শিরোনাম

 খেলা

টাইগারদের শ্রীলংকা বধ  দুর্দান্ত জয় দিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালের  পথ সুগম

ক্রীড়া সংবাদদাতাঃ টি-টোয়েন্টিতে এর আগে চারবার শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয়ে জয়ের দেখা পায়নি বাংলাদেশ। রোববার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে দিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। ব্যাটে-বলে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে করলেন শ্রীলঙ্কা বধ। ২৩ রানের দুর্দান্ত জয় দিয়ে এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার আশাও বেশ ভালোমতো টিকিয়ে রাখলেন মাশরাফিরা। জয়ের জন্য ১৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১২৪ রানেই থেমে গেছে শ্রীলঙ্কার ইনিংস। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দারুণ এই জয়ের পর ২০১২ সালের পর এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলার আশা জোরদার করেছে বাংলাদেশ। দুই ম্যাচে দুই জয় দিয়ে ভারত আছে শীর্ষে। তিন ম্যাচ শেষে দুই জয় দিয়ে বাংলাদেশ আছে দ্বিতীয় স্থানে। দুই ম্যাচে একটি জয়ের পর শ্রীলঙ্কা আছে তৃতীয় স্থানে। পাকিস্তান ও আরব আমিরাত এখনো পায়নি জয়ের দেখা। সাব্বির রহমানের দারুণ ব্যাটিংয়ে ভর করে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৮ রানের লক্ষ্যে বেঁধে দিয়েছিল বাংলাদেশ। বল হাতে শুরুটা অবশ্য হয়েছিল হতাশা দিয়ে। আরব আমিরাতের ম্যাচের মতো শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও প্রথম ওভারে ক্যাচ মিস করেছিলেন স্লিপে দাঁড়ানো সৌম্য সরকার। তবে সাকিব আল হাসানের করা চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে অনেকটা দৌড়ে এসে সেই সৌম্যই ধরেছেন দারুণ এক ক্যাচ। ১২ রান করে সাজঘরে ফিরতে হয়েছে শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ ওপেনার তিলকারত্নে দিলশানকে। সৌম্যর ক্যাচ মিসের সুবাদে শূণ্য রানে জীবন পেয়ে চান্দিমাল শেষপর্যন্ত খেলেছেন ৩৭ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় উইকেটে সেহান জয়সুরিয়াকে সঙ্গে নিয়ে চান্দিমাল গড়েছিলেন ৫৬ রানের জুটি। একাদশ ওভারে এই জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান মাহমুদউল্লাহ। ৩৭ রান করে ফিরে যান চান্দিমাল। পরের ওভারে জয়সুরিয়াকেও দারুণভাবে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলে সাজঘরে ফিরিয়েছেন সাকিব। ১৪তম ওভারে থিসারা পেরেরাকে আউট করে বাংলাদেশকে ভালো অবস্থানে নিয়ে যান মুস্তাফিজুর রহমান। পরের ওভারে মিলিন্দা সিরিবর্ধনের উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে জয়ের পথে অনেকখানি এগিয়ে দেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। ১৮তম ওভারের প্রথম বলে লঙ্কান অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের উইকেট তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করে ফেলেন আল-আমিন।

বাংলাদেশের পক্ষে দারুণ বোলিং করে তিনটি উইকেট নিয়েছেন আল-আমিন। দুইটি উইকেট গেছে সাকিবের ঝুলিতে। একটি করে উইকেট পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ, মাশরাফি ও মুস্তাফিজ।এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভালো নৈপুণ্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। শুরুতে তিন উইকেট হারিয়ে চাপের মুখে পড়লেও সাব্বির রহমানের ৫৪ বলে ৮০ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসের সুবাদে স্কোরবোর্ডে জমা করেছে ১৪৭ রান। ৩২ রান করেছেন সাকিব আল হাসান। চতুর্থ উইকেটে তাঁরা গড়েছিলেন ৮২ রানের জুটি। শেষপর্যায়ে মাহমুদউল্লাহ খেলেছেন ১২ বলে ২৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ একটি ইনিংস।

এসএ গেমসে সোনা জয়ীদের ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক পুরস্কার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এসএ গেমসের সোনাজয়ী প্রত্যেক অ্যাথলেটকে প্রতিটি সোনার পদকের জন্য ৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিল বিসিবি।
মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে এক সভা শেষে আজ এ ঘোষণা দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান। ভারতের গুয়াহাটি ও শিলংয়ে অনুষ্ঠিত এসএ গেমসে এবার চারটি সোনা জিতেছেন বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা। সাঁতারে ২টি সোনা জিতেছেন মাহফুজা খাতুন শিলা, ভারোত্তোলনে ১টি সোনা জিতেছেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ও অন্যটি শুটার শাকিল আহমেদের। বিসিবি তাই মাহফুজাকে ১০ লাখ এবং মাবিয়া ও শাকিলকে ৫ লাখ টাকা করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
শুধু তা-ই নয়, বাংলাদেশ জাতীয় হকি দলের জন্য বিশ্বমানের বিদেশি কোচ আনা হলে সেই কোচের বেতনের অর্থ জোগানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে বিসিবি। এ প্রসঙ্গে আজ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান বলেছেন, ‘অন্য খেলাগুলোর চেয়ে হকিতে বাংলাদেশের বৈশ্বিক পর্যায়ে সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করে আমরা। আর সে কারণেই হকিতে বিশ্বমানের কোচ আনা হলে তার খরচ দিতে চায় বিসিবি।’

যুব বিশ্বকাপ সফলভাবে শেষ করায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন আইসিসির

স্পোর্টস রিপোর্টার : অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ সফলভাবে শেষ করায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছে আইসিসি। তবে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার না আসা নিয়ে নিজেদের সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ডেভিড রিচার্ডসন। গতকাল সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি, বাংলাদেশ সরকার, নিরাপত্তা এজেন্সিসহ সংশি¬ষ্ট সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানায় আইসিসি। প্রধান নির্বাহী রিচার্ডসনের সঙ্গে ছিলেন আইসিসি প্রেসিডেন্ট জহির আব্বাস ও বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান।সংবাদকর্মীদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বারবার ঘুরে ফিরে এলো নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার না আসা। এ বিষয়ে আইসিসির প্রধান নির্বাহী রিচার্ডসন বলেন, এটা মূলত চুক্তিগত ব্যাপার। এটার কারণে কোনো পক্ষের কোনো ক্ষতি হচ্ছে কিনা, সেটা এখনও খতিয়ে দেখার ব্যাপার। আরেকটা ব্যাপার হলো, আমরা কোনো দেশকে অংশ নিতে জোর করতে পারি না। যেটা আগেই বললাম, এখানে চুক্তিভঙ্গের ঝুঁকি থাকতে পারে। কিন্তু সিদ্ধান্তটি তাদেরই। আইসিসি ফিফার মত শক্ত হতে পারে কিনা, অংশগ্রহণে বাধ্য করতে না পারলে অন্তত জরিমানার বিধান করতে পারে কিনা, এসব প্রসঙ্গেরও সরাসরি কোনো উত্তর দিলেন না প্রধান নির্বাহী। তিনি বলেন, একটি সদস্য দেশ যে কোনোভাবে টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারে না, সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক হতে হবে। এখন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তটি যৌক্তিক কিনা, সেই প্রশ্নের উত্তর আগেই দেওয়া হয়েছে। রিচার্ডসন বলেন, অস্ট্রেলিয়া নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরও টুর্নামেন্ট চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এতেই আমরা সন্তুষ্ট। ফলাফলই বলে দিচ্ছে আমাদের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। এখন আমরা ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে। কোনো সন্দেহ নেই সেখানেও নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ থাকবে। এই টুর্নামেন্ট থেকে আমরা অনেক শিখেছি।

শ্রীলংকাকে হারিয়ে যুব বিশ্বকাপে তৃতীয় বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিনিধি : বিশ্বকাপ শুরুর আগে চোখ ছিল শিরোপাতেই। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত সব কিছুই ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু সেমিতে হেরে শেষ পর্যন্ত তৃতীয় হয়েই বিশ্বকাপ মিশন শেষ করতে হলো টাইগার যুবাদের।অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গতকাল শনিবার শ্রীলংকাকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ।লংকান যুবাদের দেয়া ২১৫ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৩ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে মিরাজরা। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে জয় পেতে বেগ পেতে হয়েছে তাদের। খোয়াতে হয়েছে সাত সাতটি উইকেট।এই জয়ে বড় অবদান রেখেছে মিরাজের অলরাউন্ড ৈ নৈপুণ্য।তৃতীয় উইকেটে অধিনায়ক মিরাজ ও নাজমুল হোসেন শান্তর জুটির সময় মনে হচ্ছিল অনায়াসেই জিতে যাবে বাংলাদেশ। কিন্তু দৃষ্টিকটু রান আউটে কাটা পড়েন দুজনই।সেই ধাক্কা সামলেও এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। শেষ ৫ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৬ রান, হাতে ৬ উইকেট। কিন্তু আরেক থিতু ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনও (১৯) ফিরে যান রান আউটে। তিন নম্বরে নেমে চোট নিয়ে বাইরে চলে যাওয়া ব্যাটসম্যান জাকের আলি অনিককে ফিরে আসতে হয় উইকেটে। শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে প্রথমবার মাঠে নামা উইকেটকিপার ব্যাটসম্যানের দুটি বাউন্ডারি বড় ভূমিকা রাখে বাংলাদেশের জয়ে। শেষ ওভারে লাহিরু কুমারাকে মিড উইকেট দিয়ে চার মেরে জয় এনে দেন জাকেরই।তিনটি পরিবর্তন নিয়ে এই ম্যাচে মাঠে নামে বাংলাদেশ। জায়গা পাননি নিয়মিত দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও পিনাক ঘোষ। প্রথমবার মাঠে নামেন জাকের ও শফিউল হায়াত। টুর্নামেন্ট জুড়ে বিবর্ণ সাঈদ সরকারও হারান জায়গা, ফিরেন পেসার মোহাম্মদ হালিম।
জয়রাজ শেখের সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন জাকির হাসান। নতুন জুটিতেও শুরু ভালো হয়নি বাংলাদেশের। আসিথা ফার্নান্ডোর দারুণ ইয়র্কারে প্রথম ওভারেই বোল্ড জাকির (০)। যথারীতি থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি জয়রাজ (২৬)।পায়ে ক্র্যাম্প নিয়ে এর আগেই মাঠ ছাড়েন তিনে নামা জাকের। তৃতীয় উইকেটে মিরাজ ও শান্ত গড়েন ৮৮ রানের জুটি। যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের রেকর্ড টানা চতুর্থ অর্ধশত করে এক বল পরই রান আউট মিরাজ (৫৩)। খানিক পর অধিনায়ককে অনুসরণ করেন সহ-অধিনায়ক শান্তও (৪০)।এরপর শফিউল (২১), সাইফুদ্দিনরা (১৯) দলকে এগিয়ে নিলেও শেষ করতে পারেননি কাজ। ফিরে আসতে হয় তাই জাকেরকে। দলকে জেতানও তিনিই।ব্যাটে-বলে আরেকটি অসাধারণ পারফরম্যান্সে ম্যাচ সেরা যদিও আবারও মিরাজই। অর্ধশতকের আগে বল হাতে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ম্যাচের প্রথম ভাগ ছিল দুই অধিনায়কের লড়াই। বল হাতে জ্বলে উঠেছিলেন মিরাজ, ব্যাট হাতে দলকে বলতে গেলে এটাই টেনেছেন চারিথ আসালাঙ্কা।টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা লঙ্কানদের শুরুটা হয়েছিল দারুণ। ওপেনিংয়ে উঠে আসা কামিন্ডু মেন্ডিস ও টুর্নামেন্টে প্রথমবার মাঠে নামা সালিন্ডু উশান পেরেইরাকে নিয়ে গড়া নতুন উদ্বোধনী জুটি দলকে এনে দেয় ৬০ রানের ভিত্তি।টুর্নামেন্টে প্রথমবার ৩ পেসার নিয়ে খেলতে নামে বাংলাদেশ। তবে নতুন বলে সুবিধা করতে পারেননি দুই পেসার মেহেদি হাসান রানা ও সাইফুদ্দিন। প্রথম পরিবর্ত বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে লঙ্কানদের জোর ধাক্কা দেন মিরাজ। দারুণ টার্ন ও বাউন্সে বিভ্রান্ত করেন পেরেইরাকে (৩৪)। পরের ওভারে আরেক ওপেনার মেন্ডিসকেও (২৬) ফেরান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
জোড়া ধাক্কা না সামলাতেই মিরাজের আরেকটি আঘাত। এবার ফিরিয়ে দেন তিনে নামা আভিশকা ফার্নান্ডোকে (৬)। বিনা উইকেটে ৬০ থেকে শ্রীলঙ্কা তখন ৩ উইকেটে ৭০! মিরাজের প্রথম স্পেলটি ছিল দেখার মতো, ৬-২-৮-৩!
মিরাজ আক্রমণ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলে আলগা হয় লঙ্কানদের ফাঁস। একটু একটু করে দলকে এগিয়ে নেন আসালাঙ্কা। চতুর্থ উইকেটে শামু আশানের (২৭) সঙ্গে গড়েন ৩৯ রানের জুটি। ষষ্ঠ উইকেটে ভানিডু হাসারাঙ্গার সঙ্গে জুটি ৫৫ রানের। শ্রীলঙ্কা তখন এগিয়ে যাচ্ছিল আড়াইশ রানের দিকে।
পুরোনো বলে বাংলাদেশের সেরা বোলার সাইফুদ্দিন আক্রমণে এসে এলোমেলো করে দেন লঙ্কানদের। ফুল লেংথ বলে হাসারাঙ্গাকে (৩০) বোল্ড করে ভাঙেন জমে ওঠা জুটি। পরের বলেই দারুণ এক ইনসুইঙ্গিং ইয়র্কারে উড়িয়ে দেন জেহান ড্যানিয়েলের (০) বেলস।
¯্রােতের বিপরীতে আসালাঙ্কা দারুণ সব শটে বাড়িয়ে নিচ্ছিলেন দলের রান। ৭৬ রানে লঙ্কান দলপতিকে ফেরান আব্দুল হালিম, ৭৬ রানে সীমানায় ক্যাচ দেন আসালাঙ্কা। ওই ওভারেই লাহিরু কুমারাকে ফিরিয়ে লঙ্কানদের মুড়িয়ে দেন হালিম। ২৮ রানে শ্রীলঙ্কা হারায় শেষ ৫ উইকেট।
টুর্নামেন্টে চতুর্থ ম্যাচে এসে প্রথমবার উইকেটের দেখা পেলেন হালিম, ২৬ রানে ২ উইকেট তার। ৪৮ রানে দুটি সাইফুদ্দিনের। মেহেদি হাসান রানা ও শাওন গাজী পেয়েছেন একটি করে। ২৮ রানে ৩ উইকেটে নিয়ে সেরা বোলার মিরাজ।

নবীগঞ্জে ক্রিকেট পুরস্কার বিতরনী

নবীগঞ্জ থেকে রাকিল হোসেন: হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ জে,কে উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গতকাল সকালে এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু টি-টুয়েন্টি নক আউট ক্রিকেট টুনার্মেন্ট ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্টান অনুষ্টিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাছুম বিল-াহ সভাপতিত্বে অনুষ্টিত অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আবু জাহির এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য এমএ মুনিম চৌধুরী বাবু।

pic asraf 2 বিশেষ আকর্ষন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মুহাম্মদ আশরাফুল। বক্তব্য রাখেন,উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর চৌধুরী,বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শফিউল আলম নাদেল,পৌর মেয়র ছামির আহমেদ চৌধুরী,উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল, প্রমূখ।

৫০ মিটারেও সোনা জিতলেন বাংলাদেশের মেয়ে মাহফুজা আক্তার শীলা

পোর্টস রিপোর্টার্স: দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে ১০০ মিটার ব্রেস্ট স্ট্রোকের পর এবার ৫০ মিটারেও সোনা জিতলেন বাংলাদেশের মেয়ে মাহফুজা আক্তার শীলা। গতকাল সোমবার বিকেলে গুয়াহাটির ড. জাকির হোসেন অ্যাকুয়াটিম কমপ্লেক্সে মেয়েদের ৫০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ৩৪.৮৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে রেকর্ড গড়ে সোনার পদকটি জেতেন মাহফুজা। এই ইভেন্টের সেরা টাইমিং ছিল ২০০৬ সালের আসরে গড়া ৩৪.৯৭ সেকেন্ড। এই ইভেন্টে শ্রীলঙ্কা হাসান্থি নুগাওয়েলা (৩৫.৬৯ সেকেন্ড) ও রামুদি সামারাকুন (৩৫.৯৯ সেকেন্ড) যথাক্রমে রূপা ও ব্রোঞ্জ পেয়েছেন।
গত রোববার ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে সেরা হয়ে এসএ গেমসের সাঁতারে প্রায় ১০ বছর পর বাংলাদেশকে সোনার পদক এনে দিয়েছিলেন মাহফুজা । ২০০৬ সালে সর্বশেষ সাঁতার থেকে সোনার পদক পেয়েছিল বাংলাদেশ। ২০১০ সালের আসরে নিজেদের পুলে ৬টি রুপা ও ১০টি ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ সাঁতারুরা।

এসএ গেমসের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশকে প্রথম সোনার পদক এনে দিলেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত

পোর্টস রিপোর্টার : এসএ গেমসের তৃতীয় দিনে বাংলাদেশকে প্রথম সোনার পদক এনে দিলেন মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। মেয়েদের ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে শ্রীলঙ্কা ও নেপালের প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে সোনার পদক জেতেন এই ভারোত্তোলক। ভারতের গুয়াহাটির ভোগেশ্বরী ফুকানানি ইনডোর স্টেডিয়ামে গতকাল রোববার স্ন্যাচ ও ক্লিন অ্যান্ড জার্ক মিলিয়ে ১৪৯ কেজি তোলেন সীমান্ত। স্ন্যাচে ৬৭ কেজি ও ক্নিন অ্যান্ড জার্কে ৮২ কেজি তোলেন তিনি। এই ইভেন্টে শ্রীলঙ্কার আয়েশা বিনোদানী (১৩৮ কেজি) রূপা ও নেপালের জুন মায়া চান্তিয়াল (১২৫ কেজি) ব্রোঞ্জ পেয়েছেন। শনিবার রিনা আক্তারের হাত দিয়ে কুস্তি থেকে প্রথম রুপার পদক জিতেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া গতকাল ভারোত্তোলন থেকেই বাংলাদেশকে দ্বিতীয় রুপা এনে দেন ফুলপতি চাকমা। ফুলপতির রুপা এসেছে ৫৮ কেজি ওজন শ্রেণিতে। ভারোত্তোলনে শনিবার দুর্ভাগ্যক্রমে রুপা হাতছাড়া হয়েছে মোল্লা সাবিরার। এসএ গেমসে এ ছাড়া এখনো পর্যন্ত ভারোত্তোলনে ও সাঁতারে আর পাঁচটি ব্রোঞ্জ জিতেছে বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপ সেমিফাইন্যালে বাংলাদেশ

সংবাদ ডেস্ক: নেপালের ছুঁড়ে দেওয়া ২১২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে স্বাগতিক বাংলাদেশ ৬ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে। সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা মেহেদি হাসান মিরাজের দল এ ম্যাচ জিতে ইতিহাস স্পর্শ করেছেন। এই প্রথমবারের মতো যুব বিশ্বকাপের সেমিতে খেলবে টাইগাররা। যুব বিশ্বকাপের মেগা ইভেন্টের আগে বাংলাদেশ তিনবার কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে। তিনবারই ছিটকে পড়তে হয় টাইগার যুবাদের। এবারে ফেভারিটের তকমা লাগিয়েই মিশন শুরু করে স্বাগতিকরা। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপকে নিজেদের কাছে রেখে দিতেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞ নাজমুল হোসেন শান্ত, সাইফ হাসান, আরিফুল ইসলাম, পিনাক ঘোষ, সালেহ আহমেদ শাওন, সাঈদ সরকাররা। গ্রুপপর্বে চ্যাম্পিয়ন হয়েই টাইগার যুবারা কোয়ার্টারে উঠে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে তারা হারায় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে। পরের ম্যাচে স্কটল্যান্ড আর নিজেদের শেষ ম্যাচে নামিবিয়াকে উড়িয়ে দেয় মিজানুর রহমানের ছাত্ররা। আর আগে একবারই দুইদল মুখোমুখি হয়েছিল বিশ্বমঞ্চে। ২০০২ বিশ্বকাপের আসরে প্লেট সেমিফাইনালে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়া নাফিস ইকবালের দলকে হারতে হয় ২৩ রানে। তবে, এবার একেবারেই ভিন্ন গল্প রচনা করলো টাইগার যুবারা। আজকের ম্যাচে জিতে দারুণ একটি মাইলফলক স্পর্শ করলো মেহেদি হাসান মিরাজের দল। শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত ২০০৬ সালের যুব বিশ্বকাপে মুশফিকুর রহিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পঞ্চম হয়েছিল। সেটিই ছিল টাইগার যুবাদের সেরা সাফল্য। চলতি যুব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে শুক্রবার নেপালের যুবাদের বিপক্ষে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সকাল নয়টায় ফিল্ডিংয়ে নামে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। কোয়ার্টার ফাইনালের এ ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন নেপাল দলপতি রাজু রিজাল।

 

নামিবিয়াকে উড়িয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

এনএনবি : অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে চমক দেখানো নামবিয়িা হুমকি দিয়েছিল বাংলাদেশকেও। কিন্তু গ্রুপের শীর্ষে থাকার লড়াইয়ে বাংলাদেশের কাছে পাত্তাই পেল না তারা। নামিবিয়াকে ৬৫ রানে অলআউট করে দেওয়ার পর বাংলাদেশ ম্যাচ জিতে নিল মাত্র ১৬ ওভারে। ৮ উইকেট আর ২০৪ বল হাতে রেখে এল এই জয়। বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ ও দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে দাঁড়াতেই পারেনি নামিবিয়ার ব্যাটিং। রান তাড়ার শুরুতে হোঁচট খেলেও ছোট লক্ষ্য বাংলাদেশ পেরিয়ে গেছে অনায়াসেই। কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার টস জিতে নামিবিয়াকে ৬৫ রানেই গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। সেই রান তাড়া করে স্বাগতিকরা জিতে যায় ১৬ ওভারেই।কোয়ার্টার ফাইনালে আগামী শুক্রবার মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। নামিবিয়ার প্রথম দুই ম্যাচের পারফরম্যান্সে ইঙ্গিত ছিল বাংলাদেশের প্রবল প্রতিপক্ষ হয়ে ওঠার। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটে স্বাগতিকদের স্পিনের জবাবই খুঁজে পেল না আইসিসির সহযোগী দেশটি। আর হাঁসফাঁস করতে থাকা ব্যাটসম্যানদের আরও বিপদে ফেলে বাংলাদেশের দুর্দান্ত ক্যাচিং ও গ্রাউন্ড ফিল্ডিং। সকালে প্রথম ব্রেক থ্রুটা অবশ্য দিয়েছিলেন একজন পেসার। দুই পেসার আব্দুল হালিম ও মোহামমদ সাইফুদ্দিন একটু সময় নিয়েছেন লাইন ও লেংথ খুঁজে পেতে। তবে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি ব্রেক থ্রুর জন্য। চতুর্থ ওভারে দলকে প্রথম উইকেট এনে দেন সাইফুদ্দিন। গালিতে ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত রিফ্লেক্সে এসজে লফটি-ইটনের ক্যাচ নেন নাজমুল হোসেন শান্ত।বাংলাদেশের পরের উইকেটটিও এসেছে অসাধারণ ফিল্ডিংয়ে। গালি থেকে দারুণ থ্রোতে উইকেট ভেঙেছিলেন আরিফুল ইসলাম, ব্যাটসম্যান তখনও ক্রিজে। কিন্তু রান নিতে ছুটেছিলেন ওভারথ্রোতে। ছুটে গিয়ে উইকেটকিপার জাকির হাসান সরাসরি থ্রোয়ে আউট করেছেন নামিবিয়ান অধিনায়ক জেন গ্রিনকে।নামিবিয়ার ইনিংসের একমাত্র দু অঙ্কের জুটি এসেছে এরপরই। তৃতীয় উইকেটে ২৭ রানের জুটি গড়েন নিকো ড্যাভিন ও লোহান লরেন্স। দুর্দান্ত এক আর্ম ডেলিভারিতে ড্যাভিনকে (১৯) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন সালেহ আহমেদ শাওন। এরপর থেকে শুধুই ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়া।কুইকার ডেলিভারিতে মাইকেল ফন লিনজেনকে এলবিডব্লিউ করে যুব ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি উইকেটের রেকর্ড স্পর্শ করেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। বল হাতে নিয়ে প্রথম ওভারেই উইকেট নেন অফ স্পিনার সাঈদ সরকার, মিড উইকেটে আরেকটি রিফ্লেক্স ক্যাচ নেন শান্ত।নামিবিয়ার দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর নায়ক লরেন্স লড়াই করছিলেন আবারও। কিন্তু নিজের প্রথম ওভারেই দ্রুতগতির এই সোজা বলে লরেন্সকে (১৭) বোল্ড করেন আরিফুল ইসলাম। এই বাঁহাতি স্পিনারকে পরে দ্বিতীয় উইকেট উপহার দেয় সিলি মিড অনে পিনাক ঘোষের দুর্দান্ত ক্যাচ। নামিবিয়া ইনিংসের শেষটিও বাংলাদেশ দলে জন্য আসে দারুণ এক উপলক্ষ হয়ে। শেষ উইকেট নিয়ে ইনিংস গুটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ উইকেটের রেকর্ডটি নিজের করে নেন মিরাজ। ৩২.৫ ওভারে নামিবিয়া অলআউট ৬৫ রানে। যুব ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে এর চেয়ে ছোট ইনিংস আছে আর একটিই। সেটিও নামিবিয়ারই, ২০০০ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত যুব বিশ্বকাপে তারা গুটিয়ে গিয়েছিল ৫৭ রানে।
রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই পিনাক ঘোষকে হারায় বাংলাদেশ। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে রানের খাতা খোলার আগেই আউট হলেন তিনি। এবার তিনি ফিরেছেন অফ স্টাম্পের বাইরের বল পয়েন্টের হাতে তুলে দিয়ে। ৮ রান করে কটবিহাইন্ড আরেক ওপেনার সাইফ হাসান।জয়রাজ শেখ ও নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটিংয়ে এরপর আর কোনো উইকেট হারাতে হয়নি বাংলাদেশকে। তৃতীয় উইকেটে রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন দুজন। ৩৪ রানে অপরাজিত থাকেন জয়রাজ, ১৪ রানে শান্ত। টানা তিন জয়ে শিরোপা স্বপ্ন পূরণের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ। কোয়ার্টার-ফাইনালেও পেল কাঙ্ক্ষিত প্রতিপক্ষ।

স্কটল্যান্ডেকে সহজেই হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি রেখেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শেষ আট নিশ্চিত করল বাংলাদেশ

এনএনবি : নাজমুল হোসেন শান্তর অপরাজিত শতকে স্কটল্যান্ডেকে সহজেই হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি রেখেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শেষ আট নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ২৫৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে স্কটিশদের ইনিংস ৪৭.২ ওভারে শেষ ১৪২ রানেই। গতকাল রোববার কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডকে ১১৪ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় পায় বাংলাদেশ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে স্পিনারদের দাপট থাকলেও দারুণ বোলিং করেছেন পেসার সাইফউদ্দিন আহমেদ। মাত্র ১৭ রানে তিনি তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট। বাঁহাতি স্পিনার সালেহ আহমেদও নিয়েছেন ৩ উইকেট, তবে তিনি দিয়েছেন ২৭ রান। এ ছাড়া আরিফুল ইসলাম ২টি আর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ১টি উইকেট। স্কটল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান আজিম দারের। তাঁর অর্ধশত রানের ইনিংসটির পাশাপাশি নিল ফ্ল্যাকের ২৮, জ্যাক ওয়ালারের ২৪ আর ররি জনস্টনের ২০ ছাড়া স্কটল্যান্ডের ইনিংসে বলার মতো কোনো স্কোরই নেই।সকালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা আবারও ছিল অস্বস্থির। আগের ম্যাচের মতো এবারও ত্রাতা শান্ত। দলকে উপহার দিয়েছেন এবারের বিশ্বকাপের প্রথম শতক। বাংলাদেশ ছাড়িয়ে যায় আড়াইশ’। দুর্বল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় তাতেই।রান তাড়ায় কখন জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি স্কটিশরা। শুরু থেকেই ছিল উইকেট আঁকড়ে রাখার চেষ্টা। ৪৮ রানের উদ্বোধনী জুটিও তাই হুমকি হতে পারেনি। মিরাজের বলে শান্তর দুর্দান্ত ক্যাচে ওই জুটি ভাঙার পর তারা উইকেট হারিয়েছে নিয়মিত বিরতিতেই। শেষ পর্যন্ত ধুঁকতে ধুঁকতে স্কটিশরা অলআউট হয় ১৪২ রানে। ৫০ করেছেন কেবল আজিম দার।আগের ম্যাচে দলকে দারুণ শুরু এনে দেওয়া পিনাক ঘোষ এবার ফিরে গেছেন কোনো রান না করেই। নিজের খেলা প্রথম বলেই বেঁচে গিয়েছিলেন জোরাল আবেদন থেকে। তাতে সতর্ক হননি এই বাঁহাতি ওপেনার। দুই বল পর মোহাম্মদ গাফফারের স্টাম্প সোজা আরেকটি ফুল লেংথ বলে ফ্লিক করতে গিয়ে হন এলবিডবি¬উ। সাইফ হাসান একপ্রান্তে উইকেটে ছিলেন থমকে দাঁড়িয়ে। বলের পর বল করে গেছেন ব¬ক। তিনে নেমে জয়রাজ শেখ অবশ্য শুরুটা ভালো করেছিলেন। দ্বিতীয় বলেই পয়েন্টের ওপর দিয়ে মেরেছেন চার। কিন্তু টেকেননি বেশিক্ষণ, মিডিয়াম পেসার গাফফারকেই ফ্লিক করতে গিয়ে টাইমিংয়ের গড়বড়ে ক্যাচ তুলে দেন পয়েন্টে। শুরু থেকেই শম্বুক গতিতে থাকা সাইফ আরও আটকে যান উইকেটে। আগের ম্যাচে ৩১ বলে করেছিলেন ৬। এদিন প্রথম বাউন্ডারি মারার আগে রান ছিল ৩৮ বলে চার! রানের গতির চেয়েও হতাশাজনক ছিল তার ব্যাটিংয়ের ধরন। নতুন বল হাতে নেওয়া রায়ান ব্রাউনের গড়পড়তা অফ স্পিনেও বলের পর বল শুধু ঠেকিয়ে গেছেন। টানা তিন ওভার মেডেন খেলেছেন ব্রাউনকে; তার বলে প্রথম রান নিয়েছেন ২৩ বল খেলে! একটি বলও সম্ভবত টার্ন করেনি ব্রাউনের; কিন্তু উইকেট থেকে বেরিয়ে বাঁ পায়ের কাজ দেখিয়ে সিঙ্গেল নেওয়ার চেষ্টাই করেননি সাইফ। হাফভলি, লেগ স্টাস্পে থাকা বলও খেলেছেন ফিল্ডারের হাতে। চারে নেমে শান্ত আরেকপ্রান্থে একটু করে করে বাড়িয়েছেন রানের গতি। তার ব্যাটিংয়ে ছিল না কোনো অস্বস্থি। তৃতীয় উইকেটে ১৫০ বলে ১০১ রানের জুটি গড়েন শান্ত ও সাইফ।
সাইফের ব্যাটিংয়ে একসময় তাকে ছাড়িয়ে যান শান্ত; টানা দ্বিতীয় অর্ধশতক তুলে নেন ৭১ বলে। অতি সতর্ক ব্যাটিংয়ের পরও অর্ধশত করতে পারেননি সাইফ। মিচেল রাওয়ের অফ স্পিনে বোল্ড হয়েছেন ১০৮ বলে ৪৯ রান করে; ডট খেলেছেন ৭২টি।
চতুর্থ উইকেট শান্ত ও মিরাজের জুটিতে সত্যিকার অর্থেই গতি পায় দলের ইনিংস। তবে হাতে ৭ উইকেট থাকার পরও শেষ ১০ ওভারে প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেননি দুজন। দুজনের ১০০ রানের জুটি এসেছে ৮৬ বলে। অর্ধশতকের পর গাফফারকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ হয়ে ফিরেছেন মিরাজ (৪৮ বলে ৫১)। পরের বলেই গাফফারকে মিড উইকেট দিয়ে উড়িয়ে শতক ছুঁয়ে ফেলেন শান্ত, ১১১ বলে। শেষ দিকে সাঈদ সরকারের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস দলের কাজে এসেছে দারুণ। ৬ বলে ১৬ রানের ইনিংসে বিশাল এক ছক্কায় স্কোরবোর্ডের ওপর দিয়ে বল পাঠান সাঈদ।শেষ ওভারে দুটি চার মেরে দলকে আড়াইশর ওপারে নিয়ে গেছেন শান্ত শেষ পর্যন্ত অপরাজিত তিনি ১১৭ বলে ১১৩ রানে।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net