শিরোনাম

যুক্তরাজ্য

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশি বংশদ্ভূত প্রার্থীসংখ্যা ১২

আগামী ৭ মে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে প্রধান তিনটি দল থেকে মনোনয়নপ্রাপ্ত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি পদপ্রার্থীর সংখ্যা এক ডজন পূর্ণ হয়েছে। আমরান হোসাইন নামের এক প্রার্থীর মনোনয়ন শেষ মুহূর্তে চূড়ান্ত হওয়ার মাধ্যমে এ সংখ্যা ১২তে উন্নীত হয়। আমরান লেবার পার্টির পক্ষে ইংল্যান্ডের নর্থইস্ট হ্যাম্পশায়ার আসনে প্রার্থী হয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করা আমরান জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ইংল্যান্ড শাখার ন্যাশনাল ডেলিভারি কর্মকর্তা। ব্রিটেনে জন্মগ্রহণ করা আমরানের আদি বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জে।

আগামী ৭ মে যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচনকে ঘিরে চলছে নানান আয়োজন। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এবছর যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে দেশটির প্রধান তিন রাজনৈতিক দলের পক্ষে এমপি পদে লড়ছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১২ প্রার্থী। তাঁদের মধ্যে লেবার দল থেকে আটজন, লিবারেল ডেমোক্র্যাট দল থেকে তিনজন এবং কনজারভেটিভ দল থেকে একজন মনোনয়ন পেয়েছেন। এই ১২ প্রার্থীর পাঁচজন নারী এবং সাতজন পুরুষ।

 

২০১০ সালে রুশনারা আলী এমপি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে ব্রিটিশ মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অভিষেক হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বাংলাদেশি-অধ্যুষিত পূর্ব লন্ডনের বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে রুশনারাসহ মোট চার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী মূলধারার দল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এবার লন্ডনের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনের পাশাপাশি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীরা ওয়েলস এবং স্কটল্যান্ডেও প্রধান দলগুলোকে প্রতিনিধিত্ব করছেন। যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মনোনয়ন পেতে দলের স্থানীয় সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার রীতি মেনেই এসব বাংলাদেশি দলের চূড়ান্ত টিকিট অর্জন করেছেন।
লেবার দলের আট প্রার্থী
রুশনারা আলী রুশনারা আলী: গত নির্বাচনে প্রায় ১১ হাজার ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হওয়া রুশনারা আলী এবারও পূর্ব লন্ডনের  বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড বো আসনে লেবার দলের প্রার্থী হয়েছেন। ১৯৭৫ সালে সিলেটের বিশ্বনাথে জন্ম নেওয়া রুশনারা  প্রথমবার এমপি নির্বাচিত হয়েই আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও শিক্ষাবিষয়ক ছায়ামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি  পার্লামেন্টারি ট্রেজারি সিলেক্ট কমিটির সদস্য হিসেবে মেয়াদ পূর্ণ করেন।

 

 

 

টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিকটিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক: লন্ডনের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসন হ্যাম্পট্যাড অ্যান্ড কিলবার্নে লেবার দলের প্রার্থী হয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ রেজওয়ানা সিদ্দিক। লন্ডনের মিচামে জন্ম নেওয়া টিউলিপ কিংস কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে ২০১০ সালে স্থানীয় ক্যামডেন কাউন্সিলের কাউন্সেলর নির্বাচিত হন। লেবার দলীয় এমপি গ্লেন্ডা জ্যাকসন বার্ধক্যজনিত কারণে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিলে স্থানীয় লেবার সদস্যদের ভোটে টিউলিপ প্রার্থিতা অর্জন করেন।

 

 

 

 

রুম্পা হকরুপা হক: কিংস্টন ইউনিভার্সিটির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ড. রুপা হক লড়ছেন লন্ডনের ইলিং সেন্ট্রাল অ্যান্ড অ্যাকটন আসনে। গত নির্বাচনের কনজারভেটিভদের দখলে যাওয়া আসনটি এবার লেবারের অন্যতম ‘টার্গেট সিট’। ১৯৭২ সালে লন্ডনের ইলিংয়ে জন্ম নেওয়া রুপার আদি বাড়ি পাবনায়।

 

 

 

মেরিনা আহমদমেরিনা আহমদ: মেরিনা আহমদের জন্ম নারায়ণগঞ্জে। মাত্র ছয় মাস বয়সে মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেওয়া মেরিনা প্রার্থী হয়েছেন লন্ডনের অদূরে বেকেনহাম আসনে। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে লেবার পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মেরিনা মন্ত্রীদের সঙ্গে কেবিনেট অফিসে কাজ করার পাশাপাশি ক্রাউন প্রসিকিউশন টিমে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

 

 

আনোয়ার বাবুল মিয়াআনোয়ার বাবুল মিয়া: আনোয়ার বাবুল মিয়ার আসনটিও লন্ডনের খুব কাছেই। ওয়েলউইন অ্যান্ড হার্টফিল্ড নামের এই আসনে তিনি লড়বেন কনজারভেটিভ দলের চেয়ারম্যান ও মন্ত্রী গ্রান্ট শ্যাপের সঙ্গে। আইন পেশায় নিয়োজিত আনোয়ার বাবুলের জন্ম ১৯৭২ সালে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে।

 

 

 

 

সুমন হকসুমন হক: স্কটল্যান্ডের অ্যাবার্ডিনশায়ারের বেন্ফ অ্যান্ড বুখান আসনে লেবার দলের মনোনয়ন পেয়েছেন সুমন হক। অ্যাবার্ডিন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক সুমন প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী, যিনি স্কটল্যান্ডের আসন থেকে মনোনয়ন পেলেন। স্কটল্যান্ডে জন্ম নেওয়া সুমনের আদি বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতকে। তিনি ১০ বছর ধরে স্কটিশ লেবার দলের সদস্য।

 

 

 

আলী আকলাকুলআলী আকলাকুল: লুটনের রিগেইট অ্যান্ড বেনস্ট্যাড আসনে চারজন প্রতিযোগীকে পরাজিত করে লেবার দলের প্রার্থী নির্বাচিত হন আলী আকলাকুল। লুটনে জন্ম নেওয়া আকলাকুলের আদি বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জে। তিনি ব্রিটিশ রেড ক্রস ও অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।

 

 

 

 

আমরান হোসাইন, লেবার পার্টি

Amran Hussain

আমরান হোসাইন: মনোনয়ন শেষ মুহূর্তে আমরান হোসাইনের মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়েছে।  তিনি পার্টির  পক্ষে  ইংল্যান্ডের নর্থইস্ট হ্যাম্পশায়ার আসনে প্রার্থী হয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করা আমরান  জাতীয়  স্বাস্থ্যসেবা ইংল্যান্ড শাখার ন্যাশনাল ডেলিভারি কর্মকর্তা। ব্রিটেনে জন্মগ্রহণ করা আমরানের আদি বাড়ি সিলেটের  গোলাপগঞ্জে।

 

 

 

লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের তিন প্রার্থী
প্রিন্স সাদিক চৌধুরীপ্রিন্স সাদিক চৌধুরী: নর্থ হ্যাম্পটন সাউথ আসনে লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের পক্ষে প্রার্থী হয়েছেন প্রিন্স সাদিক চৌধুরী। তিনি ২০০৭ সালে নর্থহ্যাম্পটনশায়ার কাউন্সিল নির্বাচনে প্রথম কোনো বাংলাদেশি হিসেবে কাউন্সেলর নির্বাচিত হয়েছিলেন। পেশায় ব্যবসায়ী সাদিক ১৯৭৩ সালে সিলেট শহরে জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র দুই মাস বয়সে মা-বাবার সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান।

 

 

 

আশুক আহমদআশুক আহমদ: ১১ বছর বয়সে ১৯৭৬ সালে মা-বাবার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি দেওয়ার পর থেকেই লুটনে বসবাস করছেন আশুক আহমদ। তিনি লুটন সাউথ আসনে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী। স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পদে কাজ করা আশুক আহমদ ২০ বছরের বেশি সময় ধরে লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাঁর জন্ম সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা।

 

 

 

মোহাম্মদ সুলতানমোহাম্মদ সুলতান: ওয়েলসের আর্ফন আসনে লিবারেল ডেমোক্রেট দলের প্রার্থী হয়েছেন মোহাম্মদ সুলতান। সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় জন্ম নেওয়া সুলতান তরুণ বয়সে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। পেশায় একজন সফল রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী সুলতান স্থানীয় বেনগোর সিটি কাউন্সিলের কাউন্সেলর।

 

 

 

কনজারভেটিভের এক প্রার্থী

মিনা রহমানমিনা রহমান:কনজারভেটিভ দল থেকে লন্ডনের বার্কিং আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন মিনা রহমান। তিনি গত পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকা দলটির একমাত্র বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী। সিলেটের ছাতকে জন্ম নেওয়া মিনা রহমান একটি হাউজিং সোসাইটির ব্যবস্থাপক পদে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।

 

 

 

সাত নেতার বিতর্ক: কোনঠাসা প্রধানমন্ত্রী ক্যামেরন

7 Leader

 

নির্বাচনকে সামনে রেখে সাত নেতার সরাসরি টিভি বিতর্কে প্রতিদ্বন্ধীদের সমালোচনায় বিদ্ধ হয়েছেন কনজারভেটিভ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। গত পাঁচ বছর অর্থনীতি, জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা, অভিবাসন এবং মানুষের জীবনমান প্রশ্নে ক্যামেরন যেসব নীতি অবলম্বন করেছেন, তার সাথে ভিন্নমত পোষণ করেন বাকী ছয় নেতা। তাঁরা নিজ নিজ দলের বিকল্প প্রস্তাব তুলে ধরেন।
দেশটিতে ৭ মে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাদের ধারাবাহিক বিতর্কের এটি ছিলো দ্বিতীয় বিতর্ক। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আইটিভি সাত নেতার ওই বিতর্ক সরাসরি সম্প্রচার করে। এটি একমাত্র বিতর্ক যেখানে ক্যামেরন এবং মিলিব্যান্ড মুখোমুখি হলেন।
বিতর্ক পরবর্তী আইসিএম-এর জরিপে দেখা যায়, ক্যামেরনের চেয়ে মাত্র এক শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে আছেন লেবার দলের নেতা এড মিলিব্যান্ড। জরিপে দুই নেতার অবস্থান যথাক্রমে ২৪ ও ২৫ শতাংশ। ২২ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছেন কট্টর ডানপন্থী দল ইউকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টির (ইউকিপ) নাইজেল ফারাজ। পাঁচ বছর ক্ষমতার অংশিদার হয়ে থাকা লিবারেল ডেমোক্রেট দলের নেতা নিক ক্লেগকে ছাড়িয়ে চতুর্থ অবস্থানে উঠে আসে স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টির (এসএনপির) নিকোলা স্টার্জিয়ন। জরিপে নিক ক্লেগ এবং নিকোলার অবস্থান যথাক্রমে ৯ ও ১৯ শতাংশ। এছাড়া গ্রিন পার্টির নাটালি বেনেট ৩ এবং ওয়েলস ন্যাশনালিস্ট প্লেইড কিমরুর লিয়ান উড ২ শতাংশ সমর্থন পেয়ে সবশেষে অবস্থান করছেন। বিতর্ক দেখেছেন এমন এক হাজার এক শ ভোটারের মতামত যাচাই করা হয় জরিপে।
লেবার পার্টির জন্য এই বিতর্কের ফলকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেননা নেতাসুলভ ভাব না থাকার কারণে সমালোচিত মিলিব্যান্ড এই প্রথম কোনো জরিপে ক্যামেরনকে ছাড়িয়ে গেলেন।
যাঁর সাথে জোট বেঁধে ক্যামেরন গত পাঁচ বছর দেশ চালিয়েছেন, সেই নিক ক্লেগ কনজারভেটিভ দলের ধনিবান্ধব নীতি ও কল্যাণ ব্যয় হ্রাসের তীব্র সমালোচনা করে ক্যামেরনের প্রতি আক্রমণের সূচনা করেন। আদর্শগত চরিত্রের কারণে ক্যামেরনের সরকার বাস্তবতা উপেক্ষা করে বেপরোয়া বাজেট কর্তনের নীতি গ্রহণ করেছে বলে অভিযোগ করেন উপপ্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ। জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় (এনএইচএস) বাজেট হ্রাস এবং ইউনিভার্সিটির ফি বৃদ্ধি করে ক্যামেরন সাধারণ মানুষের পক্ষে অবস্থান নেননি বলে অভিযোগ করেন এড মিলিব্যান্ড। ধনিদের আয়ের ওপর কর বাড়ানোর যুক্তি তুলে ধরেন তিনি। ইউরোপিয় ইউনিয়নের সদস্যপদ ধরে রেখে যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কীভাবে সম্ভভ, সেই প্রশ্নে ক্যামেরনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়েন অভিবাসন বিরোধী নেতা নাইজেল ফারাজ। সরকারের কল্যাণ ব্যয় হ্রাসের বিরোধীতা করেন বাকি তিন দলের নেতারা। এরমধ্যে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং অভিবাসীদের প্রতি মানবিক আচরণের ঘোষণা দিয়েছেন গ্রিন পার্টির নাটালি বেনেট। এসএনপি নেতা নিকোলা স্টার্জিয়ন বলেন, পারমানবিক অস্ত্রে বিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ বন্ধ করে তা বাজেট ঘাটতির কাজে লাগানো উচিত। স্বাধীন স্কটল্যান্ডের আকাঙ্খার কথা স্বরণ করিয়ে দিয়ে নিকোলা বলেন, স্বাধীনতার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি যুক্তরাজ্যের মঙ্গলের জন্য কাজ করবে।
সমালোচনার শিকার ক্যামেরন দাবি করেন, তাঁর সরকারের নেয়া অর্থনৈতিক পরিকল্পনা কার্যকরী বলে প্রমাণিত হয়েছে। তিনি লেবার দলের অধিক ঋণ এবং অধিক ব্যয় নীতির বিষয়ে ভোটারদের সতর্ক করে দেন।

রাজাকারদের ভাষায় কথা বলছেন তারেক রহমান

লন্ডন আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৎকালীন পাকিস্তানি শোষকদের সুরে কথা বলছেন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতারা। তারেক রহমান কর্তৃক ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টার প্রতিবাদের আজ শুক্রবার পূর্ব লন্ডনের একটি হলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়।

গত সোমবার পূর্ব লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপির বিজয় দিবসের আলোচনায় তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজাকার, খুনি ও পাকবন্ধু’ বলে মন্তব্য করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজাকার’ বলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। পাকিস্তানি শোষক ও তাদের দোসররা বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশে যে ভাষায় কথা বলতো তারেক রহমানও আজ একই সুরে কথা বলছেন। যা প্রমাণ করে তারেক রহমান পাকিস্তানের স্বার্থে কথা বলছেন এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষেই তার অবস্থান। তারেক রহমানকে দেশ ও জাতির শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করেন তারা।

বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজাকার’ বললেন তারেক
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম না হলে জিয়াউর রহমান সামান্য বেতনের সেনা অফিসার হিসেবেই বিদায় নিতেন। তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া দূরে থাক রাজনৈতিক নেত্রী হওয়ারও সুযোগ পেতেন না। তারেকের বক্তব্য সকল শিষ্ঠাচারকে অতিক্রম করেছে। তাঁরা তারেক রহমানকে জাতির কাছেÿক্ষমা চেয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হরমুজ আলী বলেন, তারেক রহমানকে আগে স্বীকার করতে হবে বাংলাদেশে কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল কি-না? যদি হয়ে থাকে তাহলে তখন কোন সরকার ক্ষমতায় ছিল। তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান কার নেতৃত্বে যুদ্ধ করলেন, কোন সরকারের কাছ থেকে জিয়া বেতন পেতেন এবং মুজিবনগর সরকারকে স্বীকার করেন কি-না। এসব বিষয় সম্পর্কে তাঁকে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। তাঁরপর সে বুদ্ধিভিত্তিক জবাব আশা করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন লন্ডন সফররত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নঈম উদ্দিন রিয়াজের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসে নতুন নিয়ম আসছে

নিউজ ডেস্ক, ১৬ নভেম্বর ২০১৪:   ওয়ার্ক পারমিটে ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ আসছে আবার। আগামী বছর থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবার কথা রয়েছে। জানা গেছে, ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যারা ব্রিটেনে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান তাদের বার্ষিক ৩৫ হাজার পাউন্ড দেখাতে হবে। এছাড়াও এখন থেকে ৫ বছর ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় কাজ করার পর স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদনের যোগ্য হবেন।
হোম সেক্রেটারী তেরেসা জানায়, ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে এই নিয়ম চালু হবে। এ নিয়মের ফলে নন ইউরোপিয়ানরা ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় এসে সেটেল্টমেন্টের আবেদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে (বিবিসি)।
তিনি বলেন, অতীতে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় এসে ৫ বছর থাকার পরই স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য আবেদনকরার সুযোগ ছিল। ২০১০ সালে এ সুযোগ কম করে দেয়া হয়। নতুন করে আবার ২০১৬ সাল থেকে এই নিয়ম চালু করা হচ্ছে।
তবে, এবার ৫ বছর বসবাসের পাশাপাশি বাধ্যতামূলকভাবে বছরে ৩৫ হাজার পাউন্ড আয় দেখাতে হবে। এ নিয়মের পর ওয়ার্কপরমিট ভিসায় ব্রিটেনে যাওয়ার সুযোগ বাড়লেও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ কমে যাবে।
উল্লেখ্য, ব্রিটিশ কোয়ালিশন সরকার ক্ষমতায় এসেই ঘোষণা দিয়েছিলো, গণহারে অভিবাসী আগমন ঠেকাতে। এ লক্ষ্যে লিবডেম-কনজারভেটিভ জোট সরকার বেশকিছু পদক্ষেপও গ্রহন করে। সরকারের এই পদক্ষেপ ফলপ্রসূ হয়েছে বলে সমপ্রতি দাবী করেছেন, দেশটির হোম সেক্রেটারী থেরেসা মে এমপি।

পশু বাচাতে পশুপ্রেমীদের নগ্নকাণ্ড!

সৈয়দ সামি, ৩ নভেম্বর ২০১৪, লন্ডন : মানুষ বিভিন্ন উপায়ে প্রতিবাদ করে। কিন্তু লন্ডনের পশুপ্রেমীরা প্রতিবাদের নতুন এক ভঙ্গি দেখালেন, যা রীতিমতো বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে।

বিশ্ব নিরামিষভোজী দিবস উপলক্ষে শনিবার লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে জড়ো হন শত শত পশুপ্রেমী। এ সময় নগ্ন অবস্থায় গায়ে রক্ত মেখে পশু হত্যার প্রতিবাদ জানান তারা। নগ্ন অবস্থায় তারা স্কয়ারে শুয়ে পড়েন। মেতে ওঠেন খুনসুটিতে।

pra

প্রতিবাদকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডও নিয়ে আসেন। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘জীবনকে নির্বাচন করুন নিরামিষভোজী হিসেবে’ ও ‘প্রতিবছর এক বিলিয়ন পশু হত্যা করা হয় মাংসের জন্য, এগুলো বন্ধ করতে হবে’।

যুক্তরাজ্যের পেটাসহ বিভিন্ন পশু অধিকার সংরক্ষণ সংগঠন পথচারীদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করে। পেটা নিরামিষ ভোজে আগ্রহী করার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
পেটার পরিচালক মিমি বেকহেচি বলেন বলেন ‘পশুরা ব্যথা, ভয়, ভালোবাসা, উল্লাস সবকিছুই অনুভব করতে পারে এবং বিলিয়নের বেশি পশু প্রতিবছর হত্যা করা হচ্ছে, যা আসলে পরিবেশের জন্য খুব বড় হুমকি।’

এ অবস্থা বিশ্বে আর চলতে পারে না। তাই ব্যতিক্রমধর্মী এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  পশু হত্যার ব্যাপারে মানুষ যাতে সচেতন হয়, সে জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

তথ্যসূত্র : দ্য ইনডিপেনডেন্ট।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net