শিরোনাম

Monthly Archives: নভেম্বর ২০১৫

সৈয়দা সায়রা মহসীনকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ

সিলেটে শিশু সাঈদ হত্যায় পুলিশ সদস্যসহ তিনজনের ফাঁসির দণ্ড      

সিলেটে আলোচিত শিশু আবু সাঈদ (৯) হত্যা মামলায় পুলিশ সদস্যসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রশিদ এ রায় ঘোষণা করেন।

অভিযোগ গঠনের পর আট কার্যদিবসে বিচার কার্যক্রম শেষে আজ এ রায় দেওয়া হলো।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন পুলিশ সদস্য এবাদুর রহমান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথিত ‘তথ্যদাতা’ আতাউর রহমান ওরফে গেদা ও জেলা ওলামা লীগের সাধারণ সম্পাদক এন ইসলাম ওরফে রাকীব। অপর আসামি জেলা ওলামা লীগের প্রচার সম্পাদক মহি হোসেন ওরফে মাসুমকে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার পর আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় শিশু সাঈদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রতি বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

মহি হোসেনকে খালাস দেওয়ার ঘটনায় শিশু সাঈদের বাবা ও আইনজীবীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এর আগে সিলেটের আরেক আলোচিত হত্যাকাণ্ড শিশু শেখ সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হয়েছিল আদালতের ১৭ কার্যদিবসে।

নগরের শাহ মীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র রায়নগরের দর্জিবন্ধ এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদকে গত ১১ মার্চ অপহরণ করে হত্যা করা হয়। সিলেট মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানার বরখাস্ত হওয়া পুলিশ কনস্টেবল এবাদুর রহমানের বাসা থেকে ১৪ মার্চ সাঈদের বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় পুলিশ এবাদুর, এন ইসলাম ওরফে রাকীব, আতাউর রহমান ওরফে গেদাকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা তিনজনই আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তিনজনই উল্লেখ করেন, মোটা অঙ্কের টাকা মুক্তিপণ হিসেবে আদায় করতেই সাঈদকে অপহরণ করেন। তবে সাঈদ তাঁদের চিনে ফেলায় গলা টিপে হত্যা করেন।

সাঈদের বাবা মতিন মিয়ার দায়ের করা মামলায় ওই তিনজনসহ জেলা ওলামা লীগের প্রচার সম্পাদক মহি হোসেন ওরফে মাসুমকেও আসামি করা হয়। গত ৮ নভেম্বর পলাতক মাসুমের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে দুই দিন পর মাসুম আত্মসমর্পণ করেন। সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে গত ১৭ নভেম্বর চার আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর বিচার-প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সৌদিতে বিবাহবহির্ভূত যৌনতার দায়ে নারীর মৃত্যুদণ্ড পুরুষের ১০০ দোররার আদেশ

নতুন নেতা বাংলাদেশে আইএসকে সংগঠিত করবেন- আইএস পত্রিকা দাবিক’র প্রতিবেদন

আইএস এর জঙ্গিরা বাংলাদেশে একজন ‘আঞ্চলিক নেতার অধীনে’ নতুন হামলার জন্য সংগঠিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে উগ্রপন্থি এই দলের মাসিক পত্রিকা ‘দাবিক’ এর সর্বশেষ সংখ্যায়।

IS Statement

সেই আইএস নেতার নাম দাবিক প্রকাশ করেনি। তিনি কে হতে পারেন- তার কোনো আভাসও সেখানে দেওয়া হয়নি। ঢাকায় অভিজিৎ রায় হত্যার ঘটনাস্থল ও ইতালীয় নাগরিক চেজারে তাভেল্লার লাশের ছবি প্রকাশ করে ‘দি রিভাইভাল অব জিহাদ ইন বেঙ্গল’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে উল্লেখ করা হয়েছে ‘বেঙ্গল’ নামে।

সেখানে লেখা হয়েছে, “বাংলাদেশে খিলাফতের সৈনিকেরা খলিফা ইব্রাহিমের আনুগত্যে সমবেত হয়েছেন। পুরনো বিভাজন ভুলে একজন আঞ্চলিক নেতা নির্বাচন করেছেন তারা, তার অধীনে প্রয়োজনীয় সামরিক প্রস্তুতি নিয়েছেন, বাস্তবায়ন করছেন ইসলামিক স্টেট নেতার দেওয়া আদেশ।”

বছর দুই আগে ইরাক ও সিরিয়ার বড় একটি এলাকা দখলে নিয়ে খিলাফত কায়েমের ঘোষণা দেয় আইএস। এ দলের নেতা ইব্রাহিম আল বাগদাদি নিজেকে ঘোষণা করেন খলিফা।

ISIS

নৃশংস হত্যা ও উগ্রবাদী হামলার বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি পশ্চিমা দেশগুলোতেও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে আইএস।

সম্প্রতি বাংলাদেশে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যা, আরেক বিদেশি পাদ্রির ওপর হামলা এবং তল্লাশি চৌকিতে হামলা চালিয়ে পুলিশ হত্যার পর আইএস-এর দায় স্বীকারের খবর আসে। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে আইএস বা তেমন কোনো জঙ্গি দলের কর্মকাণ্ডের কোনো তথ্য গোয়েন্দারা খুঁজে পাননি।

দাবিক লিখেছে, “বাংলায় খলিফার সেনারা যখন কুফরের বিরুদ্ধে নতুন হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ধর্মনিরপেক্ষ মুরতাদ আওয়ামী লীগ সরকার সত্য বিকৃত করছে এবং মুরতাদ বিএনপি ও জামায়াতের ওপর দায় চাপাচ্ছে।”

‘দি রিভাইভাল অব জিহাদ ইন বেঙ্গল’ নিবন্ধে বলা হয়েছে, গত শতকের আশির দশকে আফগানিস্তানে কমিউনিস্টবিরোধী ‘জিহাদ’ শেষ হওয়ার পর মুজাহিদরা নতুন জিহাদের ফ্রন্ট খোলার লক্ষ্য নিয়ে যার যার বাড়িতে ফিরে যান; তাদের মধ্যে বাংলার যোদ্ধারাও ছিলেন। তবে অনেকে ভুল পথে চলায় নব্বই দশকের শেষ দিকে শায়খ আব্দুর রহমান জেএমবি প্রতিষ্ঠা পর্যন্ত তা বিলম্বিত হয়। ২০০৫ সালের ২১ অগাস্ট দেশব্যাপী জেএমবির বোমা হামলার কথা উল্লেখ করে শায়খ রহমানকে ‘উপ-মহাদেশের ১৯তম জিহাদি নেতা’ বলা হয়েছে ওই নিবন্ধে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চেষ্টায় বাংলাদেশে জেএমবির ভিত্তি দুর্বল হয়ে গেলেও সম্প্রতি বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার মধ্য দিয়ে ভারতে এই জঙ্গি দলের তৎপরতার খবর বেরিয়ে আসতে শুরু করে।

ভারতের গোয়েন্দা দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা সুবীর দত্তের ধারণা, আইএস ‘বাংলাদেশ’ না লিখে সচেতনভাবেই হয়তো নিবন্ধে ‘বাংলা’ লিখেছে; পশ্চিমবঙ্গ বা আসামও হয়তো তাদের লক্ষ্য।

বাংলাদেশে সমাপ্ত হলো হাতে লেখা পাসপোর্টের যুগ

২৪ নভেম্বর থেকে শেষ হচ্ছে হাতে লেখা পাসপোর্টের যুগ। আগামীকাল থেকে বিশ্বের কোনো বিমানবন্দরে হাতে লেখা পাসপোর্ট গ্রহণ করা হবে না। ফলে যাঁদের যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (এমআরপি) নেই, তাঁরা হাতে লেখা পাসপোর্ট নিয়ে কোনো দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। তবে তাৎক্ষণিকভাবে চাইলে দূতাবাস বা মিশন থেকে ‘ট্রাভেল পাসপোর্ট’ নিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন প্রবাসীরা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা বলছে, আজ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ প্রবাসীর হাতে এমআরপি পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে হাতে লেখা পাসপোর্টধারীরা বিদেশ থেকে যদি কেউ আসতে চান, তবে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মিশন থেকে একটি পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে আসতে পারবেন। এ ছাড়া যেসব প্রবাসী দেশে আছেন, তাঁদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে এমআরপি করার সুযোগ থাকবে। আর দেশে-বিদেশে জরুরি প্রয়োজনে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট সরবরাহ করতে পারবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পাসপোর্ট) মোস্তফা কামাল উদ্দিন। তাঁর মতে, গতকাল পর্যন্ত মোট ১ কোটি ২৫ লাখ এমআরপি পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত এমআরপি ইস্যু করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন পাসপোর্ট অধিদপ্তর।
গত বৃহস্পতিবার সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, বিদেশে বসবাসরত ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৩৭ জনকে এখনো যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (এমআরপি) দিতে পারেনি সরকার। অন্যদিকে পাসপোর্ট অধিদপ্তর বলছে, এমআরপি পাননি, এমন প্রবাসীর সংখ্যা দুই লাখের বেশি হবে না।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমাদের কোনো লোক বিপদে পড়বে না। কোনো ধরনের সমস্যা হবে না। তাৎক্ষণিক পাসপোর্ট দেওয়ার সব সুবিধা রয়েছে। আমাদের জানা নেই কোথা থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে ১১ লাখ লোককে পাসপোর্ট দিতে পারেনি সরকার।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোজাম্মেল হক খান বলেন, ভিসা নিয়ে যাঁরা বিদেশে রয়েছেন, যাঁদের ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে, তাঁদের সঙ্গে এমআরপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। শুধু ভ্রমণের ক্ষেত্রে এমআরপির প্রয়োজন হবে। তবে তাঁদের দেশে ফিরতে সমস্যা হবে না।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাঁচ শ্রেণির প্রবাসীরা তাঁদের হাতে লেখা পাসপোর্ট যন্ত্রে পাঠযোগ্য পাসপোর্ট (এমআরপি) করাতে আগ্রহী হচ্ছেন না। এঁদের বেশির ভাগই অবৈধভাবে বিদেশে গেছেন বা আছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পাসপোর্ট) মোস্তফা কামাল উদ্দিন আরও বলেন, ‘আমরা স্বীকার করছি, দুই লাখ লোক এমআরপি আওতার বাইরে থাকবেন। সরকার এমআরপি করার জন্য প্রবাসীদের বারবার সুযোগ দিয়েছে। এখন টেলিভিশনেও বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। কেউ যদি এ সুযোগ না নেন, তাহলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এর জন্য দায়ী থাকবেন।’
এ বিষয়ে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এন এম জিয়াউল আলম জানান, যে দুই লাখ লোক এমআরপি আওতার বাইরে থাকবেন, তাঁরাও ধীরে ধীরে করে ফেলবেন।

কারাগারে আদেশ যায়নি: সাকা-মুজাহিদ কনডেম সেলে

মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। অবশ্য রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজের সংক্ষিপ্ত আদেশ এখনো কারাগারে পৌঁছায়নি।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি-প্রিজন) গোলাম হায়দার এ কথা বলেন।
মুজাহিদ আগে থেকেই কেন্দ্রীয় কারাগারে ছিলেন। আর আজ সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে কাশিমপুর কারাগার থেকে কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় তাঁদের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।
এই দুই আসামির করা রায় পুনর্বিবেচনার দুটি পৃথক আবেদন আজ আপিল বিভাগ খারিজ করে দেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আপিল খারিজ হওয়ায় রায় কার্যকর হওয়া এখন সময়ের ব্যাপার। তিনি বলেন, সংক্ষিপ্ত আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছানোর পর ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, এর আগে অবশ্য দুই আসামিই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন।

প্যারিস হামলায় তিনটি দল সম্পৃক্ত

প্যারিস হামলার পেছনে তিনটি দল জড়িত ছিল বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের তদন্তকারীরা।
তারা আলাদাভাবে হামলা করেছে, বলছে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
অন্তত একজন হামলাকারীর পরিচয় পেয়েছে ফরাসি পুলিশ। সে প্যারিসেরই একটি শহরতলীর বাসিন্দা, যার বিরুদ্ধে আগেও অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। আরেকজন হামলাকারীর কাছে সিরিয়ার পাসপোর্ট পাওয়া গেছে।
প্রসিকিউটর ফাঁসোয়া মলিনোস বলেন, তারা কিভাবে এবং কোথা থেকে এসেছেন, তাদের কারা অর্থ দিয়েছে, সেগুলো আমরা খুঁজে বের করব।
প্রসিকিউটর বলছেন, ওই হামলায় নিহত সাতজন ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছিলেন।
এদিকে, শনিবার ভোরে সীমান্ত অতিক্রমের সময় তিনজন ফরাসি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে বেলজিয়াম পুলিশ। প্যারিস হামলার সঙ্গে তাদের সম্পৃকতা আছে কিনা সেটা যাচাই করছে বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ।
এদের অন্তত একজন শুক্রবার সন্ধ্যায় প্যারিসে ছিলেন বলে বেলজিয়াম কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

হামলার পর প্যারিসে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে- সূত্র : বিবিসি

হামলার পর প্যারিসে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করা হয়েছে-সূত্র : বিবিসি

শুক্রবারের ওই হামলায় ১২৯জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫০জন।
এই সন্ত্রাসী হামলার দায়িত্ব স্বীকার করে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে ইসলামিক স্টেট।
প্যারিস থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তা ওয়াহেদ তাহের সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় কোন বাংলাদেশি হতাহত হয়নি।
প্যারিস হামলায় বেলজিয়ামের লাইসেন্স প্লেট রয়েছে, বাটাক্লাঁ কনসার্ট হলের কাছাকাছি এমন একটি ভক্সওয়াগন পোলো গাড়ি দেখা যাওয়ার পর অভিযান শুরু করেছে বেলজিয়ামের পুলিশ।
বেলজিয়ামে বসবাসকারী একজন ফরাসি নাগরিক ওই গাড়িটি ভাড়া করেছিলেন। শনিবার ভোরে সীমান্ত অতিক্রমের সময় তাকেই আটক করেছে বেলজিয়াম পুলিশ।
ফ্রান্সে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবার প্যারিসে কার্ফ্যু জারি করা হয়েছে, বন্ধ করা হয়েছে সীমান্ত।
হামলার পর ফ্রান্সে আড়াই হাজারের বেশি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শহরে সব ধরণের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনেক গুরুত্বপূর্ণ অফিস বন্ধ রয়েছে। অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আইফেল টাওয়ার।

যুক্তরাজ্যে মুসলিমদের নিরাপত্তা কমছে

নিরাপত্তা বিধান ও উগ্রবাদ ঠেকানোর নামে যুক্তরাজ্য সরকারের নেওয়া পদক্ষেপগুলো দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। সরকারের নীতির কারণে দেশটিতে মুসলিমদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা আরও জোরালো হয়েছে এবং তাঁদের প্রতি নিন্দা ও ঘৃণাজনিত আক্রমণের ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইসলামিক হিউম্যান রাইটস কমিশনের (আইএইচআরসি) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এ নিয়ে আজ বুধবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিসিবি।
ওই প্রতিবেদন নিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়, আইএইচআরসি মোট এক হাজার ৭৮২ জন ব্যক্তির ওপর জরিপ চালায়। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশ উত্তরদাতার উপলব্ধি, যুক্তরাজ্যের রাজনীতিকেরা মুসলিমদের কল্যাণের কোনো ধার ধারেন না। ৫৬ শতাংশ বলেছেন, তারা মুসলিম বিদ্বেষী গালিগালাজের শিকার হয়েছেন। ১৮ শতাংশ উত্তরদাতা ঘৃণাজনিত আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
একই সংগঠনের ২০১০ সালে করা একটি জরিপে ২০ শতাংশেরও কম উত্তরদাতা বলেছিলেন সে সময়ের সরকারি নীতি মুসলিমবিদ্বেষকে উসকে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমান জরিপে ৫৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন সরকারের বর্তমান নীতি মুসলিমবিদ্বেষকে উসকে দিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন মুসলিম হওয়ার কারণে সমাজ তাঁদের সন্দেহের চোখে দেখছে। ৯৩ শতাংশ উত্তরদাতার অভিমত, যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমগুলো সব সময় মুসলিমদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করছে।
এই গবেষণার কর্ম সম্পাদক আরজু মেরালি বলেন, আমরা এমন এক পরিবেশে বসবাস করছি যেখানে মুসলিমদের সন্দেহের চোখে দেখা হয় এবং মুসলিমদের জন্য জীবনযাপন দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। তিনি বলেন, বিশেষ করে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সরকারি নীতিগুলোর প্রভাব মুসলিমদের স্তব্ধ করে দিতে ভূমিকা রেখেছে। শুধু রাজনৈতিক বিষয়ে কথা বলা নয়, তাঁরা এখন মুসলিমবিদ্বেষ নিয়েও কথা বলার সাহস হারিয়ে ফেলেছেন।
গবেষণা প্রতিবেদনের এমন চিত্র আরও বেশি বাস্তব হয়ে উঠে মাত্র কয়েক মাস আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা কলেজ শিক্ষার্থী ইমানের কথায়। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ১৯ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ তরুণী বলেন, ইসলাম গ্রহণ করার পরপরই কলেজ কর্তৃপক্ষ তাঁকে উগ্রবাদী হিসেবে সন্দেহ করে এবং তাঁর বিষয়ে সরকারের উগ্রবাদ দমন ইউনিটকে অবহিত করে।
ইমান বলেন, ‘গত রমজানের দু সপ্তাহ আগে আমি ইসলাম গ্রহণ করি এবং হিজাব পরিধানের সিদ্ধান্ত নিই। বিষয়টি স্বাভাবিক করার জন্য শিক্ষককে জানাই যে আমি রোজা পালন করব। আমার মনে হয়, আমার বিরুদ্ধে উগ্রবাদ দমন ইউনিটকে জানাতে ওইটুকুই তাদের জন্য যথেষ্ট ছিল। তারা হয়তো ভেবেছেন আমি আইএসের (ইসলামিক স্টেট) হয়ে কাজ করছি অথবা সিরিয়ায় পাড়ি জমাচ্ছি।’
ইমান বলেন, ওই ঘটনার পর উগ্রবাদ দমন ইউনিটের কর্তারা তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন। ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধ নিয়ে নানা প্রশ্ন করে ওই সব কর্তারা সন্তুষ্ট হন। এরপর তাঁকে ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের পক্ষে কাজ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই তরুণী আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি এমন, আমি একজন সাধারণ মুসলিম তরুণী হয়ে থাকতে পারব না। আমাকে হয় উগ্রবাদী হতে হবে, না হয় উগ্রবাদ দমনে সরকারকে সাহায্য করতে হবে। যেন মুসলিমদের মাঝামাঝি কোনো অবস্থান নিতে নেই’।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, মুসলিম বিদ্বেষ দমনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রসঙ্গত, শত শত ব্রিটিশ নাগরিক সিরিয়ায় গিয়ে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসে যোগ দেওয়ার প্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য সরকার উগ্রবাদ দমনে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যাতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

আরবে নিষিদ্ধ হলো অন-আরবিক এবং অ-ইসলামিক নাম

সৌদি আরবের নাগরিকদের জন্য ৫০টি নাম নিষিদ্ধ করল দেশটির সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, দেশটির সংস্কৃতি ও ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় এ নামগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে দ্য ইনডিপেনডেন্টের খবরে এ তথ্য জানানো হয়।

এ সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি আরবের অভিভাবকেরা আর বেশি দিন তাঁদের সন্তানদের লিনডা, আলেস, অ্যালেইন, বেনিয়ামিন এমন নামে ডাকতে পারবেন না।

ইসলামে বেনিয়ামিন হলেন নবী ইয়াকুবের ছেলের নাম। এ ছাড়া বর্তমানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর নামও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

গালফ নিউজ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু কিছু নাম নিষিদ্ধ করেছে কারণ এগুলো ধর্ম বিরোধী, অন-আরবিক, অ-ইসলামি, সৌদি সংস্কৃতি ও ধর্মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কিছু কিছু নাম বিদেশি ও ‘অনুপযুক্ত’ হওয়ায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়া শুধুমাত্র রাজ পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এমন কিছু শব্দ যেমন সিমে (মহামান্য ), মালেক (রাজা), মালিকা (রানি) এগুলো অন্য কারও ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে না।
তবে এসব নিয়মের কোনোটাতেই পড়ে না এমন কিছু নামও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গালফ নিউজ নিষিদ্ধ নামের তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই নামগুলো হলো, মালাক, আবদুল আতি, আবদুল নাসের, আবদুল মুসলেহ, বেনিয়ামিন, নারিস, ইয়ারা, সিতাভ, লোল্যান্ড, তিলাজ, বারাহ, আবদুল নবি, আবদুল রাসূল, সিমে, আল মামলাকা, মালিকা, মামলাকা, তবারক, নারদিন, স্যান্ডি, রামা, মালাইন, ইলাইন, ইনার, মালিকতিনা, মায়া, লিন্ডা, রান্দা, বাসমালা, জিবরিল, আবদুল মুইন, আবরার, ইমান, বেয়ান, বাসির, ওয়াইরলাম, নবী, নবীয়া, আমির, তালাইন, আরাম, নারিজ, রিতাল, আলিস, লারিন, কিবরিয়াল, লাউরেন

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net