শিরোনাম

ভূমিকম্প’র সংবাদ

হিমালয়ের বুকে দাঁড়িয়ে লাইভ ভূমিকম্পনের ভিডিও প্রকাশ করল স্যালভেশন আর্মি

১২ মে ফের ৭.৩ মাত্রার তীব্র ভূমিকম্প হয়। নেপালের ধ্বংসস্তূপের উপর শুরু হয় ফের ধ্বংসলীলা। ঠিক সেইসময় মাউন্ট এভারেষ্টে
দাঁড়িয়ে লাইভ কম্পন অনুভব করলেন স্যালভেশন আর্মির সদস্যরা। হিমালয়ের বুকে কয়েক সেকেন্ডের কম্পন কেমন ছিল তার একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তাঁরা।

ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত এলাকার ত্রাণের জন্য স্যালভেশন আর্মির সদস্যরা হিমালয়ের দুর্গম পথে দিয়ে যাচ্ছিলেন। ভূমিকম্পের উত্সস্থলের খুব কাছে সিন্ধুপলচকের মধ্য দিয়ে তাঁরা যাচ্ছিলেন। এমন সময় তীব্র কম্পন শুরু হয়। দূরে হিমালয়ের শৃঙ্গগুলি থেকে তুষার ধস নামতে শুরু করে। সেইসময় এমন দৃশ্য দেখে তাঁদের মুখে একটাই কথা ছিল “ও মাই গড, হিমালয় যেন নিচে নেমে আসছে’।

২৫ এপ্রিল প্রথম ভূমিকম্পের জেরে হিমালয়ের বুকে ভয়াবহ তুষারধস হয় । সেই তুষারধসের ফলে এভারেস্টের বেসক্যাম্পের সামনে ২২ জন পর্বতারোহী মারা যান, নিখোঁজ হয়ে যান ২১৭ জন। ৭.৯ মাত্রার ভূমিকম্পে এভারেস্টের রুট নষ্ট হয়ে যায়।

সেদিনের ভূমিকম্পে কার্যত ভূগোল থেকে নেপাল ধূলিষাত্ হয়ে গিয়েছিল চোখের নিমিষে। মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছিল নেপাল। তারই জেরে এখনও চলছে উদ্ধারকার্য ও ত্রাণ পরিষেবা।

ভূমিকম্প বিধ্বস্ত নেপালের পাশে রোনালদো

সম্প্রতি নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয়েছে জন জীবন। ভূমিকম্পে কাঠমুন্ডু পরিণত হয়েছিল মৃত্যুকুপে।

স্মরণকালের সব থেকে ভয়াবহ এ ভূমিকম্পে এরই মধ্যে ৮০০০ হাজারের অধিক মানুষ মৃত্যু বরণ করেছে। লাখ লাখ মানুষ ঘর ছেড়ে হয়েছে উদ্বাস্তু। দিন দিন মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। গণমাধ্যমগুলোও আশঙ্কা করছে, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে।

হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত নেপালের এমন সংকটকালে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়ালেন ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

ফ্রান্সের ‘স্পোর্টস ম্যাগাজিন’ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নেপালে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ৭ মিলিয়ন ইউরো অর্থ দান করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগীজ সুপারস্টার রোনালদো এই অর্থ ইতোমধ্যেই ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ সংগঠনকে প্রদান করেছেন বলেও উল্লেখ করে ম্যাগাজিনটি।

নেপালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ১ হাজার নাগরিক নিখোঁজ

EU Nepal

২৫ এপ্রিলের ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ওই ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা এরই মধ্যে ছয় হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ১৪ হাজার মানুষ।

ইইউ’র একজন কর্মকর্তা জানান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের অধিকাংশই পর্বতারোহী। ভূমিকম্পের সময় তারা মাউন্ট এভারেস্ট বা দুর্গম লাংটাং পাহাড়ী অঞ্চলের আশেপাশে অবস্থান করছিলেন। তাদের অনেকেই জীবিত আছেন এবং ভূমিকম্পের কারণে ওই সব অঞ্চলের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ওই কর্মকর্তা। ভয়াবহ এ দুর্যোগের পর আন্তর্জাতিক বিশ্বের কাছে আরো বেশি সাহায্য পাঠানোর আবেদন জানিয়েছে নেপাল সরকার। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ বিতরণের জন্য আরো হেলিকপ্টার চাওয়া হয়েছে। দুর্গত নেপালিদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে জাতিসংঘ এবং ইইউ’ও।

নেপালে পর্বত আরোহণের জন্য পর্বতারোহীদের কাছে এপ্রিল ও মে মাস সবচেয়ে জনপ্রিয় সময়। এ সময় গোটা বিশ্ব থেকে প্রচুর পর্বতারোহী নেপালে যান। ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ইইউভুক্ত দেশগুলোর ২০ জন নাগরিকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাদের কেউ কেউ ভূমিকম্পের কারণে সৃষ্ট তুষার ধসে চাপা পড়ে মারা গেছেন। তুষার ধসে মাউন্ট এভারেস্টের বেইজ ক্যাম্পের কিছু অংশ চাপা পড়েছে।

নেপালে নিযুক্ত ইইউ দূত রেনজি তীরিঙ্কা বলেন, কর্তৃপক্ষ ইইউ ভূক্ত দেশগুলোর প্রায় এক হাজার নাগরিকের কোন খোঁজ পাচ্ছে না।

কাঠমান্ডুতে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “তারা নিখোঁজ। যদিও তাদের বর্তমান অবস্থা কি তা আমরা জানি না।” তারা জীবিত আছেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন ইইউ’র অন্য একজন কর্মকর্তা।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক ভ্রমণকারী নিজ নিজ দূতাবাসে নিবন্ধন ছাড়াই নেপালে গেছেন। এখন তাদের সম্পর্কে তথ্য পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে যাবে।

ভূমিধস ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে বেশ কিছু দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলে এখনো পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক মহাসচিব ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়ক ভ্যালেরি আমোস ও ইইউ’র মানবিক ত্রাণ ও সঙ্কট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার ক্রিস্টস স্টিলিয়ানিডেস বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডু পৌঁছেছেন।

খাবারের অভাবে মারা গেলেও পাকিস্তানি ত্রাণ স্পর্শ করবে না নেপাল

৮১% হিন্দু আর ৯ % বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর দেশে ভূমিকম্প রিলিফ হিসেবে পাকিস্তান পাঠিয়েছে বীফ মশলা ।  এটা সাহায্য নাকি নির্মম উপহাস বুঝতে পারছে না নেপালিরা।

নেপাল একটি হিন্দুপ্রধান রাষ্ট্র। ৮১ শতাংশ লোক হিন্দু, যারা গরুর প্রতি সম্মানের কারণে গরুর মাংস খাবার জন্য নিষিদ্ধ মনে করেন। গো হত্যার জন্য নেপালে ১২ বছর কারাদন্ড ভোগ করতে হয়।

শনিবারের ভূকম্পনের পর প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে দেশটি। খাদ্য, বাসস্থান, পানির অভাবে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ভূমিকম্প দুর্গতরা। এমন বিপদে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ত্রাণ পাঠাচ্ছে নেপালে। কিন্তু পাকিস্তানের পাঠানো ত্রাণ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

আনুমানিক প্রায় ১০,০০০ লাশ এবং লাখ দুয়েক আহতের নেপালে ভূমিকম্পের রিলিফ হিসেবে পাকিস্তান গরুর মাংস পাঠিয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দুর্গত নেপালিদের সাহায্য এগিয়ে এসেছে। পাকিস্তান তাদের অন্যতম। কিন্তু হিন্দুপ্রধান দেশ নেপালে পাকিস্তান ত্রাণসামগ্রী হিসেবে ‘বিফ মশলা’র প্যাকেট পাঠানোয় দেশটিতে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। হিন্দুপ্রধান দেশ নেপালে শুধু গরুর মাংসই নিষিদ্ধ নয়, গরু জবাই করারও দণ্ডনীয় অপরাধ।

নেপালিরা বলছেন, খাবারের অভাবে মারা গেলেও পাকিস্তানি ত্রাণ স্পর্শ করবেন না তারা।

কাঠমান্ডু বীর হাসপাতালের ভারতীয় চিকিৎসকরা বুধবার ডেইলি মেইলকে জানান, নেপালের দুর্গত লোকদের ত্রাণসামগ্রীর অংশ হিসেবে মঙ্গলবার পাকিস্তান ‘বিফ মশলা’ পাঠিয়েছে। দুর্গতদের চিকিৎসার জন্য ভারত ওই চিকিৎসকদের কাঠমান্ডুতে পাঠিয়েছে।

চিকিৎসক বালিন্দার সিং বলেন, ‘আমরা যখন পাকিস্তানের ত্রাণসামগ্রী গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে গিয়েছিলাম, আমরা সেখানে প্রস্তুতকৃত খাবারের প্যাকেটের সঙ্গে বিফ মশলার প্যাকেটও পেয়েছিলাম।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ওই খাবার স্পর্শ করিনি।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নেপালি চিকিৎসক জানান, অধিকাংশ স্থানীয় লোকজন এ ব্যাপারে সচেতন রয়েছে। তারাও তাদের এরকম কোনো ত্রাণ গ্রহণ করবে না। তারা এগুলো এড়িয়ে চলছে।

তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তান এ রকম মশলা পাঠিয়ে নেপালি জনগণের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত হেনেছে। সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে পাকিস্তান যত্নশীল নয়।’

দেশটির শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি তাদের প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা ও গোয়েন্দাপ্রধানকে অবহিত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এটি সত্য হলে, পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কে ভাটা পড়বে। ঘনিষ্ঠ সহযোগী ভারতকেও বিষয়টি অবহিত করা হবে।

তবে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র তাসনিম আসলাম বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। এ রকম কাজের জন্য আমি দায়ী নই। ত্রাণসামগ্রী পাকিস্তানের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ পাঠিয়েছে।’ তথ্যসূত্র: ডেইল মেইল।

নেপালে নিহতের সংখ্যা ৬২০০ ছাড়িয়েছে

ভূমিকম্পে নেপালে মৃতের সংখ্যা ৬২০০ পার হয়েছে।

শুক্রবার নেপালের জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
নেপালের জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবারের ভূমিকম্পে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২০৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আহত হয়েছে অন্তত ১৩ হাজার ৯৩২ জন।
 যদিও নেপাল সরকারের আশঙ্কা হতাহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে।

রেড ক্রস জানিয়েছে, নেপালের ভূমিকম্প কেন্দ্রের আশাপাশের এলাকা ‘পুরোপুরি’ ধ্বংস হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় উদ্ধারকর্মীরা রাজধানী কাঠমাণ্ডু ও আশেপাশের এলাকায় উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে খারাপ আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে।

Kathmandu Struck By Powerful Earthquake

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার ধ্বংস্তূপের নিচ থেকে ১৫ বছরের এক কিশোর এবং ২০ বছরের এক কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সিন্ধুপালচক, দোলাখা, রাসুয়া, নোয়াকট, ধাডিং ও গোরখা এলাকায় ২০টি হেলিকপ্টার দিয়ে ত্রাণ তৎপরতা চালাতে হবে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় হেলিকপ্টার পর্যাপ্ত নয় বলে তারা জানিয়েছে।

 

নেপালের অর্থমন্ত্রী রাম শঙ্কর মাহাত জানিয়েছেন, নেপালের পুনসংস্কারের জন্য অন্তত ২ হাজার কোটি ডলারের প্রয়োজন।

নেপালের সেনাপ্রধান জেনারেল গৌরব রানার আশঙ্কা, মৃতের সংখ্যা ১৫ হাজার ছাড়িয়ে যাবে। ভূমিকম্প কবলিত নেপালের পুনর্গঠনে সবরকম সাহায্য করবে ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে এ খবর জানান আইএমএফের মুখপাত্র গ্যারি রাইস।

নেপালের জন্য আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ত্রাণের আবেদন জানিয়েছে জাতিসংঘ।

 

 

সূত্র: বিবিসি।

নেপালের ভূমিকম্পের আগের মুহূর্ত (ভিডিও)

আট দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে হিমালয়কন্যা নেপাল প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

২৫ এপ্রিল নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর একটি রাস্তায় ট্রাফিক সিগন্যালের খুঁটিতে সংযুক্ত একটি ভিডিও ক্যামেরায় ধরা পড়ে ভূমিকম্পের ভয়াবহ চিত্র।মুহুর্তের ভুমিকম্পের কী করে একটি শান্ত চলাচলরত রাজপথ হঠাৎ পরিণত হলো মৃত্যুফাঁদে, অতঃপর ধ্বংসস্তুপে।

সুবিশাল প্রকৃতির বুকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মানুষ কতখানি অসহায়, তার আরও একটি উদাহরণ।

ভিডিওটির লিঙ্ক নিচে দেওয়া হল-

হিন্দুপ্রধান দেশ নেপালকে গরুর মশলা পাঠালো পাকিস্তান

শনিবারের ভূকম্পনের পর প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে দেশটি। খাদ্য, বাসস্থান, পানির অভাবে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ভূমিকম্প দুর্গতরা। এমন বিপদে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ত্রাণ পাঠাচ্ছে নেপালে। কিন্তু পাকিস্তানের পাঠানো ত্রাণ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

আনুমানিক প্রায় ১০,০০০ লাশ এবং লাখ দুয়েক আহতের নেপালে ভূমিকম্পের রিলিফ হিসেবে পাকিস্তান গরুর মাংস পাঠিয়েছে।

কাঠমান্ডুর বীর হাসপাতালে মঙ্গলবার পাকিস্তান থেকে ত্রাণ এসে পৌঁছায়। মশলা মাখানো গরুর মাংসের কাবাব বলে তারা মনে করছেন। এরপরই সরগোল পড়ে যায় হাসপাতাল ও ত্রাণ শিবিরে। হাসপাতালটির এক চিকিত্‍সক বলেন, ”আমরা পাকিস্তানি ত্রাণ নাড়িনী। স্থানীয়রা অনেকেই প্রথমে বুঝতে পারেননি। পরে জানতে পেরে, তারাও এসব ত্রাণ বর্জন করেছেন।

 

নেপাল একটি হিন্দুপ্রধান রাষ্ট্র। ৮১ শতাংশ লোক হিন্দু, যারা গরুর প্রতি সম্মানের কারণে গরুর মাংস খাবার জন্য নিষিদ্ধ মনে করেন। গো হত্যার জন্য নেপালে ১২ বছর কারাদন্ড ভোগ করতে হয়।

ডাক্তার বাল্বিন্দার সিং সংবাদ মাধ্যমকে  বলেন “আমরা যখন পাকিস্তান থেকে আসা ত্রান সংগ্রহ করতে এয়ারপোর্ট এ পৌছাই তখন আমরা অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে গরুর মাংসের মসাল্লা পাই।আমরা এটা স্পর্শ করিনি” ।

তিনি আরও বলেন “গরুর মসলা পাঠানোর মাধ্যেমে  পাকিস্তান নেপালের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে”

2825870B00000578-3061416-image-a-2_1430345490674

নেপাল সরকারের উচ্চপদস্থ একজন জানান”খবরটি ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রিকে জানানো হয়েছে।যদি রিপোর্টটি সত্যি হয় তাহলে আমরা পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা করব।”

সুত্রঃডেইলি মেইল ইউকে

 

নেপালে ২২ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তুপ থেকে ৪ মাস বয়সী শিশুকে জীবিত উদ্ধার!

নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ২২ ঘণ্টা পর ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে চার মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। অলৌকিক ঘটনাই বটে।

বাচ্চাটিকে উদ্ধারের প্রাথমিক উদ্যোগ অল্পের জন্য ভেস্তে যেতে বসেছিল। কারণ যে ধ্বংসস্তুপে শিশুটি ছিল, নেপালী সেনারা ভেবেছিল সেখানে আর কোনো আটকে পড়া মানুষ নেই।কিন্তু কয়েকঘণ্টা পর ঐ স্থানে বাচ্চার কান্না শুনে সেনারা আবার সেখানে ফিরে যায়। এবং বাচ্চাটিকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়।

download

সিএনএন জানিয়েছে, প্রাথমিক স্বাস্থ পরীক্ষায় শিশুটির অবস্থা স্থিতিশীল ছিল। অলৌকিকভাবে কোনো আঘাতও লাগে নি শিশুটির।

নেপালে অবস্থানরত সেভ দ্য চিলড্রেনের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর রজার হক্সান বলেন, এ ভূমিকম্পে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। অন্তত ১০ লাখ শিশু ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

প্রায় ৪ দিন ধ্বংসস্তুপের নিচে : জীবিত উদ্ধার

উদ্ধারের পর সুনীতা বলেন, মনে হচ্ছে আমি এক অন্য জগতে এলাম। এনডিআরএফের সহকারী কমান্ড্যান্ট কুলিশ আনন্দ বলেন, আমরা জানতে পারি পাথরের দুটি খণ্ডের মধ্যে ওই নারী আটকে ছিলেন। ওই খণ্ডের মাঝে কিছুটা ফাঁকা জায়গা ছিল বলে তিনি রক্ষা পেয়েছেন।

ভূমিকম্পে ভেঙে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন তিনি। মারা পড়লেন না বটে, তবে বের হয়ে আসার কোনো জো রইল না। ওভাবেই আটকে রইলেন পাক্কা ৮০ ঘণ্টা। সঙ্গে আবার তিন লাশ। ভূমিকম্পদুর্গত নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে এমন এক যুবককে উদ্ধার করা হয় গতকাল মঙ্গলবার। ২৮ বছর বয়সী ওই যুবকের নাম ঋষি খান্নাল।
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়া আরেকটি ভবনের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে ৫০ ঘণ্টা ধরে আটকে ছিলেন এক নেপালি নারী। তাঁকেও গতকাল জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপালি-ফ্রেঞ্চ উদ্ধারকারী দল পাঁচ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ধ্বংসস্তূপ থেকে ঋষি খান্নালকে উদ্ধার করে। সাততলা ওই ভবনের তৃতীয় তলায় থাকতেন ঋষি। তাঁর চিৎকার শোনার পরে উদ্ধারকর্মীরা গর্ত করে ধ্বংসস্তূপ থেকে তাঁকে বের করে আনে। সেখান থেকে আরও তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, ঋষির একটি পা ভেঙে গেছে।

ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (এনডিআরএফ) গতকাল নেপালের মহারাজগঞ্জের পাঁচতলা ভবন বসুন্ধরার ধ্বংসস্তূপ থেকে সুনীতা জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। এনডিটিভির খবরে এ কথা জানানো হয়।

উদ্ধার করার পর সুনীতাকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর স্বামী ও দুই সন্তানকেও অক্ষত অবস্থায় একান্তিপুর থেকে আজ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারটিকে এখন স্থানীয় একটি স্কুলের আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

মৃতের সংখ্যা দশ হাজার ছাড়াতে পারেঃ নেপাল প্রধানমন্ত্রী

আট দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে হিমালয়কন্যা নেপালে নিহতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালা।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন তিনি। সেইসঙ্গে উদ্ধার তৎপরতা অারো জোরদার এবং বর্হিবিশ্ব থেকে তাঁবু ও ওষুধ সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে কৈরালা বলেন, ‘উদ্ধার ও ত্রাণ সরবরাহের জন্য সরকার সম্ভাব্য সব কিছু করার চেষ্টা করছে। নেপালের জন্য এটা একটা চ্যালেঞ্জ ও দেশটি কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’

এদিকে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতেও তৃতীয় দিনের মতো খোলা আকাশের নিচে কেটেছে ভূমিকম্প বিধ্বস্ত নেপালের বাসিন্দাদের। রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে হাজার হাজার মানুষ তাঁবু টাঙিয়ে রাত পার করেছেন। এদের অধিকাংশের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। বাকিরা ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন বলে রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দেশটির প্রত্যন্ত অঞ্চলের সঠিক চিত্র এখনো জানা যাচ্ছে না।এদিকে, কাঠমাণ্ডু মেডিকেল কলেজের চিকিৎসকরা তাঁবুতে অপারেটিং থিয়েটার তৈরি করে আহত মানুষকে চিকিৎসা দিচ্ছেন।

1430108057

মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস’র তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কাঠমাণ্ডুর অদূরে পোখরার কাছে লামজুং। এর ২৬ মিনিট পর দ্বিতীয় এবং ৮ মিনিট পর তৃতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এরপর পরবর্তী চব্বিশ ঘণ্টায় বিভিন্ন মাত্রার পঞ্চন্নটি কম্পন অনুভূত হয় বলে স্থানীয়দের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় সংবাদমাধ্যম।

মূল ভূমিকম্প পরে রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়) নেপাল, বাংলাদেশ ও ভারতে আবারো একটি নতুন ভূমিকম্প আঘাত হানে। ইউরোপীয়-ভুমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (ইএমএসসি) হিসাবে রিখটার স্কেলে এ কম্পনের মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৫। তবে ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য মতে, এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭।

150425101231-05-nepal-quake-0425-super-169

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নেপালে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে চার হাজার তিনশ’ ১০ জনে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান রামেশ্বর দাঙ্গাল সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অত্যন্ত নাজুক এ মানবিক পরিস্থিতিতে বিশ্ববাসীর কাছে সাহায্য চেয়েছে নেপাল সরকার।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net