শিরোনাম

বিনোদন

রোববার ১৪মে বাংলা টাউনে বৈশাখি মেলা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এবারও টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে বোরবার ১৪ মে ওয়েভার্সফিল্ডে বসছে বৈশাখি মেলা। সকাল ১১টায় টাওয়ার হ্যামলেটসের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থী ও কমিউনিটি সংগঠনের সদস্যরা মেয়রের নেতৃত্বে র‌্যালি নিয়ে মেলার মূল মঞ্চে যাবেন। র‌্যালিটি  পূর্ব লন্ডনের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ শেষে ওয়েভার্স ফিল্ডে গিয়ে শেষ হবে। আনুষ্ঠানিক ভাবে মেলার উদ্বোধনী ঘোষণার পর শুরু হবে নৃত্য, সঙ্গীত ইত্যাদি পরিবেশনা।
মেলায় বাংলাদেশের বিখ্যাত ব্যান্ড মাইলস এবং ক্লোজ আপ ওয়ান খ্যাত লোক সঙ্গীত শিল্পী রিংকু যোগ দিবেন। এছাড়া ব্রিটেনে বাঙালি কমিউনিটির পরিচিত শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক গোষ্ঠিগুলো দিনব্যাপী বিভিন্ন পরিবেশনায় অংশ নিবেন। এবারের মেলাকেও পরিবার বান্ধব করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মেলায় বিশেষ ফ্যামেলী জোনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই ফ্যামেলী জোনে শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থার পাশাপাশি তাদেরকে বাঙ্গালী সংস্কৃতির বিভিন্ন বিষয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া হবে।
থাকবে মেহদী পরানোর ব্যবস্থা, ফেইস পেইন্টিং ইত্যাদির আয়োজন । এছাড়া থাকবে কবিতা কর্ণার, আর্টস হাব এবং স্পোর্টস জোন। আর্টস হাবে বিভিন্ন ধরনের প্রদর্শনী এবং কবিতা কর্ণারে কবিতার পাশাপাশি থাকবে গল্প বলার আসর এবং থিয়েটার। আর স্পোর্টস জোনে থাকবে বিভিন্ন ধরনের খেলাধূলা, শরীর চর্চা ইত্যাদি।
টাওয়ার হ্যামলেটসের নির্বাহী মেয়র জন বিগস মেলায় অংশ নেয়ার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, গতবারের মতো এবারের বৈশাখী মেলাকেও সবার কাছে আকর্ষণীয় করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের মেয় জন বিগস বলেন, বাংলাদেশের বাইরে সবচেয়ে বৃহৎ এই বাঙালি উসৎবের আয়োজক হতে পেরে আমরা গর্বিত। তিনি বলেন, বাঙালিদের  বৈচিত্র্যপূর্ণ  সংস্কৃতি এবং ইতিহাসের কারণে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বৈশাখি মেলা উদযাপনের জন্য টাওয়ার হ্যামলেটস হচ্ছে একটি আদর্শ স্থান। তিনি বলেন আমি আশা করছি এবারের মেলাও সবার কাছে আকর্ষণীয় হবে এবং এতে সবাই অংশ নিবেন।

থিয়েটার মুরারিচাঁদের মঙ্গল শোভাযাত্রায় হাওরে ফসলহানির প্রতিবাদ

সিলেট: পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রায় হাওরে ফসলহানির প্রতিবাদ জানিয়েছে থিয়েটার মুরারিচাঁদ। শুক্রবার সকাল ১০টায় এমসি কলেজ ক্যাম্পাসেMahdy এই মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করে কলেজ প্রশাসন।
এতে অংশ নিয়ে সুনামগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হাওরে অকাল বন্যায় ফসল হানির প্রতিবাদ জানানো হয়। মঙ্গল শোভাযাত্রায় থিয়েটারের কয়েকজন কর্মী ফসল হারানো কয়েকজন কৃষক সেজে একটি ঠেলাগাড়িতে চড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পূনর্বাসনের দাবি জানান।Mahdy 2

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢলে ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙ্গে ১৪০টি হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে। এতে হাজার কোটি টাকার ফসলহানি ঘটেছে। ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন সুনামগঞ্জের কৃষকরা।

শাহরুখ খানের বিরুদ্ধে ১০১ কোটি টাকার মানহানি মামলা

গুজরাটি গ্যাংস্টার আবদুল লতিফের জীবনের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত জীবনীভিত্তিক ছবি ‘রইস’ মুক্তির আগেই মানহানির মামলায় ফাঁসতে যাচ্ছেন শাহরুখ খান। ‘রইস’ ছবির জন্য একশ এক কোটি টাকার মানহানির মামলা করা হয়েছে শাহরুখের বিরুদ্ধে।

ছবিটি গুজরাটি গ্যাংস্টার আবদুল লতিফের জীবনের ছায়া অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে। চিত্রনাট্য নিয়ে গবেষণার সময়ই তাঁর পরিবারকে সেটি জানানো হয়। ছবির প্রচার প্রচারণার সময় আবদুল লতিফের ছেলে, মুস্তাক আহমেদের মনে হয়েছে ছবিতে তাঁর বাবাকে সঠিকভাবে চিত্রায়িত করা হয়নি। তাই শাহরুখের প্রোডাকশন হাউস রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট-এর বিরুদ্ধে ১০১ কোটি টাকার মামলা করা হয়েছে। মামলায় মুস্তাক বলেছেন, ‘রইস’ ছবির দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর বাবার ভাবমূর্তি নষ্ট করা হয়েছে। এতে তাঁর পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে যার মূল্য ১০১ কোটি টাকা।

‘রইস’ ছবিটিতে শাহরুখ খান ছাড়াও অভিনয় করেছেন নওয়াজ উদ্দিন সিদ্দিকি, মাহিরা খান। ছবিতে আশির দশকে গুজরাটে রইস নামে এক চোরাকারবারির গল্প বলা হয়েছে। বড় ধরনের ঝামেলা না হলে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ছবিটি মুক্তি দেওয়া কথা রয়েছে।

আবদুল লতিফ প্রায় এক ডজন হত্যা মামলা, অপহরণ ও চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ধারণা করা হয় দাউদ ইবরাহিমের দলের একাংশের সদস্য তিনি। ১৯৯৫ সালে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জেল থেকে পালাতে গিয়ে ১৯৯৭ সালে পুলিশের গুলিতেই মারা যান তিনি।

এ মামলা নিয়ে রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্টের পক্ষ থেকে বিবৃতি নেওয়া হবে ১১ মে। ফলে আহমেদাবাদের ওই আদালতের রায় জানতে আরও বেশ কিছু সময় লাগবে। হিন্দুস্তান টাইমস

শায়েস্তাগঞ্জ থিয়েটারের নাটক ‘একটি আষাঢ়ে গল্প’ ২৯ এপ্রিল

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : আগামী ২৯ এপ্রিল, শুক্রবার, সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে শায়েস্তাগঞ্জ থিয়েটারের ১১তম নাট্য প্রযোজনা ‘একটি আষাঢ়ে স্বপ্ন’। উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের ‘এ মিড সামার নাইট’স ড্রিম’ ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্রাঙ্গদা’ অনুসৃত এই মঞ্চ নাটকটি রচনা ও নিদের্শনা দিয়েছেন ড. মুকিদ চৌধুরী।

মঞ্চনাটকটির কুশীলবরা হলেন নূরজাহান আক্তার মণি, আল আমিন ইমরান, মো. শামসুল হক, রাজু আহমেদ, শতাব্দী চৌধুরী রিয়া, মুক্তাদির সোহেল, ফাতেমা তুজ জহুরা নিপা, মোঃ রুবেল মিয়া, মোতাব্বির হোসেন সাইফুল, সন্তোষ পাল, হৃদয় তরফদার, রাব্বি আরমান রনি, ভূষণ চন্দ্র দাশ, আবুল কাশেম বিজয়, অয়ন, হৃদয়, রানা প্রমুখ।

নাজিম উদ্দিন সামাদের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি ইউকে নির্মূল কমিটির

লন্ডনঃ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় সম্প্রতি ধর্মীয় উগ্রবাদীদের হাতে নৃশংস ভাবে নিহত নাজিম উদ্দিন সামাদের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি ইউকে। সংবাদ মাধ্যমে প্রদত্ত বিবৃতিতে নির্মুল কমিটি ইউকে নেতৃবৃন্দ বলেন ব্লগার হত্যাকারীদের তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার ও সাজা না হওয়াতে উগ্রবাদীরা টার্গেট করে একের পর এক হত্যা কর চলেছে। এটি কোন শুভ লক্ষণ নয়। জানা গেছে উগ্রবাদীদের হত্যা তালিকায় সামাদ ছিলেন ৮৪ নাম্বারে। এখনই ধর্মীয় উগ্রপন্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে। সামাদ সহ অন্যান্য ব্লগার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সাজা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মের দোহাই দিয়ে এরা জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। এই গোষ্ঠি ইসলামের নাম ব্যবহার করে পবিত্র ধর্ম ইসলামকে কলংকিত করছে। সাম্প্রদায়িক সম্পীতির দেশ বাংলাদেশে কোন উগ্রবাদের স্থান হওয়া উচিত নয় বলেও তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। বিবৃতিতে নিহত সামাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছন ইউকে নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসহাক কাজল, সহ-সভাপতি হরমুজ আলী, সৈয়দ এনামুল ইসলাম, মাহফুজা রহমান তালুকদার, জেনারেল সেক্রেটারী সৈয়দ আনাছ পাশা, এ্যাসিসটেন্ট জেনারেল সেক্রেটারী জামাল আহমদ খান, কোষাধ্যক্ষ ঝলক পাল, সহ-কোষাধ্যক্ষ শাহ মোস্তাফিজুর রহমান বেলাল, অর্গেনাইজিং সেক্রেটারী রুবী হক, আহাদ চৌধুরী বাবু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পুষ্পিতা গুপ্তা, ইনফরমেশন এন্ড রিসার্চ সেক্রেটারী মতিয়ার চৌধুরী, প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারী সায়েম চৌধুরী ও এনামুল হক, নির্বাহী সদস্য হিফজুর রহমান খান, সৈয়দ এলাহি হক শেলু,গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, আনজুমানয়ারা অঞ্জু, নিলুফা ইয়াসমিন হাসান,স্মৃতি আজাদ, আলী আকবর চৌধুরী, শাহ তোফায়েল আহমদ, ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আনসার আহমদ উল্লাহ।

হবিগঞ্জে প্রতীক থিয়েটার’র তিন-দশক পূর্তি নাট্যোৎসব

সংবাদ২৪রিপোর্ট: ১৪ এপ্রিল ২০১৬ থেকে হবিগঞ্জের জনপ্রিয় নাট্যদল ‘প্রতীক থিয়েটার’-এর তিন-দশক পূর্তি নাট্যোৎসব ২০১৬। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকার দেউন্দি চা-বাগানের প্রতীক থিয়েটার মঞ্চে এই উৎসব চলবে ১৪ থেকে ১৬ এপ্রিল ২০১৬ পর্যন্ত। থাকছে ড. মুকিদ চৌধুরী’র রচিত ও বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার শিল্প-নির্দেশনায় নাটক। BritBangla-র (নভম্বের ২০১৩) মন্তব্য, ‘ড. মুকদি চৌধুরীর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ‘বাংলামুভমেন্ট থিয়েটার’ নির্মাণ করা। তিনি বিশাল নাট্যশিল্পীর অংশগ্রহণে, বিরতিহীন, একটানা একটি নাটক পরবিশেন করনে। প্রতিটি নাট্যশিল্পই যেন এক-একটি বাদ্যযন্ত্র, তাদের নিয়ে একটানা অঙ্গিকাভিনয়ের আবরণে প্রকাশ করেন মূল কাহিনীটি। প্রতিটি শিল্পীই হয়ে উঠনে প্রধান ও মূল অভিনেতা। ‘বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার’-এর জন্মদাতা হিসেবে ড. মুকিদ চৌধুরীর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। তিনি প্রবাসে নতুন ধারায় মঞ্চনাটক শুরু করনে সেই ১৯৯৬ সাল থেকে। একে একে এল ‘পুরাণ কথার শুকপাখি’, ‘ঋতুরঙ’, ‘মৌসুম’, ‘তালতরঙ্গ’, ‘সৃষ্টি’, ‘অনাহূত অতিথি’ ইত্যাদি। নাট্য গবেষক ড. তানভীর আহমেদ সিডনীর মন্তব্য (রাইজিং বিডি ডট কম, আগস্ট ২০১৪), ‘ড. মুকিদ চৌধুরী ‘বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, গবষেক, সম্পাদক ও লখেক। তিনি দেশ-বিদেশে মুভমেন্ট থিয়েটার এবং নৃত্য নিয়ে কাজ করছেন। তার প্রযোজনাসমূহ বাংলাদেশ এবং লন্ডনে মঞ্চায়তি হয়েছে।’
১৪ এপ্রিল ২০১৬: রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ও ড. মুকিদ চৌধুরী’র ‘মুভমেন্ট থিয়েটার’ শিল্প-নির্দেশনায় ‘হৈমন্তী’ (প্রতীক থিয়েটার; চা-বাগানের ভাষায় রূপান্তর: ডা. সুনীল বিশ্বাস)। প্রদর্শনী: রাত ৮.৩০ মিনিট।
১৫ এপ্রিল ২০১৬: ড. মুকিদ চৌধুরী’র রচিত ও বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার শিল্প-নির্দেশনায় নাটক ‘অশোকানন্দ’ (ডাকাতিয়া থিয়েটার, লাকসাম; পরিচালনা: সুশীল আচার্য্য) এবং ‘রাজাবলি’ (নাট্যভূমি, ঢাকা; পরিচালনা: শাহজাহান শোভন)। ‘অশোকানন্দ’: প্রদর্শনী: রাত ৭.৩০ মিনিট। ‘রাজাবলি’: প্রদর্শনী:রাত ৯টা।
ড. মুকিদ চৌধুরী’র রচিত ও বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার শিল্প-নির্দেশনায় নাটক ‘অশোকানন্দ’: সময়: ৩২৩ খ্রি.পূ.। বঙ্গ-মগধের মহারাজাধরিাজ ধনানন্দকে হত্যা করে চন্দ্রগুপ্ত (প্রথম) সংহাসন আরোহণ করেন। তখনই দেখা দেয় নানা জটলিতা ও নাটকিয়তা। গঙ্গা-মগধের আসল যুবরাজ অশোকানন্দ তাঁর পিতার মৃত্যু এবং তার মাতার নতুন স্বামী গ্রহণই এর জন্য দায়ী হয়ে ওঠে। শুরু হয় প্রতিশোধ। ঘটে মৃত্যু, ট্রাজেডিও। চলে ছলচাতুরি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা। প্রর্দশিত হয় ভুলে যাওয়া বাংলা এক ইতিহাস।
ড. মুকিদ চৌধুরী’র রচিত ও বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার শিল্প-নির্দেশনায় নাটক ‘রাজাবলি’: পূজায় নৈবেদ্যর নামে পশুবলির মতো একটি জঘন্য প্রথার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ত্রিপুরার মহারাজা গোবিন্দমাণিক্য মন্দিরের পুরোহিত রঘুপতির ঈর্ষার কারণ হন। ঈর্ষাকাতর রঘুপতি দেবতার তুষ্টির কথা বরে ক্ষেপিয়ে তুলেন প্রজা-ভক্তদের এবং মহারাজ গোবিন্দমাণিক্যকে বলি বা বিসর্জনের জন্য এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। রঘুপতির সব ষড়যন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে গোবিন্দমাণিক্য পশুবলি প্রথা বন্ধ করে অসুর শক্তিকে পরাস্ত করে মানবিক শক্তির উদ্বোধন ঘটান ত্রিপুরায়। এই ঘটনা নিয়েই নাটক ‘রাজাবলি’। এ নাটকের গোবিন্দমাণিক্য, নক্ষত্ররায়, রঘুপতি প্রভৃতি চরিত্র ঐতিহাসিক, ড. মুকিদ চৌধুরীর সৃজন সত্যবতী, জয়মন্তী এবং পুষ্কর; যাদের মধ্য-দিয়ে তার মূল দর্শন উপস্থিত।
১৬ এপ্রিল ২০১৬: ‘ড. মুকিদ চৌধুরী’র রচিত ও বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার শিল্প-নির্দেশনায় নাটক তারকাঁটার ভাঁজে’ (প্রতীক থিয়েটার, হবিগঞ্জ; পরিচালনা: ডা. সুনীল বিশ্বাস) এবং ‘চম্পাবতী’ (নাট্য জংশন, পরিচালনা: জি এম এস রুবেল)। তারকাঁটার ভাঁজে’: প্রদর্শনী: রাত ৭টা। ‘চম্পাবতী’: প্রদর্শনী:রাত ১০টা।
ড. মুকিদ চৌধুরী’র রচিত ও বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার শিল্প-নির্দেশনায় নাটক ‘তারকাঁটার ভাঁজে’: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরাঙ্গনা যে অংশ নেন এবং পাক-সশস্ত্র-বাহিনীর অত্যাচারের সম্মুখীন হন তা সমগ্র বিশ্ববাসীর অজানা নয়। নারী যে পুরুষের মতোই সাহসী ও যোদ্ধা এরকম একজন বীরাঙ্গনার গৌরবময় দিক নিয়ে রচনা করা হয়েছে এই নাটকটি। এই নারীযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সহযোদ্ধা ছিলেন দুজন পুরুষ। তাদের সহযোগিতায়ই তিনি পাক-বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্রভাবে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেন, নিজে যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্বের সঙ্গে সৈন্য পরিচালনা করেন, পরিশেষে তিনি দেশকে স্বাধীন করে রণক্ষেত্র থেকে অবসর নেন।
ড. মুকিদ চৌধুরী’র রচিত ও বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার শিল্প-নির্দেশনায় নাটক ‘চম্পাবতী’: গৌড়ের এক সুন্দর অঞ্চল ছিল চন্দ্রদ্বীপ। প্রাচীন লোকগাঁথায় আর ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ এই জনপথ, যা একসময় ছিল গৌড়েশ্বরের অধীনে। সেসময় চন্দ্রদ্বীপে ছিলেন তিনজন জমিদার, তারা অবশ্য গৌড়ের অভিজাতশ্রেণি হিসেবে বিবেচিত হতেন। জমিদার প্রিয়নাথ, রামচন্দ্র রায় ও শাহ সিকান্দার ধন-সম্পত্তি আর ক্ষমতা কোনও অংশেই গৌড়েশ্বরের চেয়ে কম ছিল না। জমিদার প্রিয়নাথ ছিলেন শান্তিপ্রিয় ও সুদর্শন যুবক, তিনি চান রামচন্দ্র রায়ের কন্যা চম্পাবতীকে বিয়ে করতে। অন্যদিকে, রামচন্দ্র রায় ও শাহ সিকান্দার অদ্ভুত প্রকৃতির মানুষ। তারা সহজেই একের সঙ্গে অপর বিবাদে ও বিদ্বেষে ফেটে পড়েন, তাই হয়তো-বা তারা দীর্ঘদিনের এক রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে লিপ্ত। একসময় এই দুই পরিবারের সদস্য গাজী ও চম্পাবতী, ধর্মের বিভেদ ভুলে, একে অপরকে ভালোবাসেন, আর প্রিয়নাথ, সমধর্মের লোক হলেও হন বঞ্চিত। এই হিন্দু-মুসলমান প্রেম-কাহিনী নিয়েই রচিত হয়েছে ‘চম্পাবতী’।
১৪ এপ্রিল উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সাংসদ এড. মাহমুদ আলী আর বিশেষ অতিথি হিসেবে চেয়ারম্যান মো. আবু তাহের (চুনারুঘাট উপজেলা), চেয়ারম্যান মো. ওয়াহেদ আলী (পাইকপাড়া ইউপি), ব্যবস্থাপক মো. রিয়াজ উদ্দিন (দেউন্দি চা-বাগান) ও নাট্যজন লিটন আব্বাস। ১৫ এপ্রিল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নাট্যজন মো. জাহাঙ্গীর আলম, নাট্যজন পার্থ প্রতিম সেন, নাট্যজন তোফাজ্জল সোহেল, নাট্যজন জালাল উদ্দিন রুমি, নাট্যজন পাবেল রহমান, নাট্যজন শাহজাহান শোভন, নাট্যজন উজ্জল দাশ প্রমুখ। আর ১৬ এপ্রিল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাংসদ এড. আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী। বিশেষ অতিথি সেক্রেটারি জেনারেল মো. আক্তারুজ্জামান (গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন) ও সহকারি অধ্যাপক আল জাবির (কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়)।
এই উৎসবে আরও থাকছে, ১৪ এপ্রিল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে সুনীল বিশ্বাস নাট্যরূপ ও নির্দেশিত আর ‘প্রতীক থিয়েটার’ পরিবেশিত নাটক ‘পূজার সাঁজ’ (প্রদর্শনী: রাত ৮টা); আর ১৬ এপ্রিল থাকছে রওশন জান্নাত রোশনী রচিত, দেবাশীষ ঘোষ নির্দেশিত ও ‘শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র’ (ঢাকা) পরিবেশিত নাটক ‘বীরাঙ্গনার বয়ান’ (প্রদর্শনী: রাত ৮টা)।

অভিনেত্রী পারভিন সুলতানা দিতি আর নেই

দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ দিতি রবিবার বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।হাসপাতালের কমিউনিকেশন অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের প্রধান সাগুফা আনোয়ার এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে মস্তিষ্কে ক্যানসার ধরা পড়ে দিতির। তখন চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতের মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজি (এমআইওটি) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তিন দফা চিকিৎসা শেষে রেডিয়েশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ‘পারকিনসন’ রোগে আক্রান্ত হন দিতি।চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন, এই রোগ থেকে কোনোদিনই মুক্ত হবেন না দিতি। বাধ্য হয়েই মাকে নিয়ে গেল ৮ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসেন দিতির মেয়ে লামিয়া ও ছেলে।

 

মৌলভীবাজারে সেন্ট্রাল রোডে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে

উত্তম কুমার পাল হিমেল-নবীগঞ্জ থেকে: মৌলভীবাজার শহরের এম সাইফুর রহমান রোডের (সাবেক সেন্ট্রাল রোড) পাশে একটি বাসা থেকে জন্টু পাল (৪০) নামে এক যুবকের মাটির সাথে পা রাখা অবস্থায় ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে মৌলবীবাজার থানা পুলিশ। জানাযায়, গত সোমবার (১ লা ফেব্রয়িারী) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রুপক কান্তি গোস্বামীর বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত জটু পাল কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সিবাজার ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামের মৃত নির্মল পালের পুত্র। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে বাসার মালিক রুপক কান্দি গোম্বামীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজার আধুনিক হাসপাতাল মর্গে লাশর সুরতহাল রির্পোট করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ লাশটি নামমানার সময় তার পা মাটিতে লাগানো এবং একটি সাদা ধুতি অর্ধেক তার গলায় ও অর্ধেক ঘরের জালি ফ্যানের সাথে এলামেলোভাবে বাধা ছিল। তাই এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে এনিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে লাশের পাশে নিহত জন্টু পালের ষষ্ট শ্রেনীতে পড়–য়া কন্যা ঐশি পাল তার বাবাকে রুপক গোম্বামী হত্যা করেছে বলে কাদতে দেখা যায়। এদিকে নিহত জন্টু পালের পরিবার বলছে এটি আতœহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা। তাদের দাবি, রুপকের সাথে জন্টুর টাকা পাওনা ছিল। আর্থিক লেনদেন নিয়ে কয়েক দিন যাবত মনোমালিন্য চলছে। এরই জের ধরে বাসার মালিক তাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখতে পারে বলে পরিবারের লোকজন দাবী করেন। এ ব্যাপারে রুপক গোস্বামীকে আসামী করে একটি লিখত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বাসার মালিক রুপক কান্তি গোস্বামী বলেন, ঝন্টু র্দীঘদিন ধরে আমার বাসার নিচে চা বিক্রি করে আসছিলো। সন্ধ্যায় তার রুমে হঠাৎ ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাই। পরে স্থানীয় কাউন্সিলরকে খবর দিলে তিনি পুলিশকে খবর দেন। মৌলভীবাজার মডেল থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল মালিক জানান, এটা হত্যা না আত্মহত্যা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে। ময়না তদন্তের রির্পোটের উপর মামলার গতি নির্ধরন হবে।

অবৈধ অস্ত্রসহ ধরা পড়লেন মোশাররফ করিম !

সম্প্রতি জনপ্রিয় অভিনেতা মোশাররফ করিম অবৈধ অস্ত্রসহ পুলিশের কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পুলিশের কাছে অবৈধ অস্ত্র নিয়ে নানা তথ্য প্রকাশ করেছেন। এক ছাত্রনেতার কাছ থেকে তিনি এ অস্ত্র সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু কেন তার মতো একজন জনপ্রিয় অভিনেতা এমন করলেন? এমনই প্রশ্নের উত্তরে বেরিয়ে আসে গ্রামের সহজ-সরল এক ছাত্রের জীবন কাহিনী। মোশাররফ করিমের কাছে অবৈধ অস্ত্র এটি আসলে কোনো সত্য ঘটনা নয়। সম্প্রতি ‘রক’ নামে একটি টেলিফিল্মে তিনি এমন একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন। টেলিফিল্মটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন মাইদুল রাকিব। টেলিফিল্মের কাহিনীতে দেখা যাবে, মোশাররফ করিম ঢাকায় টাকার অভাবে মেসে থাকতে পারেন না। বাঁচার তাগিদে তিনি একটি খেলনা অস্ত্র নিয়ে সবাইকে ভয় দেখান। নিজেই নামের আগে যোগ করেন রক। তিনি নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রনেতা রক সোহেল নামে পরিচয় দেন। তার অস্ত্রের ভয়ে সবাই আতংকে থাকে। কিন্তু এ খেলনা অস্ত্রই একদিন আসল অস্ত্রে পরিণত হয়। এ টেলিফিল্ম নিয়ে অভিনেতা মোশাররফ করিম বলেন, ‘অনেকদিন পর ভিন্ন একটি গল্পে অভিনয় করলাম। কেন মানুষ সন্ত্রাসী হয়, কেন বা ভুয়া কেসে ফেঁসে যায়, আবার সততার যে মূল্য আছে সবকিছু সুনিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আশা করি দর্শকরা টেলিফিল্মটি উপভোগ করবেন।’ এ টেলিফিল্মে মোশাররফ করিমের বিপরীতে অভিনয় করেছেন আনিকা কবির শখ। শিগগিরই যে কোনো একটি চ্যানেলে টেলিফিল্মটি প্রচার হবে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।

জাতীয় খেলা কাবাডির বিশ্বকাপ আয়োজক দেশ হোক বাংলাদেশ

সুজলা, সুফলা, শস্য-শ্যামলা, ষড়ঋতুর নয়নাভিরাম একটি দেশ, আমাদের বাংলাদেশ। নদীমাতৃক এই দেশের অধিকাংশ মানুষ বসবাস করে গ্রামে। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল এবং এই অর্থনীতির সম্পূর্ণ কোনো বিকল্প ব্যবস্থা অদ্যাবধি গড়ে উঠে নাই। এই জন্য কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির গুরুত্ব এখানে আবহমানকাল থেকেই অত্যন্ত বেশী। এদেশের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনায় রচিত যে মহাকাব্য গ্রামীণ জীবনকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত রয়েছে চিরকাল। আজও বাংলায় ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে আমাদের সকলের চেহারায়, চালচলনে ও স্বভাবে গ্রাম্য জীবনের ছাপ ও প্রভাব সর্বত্র লক্ষণীয়। বাঙালির হাজার বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, গ্রামীণ লোকায়ত জীবন ব্যবস্থা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি এই জাতির লক্ষ্য নির্ধারণে অমূল্য পাথেয়স্বরূপ। গার্মেন্টসসহ নানা শিল্প ও প্রবাসীদের বৈদেশিক আয়ে দ্রুত এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ তবুও বাঙালি গর্ববোধ করে কৃষিপ্রধান একটি দেশ হিসেবে নিজেদেরকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচয় দিতে।
আদিকাল থেকে বাংলার কিষান-কিষাণী ফসলের মাঠে অক্লান্ত পরিশ্রমের পর দেহে প্রাণ সৃষ্টি করতে বিনোদনে চর্চা করে আসছে লোকজ ক্রীড়া। ছয়টি ঋতুর আবর্তে সম্পূর্ণভাবে প্রভাবিত বাংলার জীবন ও পরিবেশ। একসময় এখানে পরিস্থিতি ও অবসর মুহুর্তকে আনন্দময় করে তুলতে নানারকম খেলাধুলার সৃষ্টি হয়েছে। দেহ ও মনের ধরণ অনুযায়ী এবং সময়ের প্রতি খেয়াল রেখে এই সকল গ্রামীণ খেলা যা লোক-ক্রীড়া, লোকজ-ক্রীড়া বা লোকায়ত-ক্রীড়া নামে পরিচিত উৎপত্তি, বিকাশ, আয়োজন ও লালন-পালন হয়ে আসছে সেই হাজার বছর আগে থেকেই। গ্রাম বাংলার লোকায়ত খেলাগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনও বটে। কত রকমের যে লোকজ খেলা বাংলায় প্রচলিত ছিল, তার কোনো হিসেব নেই। এই সকল ক্রীড়ার মধ্যে সর্বপ্রাচীন এবং সব থেকে জনপ্রিয় হলো আমাদের জাতীয় খেলা হা-ডু-ডু বা কাবাডি। যা বিশ্ববাসীর কাছে বলার মতো গর্বের আরেকটি বিষয়। কাবাডির জনপ্রিয়তা এখানেই সীমাবদ্ধ নয় বরং বিশ্বের অনেক দেশে এর জনপ্রিয়তা রয়েছে তুঙ্গে। আমাদের জাতীয় মেলবন্ধন, ভালবাসা ও সম্মানের সাথে মিশে আছে হা-ডু-ডু খেলা। বিশে^ এর নাম ” ঐঙখউওঘএ ঙঋ ইজঊঅঞঐ ” বা “দমের খেলা”, কখনও একে “এঅগঊ ঙঋ ঞঐঊ গঅঝঝঊঝ” বা “গণ-মানুষের খেলা” নামেও বর্তমানে পরিচিতি রয়েছে। এর সহজ নিয়ম কানুন, জনপ্রিয়তা ও সরলতা গ্রাম্য লোকের আপন বিধায় একে গ্রাম বাংলার খেলাও বলা হয়ে থাকে।
ধারণা করা হয়, মানুষ প্রাগৈতিহাসিক যুগে যখন খাদ্য সংগ্রহের পাশাপাশি একক বা দলীয়ভাবে শিকারে যেত অথবা অন্য কোন বন্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে ফসল বা নিজেকে রক্ষা করার কৌশল শিখতে গিয়ে কাবাডি খেলার সূচনা করেছিল। এতে কোন দ্বিমত নাই, বিশ্বের সর্বপ্রাচীন ও সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলাগুলোর একটি আমাদের জাতীয় খেলা কাবাডি বা হা-ডু-ডু। এই বিষয়ে ঐতিহাসিকদের কাছে শক্ত প্রমান রয়েছে দাবী করা হয়, কাবাডির বয়স কমপক্ষে চার হাজার বছর। বর্তমানে এই খেলা জাপান, কোরিয়া, চায়না, কানাডা, বৃটেন সহ আফ্রিকার অনেক দেশেও নিয়মিত হয়ে থাকে। আমাদের কাবাডি একেক দেশে একেক নামে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ভারত ও পাকিস্তানে কাবাডি কিন্তু নেপালে ডুডু, শ্রীলংকায় গুডু-গুডু, থাইল্যান্ডে থীকাব ও মালয়েশিয়ায় ছি-গুডু-গুডু নামেই বেশী পরিচিত। থাইল্যান্ডে এটি উৎসবের অংশ এবং ইন্দোনেশীয়ায় বীচ কাবাডির জনপ্রিয়তা অত্যন্ত বেশী।
বৃটিশ আগমনে এ অঞ্চলে বিভিন্ন বিদেশী খেলাধুলার প্রচলন ঘটে। বিনোদন হিসেবে তাদের নিজস্ব খেলাধুলা এ অঞ্চলে আয়োজন করতে থকে। ভারতবর্ষে ১৯১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় কাবাডি খেলা। ১৯২৩ সালে ভারতের একজন খ্যাতনামা বাঙালী, সমাজসেবী এবং শিক্ষক কলকাতা ও তৎকালীন পূর্ব বাংলায় হা-ডু–ডু খেলার প্রচলন ও প্রসারে সমগ্র বাংলার তরুণদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। কাবাডির প্রতি সারা বাংলার মানুষের ভালবাসা ও ব্যাপক জনপ্রিয়তার ব্যাপারটি ভালভাবে নেয়নি বৃটিশ সরকার। ১৯৩০ সালে বৃটিশরাজের এক আদেশ বলে কাবাডি খেলা ভারতবর্ষে নিষিদ্ধ করা হয়। বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেন তৎকালীন বাঙালি জাতীয়তাবাদী নেতারা। শুধুমাত্র বাঙালির প্রাণের এই হা-ডু-ডু খেলাকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন। মহাত্মা গান্ধী, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু বাঙালির এই আন্দোলনকে পূর্ণ সমর্থন প্রদান করেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ছিলেন আন্দোলনের পক্ষে সোচ্চার। এক পর্যায়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদের আন্দোলনের কাছে নতি স্বীকারে বাধ্য হয় বৃটিশ সরকার। মাত্র এক বছরের মাথায় ১৯৩১ সালে কাবাডি খেলার ওপর থেকে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। শুরু হয় সারা বাংলায় আনন্দ ও উল্লাস। ভারতে ১৯৩৮ সালে অলিম্পিক এসোসিয়েশন যে সকল খেলার আয়োজন করে, তাতেও অন্তর্ভুক্ত ছিল বাংলার কাবাডি খেলা। বৃটিশরা ভারতবর্ষ ছেড়ে চলে যাবার আগে এভাবেই বাংলার এই লোকজ ক্রীড়াটি সমগ্র ভারতবর্ষসহ সারা বিশ্বের সবার নজরে আসে, সকলের কাছে গ্রহনযোগ্যতা ও মর্যাদার আসন লাভ করে।
বাঙালি জাতীয়তাবাদের চরম উন্মেষ ঘটে মুক্তি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে লাখো শহীদের রক্তে। ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাক হানাদারদের পরাজিত করে বাঙালি জাতীয়তাবাদের একক একটি রাষ্ট্র হিসেবে পরিপূর্ণতা লাভ করে বাংলাদেশ। ১৯৭২ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান বাঙালির ঐতিহাসিক হা-ডু-ডু খেলাটিকে বাংলাদেশের জাতীয় খেলাতে উন্নীত করেন। তখন থেকেই হা-ডু-ডু খেলা কাবাডি নামকরন হয়ে আমাদের জাতীয় জীবনে পথ চলা শুরু করে। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পূর্ণগঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ক্রীড়াঙ্গনে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন গঠিত হয়। ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মাঝে প্রথম আন্তর্জাতিক কাবাডি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ভারতীয় দল বাংলাদেশে এসে ঢাকা, টাঙ্গাইল, দিনাজপুর, যশোর, ফরিদপুর ও কুমিল্লা জেলা দলগুলোর সঙ্গে খেলায় অংশগ্রহন করে। ঐতিহ্যগতভাবে কৃষক পরিবারের সন্তান বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলা গড়ার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলেন তাতে অন্তর্ভুক্ত ছিল কৃষকের প্রাণের খেলা কাবাডি। কিন্তু ৭৫’ সালে বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নিহত হলে তাঁর এতদিনের কৃষিনির্ভর সোনার বাংলা গড়ার লালিত স্বপ্ন অংকুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে বৃহত্তর ফরিদপুরে কাবাডি খেলার প্রথম সূচনা হয় বলে জানা যায় আবার অনেকে বলেন হা-ডু-ডু খেলা প্রথম হয় বরিশালে। সেখান থেকেই সর্বত্র খেলাটি প্রচলিত হয়ে পড়ে। একসময় বাংলার অনেক অঞ্চলে এ ক্রীড়াটিকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হতো নান রকম উৎসবের আমেজ। গ্রামীন বিত্তবান সমাজ এ আয়োজনের পৃষ্ঠপোষক হতেন। পুরস্কার হিসেবে ঘোড়া, গরু, ছাগলসহ নানা রকম নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য দেয়া হতো। পরবর্তীতে বাংলার জমিদারগণ এতে পৃষ্ঠপোষকতা দিতে শুরু করেন। তবে ভারতীয় অনেক ঐতিহাসিক দাবী করেন, কাবাডি খেলার মূল উৎপত্তি স্থল পাঞ্জাব। এটি আরম্ভ হয় তামিলনাড়ুতে- ভারতবর্ষে অনেক প্রচলিত আরেকটি ধারণা। কাবাডি খেলার উৎপত্তি সম্পর্কে হিন্দু শাস্ত্রীয় একটি মত হচ্ছে, মহাভারতে বর্ণিত অভিমন্যু কর্ত্তৃক কৌরব সৈন্যদের চক্রব্যুহ ভেদ করার ব্যর্থ চেষ্টার ঘটনা থেকে ধারণা নিয়ে এই ক্রীড়ার সৃষ্টি হয়। তাদের মাঝে আরেকটি মত বলে, তা¤্রপত্র অনুসারে হিন্দু ভগবান কৃষ্ণ বিনোদন ও রোমাঞ্চকর অনুভূতির জন্য একরকম একটি লীলা করতেন, যা অনেকটা কাবাডির অনুরূপ। এদিকে বৌদ্ধ সাহিত্যে লেখা আছে, গৌতম বুদ্ধ সুস্থ দেহ, মন এবং দৃঢ় চরিত্র গঠনে তরুণ বয়সে কাবাডি খেলতেন। এখানকার মুসলিম অনেক ঐতিহাসিকগন বলেন যে, সমগ্র ভারতবর্ষের উন্নত জীবনব্যবস্থা, বিনোদন ও সংস্কৃতি এসেছে মূলতঃ আর্যদের মাধ্যমে ভারতবর্ষে। অতএব নিঃশন্দেহে বলা যায় কিভাবে সকল ভেদাভেদ ভুলে এই খেলাটি সকল গণ-মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়তা ও আস্থা অর্জন করেছিল। বিশ্বে একসময় বাংলাদেশই ছিল শ্রেষ্ঠ শক্তিধর দেশ। কিন্তু সামান্য সময়ের ব্যবধানে কাবাডি খেলায় এই শ্রেষ্টত্ব তুলে নিয়েছে প্রতিবেশি দেশ ভারত। বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রশক্তি ইরান, পাকিস্তান, জাপানের কাছেও অনেকসময় আমাদের বাহিনীগুলো অনবরত মার খাচ্ছে।
কাবাডি একটি দলীয় খেলা যেখানে খরচ বলতে কিছু নেই এবং সম্পূর্ণ অনাড়ম্বর বলে আয়োজনেরও খুব বেশী প্রয়োজন নেই। তবুও যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন জাতীয় বাজেটে তা সংকুলান ছাড়া বাংলাদেশ কাবাডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অবদান কখনোই রাখতে সম্ভব হবে না। অন্যদিকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এখনই জাতীয় ক্রীড়া কাবাডির অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক করা আবশ্যক। একই সাথে গ্রাম বাংলার ক্রীড়াঙ্গনে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি আবহমান বাংলার লোকক্রীড়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখাও প্রয়োজন। বাংলার উন্মুক্ত মাঠ-ঘাট-প্রান্তরে, স্কুল-কলেজে, বাড়ির আঙিনায় এমনকি সামান্য এক চিলতে জমি পেলেও কাবাডির আয়োজন করা যায়। তবে এই খেলায় সফলতার পূর্বশর্ত শারীরিক ও মানসিক যোগ্যতা, পেশীর ক্ষিপ্রতা, ফুসফুসের শক্তি ও সহনশীলতা, দ্রুত চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রয়োগের সামর্থ; সর্বোপরি প্রতিপক্ষের কৌশল ও প্রতিটি মনোভাব অনুধাবনের যোগ্যতা।
বাঙালির জাতীয় খেলা কাবাডি নিয়ে সরকারী ও বেসরকারী মনোভাব কখনও পরিস্কার ছিল না এবং একশ্রেনীর মানুষের মনোভাব আজও পরিচ্ছন্ন নয়। দুঃখজনক হলেও সত্যি স্বাধীনতার পর থেকে আজও এই বিষয়ে এই জাতি চরম উদাসীনতা ও ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আমাদের জাতীয় কোন বিষয় এত অবহেলার স্বীকার হয় নাই যতটুকু হতে হয়েছে জাতীয় খেলা কাবাডিকে। শাপলা থেকে দোয়েল চত্ত্বর এমনকি সুন্দরবনের বাঘ পর্যন্ত ঢাকা শহরে স্থান করে নিয়েছে কিন্তু দেশের কোথাও বাঙালির কাবাডির কোন স্থান হয় নাই। ঢাকার ষ্টেডিয়াম পাড়ায় যতটুকু না দিলেই নয় শান্তনাস্বরূপ এমন একটি ছোট্ট ষ্টেডিয়াম তৈরী করে দেয়া হয়েছে তাও একেবারে শেষ মাথায় অনেকটা লোকচক্ষুর অন্তরালে। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাই সরকারি ভূমিকা ও পৃষ্ঠপোষকতার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এখন এগিয়ে আসা দরকার। অন্যদিকে মিডিয়ার কাছে প্রত্যাশা এখন, কৃষি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের আমাদের জাতীয় খেলাকে নিয়ে বাংলাদেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর প্রচার ও প্রচারণা চালাতে তারা স্ব-উদ্যোগী হবেন। কিছুদিন আগে বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় ভারতে স্বনামধন্য জাতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা এবং নির্মাতা থেকে শুরু করে সেদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার পর্যন্ত কাবাডি খেলার আয়োজনে এগিয়ে আসলে তাবৎ বিশ্বের ক্রীড়াঙ্গনে এর ভিন্ন বার্তা ও ইতিবাচক প্রভাব দেখা যায়। সমগ্র ভারতের গণ-মানুষ মনে করে আজও এই খেলাটি তাদের আত্মার খোরাক জোগায়।
একটি বিশ্বকাপ সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে আয়োজক দেশের ক্রমাগত জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি তৈরী ও আস্থা অর্জনে সাহায্য করে। বহুমুখী লাভের মাঝে সেখানে নতুন করে উৎপাদন ও আয়ের পথ সৃষ্টি হয়। প্রথমবারের কাবাডি বিশ্বকাপ বাংলার গ্রামীন জীবনে যে প্রভাব ও বিনিয়োগ হবে তার পরিমাপ হবে বিশাল। নয়নাভিরাম বাংলাদেশ প্রধানতঃ একটি কৃষি নির্ভর দেশের মডেল হয়ে গড়ে উঠলে এই দেশের জন্য তা কল্যাণকর হবে। স্বাধীনতার দীর্ঘ অনেক বছর পরে এই সরকারের হাতেই ২০১১-১২ এবং ২০১২-১৩ উভয় অর্থবছরে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদন করা সম্ভবপর হয়। প্রায় ১৭ কোটির এই বাঙালি জাতি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পরে এই প্রথম বিদেশেও রফতানী করে। কৃষিতে এই সাফল্য ও আগামীতে এই অর্জন ধরে রাখতে এখনই এই দেশে কৃষি নির্ভর জীবনব্যবস্থার দিকে সর্বাধিক গুরুত ও প্রচেষ্টা চালাতে হবে। আগের বারে ক্ষমতায় এলে বঙ্গবন্ধু তনয়া ১৯৯৯ সাল থেকে আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতায় কাবাডি খেলার অন্তর্ভূক্তি বাধ্যতামূলক করেছিলেন। আমাদের প্রত্যাশা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতেই জাতীয় এই খেলাটির বিশ্বকাপ আয়োজন, গ্রামীণ প্রেক্ষাপটে এবং এদেশের কৃষিতে সবচেয়ে বেশী উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক আবর্তে চিরজীবি গৌরব ও সম্মান অব্যাহত রাখতে প্রথমবারের মতো জাতীয় খেলা কাবাডির বিশ্বকাপ আয়োজন দেশ ও জাতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে।

মামুন ইবনে হাতেমী
– সাংবাদিক
ঢাকা, বাংলাদেশ।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net