শিরোনাম

Monthly Archives: অক্টোবর ২০১৫

রিকশার চেইনে ওড়না পেঁচিয়ে গৃহকর্মীর মৃত্যু

সংবাদ দাতা : রাজধানীর তেজগাঁওয়ের নাখালপাড়ায় এলাকায় আজ রোববার সুমাইয়া আক্তার (১৬) নামের এক গৃহকর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ওই বাসার গৃহকর্ত্রীর দাবি, রিকশার চেইনের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে সুমাইয়ার গলায় ফাঁস লাগে। এতে তার মৃত্যু হয়েছে।

গৃহকর্ত্রী রুনা আক্তারের দাবি, আজ দুপুরে বাসার পাশের একটি স্কুল থেকে তাঁর মেয়েকে নিয়ে রিকশায় করে সুমাইয়া ফিরছিল। পথিমধ্যে রিকশার চেইনের সঙ্গে সুমাইয়ার ওড়না পেঁচিয়ে তার গলায় ফাঁস লেগে যায়। এতে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে রিকশাওয়ালা সুমাইয়াকে তাঁর বাসার দরজার সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

রুনা আক্তারের ভাষ্য, বাসায় আনার পর সুমাইয়াকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল-১ এর পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক বলেন, সুমাইয়ার লাশ জরুরি বিভাগ মর্গে রাখা হয়েছে। তার মৃত্যুর কারণটি সন্দেহজনক হওয়ায় লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে।

বাংলাদেশের চাহিদা মতো বিদ্যুৎ সরবরাহে ভারত প্রস্তুত

বাংলাদেশের যত পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগবে তার সবটুকু দিতে প্রস্তুত রয়েছে ভারত। বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ যখনই বাংলাদেশ চাইবে তখনই ভারত থেকে চাহিদামতো বিদুৎ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু।

রোববার সকালে সচিবালয়ে ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ সব তথ্য জানান তিনি। এ সময় পঙ্কজ শরণও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের চাহিদামতো বিদ্যুৎ ভারত দিতে প্রস্তুত রয়েছে। এই তথ্যসহ আরও কিছু দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে কী পরিমাণ বিদ্যুৎ বাংলাদেশের লাগবে বা ভারতে দিতে প্রস্তুত তা গণমাধ্যমকে জানাননি প্রতিমন্ত্রী বিপু।

বর্তমানে ভারত থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমাদানি করছে বাংলাদেশ। সামনের ডিসেম্বর আরও ১০০ মেগাওয়াট আমদানি শুরু হবে। আগামী বছর নতুন আরও এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর বাইরে রিজিওনাল পাওয়ার শেয়ারিং নিয়েও কথা হয়েছে জানিয়ে নসরুল হামিদ বলেন, বাংলাদেশ, ভুটান, ইন্ডিয়া এবং নেপালের মধ্যে (বিবি আইএন) পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ আনা-নেওয়ার বিষয়েও তারা (ভারত) ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

এই বিষয়ে চার দেশের সচিব পর্যায়ে একটি বৈঠকের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতে অনুষ্ঠিতব্য এই বৈঠকের সম্ভাব্য তারিখ চলতি বছরের ২৭ নভেম্বর।

সহযোগিতামূলক সম্পর্কের মধ্যে বিদ্যুৎ আদান-প্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা ভেড়ামারা-ভেরামপুর দিয়ে এরই মধ্যে (৫০০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ আদান-প্রদান করছি। এই পথের বিদ্যুতের পরিমাণ এক হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার জন্য দুই দেশই সম্মত হয়েছে।

‘পালাটানা থেকে আরও ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশকে দেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’

নির্মিতব্য রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাংলাদেশ-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক হিসেবে উল্লেখ করে পঙ্কজ শরণ বলেন, দুই দেশের মালিকানাভিত্তিক এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রমাণ হয় যে, দ্বিপাক্ষিক ভাল সম্পর্ক কীভাবে নিজেদের উন্নয়নে কাজ লাগে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বাংলাদেশের সকল আইন মেনে নির্মিত হচ্ছে। এর সঙ্গে অবশ্যই পরিবেশগত বিষয়গুলো রয়েছে। তাই আমরা মনে করি, এই প্রকল্প বাংলাদেশের সকল পরিবেশগত বিধিনিষেধ মেনে নির্মাণ হতে যাচ্ছে।

স্বর্ণের দাম বাড়লো

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি আউন্স বা ৩১.১০৩৪৭৬৮ গ্রাম সোনার দাম গত শুক্রবার দাঁড়ায় ১ হাজার ১৮৩ মার্কিন ডলারে। গত ২৭ মের পর সাড়ে চার মাসের মধ্যে এটিই সোনার সর্বোচ্চ দাম।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। ভরিতে ১ হাজার ৫১৭ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সারা দেশে নতুন দর গতকাল শনিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। ফলে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেট সোনা ৪৩ হাজার ৭৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ৪১ হাজার ৬৪০ এবং ১৮ ক্যারেটের দাম কমে হচ্ছে ৩৪ হাজার ৯৯২ টাকা। সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ২৩ হাজার ৯১১ টাকা। আর ২১ ক্যারেট (ক্যাডমিয়াম) রুপার ভরি দাঁড়াচ্ছে ৯৯১ টাকা। জুয়েলার্স সমিতি গত শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সোনা-রুপার দাম বৃদ্ধির বিষয়টি জানিয়েছে।
সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার পর্যন্ত প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনা ৪২ হাজার ২২৩, ২১ ক্যারেট ৪০ হাজার ১২৪ এবং ১৮ ক্যারেট ৩৩ হাজার ৪৭৫ টাকায় বিক্রি হয়। সনাতন পদ্ধতির সোনার ভরি ছিল ২২ হাজার ৫৬৯ টাকা। রুপার ভরি বিক্রি হয় ৯৩৩ টাকায়। ফলে নতুন দরে প্রতি ভরি ২২, ২১ ও ১৮ ক্যারেটে ১ হাজার ৫১৭ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির সোনার দরে ভরিতে ১ হাজার ৩৪২ টাকা বেড়েছে। আর রুপার দাম বেড়েছে ভরিতে ৫৮ টাকা।
সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর সোনার দর ভরিতে ১ হাজার ৫০ টাকা পর্যন্ত কমায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি। তার আগে ২৩ আগস্ট প্রতি ভরি সোনায় সর্বোচ্চ ১ হাজার ৫১৬ টাকা বৃদ্ধি করে। আর গত ৬ আগস্ট ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২২৪ টাকা কমায়।
জানতে চাইলে জুয়েলার্স সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক খান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনা ও দেশের বাজারে সোনা সরবরাহের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে দামটি সমন্বয় করা হয়। গত এক মাসে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৭০-৮০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। তাই দেশের বাজারে দাম বাড়ানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ব্লুমবার্গ ও বুলিয়নভল্টের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নীতিনির্ধারণী সুদের হার বাড়ানোর কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক তা করেনি। এ ছাড়া দেশটির শ্রমবাজার শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি শূন্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে। অন্যদিকে চীনের অর্থনীতি ধীরে ধীরে চাঙা হচ্ছে। সব মিলিয়েই সোনার দর বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, ধারণা ছিল যে যুক্তরাষ্ট্র সুদের হার বাড়ালে ডলারের বিভিন্ন বিনিয়োগ স্কিমে বিনিয়োগকারীরা বেশি আগ্রহ দেখাবে। এ জন্য প্রাথমিক প্রাক্কলন ছিল বছরের শেষ তিন মাসে সোনার দাম কমে ১ হাজার ৫০ ডলারে চলে আসবে। তবে গত সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়ে কিছু জানায়নি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক। আর যেহেতু আপাতত এটি হচ্ছে না, তাই চলতি বছরের শেষ প্রান্তিকে প্রতি আউন্স সোনার দাম ১ হাজার ২০০ ডলারের কাছাকাছি চলে গেছে।

ঘুর্ণিঝড়ে ফিলিপাইনে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি

ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘কপু’। ঘূর্ণিঝড়ে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। বিদ্যুতের লাইন উপড়ে পড়েছে। হাজারো মানুষ তাঁদের ঘরবাড়ি ছেড়েছে। আজ রোববার বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্থানীয় সময় আজ সকালে লুজন দ্বীপের কাছে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে। শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়টি ধীর গতিতে অগ্রসর হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে তিন দিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি হতে পারে। বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দেশটির সরকারের দুর্যোগ-বিষয়ক সংস্থার প্রধান আলেকজান্দ্রার পামা বলেছেন, উত্তর-পূর্ব লুজনে ১০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ভারতীয় ‘র’ নওয়াজকে হত্যার পরিকল্পনা করছে!

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও জামাতুদ দাওয়ার (জেইউ) প্রধান হাফিজ মোহাম্মদ সাঈদকে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ হত্যার চেষ্টা চালাতে পারে বলে দেশটির পাঞ্জাবের প্রাদেশিক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সতর্ক করেছে।

পাঞ্জাবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল শনিবার এ ব্যাপারে একটি গোপন গোয়েন্দা প্রতিবেদন পেয়েছে বলে দাবি করেছে।

আজ রোববার পাকিস্তানের ডন পত্রিকার অনলাইন সংস্করণের এক খবরে জানানো হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গতকাল বলেন, দুই দিন আগে ওই সতর্কবার্তাটি পাওয়া গেছে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) প্রধানমন্ত্রী ও জেইউর প্রধানকে হত্যার জন্য তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া চিঠি সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তানে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে ‘র’ ‘মহা মূল্যবান শিকার’-এর পরিকল্পনা এটেছে।

প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও হাফিজ সাঈদকে এ সতর্কবার্তার বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, দেশটির গোয়েন্দা বিভাগ বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে জন সমাগমের সময় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা জোরদার করতে নিরাপত্তা রক্ষীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিভীষিকাময় আজ ‘নিরাপদ’ নগরী

image
নাজমুল ইসলাম

পবিত্র মক্কা। সর্বকালীন শান্তি ও নিরাপত্তার নগরী। কিন্তু তা আজ মৃত্যুভয়ে বিভীষিকাময়। আল্লাহর ঘরের মেহমান হাজিদের দলিত ক্ষতবিক্ষত ও গলিত লাশের গন্ধে মক্কার বাতাস ভারী হয়ে ওঠেছে। কিন্তু কারা এ পুণ্যস্থানকে লাশের নগরীতে পরিণত করল? কে দিবে এ প্রশ্নের সদুত্তর? ঠিক হজ্জের সময়ে ঘটে যাওয়া হৃদয়বিদারক ঘটনাগুলো বিশ্বমানবতাকে স্তম্ভিত ও বিক্ষোব্ধ করে তোলেছে। মুসলিম মিল্লাত আজ শোকাকুল। ক্ষমতালোভী অথর্ব রাজাদের অব্যবস্থাপা, অদূরদর্শিতা, অজ্ঞতা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে যখন বিশ্বমুসলিম ফুঁসে ওঠছে তখন তারা নিজেদেরকে মাসুম বেগুনাহ প্রমাণিত করার হীন প্রচেষ্টায় মশগুল । কিছুতেই যখন কাজ হচ্ছেনা তখন তাদের ব্রহ্মাস্ত্রটি ব্যবহার করছে। আর তা হল গ্র্যান্ড মুফতির ফতোয়া। আলে সৌদের গৃহপালিত এই মুফতি ফতোয়া দিলেন, ”হাজিদের মৃত্যুর জন্য তাদের ভাগ্য দায়ী । এসব ঘটনায় বাদশাহদের দায়ী করা যাবেনা।” বাহঃ কি দৈববাণীই না তিনি শোনালেন! আলে সৌদ ও তাদের তাবেদার আলেমরা ওয়াহাবী মতাদর্শী জানতাম, কিন্তু বেকায়দায় পড়লে যে তারা জাবরিয়া (অদৃষ্টবাদী) হয়ে পড়েন তা এই ফতোয়ায় প্রমাণিত হল। এভাবে ভাগ্যের ঘাড়ে দায় চাপালে দেশে বিচারব্যবস্থা রাখার কি আদৌ দরকার আছে? বাদশাহদের প্রতিশ্রুত তদন্ত কমিটি এখন কী ফলাফল প্রকাশ করবে তা নাবালক বাচ্চাও বলে দিতে পারবে। মুসলিম ভাইদের প্রতি জিজ্ঞাস্য হল, রাষ্ট্রে সংঘটিত দুর্ঘটনার কারণ ও দায়-দায়িত্ব কি ফতোয়ার বিষয় না নিরপেক্ষ তদন্তের বিষয়? আসলে এই স্বার্থান্বেষী মূর্খরা বিশ্ব মুসলিমদেরকে নিজেদের চেয়েও বেশি মূর্খ মনে করে । আর সবখানেই ইসলামের পবিত্র আবরণ দিয়ে নিজেদের অনাচার ঢাকার চেষ্টা করে । এই হজ্জ ট্রাজেডিতেও এর ব্যত্যয় ঘটেনি। বস্তুত , হজ্জ ফরয হওয়ার শর্তের মধ্যে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার সাথে জীবনের নিরাপত্তার বিষয়টিও অপরিহার্য। এভাবে প্রাণনাশের ঘটনা অব্যাহত রেখে হজ্জ পরিচালনা করা কি আদৌ শরীয়তসম্মত হবে? গ্র্যান্ড মুফতি এ ব্যাপারে কিছু বললে বাদশাহদের শাহী তখত নড়েচড়ে ওঠত। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হত না। কিন্তু তা না করে তিনি আলে সৌদের দালালি মার্কা ফতোয়া জারি করে আধুনিক বিশ্বকে জাহেলি মন্ত্রে বিভোর বানাতে চাইলেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও গণমাধ্যম সূত্রে আমরা জানতে পারি , মসজিদুল হারাম সম্প্রসারণের কাজে নিয়োজিত বিন লাদেন গ্রুপের প্রায় ১০০টি বিশালায়তন ক্রলার ক্রেন মসজিদের চতুর্দিকে বসানো ছিল। ১১ সেপ্টেম্বর বিকেল পাঁচটা বিশের দিকে ঝোড়ো আবহাওয়ায় এর একটি ক্রেন ভেঙে মসজিদের পূর্ব পাশের ছাদের উপর পড়ে এবং ছাদ ভেঙে কংক্রিটের স্তূপের নিচে চাপা পড়ে শহীদ হন শতাধিক হাজি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সংবাদ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ছবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই সৌদি সরকারের হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। যেখানে সাধারণ নির্মাণকাজেই ক্রেনের আশপাশ থেকে মানুষ সরিয়ে নেয়া হয়, সেখানে হজ মওসুমে লক্ষ লক্ষ হাজির আগমণ হবে জেনেও সৌদি সরকার কেন হাজার কেজি ওজনের ক্রেনগুলোকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে রাখল না, এই অভিযোগ মুসলিম অমুসলিম নির্বিশেষে সকল বিবেকবান মানুষের । এমন অনিরাপদ কনস্ট্রাকশন পরিচালনা কি সৌদি প্রিন্সদের অপরাধ নয়? এইমর্মান্তিক ক্রেন দুর্ঘটনায় আল্লাহর মেহমান হাজিদের প্রতি সৌদি সরকারের অবজ্ঞা ওউদাসিনতাই ফুটে উঠেছে । ক্রেন দুর্ঘটনায় শতাধিক হাজির মৃত্যর অব্যবহিত পরেই ঘটে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা, যা হাজিদেরকে আরো অনিরাপত্তায় ফেলে; একইসঙ্গে প্রায় ২০ লাখ হাজির আত্মীয় স্বজনসহ গোটা মুসলিম উম্মাহকে উদ্বিগ্ন করে। কিনতুএই অনিরাপত্তাকে চরম মাত্রায় নিয়ে যায় ২৪ সেপ্টেম্বরের হত্যাকাণ্ড। ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫, ঈদুল আযহা। হজের নিয়মানুযায়ী সকালবেলা মুজদালিফা থেকে মিনার জামারাতের (শয়তানের প্রতিকৃতি হিসেবে তৈরী পাথরের স্তম্ভ) উদ্দেশে হাজিরা যাত্রা শুরু করবেন এবং সেখানে পৌঁছে শয়তানের স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ করবেন। এখানে বলে রাখা ভালো যে, এই পথে বেশ কয়েকটি রাস্তা তৈরি করা হয়েছে এবং গোটা হজ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য কয়েক হাজার ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাও ইনস্টল করা হয়েছে। সেভাবেই গত ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার হাজিরা যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু সকাল নয়টার দিকে জামারাতে পৌঁছবার কয়েক কিলোমিটার আগে হঠাৎই কোনো এক কারণে কাফেলার সামনের দিকে হাজিরা থেমে যান, আর পেছন থেকে হাজিদের হাঁটার স্রোত অব্যাহত থাকায় প্রায় দুই হাজার হাজি পদপিষ্ট হয়ে, অত্যধিক চাপে ও দম বন্ধ হয়ে মারা যান। যদিও সৌদি সরকার নিহতের সংখ্যা ৭৬৯ বলে দাবি করছে। সৌদি প্রিন্স আল ওয়ালিদ বিন তালাল আল সৌদ এর আংশিক মালিকানাধীন লেবানিজ দৈনিক আদ-দিয়ার অভিযোগ করেছে যে, সৌদি প্রিন্স মুহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ শতাধিক নিরাপত্তারক্ষীর গাড়িবহর নিয়ে ওই রাস্তা দিয়ে যাবার সময় বেশখানেক পথ বিনা নোটিশে আটকে দেয়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ভিডিও ফুটেজ এর দৃঢ়তা প্রদান করেছে। এদিকে সৌদি সরকারের কেন্দ্রীয় হজ কমিটির খালেদ আল ফয়সাল ”আফ্রিকান হাজিরাই এজন্য দায়ী” বলে বর্ণবাদী মন্তব্য করায় সোশাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন। মাত্র দুটি রাস্তা খোলা রেখে বাকিগুলো কেন বন্ধ করা হলো এবং ঠিক কী কারণে কিভাবে এই ঘটনা ঘটল তার কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা সৌদি সরকার দিতে পারেনি; এমনকি কোনো ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেনি, যদিও এলাকাটি সার্বক্ষণিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার অধীনে ছিল। সৌদি সরকার বলছে যে, তদন্ত কমিটির রিপোর্ট পেলেই কারণ জানা যাবে, অথচ এরই মাঝে তারা গ্র্যান্ড মুফতির ফতোয়া জারি করে হাজিদের দোষ দিয়ে বসে আছেন, বর্ণবাদী মন্তব্যও করেছেন। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রকাশের আগেই নিজেদেরকে অভিযোগ থেকে রক্ষা করতে কখনো আফ্রিকান হাজিদের দোষ দিয়ে আর কখনো ভাগ্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিচ্চেছন। তাদের এই অনৈতিক ততপরতা মূলত দৈনিক আদ-দিয়ার এর অভিযোগকেই আরো দৃঢ় করেছে। যে গৃহকে আল্লাহ তায়ালা নিরাপদ করেছেন (সূরা কুরাইশ, ১০৬:৪), সহস্রাধিক হাজির এই হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে তার নিরাপত্তাকে লঙ্ঘিত করেছে আলে সৌদ। অবশ্য হাজিদের রক্তে আলে সৌদের হাত আজ নতুন করে রঞ্জিত হয়নি, বরং এর ইতিহাস আরো পুরনো। ৩১ জুলাই ১৯৮৭, জুমাবার। জুমার নামাজের আগ দিয়ে লক্ষাধিক ইরানী হাজিসহ অন্যান্য দেশের হাজিরা মক্কায় এক মিছিলের আয়োজন করেন। তারা ’আল্লাহু আকবার’, ’লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’, ’আমেরিকা আল্লাহর দুশমন’, ’ইসরাইল আল্লাহর দুশমন’ ’বিশ্বের সকল মুসলিম এক হও’, ’আমরা ফিলিস্তিনি জনগণের পক্ষে’ ইত্যাদি বলে শ্লোগান দেন। মিছিলে এমনকি সৌদি আরব কিংবা সৌদি রাজ পরিবার আলে সৌদের বিরুদ্ধে একটি শ্লোগানও দেয়া হয়নি, তবুও সৌদি পুলিশ হাজিদের উপর চড়াও হয়। মিছিলকারীদের কেউ কেউ পবিত্র কা’বা ঘরে আশ্রয় নিতে চাইলেও পুলিশ তাদেরকে সেখানে যেতে দেয়নি। এসময় আল্লাহর মেহমান প্রায় পাঁচশত হাজিকে গুলি করে হত্যা করে সৌদি সরকার। যে গৃহকে আল্লাহ তায়ালা নিরাপদ করেছেন, যে হারাম শরীফে রক্তপাত নিষিদ্ধ করেছেন, সেখানে আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ অমান্য করে আল্লাহরই মেহমানদের নির্মমভাবে হত্যা করেছিল আলে সৌদ। ইয়েমেনে সৌদি তাঁবেদার প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদির ২২ জানুয়ারির পদত্যাগের পর জনপ্রিয় হুসি বিপ্লবীরা সরকারের দখল নিয়ে নিলে হুসি বিপ্লবীদের অগ্রযাত্রা শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৫শে মার্চ মানসুর হাদি পালিয়ে যান সৌদি আরব। আর তাঁবেদার প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল করতে একই দিনে সৌদি আরব ইয়েমেনে বোমা হামলার মাধ্যমে আগ্রাসনের সূচনা করে, যা আজ অবধি চলছে। ইসলামে যে চারটি মাসে যুদ্ধ বিগ্রহ ও রক্তপাতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সে মাসগুলোর তোয়াক্কা না করেই রজব ও যিলক্বদ মাসে সৌদি আরব আগ্রাসন চালিয়ে গিয়েছে। এবং এই হজের মাস যিলহজ্জে ও তা থেমে নেই; যদিও এই মাসটিও নিষিদ্ধ মাস। ১৯৮৭ সালে যেমন তারা আল্লাহর মেহমানদের হত্যা করেছিল নিষিদ্ধ মাসের তোয়াক্কা না করেই, এই ২০১৫ সালেও তারা সেটি করে যাচ্ছে ইয়েমেন। বেসামরিক এলাকায় হামলা করে এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার ইয়েমেনিকে হত্যা করেছে সৌদি জোট, যার অধিকাংশই নারী-শিশু। মার্কিন-ইসরায়েলি লজিস্টিক সাপোর্টে সৌদি আরবের নেতৃত্বে মিশর, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আরো কয়েকটি দেশ একত্রে দরিদ্র রাষ্ট্র ইয়েমেনে হামলা চালিয়ে আসছে গত মার্চ মাস থেকে। এমনকি রমজান মাসেও তারা হামলা চালিয়ে গিয়েছে। উপরন্তু দরবারি আলেম সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি ফতোয়া জারি করে আগ্রাসনে অংশ নেয়া সৌদি যোদ্ধাদের জন্য রোজা মওকুফ করে দিয়েছেন! সৌদি সংবিধান অনুযায়ী- সৌদি আরবের শাসনক্ষমতা সর্বদা আলে সৌদের (অর্থাৎ আবদুল আজিজ আল সৌদ এর বংশধর) হাতে থাকবে। (অতএব স্বাভাবিকভাবেই এখানে নিজেদের নেতা / শাসক বেছে নেয়ার কোনো সুযোগ জনগণের নেই।) এরপর বলা হয়েছে যে, কুরআন ও সুন্নাহ অনুসারে এদের মাঝে সবচে’ নীতিবান ব্যক্তি রাজা হবে। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, প্রধানতঃ অলিখিত সংবিধানের এই রাজতন্ত্রে রাজা ও রাজবংশের সবাই কার্যত আইনের ঊর্ধ্বে থাকেন। গ্র্যান্ড মুফতিকে রাজা নিজে নিয়োগ দেন ও পদচ্যুত করার ক্ষমতা রাখেন। আর এই গ্রান্ড মুফতির প্রভাবের অধীনেই দেশের বিচারকার্য পরিচালিত হয়। যে কারণে আমরা কখনও সৌদি গ্র্যান্ড মুফতিকে আলে সৌদের বিরুদ্ধে কোনো কথা বলতে দেখি না, কোনো শাস্তি প্রদান করতে দেখি না। যদিও সৌদি রাজবংশের ব্যাপারে বহুসংখ্যক রক্ষিতা রাখাসহ অস্বাভাবিক রকম নিষিদ্ধ ভোগ বিলাসে মত্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবুও সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি ও শরিয়া বোর্ড নীরব! বরং সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি ও শরিয়া বোর্ড যত উদ্ভট ফতোয়া দিতে ব্যস্ত। যেমন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে মিছিল করা হারাম, ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করা হারাম, আরবের সকল গির্জা ধ্বংস করতে হবে, নবী (সাঃ) অবমাননার প্রতিবাদে মিছিল করা হারাম, মেয়েরা দেয়ালের দিকে মুখ করে শু’তে পারবে না.. এবং এমন আরো অনেক কিছু। আর সম্প্রতি হাজিদের হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে তো বলেই দিয়েছে যে, এটা হলো ভাগ্য, এখানে হজ কমিটির প্রধান সৌদি প্রিন্সকে দোষারোপ করা যাবে না। এরপরও যদি কেউ মনে করেন সৌদি আরবে ইসলামী শাসন কায়েম রয়েছে, তবে সে ব্যক্তির ন্যূনতম বিচারবুদ্ধিও লোপ পেয়েছে। আসলে দরবারি আলেমদের দিয়ে ইসলামের নামে তাবেদারি ব্যবস্থা তৈরি করে রেখেছে এই আলে সৌদ। আর তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে যেন মুসলিম বিশ্ব কোনো প্রশ্ন না তোলে, সেজন্যে দুটি অস্ত্র তারা ব্যবহার করছে: এক. মক্কা মদিনার জিম্মাদার হওয়া, দুই. তেলের টাকায় বিশ্বব্যাপী বাড়াবাড়িমূলক ওহাবী মতবাদ প্রচার করা, যা তাদেরকে ধর্মীয় সমর্থন দিয়ে যাচ্চেছ । মুসলিম বিশ্বে ব্রিটিশ গুপ্তচর হ্যামফার এর স্মৃতিকথা থেকে জানা যায় যে, উদ্ধত অস্থিরমনা যুবক আবদুল ওয়াহহাব নজদীকে মুসলিম বেশধারী ব্রিটিশ গুপ্তচর হ্যামফার বিকৃত ইসলাম প্রচারে উদ্বুদ্ধ করে। এই মতবাদ প্রচারের জন্য ১৭৪৪ সালে সৌদি রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ বিন সৌদের (যার বংশধারায় আধুনিক সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতার জন্ম) সাথে আবদুল ওয়াহহাব নজদী চুক্তিবদ্ধ হন এই শর্তে যে, মুহাম্মদ বিন সৌদ যুদ্ধের মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চল দখল করে রাজ্য সম্প্রসারণ করবেন, আর আবদুল ওয়াহহাব নজদী ধর্মীয় নেতা হিসেবে সর্বদা তাকে সমর্থন দেবেন ও দখলীকৃত অঞ্চলের মানুষদের উপর ”ওয়াহাবী ইসলাম” প্রয়োগ করবেন। আজকের সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি কিভাবে সৌদি বাদশাহ ও প্রিন্সদের অনুগত দাসের ন্যায় আচরণ করেন, তা বুঝতে হলে এই ইতিহাস কাজে লাগবে। ১৯১৭ সালের ”ব্যালফোর ঘোষণায়” আবদুল আজিজ বিন সৌদ এর কাছ থেকে ব্রিটেন লিখিত সম্মতি আদায় করে যে, ফিলিস্তিন দখল করে ব্রিটেন যদি ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে, তবে তাতে সে আপত্তি জানাবে না। পরবর্তীতে ১৯২৪ সালে এই আবদুল আজিজ বিন সৌদকেই তারা ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করে। ১৯৪৮ সালে প্রত্যক্ষ ব্রিটিশ সহযোগীতায় ফিলিস্তিন দখল করে জন্ম হয় যায়নবাদী ইসরাইলের। সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল আজিজ বিন সৌদ ব্রিটেনকে যে দাসখত লিখে দিয়েছিলেন, তা ছিল এই: “আমি বাদশাহ আবদুল আজিজ বিন সৌদ হাজারবার স্বীকার করছি ও জেনেশুনে বলছি যে, মহান ব্রিটিশ সরকারের প্রতিনিধি স্যার কুকাস-এর সামনে স্বীকারোক্তি করছি এই মর্মে যে, গরিব ইহুদিদেরকে বা অন্য কাউকে ব্রিটিশ সরকার যদি ‘ফিলিস্তিন’ দান করে দেন তাহলে এতে আমার কোনো ধরনের আপত্তি নেই। বস্তুত আমি কিয়ামত পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকারের অভিমতের বাইরে যাব না।” (নাসিরুস সাইদ প্রণীত ‘আলে সৌদের ইতিহাস’) কেন সৌদি গ্র্যান্ড মুফতি ইসরাইলের বিরুদ্ধে মিছিল করা হারাম ফতোয়া দেন, কিংবা সৌদি অর্থপুষ্ট আইএস জঙ্গিরা কেন শুধু মুসলমানদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ করে যাচ্ছে, অথচ জুলুমবাজ ইসরাইলের বিরুদ্ধে একটি গুলিও ছুঁড়ছে না, তা বুঝতে হলে এই ইতিহাসটি কাজে লাগবে। ১৯৮৭ সালে ফিলিস্তিনের পক্ষে আর ইসরাইল-আমেরিকার বিপক্ষে শ্লোগান দেয়া হাজিদের কেন তারা হত্যা করেছিল, তা বুঝতে হলেও এই ইতিহাস জানতে হবে। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি বুঝতে হলে এই বিষয়গুলো জানতে হবে। যদিও পেট্রোডলারের কাছে নিজেদেরকে বিক্রি করে দিয়ে মুসলিম বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র/ ইসলামী দল/ ইসলামী ব্যক্তিত্ব নীরব হয়ে রয়েছে, তবুও ইরানের মত কিছু দেশ ও তাদের আলেমগণ নিজেদেরকে বিক্রি করে দেয়নি, ইহুদি-মার্কিন সেবাদাস হয়ে দাসখত লিখে দেয়নি। সাম্প্রতিক হাজ ট্রাজেডিতে হত্যাকাণ্ডে সৌদি সরকারের মুখোশ যখন উন্মোচন হতে শুরু করেছে, হজ পরিচালনায় আলে সৌদের অযোগ্যতার কথা যখন মানুষের মুখে মুখে উঠে আসছে, তখন এটাকেও ”শিয়া ইরানের মক্কা দখলের ষড়যন্ত্র” হিসেবে চিত্রায়িত করে সত্যকে ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশ্বজনীন বিজ্ঞ মুসলিমগণ এই হত্যাকাণ্ডের আন্তর্জাতিক বিচার দাবি করছে। দাবি উঠছে হজ পরিচালনা অযোগ্য আলে সৌদের হাতে এককভাবে না রেখে মুসলিম বিশ্বের সমন্বয়ে একটি কার্যকরী কমিটি গঠন করার। নিঃসন্দেহে এটি যৌক্তিক দাবি। সৌদি আরবের মত বিলিয়ন ডলার ব্যয় না করেও বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমায় প্রতি বছর ২৫-৩০ লাখ লোক-সমাগম ঘটে এবং খুব সুষ্ঠুভাবেই তা সম্পন্ন হয়। প্রতি বছর ইরাকের কারবালায় এর কয়েক গুণ বেশি মানুষের সমাগম ঘটে, সেটাও সুষ্ঠুভাবেই পরিচালিত হয়। তাই মিনার হজ্জ ট্রাজেডি যে সৌদি বাদশাহদের খামখেয়ালি ও অবজ্ঞার ফসল তা সহজেই অনুমেয় । এরা নিজেদের বাদশাহী রক্ষা করতে সাম্রাজ্যবাদীদের খুশি করতে সদা ব্যস্ত। তাদের স্বেচ্ছাচার ও ওদাসিন্যের কারণেই পবিত্র নগরী আজ বিভীষিকাময় হয়ে ওঠেছে। পাপাচারী এই বাদশাহরা ইসলামী শাসননীতির পরিবর্তে জাহেলি রাজতন্ত্র কায়েম করে পবিত্র ভূমির অবমাননা করে আসছে । তাই সময় এসেছে এসব মানবতাহীন ক্ষমতালোভী পশ্চিমাদের সেবাদাসদের প্রতিরোধ করার ।
লেখক: সাহিত্যিক, সাংবাদিক

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net