শিরোনাম

Monthly Archives: ডিসেম্বর ২০১৪

রাজাকারদের ভাষায় কথা বলছেন তারেক রহমান

লন্ডন আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়া

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তৎকালীন পাকিস্তানি শোষকদের সুরে কথা বলছেন বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের নেতারা। তারেক রহমান কর্তৃক ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টার প্রতিবাদের আজ শুক্রবার পূর্ব লন্ডনের একটি হলে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়।

গত সোমবার পূর্ব লন্ডনে যুক্তরাজ্য বিএনপির বিজয় দিবসের আলোচনায় তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজাকার, খুনি ও পাকবন্ধু’ বলে মন্তব্য করেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘রাজাকার’ বলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। পাকিস্তানি শোষক ও তাদের দোসররা বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশে যে ভাষায় কথা বলতো তারেক রহমানও আজ একই সুরে কথা বলছেন। যা প্রমাণ করে তারেক রহমান পাকিস্তানের স্বার্থে কথা বলছেন এবং স্বাধীনতা বিরোধীদের পক্ষেই তার অবস্থান। তারেক রহমানকে দেশ ও জাতির শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করেন তারা।

বঙ্গবন্ধুকে ‘রাজাকার’ বললেন তারেক
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম না হলে জিয়াউর রহমান সামান্য বেতনের সেনা অফিসার হিসেবেই বিদায় নিতেন। তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া দূরে থাক রাজনৈতিক নেত্রী হওয়ারও সুযোগ পেতেন না। তারেকের বক্তব্য সকল শিষ্ঠাচারকে অতিক্রম করেছে। তাঁরা তারেক রহমানকে জাতির কাছেÿক্ষমা চেয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার করার আহ্বান জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হরমুজ আলী বলেন, তারেক রহমানকে আগে স্বীকার করতে হবে বাংলাদেশে কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল কি-না? যদি হয়ে থাকে তাহলে তখন কোন সরকার ক্ষমতায় ছিল। তাঁর বাবা জিয়াউর রহমান কার নেতৃত্বে যুদ্ধ করলেন, কোন সরকারের কাছ থেকে জিয়া বেতন পেতেন এবং মুজিবনগর সরকারকে স্বীকার করেন কি-না। এসব বিষয় সম্পর্কে তাঁকে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে হবে। তাঁরপর সে বুদ্ধিভিত্তিক জবাব আশা করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন লন্ডন সফররত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাংসদ খালেদ মাহমুদ চৌধুরী এবং যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নঈম উদ্দিন রিয়াজের পরিচালনায় সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।

জাতীর পিতাকে রাজাকার বলল তারেক রহমান

1848সৈয়দ সামি, ১৬ ডিসেম্বর ২০১৪ লন্ডন: বাংলাদেশের মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, শেখ মুজিব নিজেও বিশ্বাস করেননি, আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি । মুক্তিযুদ্ধের জন্য আওয়ামীলীগকে প্রস্তুত করা হয়নাই। আওয়ামীলীগকে প্রস্তুত না করেই শেখ মুজিব বাংলাদেশের হাজার হাজার লাখ লাখ নারী পুরুষকে হত্যার জন্য মূলত শেখ মুজিবই দায়ী। আর যে হত্যা করে তাকে কি বলা হয় ? সভায় তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে মারেন। আবার নিজেই জবাব দেন- হত্যার জন্য শেখ মুজিব বাংলাদেশের অন্যতম রাজাকার বলা যায়।

তারেক রহমান ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নিউক্লিয়াসের জনক সিরাজুল আলম খানের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, সিরাজুল আলম খান বলেছেন আওয়ামীলীগ হলো এন্টি লিবারেশন ফোর্স। তিনি এর সোজা বাংলা করে বলেন আওয়ামীলীগ মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের দল। এ সময় মহীউদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক বইয়ের বিভিন্ন রেফারেন্স এবং সিরাজুল আলম খানের সাথে লেখক মহিউদ্দিনের কথোপকথনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

তারেক রহমান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন ঘটনা এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন লেখকের বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, শেখ মুজিবকে আবারো পাক বন্ধু হিসেবে তিনির মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতে তার পিতা মরহুম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে আবারো বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং স্বাধীনতার ঘোষক উল্লেখ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় আমি মেজর জিয়া বলছি— ঐ একটি শব্দই ছিলো তখন মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এক দুর্দমনীয় শক্তি, তাদের আত্মার কথা।

তারেক রহমান আওয়ামীলীগের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ১৯৭১ সালে বাঙালিরা যেভাবে জেগে উঠেছিলো, এই অবৈধ সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আবারো বাঙালিরা জেগে উঠবে, সেদিন আর বেশী দূরে নয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি শায়েস্তা চৌধুরী কুদ্দুস। সেক্রেটারি কয়সর এম আহমদের পরিচালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মীর নাসির উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী, চেয়ারপার্সনের পররাষ্ট্র-বিষয়ক উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মুশফিক ফজল আনসারী, বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এম এ সালাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এম এ মালেক, আব্দুল হামিদ, আবুল কালাম আজাদ, তৈমুস আলী, যুক্তরাজ্য বিএনপির প্রচার সম্পাদক এম এ কাঈয়ূম, মিডল্যান্ডস বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার আব্দুল মজিদ তাহের প্রমুখ।

মাটি খুঁড়ে ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার

রাজধানীর খিলক্ষেত থানার পিংক সিটি এলাকা থেকে আজ বুধবার রাতে সাইফুল কবির (৩৫) নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আবদুল ওয়াদুদ নামের এক ব্যক্তির মোটর গাড়ির গ্যারেজের মাটির নিচ থেকে রাত ১০টার দিকে সাইফুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওয়াদুদ ও তাঁর সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, পুলিশের কাছে গোপন খবর আসে পিংক সিটি এলাকার আবদুল ওয়াদুদ তাঁর মোটর গাড়ির গ্যারেজে ব্যবসায়ী সাইফুলকে হত্যা করে লাশ মেঝেতে পুঁতে রেখেছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওয়াদুদ ও তাঁর সহযোগী কামাল হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁরা সাইফুলকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে ওই গ্যারেজের মেঝে খুঁড়ে সাইফুলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে ওয়াদুদ ও তাঁর সহযোগী কামাল জানান, সাইফুল জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসায় জড়িত। সাইফুলের কাছে তাঁদের টাকা পাওনা ছিল। এ টাকা না দেওয়ায় তাঁরা সাত দিন আগে সাইফুলকে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে লাশ গ্যারেজের মাটির নিচে পুতে রাখেন। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ওয়াদুদ ও কামালকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে সাইফুলের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি।

লন্ডনে জিসিএমের বার্ষিক সভা ঘেরাও, প্রশ্নবাণে জর্জরিত

সৈয়দ সামি, ১০ ডিসেম্বর ২০১৪: গ্লোবাল কোল ম্যানেজমেন্টের (জিসিএম) বার্ষিক সাধারণ সভা ঘেরাও হয়েছে ৯ ডিসেম্বর ২০১৪। ব্রিটেনের প্রচণ্ড শীতের সকালে ৩ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা উপেক্ষা করে সকাল ১০.৩০ মিনিটে অভিজাত এলাকা হাইড পার্ক কর্নারের পাশে ৪ হ্যামিল প্যালেসের সামনে ফুলবাড়ী উন্মুক্ত কয়লা উত্তোলন প্রকল্পের প্রতিবাদে জড়ো হয় দৃঢ়প্রত্যয়ী বিপুলসংখ্যক প্রতিবাদকারী। শ্লোগানে শ্লোগানে জিসিএমের বিরুদ্ধে গগণবিদারী আওয়াজ তোলে বিক্ষোভকারীরা। বাংলাদেশের তেল গ্যাস খনিজসম্পদ রক্ষা কমিটি, যুক্তরাজ্য শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিবাদে অংশ নেয় ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট মুভমেন্ট, লন্ডন মাইনিং নেটওয়ার্ক, স্যোস্যলিস্ট পার্টি অব ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস, ফুলবাড়ি সলিডারিটি গ্রুপ, ইলিং ট্রেড ইউনিয়িনস্ট এন্ড সোস্যালিস্ট কোয়ালিশন, অকুপাই লন্ডন, ফয়েল ভেডান্টা, ইউরোপিয়ান একশন গ্রুপ অন ক্লাইমেট চেইঞ্জ ইন বাংলাদেশ, স্বাধীনতা ট্রাস্ট্রসহ বিভিন্ন সংগঠন। সভার বাইরে শ্লোগান, বক্তব্য আর ড্রাম পিটিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন প্রতিবাদকারীরা। বাইরের প্রতিবাদ সভার আওয়াজ সভার ভেতরের ফুলবাড়ী প্রকল্পে বিনিয়োগকারীদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করাতে সক্ষম হন প্রতিবাদকারীরা। প্রায় ৩ ঘন্টা ভবনের মুল ফটক ঘেরাও করে রাখে প্রতিবাদ সমাবেশ। মুল ফটকে কয়লা ফেলে ডার্টি কোল মাইনারদের নোরা চেহারাটা তুলে ধরেন প্রতিবাদকারীরা। এক পর্যায়ে গ্যারি লাইয়ের গাড়ী পেয়ে ঘেরাও করে রাখেন তারা। জিসিএমের কর্মকর্তা ও বিনিয়োগকারী সভা শেষে বের হতে ইতস্তত বোধ করে দেরীতে বের হয়েও বিক্ষোভের মুখে পড়েন।

প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, জিসিএমের বাংলাদেশে কোন ভবিষ্যৎ নেই, গণপ্রতিরোধের মুখে তারা আর কখনই ফুলবাড়ীতে প্রবেশ করতে পারবে না। অতিসম্প্রতি জিসিএমের গ্যারি লাই সস্ত্রীক ফুলবাড়ী গিয়ে পুলিশ প্রহরায় পালিয়ে রক্ষা পান। তারা জিসেএমকে পুনরায় ফুলবাড়ীতে প্রবেশ করার বিষয়ে হুশিয়ার করে দেন। তারা বলেন, জিসিএমকে ফুলবাড়ীতে মানব বসতি, প্রকৃতি ও পরিবেশ বিধ্বংসী উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করতে দেয়া হবে না। তারা আরো বলেন, ফুলবাড়ীতে উর্বরতম ১৪,৬৬৬ একর কৃষি জমি স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে, ২ লক্ষ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে, ৩৫ বছরব্যাপী অবিরাম পানি উত্তোলনের মাধ্যমে ঐ অঞ্চলের পানির স্তর ২০-২৫ মিটার নামিয়ে ফেলে, ২২০,০০০ মানুষের পানির উৎস ধ্বংস করে বাংলাদেশের জন্য মাত্র ৬ শতাংশ উৎপাদন অংশীদারিত্বে উন্মুক্ত পদ্ধতির কয়লা উত্তোলন বাংলাদেশের জন্য কোন সুফল বয়ে আনবে না। বক্তারা জিসিএমকে একটি প্রতারক কোম্পানি হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, জিসিএম বংলাদেশ সরকারের সাথে কোন চুক্তি বা আইনগত ভিত্তি ছাড়াই ফুলবাড়ীর কয়লা খনি দেখিয়ে লন্ডন শেয়ার বাজার থেকে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। বক্তারা ব্রিটিশ সরকারকে প্রতারক কোম্পানি জিসিএমকে লন্ডন শেয়ার মার্কেটে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলেন।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, তেল গ্যাস রক্ষা কমিটির যুক্তরাজ্য শাখার আহবায়ক ও সদস্য সচিব ডা. মোখলিছুর রহমান ও ড. আখতার সোবহান মাসরুর। ওয়ার্কার্স পার্টির ইসহাক কাজল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মোস্তফা ফারুক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সৈয়দ এনাম, আবিদ আলী, শাহরিয়ার বিন আলী, লেখক ওয়ালি রহমান, ফুলবাড়ী সলিডারিটি গ্রুপের ড. রুমান হাশেম। আরো বক্তব্য রাখেন, শাহ এনাম, এম এ জামান, গোলাম আকবর মুক্তা, নুরুল ইসলাম, গোলাম রাব্বানী, মেহজাবীন, সোস্যালিস্ট পার্টির পিটার মেসন, ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট মুভমেন্টের এফি জর্ডন, ইলিং ট্রেড ইউনিয়িনস্ট এন্ড সোস্যালিস্ট কোয়ালিশনের ক্রিস, ইউরোপিয়ান একশন গ্রুপ অন ক্লাইমেট চেইঞ্জের আনছার আহমেদ উল্লাহ, স্বাধীনতা ট্রাস্ট্রের জুলি বেগম প্রমুখ।

অপরদিকে, সাধারণ সভায় প্রক্সি হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের একাংশ প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে তোলেন জিসিএমের সিইও মাইকেল ট্যাং ও ফুলবাড়ীতে কয়েকদিন আগে প্রতিরোধের মুখে পড়া বাংলাদেশে নির্বাহী প্রধান গ্যারি লাইকে। সাধারণ সভার শুরুতেই কোন আলোচনা না করে প্রস্তাব পাশ করিয়ে নিতে চাইলে লন্ডন মাইনিং নেটওয়ার্কের রিচার্ড সলি তাতে বাধা দিয়ে আলোচনার দাবি করেন। এর পর জাহানারা রহমান গ্যারি লাইয়ের কাছে জানতে চান, তিনি কেন প্রতিরোধকারীদের সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত করেছেন? জবাবে, গ্যরি প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলে জাহানারা রহমান স্বাক্ষ্য হিসেবে পত্রিকায় ছাপা বক্তব্য তুলে ধরলে গ্যা রি চুপ মেরে যান। গোলাম মোস্তফা জানতে চান, ফুলবাড়ী প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের সাথে জিসিএমের কোন চুক্তি আছে কি? কোন আইনগত ভিত্তিতে জিসিএম বাংলাদেশে কাজ করছে? জিসিএম এর কোন উত্তর দিতে পারে নি। দশ বছর কেটে গেলেও প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় তিনি প্রকল্পের কোন ভবিষ্যৎ নেই বলে সভায় অংশগ্রহণকারীদের জানান। জিসিএমের বাংলাদেশ কাজ করার কোন আইনগত ভিত্তি নেই- বাংলাদেশের জ্বালানি সচিবের এ বক্তব্য সম্পর্কে জানতে চাইলে গ্যারি বলেন, জ্বালানি সচিব এ বিষয়ে অবগত নন।
বড়পুকুরিয়ায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন করা সম্ভব নয় বলে সাম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে, সেখানে ফুলবাড়ীর মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কি করে উন্মুক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করা সম্ভব? মতিন সরকারের এ প্রশ্নের কোন সদুত্তর না দিয়ে গ্যারি বলেন, বাংলাদেশের চাহিদা মেটানোর জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতি দরকার।
এ পর্যায়ে আবারে গ্যারি লাইকে জাহানারা রহমান প্রশ্ন করেন, আপনি ফুলবাড়ীতে স্ত্রীকে নিয়ে গিয়ে প্রতিরোধের মুখে পুলিশ প্রহরায় এলাকা ছেড়েছেন, তাকে একটা ব্রিবতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছেন। আপনার স্ত্রীর জন্যে আমার দুঃখ হয়।
ওয়াল্ড ডেভেলপমেন্ট মুভমেন্টের ক্রিস্টি রাইট ওইসিডি প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন, জিসিএম ওইসিডি নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে।
ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট মুভমেন্টের স্যাম ব্রাউন বলেন, ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘ স্পেশাল রিপোর্টিয়ার্সগণ এক বিবৃতিতে লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন, পরিবেশ ও প্রকৃতি ধ্বংসর অভিযোগ তুলে অবিলম্বে ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প বাতিলের জোর সুপারিশ করেন। অথচ এ বিষয়ে জিসিএমের কোন সদুত্তর নেই।একজন লন্ডনার হিসেবে অপতৎপরতায় লিপ্ত থাকার দায়ে জিসিএমকে লন্ডন শহর থেকে চলে যেতে বলেন তিনি। স্যাম ব্রাউন জিসিএম ও সাধারণ সভাকে অবৈধ বলে মন্তব্য করলে উত্তেজনার মধ্য দিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবেই সাধারণ সভা ভেঙ্গে যায়, বিফল মনোরথে ফিরে যান বিনিয়োগকারীরা।
সাধারণ সভার পুরো সময়টাই মাইকেল ট্যাং ও গ্যারি লাই প্রশ্নবাণে জর্জরিত হন, তর্কবিতর্ক আর উত্তর দিতে দিতেই অধিকাংশ সময় কেটে যায় তাদের। সভায় জিসিএম কর্মকর্তারা ফুলবাড়ী প্রকল্পের কাজ পেতে বাংলাদেশ সরকারের কাছে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখেবেন বলে জানান।
লন্ডন মাইনিং নেটওয়ার্কের রিচার্ড সলি সাধারণ সভা নিয়ে তার প্রতিবেদনে বলেছেন, আরো কোন জিসিএমের সাধারণ সভায় আমাদের যেন আসতে না হয়, আগামী বছর ডিসেম্বরে জিসিএম ও ফুলবাড়ী কয়লা প্রকল্প যেন একটা খারাপ স্মৃতি হয়ে বিদায় নেয়।

সাত খুনের অভিেযাগপত্র দিতে বললেন আদালত

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনায় আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত করছেন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মণ্ডল।

এ ঘটনায় র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তার ২৪ জনকে পৃথক দুটি হত্যা মামলায় নিয়মিত হাজিরার অংশ হিসেবে আজ সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় খুনের ঘটনার সাত মাস পেরিয়ে গেলেও মামলার অভিযোগপত্র না দেওয়ার বিষয়টি আদালতে তোলা হলে নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম এইচ এম শফিকুল ইসলাম এ নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা আদালতে বলেছি, সাতজনকে অপহরণের পর খুনের ঘটনার সাত মাস অতিবাহিত হলেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এখনো আদালতে অভিযোগপত্র দেয়নি। আমরা আদালতে এই বিষয়ে আবেদন জানালে শুনানি শেষে আদালত আগামী ২২ জানুয়ারি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।’

সাখাওয়াত হোসেন অভিযোগ করেন, মামলার আসামিদের মধ্যে র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তা ও তাঁদের ঘনিষ্ঠ কয়েক সহযোগীকে হাতকড়া পরানো ছাড়াই পুলিশ আদালতে হাজির করেছে। অন্য আসামিদের হাতকড়া পরানো ছিল। এ ব্যাপারে তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে নির্দেশনা প্রার্থনা করেন। আদালত আগামী ২২ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন এ বিষয়ে নির্দেশনা দেবেন বলে তিনি জানান।

গত ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম ও আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহৃত হন। ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ফতুল্লা মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে আইনজীবী চন্দন সরকারের মেয়ে জামাই বিজয় কুমার পাল একই থানায় আলাদা একটি হত্যা মামলা করেন।

সাত খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১ জন র‌্যাব সদস্যসহ ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১০ জন র‌্যাব সদস্যসহ ১৩ জন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আর নয়জন র‌্যাব সদস্যসহ মোট ১৪ জন আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net