শিরোনাম

যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্যের নিক্ষিপ্ত অবিস্ফোরিত বোমা জার্মানিতে ।। শহর জুড়ে সতর্কাবস্থা

জার্মানির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আউগসবার্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের প্রায় দুই টনের একটি বোমার সন্ধান পাওয়া গেছে। বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার জন্য আজ রোববার শহরটি থেকে ৫০ হাজারের বেশি লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরPolice help a man to leave his apartment in Augsburg, Germany, Sunday Dec. 25, 2016. Thousands of people in the German town of Augsburg have temporarily left Christmas presents and decorations behind while authorities disarm a World War II bomb. The bomb was uncovered last week during construction work. (Stefan Puchner/dpa via AP) অবিস্ফোরিত একটি বোমার জন্য এত বেশি লোককে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। ১৯৪৪ সালে যুক্তরাজ্যের বিমান হামলার সময় ১ দশমিক ৮ টনের ওই বোমাটি ফেলা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। ওই বিমান হামলায় পুরোনো ওই শহরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। সম্প্রতি একটি নির্মাণকাজ চলার সময় বোমাটির সন্ধান পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, বোমাটি নিষ্ক্রিয় করতে কত সময় লাগতে পরে—সে ব্যাপারে তাদের কোনো ধারণা নেই।

বিবিসি’র ইউরোপের আঞ্চলিক সম্পাদক মাইক স্যান্ডার্স জানিয়েছেন, শহর কর্তৃপক্ষ কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। ওই বোমাটির অবস্থান থেকে চারপাশের দেড় কিলোমিটার এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সরিয়ে নেওয়া বেশির ভাগ লোকই আত্মীয়স্বজন বা বন্ধুবান্ধবের কাছে উঠবে বলে কর্তৃপক্ষের ধারণা।

A police vehicle driving through an almost empty street in Augsburg, Germany, Sunday Dec. 25, 2016. Thousands of people in the German town of Augsburg have temporarily left Christmas presents and decorations behind while authorities disarm a World War II bomb. The bomb was uncovered last week during construction work. (Stefan Puchner/dpa via AP)এরপরও যাদের প্রয়োজন, তাদের জন্য বেশ কিছু স্কুল ও খেলাধুলার হলগুলোতে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর আগে ২০১৫ সালের মে মাসে এক টনের একটি বোমার সন্ধান পাওয়ার পর দেশটির চতুর্থ বৃহত্তম শহর কোলোইন থেকে ২০ হাজার লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে অয়েসকেজিন শহরে খননের সময় খননযন্ত্রের আঘাতে অবিস্ফোরিত একটি বোমা বিস্ফোরিত হলে এক নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু হয়। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে রাইন নদীগর্ভে দুটি বোমার সন্ধান পাওয়া যায়। তখন ওই নদীর তীরে অবস্থিত শহর কুবলেঞ্চ থেকে ৪৫ হাজার লোককে সরিয়ে নেওয়া হয়। বোমা দুটি নিষ্ক্রিয় করতে তিন ঘণ্টা সময় লাগে। ২০১০ সালে গোটিনেন শহরের একটি ভবনের পাশে সন্ধান পাওয়া একটি বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলের তিন সদস্য নিহত হন।

বাংলাদেশের ধর্মীয় মাইনরিটি সম্প্রদায়ের জানমাল রক্ষা ও তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

লন্ডনঃ বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় মাইনরিটি সম্প্রদায়ের জানমাল রক্ষা ও তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করলেন বৃটেনে বসবাসরত সংখ্যালঘু নেতারা। গতকাল ৫ ডিসেম্বর দুপুর এক ঘটিকায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরাবরে একটি পিটিশন হস্তান্তরের মাধ্যমে সংখ্যালঘুনেতারা বিটিশ প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষে কামনা করেন।
বাংলাদেশ মাইনরিটি ল-ইয়ার ফোরাম ইকের জেনারেল সেক্রেটারী স্বপন কুমার মজুমদার, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খৃষ্টান ইউনিটি কাউন্সিল ইউকের সেক্রেটারী জেনারেল সমীর দাস, বৌদ্ধ এসোসিয়েশন ইউকের পপ্রশান্ত বড়ুয়া,স্যাকুলার বাংলাদেশ মুভেমেন্ট ইউকের পুষ্পিতা গুপ্তা, ক্যাম্পেইন ফর রিলিজিয়াস মাইনরিটিস বাংলাদেশ ইউকের জেনারেল সেক্রেটারী অজিত শাহা ও জগন্নাথ হল এলোমনাই এসোসিয়েশন ইউকের তপন শাহার নেতেৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে মাইনরিটি সম্প্রদায়ের দাবী সম্বলিত লিখিতি পিটিশনটি হস্তান্তর করেন। ব্রিটিশ প্রধানম্ত্রীর পক্ষে দশ ডাউনিং ষ্ট্রীটের একজন কর্মকর্তা এটি প্রহন করেন।
পিটিশনে তারা বাংলাদেশের ধর্র্মীয় সংখ্যালঘূ সম্প্রেদায়ের উপর উগ্রমৌলবাদীদের একের পর এক হামলা, হুমকী এমনকি দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু নারীদের নির্যাতন জোর করে দেশত্যাগে বাধ্যকরা, সম্পত্তি দখল- বাড়ী ঘর এবং ব্যবসা প্রতিষ্টানে লুটপাট এবং ধর্মীয় উপাষণালয়ে অগ্নিসংযোগ সহ দেশব্যাপী বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন।
বিশেষ করে ৩০ অক্টোবর ২০১৬ সালে ব্রাম্মন বাড়িয়া জেলার নাসির নগরে, ২৮ অক্টোবর ২০১৫ সালে ফেনী জেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর হামলার চিত্র তুলে ধরা হয়। এছাড়া চট্রগ্রামে বৌদ্ধ মন্দির ধ্বংশ করা সহ সাতক্ষিরা ও দেশের অন্যান্য স্থানে উগ্রবাদীদের হামলার চিত্র তুলে ধরা হয় পিটিশনে। পিটিশনে উল্লেখ করা হয় ২০০১ সাধারন ইলেকশনের পর ইসলামী উগ্রবাদী দল জামাতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদস্যরা দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে একের পর এক হামলা চালায়, এটি এখনও অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনিই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে। অনেকেই ভয়ে দেশ্যোগে বাধ্য হচ্ছে কোন কোন স্থানে উগ্রবাদীরা জোর করে নীরিহ সংখ্যালঘুদের ধর্মান্তরিত করছে। বাংলাদেশে এটি কোন নতুন বিষয় নয় ১৯৪৭ সালের পর থেকে ক্রমাগত ভাবে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নির্যাতিত হয়ে আসছে। এসব ব্যাপারে মামলা হলেও তাৎক্ষনিক ভাবে নির্যাতিদের আশ্বস্থ করা হলে কোন ঘটনার বিচার নাহওয়ার কারনেই উগ্রমৌলবাদীরা উৎসাহিত হচ্ছে। আবেদনকারীরা এবিষয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বন্ধ হচ্ছে সিলেট ব্রিটিশ কনস্যুলেট অফিস

সিলেট প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশ থেকে ব্রিটেনের ভিসা কার্যক্রম দিল্লিতে সরিয়ে নেয়ার পর এবার সিলেট থেকে ব্রিটিশ কনস্যুলেট অফিস সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। এতে সিলেটের ব্রিটিশ প্রবাসীদের ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভিসা কার্যক্রম দিল্লিতে সরিয়ে নেয়ায় এমনিতেই ব্রিটেন গমনেচ্ছু বাংলাদেশিদের পোহাতে হচ্ছে নানা ভোগান্তি। বিশ্ব ক্রিকেটের বর্তমান সেনসেশন বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানকে পর্যন্ত ভিসার জন্য হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। অথচ তিনি ব্রিটেনেরই একটি ক্লাবে খেলার জন্য গিয়েছিলেন। নানা অজুহাতে বারবার টালবাহানা করা হয়েছে তার ভিসার ক্ষেত্রে। অবশেষে তার ভিসার জন্য বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষকে আবেদন-নিবেদন করতে হয়েছে। ব্রিটেনের ভিসা কার্যক্রম বাংলাদেশে থাকলে এমনটা হতো না বলে তখন আলোচনা ছিল। ব্রিটেনে বর্তমানে লাখ দশেক বাংলাদেশি প্রবাসী রয়েছেন। অথচ এখানে কোনো ভিসা কার্যক্রম নেই। এখন আবার ব্রিটিশ বাংলাদেশি অধ্যুষিত সিলেট থেকে তুলে নেয়া হচ্ছে দেড় দশক ধরে চলা কনস্যুলেট অফিস। দু-এক দিনের মধ্যে ঢাকার ব্রিটিশ হাইকমিশন থেকে এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তবে ইতিমধ্যে নগরীর কুমারপাড়ার কনস্যুলেট অফিসটি অনানুষ্ঠানিকভাবে গুটিয়ে নেয়া হয়েছে। কী কারণে অফিস গুটিয়ে নেয়া হলো তা স্পষ্ট নয় বলে জানান ইমিগ্রেশন অ্যাডভাইজার মাহবুব আহসান। ২০০১ সালে নগরীর কুমারপাড়ায় চালু হয় ব্রিটিশ হাইকমিশনের কনস্যুলেট অফিসটি। এখান থেকে সিলেটি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিকদের পাসপোর্ট নবায়ন, নতুন পাসপোর্ট দেয়া, পাসপোর্ট হারানো গেলে ট্রাভেলিং ডকুমেন্ট দেয়া, জোরপূর্বক বিয়ে প্রতিরোধ, হয়রানির শিকার ব্রিটিশ নাগরিকদের আইনি সহায়তা দেয়াসহ বিভিন্ন সেবা দেয়া হতো। এ ছাড়া এখান থেকে একসময় ব্রিটেন গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের ভিসার আবেদন নেওয়া হতো এবং ভিসা দেয়া হতো। পরে ভিএফএস বাংলাদেশ প্রাইভেট লিমিটেডের মাধ্যমে সিলেট থেকে ব্রিটেনে গমনেচ্ছুকদের ভিসা আবেদন গ্রহণ ও ভিসা প্রদান কার্যক্রম শুরু করে। এরপরও সিলেট থেকে কনস্যুলেট অফিস গুটিয়ে নেয়নি ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ। তবে এবার কেন সেই অফিস গুটিয়ে নেওয়া হচ্ছে তা কেউ বলছে না। সিলেটে স্বতন্ত্র ব্রিটিশ কনস্যুলেট অফিস বন্ধ করে দেওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন প্রবাসীরা। প্রবাসীদের দেখভালকারী প্রতিষ্ঠান সিলেট ওভারসিজ সেন্টারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ ব্রিটিশ বাংলাদেশি রয়েছেন। এর মধ্যে ৯০ ভাগই সিলেটি, যাদের সিংহভাগ আবার ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী। এ ছাড়া প্রায় ৩০ হাজার ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী সিলেটে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। এর মধ্যে ১০ হাজার ব্যক্তি ব্র্রিটিশ সরকারের পেনশন পান। সিলেটে কনস্যুলেট অফিস বন্ধ করে দেওয়ায় তারা বেশি সমস্যায় পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
শামসুল আলম আরও বলেন, ‘প্রবাসীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সিলেটে স্বতন্ত্র ব্রিটিশ কনস্যুলেট অফিস খোলা হয়েছিল। কিন্তু সেটি বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা হতাশ, উদ্বিগ্ন।’ তিনি জানান, ব্রিটিশ কনস্যুলেট অফিসের মাধ্যমে দেশে থাকা প্রবাসীরা দ্রুততার সঙ্গে যে কোনো সেবা পেয়েছেন। তিনি বলেন, সিলেটে স্বতন্ত্র ব্রিটিশ কনস্যুলেট অফিস থাকাটা সিলেটিদের জন্য ছিল গর্বের। ভিসা কার্যক্রম দিল্লিতে সরিয়ে নেওয়ার পর এবার কনস্যুলেট অফিস সরিয়ে নেওয়াটা বাংলাদেশিদের জন্য চরম হতাশার।

ব্রিটেনে আনজেম চৌধুরীর পাঁচ বছরের জেল

ব্রিটেনে শীর্ষ ইসলামী সন্ত্রসী খ্যাত পাকিস্থানী বংশদ্ভূত আনজেম চৌধুরীকে পাঁচ বছরের কারাদন্ড দিয়েছে ওল্ডবেইলী আদালত। আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস এর সমর্থনে প্রচারণা চালানো ও বিভিন্ন সময় বিতর্কিত বক্তব্য দেবার কারণে গতকাল ৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বৃটেনে জন্ম নেয়া ৪৯ বছর বয়সী এই সন্ত্রাসীকে সাজা প্রদান করা হয়।ব্রিটেনসহ বিশ্ববাসী যখন আন্তর্জাতিক জঙ্গিসংগঠন ইসলামিক ষ্টেইটকে নিষিদ্ধ ঘোষণষা করে তখন আনজেম চৌধুরী বিভিন্ন ভাবে এই সংগঠনটিকে সহায়তা ও ব্রিটিশদের আইএস এ যোগদান করতে উৎসাহ প্রদান করেন বলে অ।ভিযোগ ওঠে। ব্রিটিশ আইনে কোন সন্ত্রাসী সংগঠনকে প্রকাশ্যে সমর্থন করা নিষিদ্ধ। তার সাথে তার অপর সহযোগী মিজানুর রহমানকেও একই অপরাধে পাঁচ বছরের জেল দেয় আদালত। সাজা ভোগের পর আরো পনরো বছর তাঁকে কঠোর নজরদারীতে থাকতে হবে। পাকিস্থানী বংশদ্বোত আনজেম চৌধুরী ইসলাম ফর ইউকে বা আল মোহাজিরিন নামের একটি সংগঠনেরও প্রধান। আদালতের রায়ে এই বিতর্কিত সংগঠনটিকেও নিষিদ্ধ করা হয় । আদালতে তিনি প্রতিটি ঘটনা অস্বীকার করেও পার পেতে পান নি, গোয়েন্দারা তার বিগত দিনের কর্মকানণ্ড আদালতে উপস্থাপন করলে তিনি তা স্বীকার করতে বাধ্য হন। তিনি নিজে একজন আইনজীবিও বটে। এর আগে উগ্রপন্থার দায়ে বৃটেন থেকে পরিবার সহ বিতারিত করা হয় লেবাননী বংশদ্বোত সন্ত্রাসী আবু কাদাদাকে এবং মিশরীয় বংশদ্ভোত অপর সন্ত্রাসী আবু হামজাকে তুলে দেয়া হয় আমেরিকার হাতে। গেল বছর এই আনজেম চৌধুরী পুর্ব লন্ডনের বাঙ্গালী অধ্যূসিত বাংলা টাউনে এসে মদ বিক্রি থেকে বিরত থাকতে ব্রিটিশ বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করে। বৃটেনের বাঙ্গালীদের পরিচালনাধীন কয়েকটি মসজিদের সাথে আনজেম চৌধুরীর যোগাযোগ ছিল, জামায়াতপন্থিদের দ্বারা পরিচালিত এই মসজিদগুলোও নজরদারীতে রয়েছে।

নর্থ ইংল্যান্ডের কর্মরত ব্রিটিশ বাংলাদেশী সাংবাদিকদের সাথে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রেস মিনিস্টার সাংবাদিক নাদিম কাদিরের মত বিনিময়

যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিস্টার প্রেস সাংবাদিক নাদিম কাদিরের সাথে নর্থ ইংল্যান্ডে কর্মরত বৃটিশ বাংলাদেশী সাংবাদিকদের সাথে এক মত বিনিময় সভা অনুষ্টিত হয় হাইডের স্থানীয় একটি রেষ্টুরেন্টে গত ৯ই আগষ্ট মঙ্গলবার সন্ধা ৭.০০ ঘটিকায়। চ্যানেল এস টেলিভিশনের ম্যানচেষ্টার বোরো চিফ মিজানুর রহমান মিজানের সভাপতিত্বে ও চ্যানেল এস টেলিভিশনের ওল্ডহ্যাম প্রতিনিধি সৈয়দ ছাদেক আহমদের সঞ্চালনায় এ মত বিনিময় সভায় আরোও উপস্থিত ছিলেন ম্যানচেষ্টার হাইকমিশনের কাউন্সেলর ড: ওহিদুর রহমান টিপু,সাংবাদিক ও গবেষক মতিয়ার চৌধুরী,লিভারপুল প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট শেখ ছুরত মিয়া আছাব, ব্রাডফোর্ড প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট কাউন্সিলার হাসান খান,বাংলাটিভির নর্থ বোরো চিফ গাউছুল ইমাম চৌধুরী, ব্রাডফোর্ড প্রেসক্লাবের ভাইস-প্রেসিডেন্ট কলনদর তালুকদার, চ্যানেল এস টেলিভিশনের লিডস প্রতিনিধি এমজি কিবরিয়া, বাংলাটিভির ম্যানচেষ্টার প্রতিনিধি মিসবাহ উদ্দিন আহমদ,বাংলাটিভির লিভারপুল প্রতিনিধি ম আজাদ,বাংলাটিভির ওল্ডহ্যাম প্রতিনিধি আহমদ আলী, এটিএন বাংলার লিভারপুল প্রতিনিধি আবু সাইদ চৌধুরী সাদী,চ্যানেল আই ইউরোপের হাইড প্রতিনিধি শাহ মনা মিয়া,এটিএন বাংলার হাইড প্রতিনিধি মামুনুর রহমান মামুন, বাংলাটিভির লিডস প্রতিনিধি শাহ সোহেল আহমদ,বাংলাটিভির সাউথপোর্ট প্রতিনিধি সৈয়দ ওয়াছেক আহমদ, এনটিভির হাইড প্রতিনিধি মো: জালাল ও বাপ্পি চৌধুরী । সভায় বক্তারা বৃটিশ বাংলাদেশী সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা বিস্থারিত তুলে ধরেন বলেন যে নর্থ ইংল্যান্ডে কর্মরত সাংবাদিকরা সবসময় অবহেলিত থাকেন এবং ভবিষ্যতে তাদেরকে যথাযত মুল্যায়ন করার ও দাবী জানানো হয়। মিনিস্টার প্রেস সাংবাদিক নাদিম কাদির বলেন বৃটশি বাংলাদশেি সাংবাদকিদরে সম্মান জানাতে ও দশেরে সঙ্গে সতেুবন্ধ তরৈি করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শখে হাসনিার অনুমোদনক্রমে মুক্তযিুদ্ধরে চতেনায় বশ্বিাসী বৃটশি বাংলাদশেি সাংবাদকিদরে জন্য আমার জন্মভূমি এর র্কাযক্রম শুরু করা হয়েছে এবং তিনি এ কার্যক্রমে সকল সাংবাদিকদের অংশগ্রহন করার জন্য আহব্বান জানান ।

ব্রিটেনের ইইউ-তে থাকা না থাকার প্রশ্নে আর কোনো গণভোট হবে না  ‘পেছনের দরজা দিয়ে’ ইইউতে ফেরার কোনো চেষ্টাও  করব না : থেরেসা মে

সংবাদ২৪ প্রতিবেদনঃ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন হোম সেক্রেটারী থেরেসা মে। টানা সাত বছর যাবত হোম সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা থেরেসা মে বলেছেন, যুক্তরাজ্যের ইইউ-তে থাকা না থাকার প্রশ্নে আর কোনো গণভোট হবে না। ‘পেছনের দরজা দিয়ে’ ইইউতে ফেরার কোনো চেষ্টাও তিনি করবেন না। তিনি বলে ডেভিড ক্যামেরুন একজন যোগ্য প্রধান মন্ত্রী ছিলেন তিনি দেশ পরিচালনায় তাঁকে অনুষরন করবেন। ৫৯ বছর বয়সী থেরেসা মে কনজারভেটিভদের মধ্যে আধুনিকতাপন্থি। তারপরও স্বল্পভাষী এই নারীর অনমনীয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে ব্রিটেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ‘লৌহমানবী’ মার্গারেট থ্যাচারের ছায়া খুঁজে পান সহকর্মীদের অনেকে এমন এক পরিস্থিতিতে  থেরেস  সরকার প্রধানের দায়িত্ব নিলেন  যখন বৃটেন একটি কঠিন সময় পার করছে।teresamay entaring no 10 with husband philip may থেরেসা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন এমন একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে, যিনি নির্ভরযোগ্য এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও দৃঢ় থাকতে পারেন।নিজেকে জাহির না করেও সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এই মনোবল থেরেসামে-কে এই সময়ের যুক্তরাজ্যের হাল ধরার জন্য ‘সঠিক ব্যক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।  ১৯৫৬ সালে সাসেক্সে জন্ম নেওয়া মে ১৯৯৭ সালে বার্কশায়ারের মেইডেনহেড থেকে প্রথমবার র্পালামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১০ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যান্ত তিনি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।গত ১০০ বছরে যে ক’জন এ পদে ছিলেন, মে’র সময়কাল তাদের মধ্যে ‘দ্বিতীয় সর্বোচ্চ’ বলে বিবিসির তথ্য। সাসেক্সে জন্ম হলেও মে বেড়ে ওঠেন অক্সফোর্ডশায়ারে। প্রথমে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে এবং পরে একটি ইনডিপেনডেন্ট কনভেন্ট স্কুলে তার প্রথম দিকের লেখাপড়া। অবশ্য গ্রামের বাড়ির গ্রামার স্কুলেই প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন মে, পরে ওই স্কুলের নাম হয় হুইটলি পার্ক কম্প্রিহেনসিভ স্কুল। মার্গারেট থ্যাচারের মতই মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা মে কিশোর বয়সে তার বাবার গড়া পেন্টোমাইমের দলে কাজ করেছেন। পকেট খরচ জোগাড় করছেন প্রতি শনিবার বেকারিতে কাজ করে। থেরেসা মের বাবা হুবার্ট ব্রেজিয়ার ছিলেন চার্চ অব ইংল্যান্ডের ‘ভাইকার’ (ডেপুটি)। গাড়ি দুর্ঘটনায় আঘাত পাওয়ার পর সেই ধকল সইতে না পেরে রোগ ভুগে যখন তার মৃত্যু হয়, মেয়ের বয়স তখন ২৫ বছর।সেন্ট হিউ কলেজে পড়াশোনা শেষে মে ভর্তি হন অক্সফোর্ডের ভূতত্ত্ব বিভাগে। সেখানেই পরিচয় হয় অক্সফোর্ড ইউনিয়নের তখনকার প্রেসিডেন্ট ফিলিপ মে’র সঙ্গে। বলা হয়, তাদের দুজনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বেনজির ভুট্টো, যিনি পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৮০ সালে ফিলিপের সঙ্গে বিয়ের পর থেরেসা ব্রেজিয়ার হয়ে যান থেরেসা মে। ওয়েস্টমিনস্টারের প্রথম দিনগুলোতে মে পরিচিত হয়ে ওঠেন তার জুতার সংগ্রহের জন্য। নানা রঙ আর আকৃতির হিল তাকে যেমন রাজনৈতিক মহলে পরিচিত করে তুলেছিল; তেমনি ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগের দৃষ্টিতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ব্রিটিশ রাজনীতির অন্দরমহলের একজন ফ্যাশন আইকন। রান্নার শখ আছে থেরেসামে’র। তার সংগ্রহে আছে একশর বেশি রান্নার বই। পাহাড়ে চড়তে পছন্দ করেন; ভালোবাসেন মোজার্ট ও এগারের সঙ্গীত। অ্যাবার ‘ড্যান্সিং কুইন’ আর ‘ওয়াক লাইক এ ম্যান’ তার প্রিয় অ্যালবাম। বন্ধুরা জানাচ্ছেন, লম্বা গড়নের ফ্যাশন সচেতন থেরেসা মে প্রথম জীবনে যুক্তরাজ্যের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু প্যাট ফ্রাঙ্কলেন্ড ২০১১ সালে বিবিসি রেডিও ফোরকে বলেন, “এমন কোনো সময়ের কথা আমার মনে পড়ে না যখন আমি তার মধ্যে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা দেখিনি। আমার মনে পড়ে, সে যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিল এবং মার্গারেট থ্যাচার যখন তা হয়ে গেল, তখন খানিকটা বিব্রতই যেন হয়েছিল।” 10 downing st teresa may
পরবর্তী জীবনে ‘অনাড়ম্বর ও স্বল্পভাষী’ হিসেবে পরিচিত মে তারুণ্যের দিনগুলোতে বেশ হাসিখুশি ও মিশুক ছিলেন বলেও জানান প্যাট। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর মে কাজ শুরু করেন ব্যাঙ্ক অব ইংল্যান্ডে। পরে তিনি পেমেন্ট ক্লিয়ারিং সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ইউরোপীয় অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধানও হয়েছিলেন।রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে দক্ষিণ লন্ডনের মের্টনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন মে; সেখানে দায়িত্ব পালন করেন প্রায় এক দশক। ১৯৯২ সালে উত্তর পশ্চিম ডারহামের লেবার অধ্যুষিত এলাকায় কনজারভেটিভ পার্টির হয়ে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মে। ওই আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন হিলারি আর্মস্ট্রং, যিনি টনি ব্লেয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের চিফ হুইপ হয়েছিলেন। ওই আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তরুণ টিম ফেরন, যিনি এখন লিবারেল ডেমোক্রেট দলের শীর্ষ নেতা। দুই বছর পর পূর্ব লন্ডনের বার্কিংয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মে। সে সময় কনজারভেটিভ পার্টি ছিল তুলনামূলক কম জনপ্রিয়। মে ওই নির্বাচনে ১,৭০০ভোট পান। ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে এসে ভাগ্য বদলায় থেরেসা মের। ওই নির্বাচনে লেবার পার্টি ও টনি ব্লেয়ার বিপুল ভোটে ক্ষমতায় এলেও বার্কশায়ারের মেইডেনহেড থেকে জিতে পার্লামেন্টে যান কনজারভেটিভ মে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ওই আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ১৭ বছর ধরে কনজারভেটিভ পার্টির শীর্ষ রাজনীতিক হিসেবে যে ক’জন নারীকে বিবেচনা করা হয় মে তাদের একজন। রক্ষণশীল দলটিকে ‘আধুনিক’ করতে সাহসী ও স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েও তিন প্রশংসিত হয়েছেন। ২০০২ সালে দলের এক কনফারেন্সে দলের নীতি নির্ধারকদের সমালোচনা করে মে বলেন, “আপনাদের জানা থাকা উচিত, অনেকেই আমাদের দলকে বলে নোংরা পার্টি।” ১৯৯৯ সালে ছায়া মন্ত্রীসভার সদস্য হয়ে যান থেরেসামে, ২০০২ সালে হন দলের প্রথম নারী চেয়ারম্যান। দলে অবস্থান মাইকেল হাওয়ার্ডের পরে থাকলেও প্রভাবশালী ‘নটিং হিল’ লবির ঘনিষ্ঠ ছিলেন না মে।1  ২০০৫ সালে তৃতীয়বারের মতো জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর এই লবি সংশ্লিষ্টরাই কনজারভেটিভ দলের হাল ধরেন। ডেভিড ক্যামেরন ও জর্জ অসবর্নের মত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা ওই লবির ঘনিষ্ঠ বলে বিবিসির তথ্য। ছায়া মন্ত্রীসভায় তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হত বলে সে সময় ‘প্রভাবশালী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন না মে। ২০০৯ সালে সে অবস্থা পাল্টে যায়, ছায়া মন্ত্রীসভার ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন সেক্রেটারির দায়িত্ব পান মে। ২০১০ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের পর লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের নিয়ে জোট সরকার গড়ে কনজারভেটিভরা। ওই বছরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অনেকের রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটালেও মের কাজ করেছেন ভিন্ন কায়দায়। বড় বড় বিষয়ের পাশাপাশি ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়েই তীক্ষ্ণ নজর ছিল তার। দলের অনেক নেতার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ থাকলেও সেসবকে পাত্তা দেননি মে। ডাউনিং স্ট্রিটের অনেকের সমালোচনা ছিল- মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিজের ব্যক্তিগত ‘জমিদারিতে’ পরিণত করেছেন। সেসব কথায় কান না দিয়ে ‘আপসহীন’ থেরেসামে নিরাপত্তাসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। “তিনি প্রায়ই জর্জ অসবর্নের সঙ্গে অভিবাসী ইস্যুতে বিতর্কে জড়িয়েছেন; মাইকেল গোভের সঙ্গেও তার বাদানুবাদ একবার বিপদজনক দিকে চলে গিয়েছিল; তবে ক্যামেরনের সঙ্গে তার মতের মিল ছিল বেশি,” বলেন কোয়ালিশন সরকারে মে’র তখনকার সহযোগী লিবারেল ডেমোক্রেটিক দলের নেতা ডেভিড ল। তিনি বলেন, “২০১০ সালে ট্রেজারি অফিসে মে’র সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়। সেসময় তাকে নার্ভাস মনে হচ্ছিল। হোম সেক্রেটারীর দায়িত্ব পাওয়ায় তাকে বেশ বিস্মিতও মনে হচ্ছিল। সত্যি কথা বলতে, আমিও ভাবিনি দুই বছরের বেশি তিনি ওই দায়িত্বে থাকতে পারবেন।” অনেক বিষয়ে উদার নীতি নিলেও ‘সন্ত্রাসবাদ রোধে ইন্টারনেটে নজরদারী’ বাড়ানোর বিষয়ে তখনকার উপপ্রধানমন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেট নেতা নিক ক্লেগের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন মে।সেসময় ‘কঠিন’ এক বৈঠকের পর মে’র ‘বরফ শীতল’ অভিব্যক্তির কথাও ল’কে জানান ক্লেগ।2

“সে আচরণে বেশ রহস্যময়ী এবং অনমনীয়। কঠিন ব্যবহার করলে তা মেনে নিয়েই সে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে,” বলেন ক্লেগ। অপরাধের মাত্রা কমিয়ে আনার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও সাফল্য পান মে। ২০১৩ সালে উগ্রপন্থি জঙ্গিনেতা আবু কাতাদাকে আটক মে’র সাফল্যের তালিকায় যুক্ত করে নতুন পালক। এছাড়া কম্পিউটার হ্যাকার গ্যারি ম্যাককিননকে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর ঠেকিয়ে দেওয়াটাও তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। পুলিশের দুর্নীতি কমাতে মে’র শক্ত অবস্থান তার প্রতি সমর্থন বাড়িয়ে দেয়। অবশ্য অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে না পারায় সমালোচনাও হয়েছে তার।দি-গার্ডিয়ান এর ভাষ্যমতে , ব্রেক্সিটের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পাশাপাশি থেরেসামেকে লিমিটেড কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদে বেতন নিয়ে আলোচনার সময় শ্রমিক প্রতিনিধিদের বাধ্যতামূলক উপস্থিতিসহ শ্রমিকবান্ধব পরিচালন নীতি নিশ্চিতে কাজ করতে হবে।কনজারভেটিভ দলের সাবেক চ্যান্সেলার কেন ক্লার্কের ভাষায়, মে হবেন ‘মার্গারেট থ্যাচারের মতই’ একজন।“মে তার কাজে বেশ দক্ষ, কিন্তু সে কঠিন এক নারী। অনেক কিছুর মিল না থাকলেও তাকে অনেকটা মার্গারেট থ্যাচারের মতই মনে হয়”। অন্য রাজনীতিবিদদের মতো ক্লাবে যেতে কিংবা হাউজ অব কমন্সের চা ঘরে গিয়ে টুকটাক আড্ডা দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না মে। নিজের ব্যক্তি জীবনকে তিনি অনেকটা আড়ালেই রেখেছেন। ২০১৩ সালে মে জানান, তার টাইপ-১ ডায়াবেটিস আছে। সেজন্য তাকে দিনে দুবার ইনসুলিন নিতে হয়। সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে দলের সঙ্গে থেরেসামে’র দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য রয়েছে। সমকামী বিয়েতে তার আপত্তি নেই। ২০১২ সালে তিনি গর্ভপাতের বিষয়েও ‘শর্তযুক্ত’ সমর্থনের কথা বলেন। তার মতে, ২০ থেকে ২৪ সপ্তাহের কম বয়সী ভ্রুণের ক্ষেত্রে গর্ভপাতে তিনি সমস্যা দেখেন না। বেশিরভাগ কনজারভেটিভ সাংসদ শিয়াল শিকারে নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করলেও মেইডেনহেডের এই এমপি এর বিপক্ষে। এক সময় যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে বের করে আনার প্রস্তাব দিলেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর আর সেই পথে না হাঁটার ঘোষণা দিয়েছেন মে। বলছেন, এর জন্য যে পরিমাণ সাংসদের সমর্থন দরকার, তা এ মুহূর্তে পাওয়া যাবে না। ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাড়িতে এ পর্যন্ত যারা থাকতে এসেছেন, তাদের মধ্যে বয়সের বিচারে ৫৯ বছর বয়সী মে’র অবস্থান দ্বিতীয়। ১৯৭৬ সালে নির্বাচিত জেমস কালাহানই কেবল তার চেয়ে বেশি বয়সে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আর টেড হিথের পর মে হচ্ছেন দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী, যার কোনো সন্তান নেই। গেল জুনে ব্রেক্সিট গণভোটে ‘বিচ্ছেদপন্থী’রা বিজয়ী হওয়ার পর ডেভিড ক্যামেরন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ার ঘোষণা দিলে মে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতা নির্বাচিত হন। সোমবার কনজারভেটিভ পার্টির পরবর্তী নেতা এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড় থেকে জ্বালানিমন্ত্রী আন্ড্রে লিডসম ‘হঠাৎ করেই’ সরে দাঁড়ানোয় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হয় থেরেসামে’র। দলের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার সদস্যের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল এ দুই নারীর। নির্বাচনের ফল প্রকাশের কথা ছিল ৯ সেপ্টেম্বরে। কিন্তু তার আগেই সোমবার লিডসম সরে দাঁড়ান। এর পরপরই ক্যামেরন পদত্যাগের আন্ষ্ঠুানিকতা শুরুর ঘোষণা দেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, খুব দ্রুত দলের শীর্ষ নেতার পদে আবির্ভূত হলেও মে সঙ্কটকালীন সময়ে তার অভিজ্ঞতা ও বিবেচনাবোধ কাজে লাগিয়েই অগ্রসর হবেন। আর মে মনে বলেছেন, ‘ব্রেক্সিটের’ ঝামেলা চুকানোর পাশাপাশি দলের ‘রিমেইন’ ও ‘লিভ’পন্থীদের এক করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য। “এই মুহূর্তে দলকে একতাবদ্ধ করা ও সবার ভালোর জন্য দেশ পরিচালনা করাই দেশপ্রেমের সবচেয়ে বড় নমুনা হবে। ভবিষ্যতের জন্য আমাদের দরকার শক্তিশালী ও নতুন ইতিবাচক দৃষ্টি। এমন একটা দেশ গড়তে হবে, যার কেবল সুবিধাভোগী কয়েকজনের হবে না, হয়ে উঠবে আমাদের সবার”, বলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

ব্রিটেনের ইইউ-তে থাকা না থাকার প্রশ্নে আর কোনো গণভোট হবে না  ‘পেছনের দরজা দিয়ে’ ইইউতে ফেরার কোনো চেষ্টাও  করব না ————-থেরেসা মে

সংবাদ২৪ প্রতিবেদনঃ ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিলেন হোম সেক্রেটারী থেরেসা মে। টানা সাত বছর যাবত হোম সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা থেরেসা মে বলেছেন, যুক্তরাজ্যের ইইউ-তে থাকা না থাকার প্রশ্নে আর কোনো গণভোট হবে না। ‘পেছনের দরজা দিয়ে’ ইইউতে ফেরার কোনো চেষ্টাও তিনি করবেন না। তিনি বলেন, ডেভিড ক্যামেরন একজন যোগ্য প্রধান মন্ত্রী ছিলেন তিনি দেশ পরিচালনায় তাঁকে অনুষরন করবেন।teresamay entaring no 10 with husband philip may ৫৯ বছর বয়সী থেরেসা মে কনজারভেটিভদের মধ্যে আধুনিকতাপন্থি। তারপরও স্বল্পভাষী এই নারীর অনমনীয় ব্যক্তিত্বের মধ্যে ব্রিটেনের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ‘লৌহমানবী’ মার্গারেট থ্যাচারের ছায়া খুঁজে পান সহকর্মীদের অনেকে এমন এক পরিস্থিতিতে  থেরেস  সরকার প্রধানের দায়িত্ব নিলেন  যখন বৃটেন একটি কঠিন সময় পার করছে থেরেসা তখন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন এমন একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে, যিনি নির্ভরযোগ্য এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও দৃঢ় থাকতে পারেন।নিজেকে জাহির না করেও সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এই মনোবল থেরেসামে-কে এই সময়ের যুক্তরাজ্যের হাল ধরার জন্য ‘সঠিক ব্যক্তি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।  ১৯৫৬ সালে সাসেক্সে জন্ম নেওয়া মে ১৯৯৭ সালে বার্কশায়ারের মেইডেনহেড থেকে প্রথমবার র্পালামেন্ট সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১০ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগ পর্যান্ত তিনি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।গত ১০০ বছরে যে ক’জন এ পদে ছিলেন, মে’র সময়কাল তাদের মধ্যে ‘দ্বিতীয় সর্বোচ্চ’ বলে বিবিসির তথ্য। সাসেক্সে জন্ম হলেও মে বেড়ে ওঠেন অক্সফোর্ডশায়ারে। প্রথমে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক স্কুলে এবং পরে একটি ইনডিপেনডেন্ট কনভেন্ট স্কুলে তার প্রথম দিকের লেখাপড়া। 10 downing st teresa mayঅবশ্য গ্রামের বাড়ির গ্রামার স্কুলেই প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করেন মে, পরে ওই স্কুলের নাম হয় হুইটলি পার্ক কম্প্রিহেনসিভ স্কুল। মার্গারেট থ্যাচারের মতই মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠা মে কিশোর বয়সে তার বাবার গড়া পেন্টোমাইমের দলে কাজ করেছেন। পকেট খরচ জোগাড় করছেন প্রতি শনিবার বেকারিতে কাজ করে। থেরেসা মের বাবা হুবার্ট ব্রেজিয়ার ছিলেন চার্চ অব ইংল্যান্ডের ‘ভাইকার’ (ডেপুটি)। গাড়ি দুর্ঘটনায় আঘাত পাওয়ার পর সেই ধকল সইতে না পেরে রোগ ভুগে যখন তার মৃত্যু হয়, মেয়ের বয়স তখন ২৫ বছর।সেন্ট হিউ কলেজে পড়াশোনা শেষে মে ভর্তি হন অক্সফোর্ডের ভূতত্ত্ব বিভাগে। সেখানেই পরিচয় হয় অক্সফোর্ড ইউনিয়নের তখনকার প্রেসিডেন্ট ফিলিপ মে’র সঙ্গে। বলা হয়, তাদের দুজনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বেনজির ভুট্টো, যিনি পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৮০ সালে ফিলিপের সঙ্গে বিয়ের পর থেরেসা ব্রেজিয়ার হয়ে যান থেরেসা মে। ওয়েস্টমিনস্টারের প্রথম দিনগুলোতে মে পরিচিত হয়ে ওঠেন তার জুতার সংগ্রহের জন্য। নানা রঙ আর আকৃতির হিল তাকে যেমন রাজনৈতিক মহলে পরিচিত করে তুলেছিল; তেমনি ফ্যাশন ম্যাগাজিন ভোগের দৃষ্টিতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন ব্রিটিশ রাজনীতির অন্দরমহলের একজন ফ্যাশন আইকন। রান্নার শখ আছে থেরেসামে’র। তার সংগ্রহে আছে একশর বেশি রান্নার বই। পাহাড়ে চড়তে পছন্দ করেন; ভালোবাসেন মোজার্ট ও এগারের সঙ্গীত। অ্যাবার ‘ড্যান্সিং কুইন’ আর ‘ওয়াক লাইক এ ম্যান’ তার প্রিয় অ্যালবাম। বন্ধুরা জানাচ্ছেন, লম্বা গড়নের ফ্যাশন সচেতন থেরেসা মে প্রথম জীবনে যুক্তরাজ্যের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। তার বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু প্যাট ফ্রাঙ্কলেন্ড ২০১১ সালে বিবিসি রেডিও ফোরকে বলেন, “এমন কোনো সময়ের কথা আমার মনে পড়ে না যখন আমি তার মধ্যে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা দেখিনি। আমার মনে পড়ে, সে যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিল এবং মার্গারেট থ্যাচার যখন তা হয়ে গেল, তখন খানিকটা বিব্রতই যেন হয়েছিল।”

1পরবর্তী জীবনে ‘অনাড়ম্বর ও স্বল্পভাষী’ হিসেবে পরিচিত মে তারুণ্যের দিনগুলোতে বেশ হাসিখুশি ও মিশুক ছিলেন বলেও জানান প্যাট। গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পর মে কাজ শুরু করেন ব্যাঙ্ক অব ইংল্যান্ডে। পরে তিনি পেমেন্ট ক্লিয়ারিং সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ইউরোপীয় অ্যাফেয়ার্স ইউনিটের প্রধানও হয়েছিলেন।রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে দক্ষিণ লন্ডনের মের্টনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন মে; সেখানে দায়িত্ব পালন করেন প্রায় এক দশক। ১৯৯২ সালে উত্তর পশ্চিম ডারহামের লেবার অধ্যুষিত এলাকায় কনজারভেটিভ পার্টির হয়ে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মে। ওই আসনে বিজয়ী হয়েছিলেন হিলারি আর্মস্ট্রং, যিনি টনি ব্লেয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের চিফ হুইপ হয়েছিলেন। ওই আসনে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তরুণ টিম ফেরন, যিনি এখন লিবারেল ডেমোক্রেট দলের শীর্ষ নেতা। দুই বছর পর পূর্ব লন্ডনের বার্কিংয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মে। সে সময় কনজারভেটিভ পার্টি ছিল তুলনামূলক কম জনপ্রিয়। মে ওই নির্বাচনে ১,৭০০ভোট পান। ১৯৯৭ সালের নির্বাচনে এসে ভাগ্য বদলায় থেরেসা মের। ওই নির্বাচনে লেবার পার্টি ও টনি ব্লেয়ার বিপুল ভোটে ক্ষমতায় এলেও বার্কশায়ারের মেইডেনহেড থেকে জিতে পার্লামেন্টে যান কনজারভেটিভ মে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত তিনি ওই আসনের প্রতিনিধিত্ব করছেন। ১৭ বছর ধরে কনজারভেটিভ পার্টির শীর্ষ রাজনীতিক হিসেবে যে ক’জন নারীকে বিবেচনা করা হয় মে তাদের একজন। রক্ষণশীল দলটিকে ‘আধুনিক’ করতে সাহসী ও স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েও তিন প্রশংসিত হয়েছেন। ২০০২ সালে দলের এক কনফারেন্সে দলের নীতি নির্ধারকদের সমালোচনা করে মে বলেন, “আপনাদের জানা থাকা উচিত, অনেকেই আমাদের দলকে বলে নোংরা পার্টি।” ১৯৯৯ সালে ছায়া মন্ত্রীসভার সদস্য হয়ে যান থেরেসামে, ২০০২ সালে হন দলের প্রথম নারী চেয়ারম্যান। দলে অবস্থান মাইকেল হাওয়ার্ডের পরে থাকলেও প্রভাবশালী ‘নটিং হিল’ লবির ঘনিষ্ঠ ছিলেন না মে। ২০০৫ সালে তৃতীয়বারের মতো জাতীয় নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর এই লবি সংশ্লিষ্টরাই কনজারভেটিভ দলের হাল ধরেন। ডেভিড ক্যামেরন ও জর্জ অসবর্নের মত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা ওই লবির ঘনিষ্ঠ বলে বিবিসির তথ্য। ছায়া মন্ত্রীসভায় তুলনামূলক কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হত বলে সে সময় ‘প্রভাবশালী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন না মে। 2

২০০৯ সালে সে অবস্থা পাল্টে যায়, ছায়া মন্ত্রীসভার ওয়ার্ক অ্যান্ড পেনশন সেক্রেটারির দায়িত্ব পান মে। ২০১০ সালের নির্বাচনে লেবার পার্টির পরাজয়ের পর লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের নিয়ে জোট সরকার গড়ে কনজারভেটিভরা। ওই বছরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান মে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব অনেকের রাজনৈতিক জীবনের ইতি ঘটালেও মের কাজ করেছেন ভিন্ন কায়দায়। বড় বড় বিষয়ের পাশাপাশি ছোট অথচ গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয়েই তীক্ষ্ণ নজর ছিল তার। দলের অনেক নেতার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ থাকলেও সেসবকে পাত্তা দেননি মে। ডাউনিং স্ট্রিটের অনেকের সমালোচনা ছিল- মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নিজের ব্যক্তিগত ‘জমিদারিতে’ পরিণত করেছেন। সেসব কথায় কান না দিয়ে ‘আপসহীন’ থেরেসামে নিরাপত্তাসহ জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। “তিনি প্রায়ই জর্জ অসবর্নের সঙ্গে অভিবাসী ইস্যুতে বিতর্কে জড়িয়েছেন; মাইকেল গোভের সঙ্গেও তার বাদানুবাদ একবার বিপদজনক দিকে চলে গিয়েছিল; তবে ক্যামেরনের সঙ্গে তার মতের মিল ছিল বেশি,” বলেন কোয়ালিশন সরকারে মে’র তখনকার সহযোগী লিবারেল ডেমোক্রেটিক দলের নেতা ডেভিড ল। তিনি বলেন, “২০১০ সালে ট্রেজারি অফিসে মে’র সঙ্গে আমার প্রথম দেখা হয়। সেসময় তাকে নার্ভাস মনে হচ্ছিল। হোম সেক্রেটারীর দায়িত্ব পাওয়ায় তাকে বেশ বিস্মিতও মনে হচ্ছিল। সত্যি কথা বলতে, আমিও ভাবিনি দুই বছরের বেশি তিনি ওই দায়িত্বে থাকতে পারবেন।” অনেক বিষয়ে উদার নীতি নিলেও ‘সন্ত্রাসবাদ রোধে ইন্টারনেটে নজরদারী’ বাড়ানোর বিষয়ে তখনকার উপপ্রধানমন্ত্রী ও লিবারেল ডেমোক্রেট নেতা নিক ক্লেগের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন মে।সেসময় ‘কঠিন’ এক বৈঠকের পর মে’র ‘বরফ শীতল’ অভিব্যক্তির কথাও ল’কে জানান ক্লেগ।

“সে আচরণে বেশ রহস্যময়ী এবং অনমনীয়। কঠিন ব্যবহার করলে তা মেনে নিয়েই সে আলোচনা চালিয়ে যেতে পারে,” বলেন ক্লেগ। অপরাধের মাত্রা কমিয়ে আনার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও সাফল্য পান মে। ২০১৩ সালে উগ্রপন্থি জঙ্গিনেতা আবু কাতাদাকে আটক মে’র সাফল্যের তালিকায় যুক্ত করে নতুন পালক। এছাড়া কম্পিউটার হ্যাকার গ্যারি ম্যাককিননকে যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর ঠেকিয়ে দেওয়াটাও তাকে জনপ্রিয় করে তোলে। পুলিশের দুর্নীতি কমাতে মে’র শক্ত অবস্থান তার প্রতি সমর্থন বাড়িয়ে দেয়। অবশ্য অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে না পারায় সমালোচনাও হয়েছে তার।দি-গার্ডিয়ান এর ভাষ্যমতে , ব্রেক্সিটের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পাশাপাশি থেরেসামেকে লিমিটেড কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদে বেতন নিয়ে আলোচনার সময় শ্রমিক প্রতিনিধিদের বাধ্যতামূলক উপস্থিতিসহ শ্রমিকবান্ধব পরিচালন নীতি নিশ্চিতে কাজ করতে হবে।কনজারভেটিভ দলের সাবেক চ্যান্সেলার কেন ক্লার্কের ভাষায়, মে হবেন ‘মার্গারেট থ্যাচারের মতই’ একজন।“মে তার কাজে বেশ দক্ষ, কিন্তু সে কঠিন এক নারী। অনেক কিছুর মিল না থাকলেও তাকে অনেকটা মার্গারেট থ্যাচারের মতই মনে হয়”। অন্য রাজনীতিবিদদের মতো ক্লাবে যেতে কিংবা হাউজ অব কমন্সের চা ঘরে গিয়ে টুকটাক আড্ডা দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না মে। নিজের ব্যক্তি জীবনকে তিনি অনেকটা আড়ালেই রেখেছেন। ২০১৩ সালে মে জানান, তার টাইপ-১ ডায়াবেটিস আছে। সেজন্য তাকে দিনে দুবার ইনসুলিন নিতে হয়। সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে দলের সঙ্গে থেরেসামে’র দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য রয়েছে। সমকামী বিয়েতে তার আপত্তি নেই। ২০১২ সালে তিনি গর্ভপাতের বিষয়েও ‘শর্তযুক্ত’ সমর্থনের কথা বলেন। তার মতে, ২০ থেকে ২৪ সপ্তাহের কম বয়সী ভ্রুণের ক্ষেত্রে গর্ভপাতে তিনি সমস্যা দেখেন না। বেশিরভাগ কনজারভেটিভ সাংসদ শিয়াল শিকারে নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করলেও মেইডেনহেডের এই এমপি এর বিপক্ষে। এক সময় যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে বের করে আনার প্রস্তাব দিলেও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর আর সেই পথে না হাঁটার ঘোষণা দিয়েছেন মে। বলছেন, এর জন্য যে পরিমাণ সাংসদের সমর্থন দরকার, তা এ মুহূর্তে পাওয়া যাবে না। ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাড়িতে এ পর্যন্ত যারা থাকতে এসেছেন, তাদের মধ্যে বয়সের বিচারে ৫৯ বছর বয়সী মে’র অবস্থান দ্বিতীয়। ১৯৭৬ সালে নির্বাচিত জেমস কালাহানই কেবল তার চেয়ে বেশি বয়সে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আর টেড হিথের পর মে হচ্ছেন দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী, যার কোনো সন্তান নেই। গেল জুনে ব্রেক্সিট গণভোটে ‘বিচ্ছেদপন্থী’রা বিজয়ী হওয়ার পর ডেভিড ক্যামেরন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ছাড়ার ঘোষণা দিলে মে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতা নির্বাচিত হন। সোমবার কনজারভেটিভ পার্টির পরবর্তী নেতা এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড় থেকে জ্বালানিমন্ত্রী আন্ড্রে লিডসম ‘হঠাৎ করেই’ সরে দাঁড়ানোয় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথ সুগম হয় থেরেসামে’র। দলের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার সদস্যের ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ছিল এ দুই নারীর। নির্বাচনের ফল প্রকাশের কথা ছিল ৯ সেপ্টেম্বরে। কিন্তু তার আগেই সোমবার লিডসম সরে দাঁড়ান। এর পরপরই ক্যামেরন পদত্যাগের আন্ষ্ঠুানিকতা শুরুর ঘোষণা দেন। বিশ্লেষকদের ধারণা, খুব দ্রুত দলের শীর্ষ নেতার পদে আবির্ভূত হলেও মে সঙ্কটকালীন সময়ে তার অভিজ্ঞতা ও বিবেচনাবোধ কাজে লাগিয়েই অগ্রসর হবেন। আর মে মনে বলেছেন, ‘ব্রেক্সিটের’ ঝামেলা চুকানোর পাশাপাশি দলের ‘রিমেইন’ ও ‘লিভ’পন্থীদের এক করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য। “এই মুহূর্তে দলকে একতাবদ্ধ করা ও সবার ভালোর জন্য দেশ পরিচালনা করাই দেশপ্রেমের সবচেয়ে বড় নমুনা হবে। ভবিষ্যতের জন্য আমাদের দরকার শক্তিশালী ও নতুন ইতিবাচক দৃষ্টি। এমন একটা দেশ গড়তে হবে, যার কেবল সুবিধাভোগী কয়েকজনের হবে না, হয়ে উঠবে আমাদের সবার”, বলেন নতুন প্রধানমন্ত্রী।

UK Jubo League: Oppose anti liberation dark forces of Jamaat Shibir Ansar Ahmed Ullah

 

Bangladesh is now rapidly progressing under the able leadership of Prime Minister Sheikh Hasina while the anti liberation dark forces are conspiring to prevent development work in Bangladesh said guests at UK Jubo League’s hosted Iftar Mahfil for party workers, journalists, civil society leaders and businessmen held on 27 June in Impressions venue, East London.Chief guest at the event was UK Awami League’s President Sultan Shariff. Prior to Iftar a brief discussion was chaired by Jubo League’s President Fokhrul Islam Modhu & conducted by General Secretary Salim Ahmed KhanMain speaker was UK Awami League’s Acting Secretary Noim Uddin Riaz. Special guests were UK Awami League’s senior vice president Alhj Zalal Uddin, European Awami League’s Secretary M A Gani, UK Awami League’s Vice president Prof Abul Hashem, Joint Secretary Anwaruzzaman Chowdhury, organising Secretary Abdul Ahad Chowdhury, Jubo League’s Jamal Ahmed Khan, Afzal Hussain, Syed Azizur Rahman Shamim, Montor Ali Raju, Firoz Miah, Shamsadur Rahman Rahin, Anwarul Islam, Sheikh Nurul Islam Jitu, Aminul Islam Rabel, Syed Abdul Mumin, Delwar Hussain Liton, Syed Shofiul Alam, M A Rakib, Foyezur Rahman Foyez, Abul Kalam Raju, Jubair Ahmed, Babul Khan, Lilu Miah Talukder,  Dilal Ahmed, Mahmud Ali, Dolon Miah, Mohsin Talukder, Tanti League’s convenor M A Salam, Krishak League’s convenor M A Ali, Karmajibi League’s secretary M A Basir, Jubo Mohila League’s president Yasmin Sultan Polin, secretary Sajia  Snigdha, Chatra League’s president Tamim Ahmed, secretary Sanjib Bhuiyan amongst others.The speakers from various sections of the community said the enemies of Bangladesh are trying to destabilise Bangladesh by carrying out targeted killings of foreign nationals, members of minority community and secular activists. They want to turn Bangladesh into a militant state. We need to remain united to oppose these dark forces.

 

 

 

 

ইইউ থেকে ব্রিটেনকে দ্রুত বেরিয়ে যাবার আহ্বান জানালেন ইইউ পার্লামেন্ট প্রধান মার্টিন শুলৎজ

যুক্তরাজ্যের মানুষ ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর এ নিয়ে আর মোটেই দেরি করতে চাইছেন না জোটের নেতারা। বিচ্ছেদ প্রক্রিয়া নিয়ে কাল মঙ্গলবারই আলোচনা শুরুর জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রধান মার্টিন শুলৎজ।
গণভোটের রায় নিয়ে যুক্তরাজ্যের মধ্যেও চলছে নানা ধরনের ভাঙাগড়া। এর মধ্যে স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জন গতকাল রোববার বলেছেন, ইইউ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া আটকে দিতে স্কটিশ পার্লামেন্ট ভেটো দেবে।
মার্টিন শুলৎজ গতকাল জার্মানির বিল্ড আম সান্টাগ পত্রিকাকে বলেন, ‘জোট থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়া যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে দেরি করা হলে তাতে আরও বেশি অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হবে এবং এতে করে চাকরিবাজার হুমকির মুখে পড়বে। কাজেই আমরা চাই ব্রিটিশ সরকার এগিয়ে আসুক। আগামী মঙ্গলবার যে সম্মেলন শুরু হচ্ছে, আলোচনা শুরু করার সেটিই সঠিক সময়।’
গণভোটের রায় নিয়ে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার সম্মেলন ডেকেছে ইইউ। এ ছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টেরও বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে।
গণভোটের রায় নিয়ে লন্ডন ও স্কটল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। সেখানকার অনেক মানুষ চাইছে দ্বিতীয় দফায় গণভোটের আয়োজন করা হোক। এ দাবিতে তারা ৩২ লাখের বেশি স্বাক্ষর সংগ্রহ করে ফেলেছে গত দুই দিনে।
এদিকে, স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টার্জন গতকাল বলেছেন, যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে বিচ্ছিন্নতা চাইলেও তিনি ইইউতে স্কটল্যান্ডের অবস্থান বহাল রাখতে চান। এ লক্ষ্যে তাঁর সরকার আইনি পথ বেছে নিতে পারে। ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রক্রিয়ায় ভেটো দেবে স্কটিশ পার্লামেন্ট।
গত বৃহস্পতিবারের গণভোটে স্কটল্যান্ডের ৬২ শতাংশ ভোটার ইইউতে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছেন। যুক্তরাজ্যকে উদ্দেশ করে স্টার্জন বলেন, ২০১৪ সালে স্বাধীনতা প্রশ্নে আয়োজিত গণভোটে স্কটল্যান্ড যুক্তরাজ্যের সঙ্গে থেকে যাওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছিল। কিন্তু সেই রায় গত বৃহস্পতিবার ইইউর সঙ্গে থাকা না-থাকার গণভোটের পর ‘আর কার্যকর নয়’।

পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেবিড ক্যামেরন

লন্ডন প্রতিনিধিঃ ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে ব্রিটেনে থাকবে কি না, এ নিয়ে অনুষ্ঠিত  রেফারেন্ডামে লিভের পক্ষ অর্থাৎ ইইউরোপীয়ান ইউনিয়ন ত্যাগের পক্ষে ভোটারদের রায় আসার পরে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেডিভ ক্যামরন। আগামী অক্টোবরে তিনি পদত্যাগ করবেন। প্রধানমন্ত্রী রিমেইন বা ইইউতে থাকার পক্ষে ছিলেন। বৃহস্পতিবার ভোটাভুটির আগে প্রায় এক মাসের বেশি সময় ইইউতে থাকার পক্ষে জনগণের মতামত টানতে চেষ্টা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরন। শুক্রবার ভোরে  ব্রিটিশ জনগন  ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের পক্ষে রায় দেবার পর ১০নাম্বার ডাউনিং স্ট্রীটের সামনে পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামরন। এ সময় স্ত্রী সামান্তা ক্যামরন প্রধানমন্ত্রীর পাশে ছিলেন।

রেফারেন্ডামে ৪৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ভোটারের মধ্যে ৭২ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। এরমধ্যে ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার লিভের পক্ষে রায় দিয়েছেন। রিমেইনের পক্ষে আছেন ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ ভোটার। আর রিজেক্ট হয়েছে ২৬ হাজার ৩৩ ভোট। এদিকে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের গভর্ণর মার্ক কারর্নি এক বিবৃতিতে বলেছেন, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড দেশের ব্যাংক এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করতে অতিরিক্ত ২শ ৫০ বিলিয়ন পাউন্ড সরবারহ করতে প্রস্তুত রয়েছে।লেবার লিডার জেরেমি করবিন রিমেইনের পক্ষে ক্যাম্পেইন করেছেন। তবে লিভ জয়ী হওয়ার পেছনে তিনি টোরি সরকারের অনবরত স্পেন্ডিং কাটকে দায়ী করেন। সাধারণ মানুষ  সরকারের কাট এবং কঠোর নীতি কারণে হতাশ হয়েই লিভের পক্ষে রায় দিয়েছে বলে মনে করেন লেবার লিডার জেরেমি করবিন এমপি।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net