শিরোনাম

Monthly Archives: মে ২০১৫

মালিয়া ওবামাকে বিয়ে করতে গাধা-গরু-ছাগল উপঢৌকন!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার মেয়ে মালিয়া ওবামাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে কেনিয়ার জনৈক আইনজীবী ফেলিক্স কিপ্রোনো। আর বিয়ের জন্য উপঢৌকন হিসেবে তিনি ৫০টি গাভী, ৭০ গাধা এবং ৩০ টি ছাগল দিবেন বলে জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে এক খবরে জানিয়েছে ইয়াহু নিউজ।
নাইরোবির এক নিউজপেপারকে ফেলিক্স বলেন, বারাক ২০০৮ সালে প্রথম যখন প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে শামিল হয় তখন থেকেই মালিয়ার প্রতি তার দৃষ্টি ছিল। মালিয়াকে ভালোবাসার ফলে আর কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়াননি এই আইনজীবী। এমনটাই দাবি তার। এর জন্য তিনি তার পরিবারের লোকজনের সঙ্গে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তারা তার এই প্রস্তাবে রাজি এবং প্রয়োজনে মূল্য আরো বাড়িয়ে দিতেও প্রস্তুত আছেন বলে মন্তব্য ফেলিক্সের।
ফেলিক্স আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বারাক যখন রাষ্ট্রীয় সফরে কেনিয়াতে আসবে তখন মালিয়াকে সঙ্গে করে নিয়ে আসবে এবং তার প্রস্তাব গ্রহণ করবে।
ওবামার বাবার জন্ম এই কেনিয়াতেই এবং তার দাদী এখনও পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটিতেই বসবাস করেন।
কিপ্রোনো আরো বলেন,”আমি ওবামাকে চিঠি লিখছি যেন তিনি আসার সময় মালিয়াকে সঙ্গী হিসেবে আনেন। আমি আশা করছি দূতাবাস পত্রটি ওবামার কাছে পৌছানোর ব্যবস্থা করবে।”
তরুণ এই আইনজীবী শপথ করেন যে তিনি মালিয়াকে খুশি রাখবেন এবং টাকা পয়সার জন্য তিনি মালিয়াকে ভালবাসেন না। তিনি বলেন,”আমার ভালবাসা সত্য এবং নিষ্কলুষ।”

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের ছেলের মৃত্যু

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে বাউ বাইডেন ক্যান্সারে ভুগে মারা গেছেন। হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে শনিবার এ কথা জানানো হয়েছে।
এএফপির খবরে জানা যায়, ওই বিবৃতিতে জো বাইডেন বলেন, তিনি অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছেন যে দীর্ঘদিন ব্রেন ক্যান্সারে ভুগে তার ছেলে বাউ মারা গেছেন। ছেলের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাইডেন পরিবারে। বিবৃতিতে বলা হয়, বাউ অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। এ সময় তাকে সাহস দিয়েছেন তার স্ত্রী হ্যালি ও দুই সন্তান ন্যাটালি ও হান্টার।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আলাদা এক বিবৃতিতে জো বাইডেনের পরিবারকে সান্ত্বনা জানিয়েছেন। শোকবার্তায় ওবামা বলেন, স্ত্রী মিশেল ও তিনি এ ঘটনায় মর্মাহত।
বাউ বাবার মতোই আইন বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।

মেয়েরা জিন্স পরছে, তাই ভূমিকম্প হচ্ছে!

ভূমিকম্পের আসল কারণ যাই হোক না কেন সে বিষয়ে এর আগে অনেকেই ‘বিচিত্র’ মতামত দিয়েছেন। কেউ বলেছেন গরু খাওয়ার ফলেই নাকি কাঁপছে মাটি, কেউ বলেছিলেন নির্দিষ্ট ধর্মের ছাতার তলায় না গেলে এভাবেই ‘ঈশ্বরের’ রোষাণলে পড়তে হবে। এবার নয়া এক ‘আজগুবি’ তত্ত্বের হদিস পাওয়া গেল। ইসলামাবাদে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে জামিয়াত উলেমা-ই-ইসলামি ফজল (JUI-F)-এর মুখ্য মাওলানা ফজলুর রহমান বললেন মেয়েদের জিন্স পরাই ভূমিকম্পের মত বিপর্যয়ের আসল কারণ! তিনি দাবি করেছেন, পাক সরকার যেন সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে এখনই একটি মিলিটারি অপারেশন করে সে দেশে মহিলাদের জিন্স পরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
তাঁর মতে মেয়েদের ‘অশোভন’ আচরণ শুধু ভূমিকম্প নয়, মুদ্রাস্ফীতিরও কারণ।
যে মেয়েরা নিজেদেরকে ‘ময়দার বস্তা’-র মত ঢেকে রাখে না তারা আসলে মানব সভ্যতা ধ্বংসের মোবাইল অস্ত্র। মত ফজলুর রহমানের। পাকিস্তানের বিদ্যুতের সংকট, নিরাপত্তা ধ্বংস এমনকি বেলুচিস্তানের সমস্যারও পিছনেও মেয়েদের ‘অশোভন আচরণ’-কে দায়ী করেছেন এই JUI-F প্রধান।
মহিলাদের বস্তায় পুরে বাড়ির মধ্যে রেখে দিয়ে দেশে শরিয়াহ্ আইন চালু করলে, তালেবানি ভাইরা আর পাকিস্তান আক্রমণ করবে না বলে মন্তব্য করেছেন ফজলুর রহমান।

দেশে খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে আইএস এর আদলে সংগঠন

দেশে খিলাফত প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করে আইএস’র আদলে সংগঠন তৈরীর চেষ্টা করছিলেন সাবেক এক সেনা কর্মকর্তার ছেলে। তাকে গ্রেফতার করার পর গোয়েন্দারা দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গী সংগঠন আইএস’র আদলে নতুন জঙ্গি সংগঠন খুলে সদস্য সংগ্রহ ও বাংলাদেশে ‘খিলাফত প্রতিষ্ঠার’ পরিকল্পনা করছিলেন তিনি।
আবদুল্লাহ আল গালিব নামের ২৫ বছর বয়সী ওই তরুণকে শনিবার রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা। রোববার তাকে হাজির করা হয় পুলিশের গণমাধ্যম কার্যালয়ে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ কমিশনার শেখ নাজমুল আলম জানান, গালিব নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লা বাংলা টিমের সহ-সমন্বয়ক। আগে তিনি হিজবুত তাহরীর ও জেএমবির সঙ্গেও ছিলেন।
“সম্প্রতি সে ‘জুনুদ আত-তাওহিদ ওআল খিলাফা’ নামে সশস্ত্র জিহাদী সংগঠন খুলে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে। তার লক্ষ্য, আইএসের আদলে বাংলাদেশের খিলাফত প্রতিষ্ঠা করা। ১০ থেকে ১৫ জন সদস্য সংগ্রহ করে সে প্রশিক্ষণ দেওয়াও শুরু করেছিল।” গালিবের বাসা থেকে উদ্ধার করা ওই ‘জঙ্গি প্রশিক্ষণের’ একটি ভিডিও সংবাদ সম্মেলনে দেখানো হয়।
এতে স্পোর্টস ট্রাউজার ও কালো গেঞ্জি পরা নয় তরুণকে মুখ ঢাকা অবস্থায় দেখা যায়, যাদের হাতে পিস্তল বা রিভলবারের মতো দেখতে ছোট অস্ত্র আছে। তাদের পেছনে কালো কাপড়ে সাদা হরফে কলেমা এবং বন্দুকের ছবি রয়েছে। দেখে মনে হয়, কোনো বাড়ির উঠানে ওই ছবি তোলা হয়েছে। এরকম ভিডিও ‘জুনুদ আত-তাওহিদ ওআল খিলাফা’র ওয়েবসাইট আত তাহরীদ মিডিয়াতেও রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
গালিবের বাবা মো. আবদুল্লাহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর। তাদের দেশের বাড়ি যশোরের লেবুপাড়ায়। ঢাকার একটি ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল থেকে ‘এ’ লেভেল, ‘ও’ লেভেল শেষ করে আতরের ব্যবসা করতেন গালিব। বারিধারায় বাবার বাড়িতেই তিনি থাকতেন।
শেখ নাজমুল আলম জানান, গালিব আইএসের হয়ে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য একাধিকবার তুরস্কে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে।
নাজমুল আলম আরো জানান, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গালিব বলেছে, সে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে আইএস’র প্রতিনিধি হিসেবে কর্মী সংগ্রহ করত এবং তাদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করত।”
তিনি বলেন, “শনিবার রাতে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ১০-১২ জন সদস্যের সঙ্গে বসে আইএস’র জন্য কর্মী সংগ্রহ ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক করে গালিব। এ সময় সেখানে অভিযান চালিয়ে গালিবকে গ্রেপ্তার করা গেলেও বাকিদের ধরা যায়নি।”
এক প্রশ্নের জবাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিকভাবে সব বিবেচনা করে মনে হচ্ছে ভিডিওর ওই প্রশিক্ষণ বাংলাদেশেই হচ্ছে। তবে তাদের হাতের অস্ত্র আসল না নকল তা যাচাই বাছাই করে দেখতে হবে।”
গোয়েন্দা বিভাগে আরো জানায়, গুরুত্বপূর্ণ কিছু ব্যক্তি ও স্থাপনা তাদের টার্গেটে ছিল। পুলিশ এসব ব্যক্তি ও স্থাপনার নাম জানতে কাজ করছে। তার গ্রেফতারের পর এই কার্যক্রম অন্য কেউ পরিচলনা করবে কি না, সেটাও জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।

অসাধু ও আনারী হিসাবরক্ষকদের খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার ব্যবসায়ী ও সেবা গ্রহীতারা

Matiar chowdhury
মতিয়ার চৌধুরী

অনেকদিন পূর্বে বহুল প্রচারিত স্পাইস ম্যাগাজিনে সিলেটী বাংলায় আমি একটি প্রবন্ধ লিখেছিলাম ‘‘দেখাদেখি বেখায় নাচে’’ যার আভিধানিক অর্থ হলো যোগ্যতা থাকুক আর নাই থাকুক অন্যের অনুকরণে একটা কিছুকরা, এমন প্রবণতা আমাদের বাঙ্গালী কমিউনিটিতে লক্ষ্যনীয়। আজকের বিষয়টি সামান্য ব্যাতিক্রম হলেও এর সাথে কিছুটা সামঞ্জস্য রয়েছে। আজ থেকে কুড়ি বছর পূর্বে আমি স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যে যখন বিলেত এসেছিলাম তখন আমাদের কমিউটিতে সলিসিটর-ব্যারিষ্টর, একাউটেন্ট, শিক্ষকসহ এজাতীয় পেশাদারদের সংখ্যা ছিল খুবই নগন্য। এসব পেশায় হাতেগুনা যে কয়েকজন নিয়োজিত ছিলেন তাদের সকলেই শ্রদ্ধার চোঁখে দেখতেন। অবশ্যই পেশাদারদের শ্রদ্ধা করা উচিত। বর্তমানে বৃটেনের বাঙ্গালী কমিউনিটিতে সাংবাদিক, ব্যারিষ্টার , সলিসিটর বা একাউনটেন্টের সংখ্যা লক্ষ্যনীয় বিশেষ করে পূর্ব লন্ডনে গজিয়ে উঠেছে অসস্য পরামর্শক, সলিসিটর ও একাউন্টেন ফার্ম। আমার লিখাটি কিন্তু কাউকে হেও প্রতিপন্ন বা খাটো করার জন্যে নয়। লিখাটির উদ্দেশ্য হলো কমিউটিকে সচেতন করা। অসাধু এবং আনারী কিছু সংখ্যক একাউনটেন্ট ও আইনজীবি নামধারীর খপ্পরে পড়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন সমাজের নামীদামী ব্যবসায়ী সহ সর্বস্থরের সেবাগ্রহীতারা। প্রতিদিনই এজাতীয় বহু অভিযোগ আমাদের শুনতে হয়, কেউবা ইমিগ্রেশন বিষয়ে পরামর্শের জন্যে গিয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন আবার কেউ কেউ কিছুসংখ্যক অসাধু হিসাব রক্ষকে বিশ্বাস করে প্রতারিত হচ্ছেন। আমার লিখাটি মূলতঃ যারা প্রতারনা করছেন বা অর্থের লোভে অন্যকে বিপদে ফেলছেন তাদের থেকে সতর্ক থাকার জন্যে। অনেকেই জানানেনা আইনের ডিগ্রি থাকলেই সকল আইনজীবির পক্ষে কোর্টে গিয়ে মামলা ফেইস করা সম্ভব নয়, এসব আইনজীবিরা পেশাদার পেক্টিসনারদের আশ্রয় নিয়ে অন্যের মামলা পরিচালনা করেন যাকে বাংলায় বলা হয় মধ্যসত্ব ভোগী, অনুপরুপ অবস্থা লন্ডনের একাউনটেন্টদের বেলায়ও ঘটছে অহরহ। একাউনটেন্ট পেশাটি খুবই দায়িত্বশীল বটে, যদি কোন একাউটেন্ট এর অবহেলা বা ছলাতুরির কারণে আপনি হয়রানির শিকার হন তখন উপায়? বৃটেনে একটি ফানি আইন রয়েছে একাউটেন্ট না হলেও একাউনটেন্ট ফার্ম খোলা যায়। সাধারন মানুষ একাউনটেন্ট ফার্ম দেখেই এসব ভূয়া হিসাব রক্ষকের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছেন অহরহ। অন্যরা যাতে আর প্রতারিত না হন তাদের সতর্ক করার জন্যেই আজকের এই প্রতিবেদন। যদি কোন শিক্ষিত সচেতন মানুষ হয়রানির শিকার হন তা হলে! এমননি ভাবে এক একাউনটেন্ট এর স্বজনপ্রীতি ও ছলচাতুরীর শিকার হয়েছেন বৃটেনে বাংলাদেশী কমিনিটির সুপরিচিত মুখ বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স লন্ডন রিজিওনের প্রেসিডেন্ট বিশষ্ট ব্যবসায়ী একটি কোম্পেনীর ডিরেক্টর জনাব বশির আহমেদ।এখানে উল্লেখ্য যে মিঃ আহমদ তাঁর মায়ের মৃত্যুতে বাংলাদেশে গেলে তাঁর অনুপস্থিতে হিসাব রক্ষক ৩০ মার্চ ২০১৫ তারিখে ২৯ নভেম্বর ২০১৩সালের কোম্পেনী কর্তৃক অনুমোদিত রেজুলেশনকে অবজ্ঞা করে ডাইরেক্টরশীফ পরিবর্তন করে ফেলেন। মিঃ বশির আহমদের বেলায় একাউনটেন্ট ফার্ম শুধু অনিয়মই করেনি তার অনুপস্থিতিতে ঘটিয়েছে এক অবাক কান্ড? এখানে উল্লেখ্য যে মিঃ বশির আহমদ ২০১৩ সালের ২৯ নভেম্বর তার এই কোম্পেনীর অন্যান্য ডিরেক্টরদের নিয়ে একটি বোর্ড মিটিং করেন, তার সভাপতিত্বে সকল ডিরেক্টরের উপস্থিতিতে এই বোর্ড মিটিংয়ে রেজুলেশন নেয়া হয় কোন ডিরেক্টর পরিবর্তন বা কোম্পেনীর অন্যান্য মেজর কোন ইস্যুতে সিন্ধান্ত নিতে হলে সার্কুলেন জারি করতে হবে এবং সকলের উপস্থিতিতে কোন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আইনে কোম্পেনী হাউজের নিয়ম হচ্ছে শেয়ার বা ডিরেক্টরশীপ পরিবর্তন নতুন ডিরেক্টর নিয়োগ বা বড়ধরনের কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে দুটি নিয়ম প্রযোজ্য প্রথমটি অনলাইনের মাধ্যমে। দ্বিতীয়তঃ হার্ডকপিতে ডিরেক্টরদের সাইনের মাধ্যমে। একজন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ী হিসেবে মিঃ বশির আহমদ ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে ব্যবসা শুরুর পূর্বে কোম্পেনী শেয়ার হোল্ডার ও ডিরেক্টরদের মিটিংয়ে রেজুলেশন পাশ করে রাখেন যে এই কোম্পেনীর অনলাইনের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন বা ডিরেক্টরশীফ পরিবর্তন সম্পুর্ণ নিষিদ্ধ। তার পরেও একাউনটেন্ট এই রেজুলেশনের কোন তোয়াক্কা নাকরেই ( এখানে উল্লেখ্য যে অনলাইনে এক্সসেস কোড থাকে একাউনটেন্টের নিয়ন্ত্রনে, এই একাউনটেন্ট মিঃ বশির আহমদের বেলায় সুযোগের সদব্যবহার করেছেন ) সম্পুর্ণ অন্যায় এবং বেআইনীভাবে ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৫ কোম্পেনী হাউজে ডিরেক্টর নিয়োগ করেছেন। যা ২০১৩ সালের নভেম্বরের বোর্ড মিটিংয়ে পাশ করা রেজুলেশনের পরিপন্থি, যা কোম্পেনী আইনেরও পরিপন্থী। তিনি বাংলাদেশ থেকে ফিরে এসব দেখে অবাক! শুধু অবাকই নয় বিষ্মতও হয়েছেন বটে। ইদানিং বাংলাদেশ থেকে অসংখ্য আনাড়ী একাউনটেন্টের আগম ঘটেছে বৃটেনে। অনেকেরই যোগ্যতা না থাকলেও রীতিমতো একাউটেন্ট এর মতো কঠিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আর এদের খপ্পরে পড়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে সেবাগ্রহীতাদের। শুধু তাই নয় ভূয়া পে-স্লিপ ও অন্যান্য ডকুমেন্ট তৈরী করতে গিয়ে সাধারন নীরিহ মানুষ অদক্ষ হিসাব রক্ষকদের দ্বারা প্রতারিত হচ্ছেন। তাই আপনি হিসাব রক্ষক নিয়োগের পূর্বে তাদের সম্পর্কে জেনে নিন। শতাধিক এশিয়ান হিসাব রক্ষক বৃটেনে রয়েছেন যাদের এদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের কোন অনুমতি নেই। তার পরেও তারা দিব্যি চালিয়ে যাচ্ছেন এমন কঠিন কাজ? এব্যাপারে বৃটেনের স্বনামধন্য একাউটেন্ট ফার্ম ‘‘ তাজ একাউটেন্ট এর সাথে যোগাযোগ করা হলে একাউটেন্ট মিঃ নুরুজ্জামান বলেন মিঃ আহমদের বেলায় একাউটেন্ট ফার্ম যে অনিয়ম করেছে তা আইনের পরিপন্থী । তিনি ব্যবসায়ী ও নতুন কোম্পেনীর জন্যে একাউনটেন্ট নিয়োগ করার পূর্বে এই বিষয় গুলো যাচাই করার পরামর্শ দিয়ে বলেন গুগল সার্চের মাধ্যমে একাউটেন্ট ও কোম্পেনী সম্পর্কে যাচাই করা। তাদের অভিজ্ঞতা আছে কি না? একাউটেন্টের প্রফেশনাল ভূল সংশোধনের জন্যে ইনজেমনেশন ইন্সুরেন্স আছে কি না.? তা খতিয়ে দেখা এবং একাউটেন্ট ফার্ম সম্পর্কে অন্ততঃ পক্ষে দুজনের রেফারেন্স নেওয়া। তাই আইনজীবি বা একাউনটেন্ট নিয়োগ করার পূর্বে এসব বিষয় গুলো যাচাই করা উচিত। বৃটেনের স্বনামধন্য একাউনটেন্ট ‘রউফ এন্ড কোম্পেনীর’ সত্বাধিকারী প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মাহমুদ এ রউফ বলেন একাউনটেন্ট নিয়োগ করার পূর্বে আইনগত দিক গুলো অবশ্যই যাচাই করা উচিত। তাই একাউনটেন্ট নিয়োগ দেওয়ার পূর্বে আইনী দিকগুলো যাচাই করুন নিজে সতর্ক হোন অন্যকে সতর্ক করুন।

লেখক: সাংবাদিক, গবেষক, লন্ডন, যুক্তরাজ্য

মোদির একদিন আগেই ঢাকায় আসছেন মমতা

মোদির সফরসঙ্গী হলেও মোদির সঙ্গে আসছেন না মমতা! বরং নরেন্দ্র মোদি আসার একদিন আগে, অর্থাৎ ৫ জুন কলকাতা থেকে ঢাকায় আসবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আবার ৬ জুন সীমান্ত চুক্তি সাক্ষর হলে তিনি ফেরত যাবেন কলকাতায়। ফলে মোদির সঙ্গে দেশেও ফেরা হবে না তার।
ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির টানাপোড়েনের কারণে প্রাথমিকভাবে বেশ অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল মমতার ঢাকা সফর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সফরে আসছেন মমতা। তবে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন, “কোন আলোচনা হবে না তিস্তা নিয়ে।”
শনিবার মমতা নিজেই তার ঢাকা সফরের কথা কলকাতায় সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বলেন, “আমি ৫ জুন বাংলাদেশে যাব এবং সীমান্ত চুক্তি সইয়ের পর ৬ জুনই ফিরে আসব।” ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফর করবেন ৬-৭ জুন। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্থল সীমান্ত চুক্তি ও প্রটোকল কার্যকরে সব বাধা দূর হওয়ার পরই ঢাকা আসছেন তিনি। চার বছর আগে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সফরসঙ্গীর তালিকা থেকে শেষ মুহূর্তে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন মমতা। সব প্রস্তুতি থাকার পরও তার আপত্তির কারণে তখন আটকে যায় তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের চুক্তি সই, যা এখনও হয়নি।
সাবেক কংগ্রেস নেত্রী মমতার দল তৃণমূল কংগ্রেস এক সময়ে বিজেপির সঙ্গে জোট বাঁধলেও এখন তাদের সম্পর্ক অনেকটাই সাপে-নেউলে। বিজেপি নেতা মোদীর কঠোর সমালোচক তিনি। এসব মিলিয়ে মমতা ঢাকা সফরে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আসছেন না বলে ভারতের গণমাধ্যমে কয়েকদিন আগেই খবর প্রকাশ হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মমতা রাজি হলেও স্পষ্ট করলেন, মোদীর সঙ্গে ঢাকা আসছেন না তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আবারও বিতর্কে গোলাম আযমের পুত্র

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের শহীদ সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিতর্কিত হয়েছিলেন গোলাম আযমের পুত্র আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। এবার স্যোশাল মিডিয়ায় ভারতের শহীদ সংখ্যা নিয়ে পোস্ট দিয়ে বিতর্কে জড়ালেন তিনি। একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের হোতা জামায়াতগুরু গোলাম আযমের এই ছেলে এক সময় বাংলাদেশ সেনাবাহীনিতে কর্মরত ছিলেন।

মুক্তিযুদ্ধে চার হাজার ভারতীয় সেনা শহীদের তথ্য দিয়ে সুশীল সমাজের সমালোচনা করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও সাংবাদিক অঞ্জন রায় গত ২৮ মে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেন।

এর সূত্র ধরে পরদিন তাকে ‘দালাল’ আখ্যায়িত করে আরেকটি পোস্ট দেন গোলাম আযমের ছেলে আযমী। এখানেও মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের তথ্যকে ‘কাল্পনিক’ বলেন সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া এই কর্মকর্তা।

জামায়াত ও সমমনারা এর আগেও বিভিন্ন সময়ে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক তোলার চেষ্টা করেছে। সম্প্রতি এ আলোচনার সূত্র ধরে কথিত সুশীল সমাজের একটি অংশ ট্রাইব্যুনালে অবমাননার অভিযোগের মুখে পড়েছে।

 

অঞ্জন রায় তার স্ট্যাটাসে বলেছিলেন, “আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রায় ৪ হাজার সদস্য তাদের জীবন দিয়েছেন, মারাত্মক আহত হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার সেনা সদস্য। আমাদের সুশীলজনেরা ভারত ইস্যুতে বিভিন্ন কথা বলেন- ভারতবিরোধী কার্ড খেলার বুদ্ধি দেন।

“কিন্তু কখনো তারা বলেন না- এই ৪ হাজার জীবন দেয়া ভারতীয় সেনাদের জন্য অন্তত একটা স্মারক স্তম্ভ হলেও নির্মাণ করার কথা। ভুলে গেলে চলবে না- প্রতিবেশী দেশের ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়া আর ৪ হাজার সেনা সদস্যেরর জীবন দানের বিষয়টি কিন্তু বিশ্ব ইতিহাসে খুব বেশি নাই।”

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলে গিয়ে ‘ভারতবিরোধী কার্ডের’ ব্যবহার ‘রাজনৈতিক অসততা’ বলে মন্তব্য করেন অঞ্জন।

মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবস্থান নিয়ে লেখা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও সাংবাদিক অঞ্জন রায়ের এক ফেসবুক পোস্টের সমালোচনা করে ২৮ মে ফেইসবুকে একটি পোস্ট দেন আযমী তার শিরোনাম ‘অদ্ভুত এক দালাল!!’

সেখানে তিনি বলেন, “১৯৭১ এর ৩ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় বাহিনী যে যুদ্ধ করেছে এই (ইস্টার্ন) ফ্রন্টে, তাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তেমন কোনো প্রতিরোধই করেনি, মাত্র ২/১টা ব্যাটল ছাড়া। তাহলে, এই ৪০০০ এর তত্ত্ব/তথ্য তিনি কোথায় পেলেন?”
“১৯৭১ এর সেই যুদ্ধ নিয়ে পড়াশুনা করেও কোথাও তো এই সংখ্যা কোনদিন পাইনি! রায় বাবু কি ‘তিন মিলিয়ন’ এর মত কোন কাল্পনিক নতুন সংখ্যা নতুন প্রজন্মকে গিলাতে চাইছেন?”
২৯ মে তার ওই পোস্টের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় ফেইসবুকে। একজন দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীর ছেলের এ ধরনের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেন অনেকেই। সেখানে অনেকে এই কথাও বলেন, স্বাধীনতার এত বছর পর আমাদের দুর্ভাগ্য, একজন রাজাকারের ছেলের কাছ থেকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস শিখতে হচ্ছে!
বিষয়টি নিয়ে এখনও স্যোশাল মিডিয়ায় ঝড় চলছে।

মানবাধিকার আইন বিলুপ্ত হলে বিশ্বসভ্যতা বিপর্যস্ত হবে

M-G-KIBRIA-300x273

মোহাম্মদ গোলাম কিবরিয়া

(১)
বেঁচে থাকতে হলে আপনার কী প্রয়োজন?
প্রথমেই শ্বাস গ্রহণ। তাহলে আপনার প্রয়োজন অক্সিজেন। আপনি যে সারাউন্ডে বসবাস করছেন, সেখানে যদি পর্যাপ্ত পরিমানে অক্সিজেন না থাকে তাহলে আপনি হাঁসফাঁস করবেন। ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারবেন না। তাহলে ঠিকমতো শ্বাস গ্রহণের জন্য আপনাকে এমন এক স্থানে বসবাস করতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত পরিমানে অক্সিজেন আছে।
শ্বাস গ্রহণের পর আপনার ভেতরের অর্গানগুলো আড়মোড়া ভেঙ্গে জেগে ওঠবে। আপনার তখন খাদ্য গ্রহণের প্রয়োজনয়ীতা দেখা দেবে। আপনার দেহের কল-কব্জাগুলোর সঠিক কাজের জন্য আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমানে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করতে হবে।
তারপর আসলো সামাজিক কায়দা কানুন।
মানুষ জন্মগতভাবেই জোটবদ্ধ প্রাণী। জোটের মধ্যে থাকার জন্য তারা নিজেদের সেরকমভাবেই প্রস্তুত করে তোলে। ফলে সমভাবাপন্ন মানুষগুলোর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন জোটের সৃষ্টি হয়। জোটবদ্ধ হয়েই তারা সুখে শান্তিতে বসবাসের প্রেরণা খোঁজে। সমভাবাপন্নহীনতায় জোট ভাঙ্গে, নতুন নতুন জোটের সৃষ্টি হয়।
এভাবেই অনেকগুলো জোট মিলে একটি সমাজ, আর, অনেকগুলো সমাজ নিয়ে একটি রাষ্ট্রের উৎপত্তি।
একটি সুস্থ-সবল দেহের জন্য যেমন দুষণমুক্ত আবহাওয়া ও উপযুক্ত খাদ্য এবং সুন্দর সামাজিক মূল্যবোধ সম্পন্ন সমাজব্যবস্থা প্রয়োজন তেমনি একটি রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মানবিক ন্যায়বিচার, দুষ্টের দমন, শিষ্টের পালন, মানুষের মৌলিক মানবিক অধিকার ইত্যকার বিষয়াদিও সমান প্রয়োজন। সংক্ষেপে বললে এভাবে বলা যায়, একটি রাষ্ট্রেকে অবশ্যই মানবিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হতে হবে। অন্যথায়, অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসকষ্টের মতো, খাদ্যের অভাবে অপুষ্ট দেহের মতো-মানবিকতা ও কল্যাণকামিতার অভাবে একটি রাষ্ট্রের সার্বিক কার্যকলাপ অসুস্থতায়, পুষ্টিহীনতায় এবং অন্যায় অত্যাচারে ডুবে যেতে বাধ্য।
বাস্তব অর্থে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ আজ অন্যায় অত্যাচারে নিমজ্জিত। অনেক দেশে ‘‘বিচারহীনতাই বিচার’’ এর সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক মানবিক মূল্যবোধ বিনষ্ট হয়ে গেছে। তা দেখেও আমরা না দেখার ভান করছি। তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আমরা নিরুপায়ের মতো সেগুলো মেনে নিচ্ছি। আমাদের অনেকেরই সেই শক্তি নেই, যা দিয়ে আমরা সামাজিক মানবিক মূল্যবোধ গঠণে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারি।

(২)
এই সময়ে বিশ্বকে খুব বড় করে ভাবা যায় না। বিশ্ব এখন মানুষের কাছে কেবলি একটি দেশ। কারণ, মুহূর্তেই বিশ্বের যেকোন প্রান্তে ঘটে যাওয়া যেকোন ঘটনা যেকোন দেশের মানুষ সহজেই জানতে পারছে, অন্যকে জানাতে পারছে, এমনকি, সেই ঘটনার পক্ষে বিপক্ষে সে তার মতামত দিতেও পারছে। শুধু তাই নয় ঘটনার পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে গণ-আন্দোলনও গড়ে তুলতে সক্ষম হচ্ছে। তাহলে আমরা বলতে পারি, বিশ্ব আমাদের কাছে কেবলি একটি ভূখণ্ড-একটি দেশ। একুশ শতকের বিজ্ঞানমনষ্ক, জ্ঞানী-গুণী ও বুদ্ধিমানদের নিকট বিশ্ব একটি গ্লোব্যাল ভিলেজ। অর্থাৎ, বিশ্ব কেবলি একটি গ্রাম।
কেউ যদি আরো বড় করে ভাবতে পারে, তাহলে বলা যায় পুরো বিশ্বটি একটি পরিবার মাত্র। হ্যাঁ, কেবলি একটি পরিবার।
তাহলে পুরো বিশ্বটাকেই আমি যদি পরিবার বলে মনে করতে পারি, তাহলে পরিবারের কাছে আমার কতগুলো চাহিদা থাকবে। আমার কাছেও পরিবারের কতগুলো চাহিদা থাকবে। পরিবারের প্রতিটি সদস্যের একে অপরের প্রতি কঠিন একটি মেলবন্ধন থাকবে। বিশ্বপরিবারের সদস্যরা একে অপরের সুখে-দুখে কাছে আসবে, মমতার হাত প্রসারিত করবে, ভালোবাসবে, প্রেম-প্রীতি আর সুন্দর সহাবস্থানের একটি মানবিক বলয় গড়ে তুলবে।
বিশ্ব পরিবারের কোথাও যদি কোন ঘাটতি দেখা দেয় তাহলে সকলে সম্মিলিতভাবে সেই ঘাটতি পূরণে কাজ করবে। কোন সদস্য যদি ভালো কাজ করে তাকে পরিস্কৃত করবে, কেউ খারাপ কাজ করলে তাঁর উপযুক্ত সংশোধনের ব্যবস্থা করবে। যদি সে সংশোধিত না হয় তাহলে তাকে বিধিমতো শাস্তির ব্যবস্থা করবে। তবে সেই শাস্তিুটিও মানবিকতা বজায় রেখে হতে হবে।
বিশ্বপরিবারের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে এশিয়া ও আফ্রিকার বেশিরভাগ স্থানই আবহমান কাল থেকে সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের মাধ্যমে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নামের ভাগিদার। ইউরোপের অনেকাংশে মানবাধিকারকে একটি বিশেষ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার ফলে এবং এ অংশের মানুষগুলো মানবাধিকার নিশ্চিন্ত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়ার কারণে বিশ্বপরিবারের অনেক সদস্যই ইউরোপকে সুনজরে দেখেন।
ধর্ম ও রাজনীতির বাইরে গিয়ে চিন্তা করেই অনেকে ইউরোপকে মানবাধিকারের দেশ বলে আখ্যায়িত করেছেন। যারা বিশ্বপরিবারের এই কোণে এসে বসবাস করেন, তারাও জানেন, মানবতাবোধটুকুকে এখানে গুরুত্ব দেয়া হয় বলেই অনেক অমানবিক কাজ করার পরেও তাদের অনেকেই এখানে এসে মানবাধিকারের সুযোগে নিজেদের নতুনভাবে ভাবতে পরেছেন, নতুন একটি জীবনের সন্ধ্যান পেতে মনোযোগি হতে পেরেছেন। যদি এই অঞ্চলে মানবাধিকারটুকুকে গুরত্ব না দেয়া হতো তাহলে এশিয়া, আফ্রিকাসহ বিশ্বের অনেক দেশের দাগি আসামী থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক বিপর্যস্থ রাষ্ট্রনায়ক, অনেক স্বৈরাচারি, মানবতা লুণ্ঠনকারী মানুষগুলো এখানে এসে আশ্রয় পেতেন না। নিজেদের দেশে থেকেই তারা জনরোষে কিংবা কারারোষে প্রাণপাত করতেন।
অর্থাৎ, মানুষ যেভাবে অক্সিজেনের অভাবে অক্সিজেনের খোঁজে দুষণমুক্ত পরিবেশ কামনা করে, মানুষ যেভাবে খাদ্যের জন্য কঠিন-কঠোর কষ্ট করে, তেমনি, মানবাধিকার ভোগের জন্যও মানুষ বিশ্বপরিবারের আনাচে কানাচে ছোটে যাবার চেষ্টা করে। এই চেষ্টাটুকু জন্মগত। শ্বাস-প্রশ্বাস, জীবন ধারন এবং মানবাধিকার একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত। হউক সে নিখাদ ভালো মানুষ, হউক সে দাগি আসামি। আমরা কখনোই বলতে পারি না, মানবাধিার ভোগ করার অধিকার কেবলি ভালো মানুষের।

(৩)
সম্প্রতি, ব্রিটেনে মানবাধিকার আইন (হিউম্যানরাইটস) বিলুপ্ত হচ্ছে বলে সংবাদ বেরুচ্ছে।
ধরলাম সংবাদটি সত্য এবং ইংল্যান্ডের কনজারভেটিভ সরকার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে মানবাধিকার আইন বিলুপ্ত করে দিয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মতো আইন করে নতুন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্ম দিলো। কিন্তু তার ফলাফল কি হবে?
আগেই বলেছি, বিশ্ব একটি পরিবার। পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের সঠিক পথে চালানোর দায়িত্ব পরিবারের কর্তার। অর্থনৈতিক উন্নত অবস্থান, সামাজিক ন্যায় পরায়নতা ও কল্যাণকামী রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বপরিবারের অনেক দেশই ব্রিটেনের দিকে চোখ রাখে। এখানে কোথায় কী হচ্ছে, আইন আদালত কেমন চলছে, মানবাধিকারকে পরিপূর্ণ রূপ দিতে এই দেশটি কী কী পদেক্ষেপ নেয় এবং তা কিভাবে প্রয়োগ করে সে দিকেও অনেকের নজর থাকে। তাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের এক অবিশ্বাস্য সহাবস্থান গড়ে ওঠেছে ব্রিটেনে। এখন ব্রিটেন যদি মানবাধিকারের পতাকাটিকে নামিয়ে ফেলে তাহলে বিশ্বের সামাজিক অবস্থানে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। মানুষের মধ্যে তখন মানবাধিকার নিয়ে একটি নেতিবাচক ধারনার সৃষ্টি হবে।
বিশ্বের অনেক দেশের বিচার ব্যবস্থা, সামাজিক অন্যায়-অত্যাচারের প্রতিবাদে মানবাধিকার নিশ্চিত করার জন্য ব্রিটেনের পার্লামেন্টের সামনে মানুষ জড়ো হয়, স্মারকলিপি প্রদান করে, ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে গিয়ে ধরনা দেয়। এখন ব্রিটেন নিজেই যদি মানবাধিকার আইনকে বিলুপ্ত করে কিংবা সংকোচিত করে, তাহলে বিশ্বপরিবারের সদস্যগুলোর মধ্যে একটি বিপর্যয় সৃষ্টি হবে।
বিভিন্ন দেশের অপরাধীরা পালিয়ে ব্রিটেনে এসে এ্যাসাইলম গ্রহণের চেষ্টার পরিবর্তে নিজ দেশেই টিকে থাকার চেষ্টায় আরো বিধ্বংসী হয়ে ওঠবে। নতুন নতুন অপরাধী জোটের সৃষ্টি হবে। অপরাধীরদের মধ্যে টিকে থাকার প্রাণপন লড়াই শুরু হবে। সমাজে অপরাধের বিস্তার ঘটবে। পরিবারগুলো আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়বে। বিভিন্ন রাষ্ট্রের সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে রাষ্ট্রীয় হত্যাযজ্ঞ ও অনাচার বড়বে। বিশ্বপরিবারের মানবাধিকারের ধ্বজাধারী ব্রিটেনের নিজস্ব অবস্থান থেকে সরে আসার অর্থ কেবল নিজেদের ধ্বংস নয়, বরং এর মাধ্যমে বিশ্বমানবসমাজে সৃষ্টি হবে নতুন নতুন অপরাধপ্রবণতা।
পরিবারে কর্মিরা নয়, ভাবতে হবে কর্তাকে। ব্রিটেন সেই কর্তার ভূমিকায় শত বছর অতিক্রম করেছে।

(**লেখাটি কিন্তু অরাজনৈতিক। রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে শর্ষের ভূতনাথ পাওয়া যাবেই।)

জাতীয় ইস্যুতে বিএনপি’র প্রস্তাবে আওয়ামী লীগ সরকারের ‘না’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন বাংলাদেশের সফরের আগে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মধ্যকার একটি বৈঠকের আহ্বানকে নাকচ করে দিয়েছে সরকার।
বিএনপি বলছে, নরেন্দ্র মোদীর সফরের আগে তারা বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে ঐক্যমত্য তৈরির জন্য এ বৈঠকের আহ্বান করেছে। তবে সরকার বলছে, এধরণের কোন বৈঠকে তারা আগ্রহী নয়।
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরে আসছেন আগামী ৬ জুন।
এ সফরের আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচী এখনো ঘোষণা করা না হলেও, দুই দেশের মধ্যকার বেশ কিছু অমীমাংসিত ইস্যু আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মোদীর সফরে ছিটমহল বিনিময়ে স্থল-সীমান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা খুবই বেশি, আলোচনায় আসতে পারে তিস্তা নদীর পানি চুক্তিসহ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য এবং যোগাযোগের বিষয়।বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন বলছেন, এসব ইস্যু নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর সাথে আলোচনার আগে একটি ঐক্যমত্য তৈরির জন্যই তারা প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাদের চেয়ারপার্সনের একটি বৈঠক আশা করছেন।
“সরকার যাতে ইস্যুটি এমনভাবে উপস্থাপন করতে পারে যে এসব ইস্যুর প্রতি দল-মত নির্বিশেষে সকলের সমর্থন আছে,” তিনি বলেন।
তবে এধরণের কোন বৈঠকের সম্ভাবনা নাকচ করে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম।

image

তিনি বলছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা সংসদে বিরোধী দলের সাথে আলোচনা করতে পারেন, তবে বিএনপির সাথে আলোচনা করতে আগ্রহী নন।
“আমার মনে হয় না এটিকে বিশেষ কোন গুরুত্ব দেয়ার কারণ আছে। আমরা বসলে সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সাথে বসতে পারি,” তিনি
এসব ইস্যুতে তারা কোন ভিন্নমত তুলে ধরতে চান কিনা জানতে চাইলে আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ভিন্নমত নয়, বরং জাতীয় ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠা করাই তাদের লক্ষ্য।
এইচ টি ইমাম বলেন, বিএনপি সবসময়ই ভারতের বিরোধিতা করে এসেছে, এবং তাদের কারণে ভারতের সাথে সম্পর্কও খারাপ হয়েছে।image
বিএনপির বিরুদ্ধে ভারত বিরোধিতার অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি নেতা আসাদুজ্জামান রিপন বলছেন, তাদের অবস্থান কখনোই ভারতের বিরুদ্ধে ছিল না, বরং তারা দেশের স্বার্থেই কথা বলেছেন।
শুক্রবার একটি সংবাদ সম্মেলন করে ভারতের সাথে বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যুতে শেখ হাসিনা এবং খালেদা জিয়ার মধ্যে একটি বৈঠকের আহ্বান জানায় বিএনপি।
শনিবার তারা বলছেন, এনিয়ে লিখিতভাবে কোন প্রস্তাব দেয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই।

বাংলাদেশে নীরবে চলছে সংখ্যালঘু নির্যাতন : বুরুঙ্গা গণহত্যা দিবসের আলোচনায় গাফফার চৌধুরী

 

Burunga 2

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন থামেনি, নীরব নির্যাতন এখনো চলছে। বাংলাদেশ জেনোসাইড আর্কাইভ এর বুরুঙ্গা গণহত্যা দিবস উদযাপনে গাফফার চৌধুরী বলেন ১৯৭১ শালে পাকিস্তানি ও তাদের দোসররা বাংলাদেশে যে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল তাঁর ধারাবাহিকতা শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশে এখনো প্রতিনিয়ত নীরবে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন চলছে। আর তা আওয়ামী লীগের নামধারীরাই চালিয়ে যাচ্ছে এখন। উদাহরণ হিসাবে সম্প্রতি সময়ে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনার উল্লেখ করেন তিনি। গাফফার চৌধুরী আরো বলেন এর দায়িত্ব আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের আর যাবার কোন জায়গা নাই। ভারতের মতো হিন্দু মহাসভা বা ভারতের মুসলমান নেতৃত্বের মতো কোন শক্তিশালী নেতৃত্ব ও নেই। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্ঠান ঐক্য পরিষদ নামে একটা সংগঠন ছিল যা এখন একটা নপুংসক সংগঠনে পরিণত হয়েছে। ১৯৭১ সালে হিন্দু মুসলিম সবাই নির্যাতিত হয়েছে কিন্তু তুলনামূলক ভাবে হিন্দুদের উপর অত্যাচার হয়েছে বেশী। দেশের স্বার্থে হিন্দুদের ঠিকিয়ে রাখতে হবে। গাফফার চৌধুরী বলেন সাধারণ মানুষের অনুভুতিকে কাজে লাগাতে দেশজুড়ে হিন্দু সম্পত্তি মসজিদ মাদ্রাসার নামে দখল করে নিচ্ছে স্বার্থান্বেষী মহল। যারা আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব করছে। শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন মুক্তিযুদ্ধার তালিকা আছে প্রতিনিয়ত সংযোজন বিয়োজন হচ্ছে কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পরে ও রাজাকারের কোন তালিকা তৈরী করা হয়নি। এই সুযোগে এদের উত্তর সূরী রা আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করছে। তাই রাজাকারের তালিকা ও এখন পর্যায়ক্রমে করা হবে। সভাপতি তাঁর সমাপনি বক্তব্যে ১৯৭১ সালের ২৬ মে গণহত্যার স্মৃতিচারণ করে বলেন আমি তখন অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিলাম আমার চোখের সামনে বুরুঙ্গার সেই বীভৎস ঘটনা ঘটেছে , আমার দুইজন শিক্ষক সহ গ্রামের প্রায় একশত লোককে সেদিন নির্মম ভাবে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় ক্ষোভের বিষয় এই সব রাজাকার আলবদরের সন্তান রা এখন স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আগামী প্রজন্মের জন্য আওয়ামী লীগকে ঠিকিয়ে রাখার জন্য এখনি শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। বুরুঙ্গার মানুষ না হয়ে ও আপনারা আমার গ্রামের নিহত শহীদদের স্মৃতির প্রতি যে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলেন আমি আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ। গতকাল ২৮শে মে পূর্ব লন্ডনের হ্যানবারি ষ্ট্রীটে বাংলাদেশ জেনোসাইড আর্কাইভ এর উদ্যেগে পালন করা হয় বুরুঙ্গা গণহত্যা দিবস। বুরুঙ্গা গ্রামের সাবেক মেম্বার ও আওয়ামী লীগ নেতা সুরমান আলীর সভাপতিত্বে ও প্রজন্ম ৭১ এর সাধারণ সম্পাদক বাবুল হোসাইন এর পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য সাংবাদিক কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী, প্রধান বক্তা ছিলেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বালাগঞ্জ বিশ্বনাথের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী ও বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযুদ্ধা সুলতান শরীফ। বাংলাদেশ জেনোসাইড আর্কাইভ এর পক্ষে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার সুশান্ত দাস গুপ্ত। অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির পুষ্পিতা গুপ্তা, আনহার মিয়া ব্যারিস্টার শওগাতুল আনোয়ার খান প্রমুখ।

বুরুঙ্গা গণহতার হৃদয় বিদারক কাহিনীতে জাণা যায় ১৯৭১ সালের ২৫মে পাকহানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরেরা বুরুঙ্গায় প্রবেশ করলে চারদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এসময় স্থানীয় চেয়ারম্যান ইনজেদ আলী লোক মারফত এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন পাকবাহিনী কারো ক্ষতি করতে আসেনি। ঐদিন পাকবাহিনী ও তাদের দোসররা মিলে এলাকায় বৈঠক করে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয় পরদিন (২৬মে) শান্তি কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সভা করা হবে । সভায় সকলকে শান্তি কার্ড দেয়া হবে। আরো সিদ্ধান্ত হয় সভায় সকলের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। সিদ্ধান্ত মোতাবেক স্বাধীনতাবিরোধীরা মিলে সভায় উপস্থিতির জন্য গ্রামে জোর প্রচারণা চালায়। ২৬ মে সকালে মৃত্যু ভয় নিয়েও অনেকে বিদ্যালয় মাঠে এসে উপস্থিত হয়। সকাল ৯টার দিকে রাজাকার আব্দুল আহাদ চৌধুরী (ছাদ মিয়া), গৌছ মিয়া ডা. আব্দুল খালিকসহ পাক বাহিনীর ক্যাপ্টেন নূর উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পাকিস্তানী সেনা জীপে চড়ে বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে (বর্তমান ইকবাল আহমদ হাই স্কুল এন্ড কলেজ) অবস্থান নেয়। প্রথমে তারা তাদের পূর্বকল্পিত নকশা অনুযায়ী সবার উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। এসময় পাক হানাদারদের একটি দল গ্রামে ঢুকে পুরুষদের মিটিং-এ আসার তাগিদ দিতে থাকে। সকাল ১০ টায় বিদ্যালয় মাঠে সমবেত লোকদের মধ্যে হিন্দু-মুসলমানকে আলাদা করা হয়। এসময় পাক বাহিনী তাদের মধ্যে আলাপ আলোচনা করে কয়েকশ’ মুসলমানকে কলেমা পড়িয়ে এবং পাকিস্তানের স্লোগান দিয়ে ছেড়ে দেয়। হিন্দুদের বিদ্যালয়ের অফিসকে ও অবশিষ্ট মুসলমানদের দক্ষিণ দিকের একটি শ্রেণী কে রাখা হয়। পাকবাহিনী তাদের জিম্মায় থাকা মুসলমাদের নির্দেশ করে ৪ জন করে হিন্দুকে এক সাথে বাঁধার জন্য। এসময় গ্রামের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বাদশা মিয়া ক্যাপ্টেনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, এটা ইসলাম বিরোধী কাজ। এখানে হিন্দুদের দাওয়াত করে আনা হয়েছে। ক্যাপ্টেন নূর উদ্দিন চেয়ারম্যানকে ধমক দিলে তিনি নিরব হয়ে যান। হিন্দুদের যে ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল; একটি জানালা শ্রী নিবাস চক্রবর্ত্তী কৌশলে খোলে ফেলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল জানালা দিয়ে পালিয়ে যাবেন, কিন্তু পারেননি। এক সময় ঐ খোলা জানালা দিয়ে বুরুঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রীতি রঞ্জন চৌধুরী ও রানু মালাকার নামের এক যুবক পালানোর উদ্দেশ্যে লাফ দিয়ে দৌড়াতে শুরু করেন। এসময় পাক সেনারা তাদের উপর বৃষ্টির মতো গুলি ছুঁড়ে। ভাগ্যক্রমে দু’জনই নিরাপদ দুরত্বে চলে যেতে সম হন। দুপুর ১২ টার দিকে পাক সেনারা প্রায় শতাধিক লোককে বাধা অবস্থায় বিদ্যালয়ের মাঠে এনে ৩টি এলএমজির সামনে লাইনে দাঁড় করায়। ক্যাপ্টেন নূর উদ্দিন উপস্থিত সবাইকে মুজিব বাহিনীর দালাল আখ্যায়িত করে বলে- এখন তোমাদের কি করবো তোমরাই বলো! তখন রাজাকার আব্দুল আহাদ চৌধুরী (ছাদ মিয়া) ও আব্দুল খালিক ক্যাপ্টেনকে উদ্দেশ্য করে বলে, এরা সকল মুজিবের সমর্থক, এদের বাঁচিয়ে রাখা উচিত নয়। তখন ক্যাপ্টেন নূর উদ্দিনের সামান্য ইশারায় এলএমজিগুলো এক সাথে গর্জে উঠে। মুহূর্তেই রক্তে রঞ্জিত হয়ে উঠে সবুজ মাঠ, নিস্তেজ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সবগুলো দেহ। পাক বাহিনী গুলি করেই ক্ষান্ত হয়নি। মৃত্যু নিশ্চিত করতে বুরুঙ্গা বাজার থেকে ২টিন কেরোসিন এনে লুটিয়ে পড়া দেহগুলোর ওপর ঢেলে আগুন দেয়। তৎকালীন সিলেট জর্জ কোর্টের উকিল রাম রঞ্জন ভট্টাচার্য্যকে একটি চেয়ারে বসিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এসময় তাকে ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে যাওয়ার অনুমতি পেছন দিক থেকে গুলি করে হত্যা করে। মানুষের অত্মচিৎকারে চারিদিক যখন প্রকম্পিত রাজাকার আব্দুল আহাদ চৌধুরী (ছাদ মিয়া), আব্দুল খালিকসহ আট-দশজন পাকিস্তানী তাবেদার তখন সমস্ত গ্রামে লুটপাট ও নারী নির্যাতনে মগ্ন হয়। পাক বাহিনীর ধ্বংসযজ্ঞ থেকে একাধিক গুলি খেয়েও ভাগ্যক্রমে কয়েকজন বেঁচে থাকা কয়েকজন এসময় পালিয়ে যেতে সম হয়। সমস্ত দিন-রাত পোঁড়া, অর্ধপোঁড়া লাশ গুলি একই জায়গায় পড়ে রইল। পরদিন সকালে আবার কিছু পাকিস্তানী সৈন্য বুরুঙ্গায় এসে স্থানীয় চেয়ারম্যানের কাছ থেকে কিছু লোক চেয়ে নিয়ে মৃত দেহ গুলোকে বুুরুঙ্গা স্কুলের পাশে (বর্তমান গণকবরে) একটি গর্ত খুঁড়ে মাটি চাঁপা দেয়।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net