শিরোনাম

আন্তর্জাতিক

জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছবি অবমাননাকারীদের শাস্তির দাবিতে লন্ডনে প্রতিবাদ সভা

লন্ডনঃ হাজার বছরের শ্রেষ্ট বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি অবমাননাকারীদের শাস্তির দাবিতে বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরাম গ্রেটার লন্ডনের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভা পূর্ব লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়।১৫ই ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়,সংগঠনের সভাপতি বাতিরুল হক সরদারের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক শাহ রহমান বেলালের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট ২ আসনের (সাবেক এমপি)সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুর রহমান চৌধুরী । প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরাম যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি মনির হোসাইন ,বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউরোপিয়ান বাংলাদেশী ফোরামের সভাপতি আনসার আহমেদ উল্লাহ ।
b b w j f -2
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব শফিকুর রহমান বলেন , একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের দূতাবাস প্রজাতন্ত্রের সম্পদ সেই দূতাবাসে স্বারকলিপি প্রদানের নামে কর্মসূচি দিয়ে বিএনপি সন্ত্রাসী হামলা ভাঙচুর ও জাতির জনকের ছবি অবমাননা করে যে ধৃষ্টতা দেখাল তাতে তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব ও নোংরামি প্রকাশ পেল।যে বঙ্গবন্ধু না হলে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেতাম না তাঁর ছবি অবমাননা মানে একটি জাতিসত্ত্বার প্রতি অপমান করা । তিনি ব্রিটিশ এবং বাংলাদেশ সরকারকে যৌথভাবে অ হামলাকারীদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানান। সভায় প্রধান বক্তা ফোরামের যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি মনির হোসাইন বলেন , সংগঠনের পক্ষ থেকে দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে মাননীয় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে কে চিঠি দেওয়া হবে । তিনি উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান । বিশেষ বক্তা ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম সভাপতি আনসার আহমেদ উল্লাহ বলেন , একটি সভ্য গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরণের হামলা ও জাতির জনকের ছবি অবমাননার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই । তিনি দোষী সন্ত্রাসীদের দ্রুত বিচারের জোর দাবি জানান । প্রতিবাদ সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে : লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলতাফুর রহমান মুজাহিদ , যুক্তরাজ্য মহিলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ নাজমা হোসেন , মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক আবু মুসা হাসান , প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক মজুমদার আলী ,যুক্তরাজ্য বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক জামাল আহমদ খান , কবি সাংবাদিক হামিদ মোহাম্মদ , যুক্তরাজ্য জাসদের কোষাধ্যক্ষ রেদওয়ান খান , ইস্ট লন্ডন আওয়ামী লীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট আবদুল হালিম , যুক্তরাজ্য শ্রমিক লীগ সভাপতি শামীম আহমদ , স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা দারা মিয়া ,বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরাম গ্রেটার লন্ডনের সিনিয়র সহ সভাপতি কবি ও গীতিকার সৈয়দ হিলাল সাইফ ও সহ সভাপতি লেখক নূরুন্নবী আলী প্রমুখ।
ক্যাপশনঃ ছবি আছে।
(মতিয়ার চৌধুরী লন্ডন-১৬ফেব্রুয়ারী ২০১৮।)

বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের মতো ঈসা নবীর জন্মস্থান বেথেলহেমেও উদযাপিত হচ্ছে বড়দিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের মতো ঈসা নবীর জন্মস্থান বেথেলহেমেও উদযাপিত হচ্ছে বড়দিন। তবে ট্রাম্পের জেরুজালেম ঘোষণার ছাপ পড়েছে সেই আয়োজনে। সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৃষ্টিজনিত বৈরি আবহাওয়া। তা সত্ত্বেও ঈসার জন্মস্থান জেরুজালেমের শহরতলী বেথেলহেমে ড্রাম বাজিয়ে বড়দিন উদযাপন করছেন ফিলিস্তিনিরা। সেখানকার ম্যানজার স্কয়ারের ওই অনুষ্ঠান দেখতে জড়ো হয় হাজার হাজার ফিলিস্তিনি। চার্চ অব দ্য ন্যাটিভিটির অভিমুখে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্যারেড। উৎসবে যোগ দিয়েছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস।
৬ ডিসেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে তুমুল নিন্দা ও প্রতিবাদ জারি রয়েছে। ইসরায়েলের দখলকৃত জেরুজালেমেই ঈসানবীকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়। যে পথ দিয়ে ঈসানবীকে হাঁটিয়ে নেওয়া হয়েছিল সেই পথটি এখনও বিদ্যমান। এই পথেই যাওয়া যায় ঈসার ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার স্থান ও সমাধিতে। এছাড়া তার জন্মও বেথেলহেমে। ১ হাজার ৭০০ বছর আগে বাইজেন্টাইন সম্রাজ্ঞী হেলেনা নির্মাণ করেন পবিত্র সমাধির গির্জা (দ্য চার্চ অব দ্য হলি সেপালচার)। এদিকে ইহুদিদের পশ্চিম দেওয়াল বা কটেলের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে একটি বড় পাথর এখনও দৃশ্যমান আছে। তাদের কাছেও এটি পবিত্র স্থান। সে কারণে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয় খ্রিস্টান-মুসলিমসহ ইহুদিরাও। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে পশ্চিমতীর, পূর্ব জেরুজালেম আর গাজা উপত্যকায়। রাজপথে নেমে আসেন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি।
ট্রাম্পের ঘোষণার পর সহিংসতায় ফিলিস্তিনের ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শত শত ফিলিস্তিনি। এই বাস্তবতায় বড়দিনে সেই প্রতিরোধ রুপ নেয় সম্প্রীতিতে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম নিউজ টোয়েন্টিফেরের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চার্চ অব দ্য ন্যাটিভিটিতে উৎসব হয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণায় সৃষ্ট উত্তেজনার মাঝেই ক্রিসমাস ট্রি দেখতে জড়ো হয় ফিলিস্তিনিরা।

বড়দিনের উৎসবে উপস্থিত ছিলেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসও। প্রতিবছরের বড়দিনের অনুষ্ঠানে যোগ দেন অনেক মানুষ। সবাই পরষ্পরের সাথে ছবি তুলতে থাকেন। তবে অন্যান্য বছরগুলোতে এখানে অনেক পর্যটক আসলেও এবার সহিংসতার কারণে তেমন দৃশ্য চোখে পড়েছে কমই। এছাড়া আবহাওয়াও বিরুপ। বৃষ্টি ও ঠান্ডায় উৎসব কিছুটা ম্লান। লন্ডন থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, ‘বেথেলমের বাসিন্দাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে উৎসব করাটা জরুরি। আমি অনেককই চিনি যারা এই সহিংসতার কারণে আসতে চাননি। কিন্তু আমার মনে হয়েছে আমার আসা উচিত।’
ফরাসি পর্যটক ক্লেয়ার দেগো বলেন, তিনি ট্রাম্পের স্বীকৃতি মানেন না। কারণ এটা সহিংসতা তৈরি করেছে। তিনি বলেন, ‘একজন ব্যক্তির সিদ্ধান্তে পবিত্র স্থানে প্রভাব ফেলতে পারে না। জেরুজালেম সবার। ট্রাম্প যাই বলুক না কেন কিছু যায় আসে না।’
পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিমতীরে প্রায় ৫০ হাজার খ্রিষ্টানের বসবাস। বেথেলহেমের নিকটবর্তী শহর বেই সাহুরে বসবাসকারী খ্রিষ্টান নারী নাহিল বানুরা বলেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে এ বছরের বড়দিন ‘দুর্বিষহ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘মানুষ শুধু বাইরে যাওয়ার জন্যই যাচ্ছে।’ মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রবিবার কোনও সহিংসতা ছিলো না। উৎসবে ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করেছে ফিলিস্তিনিরা। সহিংস প্রতিরোধ না হলেও বড়দিনের র্যালিতেও ট্রাম্পবিরোধী ব্যানার দেখা গেছে। জেরুজালেমকে ইসরায়েলি রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ার নীরব প্রতিবাদ জানিয়েছেন তারা।

বিকালের দিকে উৎসব শুরু হলেও রাতের দিকে তা কমতে থাকে। বৃষ্টি ও ঠান্ডায় বাড়ি বা গির্জায় আশ্রয় নিতে থাকেন অনেকে। বেথেলহেমের মেয়র অ্যান্তন সালমান বলেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ থাকায় উৎসবে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা বড়দিনের উৎসব এবার সীমিত রাখতে চেয়েছি। যারা সাম্প্রতিক সহিংসতায় যারা প্রাণ হারিয়েছে তাদের প্রতি সহমর্মিতা জানাই আমরা।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বোঝাতে চাই যে আমরা বাঁচতে চাই, স্বাধীনতা চাই, জেরুজালেমকে আমাদের রাজধানী চাই।’
জেরুজালেমের সর্বোচ্চ ক্যাথলিক ধর্মগুরু আর্চবিশপ পিয়েরবাতিস্তা পিজাবেলা ইসরায়েলি সামরিক চেকপয়েন্ট দিয়ে বেথেলহেমে প্রবেশ
করেছেন। গত সপ্তাহে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করলেও এবার কোনও রাজনৈতিক মন্তব্য করতে চাননি তিনি। তিনি বলেন, ‘এখন আনন্দের সময়। শত বাধা অতিক্রম করে আমরা উৎসব করবো।’ জেরুজালেমের শান্তি কামনা করে তিনি সব রাজনীতিবিদদের সবাইকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।

আশা ছাড়েননি মলি একিদন হয়ত মায়ের দেখা মিলবে-সেই ভাবনায় চলছে তার ঠিকানাহীন অভিযাত্রা

তিন দশকের বেশি সময় ধরে হাসপাতালের নথিপত্র আর মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ঘেটে বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধের অনেক তথ্য পেলেও মায়ের হদিস পাননি কানাডা প্রবাসী একাত্তরের যুদ্ধশিশু মলি।

তবে আশা ছাড়েননি, একিদন হয়ত মায়ের দেখা মিলবে-সেই ভাবনায় চলছে তার ঠিকানাহীন অভিযাত্রা।

প্রথমবারের মতো নিজের মাতৃভূমিতে এসে মলি জানিয়ে গেলেন জন্মদাত্রীর জন্য তার অন্তরের আকুতি। বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহের কথাও বললেন তিনি।

গতকাল রোববার বিকালে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে একাত্তরের যুদ্ধশিশু শামা জমিলা মলি হার্ট নিয়ে এসেছিলেন তার স্কুলপড়ুয়া মেয়ে সাভানা বোনেলকে।

তাদের সঙ্গে আসেন কানাডাপ্রবাসী মুক্তিযুদ্ধ গবেষক মোস্তফা চৌধুরী, একাত্তরের শহীদ বুদ্ধিজীবী আলিম চৌধুরীর মেয়ে ডা. নুজহাত চৌধুরী শম্পা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারোয়ার আলী, এসেছিলেন মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা অক্সফামের কর্মকর্তা জুলিয়ান ফ্রান্সিস।

মোস্তফা চৌধুরী জানান, একাত্তরের যুদ্ধ শিশুদের নিয়ে কাজ করতে আসা জেনেভাভিত্তিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যাল সার্ভিসের মাধ্যমে মলিকে দত্তক নেন কানাডার মন্ট্রিয়লের বাসিন্দা জোয়েল হার্ট ও ট্রুডি হার্ট দম্পতি। কলেজ শিক্ষক জোয়েল হার্টের আরও আটটি সন্তানের সঙ্গে মলিও বেড়ে উঠেন অপত্য স্নেহে। পরে তার নাম বদলে হয় শামা মলি হার্ট।

তিনি বলেন, “একাত্তরে মলিদের মতো শিশুদের বলা হত অনাকাঙ্ক্ষিত, শত্রুসন্তান, জারজ সন্তান, অপ্রার্থিত সন্তান। তখন সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যাল সার্ভিসকে এ বিষয়ে পরামর্শ প্রদানের অনুরোধ জানান। তিন মাস জরিপের পর সামাজিক অবস্থান বিবেচনায় যুদ্ধ শিশুদের ভিন্ন দেশে দত্তক দেওয়ার পরামর্শ দেয় সংস্থাটি। তখন এগিয়ে আসেন হার্ট দম্পতি। তারা মলিকে দত্তক নেন।”

যুদ্ধ শিশুদের নিয়ে গবেষণার এক পর্যায়ে শামা মলি হার্টের সঙ্গে পরিচয় হয় মোস্তফা চৌধুরীর, তাও প্রায় ২০ বছর আগের কথা। নিজের দেশকে চিনতে আর গর্ভধারিণী মাকে খুঁজে পেতে মলি তখন হন্যে হয়ে উঠেন।

দেশের মাটি ছুঁয়ে দেখার জন্য মলির অনুরোধ রক্ষায় এবার দেশে ফেরার পথে তাকে সঙ্গী করেন বলে জানান গবেষক মোস্তফা চৌধুরী।

মলি বলেন, দুই দিন আগে এসে মাতৃভূমি ও এদেশের মানুষকে তিনি যত দেখছেন, ততই মুগ্ধ হচ্ছেন।

“অন্যরকম এই মানুষগুলো সত্যি ভীষণ ভালো, দেশটা সত্যি চমৎকার, এ দেশটা আমার,” বলতে বলতে কণ্ঠ আসে তার।

পরে মলি শোনান তার বেড়ে উঠার গল্প।

“আমি তরুণ বয়সেই জেনে গিয়েছিলাম মায়ের কথা। শুনেছি একাত্তর সম্পর্কে, জেনেছি আমার জন্ম হয়েছিল কীভাবে। বাবা, মা আমাকে দত্তক নিলেন কীভাবে, এসবও জেনেছি। সত্যি বলি, আমার পরিবার কখনও আমাকে এতটুকু অবহেলা করেনি। আমি জানি না কে আমার মা, কোথায় আমার মা। কিন্তু আমার মা তার আদর থেকে এতটুকু বঞ্চিত করেননি। পুরো পরিবারের স্নেহে আমি বেড়ে উঠেছি।”

কলেজ শিক্ষক বাবা জোয়েল হার্টকে হারিয়েছেন অনেক দিন আগে। বেড়ে উঠার প্রতি ধাপে বাবার অবদানের কথা কৃতজ্ঞতাচিত্তে স্মরণ করেন তিনি।

স্কুলশিক্ষক মলি বলেন তার জন্মদাত্রীকে খোঁজার বৃত্তান্ত: “আমি ইতিহাসের বিভিন্ন নথি, হাসপাতালের কাগজপত্র ঘেঁটে দেখেছি-কোথাও যদি আমার নামটি থাকে! একাত্তরে যারা যুদ্ধশিশুদের দত্তক প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম। নিজের নাম কোনো নথিতে পেলাম না। নিজের নামটি খুঁজে পেলে যে আমি আমার মাকেও খুঁজে পেতাম! তবে আশা ছাড়িনি, একদিন হয়ত ঠিক খুঁজে পাব আমার মাকে।”

বাংলাদেশে আবার আসবেন জানিয়ে তিনি বলেন, “এবার হয়ত খুব বেশি দিন থাকা হবে না আমার। তবে আবার আসব, আমি বারবার আসব আমার বাংলাদেশে। আমি মন থেকেই জানি, এটা আমার দেশ। এ দেশেই আমার জন্ম।”

আজ সোমবার মলির সফরসূচিতে রয়েছে অনাথ শিশুদের সঙ্গে প্রহর। অনাথ শিশুদের কোনো একটি আশ্রমে গিয়ে মলি পৌঁছে দেবেন তার ভালোবাসার উপহারসামগ্রী।

এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিল ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের নানা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে মলি বলেন, তিনি তার স্কুলের শিশুদের বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস নিয়ে বলেছেন। মুক্তিযুদ্ধের অনেক ‘অজানা’ ইতিহাস তিনি তুলে ধরতে চান আগামী প্রজন্মের সামনে।

তিনি বলেন, “আমি যুদ্ধের অনেক ইতিহাস জানি না, এখনও অনেক তথ্য আমাকে যোগাড় করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আরও বৃহৎ ক্যানভাসে কাজ করতে হবে আমাদের। গণহত্যার প্রভাব, বিস্তার সম্পর্কে আরো অনেক তথ্য নিয়ে আমাদের বিশ্ববাসীকে জানাতে হবে, তাদের সচেতন করতে হবে।”

এই ইস্যুতে বক্তব্য দিতে আসা নুজহাত চৌধুরী শম্পা গণধর্ষণকে ‘গণহত্যার শামিল’ বলেন। একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম গঠন করে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে সবাইকে একযোগে কাজ শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।

শামা মলি হার্টকে সম্মানসূচক নাগরিকত্ব দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ডা. সারোয়ার আলী।

Motion to stop targeting of minorities prior to general election in Bangladesh Ansar Ahmed Ullah

Jim Fitzpatrick MPJim Fitzpatrick MP for Poplar & Limehouse constituent of Tower Hamlets where majority Bangladeshi resides submitted an Early Day Motion (EDM) titled ‘Political Intimidation in Bangladesh’ on Wednesday 20 December for a debate in the UK House of Commons. EDMs allow MPs to draw attention to a cause. In this case the MP who is known to be a friend of the Bengali community and Bangladesh wants to draw attention to situation of minorities of Bangladesh which remains unsatisfactory. He has been informed by Bangladeshi minority groups that their communities continue to face systemic harassment, threats to their well-being, livelihood and property. As the election is less than a year away, the minorities face even greater threat of political violence. Past experiences suggest that the political leadership dominated by the majority community have used threat of physical violence to manipulate minority votes.

The motion submitted read, ‘That this House is deeply concerned that despite the best efforts of the Bangladesh Government minorities continue to face systemic harassment and threats to their well-being, livelihood, property and are denied freedom of religious worship in Bangladesh, the experience previous elections shows that there were attempts to use the threat of physical violence to manipulate minority vote; this House calls upon the Government and political parties in Bangladesh to put a consolidate effort to ensure the unacceptable and cynical targeting of minorities for political gains, does not recur,

Swedish Nirmul Committee asks for Bangladesh genocide recognition —-By Ansar Ahmed Ullah

Leaders of the Swedish Nirmul Committee led by Shahriar Kabir, President of the Central Committee, met the ex-EU minister and eminent Swedish parliamentarian Birgitta Ohlsson, Liberal Party and Maria Weimar MP, Liberal Party on 14 December at the Swedish Parliament.
Mr Kabir asked for recognition of Bangladesh genocide by the Swedish Parliament. Shahriar Kabir said, ‘Genocide not acknowledged encourages further genocides one of which we are now witnessing with Rohingyas in Burma’. He requested Swedish government. to use its influence on Burmese government for immediate repatriation of Rohingyas and the implementation of Anan Commission’s recommendations. He thanked Swedish government and their people for supporting Bangladesh on addressing Rohingya crisis.
Ms Birgitta Ohlsson assured the Nirmul Committee delegation to use her good office for recognition of Bangladesh genocide. Nirmul Committee’s Swedish leaders informed the members of Swedish Parliament about their activities in Sweden more particularly on de-radicalization of Muslim diaspora in Europe. Ms Mirgitta Ohlsson appreciated Nirmul Committees activities in Sweden.
Nirmul Committees delegation were comprised of freedom fighter President Aktar M Zaman, Vice President Shahina Begum, General Secretary Tarun Kanti Chowdhury, Joint Secretary Nazmul Khan and executive members Erik Hedlund, Albin Sivard and Shafiqul Alam Liton.

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে আমাদের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে লন্ডনে হাইকমিশন আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা

লন্ডনঃ জতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে হলে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, নিজ অবস্থান থেকে আমাদের সকলকে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে, সেই সাথে নবপ্রজন্ম সহ বিশ্ববাসীর কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে। লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশন আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা এঅভিমত ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন ৩০ লক্ষ শহীদ আর দু‘লক্ষ মা-বোনের ইজ্বতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে আর এটাই হোক বিজয় দিবসের শপথ। ১৬ ডিসেম্বর ওয়েষ্ট লন্ডনে বাংলাদেশ মিশনের কনফারেন্স হলে বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় সভাপত্বি করেন লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার নাজমুল কাওনাইন।high com-3
ফাষ্ট সেক্রেটারী সুদীপ্তা আলমের সঞ্চালায় অনুষ্ঠিত বিজয় দিবসের আলোচনা সভার শুরুতে মহামান্য রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন সহকারী হাইকমিশনার খন্দকার এম তালহা, মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর বাণীপাঠ করেন ডিফেন্স এডভাইজার ব্রিগেডিয়ার জেনালের এ.কে.এম. আমিনুল হক এএফডবলিওসি,পিএসসি,সিএসই, পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন কাউন্সেলর এম আবেদীন, উপপররাষ্ট্র মন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন ফাষ্ট সেক্রেটারী ফজলে বাব্বি,আলোচনা অনুষ্টানে আগত অতিথিদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ এমপি মাইকেল বার্ন, প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শররীফ, ডাঃ এম আলা উদ্দিন আহমদ, ব্রেন্ট কাউন্সিলের সাবেক মেয়র কাউন্সিলার পারভেজ আহমদ, যুক্তরাজ্য মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি খালেদা কোরেশী, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ছুরুক আলী, আনজুমানয়ারা অঞ্জু, রাহেলা শেখ, এমি হোসেন প্রমুখ। সকালে হাইকমিশন ভবনে আনুষ্টানিক ভাবে কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে নিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন। অনুষ্টানে অতিথিদের সাথে নিয়ে বিজয় দিবসের কেক কাঠেন হাইকমিশনার।

বুদ্ধিজীবি হত্যার নায়ক চৌধুরী মইনুদ্দিনকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে ফাঁসি কার্যকর ও বাংলাদেশে মুসলিম এইডের কার্যক্রম বন্ধের দাবী বৃটেন প্রবাসীদের

লন্ডন ঃ শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসে ইষ্ট লন্ডনের আলতাব আলী পার্কের শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ অর্পনের মধ্য দিয়ে বৃটেনে বসবাসরত সর্বস্থরের প্রবাসী বাঙ্গালীরা জাতির শ্রেষ্ট সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। ১৪ ডিসেম্বর বৃহস্প্রতিবার সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা ফুল এবং মোমবাতি হাতে সমবেত হন শহীদ মিনারে। যুক্তরাজ্য ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটির নির্বাহী সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও যুগ্মসম্পাদক জামাল আহমদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন বিজয়ের ঠিক পূর্বমূহুর্থে জাতিকে মেধাশুন্য করতে পরিকল্পিত ভাবে জাতির শ্রেষ্ট সন্তানদের হত্যা করা হয়। আর এর নীল নক্স্া তৈরী করেছিল স্বাধীনতা বিরোধী জামাতচক্র। বক্তারা যুদ্ধাপরাধী সংগঠন হিসেবে বাংলাদেশে জামাত ও তার সকল অঙ্গ সংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ এবং বিদেশে জামাতের পৃষ্টপোষকতায় গড়ে উঠা 4L
সংগঠন দাওয়াতুল ইসলাম ও ইসলামিক ফোরাম অব ইউরোপের সদস্যদের চিহ্নিত করার আহবান জানান। বক্তারা বুদ্ধিজীবি হত্যার অন্যতম নায়ক আলবদর কমান্ডার ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত চৌধুরী মইনুদ্দিনকে বৃটেন থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে নিয়ে দ্রুত ফাঁসি কার্যকরের দাবী জানান সেই সাথে বাংলাদেশে চ্যারিটি সংগঠন মুসলিম এইডের সকল কার্যক্রম বন্ধের দাবী জানান। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীদেগর সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য সাংবাদিক আনসার আহমেদ উল্লাহ, যুদ্ধাপরাধ বিচার মঞ্চের প্রেসিডেন্ট সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হরমুজ আলী,যুক্তরাজ্য গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র অজয়ন্তা দেব রায়, বাংলাদেশ থেকে আগত সংস্কৃতি কর্মী আসমা আক্তার লিজা, গণজাগরন মঞ্চের কামরুল হাসান তোষার, কমিউনিটি নেতা ও যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সহসভাপতি মারুফ চৌধুরী, সংস্কৃতি কর্মী সৈয়দা নাজনিন সুলতানা শিখা,আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের সেক্রেটারী জোবায়ের আহমদ, উদীচির শাহাব আহমদ বাচ্চু, মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাদি,মোহাম্মদ আলী , শাহেদ আহমদ, অপু ইসলাম,তাইফ আহমদ, সহিদুল আলম সেলিম, মইনুল ইসলাম, নাহিদ জায়গিরদার, সাংবাদিক জুয়েল রাজ, সাংবাদিক সরওয়ার কবীর, বঙ্গবন্ধু লেখক সাংবাদিক ফোরাম লন্ডন শাখার প্রেসিডেন্ট বাতিরুল হক সরদার, ঘাতক-দালাল নির্মুল কমিটির কোষাধ্যক্ষ শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল, ঘাতক-দালাল নিমৃূল কমিটির সদস্য আনজুমান আরা অঞ্জু, নাজমা হোসেন কবি ময়নুর রহমান বাবুল, কবি শামীম শাহান, কবি আনোয়ারুল ইসলাম অভি.সংস্কুতি কর্মী মুজিবুল হক মনি প্রমুখ, জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আলোচনা পর্বের সমাপ্তি ঘটে ।

প্যারিসে পিপলস ট্রাইব্যুনালের বিক্ষোভ সমাবেশ ——আনসার আহমেদ উল্লাহ

গেল ১২ ডিসেম্বর প্যারিস জলবায়ু চুক্তির ২ বছর পূর্তি হলো। এ উপলক্ষে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যক্রনের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশেররাষ্ট্রপ্রধাণরা জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের প্রতিজ্ঞা পুনব্যক্ত করতে সমবেত হয়েছেন।
এবারের সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশগুলি লক্ষ্য হলো, ২০১৫ সালে প্যারিসের জলবায়ু সম্মেলনের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন তরান্বিত করা এবং চুক্তির অগ্রগতি সম্পর্কে অবগত হওয়া। বাংলাদেশের প্রধাণমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এতে অংশ নিয়েছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ কার্বন নিঃসরণ কমানোর অঙ্গীকারকরলেও বাস্তবিক পক্ষে জলবায়ুর জন্য হুমকিস্বরূপ জীবাশ্ম জ্বালানী নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যহত রেখেছে। বাংলাদেশ ২০৪১ সাল নাগাদ মোট জ্বালানীর ৩৫ শতাংশ কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করেছে, যা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশও এরকম দ্বিমুখীজ্বালানী পরিকল্পনা করেছে। সেকারনে গত ১০ ডিসেম্বর পরিবেশ সতেচন বিভিন্ন সংগঠন প্যারিসে জলবায়ুর পরিবর্তন শীর্ষক গণশুনানি (Peoples Tribunal)আয়োজন করে।

জাতীয় কমিটি ফ্রান্স শাখার পক্ষ থেকে এই ট্রাইবুন্যালে অংশ নেয়া হয় এবং সুন্দরবনের উপর রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রভাব নিয়ে প্রতিনিধিরা আলোচনা করেন। সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করতে পারে, এমন সকল তৎপরতা বন্ধ করার দাবি পুনব্যক্ত করা হয়। রামপাল কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করতে ফ্রান্সের এবং বিশ্বের পরিবেশ আন্দোলনকারীদের সহযোগিতা চাওয়া হয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম, জুয়েল দাশ রায় লেনিন, নিলয় সূত্রধর সুমন ও সারদা মনি রায় ছন্দা। 350 France, Tour Alternatiba, Les Amis de Terre France, ANV Action non-violent COP21, Attac France, Biyi Mugi, Le CRID, Oxfam France Le Refedd, ZEA, La Foundation pour la Nature et l`Homme সহ ইউরোপের অনেকগুলো সংগঠনের প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।
প্রোগ্রামের ধারাবাহিকতায় আজ ১২ ডিসেম্বর সকালে আন্দোলনকারীরা এক সমাবেশের আয়োজন করে। এতে কয়লার রূপক অর্থে কালো চাদর দিয়ে পৃথিবীকে প্রথমে ঢেকে ফেলা হয়, এরপর প্রতিবাদী জনতা সে চাদর ছিন্নভিন্ন করে মুক্ত বাতাসে বের হয়ে আসে এবং মুক্তির গান গেয়ে ও শ্লোগান দিয়ে বিশ্বকে পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসতে বলে। এই আয়োজনে প্রায় হাজারখানকি মানুষ অংশ নয়ে। বাংলাদেশ তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ- বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি ফ্রান্স শাখা এই প্রতিবাদ কর্মসূচির সাথে একাত্মতা জানায়। জাতীয় কমিটি ফ্রান্স শাখার পক্ষ থেকে উপস্থতি ছিলেন আহ্বায়ক ফাহাদ রিপন, সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম, সদস্য আহাম্মেদ আলী দুলাল, তপু বড়ুয়া ও ইয়াসমিন আক্তার। অনেকে। এসময় জাতীয় কমিটির নেতৃবন্দ বাংলাদেশের সুন্দরবন নিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন। আজকের আয়োজনে ইউরোপের পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর পক্ষে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন Clemens Dubois, Brett Fleishman, Victoire Guillonneau এবং আরো অনেকে। গত এক সপ্তাহ ধরে নানা প্রস্তুতি এবং রিহার্সালের মধ্যে দিয়ে এই আয়োজন সফল করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘‘মেমোরি অব দ্য ওয়াল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিষ্টার’’-এ অন্তর্ভূক্ত করায় লন্ডনে হাইকমিশনের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও আনন্দ র‌্যালী

লন্ডনঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের যেমন পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করেছেন অন্যদিকে জাতি হিসেবে বিশ্বদরবারে প্রতিষ্টা করে গেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্যে আমরা বাঙ্গালীরা গর্বিত, বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশ একই সূত্রে গাঁথা। ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐতিহ্যের দলিল হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে ‘‘মেমোরি অব দ্য ওয়াল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিষ্টার’’-এ অন্তর্ভূক্ত করে আন্তর্জাতিক ভাবে স্বীকৃতি প্রদান করায় লন্ডস্থ বাংলাদেশ মিশন আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এঅভিমত ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন ৭ই মার্চের ভাষণই স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষণা। তিনি বলেছিলেন ‘‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতা সংগ্রাম এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’’। ‘‘আমি যদি হুকুম দিবার না-ও পারি তোমাদের যার যা কিছু আছে তা নিয়ে রুখে দাড়ার শত্রুর মোকাবলা কর’’ আর তাই ঘটেছিল। মার্চের ৮ তারিখ থেকে গ্রামে গঞ্জে শুরু হয় ট্রেনিং মানুষ যুদ্ধের জন্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। ২৫ মার্চ তিনি পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার পূর্বমূহুর্থে তৎকালীণ ইপিআর-এর ওয়ার্লেস মারফত আবার স্বাধীনতার ঘোষনা দেন পরবর্তিতে অনেকেই তার পক্ষে এই ঘোষনাপত্র পাঠ করেন। এটিই হচ্ছে আসল সত্য ।bhl ralyMatiar chowdhury
সোমবার ১১ ডিসেম্বর দুপুরে সাউথ-ওয়েষ্ট লন্ডনের ২৮ কুইন্স গেটের বাংলাদেশ মিশনের সেমিনার হলে লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনানের সভাপতিত্বে ও ফাষ্ট সেক্রেটরী স্বদীপ্ত আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভার শুরুতে মাননীয় রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করে লন্ডনে নিযুক্ত সহকারী হাইকমিশনার খন্দকার এম তালহা ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন কাউন্সেলর এম রেজা আবেদীন। এর পর প্রজেক্টারের মাধ্যমে বাজানো হয় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের প্রথম ডাকটিকেটের রূপকার বিমান মল্লিক, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সহসভাপতি সৈয়দ মোজাম্মেল আলী, সাবেক প্রেস মিনিষ্টার সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা আবু মুসা হাসান, সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, যুক্তরাজ্য যুবমহিলা লীগের সেক্রেটারী সাজিয়া ¯িœগ্ধা, যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্মসম্পাদক জামাল খান, সাবেক ছাত্র নেতা শায়েক আহমদ, সাবেক কাউন্সিলার সেলিম চৌধুরী প্রমুখ।

jamal khan সভাপতির বক্তব্যে হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন বলেন ইউনেস্কো কর্তৃক জাতির জনকের ৭ই মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি প্রদান আমাদের কুটনৈতিক প্রচেষ্টার ফসল। তিনি বলেন ইউনেস্কো হ্যরিটেজ কমিটিতে ১৪জন সদস্য থাকেন এব্যাপারে প্রত্যেক সদস্যকে একমত পোষন করতে হয়, এই কমিটির কেউ দ্বিমত পোষন করলে তা সম্ভব হতোনা। এর পর বের করা হয় আনন্দ র‌্যালী, র‌্যালিটি হাইকমিশন ভবন থেকে বের হয়ে কুইন্সগেট এলাকার বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিন করে আবার হাইকমিশন ভবনে এসে শেষ হয়।

ইউনেস্কোর ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে শীতলপাটি

ইউনেস্কোর নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সংরক্ষণের জন্য আন্তঃরাষ্ট্রীয় কমিটি বুধবার শীতলপাটির বয়নপদ্ধতির স্বীকৃতির ঘোষণা দিয়েছে বলে সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর জানিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ওই কমিটির বৈঠক, চলবে শনিবার পর্যন্ত। কমিটির আলোচ্যসূচির মধ্যে অন্যতম ছিল ২০১৭ সালের নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকা অনুমোদন।

বাংলাদেশের শীতলপাটির বয়নশিল্পের সঙ্গে ১৯টি দেশের ১৫টি নৈর্ব্যক্তিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সদ্য অনুমোদিত তালিকায় স্থান পেয়েছে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জাতীয় জাদুঘর শীতলপাটির বয়নপদ্ধতির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য কমিটির কাছে প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল।

আগের দিন সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরে শীতলপাটির এক বিশেষ প্রদর্শনীর উদ্বোধনীতে এসে সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, কমিটির চলতি অধিবেশনে স্বীকৃতির বিষয়টি ‘প্রায় নিশ্চিত’, এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

এর আগে পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা, বাংলার বাউল সংগীত, ঐতিহ্যবাহী জামদানী বুনন পদ্ধতি ইউনেস্কোর নির্বস্তুক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে।

বাংলাদেশের আবহমান সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক অনন্য নিদর্শন বাংলার শীতলপাটি। লোকশিল্পটি মুর্তা নামক গাছের বেতি থেকে বিশেষ বুনন কৌশলে শিল্পরূপ ধারণ করে।

বৃহত্তর ঢাকা বিভাগ, বরিশাল ও চট্টগ্রামের কিছু অংশে এই বেত গাছ জন্মালেও শীতলপাটির বুননশিল্পীদের অধিকাংশের বসবাস সিলেট বিভাগে। বৃহত্তর সিলেটের ১০০ গ্রামের প্রায় ৪ হাজার পরিবার সরাসরি এই কারুশিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে জাতীয় জাদুঘর এক সমীক্ষায় জানিয়েছে।

সিলেটের শীতলপাটির এই বুননশিল্পীরা ‘পাটিয়াল’ বা ‘পাটিকর’ নামে পরিচিত।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net