শিরোনাম

যুক্তরাজ্য

ইউরোপে না থাকার পক্ষে রায় দিয়েছেন ব্রিটেনবাসী

লন্ডন থেকে, মতিয়ার চৌধুরীঃ ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যুক্তরাজ্যের থাকা না-থাকা নিয়ে গণভোটের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ইইউ ছাড়ার পক্ষেই  রায় দিয়েছে ব্রিটেনের জনগণ। leaveএর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে ব্রিটেনের ৪৩ বছরের বন্ধন ছিন্ন হলো। লিভ পন্থিরা পেয়েছেন ৫১দশমিক ৯শতাংশ। আর রিমেইন পন্থিরা পেয়েছেন ৪৮দশমিক ১শতাংশ ভোট। মোট কাষ্ট হওয়া ভোটের ১কোটি ৭৪ লক্ষ দশ হাজার ৭৩২ ভোটে জয়ী হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগ করার পক্ষে লিভপন্থিরা। অন্যদিকে ইইউতে থাকার পক্ষে রিমেইন পন্থিরা পেয়েছে এককোটি ৬১লাখ ৪২হাজার ২২১ ভোট।  মোট কাষ্ট হওয়া ভোটের ১৩লাখ বেশী ভোট পেয়ে বিজয়ী হলো লিভ।  ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের বিভিন্ন অঞ্চলে ইইউ ছাড়ার পক্ষে ব্যাপক ভোট পড়ে। স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে থাকার পক্ষে বেশি ভোট পড়েছে।যুক্তরাজ্যের ইইউতে থাকা না-থাকা নিয়ে ভোট শুরু হয় স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায়। ভোট শেষ হয় রাত ১০টায়। এর পরপরই বেসরকারিভাবে ফল ঘোষণা হতে থাকে।সাম্প্রতিক সময়ের অন্য যেকোন নির্বাচনের চেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ গণভোটে অংশ নিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। নির্বাচনের দিন আন্তর্জাতিক লেনদেনে ইউরো এবং স্টার্লিং এর দর এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।এই গণভোটটিকে ব্রিটেনের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল এক সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। লিভপন্থিরা এটিকে বৃটেনের জন্যে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন। বিভিন্ন দেশের  ৪মিলিয়নেরও বেশী মানুষ যারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নাগরিকত্ব নিয়ে ব্রিটেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন তাদের ফেরত যেতে হবে আবার ইউরোপে। ব্রিটেন ইউরোপের সাথে থাকলে অভিবাসন আটকানো ছিল অসম্ভব, প্রতিদিনই বাড়ছিল  ইউরোপীয় অভিবাসির সংখ্যা। গত কয়েক বছরে এককোটিরও বেশী সাউথ এশিয়ান ইউরোপীয় থেকে প্রবেশ করেছে ব্রিটেনে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে ইতিমধ্যেই ব্রিটেনে এসেছে ৩লক্ষের ও বেশী বাংলাদেশী। এর অধিকাংশই প্রবেশ করেছে ইতালী, স্পেন, ব্রাজিল ও ইষ্ট-ইউরোপীয় দেশ থেকে।

দুর্বৃত্তদের গুলি এবং ছুরিকাঘাতে  বৃটেনের লেবার দলীয় এমপি জো-কস্ক নিহত

লন্ডন প্রতিনিধিঃ দুর্বৃত্তদের গুলি এবং ছুরিকাঘাতে লেবার দলীয় এমপি জো-কস্ক (৪১) মারা গেছেন। তিনি ইংল্যান্ডের  ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের ব্যাটলি ও স্পিন এলাকা থেকে লেবার পার্টির নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। আজ দুপুরে তার নির্বাচনী এলাকায় হামলাকারীরা তাঁকে গুলি এবং ছুরিকাঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন,  দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নেয়া হলে কয়েক ঘণ্টা পর মারা যান। কেন এই হত্যাকান্ড তা এখনও নিশ্চত করে বলা যাচ্ছেনা । জো কক্স ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সিরিয়া বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন। তবে তাঁর ওপর কেন বা কারা হামলা চালিয়েছিল- এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু জানা যায়নি। নির্বাচনী এলাকা ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের ব্রিস্টলে স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জো কক্সের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। জো কক্সের নির্বাচনী এলাকার পুলিশের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।  জানা গেছে, এই ঘটনার সময়  ৭৭ বছর বয়সী আরো এক ব্যক্তি  আহত হয়েছেন। এলাকটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। এহামলার নিন্দা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেবিড কেমেরুন ও লেবার নেতা জেরেমি করবিন। জানা গেছে নিহত এমপির দুটি শিশু সন্তান রয়েছে।

ক্যাপশনঃ ছবি আছে।

(মতিয়ার চৌধুরী লন্ডন ১৬জুন ২০১৬।)

 

বাংলামিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ইফতার মাহফিল

লন্ডনঃ জননেত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে ২০২১ সালের পূর্বেই বাংলাদেশ একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হবে। শত প্রতিকুলতা অতিক্রম করে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে কাজ করে যাচ্ছেন জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনা, এই রমজানের দিনে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি আল্লাহ যেন তাঁকে দীর্ঘায়ু করেন। এমন্তব্য যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক সুলতান মাহমুদ শরীফের। গতাকাল ১১জুন ইস্ট লন্ডনের কাফেগ্রীল রেস্টুরেন্ট ব্রিটেনে কর্মরত বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকদের সম্মানে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন একটি মহল দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে ও উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্থ করতে একের পর এক ষড়যন্ত্র করছে, এই ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে হবে। তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে সাংবাদিকরা বিশেষ ভূমিকা রাখছেন তাই প্রধান মন্ত্রীর কারামুক্তি দিবসে সাংবাদিকদের সম্মানে এই আয়োজন। ইফতার মাহফিলে আরো বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহসভাপতি জালাল উদ্দিন, সামসুদ্দিন মাষ্টার, অধ্যাপক আবুল হাসেম, যুগ্ম সম্পাদক নইমুদ্দিন রিয়াজ, মারুফ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল অহাদ চৌধুরী, সারব আলী, মহিলা আওয়ামী লীগের হোসনেয়ারা মতিন, মেহের নিগার চৌধুরী সহ যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ও শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরা। ইফতার মাহলিফে সিনিয়র সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আবু মুসা হাসান, মতিয়ার চৌধুরী, উর্মি মাজহার, সৈয়দ নাহাস পাশা, আনসার আহমেদ উল্লাহ, মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, সায়েম চৌধুরী, শাহাব উদ্দিন বেলাল, সৈয়দ তানভির আহমদ, নাজিম চৌধুরী, মিলটন রহমান, জাকির হোসেন কয়েছ, আব্দুল কাদির মুরাদ, মুরাদসহ অনেকে। ইফতার মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

Another Bengali takes oath as a Mayor Ansar Ahmed Ullah

Luton Borough Council has appointed its first Mayor of Bangladesh origin at
a special meeting held on 25 May at Luton Town Hall. The Mayoral Investiture
held at Council Chamber formally appointed Tahir Khan as the new Mayor of
Luton to serve 2016-2017. Tahir Khan was elected Mayor of the Borough of
Luton at Annual Meeting of the Council on 17 May.

The event started with prayers from Imam Uddin. Tahir Khan took the oath
declaring, ‘Having been elected to the office of Mayor of Luton Borough
Council, hereby declare that I take that office upon myself, and will duly &
faithfully fulfil the duties of it according to best of my judgement and
ability.’ And with that the Chief Executive formally presented the Chain and
Badge of Office of Mayor. Tahir Khan’s wife Shubeerar Akthar was also
invested with Mayoress’s Badge.

In a brief address the new Mayor Tahir Khan thanked his parents, family &
the Bengali community for their support and almighty Allah. He appealed to
all to assist him in working towards the betterment of Luton as a whole.

He was elected as Councillor in 2007 and has served on a number of
committees.  He successfully served as Lead Executive Member for Children
Services for five years. He is also on the Board of Directors at London
Luton Airport Limited and has served as a school governor for over 15 years,
currently acting as Chair of Governors at Denbigh Primary.
Tahir Khan has lived in Luton for almost twenty five years. He comes from
youth & community work background and is currently working as senior manager
in local government. He has worked for Bedfordshire County Council, Luton
Borough Council and some of the London boroughs. His special interests
include young people’s issues and developing opportunities for them to
participate in positive activities.
His involvement with the community started with the Bangladesh Youth League
and Centre for Youth & Community Development in Bury Park. Tahir Khan spent
his teenage years in Luton. He studied Community Management at the
University of Bedfordshire.

He is originally from Jagannathpur, Sylhet. He completed his primary and
secondary education in Bangladesh. But before finishing high school he came
to the UK in 1982 to join his father. His parents are Warish Khan and
Meherunnesa Khanom. Tahir Khan is married with two daughters and a son who
were all present at the investiture. He was elected as a councillor in 2007,
then in 2011, 2015 and finally became Mayor in 2016.

 

বিবিসিসিআইয়ের ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী গালা ডিনার ও নতুন পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ

লন্ডনঃ ব্রিটেনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ব্যবাসায়ীদের  সংগঠন ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (বিবিসিসিআই) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী গালা ডিনার গত ২৪ মে মঙ্গলবার পূর্ব লন্ডনের অ্যাট্রিয়াম ব্যানকুইটিং হলো। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্টানে  বিবিসিসিআই-এর ডাইরেক্টর হিসেবে যোগ দেয়া ১৪ জন নতুন ডাইরেক্টরকে পরিচিয় করিয়ে দেয়া হয়, পরিচয় করিয়ে দেয়া হয় গত নব নির্বাচিত পরিচালনা কমিটির সদস্যদের। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের বাংলাদেশ সংক্রান্ত বিশেষ বাণিজ্যিক দূত বেথনালগ্রীন ও বো আসনের এমপি রুশনারা আলী। রুশনারা আলী এমপি বাংলাদেশ বিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর এটাই ছিল বাংলাদেশি কোনো সংগঠনের অনুষ্ঠানে প্রথম অংশগ্রহণ।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম এ হান্নান এবং টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জন বিগস।

এছাড়া অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হাইকমিশনের কমার্সিয়াল কাউন্সিলর শরিফা খান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ইউকে এন্ড আয়ারল্যান্ডের  কান্ট্রি ম্যানেজার শফিকুল ইসলামসহ বিবিসিসিআই-এর মেম্বার, ডাইরেক্টর, কমিউনিটি নেতা, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেনি পেশার মানুষ।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিবিসিসিআই-এর বিদায়ী প্রেসিডেন্ট মাতাব চৌধুরী বলেন, গত দুই বছর তিনি বিবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর আগের দুই বছর তিনি ছিলেন সংগঠনের ডাইরেক্টর জেনারেল। তিনি বলেন, নতুনদের হাতে বিবিসিসিআইয়ের হাল তুলে দিতে তিনি গত নির্বাচনে প্রার্থী হননি। তিনি চেয়েছেন, নতুন মেধা ও নতুন নেতৃত্ব বিবিসিসিআইয়ের হাল ধরে সংগঠনটিকে নতুন এক দিগন্তের পথে নিয়ে যাক।

মাতাব চৌধুরী বলেন, গত দুই বছরে বিবিসিসিআইয়ের সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য তিনি সংগঠনের মেম্বারশীফ সেক্রেটারি মনির আহমদের ভূয়ষী প্রশংসা করেন। এছাড়া বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সংগঠনের ডাইরেক্টর সংখ্যা বৃদ্ধি করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সদস্যদের অনুমোদন নিয়ে সংগঠনের সংবিধান সংশোধন করে তিনি ১৪ জন নতুন ডাইরেক্টর নেয়ার পথ সুগম করেছেন।

যার ফলে বর্তমানে সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ৩৫ জনে উন্নীত হয়েছে। সেই সঙ্গে নতুনরা যাতে সংগঠনের হাল ধরতে পারে সেজন্য তিনি ডাইরেক্টরশীপের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১০ বছরের জন্য সীমিত করা হয়েছে। ১০ বছর পরে একজন ডাইরেক্টর সংগঠনের সক্রিয় ডাইরেক্টর পথ হারাবেন, সম্মানসূচক (অনারারি) ডাইরেক্টর হিসেবে পরিচিত হবেন।

মাতাব চৌধুরী বলেন, দুই বছর আগে তিনি দায়িত্ব নেয়ার সময় সংগঠনের তহবিল খালি পেলেও বিদায় বেলায় তিনি বিবিসিসিআই-এর জন্য শক্তিশালী একটি তহবিল রেখে যেতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, জেএমজি কার্গো, সিলেটের গ্রান্ড সুলতান এবং ঢাকার হোটেল রিজেন্সিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে কর্পোরেট চুক্তির মাধ্যমে বিবিসিসিআইয়ের সদস্যদের জন্য বিশেষ ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করেছেন বলে জানান মাতাব চৌধুরী।

সংগঠনের নব নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট এনাম আলী এমবিই বলেন, বিবিসিসিআই-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়ে তিনি কৃতজ্ঞ। সংগঠনের সকল মেম্বার ও ডাইরেক্টরদের সাথে নিয়ে বাংলাদেশি ব্যবসায়িক কমিউনিটির স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন তিনি। সংগঠনকে আরও বেশি কার্যকর ও সক্রিয় করে তুলতে তাঁর নানা পরিকল্পনা আছে জানিয়ে এনাম আলী বলেন, ব্যবসায়ী কিংবা কমিউনিটির বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে তিনি শুনতে চান এবং এসব সমস্যা সমাধানে তিনি স্বাধ্যমত চেষ্টা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

সংগঠনের বিদায়ী ফাইনেন্স ডাইরেক্টর এবং নব নির্বাচিত কমিটির ডাইরেক্টর জেনারেল সাইদুর রহমান রেনু বলেন, বিবিসিসিআই গত দুই বছর বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হয়েছে।

বিদায়ী কমিটির দক্ষতা ও একাগ্রতার ফলে সংগঠনের তহবিল এতটাই মজবুত হয়েছে যে, তা দিয়ে আগামী দুই বছর চলতে পারবে বিবিসিসিআই। বিদায়ী কমিটির মেম্বারশীফ ডাইরেক্টর এবং নব নির্বাচিত কমিটির ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর মনির আহমদ বলেন, গত দুই বছর বিবিসিসিআই-এর মেম্বারশীফ ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংগঠনের স্বার্থ্যে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।

নতুন মেম্বার সংগ্রহে তার যে সফলতা তার কৃতিত্ব তিনি তাঁর সহকর্মীদের সাথেও ভাগাভাগি করতে চান। নতুন কমিটির ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য তিনি সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ফাইন্যান্স ডাইরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনে তিনি সামর্থ্যরে সবটুকু দিয়ে চেষ্টা চালাবেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রুশনারা আলী তার বক্তব্যে ইউরোপিয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকা না থাকা প্রশ্নে আসন্ন গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তিনি চান যুক্তরাজ্য ইইউর সাথেই থাকুক। তিনি বলেন, ইইউর করা কিছু আইনের ফলে ব্রিটেনে অভিবাসীদের অনেক অধিকার সুরক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার, অ্যাসাইলাম এবং কর্মক্ষেত্রে সমঅধিকার বিষয়ক আইনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। বাংলাদেশি কমিউনিটির লোকদের ইইউতে থাকার পক্ষে অবস্থান নেয়ার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ইইউ ছাড়লে ব্রিটেনে অভিবাসীদের অনেক অধিকার খর্ব হতে পারে।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয়র জন বিগসও ইইউতে থাকার পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরেন। ব্রিটেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম এ হান্নান ব্রিটেন প্রবাসী ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান জানান। তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগের নানা সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। হাইকমিশনের পক্ষ থেকে সবরকম সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বাড়ছে ক্যান্সারের ঝুঁকি

লন্ডনঃ ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে‘র গবেষণায় দেখা গেছে ব্রিটেনে অন্য যেকোন রোগের তুলনায় ক্যন্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। প্রতি বছর ব্রিটেনে ক্যান্সার কেড়ে নিচ্ছে ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষের জীবন। প্রতি দুইজনের মধ্যে একজন তার জীবনের যে কোন সময়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। আশার কথা হচ্ছে ক্যান্সার নিয়ে গবেষণার ফলে, বিগত যে কোন সময়ের চেয়ে ক্যান্সার আক্রান্তরা এখন দ্রুত সুস্থ্য হয়ে উঠছেন। তবে ব্রিটেনে এথনিক মাইনরিটি কমিউনিটি বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানি কমিউনিটিতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ছে সচেতনতার অভাবে।বিগত ১২ বছরে দক্ষিণ এশিয়ার পুরুষদের মধ্যে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ২৮ শতাংশ আর নারীদের মধ্যে বেড়েছে ২৪ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার ১৫ শতাংশ নারী অন্যান্য দেশের তুলনায় স্তন ক্যান্সার সনাক্তকরণ পরীক্ষায় পিছিয়ে আছেন। ক্যান্সার রির্সাচ ইউকের বিজ্ঞানী নিউক্যাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডক্টর মার্টিন হোয়াইটের এক গবেষণায় বলা হয়েছে,  ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির অর্ধেক সংখ্যক পুরুষই  সিগারেট খান এবং তারা শ্বেতাঙ্গ ধূমপায়ীদের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছেন। অনেকেই মনে করেন সিগারেট যতটা ক্ষতিকর শিসা সেই অনুপাতে ক্ষতি করেনা। কিন্তু গবেষকরা বলছেন শিসা কিংবা ধোঁয়া বিহীন ইলেকট্রিক সিগারেটও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

এশিয়ান কমিউনিটিতে ধুমপানের মাত্রা বেশি, বাংলাদেশি কমিউনিটিতে মাত্রাতিরিক্ত পান গ্রহণও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। গবেষনায় উঠে এসেছে, হিন্দি সিনেমায় নায়ক চরিত্র উপস্থাপনে সিগারেটের ব্যবহার এমনভাবে দেখানো হয়, যা এশিয়ান তরুণদের ধূমপানে আকৃষ্ট করছে।

তাছাড়া ক্যান্সার সম্পর্কে কমিউনিটিতে নেতিবাচক ধারণা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেকেই ক্যান্সারের মতো জটিল রোগের কথা বলতে চান না। ক্ষেত্রবিশেষে এমন সময় রোগ সনাক্ত হয় যখন নিরাময় প্রায় অসম্ভব। ক্যান্সার সম্পর্কে ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে ইষ্ট লন্ডন গ্রুপের যাত্রা শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার। মঙ্গলবার সেন্ট্রাল লন্ডনের এঞ্জেলে ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রেসলঞ্চিং ইভেন্টে ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের ইষ্ট লন্ডন গ্রুপের ফাউন্ডার ও সিইও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম বলেন, ব্রিটেনে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে ক্যান্সার সম্পর্কে ভীতি দূর করে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য কাজ করবে ক্যন্সার রিসার্চ ইউকে ইষ্ট লন্ডন গ্রুপ। এসময় ক্যান্সার সম্পর্কে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে‘র লন্ডন ফান্ড রেইজিং ম্যানেজার স্টেসি উইলসন, রিজিওনাল ম্যানেজার জেনি ফ্লেক, ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে ইষ্ট লন্ডন গ্রুপের জেনারেল সেক্রেটারি বিলাল আলী, ট্রেজারার এন এ রাসেল সহ অন্যরা। আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রায় ২০০ প্রজাতির ক্যান্সার রয়েছে, শুধুমাত্র জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন করেই ৪০ শতাংশ ক্যান্সার প্রতিরোধ সম্ভব, এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে ব্রিটিশ বাংলাদেশি কমিউনিটিতে সচেতনতা বাড়াতে উদ্যোগ নেবে ক্যান্সার রিসার্চ ইষ্ট লন্ডন গ্রুপ।

বদর কমান্ডার  মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করায়  পূর্ব লন্ডনের আলতাব আলী পার্কের শহীদ বেদিতে যুক্তরাজ্য গনজাগরন মঞ্চের   প্রদীপ প্রজ্জলন

লন্ডনঃ মানবতাবিরোধী অপরাধী মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের বদর কমান্ডার ঘাতক মতিউর রহমান নিজামীর রায় কার্যকরের পরে পূর্ব লণ্ডনের আলতাব আলী পার্কের শহীদ বেদিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন ও প্রদীপ প্রজ্জলন করেছে গনজাগরন মঞ্চ,যুক্তরাজ্য। উপস্থিত সকলেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ কালীন সময়ে মতিউর রহমান নিজামীর বর্বর অপরাধের ন্যায় বিচার হওয়ায় উচ্ছাস প্রকাশ করেন। এছাড়া গনজাগরন মঞ্চের আন্দোলনে নিহত হওয়া সকলের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্য গনজাগরন মঞ্চের মুখপাত্র অজন্তা দেব রায় , নারী নেত্রী সৈয়দা সুলতানা শিখা,সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব সাগুফতা শারমিন তানিয়া, গনজাগরন মঞ্চ কর্মী কামরুল হাসান তুষার,বাপ্পী চৌধুরী,নাহিদ জায়গিদার সহ আরো অনেকে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মতিউর রহমান নিজামী আল বদর বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন। ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী বাহিনীর হত্যাকাণ্ডে আল-বদর সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করে, এবং ১৪ই ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের পেছনেও তাদের প্রধান ভূমিকা ছিলো।বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সময় পাবনায় হত্যা, ধর্ষণ এবং বুদ্ধিজীবী গণহত্যার দায়ে নিজামীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। আলতাব আলী পার্কের শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানানোর পর গনজাগরন মঞ্চ,যুক্তরাজ্যের সকল কর্মী সম্মিলিত কন্ঠে দেশাত্মবোধক গান করেন। তাদের চোখে মুখে ছিলো ন্যায় বিচার পাওয়ার উচ্ছাস। উপস্থিত সকলে রাজাকারমুক্ত সোনার বাংলা গড়া,জামাত – শিবির নিষিদ্ধ করা ও অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাদের কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যাক্ত করেন। সবশেষে গনজাগরন মঞ্চ,যুক্তরাজ্যের মুখপাত্র অজন্তা দেব রায় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে কর্মসূচীর সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

 

 

লন্ডন মেয়র নির্বাচনে লেবার দলীয় প্রার্থী সাদিক খান বিজয়ী

সংবাদ টুয়েন্টিফোরডটকমঃ সকল জল্পনা কল্পনার অবশান ঘটিয়ে লন্ডন মেয়র নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন  লেবার দলের প্রার্থী সাদিক খান এমপি। তিনিই প্রথম কোন মুসলিম প্রার্থী যে লন্ডন মেয়র নির্বাচিত হলেন। পাকিস্থানী বংশোদ্ভুত সাদিক খানের পিতা  সাধারণ একজন বাস ড্রাইভার । তার বিজয়ে মুসলিম  তথা এথনিক ও এশিয়ান কমিউনিটির মানুষ আনন্দ প্রকাশ করেছেন। এদিকে লেবার পার্টি এ বিজয়ের মাধ্যমে ৮ বছর পর আবারো সিটি হলের দখল নিল। এর আগে ২০০৮ সালে কনজাবেটিভ পার্টির বরিস জনসন পরপর দুইবার ক্যান লিভিংস্টোনকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন। এবার তিনি মেয়র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধিতা করেননি।

সবশের্ষ ফলাফলে দেখাগেছে লন্ডন মেয়র নির্বাচনে ১৪টি এসেম্বলীর মধ্যে লেবার পার্টি ৯টি এসেম্বলীতে জয়ী হয়েছে বাকী ৫টিতে জয়ী হয়েছে কনজারবেটিভ প্রার্থী। সাদিক খান পেয়েছেন ১১লাখ ৫০হাজার ৫৭৯ ভোট। মোট প্রাপ্ত ভোটের ৪৪.২%। কনজার্ভেটিব পার্টির জেক গোল্ড স্মিথ এমপি পেয়েছে ৯লাখ ১০হাজার ৯৪১ মোট। যা মোট প্রাপ্ত ভোটের ৩৫.০%।

এই নির্বাচনে  প্রধান দুই দল লেবার এবং কনজারভেটিভ ছাড়াও  আরো দশজন ১০জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন তারা হচ্ছেন গ্রীন পার্টির সিয়ান ব্যারি তার প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ১লাখ ৫২ হাজার ২৭ ভোট। লিবডেম প্রার্থী ক্যারোলাইন পিজিওন পেয়েছে ১লাখ ২১হাজার ৫১ভোট, ইউকে ইনডিপেন্ডেট পার্টির পিটার উইটাল পেয়েছে ৯৪ ৪২৫ ভোট, উইম্যান্স ইকোয়ালিটি পার্টির সফি ওয়াকার পেয়েছেন ৫১ হাজার ৮৪১ ভোট, রেসপেক্ট পার্টির জর্জ গ্যালোয়ে পেয়েছে ৩৬ হাজার ৩৫৭ ভোট, ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির ডেভিড ফার্নেস পেয়েছেন ১৩ হাজার ৩৩৭ ভোট, ব্রিটেইন ফাস্ট এর পোল গোল্ডেন পেয়েছেন ৩১ হাজার ২৫৭ ভোট, ক্যানাবিস ইজ সেইফারদেন এলকোহল পার্টির লি হারিস পেয়েছেন ২০ হাজার ৭১৪ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রিন্স জাইলেন্স কি পেয়েচেন ১৩ হাজার ৫৭ ভোট, ওয়ান লাভ পার্টির এনকিথ লাভ পেয়েছে ৪ হাজার ৯৫৯ ভোট।

এদিকে সিটি এন্ড ইষ্ট থেকে গ্রেটার লন্ডন এসেম্বলী মেম্বার হিসেবে বিজয় হয়েছেন নিউহ্যাম কাউন্সিলের কাউন্সিলার লেবার দলীয় উমেশ দেশাই। উমেশ দেশাই বিজয়ী হওয়াতে ইষ্টলন্ডনের এশিয়ান কমিউনিটিকে বইছে আনন্দের বন্যা।
এদিকে  ৫মে  গ্রেটার লন্ডন এসেম্বলী ইলেকশন ছাড়াও  একাধিক শহরে কাউন্সিল ও মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। একসঙ্গে অনেকগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওযায় দিনটিকে বলা হচ্ছে ‘সুপার থার্সডে’ ব্রিটেন জুড়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাশাপাশি মেয়র নির্বাচনে ভোট গ্রহণা শেষ হয়েছে।

এই নির্বাচনে ভোটাররা স্কটিশ পার্লামেন্ট, ওয়েলসের ন্যাশনাল এসেম্বলি ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের এসেম্বলিসহ ব্রিটেনের ১২৪টি কাউন্সিলে একযোগে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া লন্ডন, ব্রিস্টল, লিভারপুল এবং স্যালফোর্ডে অনুষ্ঠিত মেয়র নির্বাচন।
সেই সঙ্গে এই নির্বাচনে ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের পুলিশ ও অপরাধ বিষয়ক কমিশনাররাও নির্বাচিত হন।
ব্রিটেনে ৫ মে স্থানীয় সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে ভোট গ্রহণ । একসঙ্গে এতগুলো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার দিনটিকে বলা হচ্ছে ‘সুপার থার্সডে’। শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে লন্ডনের মেয়র নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়।

স্কটিশ পার্লামেন্ট তৃতীয়বারের মতো দখলে নিলো স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি সংক্ষেপে এসএনপি। সুপার থার্সডের নির্বাচনে ৬৩ আসন পেয়েছে এসএনপি। ৩১ আসন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কনজারভেটিভ এবং ২৪ আসন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে লেবার পার্টি। লিবডেম পেয়েছে ৫টি। স্কটিশ পার্লামেন্টে সর্বমোট ১শ২৯টি আসন।

একই সঙ্গে স্কটিশ পার্লামেন্ট, ওয়েলস এসেম্বলি, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড এসেম্বলি, বৃটিশ পার্লামেন্টের একটি আসনের উপনির্বাচন, ইংল্যান্ডের ১শ ২৪টি কাউন্সিলের নির্বাচন, লন্ডন, বৃষ্টল এবং লিভারপুল মেয়র নির্বাচন এবং পুলিশ এন্ড ক্রাইম কমিশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় বৃহস্পতিবারকে সুপার থার্সডে বলা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ।

সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী স্কটিশ পার্লামেন্টে ইলেকশনে ৬৩ টি আসন পেয়েছে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টি। গেল বারের চাইতে ৬টি কমেছে কম  এবার, অন্যদিকে গতবারের চাইতে ১৬ আসন বেশি পেয়ে সর্বমোট ৩১ আসনে  িবিজয়ী হয়েছে কনজারভেটিব দল। ১৩টি আসন হারিয়ে ২৪টি আসন নিয়ে তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে লেবার। লিবডেম পেয়েছে ৫টি। অন্যান্যরা পেয়েছে ৬টি । স্কটিশ পার্লামেন্টে সর্বমোট ১শ ২৯টি সিট।

অন্যদিকে ওয়েলস এসেম্বলির সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী সর্বমোট ৬০ আসনের মধ্যে ২৯ সিট পেয়েছে লেবার। গতবারের চাইতে এই ইলেকশনের তাদের ১ একটি আসন  কমেছে। আর ১১টি সিট পেয়েছে কনজারভেটিভ। প্লেইড কামরু পেয়েছে ১২সিট, ইউকিপ মেয়েছে ৭টি, ১টি সিট পেয়েছে লিবডেম।

এদিকে লিভারপুল মেয়র এবং শেফিল্ড এন্ড ব্রাইটসাইড সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে জয় লাভ করেছে লেবার। সাবেক এমপি হ্যারি হ্যার্পহামের স্ত্রী গিল ফার্নিস ১৪ হাজার ৮৭ ভোট পেয়ে শেফিল্ড ব্রাইটসাইডের এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। স্বামী হ্যারি ২০১৫ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হবার পর ক্যান্সারে রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এ আসনে ৪ হাজার ৪শ ৯৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আসে ইউকিপ প্রার্থী। এদিকে লিভারপুলে ৫১ হাজার ৩শ ৩২ ভোটে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন লেবার প্রার্থী জেই এন্ডার্সন। ২০ হাজার ৫শ ৯৮ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন লিবডেম প্রার্থী রিচার্ড ক্যাম্প।

ইহুদী-বিদ্বেষী মন্তব্যের কারণে লেবার দল থেকে বরখাস্ত কেন লিভিংস্টোন ও এমপি নাজ শাহ

মতিয়ার চৌধুরীঃ ইহুদী বিদ্ধেসী বক্তব্যের কারণে ২৭ এপ্রিল বুধবার এমপি নাজশাহকে বরখাস্তের  এক দিনের মাথায় বরখাস্থ করা হলো সাবেক মিনিস্টার ও সাবেক লন্ডন মেয়র প্রবীণ নেতা লিডার কেন লিভিংস্টোন।

ফেসকুবে ইসরায়েল  ও ইহুদী বিদ্বেষি  মন্তব্যের কারণে ব্রিটিশ লেবার পার্টির এমপি নাজশাহকে দল থেকে বরখাস্ত করা হয়। ব্রাডফোর্ড ওয়েস্টের এমপি নাজ শাহ ফেসবুকে ইসরায়েল বিরোধী এক পোস্টের কারণে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিলেন।এতে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে সেখানে সরিয়ে নেয়ার পরামর্শ ছিল। লেবার পার্টির ওপর চাপ বাড়ছিল নাজ শাহকে তাঁর এই ইসরায়েল বিরোধী মন্তব্যের কারণে বরখাস্ত করার জন্য।প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনও তাকে বরখাস্ত করার জন্য লেবার পার্টির কাছে আহ্বান জানান। নাজ শাহ এই ফেসবুক পোস্টটি শেয়ার করেন ২০১৪ সালে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রের ওপর ইসরায়েলের মানচিত্র বসিয়ে শিরোণাম দেয়া হয়েছিল: ‘ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের সমাধান: ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হোক’।এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের যথেষ্ট জায়গা আছে ইসরায়েলকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য হিসেবে সেখানে নিয়ে যাওয়ার। এর ফলে ফিলিস্তিনিরাও তাদের জমি ফিরে পাবে। এক বিবৃতিতে নাজ শাহ পরে বলেছিলেন, তিনি ২০১৪ সালে গাজার ওপর ইসরায়েলি হামলার পটভূমিতে প্রচন্ড আবেগের বশবর্তী হয়ে এই পোস্ট দিয়েছিলেন। তিনি এই পোস্ট শেয়ার করা এবং ইসরায়েল বিরোধী মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

এদিকে এন্টি সিমেটিকের অভিযোগে  লেবাপার্টি থেকে বহিস্কৃত এমপি নাজ শাহের পক্ষ নিয়ে কথা বলেছিলেন কেন লিভিংস্টোন। তিনি মনে করেন, ইসরায়েল নিয়ে ফেইসবুকে নাজ শাহের বক্তব্য এন্টি সিমেটিকের পর্যায়ে পড়ে না। ব্রিটিশ মূলধারার একটি মিডিয়ায় এসময় তিনি ইসরায়েল নিয়ে আরো কিছু মন্তব্য করেন। এর প্রেক্ষিতে লন্ডন মেয়র প্রার্থী সাদিক খানসহ দলের প্রায় ২০ জন এমপি এন্টি সিমেটিক মন্তব্যের জন্যে কেন লিভিংস্টোনকে লেবার পার্টি থেকে বহিস্কারের দাবী জানান। সাবেক মেয়র কেন লিভিংস্টোন বুধবার দল থেকে বহিস্কৃত এমপি নাজ শাহকে সমর্থন করে ‘হিটলার ওয়াজ ও জিয়োনিষ্ট’ বলে এক মন্তব্য করেন। এছাড়াও ইসরায়েল সরকারের পলিসির বিপক্ষে যে কোনো ধরনের সমালোচনাকে একটি পক্ষ অত্যন্ত সুক্ষভাবে কাজে লাগিয়ে এন্টি সিমেটিক হিসেবে রূপান্তরের জন্যে কাজ করে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য ব্রাডফোর্ড ওয়েস্ট আসন থেকে ২০১৫ সালের নির্বাচনে সাবেক এমপি জর্জ গেলওয়েকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো লেবার পার্টির এমপি নির্বাচিত হন পাকিস্তানি অরিজিন নাজ শাহ। এমপি নির্বাচিত হবার আগে ২০১৪ সালে তিনি ফেইসবুকে ইসরায়েল নিয়ে একটি কমেন্ট শেয়ার করেছিলেন। মন্তব্যে তিনি মানচিত্র পরিবর্তন করে ইসরায়েলকে আমেরিকার সঙ্গে জুড়ে দেয়ার কথা বলেছিলেন। এ মন্তব্যকে এন্টি সিমেটিক হিসেবে বিবেচনা করে তাকে লেবার পার্টি থেকে বহিস্কারের দাবী তুলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। অবশ্য আর আগে এই মন্তব্যের জন্যে পার্লামেন্টে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমাও চান এমপি নাজ শাহ। তার আগে এই মন্তব্যের জন্যে তাকে শেডো চ্যান্সেলারের পার্লামেন্টারিয়ান প্রাইভেট সেক্রেটারীর পদ থেকেও বরখাস্ত করা হয়। পার্টি থেকে বরখাস্ত হলেও তার বিরুদ্ধে ইস্যুটি নিয়ে এখনো তদন্ত সম্পন্ন হয়নি, তদন্ত চলছে। তবে নাজশাহকে সমর্থন করেন সাবেক লন্ডন মেয়র কেন লিভিংস্টোন। তাকে সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েল ও ইহুদি বিষয়ে মন্তব্যের কারণে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজেও  দল থেকে বহিস্কার হলেন। উল্লেখ্য  এর আগে সাবেক লন্ডন মেয়র কেন লিভিংস্টোন  লেবার পার্টি থেকে বের হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রার্থী হয়ে লন্ডন মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আবার লেবার পার্টিতে ফিরে আসেন।

হাউস অফ লর্ডসে লেবার পার্টির একজন উর্ধ্বতন সদস্য বলেছেন সব রাজনৈতিক দলের মধ্যেই কমবেশি ইহুদী বিদ্বেষ রয়েছ। তবে তাঁর ভাষায় লেবার পার্টির মধ্যে তা ”বেশি প্রকট”। এমনকি বিভিন্ন সময় ব্রিটিশ মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় লেবার দলের বিরুদ্ধে ইহুদী বিদ্বেষের বিষয়টি উঠে আসে। লেবার পার্টি থেকে বরখাস্ত মিস শাহকে সমর্থন করার কারণে বরখাস্ত হলেন লন্ডনের সাবেক মেয়র কেন লিভিংস্টোন।  এদিকে মিঃ লিভিংস্টোন এর  আগে একটি বেতার সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন হিটলার ইহুদী নিধনের আগে ইসরায়েলী জাতীয়তাবাদকে সমর্থন করেছিলেন। তার এই মন্তব্যও এখন সমালোচনার মুখে পড়েছে।

মিস শাহ এমপি হবার আগে ফেসুবকে করা তার মন্তব্যের জন্য ইতিমধ্যেই সংসদে ”গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ” করেছেন। লর্ডস সভার সদস্য লর্ড লেভি, যিনি টোনি ব্লেয়ারের দূত এবং প্রধান তহবিল সংগ্রাহক ছিলেন, বিবিসিকে বলেছেন মিস শার মন্তব্য ”অজ্ঞতাপ্রসূত” এবং ”কীভাবে এমন অজ্ঞ, বিচক্ষণতাহীন এবং স্পর্শকাতরতা সম্পর্কে উদাসীন কেউ সংসদে বসতে পারে তা আমার মাথায় ঢুকছে না।” হাউস অফ লর্ডস-এর আরেকজন সদস্য ব্যারোনেস নিউবারগার দাবি করেছেন লেবারের এই ইহুদী বিদ্বেষী মনোভাবের পেছনে রয়েছে ”জেরেমি করবিনের দলের নেতা হওয়া”। তিনি বলছেন এটা ”চরম বামপন্থার একটা বিষয়।
এবছরের গোড়ার দিকে লেবার পার্টির একজন কাউন্সিলরকেও দল থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়, যিনি দাবি করেছিলেন হিটলার ”ইতিহাসের মহান ব্যক্তি”। জেরেমি করবিন অবশ্য জোর দিয়ে বলেছেন ইহুদী বিদ্বেষ বরদাস্ত করা হবে না। তবে তার দলের কোনো কোনো এমপি বলেছেন সমস্যাটি মোকবেলায় তিনি যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। লেবার লিডার জেরেমী করবিন বলেন এতে দলের কোন ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

সংস্কারের জন্য থেমে যাচ্ছে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের  জগতখ্যাত বিগ বেন

লন্ডন প্রতিনিধিঃ ১৫৭ বছর নিরবিচ্ছিন্নভাবে চলা  হাউজ অব কমন্সের  বিখ্যাত বিগ বেন থেমে যাচ্ছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সেই জগতখ্যাত ঘড়িটি  থেমে যাবে। আগামী বছর প্রথম কয়েক মাসের জন্য এটি থেমে যাবে। তখন শোনা যাবে না ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভবনের এই বিশ্বখ্যাত ঘড়ির ঘণ্টাধ্বনি। পার্লামেন্টের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “মূলত সংস্কার কাজের জন্য আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে কয়েক মাসের জন্য ঘরিটি বন্ধ রাখতে হবে ।”বিগ বেন তৈরি করা হয় ১৮৫০ সালে। কিন্তু এই ক্লক টাওয়ারের ঢালাই করা ছাদে মরিচা পড়েছে এবং সিমেন্টের কাঠামোতে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে এটির সংস্কার খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। এই সংস্কারে খরচ হবে চার কোটি পাউন্ডের বেশি। ক্লক টাওয়ারের কাঁচের খণ্ডগুলোও বদলাতে হবে। পার্লামেন্টের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, “এই সংস্কার কাজের সময় বিগ বেনের বিখ্যাত ঘণ্টাধ্বনি শোনা যাবে না।”

ক্লক টাওয়ারের যে ঘণ্টা, সেটির ওজন সাড়ে তের টন। বিগ বেন বলতে এই বিশাল ঘণ্টাটিকেই বোঝানো হতো। কিন্তু এখন পুরো ক্লক টাওয়ারটিকেই বিগ বেন বলা হয়।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net