শিরোনাম

আন্তর্জাতিক

প্যারিসে পিপলস ট্রাইব্যুনালের বিক্ষোভ সমাবেশ ——আনসার আহমেদ উল্লাহ

গেল ১২ ডিসেম্বর প্যারিস জলবায়ু চুক্তির ২ বছর পূর্তি হলো। এ উপলক্ষে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যক্রনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশেররাষ্ট্রপ্রধাণরা জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিজ্ঞা পুনব্যক্ত করতে সমবেত হয়েছেন।
এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলি লক্ষ্য হলো, ২০১৫ সালে প্যারিসের জলবায়ু সম্মেলনের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন তরান্বিত করা এবং চুক্তির অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হওয়া। বাংলাদেশের প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এতে অংশ নিয়েছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর অঙ্গীকারকরলেও বাস্তবিক পক্ষে জলবায়ুর জন্য হুমকিস্বরূপ জীবাশ্ম জ্বালানী নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যহত রেখেছে। বাংলাদেশ ২০৪১ সাল নাগাদ মোট জ্বালানীর ৩৫ শতাংশ কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছে, যা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশও এরকম দ্বিমুখীজ্বালানী পরিকল্পনা করেছে। সেকারনে গত ১০ ডিসেম্বর পরিবেশ সতেচন বিভিন্ন সংগঠন প্যারিসে জলবায়ুর পরিবর্তন শীর্ষক গণশুনানি (Peoples Tribunal)আয়োজন করে।

জাতীয় কমিটি ফ্রান্স শাখার পক্ষ থেকে এই ট্রাইবুন্যালে অংশ নেয়া হয় এবং সুন্দরবনের উপর রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রভাব নিয়ে প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন। সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করতে পারে, এমন সকল তৎপরতা বন্ধ করার দাবি পুনব্যক্ত করা হয়। রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করতে ফ্রান্সের এবং বিশ্বের পরিবেশ আন্দোলনকারীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম, জুয়েল দাশ রায় লেনিন, নিলয় সূত্রধর সুমন ও সারদা মনি রায় ছন্দা। 350 France, Tour Alternatiba, Les Amis de Terre France, ANV Action non-violent COP21, Attac France, Biyi Mugi, Le CRID, Oxfam France Le Refedd, ZEA, La Foundation pour la Nature et l`Homme সহ ইউরোপের অনেকগুলো সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।
প্রোগ্রামের ধারাবাহিকতায় আজ ১২ ডিসেম্বর সকালে আন্দোলনকারীরা এক সমাবেশের আয়োজন করে। এতে কয়লার রূপক অর্থে কালো চাদর দিয়ে পৃথিবীকে প্রথমে ঢেকে ফেলা হয়, এরপর প্রতিবাদী জনতা সে চাদর ছিন্নভিন্ন করে মুক্ত বাতাসে বের হয়ে আসে এবং মুক্তির গান গেয়ে ও শ্লোগান দিয়ে বিশ্বকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে বলে। এই আয়োজনে প্রায় হাজারখানকি মানুষ অংশ নয়ে। বাংলাদেশ তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ- বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ফ্রান্স শাখা এই প্রতিবাদ কর্মসূচির সাথে একাত্মতা জানায়। জাতীয় কমিটি ফ্রান্স শাখার পক্ষ থেকে উপস্থতি ছিলেন আহ্বায়ক ফাহাদ রিপন, সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম, সদস্য আহাম্মেদ আলী দুলাল, তপু বড়ুয়া ও ইয়াসমিন আক্তার। অনেকে। এসময় জাতীয় কমিটির নেতৃবন্দ বাংলাদেশের সুন্দরবন নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। আজকের আয়োজনে ইউরোপের পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর পক্ষে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন Clemens Dubois, Brett Fleishman, Victoire Guillonneau এবং আরো অনেকে। গত এক সপ্তাহ ধরে নানা প্রস্তুতি এবং রিহার্সালের মধ্যে দিয়ে এই আয়োজন সফল করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘‘মেমোরি অব দ্য ওয়াল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিষ্টার’’-এ অন্তর্ভূক্ত করায় লন্ডনে হাইকমিশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‌্যালী

লন্ডনঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের যেমন পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছেন অন্যদিকে জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্টা করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্যে আমরা বাঙ্গালীরা গর্বিত, বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ একই সূত্রে গাঁথা। ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘‘মেমোরি অব দ্য ওয়াল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিষ্টার’’-এ অন্তর্ভূক্ত করে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃতি প্রদান করায় লন্ডস্থ বাংলাদেশ মিশন আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এঅভিমত ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন ৭ই মার্চের ভাষণই স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষণা। তিনি বলেছিলেন ‘‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতা সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’’। ‘‘আমি যদি হুকুম দিবার না-ও পারি তোমাদের যার যা কিছু আছে তা নিয়ে রুখে দাড়ার শত্রুর মোকাবলা কর’’ আর তাই ঘটেছিল। মার্চের ৮ তারিখ থেকে গ্রামে গঞ্জে শুরু হয় ট্রেনিং মানুষ যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ২৫ মার্চ তিনি পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার পূর্বমূহুর্থে তৎকালীণ ইপিআর-এর ওয়ার্লেস মারফত আবার স্বাধীনতার ঘোষনা দেন পরবর্তিতে অনেকেই তার পক্ষে এই ঘোষনাপত্র পাঠ করেন। এটিই হচ্ছে আসল সত্য ।bhl ralyMatiar chowdhury
সোমবার ১১ ডিসেম্বর দুপুরে সাউথ-ওয়েষ্ট লন্ডনের ২৮ কুইন্স গেটের বাংলাদেশ মিশনের সেমিনার হলে লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনানের সভাপতিত্বে ও ফাষ্ট সেক্রেটরী স্বদীপ্ত আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার শুরুতে মাননীয় রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করে লন্ডনে নিযুক্ত সহকারী হাইকমিশনার খন্দকার এম তালহা ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন কাউন্সেলর এম রেজা আবেদীন। এর পর প্রজেক্টারের মাধ্যমে বাজানো হয় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকেটের রূপকার বিমান মল্লিক, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সহসভাপতি সৈয়দ মোজাম্মেল আলী, সাবেক প্রেস মিনিষ্টার সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান, সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, যুক্তরাজ্য যুবমহিলা লীগের সেক্রেটারী সাজিয়া ¯িœগ্ধা, যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্মসম্পাদক জামাল খান, সাবেক ছাত্র নেতা শায়েক আহমদ, সাবেক কাউন্সিলার সেলিম চৌধুরী প্রমুখ।

jamal khan সভাপতির বক্তব্যে হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন বলেন ইউনেস্কো কর্তৃক জাতির জনকের ৭ই মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি প্রদান আমাদের কুটনৈতিক প্রচেষ্টার ফসল। তিনি বলেন ইউনেস্কো হ্যরিটেজ কমিটিতে ১৪জন সদস্য থাকেন এব্যাপারে প্রত্যেক সদস্যকে একমত পোষন করতে হয়, এই কমিটির কেউ দ্বিমত পোষন করলে তা সম্ভব হতোনা। এর পর বের করা হয় আনন্দ র‌্যালী, র‌্যালিটি হাইকমিশন ভবন থেকে বের হয়ে কুইন্সগেট এলাকার বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিন করে আবার হাইকমিশন ভবনে এসে শেষ হয়।

ইউনেস্কোর ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে শীতলপাটি

ইউনেস্কোর নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণের জন্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় কমিটি বুধবার শীতলপাটির বয়নপদ্ধতির স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়েছে বলে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর জানিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ওই কমিটির বৈঠক, চলবে শনিবার পর্যন্ত। কমিটির আলোচ্যসূচির মধ্যে অন্যতম ছিল ২০১৭ সালের নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকা অনুমোদন।

বাংলাদেশের শীতলপাটির বয়নশিল্পের সঙ্গে ১৯টি দেশের ১৫টি নৈর্ব্যক্তিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সদ্য অনুমোদিত তালিকায় স্থান পেয়েছে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জাতীয় জাদুঘর শীতলপাটির বয়নপদ্ধতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কমিটির কাছে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল।

আগের দিন সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরে শীতলপাটির এক বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধনীতে এসে সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, কমিটির চলতি অধিবেশনে স্বীকৃতির বিষয়টি ‘প্রায় নিশ্চিত’, এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

এর আগে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা, বাংলার বাউল সংগীত, ঐতিহ্যবাহী জামদানী বুনন পদ্ধতি ইউনেস্কোর নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে।

বাংলাদেশের আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন বাংলার শীতলপাটি। লোকশিল্পটি মুর্তা নামক গাছের বেতি থেকে বিশেষ বুনন কৌশলে শিল্পরূপ ধারণ করে।

বৃহত্তর ঢাকা বিভাগ, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে এই বেত গাছ জন্মালেও শীতলপাটির বুননশিল্পীদের অধিকাংশের বসবাস সিলেট বিভাগে। বৃহত্তর সিলেটের ১০০ গ্রামের প্রায় ৪ হাজার পরিবার সরাসরি এই কারুশিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে জাতীয় জাদুঘর এক সমীক্ষায় জানিয়েছে।

সিলেটের শীতলপাটির এই বুননশিল্পীরা ‘পাটিয়াল’ বা ‘পাটিকর’ নামে পরিচিত।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন বিশ্ববাসীর সম্পদ এটি শুধু বাঙ্গালীদের নয় সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্যে গৌরবের ——টাওয়ার হ্যামলেটস মেয়র জন বিগস

মতিয়ার চৌধুরীঃ বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন বিশ্ববাসীর সম্পদ, এটি শুধু বাঙ্গালীদের নয় সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্যে গৌরবের, আমরা ব্রিটিশরাও এনিয়ে গর্বিত। আর একারনেই অমূল্য এই ভাষনকে ইউনেস্ক কর্তৃক বিশ্ব হ্যারিটেজের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। বিশ্ব বাসীর সম্পদ হিসেবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যে অর্মল্য ভাষনটিকে বিভিন্ন ভাষায় প্রচার করা উচিত। এমন্তব্য টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র জন বিগসের। গতকাল সন্ধ্যায় ইষ্টলন্ডনের অট্রিম ব্যানকুইটিং হলে যুক্তরাজ্য নাগরিক কমিটি আয়োজিত আনন্দ সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেয়র জন বিগস এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বাঙ্গালীদের গর্ব করা উচিত। প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠন সুলতান মাহমুদ শরীফের সভাপতিত্বে এবং বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা নইমুদ্দিন রিয়াজ ও টিভি উপস্থাপিকা উর্মি মাজহারের যৌথ সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারের খাদ্য মন্ত্রী এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে কামরুল ইসলাম বলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিশ্বব্যাপী আজ গবেষনা হচ্ছে, ইউনেস্কো এই ভাষনটিকে হ্যারিটেজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু কিছু সংখ্যক কুলাংগার ও স্বাধীনতা বিরোধী আজও এই সত্যকে স্বীকার করতে চায়না। ৭৫সালে জাতির জনককে স্বপরিবারে হত্যার পর ইতিহাসের পাতা থেকে তার নাম মুছে ফেলতে চেষ্টা করা হয়েছে। ইচ্চেকৃত ভাবে ইতিহাস বিকৃতি ঘটানো হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সত্য ইতিহাস তুলে ধরা সহ নানামুখি পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে। জাতির জনকের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে হলে তার কন্যার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। একসময় যে হেনরী ক্যাসিঞ্জার বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুরি আখ্যায়িত করেছিল এই আমেরিকাই আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন দেখে প্রশংসা করছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বের কারনে। লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন বলেন জাতির জনকের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষনে ইউনেস্ক কর্তৃক বিশ্ব হ্যারিটেজের অন্তর্ভূক্তি করন এই সরকারের সব চেয়ে বড় সাফল্য। সেভেন মার্চ ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট সাবেক কাউন্সিলার নুরুদ্দিন আহমদ বলেন আমরা ২০১৪ সাল থেকে ৭ইমার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষনার দাবী জানিয়ে আসছি, অগ্রনী রিসার্চ এর মাধ্যমে আমাদের টিম জাতির জনকের ভাষনের উপর গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে, বিভিন্ন সময় সেভেন মার্চ ফাউন্ডেশন দাবীর আদায়ের জন্যে বাংলাদেশ এবং ঢাকাতে সেমিনার করেছে, এদাবীর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী সহ তিনশ জন এমপি বরাবরে স্মারক লিপি দিয়েছি ৪মার্চ ২০১৪ সালে। তিনি অনুষ্টানে সেই স্মারক লিপির কপি আবারও খাদ্যমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে ৭ই মার্চকে জাতীয় দিবস ঘোষনার দাবী জানান। অনুষ্টানে আরো বক্তব্য রাখেন ফয়েজুর রহমান লস্কর, আনসার আহমেদ উল্লাহ, হরমুজ আলী, মারুফ চৌধুরী, ফখরুল ইসলাম মধূ, সেলিম খান, জোবায়ের আহমদ, জামাল খান, সারব আলী, কাওছার চৌধুরী, আবদুল আহাদ চৌধুরী, হুসনেয়ারা মতিন, আঞ্জুমান য়ারা অঞ্জু, শাহ শামীম আহমদ, খসরুজ্জামান খসরু সহ আরো অনেকে। অনুষ্টানের শুরুতে জাতির জনক সহ ১৫ই আগষ্টের সকল শহীদ ও মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর পর সকলে একসঙ্গে পরিবেশন করেন জাতীয় সঙ্গীত, বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাজানো হয় ৭ই মার্চের ভাষন, এর পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্টান ও কবিতা আবৃত্তি, আবৃত্তিতে অংশ নেন নজরুল ইসলাম অকিব, স্মৃতি আজাদ, সাজিয়া ¯িœগ্ধা, মুসলিমা শামস বন্নি, সঙ্গীত পরিবেশন করেন গৌরী চৌধুরী রাজিয়া রহমান সহ বিলেতের শিল্পরা।

মিশরের সিনাইয়ে মসজিদে জঙ্গি হামলা

মিশরের গোলযোগপূর্ণ সিনাই উপদ্বীপের একটি মসজিদে বোমা হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ১০৯ জন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর সিনাইয়ের আল-আরিশের পশ্চিমাঞ্চলে আল-রাওদা মসজিদে এ হামলার ঘটনা ঘটে। খবর: আল-আহরাম ও ডেইলি সাবাহ। সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণার কথা জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, বিস্ফোরণের পর গাড়িতে করে আসা বন্দুকধারীরা মুসল্লিদের উপর নির্বিচার গুলিবর্ষণ করতে থাকে।এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী মসজিদে রক্তাক্ত এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।হতাহতদের উদ্ধারে ৩০টি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অবরুদ্ধ গাজা সীমান্তে রাফা ক্রসিং তিন দিনের জন্য খুলে দেয়ার একদিন আগে এই হামলার ঘটনা ঘটল। সন্ত্রাসী হামলার অজুহাতে বহির্বিশ্বের সঙ্গে গাজার এই একমাত্র ক্রসিং বন্ধ করে রেখেছে মিশর। এতে ইসরাইলি অবরোধে দুর্বিষহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে গাজার ফিলিস্তিনিদের। মিশরের সিনাইয়ে জঙ্গিরা প্রায়শই নিরাপত্তা বাহিনী এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা চালিয়ে থাকে। এই প্রথম মসিজদে হামলার ঘটনা ঘটল।

রোহঙ্গিা সংকট মোকাবলোয় ইউরোপীয় ইউনয়িনরে ভূমকিা র্শীষক একটি সমেনিার অনুষ্ঠতি —–আনসার আহমদে উল্লাহ

গেল ১১ নভেম্মবর EU Rohingya.jpg 4ঙ্গলবার দুপুর ০১.৩০ থকেে ০৩.০০ ঘাটকিা র্পযন্ত বলেজয়িামস্থ ইউরোপয়িান র্পালমিন্টেে ইউরোপয়িান কূটনীতকিদরে সংগঠন “ইনডপিনেডন্টে ডপ্লিোমটে” এর আয়োজনে রোহঙ্গিাসংকট মোকাবলোয় ইউরোপীয় ইউনয়িনরে ভূমকিা র্শীষক একটি সমেনিার অনুষ্ঠতি হয়। র্বামার সংখ্যালঘু রোহঙ্গিাদরে উপর জাতগিত নধিন প্রতরিোধে ই ইউ কি কি ভুমকিা রখেছেে এবং এই সংকটরেস্থায়ী সমাধানে আর কি কি করণীয় রয়ছেে সসেব বষিয়ে আলোচনা হয় এই সমেনিার।ে এতে ইউরোপরে বভিন্নি দশেথকেে রাজনীতবিদি, বুদ্ধজিীবী, সমাজ র্কমী, সংবাদ র্কমী, শক্ষিবদি, ছাত্র সহ বভিন্নিশ্রণেী পশোর মানুষ উপস্থতি ছলিনে। বলেজয়িামস্থ বাংলাদশেি কমউিনটিরি পক্ষথকেে উপস্থতি ছলিনে বশিষ্টি কমউিনটিি নতো, বলেজয়িামস্থ বাংলাদশেীদরে সামাজকি সংগঠন “এসোসয়িশেন অববাংলাদশেী কমউিনটিি ইন বলেজয়িাম” এর সাবকে সভাপতি ও বলেজয়িাম আওয়ামী লীগরে র্বতমান সভাপতি সহদিুল হক, এ বি সি বি র এম এম র্মোশদে ও আওয়ামী লীগ নতো আখতারুজ্জামানএছাড়া বলেজয়িাম সোসালস্টি র্পাটি ও চরেটিি সংগঠন হ্যান্ড টু হ্যান্ড এর আ ফ ম গোলাম জলিানী। এতে বক্তব্য রাখনে ই ইউ র্পালামন্টে’ের সদস্য এনা গোমজে সহ বভিন্নি দশে থকেে নর্বিাচতি বশেকয়কে জন এম ই প,ি র্বামজি রোহঙ্গিা র্অগানজিশেন ই ইউ ক’ের থুং কনি, র্বামা হউিম্যান রাইট্স নটেওর্য়াকরে কয়্যি উইন এবং ইউরোপীয়ান রোহঙ্গিা কাউন্সলিরে আম্বয়িা পারভীন। উল্লখ্যেবাংলাদশেীদরে পক্ষ থকেে আ ফ ম জলিানী ও এম এম র্মোশদে ও এতে বক্তব্য রাখনে। তারা বলনে নজিরে অনকে সমস্যা থাকা সত্বওে মানবকি কারনে বাংলাদশে তথা বাংলাদশেরে প্রধান মন্ত্রী মাধারঅব হউিমনিটি,ি বশ্বি শান্তরি অগ্রদূত জন নত্রেী শখে হাসনিা, বশ্বিরে মধ্যে অতি অল্প সময়ে র্সববৃহৎ সংখ্যক স্বরর্নাথীর অন্ন বস্ত্র বাসস্থানরে ব্যবস্থা করছনে। কন্তিু বশ্বি সম্প্রদায়রে উচৎি যত তাড়াতাড়ি সম্ভবএ সমস্যার স্থায়ী সমাধানরে ব্যাবস্থা করা। রোহঙ্গিাদরে কাছ থকেে অন্যায়ভাবে কড়েে নয়ো নাগরকিাত্ব, তাদরে ধন সম্পদ, জায়গা জম,ি ভটিে বাড়,ি র্দীঘদনি যাবৎ অন্যায় ভাবে বঞ্চতি রাখা শক্ষিা,চকিৎিসা ইত্যাদরি অধকিার সহ যাবতীয় নাগরকি অধকিার ফরিয়িে দয়িে অতি দ্রুততার সহতি তাদরে মাতৃ ভূমতিে ফরেৎ নয়োর জন্য মায়ানমার সরকারকে বাধ্য করা। ই ইউ সহ বশ্বি সম্প্রদায়রে উচৎিমায়ানমাররে সাথে সাথে ইন্ডয়িা, চীন ও রাশয়িার উপর ও চাপ প্রয়োগ করা, কারণ তাদরে অন্যায় অস্কারার কারণইে অদ্যাবধি মায়ানমারে রোহঙ্গিা নধিন বন্ধ হয়ন।ি তারা আরো বলনে এ সমস্যার সমাধানযদি সহসা না করা হয় তবে সদেনি বশেী দূরে নইে যে “এই রোহঙ্গিা সমস্যার ক্ষতকির প্রভাব পুরু দক্ষণি এশয়িা সহ সাড়া বশ্বিইে পরতে শুরু করব।ে সমেনিারে সবাই একমত পোষণ করে বলনে যর্অেথনতৈকি চন্তিা করে কছিু দশেরে অতি লোভী র্অথনতৈকি চন্তিা থকেে এই গণহত্যার বলোয় নশ্চিুপ

আ.ফ.ম. মাহবুবুল হক ছিলেন নীতির প্রশ্নে আপোষহীন লোভ-লালসা তাঁকে স্পর্শ করতে পারিনি -স্মরণ সভায় বক্তারা

4 লন্ডনঃ একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক ছাত্রনেতা ও প্রগতিশীল রাজনীতিক আ.ফ.ম মাহবুবুল হক ছিলেন একজন সৎ খাটি দেশপ্রেমিক। নীতির প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোষহীন, লোভ-লালসা তাঁকে স্পর্শ করতে পারিনি একারণেই তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। আজীবন খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন। নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে অটল এই রাজনীতিক ছিলেন শ্লেগানের মাষ্টার। ‘‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’’ এই শ্লোগানের জন্যে তিনি অমর হয়ে থাকবেন। জীবিত মাহবুবুল হকের চেয়ে মৃত মাহবুল হক আরো বেশী শক্তিশালী। বাম রাজনীতিক আ.ফ.ম মাহবুবুল হকের স্মরন সভায় বক্তারা এঅভিমত ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন বিপ্লবের স্বার্থে তার কোন বক্তব্যে তিনি কাউকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখেননি। জিয়া-এশাদ আমলে তাঁকে লোভনীয় অফার দেয়া হয়েছে, প্রস্থাব দেয়া হয়েছে মন্ত্রী করার-তিনি তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছেন।
12 নীতর প্রশ্নে আপোষহীন এই বাম রাজনীতিক চিরকাল অমর হয়ে থাকবেন। গেল ২২ নভেম্বর বিকেল ইষ্টলন্ডনের মাইক্রো বিজনেন্স সেন্টারে বৃটেনে বসবাসরত প্রগতিশীল চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসীদের আয়োজনে শোক সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক ছাত্রনেতা ও যুক্তরাজ্য বাসদের আহবায়ক গয়াছুর রহমান গয়াছ, সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী ও সাবেক ছাত্র নেতা আব্দুল মালিক খোকনের সঞ্চালনায় অনুষ্টিত শোক সভায় বক্তব্য রাখেন যুক্তরাজ্য জাসদের (ইনু-শিরিন) এর সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক মুক্তিযোদ্ধা এডভোটেক হারুনুর রশিদ, যুক্তরাজ্য জাসদের সভাপতি শামীম আহমদ (আম্বিয়া-প্রধান), জেএসডির সভাপতি ছমির উদ্দিন, যুক্তরাজ্য জাসদের ভাইস প্রেসিডেন্ট (ইনু-শিরিন) কবি গীতিকার এডভোকেট মুজিবুল হক মনি, যুক্তরাজ্য জাসদের সেক্রেটারী (ইনু-শিরিন) সৈয়দ আবুল মনসুর লিলু, যুক্তরাজ্য জাসদের সাবেক সেক্রেটারী আব্দুর রাজাজাক, সিপিবি নেতা শাহরিয়ার বিন আলী,যুক্তরাজ্য বাসদ নেতা সোহেল আহমদ চৌধুরী, বাসদ নেতা মোহাম্মদ শওকত, জাসদ (আম্বিয়া-প্রধান) বেডফোর্ড শাখার সেক্রেটারী সোহেল আহমদ চৌধুরী, ব্যারিষ্টার ফারা খান,জাতীয় পার্টির ইউরোপীয়ান কো-অর্ডিনেটর মুজিবুর রহমান মুজিব, প্রজন্ম একাত্তরের বাবুল হোসেন, ডাঃ গিয়াস উদ্দিন, জাসদ নেতা রেদওয়ান খান, কমিউনিটি নেতা সাদ চৌধুরী, সাবেক ছাত্র নেতা সৈয়দ আব্দুল মাবুদ, কানেক্ট বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট নুরুল আমিন, কবি নজরুল ইসলাম প্রমুখ। বাম রাজনীতিক আ.ফ.ম. মাহবুবুল হক গেল ১০ নভেম্বর কানাডার অটোয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি ১৯৪৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর নোয়াখালির চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। ১৯৬২ সালে স্কুল জীবনে শরীফ কমিশনের শিক্ষানীতির বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ গ্রহন করে, ১৯৬৭-১৯৬৮ সালে ছাত্রলীগ সূর্যসেন হল শাখার সম্পাদক ১৯৬৮-৬৯ সালের ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটর সদস্য, ১৯৬৯-৭০ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি বিএলএফের প্রশিক্ষক ও পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, ১৯৭২ সালে ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক, ১৯৭৩-১৯৭৮ সাল পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৭৮-১৯৮০ সালে জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, ১৯৮৩ সালে বাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক নিযুক্ত হন। ১৯৬৮ সালে প্রথম কারাবরন করেন, মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও একমেয়ে সহ অসংখ্য গ্রুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বাংলাদেশ মিশনের উদ্যোগে লন্ডনে কেক কেটে সশস্ত্র বাহিনী দিবস পালিত

লন্ডন থেকে মতিয়ার চৌধুরীঃ সশস্ত্র বাহিনী দিবস আমাদের জাতীয় ইতিহাসে এক গৌরবোজ্বল দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং বীর মুক্তিসেনারা সম্মিলিত ভাবে দখলদার পাকিস্থানী হানাদারদের উপর সম্মিলিত ভাবে আক্রমন শুরু করে। চারিদিক থেকে আক্রমনে বির্যস্থ হয়ে পড়ে পাকবাহিনী। ফলশ্রুতিতে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাক বাহিনী ভারত-বাংলা মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পনে বাধ্য হয়। আমরা অর্জন করি বিজয়। বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নেয় নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালের সেই বীর সেনানীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছর ২১ নভেম্বর দিনটিকে জাতীয় সশস্ত্র বাহিনী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। জাতীয় ভাবে আয়োজন করা করা হয় জাতির শ্রেষ্ট সন্তানদের সম্বর্ধনা ও নানা অনুষ্টানের।
3প্রতিবছরের ন্যায় এবারও লন্ডন্থ বাংলাদেশ মিশন লন্ডনে সশস্ত্র বাহিনী দিবসে আয়োজন করে এক ব্যতিক্রমী অনুষ্টান মালার। গতকাল ২১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে পাঁচ ঘটিকায় টেমস নদীর তীরে ৪ আলবার্ট এমবেকমেন্ট লেমবাথে আয়োজন করে সম্বর্ধনা ও ডিনারপার্টির। অনুষ্টানে উপস্থিত হন লন্ডস্থ বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা । আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন ব্রিটিশ সেনা নৌ বাহিনীর সদস্য, এমপি,লর্ডসভার সদস্য, লন্ডনে কর্মরত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কুটনীতিক, বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ট জনেরা, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠননের নেতৃবৃন্দ ও ৭১‘র শ্রেষ্ট সন্তান মুক্তিযোদ্ধারা। 3
লন্ডস্থ বাংলাদেশ মিশনের কাউন্সেলার মিঃ আবেদিনের সঞ্চালনায় অনুষ্টানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লন্ডস্থ বাংলাদেশ মিশনের ডিফেন্স এডভাইজার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ.কে.এম. আমিনুল হক এএফসি,পিএসসি,সিএসই। স্বাগত বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার আমিনুল হক শ্রদ্ধাভরে স্মরন করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, তিনি বলেন জাতির জনক ৭১‘র ৭ইমার্চ জাতিকে যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুত হওয়ার আহবান জানান, এর পর থেকে বাঙ্গালী জাতি যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে, তিনি আবার ২৬ মার্চ সরাসরি স্বাধীতার ঘোষনা দেন। অবসরপ্রাপ্ত কর্ণেল এম এ জি ওসমানীকে প্রধান করে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ, তৎকালীন পাকিস্তান সামরিক বাহিনীতে যে সব বাঙ্গালী ছিলেন তাদের অনেকেই পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় বাহিনীর অবদানের কথা শ্রদ্ধা ভরে স্মরন করেন, স্মররন করেন তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীকে। তিনি বলেন বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী একটি সুশৃঙখল বাহিনী, এই বাহিনীকে শক্তিশালী করতে কাজ করে গেছেন জাতির জনক তার পথ অনুসরণ করে তারই কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ সেনা বাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্টা করতে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে কর্মরত বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা সুনামের সাথে কাজ করছে। অতিথিদের সাথে নিয়ে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের কেক কাটেন লন্ডস্থ বাংলাদেশ মিশনের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেলর এ.কে.এম. আমিনুল হক এএফসি,পিএসসি,সিএসই। লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাকিমিশনার নাজমুল কাওনাইন বলেন বাংলাদেশ সশস্ত্রবাহিনী দেশ পূনগঠনে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে কাজ করে আমাদের সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যরা দেশের ভাবমূর্তি উজ্বল করছে। দেশের দুর্যোগ মূহুর্থে দেশবাসীর পাশে দাড়ায় সেনাবাহিনী, বর্তমানে রোহিঙ্গা শরনার্থিদের পাশে দাড়িয়েছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী। অনুষ্টানে সশস্ত্রবাহিনী দিবসে একটি ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করা হয়। সব শেষে আগত অতিথিদের সম্মানে আয়োজন করা হয় নৈশভোজের।

জাতির জনকের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষনকে বিশ্বের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতির সুপারিশ করেছে ইউনেস্কো

লন্ডনঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭১ সালের বিখ্যাত ৭ই মার্চের ভাষণকে বিশ্বের ঐতিহাসিক প্রামাণ্য দলিল (world documentary heritage) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সুপারিশ করেছে ইউনেস্কো। ঐতিহাসিক এই ভাষণসহ ৭৮টি আলোচিত বিষয়কে নতুন বিশ্ব ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।গেল সোমবার প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দফতর থেকে এ সুপারিশের ঘোষণা দেয়া হয়।সুপারিশে বলা হয়, ইউনেস্কো সদর দফতরে গত ২৪-২৭ অক্টোবর পর্যন্ত সংস্থাটির বিশ্ব ঐতিহ্যবিষয়ক কর্মসূচির আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা কমিটি (আইএসি) চার দিনব্যাপী বৈঠকে নতুন ৭৮টি বিষয়কে বিশেবর ঐতিহাসিক দলিলের স্বীকৃতি দিতে সুপারিশ করা হয়েছে।
সাতই মার্চের ভাষণ ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দের ৭ই মার্চ ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত এক ঐতিহাসিক ভাষণ। ১৮ মিনিট স্থায়ী এই ভাষণে তিনি তৎকারীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদেরকে স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান। এই ভাষণের একটি লিখিত ভাষ্য অচিরেই বিতরণ করা হয়েছিল। এটি তাজউদ্দীন আহমদ কর্তৃক কিছু পরিমার্জিত হয়েছিল। পরিমার্জনার মূল উদ্দেশ্য ছিল সামরিক আইন প্রত্যাহার এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবীটির ওপর গুরুত্ব আরোপ করা। ১২টি ভাষায় ভাষণটি অনুবাদ করা হয়৷নিউজউইক ম্যাগাজিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাজনীতির কবি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী এই দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে বিলম্ব করতে শুরু করে। প্রকৃতপক্ষে তাদের উদ্দেশ্য ছিল, যে-কোনভাবে ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানী রাজনীতিবিদদের হাতে কুক্ষিগত করে রাখা। এই পরিস্থিতিতে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ জাতীয় পরিষদ অধিবেশন আহ্বান করেন। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে ১লা মার্চ এই অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণা করেন। এই সংবাদে পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশের) জনগণ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২রা মার্চ ঢাকায় এবং ৩রা মার্চ সারাদেশে একযোগে হরতাল পালিত হয়। তিনি ৩রা মার্চ পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় সমগ্র পূর্ব বাংলায় সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই পটভূমিতেই ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানের জনসভায় বিপুল সংখ্যক লোক একত্রিত হয়; পুরো ময়দান পরিণত হয় এক জনসমুদ্রে। এই জনতা এবং সার্বিকভাবে সমগ্র জাতির উদ্দেশ্যে শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণটি প্রদান করেন।
একিহাসিক এই ভাষনে জাতির পিতা উচ্চারন করেনঃ ভায়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন। আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তার অধিকার চায়। কী অন্যায় করেছিলাম? নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে, আওয়ামী লীগকে ভোট দেন। আমাদের ন্যাশনাল এসেম্বলি বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈরি করবো এবং এদেশকে আমরা গড়ে তুলবো। এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবে। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আজ দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় ২৩ বৎসরের করুণ ইতিহাস, বাংলার অত্যাচারের, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস। ২৩ বৎসরের ইতিহাস মুমূর্ষু নর-নারীর আর্তনাদের ইতিহাস। বাংলার ইতিহাস-এদেশের মানুষের রক্ত দিয়ে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস। ১৯৫২ সালে রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারি নাই। ১৯৫৮ সালে আয়ুব খান মার্শাল ল’ জারি করে ১০ বছর পর্যন্ত আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৬ সালে ৬দফা আন্দোলনে ৭ই জুনে আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯ এর আন্দোলনে আয়ুব খানের পতন হওয়ার পরে যখন ইয়াহিয়া খান সাহেব সরকার নিলেন, তিনি বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন, গনতন্ত্র দেবেন – আমরা মেনে নিলাম। তারপরে অনেক ইতিহাস হয়ে গেলো, নির্বাচন হলো। আমি প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি, শুধু বাংলা নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসাবে তাকে অনুরোধ করলাম, ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে আপনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দেন। তিনি আমার কথা রাখলেন না, তিনি রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন, প্রথম সপ্তাহে মার্চ মাসে হবে। আমরা বললাম, ঠিক আছে, আমরা এসেম্বলিতে বসবো। আমি বললাম, এসেম্বলির মধ্যে আলোচনা করবো- এমনকি আমি এ পর্যন্তও বললাম, যদি কেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও একজনও যদি সে হয় তার ন্যায্য কথা আমরা মেনে নেব। জনাব ভুট্টো সাহেব এখানে এসেছিলেন, আলোচনা করলেন। বলে গেলেন, আলোচনার দরজা বন্ধ না, আরো আলোচনা হবে। তারপরে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, তাদের সঙ্গে আলাপ করলাম- আপনারা আসুন, বসুন, আমরা আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈরি করবো।
তিনি বললেন, পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বাররা যদি এখানে আসে তাহলে কসাইখানা হবে এসেম্বলি। তিনি বললেন, যে যাবে তাকে মেরে ফেলা দেয়া হবে। যদি কেউ এসেম্বলিতে আসে তাহলে পেশোয়ার থেকে করাচি পর্যন্ত জোর করে বন্ধ করা হবে। আমি বললাম, এসেম্বলি চলবে। তারপরে হঠাৎ ১ তারিখে এসেম্বলি বন্ধ করে দেওয়া হলো। ইয়াহিয়া খান সাহেব প্রেসিডেন্ট হিসেবে এসেম্বলি ডেকেছিলেন। আমি বললাম যে, আমি যাবো। ভুট্টো সাহেব বললেন, তিনি যাবেন না। ৩৫ জন সদস্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এখানে আসলেন। তারপর হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হলো, দোষ দেওয়া হলো বাংলার মানুষকে, দোষ দেওয়া হলো আমাকে। বন্ধ করে দেয়ার পরে এদেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল।
আমি বললাম, শান্তিপূর্ণভাবে আপনারা হরতাল পালন করেন। আমি বললাম, আপনারা কলকারখানা সব কিছু বন্ধ করে দেন। জনগণ সাড়া দিলো। আপন ইচ্ছায় জনগণ রাস্তায় বেরিয়ে পড়লো, তারা শান্তিপূর্ণভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাবার জন্য স্থির প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো।
কী পেলাম আমরা? আমার পয়সা দিয়ে অস্ত্র কিনেছি বহিঃশত্র“র আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য, আজ সেই অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে আমার দেশের গরীব-দুঃখী নিরস্ত্র মানুষের বিরুদ্ধে- তার বুকের ওপরে হচ্ছে গুলি। আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু- আমরা বাঙালীরা যখনই ক্ষমতায় যাবার চেষ্টা করেছি তখনই তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
টেলিফোনে আমার সঙ্গে তার কথা হয়। তাঁকে আমি বলেছিলাম, জেনারেল ইয়াহিয়া খান সাহেব, আপনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, দেখে যান কিভাবে আমার গরীবের ওপরে, আমার বাংলার মানুষের বুকের ওপর গুলি করা হয়েছে। কী করে আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে, কী করে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, আপনি আসুন, দেখুন, বিচার করুন। তিনি বললেন, আমি নাকি স্বীকার করেছি যে, ১০ই তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স হবে। আমি তো অনেক আগেই বলে দিয়েছি, কিসের রাউন্ড টেবিল, কার সঙ্গে বসবো? যারা আমার মানুষের বুকের রক্ত নিয়েছে, তাদের সঙ্গে বসবো? হঠাৎ আমার সঙ্গে পরামর্শ না করে পাঁচ ঘণ্টা গোপনে বৈঠক করে যে বক্তৃতা তিনি করেছেন, সমস্ত দোষ তিনি আমার ওপরে দিয়েছেন, বাংলার মানুষের ওপরে দিয়েছেন।
ভায়েরা আমার, ২৫ তারিখে এসেম্বলি কল করেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই। আমি ১০ তারিখে বলে দিয়েছি, ওই শহীদের রক্তের ওপর পাড়া দিয়ে আরটিসিতে মুজিবুর রহমান যোগদান করতে পারেনা। এসেম্বলি কল করেছেন, আমার দাবী মানতে হবে। প্রথম, সামরিক আইন- মার্শাল ল’ উইথড্র করতে হবে। সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকে ফেরত নিতে হবে। যেভাবে হত্যা করা হয়েছে তার তদন্ত করতে হবে। আর জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপর বিবেচনা করে দেখবো, আমরা এসেম্বলিতে বসতে পারবো কি পারবো না। এর পূর্বে এসেম্বলিতে বসতে আমরা পারি না। আমি, আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না। আমরা এদেশের মানুষের অধিকার চাই। আমি পরিষ্কার অক্ষরে বলে দেবার চাই, আজ থেকে এই বাংলাদেশে কোর্ট-কাঁচারী, আদালত-ফৌজদারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।
গরীবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে সেইজন্য যে সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলো আছে সেগুলোর হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিকশা, ঘোড়ারগাড়ি, রেল চলবে, লঞ্চ চলবে- শুধু… সেক্রেটারিয়েট, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, জজকোর্ট, সেমি গভর্নমেন্ট দপ্তরগুলো, ওয়াপদা কোন কিছু চলবে না। ২৮ তারিখে কর্মচারীরা যেয়ে বেতন নিয়ে আসবেন। এরপরে যদি বেতন দেওয়া না হয়, আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয় – তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু – আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে মারবো, আমরা পানিতে মারবো। তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, কেউ তোমাদের কিছু বলবে না। কিন্তু আর আমার বুকের ওপর গুলি চালাবার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি তখন কেউ আমাদের দাবাতে পারবেনা। আর যে সমস্ত লোক শহীদ হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, আমরা আওয়ামী লীগের থেকে যদ্দুর পারি তাদের সাহায্য করতে চেষ্টা করবো। যারা পারেন আমাদের রিলিফ কমিটিতে সামান্য টাকা-পয়সা পৌঁছে দেবেন। আর এই সাত দিন হরতালে যে সমস্ত শ্রমিক ভাইয়েরা যোগদান করেছে, প্রত্যেকটা শিল্পের মালিক তাদের বেতন পৌঁছে দেবেন। সরকারি কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হবে, খাজনা ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হলো- কেউ দেবে না। মনে রাখবেন, শত্রুবাহিনী ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে। এই বাংলায় হিন্দুমুসলমান, বাঙালী-ননবাঙালী যারা আছে তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আপনাদের ওপর, আমাদের যেন বদনাম না হয়। মনে রাখবেন, রেডিও-টেলিভিশনের কর্মচারীরা, যদি রেডিওতে আমাদের কথা না শোনে তাহলে কোন বাঙালী রেডিও স্টেশনে যাবে না। যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, কোন বাঙালি টেলিভিশনে যাবেন না। ২ ঘণ্টা ব্যাংক খোলা থাকবে, যাতে মানুষ তাদের মায়না-পত্র নেবার পারে। পূর্ব বাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে এক পয়সাও চালান হতে পারবে না। টেলিফোন, টেলিগ্রাম আমাদের এই পূর্ব বাংলায় চলবে এবং বিদেশের সংগে নিউজ পাঠাতে হলে আপনারা চালাবেন। কিন্তু যদি এ দেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা করা হয়, বাঙালীরা বুঝেসুঝে কাজ করবেন। প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তোল। এবং তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো। রক্ত যখন দিয়েছি, আরো রক্ত দেবো। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ।এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম জয় বাংলা।
এখানে উল্লেখ্য যে লন্ডন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্টান অগ্রণী রিসার্স সাবেক কাউন্সিলার নুরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে ৭ই মার্চ ফাউন্ডেশন নামে ভাষনটির উপর গবেষনা সহ দিনটিকে জাতীয় দিবস ঘোণনার দাবী জানিয়ে আসছে সেই সাথে ভাষনটিকে অমূল্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের জন্য ইউনেস্কো সহ বিশ্বব্যাপী লবিং করে আসছে। এরই ধারাবাকিহতায় প্রতিবছর লন্ডন সহ ঢাকা সহ বিশশ্বর বিভিন্ন শহরের ৭ই মার্চ ফাউন্ডেশন সেমিনারের মাধ্যমে বিষয়টি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরছে।

মিয়ানমারকে অবশ্যই নিজ নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মিয়ানমারকে অবশ্যই নিজ নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানও হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেছেন সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। দু’দিনের সফরে রোববার দুপুরে ঢাকায় আসার পর সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে যান সুষমা। বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের নাগরিকদের ফেরত নিতে হবে।’ বিশাল সংখ্যার এই শরণার্থীদের বাংলাদেশের জন্য ‘বড় বোঝা’ আখ্যায়িত করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে কত দিন এই ভার বহন করবে।sheikh_hasina_sushama_pic1
এর একটা স্থায়ী সমাধান হতে হবে।’ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা রাখার উপরও জোর দেন তিনি। বৈঠকে শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী, ভারতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সেদেশের পররাষ্ট্র সচিব জয়শঙ্কর এবং ঢাকায় দেশটির রাষ্ট্রদূত হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা। এর আগে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার যৌথ পরামর্শ কমিশনের চতুর্থ বৈঠকে অংশ নিতে বেলা পৌনে ২টার দিকে ভারতীয় বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান সুষমা স্বরাজ। কুর্মিটোলা বঙ্গবন্ধু বিমানঘাঁটিতে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net