শিরোনাম

 খেলা

বাংলাদেশে এক মাসের সফরে পাকিস্তান দল

image

প্রায় এক মাসের সফরে বাংলাদেশে এসেছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। এ সময় তিনটি ওয়ানডে, দুটি টেস্ট ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলবে তারা।
সোমবার বেলা সোয়া বারোটার দিকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে সরাসরি হোটেল সোনারগাঁওয়ে চলে যায় পাকিস্তান দল।
প্রথমেই হবে ওয়ানডে সিরিজ। তিন ম্যাচের সিরিজের সবকটি খেলাই হবে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। ১৭ এপ্রিল প্রথম ওয়ানডে, ১৯ এপ্রিল দ্বিতীয় আর ২২ এপ্রিল হবে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে। ওয়ানডে সিরিজে পাকিস্তান দলকে নেতৃত্ব দেবেন আজহার আলি।
২৪ এপ্রিল মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে হবে সফরের একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি। এই ম্যাচে পাকিস্তান দলকে নেতৃত্ব দেবেন শহিদ আফ্রিদি।
দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটি খুলনায় শুরু হবে ২৮ এপ্রিল। মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট শুরু হবে ৬ মে। টেস্ট সিরিজে পাকিস্তান খেলবে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বে।
সিরিজের প্রথম দুটি ওয়ানডের জন্য এরই মধ্যে বাংলাদেশ দল ঘোষণা করেছে বিসিবি।

বাংলাদেশ পাকিস্তান সিরিজের সময়সূচি

Bangladesh Pakistan

প্রথমবারের মতো পাকিস্তানি দলকে আতিথেয়তা দিতে যাচ্ছে বন্দর নগরী খুলনা।

বাংলাদেশ সফরে চট্টগ্রামে কোনো খেলা নেই পাকিস্তানের। বাংলাদেশ টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর এই প্রথম কোনো সিরিজ খেলতে এসে চট্টগ্রামে পা রাখছে না পাকিস্তান। উল্টো দিকে এই সিরিজের মাধ্যমে এই প্রথমবারের মতো পাকিস্তানি দলকে আতিথেয়তা দিতে যাচ্ছে আরেক বন্দর নগরী খুলনা। সিরিজের একটি টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে খুলনায়। এর পাশাপাশি একটি টেস্টসহ তিনটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের প্রত্যেকটিই অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে। একটি প্রস্তুতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ফতুল্লায়।

নিচে পাকিস্তানবাংলাদেশ সিরিজের বিস্তারিত সময়সূচি তুলে ধরা হল:

১৩ এপ্রিল: বাংলাদেশে পা রাখবে পাকিস্তান দল
১৫ এপ্রিল: প্রস্তুতি ম্যাচ (ফতুল্লা)
১৭ এপ্রিল: প্রথম ওয়ানডে (মিরপুর)
১৯ এপ্রিল: দ্বিতীয় ওয়ানডে (মিরপুর)
২২ এপ্রিল: তৃতীয় ওয়ানডে (মিরপুর)
২৪ এপ্রিল: একমাত্র টিটোয়েন্টি আন্তর্জাতিক (মিরপুর)
২৮ এপ্রিল মে: প্রথম টেস্ট (খুলনা)
মে১০ মে: দ্বিতীয় টেস্ট (মিরপুর)
সিরিজের প্রতিটি ওয়ানডে ম্যাচই দিন-রাতের। খেলাগুলো শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে। ২৪ এপ্রিল একমাত্র টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে।
এ ছাড়া টেস্ট সিরিজে প্রতিদিন খেলা শুরু হবে সকাল ১০টায়। সফরের একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচটি শুরুর সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট।

 

পাকিস্তান ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর:৩ ফরমেটেই সাঈদ আজমল

Pakistan-Cricket-Team

বাংলাদেশ সফরের জন্য পাকিস্ত্ন ক্রিকেট দল চূড়ান্ত করা হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ বোলিং একশনের কারণে নিষিদ্ধ সাঈদ আজমল নিজের বোলিং সংশোধন করে বিশ্বকাপের আগেই নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেলেও বিশ্বকাপের কোন প্রতিযোগিতায়ই অংশ নিতে পারেননি। বাংলাদেশ দলের সাথে ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া তিন ফরমেটের সবগুলেতেই সাঈদ আজমলকে রাখা হয়েছে। এছাড়া সব ফরম্যাটের দলে ফিরেছেন মোহাম্মদ হাফিজও। আর চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে যাওয়া জুনায়েদ খান টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলে ডাক পেয়েছেন।

বোলিং অ্যাকশনের বৈধতা না পাওয়ায় এখন পর্যন্ত শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবেই দলে থাকছেন হাফিজ। অবশ্য আগামী ৯ এপ্রিল ভারতের চেন্নাইয়ে পরীক্ষা দিতে যাবেন এই অফস্পিনার। ওই পরীক্ষায় পাস করলে বাংলাদেশ সফরে বল করতে কোনো সমস্যা থাকবে না এই অলরাউন্ডারের।

অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডে শেষ হওয়া বিশ্বকাপে খারাপ খেলায় সব ফরম্যাটের দল থেকে বাদ পড়েছেন উমর আকমল। আর উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান আহমেদ শেহজাদ শুধু টি-টোয়েন্টি দলে আছেন।

অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ইউনুস খানকে ওয়ানডে থেকে ‘বিশ্রাম’ দেয়া হয়েছে বলে শুক্রবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) জানায়। আর বিশ্বকাপের সময় চোট পাওয়া পেসার ইরফান খান কোনো দলেই নেই।

দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও একটি টি-টোয়েন্টি খেলতে আগামী ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশে আসবে পাকিস্তান দল।

বিশ্বকাপে ভালো করায় তিন ফরম্যাটেই জায়গা পেয়েছেন দুই পেসার ওয়াহাব রিয়াজ ও সোহেল খান।

পাকিস্তান টেস্ট দল: বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, সামি আসলাম, মিসবাহ-উল-হক (অধিনায়ক), আসাদ সফিক, আজহার আলি, ইউনুস খান, হারিস সোহেল, সাইদ আজমল, ইয়াসির শাহ, জুলফিকার বাবর, সরফরাজ আহমেদ, ওয়াহাব রিয়াজ, জুনায়েদ খান, সোহেল খান, রাহাত আলী।

পাকিস্তান ওয়ানডে দল: সরফরাজ আহমেদ, মোহাম্মদ হাফিজ, আসাদ সফিক, ফাওয়াদ আলম, আজহার আলী (অধিনায়ক), মোহাম্মদ রিজওয়ান, হারিস সোহেল, শোয়েব মাকসুদ, সামি আসলাম, সাইদ আজমল, ইয়াসির শাহ, ওয়াহাব রিয়াজ, রাহাত আলী, এহসান আদিল, সোহেল খান।

পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি দল: আহমেদ শেহজাদ, সরফরাজ আহমেদ, মোহাম্মদ হাফিজ, মুকতার আহমেদ, শোহেব মাকসুদ, হারিস সোহেল, মোহাম্মদ রিজওয়ান, সাইদ আজমল, শহিদ আফ্রিদি (অধিনায়ক), সোহেল তানভির, সাদ নাসিম, ওয়াহাব রিয়াজ, সোহেল খান, উমর গুল, জুনায়েদ খান।

বিসিবি সাহারা চুক্তি বাতিল: নতুন স্পন্সর চেয়ে বিসিবি’র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ

BCB

বাংলাদেশের জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের জার্সিতে আর ‘সাহারা’ লেখা থাকছে না। ক্রিকেট দলের ভারতীয় পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান সাহারা গ্রুপের সঙ্গে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চুক্তি বাতিল করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।

BCB Shahara

২০১২ সালের জুনে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সঙ্গে ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বিনিময়ে চার বছরের জন্য যুক্ত হয় সাহারা। চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে ১৫ মাস বাকি ছিল।

আসন্ন বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজে জাতীয় দলের পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের জন্য গত ৩০ মার্চ জাতীয় একটি দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় বিসিবি। সাহারার সঙ্গে চুক্তি শেষের বিষয়টি তখনই প্রকাশ্যে আসে।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সাহারাকে ‘না’ বলে দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত না জানালেও ইএসপিএন ক্রিকইনফোকে বলেন, “সাহারার সঙ্গে চুক্তি না চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা।”

“এ কারণে আমরা পাকিস্তান সিরিজের জন্য নতুন স্পন্সর চেয়ে বিজ্ঞাপন দিয়েছি।”

Sahara Group

সাহারা গ্রুপ ভারতে গত বছর থেকে আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত আছে । সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে গ্রুপের কর্ণধার সুব্রত রায়কে কারাগারেও যেতে হয়েছে।

আশরাফুলের ধরা পড়ার নেপথ্যে পন্ট

Asraful Pont

 

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ম্যাচ ফিক্সিং কেলেঙ্কারির সূত্রপাত ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। এই দিনটিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি কালো অধ্যায় হিসেবেও গণ্য করা যায়। আরও অনেকের মতো বিপিএল ফিক্সিংয়ের দায় চেপেছিল ইয়ান পন্টের কাঁধেও। ফিক্সিংয়ের দুর্নাম থাকায় চাকরি জোটেনি কোথাও। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) থেকেও এ ব্যাপারে কোনো সাড়া পাননি। কিন্তু এবার মুখ খুললেন পন্ট। ‘ক্রিকইনফো’র কাছে খুলে বললেন বিপিএল ফিক্সিংয়ের নেপথ্যের ঘটনা।

তবে এ ঘটনায় নিজেকে নির্দোষই দাবি করেছেন পন্ট। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ফিক্সিং নয়, বরং আইসিসির দুর্নীতি দমন বিভাগকে (আকসু) সহযোগিতাই করেছিলেন তিনি। চিটাগাং কিংসের বিপক্ষে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের ম্যাচের ফিক্সিং মূলত তিনিই ফাঁস করে দিয়েছিলেন। আর তাতে উঠে এসেছিল মোহাম্মদ আশরাফুলসহ আরও অনেকের নাম।

ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের সাবেক এই কোচ বললেন, ‘শুরুটা হয়েছিল ২০১৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি, ওই দিন জিসান চৌধুরীর (ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসের মালিক) সঙ্গে আরেকজন লোক আমার কক্ষে এসেছিলেন। ওই সময় আমরা ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জিতে বিপিএলের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে। জিসান আমাকে বলেছিলেন, আমরা চিটাগাং কিংসের বিপক্ষে ম্যাচটি ফিক্স করব। তিনি একটি কাগজও এনেছিলেন, যেখানে সব কিছু বিস্তারিত লেখা ছিল ম্যাচের কোন জায়গায় কী করতে হবে।’
পন্ট ঘাবড়েই গিয়েছিলেন সেদিন, “সঙ্গে সঙ্গে আমার উত্তর ছিল ‘আমি বাড়ি যাব’। আমার মাথা ঘুরছিল। তাঁরা নিয়মিত অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজার জায়গায় অধিনায়ক ঠিক করেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুলকে। তাঁরা জানত, মাশরাফি এই কাজের সঙ্গে আসবে না, কারণ এর আগেই মাশরাফি ম্যানেজমেন্টকে জানিয়ে দিয়েছিল, এমনকি বিষয়টি মিডিয়াতেও এসেছিল। তাঁরা দলে নতুন দুই বোলারকে আনার কথাও বলেছিলেন, যারা সাহায্য করবেন তাঁদের। সঙ্গে তাঁদের পরিকল্পনায় ছিল একজন নতুন ব্যাটসম্যান আনার। আমি জানতাম তাঁরা ওয়াইস শাহকে চাইবে। ড্যারেন স্টিভেনস এতে খুবই হতাশ হয়ে পড়েছিল, আমাকে ম্যাচের আগেই বলেছিল, ও এসব কিছুই করতে চায়নি। সেদিন আমি আমার স্ত্রীকে ফোন করে বললাম, বাড়ি চলে আসছি। এ নিয়ে দুজন আলাপ করি। সিদ্ধান্ত নিই, পরদিন সকালে বিষয়টি জানাব। তারপর টুর্নামেন্ট ছেড়ে চলে আসব। স্ত্রী আমার এ সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছিল।’
পরদিন সকালেই পন্ট বিষয়টি জানিয়েছিলেন আকসুর কর্তা পিটার ও’শিকে। সব কিছু শুনে আকসুর কর্তা তাঁকে বিমানবন্দর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু পরক্ষণেই আবার পন্টকে বললেন, পন্ট যদি সত্যিই সাহায্য করেন তাহলে ক্রিকেটকে ধ্বংস করার পেছনের লোকগুলোকে হাতেনাতে ধরতে পারবেন। পন্টও রাজি হয়ে থেকে যান বাংলাদেশে। এরপর আকসুর কর্তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী হোটেলে পন্টের রুমে লাগানো হয় কলম আকারের ভিডিও ডিভাইস, সঙ্গে অডিও ডিভাইস লাগানো হয় ড্রয়ারের মধ্যে। পন্ট বলেন, ‘শিহাব চৌধুরী সব কিছু খুলে বললেন, এমনকি কোন কোন খেলোয়াড় জড়িত আছে তাদের নামও বললেন। তিনি মনে করছিলেন পাঁচজন খেলোয়াড় সাহায্য করবে তাঁকে। তিনি এটাও জানিয়েছেন, চিটাগং কিংস ফিক্সিংয়ের ব্যাপারে কিছু জানে না। এর পর পিটার ও’শি এসে আমার রুম থেকে প্রমাণগুলো সংগ্রহ করেন।’
পন্ট এ পর্যায়ে উল্লেখ করেন বব উলমার প্রসঙ্গ। ২০০৭ সালে মারা যাওয়া সাবেক কোচ কী ধরনের বিপাকে পড়েছিলেন, সে প্রসঙ্গে বলেন, ‘উলমারের কথা চিন্তা করি। তিনি জানতেন জ্যামাইকাতে সেদিন কী ঘটেছিল? ’ এ কারণে বেশ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন পন্ট, ‘…হ্যাঁ, আমি ভয় পেয়েছিলাম। তবে শেষমেশ পিটারের সঙ্গে কথা বললাম। ক্রিকেটকে বাঁচাতে বাংলাদেশে অবস্থান করে আরও কিছু দেখতে থেকে যাওয়ার পরিকল্পনা করি।’
কীভাবে ফাঁদে পড়েছিলেন, পন্ট তাও বললেন, ‘ফিক্সিংয়ে জড়ানোর জন্য আমাকে টাকার প্রস্তাব করা হয়েছিল। জিসান আমাকে ছয় হাজার মার্কিন ডলার দিতে চেয়েছিলেন। তবে আমি এটা চাইনি। তাঁকে কেবল বলেছিলাম, আমার বেতন চাই। তাঁকে বলেছিলাম, চুক্তির দ্বিতীয় কিস্তি দিতে। ১০ হাজার মার্কিন ডলার বাকি ছিল। সেটা পেলেই খুশি হতাম। তিনি বললেন, এ নিয়ে ভাববেন না। কদিনের মধ্যেই পেয়ে যাবেন। এরপর অডিও প্রমাণ ট্রাইব্যুনালে জমা দিলাম। এটা পরিষ্কার, টুর্নামেন্ট শুরু আগে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আমি কেবল আমার বেতনই চেয়েছিলাম।’
পন্ট এও জানালেন, সে ম্যাচে দলের বাইরে রাখায় মাশরাফি বেজায় চটেছিলেন। সে প্রসঙ্গে বললেন, ‘আমাকে একটা প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, হাঁটুর চোটের কারণে মাশরাফি খেলবে না। সেটি অমূলকও নয়। কারণ, মাশরাফি বহুদিন হাঁটুর চোটে ভুগছিল। তবে যখন আমি তাঁকে বিষয়টি বললাম, তখনই ভীষণ চটে গেল। রেগেমেগে সামনে থাকা পানির বোতলে লাথি মারল। আমার ধারণা, সে বুঝতে পেরেছিল কী হতে যাচ্ছে।’
কিন্তু পন্ট ছয় হাজার ডলার পেয়েছিলেন। সে ব্যাপারে তাঁর দাবি, ‘দুদিন পর দলের খেলোয়াড় ও কোচদের খাম ভরে টাকা দেওয়া হলো। সেটা অপ্রত্যাশিতও ছিল না। তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল আমাকে ১০ হাজার ডলার বেতন দেবে। কিন্তু খাম খুলে দেখি ৬ হাজার ডলার। আমি বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লাম। কারণ, এটা তো সেই পরিমাণ অর্থ, যেটা আমাকে বলা হয়েছিল ফিক্সিংয়ের জন্য। সঙ্গে সঙ্গে পিটারকে জানালাম। তিনি বললেন, রেখে দেন। ওটা আপনার বেতনের টাকা। তাদের কাছে এখনো আপনার ৪ হাজার ডলার পাওনা। কিন্তু তারা বাকি ৪ হাজার ডলার আর দেয়নি।’ তথ্যসূত্র: ক্রিকইনফো।

ইউনুসের আফসোস

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সুযোগ পাবেন, হলপ করে বলা যাচ্ছে না। পেলে সেটার দৈর্ঘ্যও কতটা হবে বলা কঠিন। আর তাই হয়তো দুর্দান্ত একটা সুযোগই হাতছাড়া করলেন ইউনুস খান। আগের তিন টেস্টেই সেঞ্চুরি করেছিলেন। আজ মনে হচ্ছিল, ফর্মের টাট্টু ঘোড়ায় সওয়ার পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান টানা চতুর্থ টেস্টে পঞ্চম সেঞ্চুরিটা তুলে নেবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফিরলেন ৭২ রান করে।
ইউনুসের মতো সেঞ্চুরি হাতছাড়ার দুঃখে পুড়েছেন আজহার আলীও। তিনিও সত্তরের ঘরে (৭৫) গিয়ে আউট হয়েছেন। ৪৪ রান করে ফিরেছেন আসাদ শফিক। দুবাই টেস্টের লাগাম এখনো নিউজিল্যান্ডের হাতে। পাকিস্তান তৃতীয় দিন শেষ করেছে ৬ উইকেটে ২৮১ রান নিয়ে। নিউজিল্যান্ড ১২২ রানে এগিয়ে। তিন দিনেও দুই দলের একটা করে ইনিংসও শেষ না হওয়াতে ঈশাণ কোণে ড্রটাই উঁকি দিচ্ছে। তবে আগামীকাল প্রথম সেশনে কী হয়, সেটির ওপর নির্ভর করছে সবকিছু।
ইউনুসের জন্য এটাই একটা শাখের করাত। দলীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তিনি অবশ্যই চাইবেন দল যেন লাঞ্চ তো বটেই, পরের সেশনটাতেও ব্যাটিং টেনে নিয়ে যায়। তাহলে ড্র অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে। যদিও তাতে তাঁর সেঞ্চুরি করার মতো সময় মেলার সম্ভাবনা কমে যাবে। বরং কাল সাতসকালে পাকিস্তান অলআউট হয়ে গেলে এই ম্যাচে ফল দেখার সম্ভাবনা জাগবে। আর ইউনুসও হয়তো আরেকবার সুযোগ পাবেন ব্যাট করার। সুযোগ পাবেন টানা চতুর্থ টেস্টে সেঞ্চুরি করার।
টানা পাঁচ টেস্টে সেঞ্চুরি আছে পাকিস্তানের মোহাম্মদ ইউসুফের, যেখানে ইউসুফের সঙ্গী জ্যাক ক্যালিস আর গৌতম গম্ভীর। আর টানা ছয় টেস্টে সেঞ্চুরি করে বিশ্ব রেকর্ডটা এখনো নিজের দখলে রেখেছেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। চতুর্থ সেঞ্চুরি সেই পথে আরেকটু এগিয়ে দেবে ইউনুসকে। আর যদি তা না হয়, আজকের ২৮ রানের শূন্যতা ভীষণ পোড়াবে তাঁকে, ভীষণ!

সেই কোহলিকেই টেস্ট–নেতৃত্বে চান আজহার

aqসংবাদ ডেস্ক:  সিং ধোনিকে টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে যেন সহ্যই করতে পারছেন না মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন। ভারতের সাবেক এই অধিনায়ক মনে করেন, টেস্ট ক্রিকেটে ভারতের সাম্প্রতিক ব্যর্থতায় দলের অধিনায়কত্বে পরিবর্তন আসাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। আজহারউদ্দিন এ ক্ষেত্রে ধোনির উত্তরসূরিও বাতলে দিয়েছেন। তাঁর মতে, বিরাট কোহলিই যোগ্যতায় সবচেয়ে এগিয়ে।
ধোনির ব্যাপারে আজহারের রয়েছে এন্তার অভিযোগ, ‘দেখুন, কোনো অধিনায়কেরই উচিত নয় পারফরম্যান্স না দেখিয়ে টিকে থাকা । পারফরম্যান্স না থাকলে একটা সময় ব্যর্থ অধিনায়ক নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেই। টেস্টে ধোনির যে পারফরম্যান্স তাতে বিসিসিআইয়ের উচিত খুব তাড়াতাড়ি একটা সিদ্ধান্তে আসা। হয় এসপার না হয় ওসপার। মাঝামাঝি ঝুলে থাকার কোনো মানেই হয় না। নতুন একটা অধিনায়ককে দায়িত্ব দিয়ে দেখা যেতেই পারে। পারফরম্যান্স তো ভালো হতেও পারে।’
নতুন অধিনায়ক হিসেবে কোহলিকে দারুণ পছন্দ আজহারের, ‘কোহলিকে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। সে এই মুহূর্তে ভারতের সেরা খেলোয়াড়। ইংল্যান্ডেও ভালো করেছে। সত্যি কথা বলতে কি, অধিনায়কত্বের ব্যাপারে দায়িত্ব না দেওয়া পর্যন্ত আপনি কোনো কিছুই ধারণা করতে পারবেন না। তবে কোহলি অধিনায়ক হিসেবে ভালো করবে বলেই বিশ্বাস।’
কোহলি এ মুহূর্তে ভারতের সবচেয়ে ভালো ব্যাটসম্যান—এ নিয়ে আজহারের সঙ্গে দ্বিমত করার সুযোগ নেই। কিন্তু ইংল্যান্ডে কোহলি ভালো খেলেছেন! শুধু ইংল্যান্ড সফরে কেন, টেস্টের সর্বশেষ ১০ ইনিংসেই কোনো ফিফটি নেই কোহলির। শুধু তা-ই নয়, ওয়ানডেতে দারুণ সফল কোহলি টেস্টের কঠিন পরীক্ষায় ঠিক সেই মাপের ব্যাটসম্যান নন বলেই মনে করেন অনেকে। অথচ সেই কোহলিকেই টেস্টে অধিনায়ক হিসেবে চাইছেন আজহার।
ভারতের এক সময়ের সফল অধিনায়ক অবশ্য মনে করেন, ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই ভিন্ন অধিনায়ক থাকা উচিত, ‘কোনো একজন অধিনায়কের পক্ষে তিন ফরম্যাটেই কাজ করে যাওয়া সম্ভব নয়। এটা বাড়াবাড়ি হয়ে যায়। আমার মনে হয় ভারতীয় বোর্ডও তিন ফরম্যাটে তিনজন ভিন্ন অধিনায়কের কথা ভাবতে পারে। অনেক দেশই তো এটা করছে।’

সিরিজ জিতল বাংলাদেশ ‘এ’

জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলকে দুই ম্যাচের ‘বেসরকারি টেস্টে’ অনায়াসে ধবলধোলাই করেছিল বাংলাদেশ ‘এ’ । তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সফরকারীদের ‘ধবলধোলাই’ না করা গেলেও শেষ হাসিটা হাসল বাংলাদেশ ‘এ’ই। ফতুল্লায় শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলকে ৩১ রানে হারিয়েছে মার্শাল আইয়ুবের দল।

২৪০ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দল শুরুতেই টালমাটাল। ৬৮ রানেই ফিরে যান চার টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। এরপর ভুসিমুজি সিবান্দা ও ম্যালকম ওয়ালার কিছুটা চেষ্টা চালান। কিন্তু স্বাগতিক দলের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে সে চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। মুমিনুল হকের বলে ফেরার আগে ওয়ালারের সংগ্রহ সর্বোচ্চ ৫২। সিবান্দা ৩৭ রান করে ফিরেছেন জুবায়ের হোসেনের বলে।

জিম্বাবুয়ের আট উইকেট পড়ে যাওয়ার পর ছোট্ট একটা চমক অপেক্ষা করছিল বাংলাদেশ ‘এ’ দলের জন্য। লুক জঙ্গে ও তাফাদজাওয়া কামুঙ্গোজির অবিচ্ছিন্ন নবম উইকেট জুটিতে আসে ৩৮ বলে ৪৪। এ যেন নিভে যাওয়ার আগে দপ করে জ্বলে ওঠা! শেষমেশ জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের সংগ্রহ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২০৮। বাংলাদেশ ‘এ’ দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন ইলিয়াস সানি ও মুমিনুল হক।

এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ভালো সংগ্রহ এনে দেন অধিনায়ক মার্শাল ও লিটন দাস। প্রথম দুটো ম্যাচে ব্যর্থতার পর আজ হেসেছে মার্শালের ব্যাট। ৭৮ বলে ৫৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ এক ইনিংস খেলেছেন তিনি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ইনিংস শেষ হয়েছে ২৩৯ রানে। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ম্যাচ-সেরা মার্শাল।

উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান লিটন দাসের সংগ্রহ ৪৬। এ ছাড়া মোসাদ্দেক হোসেন ২৫, সৌম্য সরকার ২২ ও ফরহাদ রেজা করেন ৩২ রান। মুমিনুল আজও ছিলেন ব্যর্থ। ব্যর্থতার তালিকায় আজ নাম লিখিয়েছেন নাঈম ইসলাম। এই দুজনের ব্যাট থেকে এসেছে যথাক্রমে ৬ ও ৯ রান। জিম্বাবুয়ের বোলারদের মধ্যে দারুণ বল করেছেন মুজারাবানি। ৩৩ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া কামুনগোজি ৩৫ রানে নিয়েছেন দুটো, একটি করে উইকেট নিয়েছেন জোংউই ও ওয়ালার।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net