শিরোনাম

রংবেরঙ

ভালোবাসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয় ১৪ ফেব্রুয়ারী: সেই থেকে  বিশ্ব ভালোবাসা দিবস

Matiar Chowdhury

মতিয়ার চৌধুরী

আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। দিনটি শুধুই ভালোবাসার, হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের গভীর সম্পর্কের। কারণ ভালোবাসার অর্থ যে গভীর দ্যোতনাময়। সখী ভালোবাসা কারে কয়- বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এভাবেই ভালোবাসার অর্থ খুঁজেছিলেন।  প্রিয় মানুষটিকে আরো বেশি কাছে পাওয়ার, আরো বেশি ভালোবাসার জানার ও বোঝার দিন। প্রেমিক-প্রেমিকারা মন খুলে বলবে তাদের হৃদয়ের কথা।

ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’। প্রেমপিয়াসী হৃদয়ের কাছে বিশেষ গুরুত্ব আছে এ দিনটির। বছরের এ দিনকে সারা বিশ্বের তরুণ-তরুণীরা বেছে নিয়েছে হৃদয়ের ব্যাকুল কথার কলি ফোটাতে। তরুণ-তরুণী শুধু নয়, নানা বয়সের মানুষের ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশ করার আনুষ্ঠানিক দিন আজ। এ ভালোবাসা যেমন মা-বাবার প্রতি সন্তানের, তেমনি মানুষে-মানুষে ভালোবাসাবাসির দিনও এটি। আমি বলি সারা বছর, সারা দিন ভালোবাসার। তবে আজকের এ দিনটি ভালোবাসা দিবস হিসেবে বেছে নিয়েছে মানুষ।’ বাংলাদেশে ভালোবাসা দিবস পালনের রীতি খুব বেশি দিনের নয়। মূলত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে দিবসটি ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।

বসন্তের প্রথম দিন গেল গতকাল, আজ ভালোবাসার দিন। দুটি দিনই তাদের মধ্যে আনন্দের, উৎসবের। শুধু তারুণ্যই নয়, প্রৌঢ় থেকে শুরু করে শিশু, কিশোর, মধ্যবয়সীদের মধ্যে ছড়িড়ে পড়ে এর আবহ। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস বা ভ্যালেন্টাইন ডে পালনের রীতিটা মূলত ইউরোপীয় ঘরানার। আমাদের বাঙালি সমাজে এই রীতিটা প্রবেশ করেছে এক যুগ হয়।এরও বহু আগে এ দিবস পালনের সূচনা হয়। তবে বাঙালি সংস্কৃতিতে বসন্ত উৎসব সেই অনাদিকাল থেকেই যাপিত হচ্ছে। সনাতন ধর্মাচারীরা দোলযাত্রা, বাসন্তী পূজা, হোলি উৎসবে প্রণয়কে মুখ্য করে রেখেছিল, তরুণ-তরুণীর ভালোবাসাকে আপন করেছিল। আর এখন ভ্যালেন্টাইন ডে বাংলাদেশ সহ বিশ্বব্যাপী তরুণ-তরুণীদের মধ্যে রূপ পায় এক মহোৎসবের।স্মৃতির পাতায় ভালোবাসার দিবস: ভালোবাসার গল্পটি শুরু হয়েছিল সেই ২৬৯ খ্রিস্টাব্দে। রোমের চিকিৎসক তরুণ যাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের চিকিৎসায় দৃষ্টি ফিরে পেয়েছিল নগর জেলারের দুহিতা। পরে দুজনের মধ্যে মন দেয়া-নেয়া হয়। সেই থেকে জন্ম নিয়েছিল তাদের ভালবাসার অমরগাঁথা। ভালবাসার অপরাধে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে ফাঁসিতে ঝুলতে হয় ফেব্রুয়ারির এই ১৪ তারিখে। তারপর এই ভালোবাসার স্বীকৃতি পেতে দুই শতাব্দী নীরবে-নিভৃতে পালন করতে হয়েছে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে। ৪৯৬ খ্রিস্টাব্দে রোমের রাজা পপ জেলুসিয়াস এই দিনটিকে ভ্যালেন্টাইন দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। গ্রিক ও রোমান উপকথার মতই ভালোবাসা দিবসের উৎপত্তি নিয়ে আরো গল্প-কাহিনী ছড়িয়ে আছে বিশ্বময়। কে এই ভ্যালেন্টাইন তাও রহস্যাবৃত।

ক্যাথলিক এনসাইক্লোপিডিয়া অনুসারে তিনজন সেন্ট ভ্যালেন্টাইন বা ভ্যালেন্টিনাসের সন্ধান পাওয়া যায়। তারা সবাই ১৪ ফেব্রুয়ারিতে আত্মদান করেন। দেশে দেশে ভালোবাসা দিবস: উনিশ শতকেই উত্তর আমেরিকায় ভ্যালেন্টাইন ডে পালিত হয় ব্রিটিশ অভিবাসীদের মাধ্যমে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক হারে ভ্যালেন্টাইন কার্ড বিনিময় শুরু হয় ১৮৪৭ সালে ম্যাসাসুয়েটসের অরকেস্টারে। ইতিহাসবিদদের ভাষায়, দুটি প্রাচীন রোমান প্রথা থেকে এই উৎসবের সূত্রপাত।চীনে ভালোবাসা প্রকাশের সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। ভ্যালেন্টাইন ডে পালনের আগে তারা বছরের দুই দিন পালন করতো ভালোবাসা দিবস। এখন তো চীনে ব্যাপক হারে দিবসটি পালিত হয়। পশ্চিমা ধাঁচে ১৪ ফেব্রুয়ারিই তারা ভালোবাসা দিবস পালন করে।ইউরোপের সব দেশেই মহাসমারোহে তরুণ-তরুণীরা এ দিবস পালন করে। মার্কিনিদের মধ্যে ভ্যালেন্টাইন ডে পালনের হার বেশি। জরিপে দেখা গেছে, চার মার্কিনির মধ্যে তিনজনই দিবসটি পালন করে। আমেরিকায় এ দিনে ১৬ কোটি কার্ড, ১৩ কোটি গোলাপ বিনিময় হয়। ভারতেও ভালোবাসা দিবস পালিত হয় উৎসবের আমেজে। তবে আমাদের দেশের মতো ভারতেও তরুণ-তরুণীরা এ দিবস পালন করে বেশি।

২নং পূর্ব বড় ভাকইর ইউনিয়নে প্রার্থী হচ্ছেন বৃটেন প্রবাসী দিদার আহমদ

ষ্টাফ রিপোর্টার: ২২মার্চ থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন, অন্যান্য সময়ের চেয়ে এবারের নির্বাচন একটু ব্যতিক্রমী কেননা এই নির্বাচন হবে দলীয় ব্যানারে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদেরও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মার্চের ২২ তারিখ থেকে শুরু করে নির্বাচন চলবে জুনের চার তারিখ পর্যন্ত। দেশে যেমন চলছে নির্বাচনী আমেজ এর ঢেউ লেগেছে বৃটেনেও। এই নির্বাচনে বৃটেন থেকে শতাধিক প্রার্থী অংশ নিচ্চেন এর অধিকাংশই বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের। বর্তমানে মন্ত্রীপরিষদ সহ পার্লামেন্ট, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রবাসীদের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে এটি বর্তমান সরকারের সুদুর প্রসারী পদক্ষেপ। ইতিমধ্যেই নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীদের অনেকেই দেশে গিয়ে পৌঁচেছেন আর কেউ বা এখানে বসেই গণসংযোগ করছেন। বিশেষ করে লন্ডনী অধ্যুসিত নবীগঞ্জ-বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর-সিলেট সদর,

 

u p election logoমৌলভীবাজার, রাজনগর, বিয়ানীবাজার-বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর-ছাতকও সুনামগঞ্জে প্রবাসী প্রার্থীর সংখ্যা বেশী। নবীগঞ্জে এই নির্বাচনে ২৩জন প্রবাসী প্রার্থী অংশ নিচ্ছেন লন্ডন থেকে। এর মধ্যে দীগলবাক, নবীগঞ্জ সদর, কুর্শি-পূবর্-বড়ভাকইর, পশ্চিম বড়ভাকইর,আউশকান্দি গজনাইপুর, দেবপাড়া ও বাউশা ইউনিয়নে লড়ছেন অধিক সংখ্যক প্রবাসী প্রার্থী। লন্ডনে নিয়মিত গণসংযোগ করছেন প্রার্থীরা। ২নং পূর্ব বড় ভাকইর ইউনিয়নে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তারন্যের প্রতিক বিশিষ্ট সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব দিদার আহমদ, বৃটেনে বসবাসরত সর্বস্থরের প্রবাসীরা তাঁকে সমর্থন দিয়ে দেশে পাঠাচ্ছেন। সাম্ভাব্য প্রার্থী দিদার আহমদ বলেন তিনি নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের উন্নয়নের পাশাপাশি দুর্নিতি ও প্রবাসীদের সমস্যার ব্যাপারে অগ্রাধিকার ভিত্তিকে কাজ করবেন।

ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একটি সুপরিচিত নাম অলি খান

নিজস্ব প্রতিবেদক: বৃটেনের বাঙ্গালী কমিউনিটিতে একটি সুপরিচিত নাম অলি খান, এক নামে সবাই চেনে কারি কিং অলি খান হিসেবে। একজন আন্তর্জাতিক সেলেবরিটি শেফ হিসেবে যেমন রয়েছে তার সুখ্যাতি ঠিক তেমনি একজন কমিউনিটি লিডার এবং সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও রয়েছে প্রচুর সুনাম।
এক্ষেত্রে তিনি একের পর এক এক সুনাম বয়ে আনছেন নন্দিত হচ্ছেন দেশে বিদেশে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিচ্ছেন বাংলাদেশকে। অলি খান চাটার ইন্সটিটিউট অব এনভারমেন্টাল হ্যাল্থ (সি-আই-ই-এইচ-এস) এন্ড এফএসএ-এর আয়োজনে ২০০২ এবং ২০০৩ সালে কারি শেফ কম্পিটিশনে পর পর দুবার বিজয়ী হন। ২০০৫, ২০০৬ এবং ২০০৮ সালে ভারত-বাংলাদেশে ব্রিটিশ বাংলাদেশী ফিউশন ফুড ফ্যাষ্টিভ্যালে যোগদেন । তার রান্না করা খাবার পরিবেশন করে খ্যাতি লাভ করেন।
‘সুরমা টেকওয়ে এবং স্পাইস রোজ এক্সিকিউট ইন্ডিয়ান কুইজিন নামে তার মালিকানা ও পরিচালনাধীন প্রতিষ্টান দুটি বিভিন্ন সময় এওয়ার্ড লাভ করে ্এবং ফুড হাইজিং রেইটিংয়ে ফাইভ ষ্টারে ভুষিত হয়। এর মাধ্যমে তিনি নিজে যেমন বিজয়ের গৌরব অর্জন করেন তেমনি তার প্রতিষ্টান দুটিও পায় শ্রেষ্টত্বের মর্যাদা।

oli khan
২০০৩ সালে হাডফোর্ড শায়ার হ্যারলন্ড পত্রিকা ‘‘ অলিখান এস দি কারি কিং‘‘ শিরুনামে ফলাও করে প্রতিবেদন প্রচার করে।
অলি খান মাত্র ১৭ বছর বয়সে লুটনের বার্নফিল্ড কলেজে বিজনেন্স ম্যানেজমেন্ট অধ্যয়ন কালীন সময় ১৯৯০ সালে প্রথম সেন্ট আলবান্স শহরের হার্টফিল্ড রোডে চালু করেন তান্দুরী নাইট নামের কারি হাউস। অধ্যয়ন ও ব্যবসা চলতে থাকে একই সাথে। ১৯৯৬ সালে অলি খান কম্পিউটার লিটারেসি (আইটি) কোর্স সমাপ্ত করেন । ২০০২সালে ফুড হাইজনের উপর এডভান্স সার্টিফিকেট লাভ করেন একই সাথে ফুড বিষয়ক অন্যান্য বিষয়ে সার্টিফিকেট অর্জন করেন। ২০০৮ সালে তিনি মাল্টিস্কিল ফুড প্রসেজিং কোকিং এবং ম্যানেজমেন্টের উপর ডিপ্লমা সমাপ্ত করেন।
বাংলাদেশ ক্যাটারারর্স এসোসিয়েশন ইউকে (বিসিএ) গোল্ডেন জুবিলী সেলেবরেশনে বেষ্ট ক্যাটারারর্স অফ দি ইয়ার ২০১০ প্রদান করে অলি খানকে । ২০১১ সালে অলি খান বিসিএ‘র মাধ্যমে শেফ অবদি ইয়ার এওয়ার্ড কম্পিটিশন চালু করেন এর মাধ্যমে বৃটেনের শেফদের যোগ্যতার ভিত্তিতে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়, যা এর আগে ছিলনা অলি খান এটি শুরু করায় আমাদের কমিউনিটি থেকে প্রতি বছর নতুন যোগ্য শেফ বেরিয়ে আসছেন।
অলিখান ২০০৯ সালে লুটন বারা কাউন্সিল আয়োজিত টেইষ্ট অব লুটন ক্যালচারাল ফুড ফ্যাষ্টিভেলে অংশ নিয়ে ব্রিটিশ বাঙ্গালীর জন্যে সম্মান বয়ে আনেন এতে সাত হাজারেরও বেশী মানুষ এই ফ্যাষ্টিভেল উপভোগ করেন। এই ফ্যাষ্টিভেল লুটনের মেয়র, কয়েকজন এমপি ও লর্ড সভার সদস্যদের সাথে অলি খান আনুষ্টানিক ভাবে উদ্ভোধন করেন ফ্যাষ্টিভ্যাল।
অলি খান শুধূ বৃটেনের ব্রিটিশ বাঙ্গালীদের প্রাচীনতম সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটারারর্স এসোসিয়েশন (বিসিএ) এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্টই নন এর বাইরেও একাধিক সামাজিক সাংস্কৃতিক, চ্যারিটি ও ব্যবসায়িক সংগঠনের মাধ্যমে কমিউনিটির কল্যানে কাজ করে যাচ্ছেন। চেয়ারম্যান অলিস ফাউন্ডেশন, চেয়ারম্যান সফট ইনভেষ্টমেন্ট গ্রুপ, প্রেসিডেন্ট বিসিএ ইষ্ট অব ইংল্যান্ড রিজিওন, ফাউন্ডার এন্ড সেক্রেটারী জেনারেল মৌলভীবাজার ডিষ্ট্রিক কাউন্সিল ইউকে ( এমডিসি) ফাউন্ডার ও সেক্রেটারী জেনারেল ব্রিটিশ বাংলাদেশ বিজনেন্স ফোরাম (বিবিবিএফ) ইউকে, ফাউন্ডেশন মেম্বার লুটন এন্ড ডান্সটেবল এনএইচএস হসপিটাল ট্রাষ্ট, লাইফ মেম্বার লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব, কমিউনিটি গভর্নস ওয়ালেনউইক ইনফেন্ট এন্ড নার্সারী স্কুল, মেম্বার ব্রিটিশ রিজনাল ক্লাব, মেম্বার অফ দি ফেলো অফ দি রয়েল সোসাইটি অফ আর্টস।
অলি খান বৃটেনে ব্রিটিশ বাংলাদেশীদের ঐতিহ্যের স্মারক কারি ইন্ডাষ্টির সমস্যা সামাধন কল্পে কাজ করে যাচ্ছেন বিশেষ করে রেষ্টুরেন্ট গুলোতে ষ্টাফ সংকট, ভ্যাট ও ইমিগেশন রেইড নিয়ে এমপি, মিনিষ্টার, পুলিশ প্রশাসন ও হাউজ অব কমন্সে একাধিক বৈঠক করে সমস্যা গুলো তুলে ধরছেন, সেই সাথে তার কর্মততপরতা সম্পর্কে বিট্রিশ মিডিয়া সহ বিশ্ব মিডিয়ায় তার ইন্টারভিউ প্রচার করেছে। এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হলো দি ইকনমিষ্ট, ফিনালসিয়াল টাইমস (এফটি), দি গার্ডিয়ান, দি সান অন সানডে, সানডে মিমর, দি অবজারভারব, দি গ্লোবাল পোষ্ট, ডেইলী মেইল, সিবিসি (কানাডিয়ান বর্ড কাষ্টিং কর্পোরেশন) বিসিসি টিভি, স্কাই টিভি, এলবিসি রেডিও, ইউএস এটুডে, দি টেলিগ্রাফ, এশিয়ান ভয়েস, টিআরটি ্িটভি, লুটন অন সানডে, দি কমেট, দি হসপিটালিটি, ইয়র্ক শায়ার পোষ্ট, সাটন গার্ডিয়ান,কেমব্রিজ নিউজ উল্লেখ যোগ্য। এছাড়া বাংলাদেশের মানবজমিন, প্রথম আলো, একাত্তর টিভি, এসএটিভি ,আরটি ও সময় টিভিতেতে তার ইন্টারভিউ ফলাও করে প্রচার করা হয়।
একজন সেলেবরিটি শেফ হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়ে বাঙ্গালী তথা ব্রিটিশ কমিউনিটির জন্যে সম্মান বয়ে এনেছেন অলি খান। দীর্ঘ দুই যুগেরও বেশী সময় ধরে সুস্বাদূ এবং মুখরোচক খাবার তৈরী করে তিনি এস্বীকৃতি লাভ করেন। এছাড়া একজন শেফ হিসেবে বিভিন্ন কলেজে নিয়মিত ষ্টুডেন্ট শেফদের একাডেমিক ট্রেনিং দিয়ে থাকেন, এবং বিভিন্ন কলেজ এবং কাউন্সিলে শেফ কম্পিটিশনে জাজ হিসেবে দায়িত্ব পারন করে আসছেন। অলিখান শুধু একজন ব্যবসায়ী এবং কমিউনিটি লিডারই নন বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক উন্নূয়নেও রয়েছে তার অবদান। মি: খান মাত্র ষোল বছর বয়সে পরিবারের সাথে বৃটেনে আসেন। পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করেন ইংল্যান্ডের বেডফোর্ড শায়ার এলাকায়। অলি খানের জন্ম মৌলভী বাজারের রাজনগর উপজেলার পাঠান টোলা গ্রামের ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারে, তার পূর্বপুরুষেরা হলেন ঈসা খার উত্তরসূরী খাজা ওসমানের বংশধর। তার পিতা মরহুম আলহাজ্ব আইয়ব আলী খানও ছিলেন একজন সমাজ হিতৈষী মানুষ , ১৯৭১ বৃটেনে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত আদায়ে প্রতিটি মিছিল মিটিংয়ে অংশ গ্রহন ছাড়াও যুদ্ধফান্ডে প্রচুর অর্থ দান করেন। । এলাকায় একটি বুনেদি সম্ভ্রান্ত পাঠান পরিবার হিসেবে খান পরিবারের সুখ্যাতি রয়েছে। আমরা অলিখানের সুস্বাস্থ্য ও সফলতা কামনা করি।

অবৈধ অস্ত্রসহ ধরা পড়লেন মোশাররফ করিম !

সম্প্রতি জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম অবৈধ অস্ত্রসহ পুলিশের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশের কাছে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে নানা তথ্য প্রকাশ করেছেন। এক ছাত্রনেতার কাছ থেকে তিনি এ অস্ত্র সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু কেন তার মতো একজন জনপ্রিয় অভিনেতা এমন করলেন? এমনই প্রশ্নের উত্তরে বেরিয়ে আসে গ্রামের সহজ-সরল এক ছাত্রের জীবন কাহিনী। মোশাররফ করিমের কাছে অবৈধ অস্ত্র এটি আসলে কোনো সত্য ঘটনা নয়। সম্প্রতি ‘রক’ নামে একটি টেলিফিল্মে তিনি এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। টেলিফিল্মটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মাইদুল রাকিব। টেলিফিল্মের কাহিনীতে দেখা যাবে, মোশাররফ করিম ঢাকায় টাকার অভাবে মেসে থাকতে পারেন না। বাঁচার তাগিদে তিনি একটি খেলনা অস্ত্র নিয়ে সবাইকে ভয় দেখান। নিজেই নামের আগে যোগ করেন রক। তিনি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রনেতা রক সোহেল নামে পরিচয় দেন। তার অস্ত্রের ভয়ে সবাই আতংকে থাকে। কিন্তু এ খেলনা অস্ত্রই একদিন আসল অস্ত্রে পরিণত হয়। এ টেলিফিল্ম নিয়ে অভিনেতা মোশাররফ করিম বলেন, ‘অনেকদিন পর ভিন্ন একটি গল্পে অভিনয় করলাম। কেন মানুষ সন্ত্রাসী হয়, কেন বা ভুয়া কেসে ফেঁসে যায়, আবার সততার যে মূল্য আছে সবকিছু সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আশা করি দর্শকরা টেলিফিল্মটি উপভোগ করবেন।’ এ টেলিফিল্মে মোশাররফ করিমের বিপরীতে অভিনয় করেছেন আনিকা কবির শখ। শিগগিরই যে কোনো একটি চ্যানেলে টেলিফিল্মটি প্রচার হবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।

জন্মদিনে ভালোবাসায় সিক্ত সুলতান শরীফ—–সরওয়ার কবীর

বিলেতে বাঙালি কারো জন্মদিনকে সামনে রেখে এমন আয়োজন বিরল, পুরোটা আয়োজন জুড়ে ছিলো হৃদয়জ শ্রদ্ধার পরশ। প্রবীণ রাজনৈতিক, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব সুলতান মাহমুদ শরীফের বর্ণাঢ্য জীবনের বিপুল অর্জনের কৃতজ্ঞতার স্মারক হয়ে থাকলো ভালোবাসায় সিক্ত এই জন্মোৎসব। পূর্ব লন্ডনের মন্টিফিউরি সেন্টারে ২৬জানুয়ারী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর (সুলতান শরীফের) দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সহচর, অনুজ, গুণমুগ্ধগণ এই সারপ্রাইজ জন্মদিনের পার্টির আয়োজন করেন। অর্থাৎ জন্মদিন পালনের আয়োজন সম্পর্কে মোটেও ওয়াকিবহাল ছিলেন না সুলতান শরীফ। এদিন তিনি একটি রাজনৈতিক সমাবেশে অংশগ্রহণের জন্য মন্টিফিউরি সেন্টারে উপস্থিত হয়ে নিজের জন্মোৎসবের এমন ঘটা আয়োজন দেখে অভিভূত হন। অভিভূত হবারই কথা। কেননা, পুরোটা হলজুড়ে তিল ধারণের জায়গা ছিলো না। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকেই এসেছেন জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে। এই তালিকায় রয়েছেন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, দলীয় অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, শিল্পীসহ বিলেতের সব অঙ্গনের প্রতিনিধিরা। একজন মানুষের জন্মদিনে এর চাইতে বড় উপহার আর কিছুই হতে পারে না। সুলতান মাহমুদ শরীফ যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি। মা-মাটি-দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে রাজনীতির মাঠে তিনি সরব ৫০ বছরের অধিক সময়। সুলতান মাহমুদ শরীফ ১৯৪১ সালে বরিশালের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স্কুল জীবনেই তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন ইকবাল হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ১৯৬৩ সালে তিনি পড়ালেখার জন্য লন্ডনে আসেন। লন্ডনে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনে একজন ছাত্রনেতা হিসেবে সামনের কাতারে ছিলেন।

 

3 24 ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের একজন দক্ষ সংগঠক হিসেবে তাঁর ভূমিকা ছিলো অনন্য। যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাঙালিদের নিয়ে বিশ্ব জনমত গড়ে তুলতে আরোও অনেকের সাথে তিনি ছিলেন সামনের কাতারে। লন্ডন থেকে বাংলাদেশে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। সুলতান শরীফ বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্যের ও দায়িত্ব পালন করেন। যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন তিনি। বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অত্যন্ত প্রিয় এবং কাছের লোক ছিলেন সুলতান শরীফ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে তাঁর অবদান অনেক। ২০১১ সাল থেকে তিনি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ব্রিটেনে বাঙালি কমিউনটির একজন অভিভাবক হিসেবে তাকে সবসময় পাশে পেয়েছে কমিউনিটি। মা, মাটি এবং মানুষের জন্য তাঁর সারাটি জীবন উৎসর্গ করেছেন। বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ অর্জনগুলোর সাথে সুলতান মাহমুদ শরীফ ওতপ্রেতভাবে জড়িত। বিলেতে বাঙালি কমিউনটির প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে তিনি একজন দিক নির্দেশক এবং কান্ডারী হিসেবে আলোর পথ দেখিয়ে যাচ্চেছন। দেশ ও জাতির প্রতিটি আন্দোলনে নিজেকে নিয়েজিত রেখেছেন। জাতির জনকের কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গঠণের কাজে আজও তিনি সর্বদা নিজেকে সক্রিয় রেখেছেন। তার সম্পর্কে প্রখ্যাত লেখক-সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরীর মন্তব্য হচ্ছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে অনেক বাধা বিঘœ অতিক্রম করতে হয়েছে। এই সংগ্রাম থেকে অনেকে ছিটকে পড়েছেন, কিন্তু সুলতান শরীফ কোন কারনেই ছিটকে পড়েননি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এবং আওয়ামী লীগের সকল আন্দোলনে অবিচল রয়েছেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে এখনও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় এবং এই বয়সেও সকল বাধার মুখে তার সংগ্রাম ও সাধনার পতাকা উড্ডীন রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাস্তবায়নই তার রাজনৈতিক সংগ্রামের একমাত্র লক্ষ্য এবং তার জীবনের একমাত্র স্বপ্ন, আর তিনি এই স্বপ্ন পূরণের পথে এখনও একজন নির্ভীক অভিযাত্রী। সংস্কৃতিকর্মী সৈয়দা রেখা ফারুকের সঞ্চালনায় জন্মদিনের অনুষ্ঠানে প্রায় অর্ধ শতাধিক সংগঠনের পক্ষ থেকে সুলতান শরীফকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই কবিতা আবৃত্তি করেন টিভি প্রেজেন্টার উর্মি মাজহার। দেশাত্ববোধক গান গেয়ে শোনান কন্ঠশিল্পী আলাউর। ফুলেল শুভেচ্ছা জানান বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষে সায়েম আহমদ ও মনিরুল ইসলাম কবির, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, সহ সভাপতি সৈয়দ মোজাম্মেল আলী, শাহ আজিজুর রহমান ও হরমুজ আলী, যুগ্ম সম্পাদক নঈম উদ্দিন রিয়াজ, মারুফ আহমদ চৌধুরী ও আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক শাহ শামীম আহমেদ, প্রবাস কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আনসারুল হক, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক এস এম সুজন মিয়া এবং জনসংগযোগ সম্পাদক রবিন পাল। অন্যান্যদের মধ্যে শুভ কামনা জ্ঞাপন করেন যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ বিমান ব্র্রিটেনের কান্ট্রি ম্যানেজার শফিকুল হক, সাপ্তাহিক জনমতের প্রধান সম্পাদক নাহাস পাশা, সাপ্তাহিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল আহমদ, চ্যানেল আই ইউরোপের এমডি রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী শুয়েব, এনটিভি ইউকের চেয়ারম্যান মোস্তফা সারওয়ার বাবু, বেতার বাংলার সিইও নাজিম চৌধুরী, চ্যানেল এস এর চীফ রিপোর্টার মুহাম্মদ জুবায়ের, বাংলা টিভির মিলটন রহমান, জনমেতর নির্বাহী সম্পাদক সাঈম চৌধুরী, প্রগ্রেসিভ ফোরামের ড. মোখলেসুর রহমান, হক একাউন্টেন্টের পারভীন হক ও ফারজানা হক, টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক লীডার হেলাল আববাস কাউন্সিলার রহিমা আক্তার, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম ওবিই, আওয়ামী আইনজীবি পরিষদের ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন আহমদসহ নেতৃবৃন্দ, ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিদ্যুত, বেতার বাংলার পরিচালক মেহের আহমদ নিশি, ব্যবসায় এম এ আজিজ, মানবাধিকার কর্মী আনসার আহমদ উল্লাহ, লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল হক লালা মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক আলতাফুর রহমান মোজাহিদের নেতৃতৃম্বব মহানগর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃ, মহিলা আওয়ামী লীগের খালেদা কোরশেী, মসুলিম শাস বনি, হোসেন আরা মতিনের নেতৃতে মহিলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ, যুব মহিলা লীগের সাজিয়া স্নিগ্ধা, যুক্তরাজ্য যুবলীগের সভাপতি ফখরুল ইসলাম মধু ও সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহমদের নেতৃত্বে যুবলীগ নেতৃবৃন্দ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের ফয়েজ খান তওহিদ ও আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে সেচ্ছাসেবকলীগ, নিউহাম আওয়ামী লীগের সভাপতি মোবারক আলী ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির মুরাদ, হিথরো আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম আহমদ ও আঙ্গুর আলী, রেইনবো ফিল্মের মোস্তফা কামাল, প্রজন্ম ৭১ এর বাবুল আহমদ, শ্রমিকলীগের মো: ইকবাল হুসেইন, আওয়ামী লীগ নেতা তাজির উদ্দিন মান্নান, আঙ্গুর মিয়া, মজুমদার মিয়া, আমিনুল হক জিলু, বাবুল খান, আশরাফুল ইসলাম, সৈয়দ তারেক, এম এ আলী, কামরুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম অকিব, শামস রঞ্জন, আনোয়ারুল ইসলাম, রফিক মিয়া, শিপন কোরেশী, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির জামাল খান, কর্মজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাসির, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের প্রসেনজিত দত্ত, যুক্তরাজ্য তরুণ লীগের সভাপতি জুবায়ের আহমদ, যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের সহ সভাপতি সারওয়ার কবির, সাধারণ সম্পাদক সজীব ভূইয়া, যুগ্ম সম্পাদক ফখরুল কামাল জুয়েল, নারী নেত্রী অজন্তা দেব রায়, প্রমূখ। অনুষ্ঠানে গান গেয়ে শোনান শাহনাজ সুমি, বাপ্পিতা। সবশেষে কেক কাটার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্ত ঘটে।

জাতীয় খেলা কাবাডির বিশ্বকাপ আয়োজক দেশ হোক বাংলাদেশ

সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা, ষড়ঋতুর নয়নাভিরাম একটি দেশ, আমাদের বাংলাদেশ। নদীমাতৃক এই দেশের অধিকাংশ মানুষ বসবাস করে গ্রামে। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল এবং এই অর্থনীতির সম্পূর্ণ কোনো বিকল্প ব্যবস্থা অদ্যাবধি গড়ে উঠে নাই। এই জন্য কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির গুরুত্ব এখানে আবহমানকাল থেকেই অত্যন্ত বেশী। এদেশের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনায় রচিত যে মহাকাব্য গ্রামীণ জীবনকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত রয়েছে চিরকাল। আজও বাংলায় ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে আমাদের সকলের চেহারায়, চালচলনে ও স্বভাবে গ্রাম্য জীবনের ছাপ ও প্রভাব সর্বত্র লক্ষণীয়। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, গ্রামীণ লোকায়ত জীবন ব্যবস্থা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি এই জাতির লক্ষ্য নির্ধারণে অমূল্য পাথেয়স্বরূপ। গার্মেন্টসসহ নানা শিল্প ও প্রবাসীদের বৈদেশিক আয়ে দ্রুত এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ তবুও বাঙালি গর্ববোধ করে কৃষিপ্রধান একটি দেশ হিসেবে নিজেদেরকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচয় দিতে।
আদিকাল থেকে বাংলার কিষান-কিষাণী ফসলের মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রমের পর দেহে প্রাণ সৃষ্টি করতে বিনোদনে চর্চা করে আসছে লোকজ ক্রীড়া। ছয়টি ঋতুর আবর্তে সম্পূর্ণভাবে প্রভাবিত বাংলার জীবন ও পরিবেশ। একসময় এখানে পরিস্থিতি ও অবসর মুহুর্তকে আনন্দময় করে তুলতে নানারকম খেলাধুলার সৃষ্টি হয়েছে। দেহ ও মনের ধরণ অনুযায়ী এবং সময়ের প্রতি খেয়াল রেখে এই সকল গ্রামীণ খেলা যা লোক-ক্রীড়া, লোকজ-ক্রীড়া বা লোকায়ত-ক্রীড়া নামে পরিচিত উৎপত্তি, বিকাশ, আয়োজন ও লালন-পালন হয়ে আসছে সেই হাজার বছর আগে থেকেই। গ্রাম বাংলার লোকায়ত খেলাগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনও বটে। কত রকমের যে লোকজ খেলা বাংলায় প্রচলিত ছিল, তার কোনো হিসেব নেই। এই সকল ক্রীড়ার মধ্যে সর্বপ্রাচীন এবং সব থেকে জনপ্রিয় হলো আমাদের জাতীয় খেলা হা-ডু-ডু বা কাবাডি। যা বিশ্ববাসীর কাছে বলার মতো গর্বের আরেকটি বিষয়। কাবাডির জনপ্রিয়তা এখানেই সীমাবদ্ধ নয় বরং বিশ্বের অনেক দেশে এর জনপ্রিয়তা রয়েছে তুঙ্গে। আমাদের জাতীয় মেলবন্ধন, ভালবাসা ও সম্মানের সাথে মিশে আছে হা-ডু-ডু খেলা। বিশে^ এর নাম ” ঐঙখউওঘএ ঙঋ ইজঊঅঞঐ ” বা “দমের খেলা”, কখনও একে “এঅগঊ ঙঋ ঞঐঊ গঅঝঝঊঝ” বা “গণ-মানুষের খেলা” নামেও বর্তমানে পরিচিতি রয়েছে। এর সহজ নিয়ম কানুন, জনপ্রিয়তা ও সরলতা গ্রাম্য লোকের আপন বিধায় একে গ্রাম বাংলার খেলাও বলা হয়ে থাকে।
ধারণা করা হয়, মানুষ প্রাগৈতিহাসিক যুগে যখন খাদ্য সংগ্রহের পাশাপাশি একক বা দলীয়ভাবে শিকারে যেত অথবা অন্য কোন বন্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে ফসল বা নিজেকে রক্ষা করার কৌশল শিখতে গিয়ে কাবাডি খেলার সূচনা করেছিল। এতে কোন দ্বিমত নাই, বিশ্বের সর্বপ্রাচীন ও সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি আমাদের জাতীয় খেলা কাবাডি বা হা-ডু-ডু। এই বিষয়ে ঐতিহাসিকদের কাছে শক্ত প্রমান রয়েছে দাবী করা হয়, কাবাডির বয়স কমপক্ষে চার হাজার বছর। বর্তমানে এই খেলা জাপান, কোরিয়া, চায়না, কানাডা, বৃটেন সহ আফ্রিকার অনেক দেশেও নিয়মিত হয়ে থাকে। আমাদের কাবাডি একেক দেশে একেক নামে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানে কাবাডি কিন্তু নেপালে ডুডু, শ্রীলংকায় গুডু-গুডু, থাইল্যান্ডে থীকাব ও মালয়েশিয়ায় ছি-গুডু-গুডু নামেই বেশী পরিচিত। থাইল্যান্ডে এটি উৎসবের অংশ এবং ইন্দোনেশীয়ায় বীচ কাবাডির জনপ্রিয়তা অত্যন্ত বেশী।
বৃটিশ আগমনে এ অঞ্চলে বিভিন্ন বিদেশী খেলাধুলার প্রচলন ঘটে। বিনোদন হিসেবে তাদের নিজস্ব খেলাধুলা এ অঞ্চলে আয়োজন করতে থকে। ভারতবর্ষে ১৯১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় কাবাডি খেলা। ১৯২৩ সালে ভারতের একজন খ্যাতনামা বাঙালী, সমাজসেবী এবং শিক্ষক কলকাতা ও তৎকালীন পূর্ব বাংলায় হা-ডু–ডু খেলার প্রচলন ও প্রসারে সমগ্র বাংলার তরুণদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। কাবাডির প্রতি সারা বাংলার মানুষের ভালবাসা ও ব্যাপক জনপ্রিয়তার ব্যাপারটি ভালভাবে নেয়নি বৃটিশ সরকার। ১৯৩০ সালে বৃটিশরাজের এক আদেশ বলে কাবাডি খেলা ভারতবর্ষে নিষিদ্ধ করা হয়। বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন তৎকালীন বাঙালি জাতীয়তাবাদী নেতারা। শুধুমাত্র বাঙালির প্রাণের এই হা-ডু-ডু খেলাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন। মহাত্মা গান্ধী, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু বাঙালির এই আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন প্রদান করেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ছিলেন আন্দোলনের পক্ষে সোচ্চার। এক পর্যায়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকারে বাধ্য হয় বৃটিশ সরকার। মাত্র এক বছরের মাথায় ১৯৩১ সালে কাবাডি খেলার ওপর থেকে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। শুরু হয় সারা বাংলায় আনন্দ ও উল্লাস। ভারতে ১৯৩৮ সালে অলিম্পিক এসোসিয়েশন যে সকল খেলার আয়োজন করে, তাতেও অন্তর্ভুক্ত ছিল বাংলার কাবাডি খেলা। বৃটিশরা ভারতবর্ষ ছেড়ে চলে যাবার আগে এভাবেই বাংলার এই লোকজ ক্রীড়াটি সমগ্র ভারতবর্ষসহ সারা বিশ্বের সবার নজরে আসে, সকলের কাছে গ্রহনযোগ্যতা ও মর্যাদার আসন লাভ করে।
বাঙালি জাতীয়তাবাদের চরম উন্মেষ ঘটে মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে লাখো শহীদের রক্তে। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাক হানাদারদের পরাজিত করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের একক একটি রাষ্ট্র হিসেবে পরিপূর্ণতা লাভ করে বাংলাদেশ। ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান বাঙালির ঐতিহাসিক হা-ডু-ডু খেলাটিকে বাংলাদেশের জাতীয় খেলাতে উন্নীত করেন। তখন থেকেই হা-ডু-ডু খেলা কাবাডি নামকরন হয়ে আমাদের জাতীয় জীবনে পথ চলা শুরু করে। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পূর্ণগঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ক্রীড়াঙ্গনে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয়। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে প্রথম আন্তর্জাতিক কাবাডি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় দল বাংলাদেশে এসে ঢাকা, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, যশোর, ফরিদপুর ও কুমিল্লা জেলা দলগুলোর সঙ্গে খেলায় অংশগ্রহন করে। ঐতিহ্যগতভাবে কৃষক পরিবারের সন্তান বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন তাতে অন্তর্ভুক্ত ছিল কৃষকের প্রাণের খেলা কাবাডি। কিন্তু ৭৫’ সালে বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নিহত হলে তাঁর এতদিনের কৃষিনির্ভর সোনার বাংলা গড়ার লালিত স্বপ্ন অংকুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে বৃহত্তর ফরিদপুরে কাবাডি খেলার প্রথম সূচনা হয় বলে জানা যায় আবার অনেকে বলেন হা-ডু-ডু খেলা প্রথম হয় বরিশালে। সেখান থেকেই সর্বত্র খেলাটি প্রচলিত হয়ে পড়ে। একসময় বাংলার অনেক অঞ্চলে এ ক্রীড়াটিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হতো নান রকম উৎসবের আমেজ। গ্রামীন বিত্তবান সমাজ এ আয়োজনের পৃষ্ঠপোষক হতেন। পুরস্কার হিসেবে ঘোড়া, গরু, ছাগলসহ নানা রকম নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য দেয়া হতো। পরবর্তীতে বাংলার জমিদারগণ এতে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে শুরু করেন। তবে ভারতীয় অনেক ঐতিহাসিক দাবী করেন, কাবাডি খেলার মূল উৎপত্তি স্থল পাঞ্জাব। এটি আরম্ভ হয় তামিলনাড়ুতে- ভারতবর্ষে অনেক প্রচলিত আরেকটি ধারণা। কাবাডি খেলার উৎপত্তি সম্পর্কে হিন্দু শাস্ত্রীয় একটি মত হচ্ছে, মহাভারতে বর্ণিত অভিমন্যু কর্ত্তৃক কৌরব সৈন্যদের চক্রব্যুহ ভেদ করার ব্যর্থ চেষ্টার ঘটনা থেকে ধারণা নিয়ে এই ক্রীড়ার সৃষ্টি হয়। তাদের মাঝে আরেকটি মত বলে, তা¤্রপত্র অনুসারে হিন্দু ভগবান কৃষ্ণ বিনোদন ও রোমাঞ্চকর অনুভূতির জন্য একরকম একটি লীলা করতেন, যা অনেকটা কাবাডির অনুরূপ। এদিকে বৌদ্ধ সাহিত্যে লেখা আছে, গৌতম বুদ্ধ সুস্থ দেহ, মন এবং দৃঢ় চরিত্র গঠনে তরুণ বয়সে কাবাডি খেলতেন। এখানকার মুসলিম অনেক ঐতিহাসিকগন বলেন যে, সমগ্র ভারতবর্ষের উন্নত জীবনব্যবস্থা, বিনোদন ও সংস্কৃতি এসেছে মূলতঃ আর্যদের মাধ্যমে ভারতবর্ষে। অতএব নিঃশন্দেহে বলা যায় কিভাবে সকল ভেদাভেদ ভুলে এই খেলাটি সকল গণ-মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়তা ও আস্থা অর্জন করেছিল। বিশ্বে একসময় বাংলাদেশই ছিল শ্রেষ্ঠ শক্তিধর দেশ। কিন্তু সামান্য সময়ের ব্যবধানে কাবাডি খেলায় এই শ্রেষ্টত্ব তুলে নিয়েছে প্রতিবেশি দেশ ভারত। বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রশক্তি ইরান, পাকিস্তান, জাপানের কাছেও অনেকসময় আমাদের বাহিনীগুলো অনবরত মার খাচ্ছে।
কাবাডি একটি দলীয় খেলা যেখানে খরচ বলতে কিছু নেই এবং সম্পূর্ণ অনাড়ম্বর বলে আয়োজনেরও খুব বেশী প্রয়োজন নেই। তবুও যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন জাতীয় বাজেটে তা সংকুলান ছাড়া বাংলাদেশ কাবাডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান কখনোই রাখতে সম্ভব হবে না। অন্যদিকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনই জাতীয় ক্রীড়া কাবাডির অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা আবশ্যক। একই সাথে গ্রাম বাংলার ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আবহমান বাংলার লোকক্রীড়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখাও প্রয়োজন। বাংলার উন্মুক্ত মাঠ-ঘাট-প্রান্তরে, স্কুল-কলেজে, বাড়ির আঙিনায় এমনকি সামান্য এক চিলতে জমি পেলেও কাবাডির আয়োজন করা যায়। তবে এই খেলায় সফলতার পূর্বশর্ত শারীরিক ও মানসিক যোগ্যতা, পেশীর ক্ষিপ্রতা, ফুসফুসের শক্তি ও সহনশীলতা, দ্রুত চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রয়োগের সামর্থ; সর্বোপরি প্রতিপক্ষের কৌশল ও প্রতিটি মনোভাব অনুধাবনের যোগ্যতা।
বাঙালির জাতীয় খেলা কাবাডি নিয়ে সরকারী ও বেসরকারী মনোভাব কখনও পরিস্কার ছিল না এবং একশ্রেনীর মানুষের মনোভাব আজও পরিচ্ছন্ন নয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি স্বাধীনতার পর থেকে আজও এই বিষয়ে এই জাতি চরম উদাসীনতা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আমাদের জাতীয় কোন বিষয় এত অবহেলার স্বীকার হয় নাই যতটুকু হতে হয়েছে জাতীয় খেলা কাবাডিকে। শাপলা থেকে দোয়েল চত্ত্বর এমনকি সুন্দরবনের বাঘ পর্যন্ত ঢাকা শহরে স্থান করে নিয়েছে কিন্তু দেশের কোথাও বাঙালির কাবাডির কোন স্থান হয় নাই। ঢাকার ষ্টেডিয়াম পাড়ায় যতটুকু না দিলেই নয় শান্তনাস্বরূপ এমন একটি ছোট্ট ষ্টেডিয়াম তৈরী করে দেয়া হয়েছে তাও একেবারে শেষ মাথায় অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালে। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই সরকারি ভূমিকা ও পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এখন এগিয়ে আসা দরকার। অন্যদিকে মিডিয়ার কাছে প্রত্যাশা এখন, কৃষি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের আমাদের জাতীয় খেলাকে নিয়ে বাংলাদেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর প্রচার ও প্রচারণা চালাতে তারা স্ব-উদ্যোগী হবেন। কিছুদিন আগে বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতে স্বনামধন্য জাতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা এবং নির্মাতা থেকে শুরু করে সেদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার পর্যন্ত কাবাডি খেলার আয়োজনে এগিয়ে আসলে তাবৎ বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গনে এর ভিন্ন বার্তা ও ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। সমগ্র ভারতের গণ-মানুষ মনে করে আজও এই খেলাটি তাদের আত্মার খোরাক জোগায়।
একটি বিশ্বকাপ সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে আয়োজক দেশের ক্রমাগত জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি তৈরী ও আস্থা অর্জনে সাহায্য করে। বহুমুখী লাভের মাঝে সেখানে নতুন করে উৎপাদন ও আয়ের পথ সৃষ্টি হয়। প্রথমবারের কাবাডি বিশ্বকাপ বাংলার গ্রামীন জীবনে যে প্রভাব ও বিনিয়োগ হবে তার পরিমাপ হবে বিশাল। নয়নাভিরাম বাংলাদেশ প্রধানতঃ একটি কৃষি নির্ভর দেশের মডেল হয়ে গড়ে উঠলে এই দেশের জন্য তা কল্যাণকর হবে। স্বাধীনতার দীর্ঘ অনেক বছর পরে এই সরকারের হাতেই ২০১১-১২ এবং ২০১২-১৩ উভয় অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদন করা সম্ভবপর হয়। প্রায় ১৭ কোটির এই বাঙালি জাতি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পরে এই প্রথম বিদেশেও রফতানী করে। কৃষিতে এই সাফল্য ও আগামীতে এই অর্জন ধরে রাখতে এখনই এই দেশে কৃষি নির্ভর জীবনব্যবস্থার দিকে সর্বাধিক গুরুত ও প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আগের বারে ক্ষমতায় এলে বঙ্গবন্ধু তনয়া ১৯৯৯ সাল থেকে আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতায় কাবাডি খেলার অন্তর্ভূক্তি বাধ্যতামূলক করেছিলেন। আমাদের প্রত্যাশা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতেই জাতীয় এই খেলাটির বিশ্বকাপ আয়োজন, গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে এবং এদেশের কৃষিতে সবচেয়ে বেশী উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আবর্তে চিরজীবি গৌরব ও সম্মান অব্যাহত রাখতে প্রথমবারের মতো জাতীয় খেলা কাবাডির বিশ্বকাপ আয়োজন দেশ ও জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে।

মামুন ইবনে হাতেমী
– সাংবাদিক
ঢাকা, বাংলাদেশ।

আইফোনের চাহিদা কমে গেছে?

আইফোন বিক্রির হার আগের চেয়ে কমে গেছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রান্তিক আয় ঘোষণার সময় মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যাপল জানায়, আইফোন বিক্রির হার মাত্র এক শতাংশ বেড়েছে। অ্যাপলের বিনিয়োগকারীরা দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি আশা করলেও বাজার বিশে¬ষকেরা বলছেন, ২০০৭ সালের পর আইফোন বিক্রির হার যে হারে বাড়ছিল, তা এতটা কমে যাওয়ার ঘটনা প্রথমবারের মতো ঘটল। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আইফোন ৬ এস ও ৬ এস প¬াস বাজারে আসার পর এক সপ্তাহে রেকর্ড পরিমাণ আইফোন বিক্রি হলেও এখন সে চাহিদা কমে গেছে। বিশে¬ষকেরা বলছেন, আইফোনের পূর্ববর্তী প্রজন্মের সঙ্গে নতুন আইফোনের প্রযুক্তিতে তেমন তফাত নেই। নতুন ফিচারও অল্প। এ ছাড়া পুরোনো মডেলের আইফোনের সঙ্গেও নতুন আইফোনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়েছে। ২০১৪ সালে বড় মাপের স্ক্রিনযুক্ত আইফোন ৬ ও ৬ প¬াস বাজারে এনে বাজার দখল করে অ্যাপল। যা এশিয়ার গ্রাহকদেরও নাড়া দেয়। ধাক্কা দেয় প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামসাংকেও। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এফবিআর ক্যাপিটাল মার্কেটসের বাজার গবেষক ড্যানিয়েল আইভস বলেন, ‘নিজের সাফল্যের বলী হতে হচ্ছে অ্যাপলকে। আইফোন ৬ এর জনপ্রিয়তা ও ফোন ব্যবহারের মেয়াদ বেশি হওয়ায় নতুন আইফোন কিনবে কি না তা নিয়ে অনেক ক্রেতা ধন্দে পড়ে যান। এ ছাড়া নতুন আইফোনের দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই তা কিনতে আগ্রহ হারান। এ ছাড়া বাজারে আইফোন ৭ এর গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।’ বাজার গবেষকেদের মতে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর- এ তিন মাসে অ্যাপল সাত কোটি ৫৫ লাখ ইউনিট আইফোন বিক্রি করেছে। যা এক বছর আগের একই সময়ের চেয়ে মাত্র ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। বাজার বিশে¬ষকেরা বলছেন, ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন বাজারে ছাড়ার পর থেকে গত প্রান্তিকেই আইফোন বিক্রি হয়েছে সবচেয়ে বেশি। বাজার বিশে¬ষক প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্ট সেটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিক অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ এ তিন মাসে পাঁচ কোটি ৪৬ লাখ আইফোন বিক্রি হবে বলে ধারণা করছে অ্যাপল। এক বছর আগে অর্থাৎ ২০১৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে ৬ কোটি ১২ লাখ ইউনিট আইফোন বিক্রি করেছিল প্রতিষ্ঠানটি। যা বছরের হিসেবে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির হার ছিল। বাজার গবেষকেরা বলছেন, অ্যাপলকে উদ্ধার করতে পারে নতুন আইফোন ‘৭’। এ বছরের শেষ নাগাদ এই আইফোন আনতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। প্রযুক্তি বিশে-ষকেদের ধারণা ক্রেতারা নতুন আইফোন এলে তা হালনাগাদ করতে আগ্রহী হবেন। নতুন এই আইফোন বেশ পানিরোধী প্রযুক্তি, তারহীন হেডফোনের মতো নতুন প্রযুক্তি রাখতে পারে অ্যাপল। এদিকে প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইটে জোর গুঞ্জন, আইফোন বিক্রি ধরে রাখতে মার্চ মাসে আইফোন ৫এসই নামে চার ইঞ্চি মাপের একটি ছোট-খাটো আইফোন বাজারে ছাড়তে পারে অ্যাপল। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, বিবিসি।

স্মার্টফোনে ছড়াচ্ছে নতুন অসুখ!

ন্যাটিজেনদের কাছে স্মার্টফোনের কদরের কোনো শেষ নেই। কিন্তু মুশকিল হলো, দিব্যি স্মার্টভাবেই এই ফোন আমাদের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছে একটা নতুন অসুখ। নতুন এই অসুখটাকে বলা হচ্ছে ‘স্মার্টফোন পিঙ্কি’! পিঙ্কি মানে, কড়ে আঙুল। স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার কোন সমস্যায় ফেলছে আমাদের কড়ে আঙুলকে?শুনতে অবাক লাগলেও, লাগাতার স্মার্টফোনের ব্যবহার বেঁকিয়ে দিচ্ছে আমাদের কড়ে আঙুল।আসলে, যত বেশি এক হাতে ফোনটাকে ধরে ঘাঁটাঘাঁটি করা হচ্ছে, ততই চাপ পড়ছে কড়ে আঙুল আর তার পাশের আঙুলের মাঝে। ফলে, সেই চাপে কড়ে আঙুল বেঁকে যাচ্ছে। সমীক্ষা বলছে, যারা দিনে প্রায় ছয় ঘণ্টা ঘরে নিজেদের ব্যস্ত রাখেন স্মার্টফোন নিয়ে, তাদেরই এই অসুখ বেশি হচ্ছে!বলাই বাহুল্য, যত বেশি ব্যবহার বাড়বে, আঙুলও তত বেঁকে যাবে!

        কর্মী ছাঁটাই করবে রোবট
প্রযুক্তি যেভাবে সামনের দিকে যাচ্ছে তাতে ২০২৫ সালে বেশ কিছু অভাবনীয় ডিভাইস আসতে পারে প্রযুক্তির বাজারে।ডেইলি মেইলের এক রিপোর্টে বলা হয়, শরীরের সাথে লাগানো মোবাইল ফোন, থ্রিডি প্রিন্টারে তৈরি করা মানব শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেগুলো শরীরে স্থাপন করা যাবে এমন সব নতুন নতুন প্রযুক্তির সাথে ২০২৫ সালে পরিচিত হতে যাচ্ছি আমরা।বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বলা হয়েছে, এসব প্রযু্ক্িততে এখন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী মনে হলেও ২০২৫ সালের মধ্যে এইসব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আরও উন্নয়ন ঘটবে।মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী সেটায়া নাদেলা বলেন, ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লব তৈরি করতে যাচ্ছে একটি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি।’শিল্পে রোবট ব্যবহার ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। ঘরে বসেই মানুষ এখন তার কারখানা পরিচালনা করতে পারে। এমনকি যুদ্ধক্ষেত্রও নিয়ন্ত্রণ করছে ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে।তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অর্থাৎ রোবটের ব্যবহার মানুষের বেকারত্বের হার আরও বাড়াবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে গবেষকরা। তাদের ধারণা আগামী ১৫ বছরের মধ্যে রোবটের ব্যবহার প্রায় ৫১ লক্ষ মানুষকে কর্মহীন করবে। এর ভুক্তভোগী সবচেয়ে বেশি হবে নারীরা।এই বছর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যক্তিটি কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রধান কিংবা কোন রাজনীতিবিদও ছিল না। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল এবার কোরিয়ার তৈরি হুবো রোবটটি। সবাইকে স্মার্ট ফোনে তার সাথেই সবচেয়ে বেশি ছবি তুলতে দেখা গেছে ।প্রযুক্তির অতিরিক্ত আধুনিকায়নের একটা পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। অর্থনৈতিক ফোরামের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, শিল্পক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার উন্নত এবং অনুন্নত অর্থনীতিতে আরও দূরত্ব তৈরি করবে।অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৩ সালের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছিল, যদি শিল্পে সম্পূর্ণভাবে রোবটের ব্যবহার করা হয়, তবে ৪৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিকের চাকরি ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্মৃতির বিদ্যাপীঠ মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ৭৫ বছর পুর্তি উৎসব —–প্রভাষক উত্তম কুমার পাল হিমেল

 

স্মৃতির বিদ্যাপীঠ সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্টান মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ৭৫ বছর পুর্তি উপলক্ষ্যে হীরক জয়ন্তী উৎসব আজ । মামনীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন। আর এই উৎসবকে ঘিরে এই বিদ্যাপীঠ যেন অফরুপ সাজে সেজে উঠেছে। ‘দিনগুলো মোর সোনার খাচায় রইল না, সে যে আমার নানান রঙ্গের দিনগুলো’ কবিগুরুর এ আহবান যেন আজ চিরস্মরনীয়। সময়ের পালা বদলের সাথে সাথে মানুষের জীবনের ঘড়ি পরিবর্তন হলেও এমন কিছু স্মৃতি আছে যা মানুষকে আরো অতীতের স্মৃতিতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। প্রত্যেক মানুষের জীবনেই কিছু স্মৃতিময় মুহুর্ত বা ঘটনা বিদ্যমান থাকে । সেটা হতে পারে শৈশব জীবনে, হতে পারে ব্যক্তি জীবনে, হতে পারে স্কুল-কলেজ জীবনে, হতে পারে শিক্ষা গ্রহনের উচ্চতর বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে। আমার স্মৃতিময় সেই বিদ্যাপীঠ যাকে ঘিরে আমার জীবনের সুদূর প্রসারী স্বপ্ন, চিন্তা-চেতনা ও ভবিষৎত পরিকল্পনার মহা সমন্বয় পরিবেষ্টিত সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্টান মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজ। যে শিক্ষা প্রতিষ্টান দেশের বানিজ্য বিষয়ের জন্য সেরা ১০ টি শিক্ষা প্রতিষ্টানের মাঝে একটি। এইচ এস সি অধ্যয়নরত অবস্থায়ই স্বপ্ন দেখতাম সেই স্মৃতির বিদ্যাপীঠে পড়াশোনা করার। যেই ভাবা সেই কাজ ১৯৯৭ সালে বানিজ্য বিভাগে এইচ এস সি পাশ করার পরই সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পালা। বানিজ্য বিভাগে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের জন্য ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দিয়েছিলেন নবীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক রফিক স্যার । একদিকে তিনি বানিজ্য বিভাগে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের উৎসাহ দিলেও অন্যদিকে হিসাব বিজ্ঞান বিষয় নিয়ে পড়াশোন করলে মাথার চুল পড়ে যাওয়ার ভয় ও দেখিয়েছিলেন। যে ভয় আমাকে হিসাববিজ্ঞান নিয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন করার জেদ আরো অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছিল। অপেক্ষার পালা শেষ, এবার বাস্তবায়ন । ১৯৯৭ সালে বানিজ্য বিষয়ে কৃতিত্বের সাথে এইচ এস সি পাশ করার পর বি,কম (সম্মান) বিষয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করলাম স্বপ্নের সেই শিক্ষা প্রতিষ্টান সিলেটর ঐতিহ্যবাহী মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। মেধা তালিকার চান্সও পেয়ে গেলাম ঠিক মতোই। নবীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ থেকে চলে যেতে বাধা হয়ে দাড়ালেন নবীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম হোসেন আজাদ। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন বি,কম পাস কোর্সে নবীগঞ্জ ডিগ্রী কলেজেই পড়তে হবে। কিন্তু আমার একান্ত নাছোরবান্দা ইচ্ছার কাছে সেই বাধাঁ অতিক্রম করে সিলেটে ভর্তির সুযোগ অবশেষে বাস্তবায়ন হলো। মেধা তালিকায় চান্স পাওয়ায় কলেজ কর্তৃপক্ষের পরামর্শে প্রথমে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ভর্তি হলাম সেই কাংখিত বিদ্যাপীঠ সিলেটের মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে। কলেজের অধ্যক্ষ তখন নজরুল ইসলাম স্যার। সাথের বেশিরভাগ বন্ধু-বান্ধবী হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে ভর্তি হওয়ার কারনে ৩ মাসের মাথায়ই আমাকে ব্যবস্থাপনা ছেড়ে হিসাব বিজ্ঞান বিষয়ে যেতে হলো। প্রথম অবস্থায় সিলেটর অলিগলি সব না চিনলেও করের পাড়া শ্রীহট্র সৎসঙ্গ বিহারে শুরু হয় সিলেটর অধ্যয়ন জীবন। প্রথম দিকে ক্লাস লামা বাজার ক্যাম্পাসে শুরু হয়। ভালই লাগে জীবনের উচ্চ শিক্ষার নতুন বিদ্যাপীঠ। ছাত্র রাজনীতি এই শিক্ষা প্রতিষ্টানে খুবই সরগরম অবস্থান থাকলেও একটি ছাত্র সংগঠনে শুধু নাম লিখিয়ে দুরত্ব বজায় রেখেই চলতাম সব সময়। সাথের কয়েক সহপাঠী লামা বাজার ক্যাম্পাসের পাশে কলেজ হোষ্টেলে মাঝে মধ্যে আসা যাওয়া করতাম। এছাড়া রিকাবী বাজার পয়েন্টের আনোয়ারা রেষ্টুরেন্ট বসে আড্ডা মেরে অনেক সময় অতিক্রম করেছি। ফাষ্ট ইয়ার শেষ করার পূর্বেই আমাদের কমার্স ফ্যাকাল্টি আলাদা হওয়ার কারনে ক্লাস পরিবর্তন হয়ে তারাপুর চা বাগানের পাশে অপরুপ সৌন্দর্য্যরে লীলাভুমি পাহাড়ী পরিবেশে গড়া উঠা রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে তারাপুর কমার্স ফ্যাকাল্টিতে চলে যায়। সেখানে যেন সবুজের সমারোহ প্রকৃতির ছায়াঘেরা আরো নতুন পরিবেশ। ক্লাসের ফাকেঁ গিয়ে পাহাড়ী পরিবেশে ঘুরতাম বন্ধু-বান্ধবী মিলে। মনে পরে আজও সেই সুকেশ, বিশ্বজিত, মিলন, অবিনাশ, প্রানেশ, ফরিদ, আরতি, শিল্পী, বীনা, জলি, ঝুমা সহ আরো অনেক বন্ধু-বান্ধবীদের কথা। যারা একসাথে তারাপুর নতুন ক্যাম্পাসে ক্লাসের ফাকেঁ প্রায়ই চা বাগানের সুনিবিড় পরিবেশে বসে আড্ডা মারতাম। স্রোতের টানে সময় ও গড়িয়ে যায় । দেখতে দেখতে ২য় বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে ফেলি আমরা। সময় ২০০১ সালে ২০ শে ফ্রেব্র“য়ারীর কথা। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুব একটা ভাল নয়। প্রতিষ্টানের পক্ষ থেকে শিক্ষা সফর যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। কিন্তু রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুকুল না হওয়ায় কারনে ৭ দিনের শিক্ষা সফর সংক্ষিপ্ত করে ৫ দিরে করা হয়েছে এমনকি কয়েকটা তারিখ ও পরিবর্তন করা হয়েছে। অবশেষে ৫ দিনের সংক্ষিপ্ত সফরে আমাদের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রদীপ কুমার দে সহ আরো কয়েকজন স্যারের নেতৃত্বে দর্শনীয় স্থান ভ্রমনের জন্য সিলেট থেকে ট্রেন যোগ রওয়ানা হই। সিলেট থেকে চট্টগ্রাম শহরে ভালভাবেই পৌছি। সেখানে চট্টগ্রাম,পতেঙ্গা, বায়েজীদ বোস্তামীর মাজার, জিয়া স্মৃতি জাদুঘর, ওয়ার সিমেট্রী পার্ক, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি শহর, ঝুলন্ত ব্রীজ, রাজবাড়ী বিহারসহ আরো অনেক ভ্রমন উপযোগী জায়গা ঘুরে দেখি। প্রথমে রাজনৈতিক পরিস্থিকে ভয় পেয়ে রওয়ানা হলেও আনন্দদায়ক ভ্রমনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারে নাই। শিক্ষা সফরে ঘুরে মনে হলো বাংলাদেশ যে এত অপরুপ সৌন্দর্য্যরে লীলাভুমি তা যেন এতদিন আমাদের অজানাতেই ছিল। সকলে মিলে সুস্থ ও হাসিখুৃশিভাবেই সকলে আবারও সিলেট ফিরে আসি। আনন্দদায়ক এই ভ্রমনে জীবনের অনেকটা নতুন মাত্রা যোগ হলো সেই শিক্ষা সফর। দেখতে দেখতে কিভাবে যে কেটে গেল মদন মোহন কলেজের অনার্স কোর্সটা তা যেন টেরই পাওয়া গেল না। অনার্স কোর্স শেষ করেই অনেক বন্ধু বান্ধবী প্রয়োজনের টানে অন্যান্য জায়গায় চলে যাওয়ার কারনে সেই দীর্ঘদিনের একটি বন্ধুত্বের বাধনে যেন কিছুটা ভাটা পড়ে গেল। পরবর্তীতে মাষ্টার্স কোর্স সেটা তো এক বছরের একটা ছোট কোর্স তাই খুব তাড়াতাড়ি যেন ছাত্রত্ব চলে যাওয়ার জন্য অবশেষে সেটা শেষ হয়ে গেল । যাই হোক ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্টান মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জীবনের ইতি টেনে যেন সকল বন্ধু-বান্ধব বাস্তব জীবনের তাগিদে যার যার মত করে সুবিধাজনক স্থানে ও কর্ম জীবনে মনোনিবেশের চেষ্টায় হুমড়ি খেয়ে বসল। কাংখিত শিক্ষা প্রতিষ্টান ছেড়ে চলে যেতে মন না চাইলেও কি আর ছাত্রত্ব ধরে রাখা যায়। তখন কবিগুরুর কথায় আবারো যেন সবাই সুর মিলাতে ইচ্ছা করছিল‘ যেতে নাহি দিব হায়,তবু যেতে দিতে হয়,তবু চলে যায়’ । ছাত্র জীবনের শুরু থেকে নজরুল ইসলাম স্যারকে প্রতিষ্টান প্রধান হিসাবে পেলে ও পরবর্তীতে আতাউর রহমান পীর স্যার,কৃপাসিন্ধু পাল স্যার এবং সর্বশেষ বর্তমানে যিনি প্রতিষ্টান প্রধান হিসাবে আসীন কলেজের সকল শিক্ষার্থীদের প্রিয় স্যার ড. আবুল ফহেত ফাত্তাহর আন্তরিক নেতৃত্বে এ শিক্ষা প্রতিষ্টানে শিক্ষার মান দিন দিন অগ্রগতি হয়ে চলছে। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী সেই প্রতিষ্টান থেকে জ্ঞান অর্জন করে দেশের শীর্ষ পর্যায়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেৃতৃত্বদানকারী কত জ্ঞানীগুনী যে সমহিমায় প্রতিষ্টিত হয়েে শিক্ষা প্রতিষ্টানের অবদানকে আরো সমুন্নত করেছেন তার কোন ইয়াত্তা নেই। তাই আমি ও নিজিকে ধন্য মনে করছি যে লক্ষ্যে ও প্রত্যাশা নিয়ে প্রাণের সেই প্রিয় বিদ্যাপীঠে উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে পরিবার পরিজন ছেড়ে গিয়েছিলাম জ্ঞান আহরনের জন্য সেই ইচ্ছা আমার পূর্ন হয়েছে সঠিকভাবেই। কিন্তু তবুও যেন বার বার মনে হচ্ছে যে আরো কিছুদিন যদি সেখানে অধ্যয়ন করে কাটানো যেত তাহলে নিজেকে আরো বেশী সমৃদ্ধশালী মনে হতো। যাই হোক তবু ও জীবনে যতদিন বেচেঁ থাকা হবে ততোদিন সেই প্রতিষ্টানের স্মৃতিকে লালিত করব মনের অতল গহিনে মাধুরী মিশিয়ে এই হবে ভবিষৎ অঙ্গীকার। তবে আজকের যারা এ স্বনামধন্য প্রতিষ্টান এ বিভিন্ন বিভাগে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী তারা ও কালের আবর্তনে কদিন পর কোর্স শেষ করে চলে যেতে হবে। কিন্তু স্মৃতি তো আর ইচ্ছা করলেই মনের অতল গহিন থেকে ফেলতে পারবে না। কারন যে প্রতিষ্টান উচ্চ শিক্ষ দেয় যে প্রতিষ্টান জীবনের সঠিক পথের গতি দেখায় সে প্রতিষ্টানের প্রতিটি মুহুতই জীবনের অবিস্মরনীয় হয়ে থাকে। আজকের যারা শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও জ্ঞানের আলো বিকশিতকারী শিক্ষক মন্ডলী রয়েছেন তারা যেন স্মৃতির সেই বিদ্যাপীঠকে অতীতের সুনাম ও ঐতিহ্যকে অনুসরন করে আরো সামনের দিকে নিয়ে যেতে পারেন সেই প্রত্যাশা থাকল নিরন্তর।
পরিশেষে এ শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রাক্তন শিক্ষার্থী,বর্তমান শিক্ষার্থী ও ভবিষৎতে যারা এ শিক্ষা প্রতিষ্টান থেকে জ্ঞান অর্জন করবেন এবং যারা শিক্ষার আলো ছড়াবেন তাদের সকলের উদ্দেশ্যে বলবঃÑ‘যদি লক্ষ্য থাকে অটুট,বিশ্বাস হৃদয়ে,হবেই হবে দেখা,দেখা হবে বিজয়ে” ।

আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন নায়করাজ রাজ্জাক

সংবাদ২৪ ডেক্স: বাংলা চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বেসরকারি টেলিভিশন এসএ টিভির আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন নায়করাজ রাজ্জাক। আগামীকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় চ্যানেলটির তৃতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গুণী এই অভিনেতাকে সম্মাননা জানানো  হবে। অনুষ্ঠানে অভিনেতার হাতে অনুষ্ঠান স্মারক ও সম্মাননা তুলে দেবেন এসএ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালাহউদ্দিন আহমেদ। এ উপলক্ষে এসএ টিভির মূল ভবনে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর এসএ টিভির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতে গুণী শিল্পী ফেরদৌসী রহমানকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এদিকে বেশ কিছুদিন শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ থাকলেও বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন নায়করাজ রাজ্জাক। আগামীকাল এ পুরস্কার গ্রহণ করতে তিনি এসএ টিভি ভবনে উপস্থিত থাকবেন বলে চ্যানেলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

 

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net