এই প্রজন্মকে দেশমূখী করার সবচেয়ে কারযকর পন্থা।

 

 

 

 

 

 

 

 

বিলেতবাসী বাঙ্গালীর জীবনচিত্র একজন সফল ব্যবসায়ী সমাজসেবী ও রাজনীতিকের নাম কাউন্সিলার আতিকুল হক

মতিয়ার চৌধুরীঃ পৃথিবী জন্মের পর থেকেই অভিবাসন প্রক্রিয়া চলে আসছে, তা এখনও অব্যাহত আছে ভবিষ্যৎতে থাকবে। সামাজিক রাজনৈতিক অর্থনৈতিক এবং ধর্মীয় কারণে মানুষ এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে বসতি স্থাপন করে আসছে। দেশ থেকে দেশান্তরী হলেও কেউ শেকড়কে ভূলতে পারেনি। বৃটেনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহ্যগত। বর্তমানে গ্রেট বৃটেনে বাঙ্গালীর সংখ্যা আনুমানিক পাঁচ লক্ষের কাছাকাছি। যদিও একসময় মূলতঃ অর্থনৈতিক কারনে বৃটেনে বাঙ্গালীদের আগমন ঘটেছিল, এখন কিন্তু সম্পুর্ন ভিন্ন চিত্র। এই বৃটেনের অর্থনীতিতে ব্রিটিশ বাঙ্গালীদের অবদান খাটো করে দেখার উপায় নেই। ব্যবসা বানিজ, সরকারী বেসরকারী চাকুরী এবং রাজনীতিতে বাঙ্গালীদের অবস্থান বেশ শক্ত। ইতিমধ্যেই হাউজ অব কমন্সে তিন এমপি একজন লর্ড সভার সদস্য সহ স্থানীয় সরকারে বিশেষ করে বিভিন্ন কাউন্সিলে শতাধিক বাঙ্গালী কাউন্সিলার রয়েছেন। এদের সকলেই তৃতীয় প্রজন্মের ব্রিটিশ বাঙ্গালী। এরা যেমন বৃটেনের বহুজাতিক সমাজে বাঙ্গালীর মুখ উজ্জ্বল করছেন এদেশে আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যকে তুলে ধরছেন অন্যদিকে শেকড়ের টানে দেশের উন্নয়নেও অবদান রাখছেন।

5 4 4
এদেরই একজন হলেন তারন্যের প্রতিক কাউন্সিলার আতিকুল হক। এই তরুন খুব অল্পবয়সেই রাজনীতি ব্যবসা বানিজ্য ও সমাজ সেবায় সাফল্যের শিখরে আরোহন করেছেন। কিশোর বয়সে পরিবারের সাথে বৃটেনে আগমন। বর্তমানে উইলশায়ার কাউন্সিলের রক্ষনশীল দলের সেন্ট এডমন্ড এ্ং মিলফোর্ড ওযার্ডের একজন কাউন্সিলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। যে এলাকা থেকে তিনি কাউন্সিলার নির্বাচিত হয়েছেন এই এলাকাতে বাঙ্গালীর সংখ্যা খুবই কম। শুধু তাই নয় তিনি কনজারভেটিভ ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটিরও একজন প্রভাবশালী সদস্য। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে দশটিরও বেশী রেষ্টুরেন্ট এর সত্বাধীকারী এবং পরিচালক। এর সাথে একাধিক সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথেও তিনি সম্পৃক্ত। বৃটেনে বাংলাদেশীদের শীর্ষস্থানীয় সংগঠন বিট্রিশ বাংলাদেশী ক্যাটারারর্স এসোসিয়েশন সংক্ষেপে (বিবিসিএ) এর প্রতিষ্টাতা প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 5 7
বাংলাদেশের উন্নয়নে শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে রয়েছে তার অবদান। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গুলশান-২ তে একটি আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্টা করেন যা জধযবঃরঃ যড়ংঢ়রঃধ বা রয়েল এসিসটেড হাসপাতাল এন্ড এডুকেশন স্টোর নামে পরিচিত। এই হাসপাতালে শুধু চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়না এর পাশাপাশি চিকিৎসক এবং সেবক-সেবীকাদের উন্নত মানের প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা রয়েছে। এই প্রতিষ্টান থেকে যারা প্রশিক্ষন নিয়ে বেরিয়ে আসছে বিশ্বের যেকোন দেশে তাদের চাকুরীর সুযোগ রয়েছে। এই প্রতিষ্টানটি বৃটেনের রয়েল কলেজ হাসপাতালের একটি শাখা প্রতিষ্টান বাংলাদেশে এইটি প্রথম, আতিকুল হক এই প্রতিষ্টানের অন্যতম প্রতিষ্টাতা ডিরেক্টর। বাংলাদেশে এর দায়িত্বে রয়েছেন সার্জন রাকিব আহসান।
আতিকুল হক ইংল্যান্ডের যে এলাকায় বসবাস করেন এই উইলশায়ার মুসলিম এসোসিয়েশনের মাধ্যমে স্থানীয় মুসলিমদের প্রার্থনার সুবিদার্থে প্রতিষ্টা করেছেন একটি মসজিদ তিনি এ্ই সংগঠন ও মসজিদেরও একজন টেজারার। বৃটেনে কনরাজভেটিব পার্টির নিজস্ব চ্যারিটি সংগঠন শাপলার মাধ্যমে বাংলাদেশে কাজ করছেন। এই শাপলা বাংলাদেশে শিক্ষ-স্বাস্থ্য ও পোর্টস এর উপরে কাজ করে, আতিকুল হক কয়েকবার বৃটেন থেকে কয়েকজন এমপি ও মন্ত্রীকে সাথে নিয়ে শাপলার কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করা সহ শাপালার একজন অন্যতম সাহায্যকারী হিসেবে কাজ করছেন।

8 9
আতিকুল হকের জন্ম ১৯৭৬ সালে বৃহত্তর সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাসী শ্রীরামসী দীগিরপার গ্রামে। তার পিতার নাম আলহাজ্ব নুমরামুল হক পিতামহ মরহুম মাহফুজুল হক। এলাকায় একটি বুনেদী পরিবার হিসেবে এই পরিবারে সুখ্যাতি রয়েছে বিশেষ করে এলাকায় একটি ধার্মিক পরিবার হিসেবে এই পরিবারের সুনাম রয়েছে। বাড়ীর ভেতর রয়েছে গ্রমের মানুষের নামাজ আদায়ের সুবিদার্থে জামে মসজিদ। তখন ঐএলাকায় মসজিদের সংখ্যা ছিল খুব কম সাত গ্রামের মানুষ ঐ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করতেন। আতিকুল হকের পিতা ও চাচা ছিলেন প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের একজন অন্যতম সংগঠন। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। ১৯৮৬ সালে কিশোর বয়সে পরিবারের সাথে বৃটেনে আগমন করেন। আতিুল হক প্রাইমারী শিক্ষা গ্রহন করেন টাওয়ার হ্যামলেটস এর টমাস বক্সটন প্রাইমারী স্কুলে সেকেন্ডারী ডেনফোর্ড হাই স্কুল পরবর্তিতে টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজে অধ্যয়ন করেন। কলেজ জীবন শেষ করেই শুরু করেন ব্যবসা, এর পর আর পেছনে ফিরে থাকাতে হয়নি তাঁকে একে একে সাফল্য অর্জন করেন। গ্রেট বৃটেনে তিনি একজন সফল ক্যাটারারর্স ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বৃটেন এবং বাংলাদেশের শ্রেষ্ট রাজনীতিক এমপি মন্ত্রী অনেকের সাথে রয়েছে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক। মিঃ হক ২০০৩ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তার সহধর্মিনী রিয়া খান। বিবাতি জীবনে জনাব আকিুল হক পাঁচ সন্তানের জনন তার সন্তানেরা সকলেই বৃটেনের বিভিন্ন প্রাইমারী ও সেকেন্ডারী স্কুলে অধ্যয়নরত। তারা হলো আনিসা হক, তাইয়বুল হক, আরমানুল হক, মোন্তাকিমুল হক ও আমিরা হক। তিনি ২০০৯ সালে হজ্ব পালন করেন। তিনি এশিয়া ইউরোপ আমেরিকা সহ বিশ্বের ২০টিরও বেশী দেশ ভ্রমণ করেন। তার প্রিয় খেলা ফুলবল। বিনয়ী নর্মভদ্র অমায়িক চরিত্রের অধিকারী তরুন এই রাজনীতিকের সুস্বাস্থ ও দীর্ঘায়ু কামনা করে লিখার ইতি টানছি ।
লন্ডন-২মার্চ ২০১৬।

বৃক্ষমানব আবুল বাজনদারের ডান হাতে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন

বিশেষ প্রতিনিধি : বৃক্ষমানব আবুল বাজনদারের ডান হাতে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডান হাতের কবজির ওপরের দিকে এবং হাতের তালু অংশে অস্ত্রোপচার করা হয়।এর আগে গত শনিবার আবুল বাজনদারের ডান হাতে পাঁচটি আঙুলেই অস্ত্রোপচার করা হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান আবুল কালামের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল আবুল বাজনদারের দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করেন।দুপুর সোয়া ১২টা থেকে ২টা ৩০ পর্যন্ত এই অস্ত্রোপচার হয় আড়াইঘণ্টা ধরে এই অস্ত্রোপচার চলে। অস্ত্রোপচার শেষে আবুল কালাম বলেন, আবুল বাজনদারের ডান হাতের কবজির ওপরের দিকে এবং তালুর অংশে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তাঁদের ধীরে ধীরে এগোতে হচ্ছে।আবুল বাজনদারের ১৩ থেকে ১৫টি অস্ত্রোপচার করতে হবে বলেও জানান তিনি।গত ৩০ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হন আবুল বাজনদার। ট্রি-ম্যান সিনড্রোমে ভোগা আবুল দারিদ্র্যের কারণে এত দিন সুচিকিৎসা পাননি। এখন পর্যন্ত চিকিৎসকদের আশা, আবুল বাজনদার সেরে উঠবেন। আবুল বাজনদারসহ বিশ্বে এখন পর্যন্ত এ ধরনের চারজন রোগীকে শনাক্ত করা গেছে। গণমাধ্যমে আসা ইন্দোনেশিয়ার বৃক্ষমানব গত ৩০ জানুয়ারি মারা গেছেন।

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৪ সেরা অভিনেতা ফেরদৌস, সেরা অভিনেত্রী মৌসুমী ও মিম

বিশেষ প্রতিনিধি : ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৪’-এর পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। জুরি বোর্ডের সদস্যদের বাছাই শেষে মনোনীত ব্যক্তিদের নাম পাঠানো হয় তথ্য মন্ত্রণালয়ে। ২৪ ফেব্র“য়ারি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মরতুজা আহমদ এতে স্বাক্ষরও করেছেন। ২০১৪ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা ছবি নির্বাচিত হয়েছে মুরাদ পারভেজের ‘বৃহন্নলা’। একই ছবির জন্য সেরা কাহিনিকার ও সংলাপ রচয়িতা হিসেবেও দুটি বিভাগে পুরস্কার পেয়েছেন মুরাদ পারভেজ। আর সেরা অভিনেতা হয়েছেন ফেরদৌস (এক কাপ চা)। যৌথভাবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন মৌসুমী (তারকাঁটা) ও মিম (জোনাকীর আলো)। তথ্য মন্ত্রণালয়ের থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব জানা গেছে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের এবারের আসরে ‘মেঘমল¬ার’ ছবির জন্য সেরা পরিচালক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জাহিদুর রহিম অঞ্জন। ‘দেশা দ্য লিডার’ ছবির গানের জন্য সেরা গায়ক নির্বাচিত হয়েছেন জেমস। এবারই প্রথম তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন। যৌথভাবে সেরা গায়িকা নির্বাচিত হয়েছেন রুনা লায়লা (প্রিয়া তুমি সুখী হও) ও মমতাজ (নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ)। ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’ ছবির জন্য সেরা সংগীত পরিচালক, গীতিকার, সুরকার ও রূপসজ্জা শিল্পী নির্বাচিত হয়েছেন যথাক্রমে সাইম রানা, মাসুদ পথিক, বেলাল খান ও আবদুর রহমান। সেরা গায়ক ছাড়াও ‘দেশা দ্য লিডার’ ছবির জন্য এ বছর সেরা খল চরিত্রে নির্বাচিত হয়েছেন তারিক আনাম খান। একই ছবির জন্য সেরা চিত্রনাট্যকার সৈকত নাসির ও সেরা সম্পাদক হয়েছেন তৌহিদ হোসেন চৌধুরী। আর বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের খল চরিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে পরিচিত মিশা সওদাগর এবার পেয়েছেন সেরা কৌতুক অভিনয়শিল্পীর পুরস্কার। সানিয়াত হোসেন পরিচালিত ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’ ছবির জন্য এই পুরস্কার পেয়েছেন মিশা। সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে ‘তারকাঁটা’ ছবির জন্য এজাজুল ইসলাম ও ‘৭১ এর মা জননী’ ছবিতে অভিনয় করে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতে নিয়েছেন চিত্রলেখা গুহ। ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৪’-এর এবারের আসরে মোট ২৬টি বিভাগে পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। পুরস্কার পাওয়া অন্যদের মধ্যে আছেন সেরা চিত্রগ্রাহক মোহাম্মদ হোসেন জেমী, সেরা শিশুশিল্পী আবির হোসেন অংকন (বৈষম্য), সেরা শিল্প নির্দেশক মারুফ সামুরাই (তারকাঁটা), সেরা শব্দগ্রাহক রতন পাল, শিশুশিল্পী বিশেষ শাখায় পুরস্কার মারজান হোসাইন জারা (মেঘমল¬ার) ও শ্রেষ্ঠ পোশাক ও সাজসজ্জা কনক চাঁপা চাকমা (জোনাকীর আলো)। এ ছাড়াও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ২০১৪ তে যৌথভাবে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার পাচ্ছেন সৈয়দ হাসান ইমাম ও রাণী সরকার। খুব শিগগিরই একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুরস্কার পাওয়া ব্যক্তিদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেবেন।

চলচ্চিত্র ও টিভি নাটকের জনপ্রিয় মুখ পূর্ণিমা আবারও অভিনয়ে ফিরছেন

অনেক দিন ধরেই অভিনয় থেকে দূরে সরে আছেন চলচ্চিত্র ও টিভি নাটকের অন্যতম জনপ্রিয় মুখ পূর্ণিমা। একমাত্র মেয়ে আরশিয়াকে নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণেই নাকি তাঁর এই দূরে থাকা। তবে এর মধ্যেও কিছু পরিচালকের অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারেননি পূর্ণিমা। সংসার ও মেয়েকে সামলে নিয়ে কাজ করেছেন কোরবানির ঈদের একটি নাটকে। এরপর আবারও নিজের মতো করে সংসার-সন্তান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু কত দিনই বা পরিচালকদের না করা যায়। সম্প্রতি নাটকে অভিনয়ের ব্যাপারে চারজন পরিচালকের সঙ্গে আলাপ হয়েছে বলে একটি জাতীয় দৈনিককে নিশ্চিত করেছেন পূর্ণিমা নিজে। তবে কাউকে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি তিনি। এঁদের মধ্যে একজন পরিচালকের নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে ফিরছেন তিনি- এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন পূর্ণিমা।পূর্ণিমা বলেছেন, ‘আমি অভিনয়ে ফিরব। কিন্তু আমার চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপারটিও মিলতে হবে। এখন কিন্তু আমি আগের মতো বিরতিহীনভাবে কাজ করতে পারব না। আমাকে সন্তান আর সংসার নিয়েও ব্যস্ত থাকতে হয়। তাই সবকিছু সামলে নিয়ে যাঁর সঙ্গে কথাবার্তায় মিলবে, তাঁর নাটকেই অভিনয় করব।’অভিনয়শিল্পী পূর্ণিমার সাম্প্রতিকতম টিভি নাটক হচ্ছে আরিফ খানের ‘আমার বেলা যে যায়’ আর তুহিন হোসেনের ‘প্রেম অথবা দুঃস্বপ্নের রাত’। প্রথম নাটকটিতে তিনি অভিনয় করেন মাহফুজ আহমেদের সঙ্গে। আর দ্বিতীয়টিতে মোশাররফ করিম ও ইরেশ যাকেরের সঙ্গে।পূর্ণিমা চলচ্চিত্রের নায়িকা। কিন্তু এখন মাঝেমধ্যে তাঁকে টিভি নাটকেই অভিনয় করতে দেখা যায়। চলচ্চিত্রে আবার কবে দেখা যাবে?পূর্ণিমা এ প্রসঙ্গে পূর্ণিমা বলেছেন, ‘আমি কিন্তু অনেক আগে থেকেই নাটক করছি। চলচ্চিত্রের ফাঁকে ফাঁকে। যখন চলচ্চিত্রে খুব ব্যস্ত ছিলাম, তখনো ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করেছি। চলচ্চিত্রের জন্য অনেক সময় লাগে। আমার মেয়ে যেহেতু খুব ছোট, তাই চলচ্চিত্রে কাজ করাটা একটু কঠিন। নাটকে অল্প সময় লাগে। তাতে মেয়ের তেমন অসুবিধা হয় না।’চলচ্চিত্রে এখনই কাজ করতে চান না পূর্ণিমা। একমাত্র কারণ আরশিয়া। তিনি জানিয়েছেন, মেয়ে একটু বড় হওয়ার পর তবেই সিদ্ধান্ত নেবেন।

আজ অমর একুশে – দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ —– মতিয়ার চৌধুরী

আজকের দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজ মহান শহীদ দিবস। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসও আজ। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিমাঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী পূর্বাঞ্চলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিকে তাদের অধীন করে রাখার পরিকল্পনা করে। এর অংশ হিসেবে প্রথমেই তারা বাঙালিকে ভুলিয়ে দিতে চায় তার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রভাষা- এ বাস্তব সত্য অস্বীকার করে বাংলার পরিবর্তে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রয়াস পায় তারা। উদ্দেশ্য ছিল মাতৃভাষা কেড়ে নিয়ে বাঙালির জাতিসত্তাকে পঙ্গু করে দেয়া। কিন্তু এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে বাঙালি। শুরু হয় বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। একপর্যায়ে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি বিক্ষোভরত ছাত্র-জনতার ওপর চালানো হয় গুলি। শহীদ হন বরকত, সালাম, রফিক, জব্বারসহ অনেকে।বায়ান্নর একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনে যোগ করে নতুন মাত্রা। শহীদদের রক্ত তাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে প্রেরণা জোগায়। এর পরের ইতিহাস পর্যায়ক্রমিক আন্দোলনের। ৫৪-র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিজয়, আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-র স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই, ৬৯-র গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ ও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা লাভ করে বাঙালির স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ। বাঙালি মুক্ত হয় ঔপনিবেশিক শাসন-শোষণ থেকে। বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের প্রতিটি পর্যায়ে ৫২-র ভাষা আন্দোলন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। তাই একুশ আমাদের জাতীয় জীবনে এক অন্তহীন প্রেরণার উৎস। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চার দশক পেরিয়ে গেছে। এ দীর্ঘ সময়ে আমাদের অর্জন কী- এ প্রশ্নের উত্তরের মধ্যেই নিহিত রয়েছে আমরা একুশের শহীদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা দেখাতে পারছি কি-না। দেশ অনেকটাই এগিয়েছে বলা যায়। কিন্তু একুশে ফেব্রুয়ারির আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে যেসব তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, সেগুলোর কি নিষ্পত্তি করতে পেরেছি আমরা? বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে সত্য, কিন্তু তা কি চালু করা সম্ভব হয়েছে সর্বস্তরে? একুশের অন্যতম চেতনা ছিল- রাষ্ট্রীয় জীবনে অসাম্য, বৈষম্য, দুর্বলের ওপর সবলের আধিপত্য ইত্যাদি থাকবে না। এই মহৎ আকাক্সক্ষার বাস্তবায়ন ঘটেছে কি? বাঙালির ঐতিহ্য, কৃষ্টি, আবহমানকালের সংস্কৃতি ইত্যাদি সমুন্নত রাখার ঐক্যবদ্ধ সমন্বিত প্রচেষ্টা কি লক্ষ্য করা যাচ্ছে সমাজে? চিন্তার দিক থেকে আমরা হব আন্তর্জাতিক, কিন্তু পরিচয়ে থাকব বাঙালি- এই ধারায় কি যাপন করছি জীবন? এসব প্রশ্নের উত্তর সন্তোষজনক নয়। বিতর্ক রয়েছে, বিশ্বায়নের যুগে ভিন্ন সভ্যতা, ভিন্ন সংস্কৃতির যে অবাধ প্রবাহ, তাতে আমরা কতটা অথবা আদৌ অবগাহন করব কি-না? আকাশ সংস্কৃতির ফলে ভিনদেশের যেসব বিষয় আমাদের বিনোদিত করে, সেগুলো আমরা গ্রহণ করব কি-না? এ বিতর্কের মীমাংসা হতে পারে বিষয়টিকে আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচারের মাধ্যমে। প্রথমত, আমরা যেহেতু বাঙালি সেহেতু বাঙালিত্বকে সমুন্নত রাখতে হবে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র একটি জাতি হিসেবে নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য সমুন্নত রেখেই ভিন্ন সংস্কৃতি-কৃষ্টির সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া ঘটাতে হবে। ভাষার প্রশ্নে বলতে হয়- আমাদের জীবন চলবে মাতৃভাষার মাধ্যমে। তবে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য শিখতে হবে সাধ্যমতো অন্য ভাষাও। একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর অর্থ পৃথিবীর সব মাতৃভাষাই স্ব স্ব জাতির নিজস্ব ও অপরিবর্তনযোগ্য ভাষা। সব মাতৃ ও আঞ্চলিক ভাষাকেই সমান মর্যাদা দিয়ে সংরক্ষণের দায়িত্বও রয়েছে বিশ্ববাসীর।একুশের শহীদদের প্রতি জানাই আমাদের গভীর শ্রদ্ধা। শহীদ স্মৃতি অমর হোক।

বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে নবীগঞ্জের পাঁচ কবির কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

রাকিল হোসেন: বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে একসাথে নবীগঞ্জের পাঁচ কবির পাঁচ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। গত ১৫ফেব্র“য়ারি ২০১৬ইং সোমবার বিকেলে প্রকাশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। কবি কোকিল দাশ’র প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘সমুদ্র সফেন’, কবি কুতুব আফতাব’র পঞ্চম কাব্যগ্রন্থ ‘খুঁজি তোমার স্পর্শ’, কবি গোলাম কিবরিয়ার ‘প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জবাব একদিন দিতে হবে’, কবি আফতাব আল মাহমুদের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘নিসর্গের ভেলোসিটি’ ও কবি পৃথ্বীশ চক্রবর্ত্তীর তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘দুর্গম পথের যার্ত্রী’ এই পাঁচ কবির পাঁচ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন বাংলা একাডেমির পরিচালক ‘অমর একুশে গ্রন্থ মেলা ২০১৬’র সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক কবি রবীন্দ্র গোপ, কবি ও সাংবাদিক হাসান হাফিজ, কবি ও সাংবাদিক সৌমিত্র দেব, চিত্রশিল্পী গোলাম নবী পান্না প্রমুখ।

নবীগঞ্জ পৌর এলাকার কানাইপুর তরুন সংঘের উদ্যোগে সরস্বতী পূজা অনুষ্টিত

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ নবীগঞ্জ পৌর এলাকার কানাইপুর তরুন সংঘের উদ্যোগে বিভিন্ন অনুষ্টানমালার মধ্য দিয়ে গত শনিবার সরস্বতী পূজা অনুষ্টিত হয়েছে। হয়েছে। পুজানুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন কানাইপুর তরুন সংঘের কমিটির উপদেষ্টা জ্যোতিম্ময় ভট্টাচার্য্য কাঞ্চন, ধীরেন্দ্র চন্দ্র পাল নান্টু, সজল ভট্টাচার্য্য, প্রাণকৃষ্ণ পাল, গোপাল পাল, নেপাল পাল, গোপেশ চন্দ্র পাল শিবু, নীলু পাল, প্রনয় কুমার পাল সমর, দিপক পাল, প্রভাষক উত্তম কুমার পাল হিমেল, সুজিত পাল, ক্ষিতিশ পাল কালা । তরুন সংঘের দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন সভাপতি শ্যামল কুমার পাল, সহ-সভাপতি পংকজ পাল, সহ-সাধারন সম্পাদক জীবন ভট্টাচার্য্য, সাংগঠনিক সম্পাদক নিকছন পাল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পরিমল পাল রুপক, অর্থ সম্পাদক নারায়ন পাল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অজয় পাল, প্রচার সম্পাদক সৌরভ পাল, সহ-প্রচার সম্পাদক বিশ্বাজিত ভট্টাচার্য্য, মন্ডপ সজ্জা সম্পাদক প্রান্ত ভট্টাচার্য্য ছোটন, সহ-মন্ড সম্পাদক দেবপ্রিয় পাল অন্তু, সদস্য জয় পাল, কৃষ্ণ পাল, সৃজন পাল, অর্ঘ্য পাল, অন্তর পাল প্রমূখ। এতে প্রচুর দর্শনার্থী ও অতিথিদের সমাগম ঘটে।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net