শিরোনাম

কবিতা

এ কে এম আব্দুল্লাহ’র দুটি কবিতা

AKM Abdullah (2)
বিস্ময়বৃক্ষ

…একদিন বসন্ত এলে পাহাড়ের বুকে –

আমরা মিলিত হলাম পর্বতচূড়ায়।
আকাশের পবিত্র জ্যোৎস্না মেখে
চারপাশে শুরু হলো ফুলের নাঙা উৎসব।ছুটে যাওয়া
নক্ষত্রবৃন্তের-কষ ; দেহে ল্যেপটে আমরা ঘুমিয়ে গেলে,
রমণীদের হাতে হাতে অঙ্কিত হলো গাঢ় মেহেদীর আলপনা।
বুকের ঘন সৌরভে কুয়াশার মতো ঢেকে গেলো পুরো পৃথিবী।

আর আমাদের মিলনে জন্ম নিল সূর্য এবং সাগর।

সময়ের হাত ধরে নাড়িকাটা উৎসবে একদিন বিচ্ছিন্ন

হলো রাত আর দিন।আর চোখের ক্লান্তি ভোরের ডানায়
উড়ে গেলে,দেখি: নূহের মহাপ্লাবনের শেষপৃষ্ঠার মতো
চারদিকে পড়ে আছে ; ছিন্ন-ভিন্ন বিছানা, চুড়ির

টুকরো,ভাঙা আবেগপাত্র…

পাশ ফিরে তাকাই। দেখি – তুমি সেজদারত ;

ঈশ্বরের খোঁজে।

 

গৃহযাত্রা

জান্নাত থেকে নেমে এলো যে মাটির পুতুল
সে ভুলে গেলো ফিরে যাবার পথ
এখন,কোস্টায় বসে জীবনপেয়ালায়
পান করে হটচকলেটের বুদবুদ।
বহুযুগ কেটে গেলো ঘুমে
যে ঘুমের ভিতর ভাঙলো পর্বত, নূহার তান্নুর
ফেটে গেলো আকাশের বিশাল দুয়ার
সে এখন ভাসমান খড়ের মতো –
ঘুরপাক খায় কুইয়ারা জলকুণ্ডলীর ভিতর।

ক্ষত-বিক্ষত অদৃশ্য ভাবনা
ফ্রেমের মতো ঝুলে আছে দেয়ালে,দ্বিধান্বিত।
নি:স্বজীবন সীমান্তে-এখন চেয়ে থাকে মুখপানে
মায়ার পাঁজর ছিঁড়ে অবশেষে পরাজিত সৈনিক।

শাহ সোহেল আমিন’র কবিতা

IMG_2005

 

 

 

মনুষ্যং শরণং গচ্ছামি

-শাহ সোহেল আমিন

 

প্রিয়তমা তোমার শুভ্রবুক হতে নাভিমূল অবধি

“আই”এর উগ্রতায় ব্যুৎক্রান্ত-

হরিয়েছো দেহের দুধে আলতা বালিকারং

নুয়ে পড়েছো দণ্ডিত ঔরসের ফুজিয়ামা ভারে।

অমীমাংসিত বলকানোর ঘনসঙ্গমে

তোমারই নিষিদ্ধ সম্পাদনা-ওয়শিংটন

এখন লাইকান থ্রপের পরিব্রাজক;

জেরুজালেম এক বিষাক্ত শঙ্খচুড়ের নাম-

অং সান যেনো ক্ষুধার্ত শকুনের আরেক নেকড়ে বসন!

 

হে লও পিয়াসী আরাকান-

বিদীর্ণ করেছ কি পাতা ও কুড়ির ত্রিশরণ,

মগেরমুল্লুকে হারিয়েছ কি-

“বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি

ধন্মং শরণং গচ্ছামি

শঙ্ঘং শরণং গচ্ছামি”

-তবে কেনো হোঁদল আর্তনাদে পরিতৃপ্ত রাখাইনের বাতাস-

নাফের সুনিপুণ ধারায় রক্তের নির্গতজল

সোনালী দিনের ডিমপাড়া ঘোড়ারএন্ডায়

উদ্বাস্তের অনিশ্চিত বাস-

বেয়নেটের খোচায় নেতিয়ে পড়া

ষোড়শীর মাংশ স্পর্শ করে গণ্ডারের ঠোঁট

উনুনপোড়া মোরগের তন্দুরি হয় জঠরের সুপ্ত শিশু!

 

প্রিয়তমা পরিশোধিত হও-

সুললিত করো তোমার বেবন্দেজশরীর

তুন্দের উঁকি দেওয়া মাইলেনেওরাদের

উদ্ঘাটন করো; সামঞ্জস্য করো-

মনুষ্যং শরণং গচ্ছামি

মনুষ্যং শরণং গচ্ছামি

মনুষ্যং শরণং গচ্ছামি।

আল্টমাস লেলিনের কবিতা

Lelin 2

 

 

আল্টমাস লেনিন

একাকিত্ব

 
একাকিত্ব আমার ভাল লাগে
কখনো কখনো,
যখন আমি নস্টালজিয়ায় ভোগী।
মনে পরে যায় অনেক কথা,
অনেক হাসি, অনেক কান্না
অনেক স্মৃতি বিজরীত ঘটনা-দূর্ঘটনা।
সে সব কথা ভেবে কখনো আনন্দের
এক চিলতে হাসি ফুটে উঠে।
আবার কখনো কষ্টের নীলিমায়
নীলাম্বরী হয়ে চোখ দুটি অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠে।
হাতছানি দিকে অতীত যেন ডেকে বলে,
এসো, এসো আমার মনের গহীনে
অবগাহন করে আমায়।
অনেক মুখচ্ছবি ভেসে উঠে মনের আয়নায়,
আবার অনেক মুখচ্ছবি মলিন হতে গেছে,
স্মৃতি যেন খুঁজে ফিরে বেড়ায় তাদের।
করতোয়া নদী হতে বংশী নদী পর্যন্ত
কত না সুখ- দুঃখ- আনন্দে ঘেরা স্মৃতি
আজ বেদনার নীল কারাগারে বন্দী।
আজ আমি একা, বড্ড একা
আমার একাকিত্বের অংশিদার
শুধু আমিই একা।।।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net