শিরোনাম

যুক্তরাজ্য

টিউলিপকে সংবর্ধনা দিল বাংলাদেশি কমিউনিটি

 

Yuli

যুক্তরাজ্যের সদ্য সমাপ্ত পার্লামেন্ট নির্বাচনে নির্বাচিত সাংসদ টিউলিপকে বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষ থেকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। গত ১৯ জুলাই রোববার পূর্ব লন্ডনের ইস্টহ্যামের একটি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সংব ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন। অতিথিদের মধ্যে লেবার পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাসহ পাঁচ ব্রিটিশ এমপি উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও অতিথিদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বিরোধী দল লেবার পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতিযোগি এমপি অ্যান্ডি বার্নহামও লন্ডন সিটি মেয়র নির্বাচনে লেবার দলের মনোনয়ন প্রার্থী সাদিক খান এমপি, এমপি কিথ ভাজ, মাইক গেইট এমপি, এমপি স্টিফেন টিমস উপস্থিত ছিলেন। টিউলিপের মা শেখ রেহানাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনে লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ। লেবার পার্টির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি।

লন্ডনে টিউলিপ সিদ্দিকের ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন অ্যান্ডি বার্নহাম এমপি।

বক্তব্যে সবাইকে ঈদ মোবারক জানিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের অভিনন্দন জানান টিউলিপ। ক্রিকেটাররা এলে তাদের সংবর্ধনায় এর চেয়ে বড় অনুষ্ঠান আয়োজনেরও ঘোষণা দেন টিউলিপ।

Tulip 3

টিউলিপ তাঁর বক্তব্যে অপর দুই বাংলাদেশি ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী ও রূপ হককে অভিনন্দন জানান।

ভোট ও সহযোগিতা দিয়ে তাঁকে এমপি করায় নির্বাচনী এলাকার জনগণকে এবং যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশি কমিউনিটির সকলকে ধন্যবাদ জানান টিউলিপ।

লেবার পার্টির শীর্ষে নেতৃত্বে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে দেখার প্রত্যাশা জানিয়ে টিউলিপ বলেন, বার্নহ্যাম লেবার পার্টির নেতা হলে তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসবেন তিনি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে  লন্ডনে কর্মরত ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সর্বস্তরের সংবাদ কর্মী ও কলাকুশলীরা উপস্থিত ছিলেন।

কেনসিংটনের এমপির ছেলে মহিলা গ্রুপের আক্রমনের শিকার

সংঘবদ্ধ একটি মহিলা গ্রুপের আক্রমনে মারাত্মক আহত হয়েছেন এক ব্রিটিশ এমপির ছেলে। সেন্ট্রাল লন্ডনের লেইস্টার স্কোয়ারে ফার্স্টফুড শপ কেএফসির সিকিউরিটি গার্ডের সামনে এ ঘটনা ঘটে। কেনসিংটনের নবনির্বাচিত কনজারভেটিভ পার্টির এমপি ভিক্টোরিয়া বরউইকের ছেলে টম বরউইককে কেএফসির সামনে একদল মহিলা পিটিয়ে আহত করে। ঘটনার সময় কেএফসির খাবার কেনার জন্য গ্যার্লফ্রেন্ড এবং অন্যান্যা বন্ধুদের নিয়ে টম লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় একদল মহিলা এসে লাইনের আগে যাওয়ার জন্য ঠেলা-ধাক্কা শুরু করে বলে জানান টম। এক পর্যায়ে তারা টমের গায়ে ধাক্কা মারে। এর মধ্যে টম খাবার কেনে চলে যাবার সময় মহিলা গ্রুপটি তার কাছ থেকে খাবার কেড়ে নেবার চেষ্টা করে। এ থেকে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা টমের উপর শারীরিক আক্রমণ চালায়। তাকে কিল, ঘুষি এবং লাথি মারতে শুরু করে বলে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় ২৭ বছর বয়সী টম সাহায্যের জন্য কেএফসির দরোজার সামনে দাঁড়ানো সিকিউরিটি গার্ডের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন। তাদের কাছে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি দৌঁড়ে গিয়ে পাশের গ্রোসভেনর ক্যাসিনোর দরোজায় দাঁড়ানো সিকউরিটির কাছে সহযোগিতা চেয়েও ব্যর্থ হন। সিকিউরিটি গার্ডদের সামনেই মহিলারা তাকে ফুটপাতে ফেলে কিল ঘুষি মারে। এ সময় টমের গ্যার্লফ্রেন্ডও তার সঙ্গে ছিলেন। সংঘবদ্ধ মহিলাদের আক্রমণ থেকে গ্যার্লফ্রেন্ডকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি আক্রমনের শিকার হন তিনি।

ঘটনার পর তাদেরকে হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ২০ ও ৩০ বছর বয়সী তিন মহিলাকে খুঁজছে পুলিশ। গত ২৭ জুন রাত আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে এ ঘটনা ঘটলেও ১০ জুলাই সন্দেহভাজন মহিলাদের একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড।

এদিকে, সেন্ট্রাল লন্ডনের বিখ্যাত এলাকায় সিকিউরিটি গার্ডের সামনে পুত্র টমের আক্রমণের শিকারের ঘটনার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এমপি ভিক্টোরিয়া বরউইক। এমপি নির্বাচিত হবার আগে তিনি লন্ডন মেয়র বরিস জনসনের ডেপুটি মেয়র হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। লন্ডন সিটি সেইফ প্রজেক্টের অধীনে সিটির সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানান এমপি ভিক্টোরিয়া। সিটি সেইফ প্রজেক্টের অধীনে স্বাক্ষরিত যে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিপদগ্রস্ত বা আক্রমণের শিকারদের সহযোগিতা করতে বাধ্য থাকে। কেএফসি এবং গ্রোসভেনার ক্যাসিনার সিকিউরিটির কাছে তার ছেলে সহযোগিতা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন্ টম বরউইক। তবে কেএফসি জানিয়েছে, ঘটনার সময় তাদের সিকিউরিটি নিরাপত্তা দানের চেষ্টা করেছে। তবে গ্রোসভেনার ক্যাসিনো এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেনি।

 

“নিরাপদ” আছে লুটনের নিখোঁজ পরিবার

image
ইংল্যান্ডের লুটন শহরের বাসিন্দা বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ১২জন সদস্যের যে পরিবারটি গত দেড় মাস ধরে নিখোঁজ ছিল, তাদের বক্তব্য দাবি করে ইসলামিক স্টেট এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে তারা তাদের ইসলামিক স্টেটে যোগ দিয়েছে এবং সেখানে তাদের জীবন ”আগের থেকে অনেক বেশি নিরাপদ”।
আপাতদৃষ্টিতে আইএস-এর একজন সদস্য পরিবারকে উদ্ধৃত করে এই বিবৃতিটি দিয়েছেন।
আইএস-এর সঙ্গে লড়ছে এমন একজন ব্রিটিশ বিবিসির হাতে এই বিবৃতিটি তুলে দিয়েছে।
বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়েছে এই পরিবারটিকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে আইএস-এ যোগ দিতে বাধ্য করা হয়েছে এধরনের কথাবার্তা ”জঘন্য”।
এতে বলা হয়েছে এই পরিবারটি এমন দেশে পৌঁছেছে যে দেশ ”দুর্নীতি ও দমনপীড়ন মুক্ত” এবং কোনো একক ব্যক্তির ”নির্দেশে” নয় বরং ”ইসলামের খলিফাদের” নির্দেশে তারা সেখানে গেছে।
বিবৃতির সঙ্গে দেওয়া একটি ছবিতে পরিবারের মাথা মুহাম্মদ আবদুল মান্নান
বিবৃতিতে পরিবারকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে ”আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে যারা উদ্বিগ্ন তাদের জানাচ্ছি আপনারা শঙ্কামুক্ত হন। আমরা এখানে আগের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করছি।”
”সব মুসলমানদের প্রতি আমাদের আহ্বান- খলিফার নির্দেশ মেনে আপনার নিজের দেশে চলে আসুন। এই জীবনে এবং পরকালের জন্য আপনি যেখানে সম্মান আদায় করতে পারবেন সেখানে দ্রুত পৌঁছে যান।”
বেডফোর্ডশায়ারের লুটনে মান্নান পরিবারের বাড়ি
এর আগে ইংল্যান্ডের বেডফোর্ডশায়ারের পুলিশ বলেছিল, এই পরিবারটি সিরিয়ায় গিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কিন্তু এই তথ্য সম্পর্কে তারা পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি।
এই বিবৃতি সঠিক কীনা তা নিরপেক্ষভাবে বিবিসি যাচাই করতে পারে নি। এই বিবৃতিতে মুহাম্মদ আবদুল মান্নানের পরিবারের দুটি ছবিও দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ বলছে ১২ সদস্যের এই পরিবারটি গত এপ্রিলের দশ তারিখে বাংলাদেশে বেড়াতে যায়। সেখান থেকে তারা তুরস্ক যায় ১১ই মে। তুরস্ক হয়ে তিনদিন পর তাদের ইংল্যান্ডে ফিরে আসার কথা থাকলেও তুরস্কে নামার পর থেকে পরিবারটির আর কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি।
মিঃ মান্নানের আগের স্ত্রীর দুই ছেলেও লুটনে থাকেন, এবং তারাই পরিবারটির নিখোঁজ হওয়ার খবর পুলিশকে জানায়।
বাংলাদেশে রওনা হওয়ার আগের দিন এই পরিবারের লুটনের বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছিল সন্ত্রাসদমন আইনের আওতায়। এই পরিবারের ২১ বছর বয়সী রাজিয়া খানুম নিষিদ্ধ ইসলামী গোষ্ঠী ‘আল-মোহাজিরুনের’ সদস্য বলে মনে করা হয়।

তিউনিসিয়ায় নিহতদের স্মরণ করলেন যুক্তরাজ্যবাসী

উনিসিয়ার সমুদ্রতীরে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহতদের স্মরণে যুক্তরাজ্যে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়েছে শুক্রবার। দুপুর ১২টায় যে যেখানে ছিলেন সেখানে দাঁড়িয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে স্মরণ করেন ২৬ জুন, শুক্রবারের হামলায় নিহত ৩৮ জনকে। নিরবতা পালনে অংশ নেন ব্রিটিশ রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। এ সময় তিনি গ্লাসগোতে একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরন নিজের নির্বাচনী এলাকা অক্সফোর্ডশায়ার থেকে এতে অংশ নেন। এছাড়াও ওয়েম্বলি টেনিস গ্রাউন্ডসহ দেশের বিভিন্নস্থানে সর্বস্তরের মানুষ নীরবতা পালনে অংশ নেন। একই সময়ে তিউনিসিয়ার সী বিচের ঘটনাস্থলেও পর্যটকরা ১ মিনিট নীরবতা পালনের পাশাপাশি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তিউনিসিয়ায়র সি বিচে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৩৮ জনের মধ্যে ৩০জনই ব্রিটিশ নাগরিক বলে সনাক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৫ জনের মরদেহ যুক্তরাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বাকিদের শিঘ্রই ইংল্যান্ডে ফিরিয়ে আনা হবে।
বর্বর এই হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহে ১২ জনকে গ্রেফতার করেছে তিউনিসিয়ার পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরো দুজন সন্দেহভাজনকে খোঁজা হচ্ছে। এদের মধ্যে একজন লিবিয়া থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী। এ দুজন গত মার্চ মাসে দেশের বার্ডো মিউজিয়ামেও হামলা করেছিলো বলে নিশ্চিত করেছেন তিউনিসিয়ার তিউনিসিয়ার সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী লাজহার আকরামী। গত মার্চে তিউনিসিয়ার বার্ডো মিউজিয়ামে হামলা করে ২১জনকে হত্যা করেছিলো বন্দুকধারীরা।
এদিকে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত মুসলিম সম্প্রদায়ও এদিন নীরবতা পালনের মাধ্যমে ব্রিটিশ নাগরিকদের স্মরণে এগিয়ে আসেন। নীরবতা পালন শেষে বিভিন্ন মসজিদের ইমামের বক্তব্য প্রচারিত হয় যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন গণমাধ্যমে। ইমামরা জানান, ইসলাম ধর্মে এ জাতীয় হত্যাকাণ্ডের কোন অনুমোদন নেই। বরং ইসলামে বলা হয়েছে, ‘‘যে একজন নীরিহ মানুষকে হত্যা করলো সে যেন সমগ্র মানব জাতিকে হত্যা করলো।” সসগ্র বিশ্বের মুসলিম সমাজকে হিংসা ও ভেদাভেদমুক্ত একটি শান্তিপ্রিয় সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

লেবার পার্টি থেকে বহিষ্কার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমরান

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টি থেকে বহিষ্কার হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমরান হোসেন। তিউনিসিয়ায় সন্ত্রাসী হামলার পরদিন ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে সেলফি তোলার জন্য তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। গত মে মাসে অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট নির্বাচনে নর্থ ইস্ট হ্যাম্পশায়ার আসনে লেবার দলের প‌ক্ষে এমপি পদে প্রার্থী হয়েছিলেন আমরান। তিনি নির্বাচনে হেরে যান।
আমরানের আচরণকে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতদের প্রতি ‘অসম্মানজনক এবং অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে লেবার পার্টি। গতকাল সোমবার রাতে দলটি আমরানকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানায়। ২৯ বছর বয়সী আমরান প্রথমবার এমপি পদে প্রার্থী হয়েই প্রচারণায় বেশ সাড়া ফেলেছিলেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করা আমরান জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ইংল্যান্ড শাখার ন্যাশনাল ডেলিভারি কর্মকর্তা। আমরানের আদি বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলায়।
তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিস থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণের সুছে এলাকার সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ইম্পেরিয়াল মারহাবা হোটেলে গত শুক্রবার দুপুরে এক লোক এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ৩৮ জন নিহত হয়। আহত হয় আরও ৩৬ জন। নিহতদের মধ্যে অন্ততপক্ষে ৩০ জন ব্রিটিশ পর্যটক ছিলেন। এ সময় ব্রিটিশ রাজনীতিক আমরান হোসেন চার বন্ধুসহ তিউনিসিয়ায় ছিলেন। তারা মারহাবা সৈকতের কাছেই একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। তাঁরা হামলার পরদিন শনিবার ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তোলা কিছু সেলফি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়ার পর থেকেই এ নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

আমরান হোসেন তাঁর ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, হামলার পরদিন শনিবার তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরার সময় নির্ধারিত ছিল। হতাহতদের প্রতি সহমর্মিতা এবং শ্রদ্ধা জানাতে তাঁরা শনিবার ফুল নিয়ে মারহাবা সৈকতে যান। সেখানে তাঁরা প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থান করেন।
আমরান হোসেন বলেন, তিউনিসিয়ার সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায়  বেশ মর্মাহত। হতাহতদের স্মৃতিকে ধারণ করে রাখতেই তাঁরা সেখানে ছবি তুলেছিলেন। তিনি আরও বলেন, তাদের হোটেল থেকে একটি হাতের ব্যান্ড পরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের স্মরণে তিনি ওই ব্যান্ড না খোলার সিদ্ধান্ত¯নিয়েছেন। এ ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন আমরান।
এদিকে নিহত ব্রিটিশ নাগরিকদের স্মরণে আগামী শুক্রবার দুপুর ১২টায় দেশব্যাপী এক মিনিট নীরবতা পালন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন গতকাল সোমবার পার্লামেন্টে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ২০০৫ সালের ৭ জুলাই লন্ডনে বোমা হামলার পর তিউনিসিয়ায় সন্ত্রাসী হামলায় সবচেয়ে বেশি ব্রিটিশ নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।

ব্রিটেনে দরিদ্র শিশুর সংখ্যা ২.৩ মিলিয়ন

child poverty

গণতন্ত্রের সূতিকাগার আর উচ্চ আয়ের দেশ ব্রিটেনে এখনো ২.৩ মিলিয়ন শিশু দারিদ্রতার মধ্যে বসবাস করছে। ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন এর মতে ২০১১-২০১২ এবং ২০১৩ ও ২০১৪ সালে শিশু দারিদ্র সীমার সংখ্যা অপরিবর্তীত আছে অর্থাৎ প্রতি ৬ জনের মধ্যে ১ জন শিশু দারিদ্রতার মধ্যে আছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-২০১৪ সালে নিম্ন আয়ের পরিবারে ১৫ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৯.৬ মিলিয়ন লোক  রয়েছেন এদেশে।

১৯৯৮-৯৯ সালের সঙ্গে তুলনা করলে এই সংখ্যা ১১.২ মিলিয়ন থেকে নেমে গত বছর দাঁড়িয়েছে ১ লাখে।

একটি পরিবার দারিদ্র সীমার মধ্যে থাকা মানে তার আয় সপ্তাহে ২৭২ পাউন্ড। পেনশন সেক্রেটারি ইয়ান ডানকান স্মীথ বলছেন, ১৯৮০ সালের পর ব্রিটেনে সর্বনিম্ন শিশু দারিদ্রতা বিরাজ করছে। পক্ষান্তরে শ্যাডো চ্যান্সেলর ক্রিস লেসলি বলেছেন, এই চিত্র নিশ্চিত করে, বর্তমান সরকার শিশু দারিদ্রতা রোধে ও মোকাবেলায় পুরোপুরি ব্যর্থ। অবশ্য ডানকান স্মীথ বলেছেন এর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সরকার কাজ করছে।

চ্যারিটি সংস্থার বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার যেভাবে আরও বেনিফিট কর্তন নীতি গ্রহণ করেছে, এমনকি চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট যেভাবে কর্তন করার নীতিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে এই চিত্র এখনই নির্দেশ করছে শিশু দারিদ্রতা আরও বেড়ে যাবে।

লন্ডন সিটি মেয়র নির্বাচনের তোড়জোর

London Mayor

লন্ডন সিটির মেয়র পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী বছর ২০১৬ সালের ৭ মে।

এবছর ৭ মে’র ব্রিটেনের জাতীয় নির্বাচন এবং ১১ জুনের বাঙালি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস বারার মেয়র নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই লন্ডন সিটি মেয়র নির্বাচনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ২০১৬ সালের ৭ মে অনুষ্ঠিতব্য লন্ডন সিটি মেয়র ও গ্রেটার লন্ডন এসেম্বলির সদস্য  নির্বাচনকে ঘিরে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যে তাদের প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে। লেবার পার্টি থেকে এখনো পর্যন্ত ৬জন প্রার্থী শট লিস্টেড করা হয়েছে। টোরি পার্টি থেকে ধনকুবের জেক গোল্ড স্মিথ ও ফুটবলার সল ক্যাম্পব্যাল, লিবডেম থেকে দলীয় এসেম্বলী লিডার ক্যারলিন পেডগিন, রেসপেক্ট পার্টি থেকে সাবেক এমপি জর্জ গ্যালাওয়ে মনোনয়নের জন্য মিডিয়ায় তার আগ্রহের কথা ব্যক্ত করেছেন।

লেবার পার্টি থেকে শট লিস্টেড প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ডেম থেসা জোয়েল, সাদিক খান এমপি, ডেভিড লামি এমপি, ডায়ান এ্যবট এমপি, গ্যারেথ থমাস এমপি এবং সাংবাদিক  খ্রিস্টিয়ান ওলমার। তবে লেবার পার্টির নির্বাচনী দৌড়ে এখন পর্যন্ত সাবেক অলিম্পিক মন্ত্রী থেসা জোয়েল ও সাবেক জাস্টিস মিনিস্টার সাদিক খান এমপি এগিয়ে রয়েছেন। সাদিক খান এখন পর্যন্ত লন্ডনের বেশির ভাগ লেবার এমপির এবং ট্রেড ইউনিয়নের সমর্থন পেয়েছেন বলে জানা গেছে। থেসা জোয়েল কম পক্ষে ৬৩টি লেবার গ্রুপের মনোনয়ন পেয়েছেন। প্রার্থীদের সকলেই গত ৮ বছর আগে তাদের প্রার্থী কেন লিভিংস্টোন এর কাছ থেকে হারিয়ে যাওয়া সিটি হলের কতৃত্ব নিতে চাইছেন। ইতোমধ্যে গত ২১ জুন রবিবার স্ট্র্যাটফোর্ড অল্ড টাউন হলে লেবার প্রার্থীদের হাস্টিংস (নির্বাচনী কাজ)হয়ে গেল। সেখানে টাওয়ার হ্যামলেটস এর নব নির্বাচিত মেয়র ও বর্তমান এ্যাসেম্বলি মেম্বার জন বিগস অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।

তবে বিভিন্ন জরিপে এখন পর্যন্ত কনজারভেটিব পার্টির প্রার্থী রিচমন্ড পার্ক এর এমপি জেক গোল্ড স্মিথ বর্তমান মেয়র বরিস জনসন এর স্থলাভিষিক্ত হবেন বলে মতামত পাওয়া যাচ্ছে। গত ২৩ জুন মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত রিচমন্ড পার্কের টরি দলীয় সদস্যরা একটি গণ ভোটের মাধ্যমে লন্ডন মেয়র প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে ভোট দিয়েছেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের ১৫হাজার ৮’শ ২জন তাঁকে মেয়র হওয়ার প্রার্থী হওয়ার জন্য ভোট দিয়েছেন এবং ৩হাজার ৫’শ ৮৯জন না ভোট দিয়েছেন। লিবডেম থেকে দলীয় এসেম্বলী লিডার ক্যারলিন পেডগিন তিনি ট্রান্সপোর্ট কমিটির ও ডেপুটি চেয়ার।

এবারের নির্বাচনে অনেকগুলো বিষয়ে প্রার্থীদের প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে। বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ট্রান্সপোর্ট, আইন শৃঙ্খলা, হাউজিং, হিথ্রো এয়ারপোর্টের তৃতীয় রানওয়ে নির্মান ও রেন্ট কন্ট্রোল অন্যতম। তবে লেবার পার্টি মেয়র প্রার্থী নির্বাচনে স্বতন্ত্র আরেকটি দিক হচ্ছে যেকোন লেবার সমর্থন তিন পাউন্ড ফিস দিয়ে সমর্থক হিসেবে নিজের নাম রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন এবং লেবারের মেয়র প্রার্থী নির্বাচনে সদস্যদের মত ভোট দিতে পারবেন। এই ভোট দানের সময়সীমা ১২ আগস্ট ২০১৫। লেবারের ৬জন শর্ট লিস্টেড প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় বিভিন্ন গ্রুপের নমিনেশনের তালিকা হলো: থেসা জোয়েল ৬৩, সাদিক খান ৪২, ডেভিড লামি ১৫, ডায়ান এ্যাবট ৮, খ্রিষ্টিয়ান ওলমার ৬, এবং গ্যারেথ থমাস ৬। লেবার পার্টির প্রার্থীদের মধ্যে ১৪ আগস্ট ব্যালট পেপার পাঠানো হবে এবং ১০ সেপ্টেম্বর তা বন্ধ হবে। লেবার পার্টির চুড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হবে ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে। কনজার্ভেটিভ পার্টির নমিনেশনের সময়সীমা এখনো উন্মুক্ত রয়েছে।

এদিকে যতই দিন যাচ্ছে ততই দলীয় প্রার্থীরা তাদের দলীয় নমিনেশনের ব্যাপারে কর্মী সমর্থকদের মাঝে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে সকল দলের চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

প্রিন্স চার্লস ও ক্যামিলার পেছনে বছরে ব্যয় ১০ লাখ পাউন্ড

ব্রিটিশ রাজ সিংহাসনের অন্যতম উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লস তাঁর স্ত্রী ক্যামিলার পেছনে গত বছর সরকারি সফরে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ লাখ পাউন্ড বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১২ কোটি ৩৩ লাখ ৭১ হাজার ১৮০ টাকা তবে রাজকীয় তহবিলে সরকারি অর্থ প্রদান অব্যাহত রয়েছে গতকাল বুধবার দেশটির সরকারি হিসাব কর্মকর্তা তথ্য জানান

সরকারের পক্ষ থেকে রাজতন্ত্রের তহবিলে জমা অর্থের বার্ষিক প্রতিবেদনে তথ্য জানানো হয়

গত অক্টোবর নভেম্বরে মেক্সিকো এবং কলম্বিয়ায় নয় দিনের সফরে গিয়েছিলেন এই রাজ দম্পতি। সময় ব্যয় হয় চার লাখ ৪৬ হাজার পাউন্ড। তাঁরা ছয় দিনের সফরে গিয়েছিলেন জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব, কাতার আবু দুবাইয়ে। সেখানে খরচ হয় দুই লাখ ৬২ হাজার পাউন্ড

চলতি বছরের মার্চে চার্লসক্যামিলা চার দিনের সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। সেখানে তাঁরা প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে দেখা করেন। ওই সময় ব্যয় হয় দুই লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড। প্রিন্স হ্যারির ব্রাজিল চিলিতে ছয় দিনের সফরে খরচ হয় ৮৬ হাজার পাউন্ড

সব মিলিয়ে রাজপরিবারের সরকারি সফরে ব্যয় হয় ৫১ লাখ পাউন্ড। এর আগের বছর ওই খরচ ছিল নয় লাখ পাউন্ড

সরকারি হিসাবে দেখা যায়, জনগণের তহবিল থেকে ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের পেছনে খরচ হয় তিন কোটি ৫৭ লাখ পাউন্ড। যা মাথাপিছু ৫৬ পেনস করে। গত বছরও এর হার একই ছিল। বাকিংহাম প্যালেসের ভাঁড়ার ঘর পরিষ্কারপরিচ্ছন্ন করা, রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের লন্ডনের বাসভবন থেকে কিছু জিনিস সরিয়ে নেওয়াসহ সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় হয় এক কোটি ১৭ লাখ পাউন্ড

২০১১ সালে দ্য সভেরিন গ্রান্ট অ্যাক্ট অনুযায়ী, দুই বছর আগে থেকে রাজকীয় সম্পত্তি থেকে আসা লভ্যাংশের ১৫ শতাংশ রাজতন্ত্রের কোষাগারে জমা দেবে সরকার। বাকি লভ্যাংশ সরকারি তহবিলে জমা হবে। রাজকীয় সম্পত্তির মধ্যে লন্ডনের বিখ্যাত রিজেন্ট স্ট্রিট উইন্ডসর পার্কও রয়েছে। রয়েছে যুক্তরাজ্যকে ঘিরে থাকা সাগরের তলদেশও। যার বর্তমান মূল্য ৮০০ কোটি পাউন্ডের বেশি

নয় সন্তানসহ ব্রিটিশ ৩ বোন সিরিয়ায়

image

রোজা শুরু হতে না হতেই ব্রিটেনের মুলধারায় চলছে ব্রিটিশ মুসলিমদের নিয়ে তোলপাড়। সৌদি আরবে হজে যাওয়ার নামে ব্রিটেন থেকে একই পরিবারের তিন বোন ও তাদের নয় সন্তান সিরিয়াতে ইসলামিক স্টেট বা আইএসে যোগ দিয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম নিশ্চিত করেছে।
তিন বোন প্রায় ৩ মাস আগে সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য ব্রিটেন ছেড়েছিল। ইসলামিক স্টেটের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এরকম একজন পাচারকারী জানিয়েছেন, তারা সবাই তুরস্ক হয়ে শেষ পর্যন্ত সীমান্ত পাড়ি দিয়ে সিরিয়ার ভেতরে ঢুকে পড়েছেন। ওই দালাল জানান, এর আগে গোটা পরিবারটি দুটো গ্রুপে ভাগ হয়ে চলাচল করছিলো।
সিরিয়ার যেসব সীমান্ত ইসলামিক স্টেটের দখলে সেগুলোর কিছু কিছু এলাকার দায়িত্বে রয়েছেন এই পাচারকারী। তিনি ইসলামিক স্টেটেরও একজন সদস্য। পাকিস্তান বংশোদ্ভুত ওই তিন বোন ও তাদের নয়টি সন্তানসহ ইংল্যান্ডের ব্র্যাডফোর্ড শহরে বসবাস করতেন। দেশে ফিরে আসার জন্যে ওই তিন বোনের স্বামীরা তাদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন। বিবিসির সংবাদদাতার সাথে আলাপকালে ওই পাচারকারী ওদের সিরিয়ায় পৌঁছানোর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে সাক্ষাৎকার নিতে চাইলে তিনি অর্থ দাবি করেন। বিবিসি এই অর্থ দিতে রাজি হয়নি। ব্রিটেনে তিন বোনের ৯ সন্তানসহ আইএসে যোগদানে সহায়তাকারী জানান, পরিবারের প্রথম গ্রুপটি বুধবার এবং অন্য গ্রুপটি বৃহস্পতিবার সিরিয়াতে গিয়ে পৌঁছেছে। তিন বোন খাদিজা, সুগরা এবং জোহরা দাউদ তাদের ন’জন সন্তানসহ সৌদি আরবে হজ করতে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ হয়ে যান। তুরস্ক- সিরিয়ার সীমান্ত এলাকা থেকে বিবিসির মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদদাতা পল উড বলছেন, “পাচারকারীর দেওয়া এসব তথ্য যদি সত্য হয় তাহলে এই পরিবারের গন্তব্য নিয়ে যেসব সংশয় ছিলো সেটা দূর হলো।” এর আগে তারা কি ইসলামিক স্টেটে যোগ দিতে যাচ্ছে, নাকি যাচ্ছে সিরিয়ার অন্য কোন এলাকায় এ বিষয়টি স্পষ্ট ছিলোনা। নিঁখোজ হওয়ার পর জোহরাও মোবাইল ফোন থেকে একটি এসএমএস করে জানিয়েছিলেন যে তিনি সিরিয়াতে। কিন্তু সিরিয়ার কোথায় সেটা তিনি প্রকাশ করেননি।
পুলিশি তদন্তে বের হয়ে এসেছে এই তিন বোনের ছোট ভাই আহমদ এক বছর ধরে আইএসের সাথে কাজ করছে। স্কাইপের মাধ্যমে সে বোনদের জিহাদে যোগ দিতে উদ্ধুদ্ধ করেছে।
মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার স্যার বার্নাড হোগান বিবিসি-লন্ডনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন ‘এটা সত্যি বিশ্বাস করা অসম্ভব, তিন বোন তাদের সন্তানদের নিয়ে সিরিয়ায় যুদ্ধক্ষেত্রে আছেন। তিনি আরো জানান, আমরা দেখেছি হাজার হাজার মানুষ সিরিয়া যুদ্ধ্বে গেছে, কিন্তু এখন দেখছি সর্বশেষ ১২ মাসে কিশোর কিশোরীরা যোগ দিয়েছে সিরিয়াতে। এখন মায়েরা শিশুদের নিয়ে যোগ দিচ্ছেন। এটা সত্যিই ভয়ঙ্কর।

পূর্ব লন্ডনের মালবারি স্কুল পরিদর্শন করলেন মিশেল ওবামা

ইউনাইটেড স্টেট অব আমেরিকার ফার্স্ট লেডি এবং তাঁর দুই কন্যাকে সোমবার স্কুল ক্যাম্পাসে স্বাগত জানিয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটসের একটি বালিকা বিদ্যালয়।
মেয়েদেরকে শিক্ষিত করে তোলার বিশ্বব্যাপি প্রচারাভিযান ‘লেটস গার্লস লার্ন’ ইনিশিয়েটিভ এর অংশ হিসেবে আমেরিকান ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা টাওয়ার হ্যামলেটস এর মালবারি স্কুল ফর গার্লস পরিদর্শন করেন। এসময় তাঁর দুই মেয়ে সাশা ও মালিয়া ওবামাও সাথে ছিলেন। স্কুল ক্যাম্পাসে তাঁরা এসে পৌঁছালে স্টাফ এবং ছাত্রীরা বিপুল হর্ষোৎফুল্লতার সাথে তাদের স্বাগত জানান।
সারা বিশ্বের মেয়েরা যাতে করে তাদের শিক্ষা জীবন সম্পন্ন করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে শিক্ষা সুবিধাদি আরো উন্নত করতে ইউকে এবং ইউএসএ কিভাবে যৌথভাবে কাজ করতে পারে তা নিয়ে আলোচনার জন্যই ‘লেটস গার্লস লার্ন’ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টাওয়ার হ্যামলেটসের স্কুলগুলোতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। বারার স্কুলগুলোর উন্নতি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পাচ্ছে এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে সারা দেশের মধ্যে সেরা রেজাল্ট করার কৃতিত্ব রয়েছে। বিল্ডিং স্কুল ফর দ্যা ফিউচার প্রোগ্রাম স্কীমের আওতায় ৩২০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে বারার সকল সেকেন্ডারি স্কুলগুলোকে পূণঃনির্মান ও পূণঃসংস্কার করা হয়েছে।
মেয়েরা যদি মান সম্পন্ন শিক্ষা পায় তাহলে সে মানসম্মত জীবন যাপনের মতো আয় করতে পারবে- এ লক্ষে লেটস গার্লস লার্ন এর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মেয়রা যাতে স্বাস্থ্যসম্মত ও শিক্ষিত পরিবার গঠন এবং তার নিজের জীবন, পরিবার ও কমিউনিটির মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হতে পারে সেই লক্ষ পূরণ, মেয়েরা যাতে স্কুলে যায় এবং যথাযথভাবে শিক্ষা জীবন সম্পন্ন কওে, তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের বাধা বিপত্তি অপসারণ করে সহযোগিতা করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
মিশেল ওবামা ২০০ মিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্প উদ্বোধন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন । উন্নয়নশীল দেশগুলোর মেয়েরা যাতে শিক্ষা সুবিধা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য গৃহিত এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে আমেরিকা এবং যুক্তরাজ্য।
মালবারি স্কুল পরিদর্শনের সময় মিশেল ওবামা স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে বলেন, ‘‘তোমাদের কারণেই আজ আমি এখানে এসেছে। তোমাদের মত মেয়েরাই আমাকে অনুপ্রাণিত করে। তোমাদের আগ্রহ এবং অধ্যাবসায় নিয়ে আমি গর্বিত। নিজেদের শিক্ষা জীবন সাফল্যের সাথে সম্পন্ন করতে তোমরা কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছো। তোমাদের কাহিনীর সাথে আমারও জীবন কাহিনীর মিল আছে নানা ভাবে।’’
মিসেস ওবামা তাঁর নিজের শৈশব নিয়ে কথা বলেন। টাওয়ার হ্যামলেটসের মতো শিকাগোর একটি শহরে কর্মজীবি পরিবারে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠার কাহিনী শোনান। তাঁর বাবা ছিলেন পাম্প চালক এবং মা গৃহিনী। তিনি ও তাঁর ভাই ছোট্ট একটি ঘরে গাদাগাদি করে থাকতেন এবং ছোট্ট সেই বাড়িতে আত্মীয় স্বজনের আসা যাওয়ার কারনে স্কুলের হোমওয়ার্ক সমাপ্ত করতে তাদের ভাই-বোনের অনেক বেগ পেতে হতো।
তিনি বলেন, ঐ সময় নিজস্ব গোপনীয়তা তেমন ছিলোনা এবং হোমওয়ার্কের দিকে মনোযোগ দেয়াটা ছিলো খুবই কঠিন। হোমওয়ার্ক শেষ করার জন্য আমি ভোর ৪টায় ঘুম থেকে উঠতাম, আর ঐ সময়টাই ঘরটা থাকতো শান্ত নীরব।
মিসেস ওবামা বলেন, আমি জানি অনেকেই হয়তো ঘরের পরিবেশে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যাও, লেখাপড়ার কোন মানে আছে কি না ভাবো। এটা মনে রাখবে এই স্কুল থেকে যে শিক্ষা পাচ্ছ, তা তোমার সবগুলো স্বপ্ন পূরণে সাহায্য করবে।
টাওয়ার হ্যামলেটসের নতুন মেয়র, জন বিগস বলেন, আমেরিকার ফার্স্ট লেডি কর্তৃক বারার অসাধারণ স্কুলগুলোর একটি পরিদর্শনে আসা নিঃসন্দেহে অনন্য। বড় ধরনের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে আমাদের স্কুলগুলো এখন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে সেরা রেজাল্ট অর্জনের স্বাক্ষর রেখে চলেছে।
তিনি বলেন, বারার কিছু অনুপ্রেরণীয় তরুণ বয়সীদের কাছে ফার্স্ট লেডির সাথে এই সাক্ষাত স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তারা শিক্ষা জীবন ও কর্মজীবনে আরো সাফল্য অর্জনে ফার্স্ট লেডির এই পরিদর্শনকে প্রণোদনা হিসেবে কাজে লাগাবে।
মালবারি স্কুলের হেড টিচার, ডঃ ভেনেসা ওগডেন বলেন, ‘‘মিশেল ওবামাকে আমাদের এই স্কুলে স্বাগত জানাতে পেরে আমরা অভিভূত। আমাদের এই সময়ের সবচেয়ে অনুপ্রেরণাময় মহিলা হচ্ছেন তিনি। তাঁর এই ভিজিট আমাদেরকে সম্মানিত করেছে। মেয়েদের জীবনে পরিবর্তন আনতে এবং আধুনিক এই সভ্য পৃথিবিতে শিক্ষা অর্জনের পথের সকল বাধা দূর করতে তিনি ফাস্ট লেডি হিসেবে তাঁর অবস্থানকে ব্যবহার করে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’’

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net