শিরোনাম

Monthly Archives: ডিসেম্বর ২০১৫

মহাকালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেল ২০১৫ স্বাগত জানাই ২০১৬ সালকে

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টায় ঘড়ির কাঁটা শূন্যের ঘর ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে সূচনা হয়েছে আরও একটি নতুন বছরের। এরপর নতুন সূর্যের আলোয় কুয়াশাঢাকা সকালে শুরু হয়েছে নতুন পথচলা। এরসঙ্গে মহাকালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেল ২০১৫। স্বাগত জানাই ২০১৬ সাল। মুছে ফেলি গত বছরের ঘটে যাওয়া গ্লনি। উৎসাহ খুঁজে পাই সুখকর ঘটনাগুলো থেকে। তারপর এগিয়ে যাই অগ্রগতির দিকে। কেমন কেটেছে আমাদের গত বছর? প্রতিবছরের মতো গত বছরও আনন্দ-বেদনা, সুখ-দুঃখ, রাজনৈতিক আতংক, আশা-নিরাশার দোলায় দুলেছি আমরা। যে আশা নিয়ে শুরু হয়েছিল ২০১৫ তা তেমন পূরণ হয়নি। বাস্তবায়ন হয়নি অসংখ্য চাওয়া-পাওয়ার। সুখকর ঘটনায় পুলকিত হওয়ার চেয়ে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় হৃদয় ভারাক্রান্তই হয়েছে বেশি।যুদ্ধাপরাধের বিচারের মৃত্যুদন্ডের রায় কার্যকরের বিষয়টি স্বস্থিদায়ক। নতুন বছরে উজ্জ্বল আলোয় উদ্ভাসিত পথ আমরা চাই। বিগত দিনের ব্যর্থতা, হতাশা আর বঞ্চনার অবসান চাই। চাই না, ধ্বংস, হানাহানি সংঘাত আর মৃত্যুর এই অসুস্থ রাজনীতি। স্বপ্ন ছাড়া মানুষ বাঁচে না। তাই নতুন বছরটিকে ঘিরেও মানুষ স্বপ্নের জাল বুনতে চায়। কিন্তু চলার পথের তিক্ত বাস্তবতা সে স্বপ্নের জাল ছিন্ন করে ফেলে বারবার। তবু পথ চলে মানুষ। অনিবার্যভাবেই অতীতের কৃতকর্ম থেকে শিক্ষা নেয়। পুরনো ভুলগুলোর পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে আরও সজাগ হয়।অতএব অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি আর অগণতান্ত্রিক আচরণ থেকে সরে এসে কীভাবে একটি সুন্দর উজ্জ্বল দিন নির্মাণ করা যায়, ঝঞ্জামুক্ত নিরুদ্বিগ্ন বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়- সেই চেষ্টাটুকুই এবার করতে হবে আমাদের। আমরা সবাই মিলিত চেষ্টার মাধ্যমে চমৎকার গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি করে নতুন দিনের সূচনা করতে চাই। স্বস্থির সুবাতাসের প্রত্যাশার নতুন বছরকে জানাই স্বাগত। শুভ নববর্ষ।

পৌরনির্বাচনের ফলাফল: আওয়ামী লীগ ১৭৮, বিএনপি ২২

এনএনবি : পৌরসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ।ক্ষমতাসীন দলটির বিদ্রোহীরা সারা দেশে ১৮টি স্থানে জয় পেয়েছেন। নির্বাচনের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৭ জনসহ মোট ১৭৮ পৌর মেয়র নির্বাচিত হয়েছে ক্ষমতাসীন দল থেকে।বিএনপি জয় পেয়েছে ২২ পৌরসভায়। মাত্র একটি পৌরসভায় জয় পেয়েছে এরশাদের দল জাতীয় পার্টি। স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াত নেতারা উত্তরাঞ্চলের দুটি পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো প্রার্থী জিততে পারেননি। তবে খনি আন্দোলনের একজন নেতা জয় পেয়েছেন রাজশাহীর মুণ্ডুমালায়। মোট ফলাফল অনুসারে মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগের ১৭৮ জন, বিএনপির ২২ জন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ১৮ জন, বিএনপির বিদ্রোহী ১ জন, জামায়াতের ইসলামীর ২ জন, জাতীয় পার্টির ১ জন, স্বতন্ত্র ৬ জন। এ ছাড়া কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকায় ৬টি পৌরসভায় বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে মেয়র নির্বাচনের লড়াইয়ে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ২০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। বেশির ভাগ অঞ্চলে মূল লড়াই হয়েছে আওয়ামী লীগের নৌকা ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যেই। নির্বাচনে সবমিলিয়ে ৬৬০ জন দলীয় ও ২৮৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছেন। এর মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের ২৩৪ জন, বিএনপির ২২৩ জন, জাতীয় পার্টির ৭৪ জন। এ ছাড়া অর্ধ শতাধিক আওয়ামী লীগ-বিএনপির বিদ্রোহীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ ছাড়া এলডিপি ১ জন, জেপি ৬ জন, সিপিবি ৪ জন, ন্যাপ ১ জন, ওয়ার্কার্স পার্টি ৮ জন, বিকল্পধারা ১ জন, জাসদ ২১ জন, বাসদ ১ জন, তরিকত ফেডারেশন ১ জন, এনপিপি ১৭ জন, পিডিপি ১ জন, ইসলামী ঐক্যজোট ১ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৫৭ জন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ১ জন, খেলাফত মজলিসের ১ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন।ঢাকা বিভাগ ফলাফল : আওয়ামী লীগ থেকে জয়লাভ করেছেন- ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মেয়র পদে ইকবাল হোসেন সুমন, নান্দাইলে রফিকউদ্দিন ভূইয়া, ত্রিশালে এ বি এম আনিসুজ্জামান (বিদ্রোহী), গৌরীপুরে সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, ঈশ্বরগঞ্জে আবদুর সাত্তার (বিদ্রোহী), ভালুকায় ডা. মেজবাহ উদ্দিন কাইয়ুম, ফুলবাড়িয়ায় গোলাম কিবরিয়া। ফরিদপুরের নগরকান্দায় রায়হান উদ্দীন মাস্টার। শরীয়তপুর সদরে আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, ডামুড্যায় হুমায়ুন কবির বাচ্চু ছৈয়াল, নড়িয়ায় হায়দার আলী, ভেদরগঞ্জে আবদুল মান্নান হাওলাদার, জাজিরায় ইউনুছ বেপারী। জামালপুরের মেলান্দহে শফিক জাহেদী রবির, দেওয়ানগঞ্জে শাহনেওয়াজ শাহেনশাহ, সদরে মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মণি, ইসলামপুরে আবদুল কাদের শেখ, সরিষবাড়ীতে রোকনুজ্জামান রোকন। কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় মো. পারভেজ, হোসেনপুরে আবদুল কাইয়ুম খোকন, করিমগঞ্জে আবদুল কাইয়ুম (বিদ্রোহী), কটিয়াদীতে শওকত ওসমান শুক্কুর আলী, বাজিতপুরে আনোয়ার হোসেন আশরাফ, কুলিয়ারচরে আবুল হাসান কাজল, ভৈরবে ফখরুল আলম আক্কাস। মানিকগঞ্জ সদরে গাজী কামরুল হুদা সেলিম (বিদ্রোহী)। নরসিংদী সদর পৌরসভায় মো. কামরুজ্জামান, মনোহরদীতে আমিনুর রশিদ সুজন। গোপালগঞ্জ সদরে কাজী লিয়াকত আলী লেকু। গাজীপুরের শ্রীপুরে আনিছুর রহমান। টাঙ্গাইল সদরে জামিলুর রহমান মিরণ, মধুপুরে মাসুদ পারভেজ, ধনবাড়ীতে খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন, গোপালপুরে রকিবুল হক ছানা, ভূঞাপুরে মাসুদুল হক মাসুদ, মির্জাপুরে সাহাদত্ হোসেন সুমন, সখীপুরে আবু হানিফ আজাদ। নেত্রকোনা সদরে নজরুল ইসলাম খান, দুর্গাপুরে হাজী আবদুস সালাম, মোহনগঞ্জে লতিফুর রহমান রতন, কেন্দুয়ায় আসাদুল হক ভূইয়া, মদনে আবদুল হান্নান তালুকদার শামীম (বিদ্রোহী)। মুন্সীগঞ্জ সদরে আলহাজ ফয়সল আহম্মেদ বিপ্লব, মিরকাদিমে শহিদুল ইসলাম শাহিন। শেরপুরের নকলায় হাফিজুর রহমান লিটন, নালিতাবাড়ীতে আবু বক্কর সিদ্দিক, শ্রীবরদীতে মো. আবু সাঈদ, সদরে গোলাম কিবরিয়া লিটন। মাদারীপুর সদরে খালিদ হোসেন, শিবচরে আওলাদ হোসেন। রাজবাড়ী সদরে মহম্মদ আলী চৌধুরী, পাংশায় আবদুল আল মাসুদ। ঢাকার ধামরাইয়ে গোলাম কবির, সাভারে আবদুল গনী। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের (বিদ্রোহী) প্রার্থী সাদেকুর রহমান, রূপগঞ্জের তারাবোয় হাসিনা গাজী। বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন- ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শহীদুল ইসলাম শহীদ, ফুলপুরে আমিনুল হক ও টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে আলী আকবর জব্বার। এ ছাড়া স্বতন্ত্র জিতেছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মোজাফফর হোসেন বাবলু, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে শেখ মো. নিজাম। খুলনা ও বরিশাল বিভাগ : আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছে- খুলনার চালনা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সনৎ কুমার বিশ্বাস মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৪ হাজার ৯৩৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল জগ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ৫১৯ ভোট। পাইকগাছা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিম জাহাঙ্গীর মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৬০৩ ভোট পেয়েছেন। ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তছলিম উদ্দিন চৌধুরী ১৩ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মজিবুর রহমান পেয়েছেন ৬৩৫ ভোট। মাগুরায় ২৭ হাজার ৯৫০ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের খুরশিদ হায়দার টুটুল বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ইকবাল আকতার খান কাফু পেয়েছেন ১৫ হাজার ৪৯৬ ভোট। বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল ৫ হাজার ৬৪৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টার পেয়েছেন ৪০৩ ভোট। মুলাদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মো. শফিকুজ্জামান রুবেল ৯ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আসাদ মাহমুদ পেয়েছেন ৫৯৬ ভোট। কুষ্টিয়া সদরে আনোয়ার হোসেন, মিরপুরে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী এনামুল হক (নৌকা) প্রতীকে ৯ হাজার ৮৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা আবুল হাসেম (মোবাইল ফোন) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৮৮৫ ভোট। কুমারখালীতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান অরুণ ৮ হাজার ৪২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তরিকুল হক (ধানের শীষ) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৬২৪ ভোট। খোকসায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ৫ হাজার ৭২০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আল মাসুম মোর্শেদ শান্ত পেয়েছেন ৩ হাজার ১৬৮ ভোট। ভেড়ামারায় আওয়ামী লীগের শামীমুল ইসলাম ছানা ৭ হাজার ৬৫৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাসদ মনোনীত প্রার্থী আবদুল আলিম স্বপন পেয়েছেন ৪ হাজার ৪০৬ ভোট। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অ্যাডভোকেট মনিরুল হক তালুকদার, ঝিনাইদহের মহেশপুরে আবদুর রশিদ খান, হরিণাকুণ্ডুতে শাহিনুর রহমান, শৈলকূপায় কাজী আশরাফুল আজম, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে কামাল উদ্দিন খান, বাকেরগঞ্জে লোকমান হোসেন ডাকুয়া, গৌরনদী মো. হারিছুর রহমান হারিছ, উজিরপুরে গিয়াস উদ্দিন বেপারি, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে মো. গোলাম কবির, বরগুনার পাথরঘাটায় আনোয়ার হোসেন আকন্দ, চুয়াডাঙ্গা সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ওবাইদুর রহমান চৌধুরী ২৪ হাজার ৯৮৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী (নৌকা) পেয়েছেন ১০ হাজার ৫৭ ভোট। আলমডাঙ্গা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাসান কাদির গনু ৭ হাজার ২০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির মীর মহিউদ্দিন (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৫ হাজার ১৯০ ভোট। দর্শনা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী মতিয়ার রহমান ১১ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতের আশকার আলী (জগ) পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৫৬ ভোট। জীবননগর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম (নারিকেল গাছ) ৬ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির নোয়াব আলী (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৩ হাজার ২৪ ভোট। যশোর চৌগাছায় নূর উদ্দীন আল মামুন হিমেল, বাঘারপাড়ায় কামরুজ্জামান বাচ্চু, মনিরামপুরে মাহমুদুল হাসান, কেশবপুরে রফিকুল ইসলাম মোড়ল, নওয়াপাড়ায় সুশান্ত দাস শান্ত জয়ী হয়েছেন।ভোলা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির নৌকা প্রতীকে ২১,১৩২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১৭২৭ ভোট। বোরহানউদ্দিনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম নৌকা প্রতীকে ৬২৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনিরুজ্জামান কবির ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪৩ ভোট। দৌলতখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকির হোসেন তালুকদার নৌকা প্রতীকে ৬৯৭৪ পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রার্থী বিএনপির আনোয়ার হোসেন কাঁকন পেয়েছেন ৬৭৯ ভোট। নড়াইল সদরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, যশোর সদরে জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিপুলচন্দ্র হাওলাদার, বাগেরহাট সদরে খান হাবিবুর রহমান, কুয়াকাটায় আবদুল বারেক মোল্লা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি জয়লাভ করেছে- সাতক্ষীরা সদরে তাকসিন আহমেদ সৃষ্টি, কলারোয়ায় গাজী আকতারুল ইসলাম। স্বতন্ত্র জিতেছেন- ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে জাহিদুল ইসলাম জিরা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন- আওয়ামী লীগ প্রার্থী পিরোজপুর সদরে হাবিবুর রহমান মালেক আগেই নির্বাচিত হন। এ ছাড়া বরগুনার বেতাগী পৌরসভার ৯ কেন্দ্রের মধ্যে ৮টির ফলাফলে আওয়ামী লীগের এ বি এম গোলাম কবির (একটি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত) এগিয়ে রয়েছেন।চট্টগ্রাম ও সিলট বিভাগ : আওয়ামী লীগের যারা জয়লাভ করেছেন- সুনামগঞ্জের ছাতকে আবুল কালাম চৌধুরী, জগন্নাথপুরে মো. আবদুল মোনাফ, সদরে আয়ুব বখত, দিরাইয়ে মোশাররফ মিয়া, সিলেটের জকিগঞ্জে আওয়ামী লীগের খলিলুর রহমান, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জুয়েল আহমেদ, সদরে ফজলুর রহমান, হবিগঞ্জের মাধবপুরে হিরেন্দ্রলাল সাহা, শায়েস্তাগঞ্জে মো. সালেক মিয়া।পঞ্চগড় : পঞ্চগড় সদরে বিএনপি প্রার্থী মো. তৌহিদুল ইসলাম বেসরকারিভাবে ১৩,৮৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের জাকিয়া খাতুন পেয়েছেন ৬,৭৯৮ ভোট।ঠাকুরগাঁও : জেলার ৩টি পৌরসভার মধ্যে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ২১ কেন্দ্রের মধ্যে ৩টি স্থগিত থাকায় ১৮ কেন্দ্রে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ১৫,৭৫৯ ভোট এগিয়ে আছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের তাহমিনা আখতার মোল্লা পেয়েছেন ১০,৭০১ ভোট। স্থগিত ৩ কেন্দ্রে ৬,৩৬১ ভোট থাকলেও মির্জা ফয়সলকেই বিজয়ী বলে ধারণা করছে স্থানীয় মহল। রাণীশংকৈলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলমগীর সরকার ৪,৮৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থ মোকাররম হোসেন পেয়েছেন ৩,৪৯১ ভোট। পীরগঞ্জে জিতেছেন আওয়ামী লীগের কসিরুল আলম। ভোট পেয়েছেন ৫,৭০৪। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির রাজিউর রহমান রাজু পেয়েছেন ৫,১৩৬ ভোট।দিনাজপুর : জেলার ৫ পৌরসভার মধ্যে সদরে বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ৩৯,৫৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিন্দ্বী আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ২৪,৫৩৪। ফুলবাড়ীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী খনি আন্দোলনের নেতা মুরতুজা সরকার মানিক বিজয়ী হয়েছেন ৬,৪০৯ ভোট পেয়ে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের শাহাজাহান আলী সরকার পুতু পেয়েছেন ৪,৭৯১ ভোট। বীরগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হানিফ ৪,৫০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম আওয়ামী লীগের মোশাররফ হোসেন বাবুল পেয়েছেন ৩,৮৪৮ ভোট। বিরামপুরে বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত আলী সরকার পেয়েছেন ৯,৭৬৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আক্কাস আলী পেয়েছেন ৯,০২৩ ভোট। হাকিমপুরে আওয়ামী লীগের এন এ এম জামিল হোসেন চলন্ত ৮,৯৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী পেয়েছেন ৪,৯১২ ভোট।নীলফামারী : জেলার দুই পৌরসভার মধ্যে জলঢাকায় বিএনপির প্রার্থী ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী ৯,৬৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইলিয়াস হোসেন বাবলু পেয়েছেন ৭,৫৪০ ভোট। সৈয়দপুরে প্রায় ১১ হাজার ভোটের ৪টি কেন্দ্র স্থগিত থাকায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা যায়নি। তবে বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেন ২৫,৮৩৫ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের শাখাওয়াত হোসেন পেয়েছেন ১৯,৯৪০ ভোট। তাদের ভোটের পার্থক্য প্রায় ৬ হাজার।লালমনিরহাট : লালমনিরহাট সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু ১৪,৫৬১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবদুল হালিম পেয়েছেন ১০,২২২ ভোট। পাটগ্রামে আওয়ামী লীগের শমশের আলী ৭,১৪৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এ কে মোস্তফা সানাউজ্জামান ওপেল পেয়েছেন ৪,১২৪ ভোট।রংপুর : রংপুরের বদরগঞ্জে আওয়ামী লীগের উত্তম কুমার সাহা বিজয়ী হয়েছেন। পেয়েছেন ৬,৯৯২ ভোট। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুল হক পেয়েছেন ৫,৯৯৫ ভোট।কুড়িগ্রাম : সদরে আওয়ামী লীগের আবদুল জলিল ১৮,৭১০ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নুর ইসলাম নুরু। নাগেশ্বরীতে জয় পাওয়া জাতীয় পার্টির আবদুর রহমানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ হোসেন ফাকু। উলিপুরে বিএনপির তারিক আবুল জয় পেয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজাদুর রহমান সাজুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।গাইবান্ধা : গাইবান্ধা সদরে আওয়ামী লীগের অ্যাড. শাহ মাসুদ কবীর মিলন ১০,৬৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র আনওয়ার উল সারওয়ার পেয়েছেন ৭,২৭২ ভোট। গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আতাউর রহমান ১৫,৫১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফারুক আহমেদ পেয়েছেন ৫,৭৯৩ ভোট। সুন্দরগঞ্জে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল্লাহ্ আল মামুন (৫,১৮০ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আজাদুল করিম প্রামাণিক নিপু পেয়েছেন ১,৯৯৩ ভোট। সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের ৬ পৌরসভার মধ্যে ৫ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন- কাজিপুর পৌরসভায় হাজী নিজাম উদ্দিন, বেলকুচি পৌরসভায় বেগম আশানুর বিশ্বাস, শাহজাদপুর পৌরসভায় হালিমুল হক মীরু, উল্লাপাড়া পৌরসভায় নজরুল ইসলাম ও রায়গঞ্জ পৌরসভায় আবদুল্লাহ পাঠান। সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় সৈয়দ আবদুর রউফ মুক্তা এগিয়ে রয়েছেন। রাজশাহী : রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ ৮ পৌরসভায় ও বিএনপি ২ পৌরসভায় জিতেছেন। গোদাগাড়ী পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনিরুল ইসলাম বাবু ১০ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৮ ভোট। কাঁকনহাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবদুল মজিদ মাস্টার ৫ হাজার ৮০৭ ভোট ও তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির হাফিজুর রহমান হাফিজ পেয়েছেন ৪ হাজার ৪২৮ ভোট। বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৭ হাজার ৮০৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবু নঈম শামসুর রহমান মিন্টু পেয়েছেন ৩ হাজার ২০৩ ভোট। ভবানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের আবদুল মালেক মণ্ডল ৬ হাজার ৯ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবদুর রাজ্জাক পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৫ ভোট। মুণ্ডুমালায় আওয়ামী লীগের গোলাম রাব্বানী ৬ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ফিরোজ কবির পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৬ ভোট। মোহনপুরের কেশরহাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের শহিদুজ্জামান শহিদ ৭ হাজার ৩৪৩ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াত সমর্থক হাফিজুর রহমান জগ প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৯৬ ভোট। দুর্গাপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের তোফাজ্জল হোসেন পেয়েছেন ৮ হাজার ৮৮ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হাসানুজ্জামান সান্টু জগ প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৭২৭ ভোট। বাঘার আড়ানী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মুক্তার আলী ৫ হাজার ১৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তোজাম্মেল হক পেয়েছেন ২ হাজার ৭৫০ ভোট। চারঘাট পৌরসভায় বিএনপির জাকিরুল ইসলাম বিকুল ৭ হাজার ৭৩৭ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নার্গিছ খাতুন পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৩০ ভোট। পবার নওহাটা পৌরসভায় বিএনপির মকবুল হোসেন ১২ হাজার ৭৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আবদুল বারী খান পেয়েছেন ১১ হাজার ৬৭৯ ভোট।নওগাঁ : নওগাঁর নজিপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল ইসলাম চৌধুরী জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ২৪৭ ভোট। বিএনপির প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৩২টি। ৪১৫ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল ইসলাম চৌধুরীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।নাটোর : নাটোরের ছয় পৌরসভা নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগ এবং একটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। নাটোর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের উমা চৌধুরী জলি ২০ হাজার ২৫৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বর্তমান মেয়র শেখ এমদাদুল হক আল মামুন পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩৮৬ ভোট। সিংড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের জান্নাতুল ফেরদৌস ১৪ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান মেয়র অধ্যাপক শামিম আল রাজি মো. সিহানুর রহমান পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৯৩ ভোট। নলডাঙ্গা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের শফিরউদ্দিন মণ্ডল তিন হাজার ১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বর্তমান মেয়র আব্বাস আলী নান্নু পেয়েছেন এক হাজার ৬৯৫ ভোট। গুরুদাসপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের শাহনেওয়াজ আলী মোল্লা পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী আমজাদ হোসেন পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৪৯৪ ভোট। বড়াইগ্রাম পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবদুল বারেক সরদার পাঁচ হাজার ৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বর্তমান মেয়র ইসাহাক আলী পেয়েছেন তিন হাজার ২১৬ ভোট। গোপালপুর পৌরসভায় বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মোলাম চার হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের রোকসানা মোর্তুজা লিলি পেয়েছেন চার হাজার ৪ ভোট।চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম ৩১ হাজার ৫০৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ’লীগের প্রার্থী সামিউল হক লিটন পেয়েছেন ৩০ হাজার ৫৪ ভোট। শিবগঞ্জ পৌরসভায় ১০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কারিবুল হক রাজিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলী পেয়েছেন ৬ হাজার ১৫৭ ভোট। নাচোল পৌরসভায় ২ হাজার ২১৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুর রশিদ খান ঝালু (নৌকা)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমানুল্লাহ-আল মাসুদ পেয়েছেন ২ হাজার ৭২০ ভোট। রহনপুর পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী তারেক আহমেদ ৯ হাজার ৫১৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ’লীগের প্রার্থী গোলাম রাব্বানী বিশ্বাস পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৩২ ভোট।বগুড়া : ধুনট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ৪ হাজার ভোট পেয়ে এ জি এম বাদশাহ্ (জগ) বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আলিমুদ্দিন হারুন মণ্ডল (ধানের শীষ) পেয়েছেন ২ হাজার ৪৬৪ ভোট। শেরপুর পৌরসভার আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলহাজ মো. আবদুস সাত্তার নৌকা প্রতীকে ৮ হাজার ৯১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী স্বাধীন কুমার কুণ্ডু (ধানের শীষ) ৬ হাজার ১৬৫ ভোট। শিবগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী তৌহিদুর রহমান মানিক ৭ হাজার ৩৬৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মতিয়ার রহমান মতি (ধানের শীষ) ৫ হাজার ৯৮৭ ভোট। নন্দীগ্রাম পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল ৪ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সুশান্ত কুমার শান্ত (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৪৬ ভোট। গাবতলী পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম সাইফ (ধানের শীষ) ৭ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল জলিল পাইকার জগ মার্কায় পেয়েছেন ২ হাজার ২৩৬ ভোট। সান্তাহার পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু (ধানের শীষ) ৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদুল ইসলাম রাজা (নৌকা প্রতীক) পেয়েছেন ৮ হাজার ১৫৮ ভোট। কাহালু পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলহাজ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ নৌকা প্রতীকে ৪ হাজার ৭৫৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নান ভাটা (ধানের শীষ) ৩ হাজার ৪৬৭ ভোট।জয়পুরহাট : জেলার ৩টি পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। জয়পুরহাট পৌরসভায় মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ২৩ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির অধ্যক্ষ শামসুল হক পেয়েছেন ১১ হাজার ১৯০ ভোট। আক্কেলপুর পৌরসভায় মেয়র হয়েছেন গোলাম মাহফুজ চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ৬০০ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৫ ভোট। কালাই পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী হালিমুল আলম জোন ৬ হাজার ৮৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির সাজ্জাদুর রহমান তালুকদার সোহেল পেয়েছেন ২ হাজার ২৬১ ভোট।পাবনা : পাবনার সাতটি পৌরসভার মধ্যে আওয়ামী লীগ ৫টি, বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র ১টি ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বতন্ত্র ১টিতে জয়ী হয়। পাবনার ফরিদপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের খ ম কামরুজ্জামান মাজেদ মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন। পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৯৮ ভোট। ধানের শীষ নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এনামুল হক পান ৩ হাজার ৫৩০ ভোট। ঈশ্বরদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ মিন্টু মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন। ভোট পেয়েছেন ২৬ হাজার ৯১৩ ভোট। ধানের শীষ নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোখলেছুর রহমান বাবলু পান ৯ হাজার ৩৭২ ভোট। ভাঙ্গুরা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম হাসনায়েন রাসেল ৫ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান পেয়েছেন ৩ হাজার ২৯৫ ভোট। পাবনার চাটমোহর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মির্জা রেজাউল করিম দুলাল মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন। পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৩৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রফেসর আবদুল মান্নান। সুজানগর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল ওহাব ৬ হাজার ৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন তোফা পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৫ ভোট। সাঁথিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী মিরাজুল ইসলাম ১২ হাজার ৫৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৯ হাজার ৩৭২ ভোট। সদর পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল হাসান মিন্টু ৩০ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অপরদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী রকিব হাসান টিপু। তার প্রাপ্ত ভোট ২৪ হাজার ৬৫৪ ভোট।বিদ্রোহী : কানাইঘাটে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নিজামউদ্দিন আল মিজান, গোলাপগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সিরাজুল জব্বার চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এ কে এম শফি আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় তাকজিল ফলিফা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মিজানুর রহমান, লাকসামে আবুল খায়ের, হোমনায় নজরুল ইসলাম, চান্দিনায় মফিজুল ইসলাম ও দাউদকান্দিতে নাইম ইউসুফ সেইন। চাঁদপুরের হাজিগঞ্জে আ স ম মাহবুবুল আলম, ছেঙ্গারচরে রফিকুল আলম, ফরিদগঞ্জে মাহফুজুল হক, কচুয়ায় নাজমুল আলম, মতলবে আওলাদ হোসেন। ফেনীর দাগনভূইঞায় ওমর ফারুক খান, সদরে হাজী আলাউদ্দিন, পরশুরামে নিজামউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী। নোয়াখালীর বশিরহাটে আবদুল কাদের, হাতিয়ায় এ কে এম ইউসুফ আলী, চাটখিলে মোহাম্মদ উল্লা। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আবুল খায়ের পাটোয়ারী, রামগতিতে এম মেসবাহ উদ্দিন, রায়পুরে ইসমাইল খোকন। চট্টগ্রামের ১০ পৌরসভার সব কটিতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বারৈয়ারহাটে নিজাম উদ্দিন, সন্দ্বীপে জাফরুল্লাহ টিটু, রাউজানে দেবাশীষ পালিত, রাঙ্গুনিয়ায় শাহজাহান শিকদার, চন্দনাইশে মাহবুবুল আলম খোকা, সাতকানিয়ায় মোহাম্মদ জোবাইর, পটিয়ায় হারুনুর রশিদ, বাঁশখালীতে সেলিমুল হক, সীতাকুণ্ডে বদিউল আলম ও মিরসরাইয়ে গিয়াস উদ্দিন। রাঙামাটি সদরে আকবর হোসেন চৌধুরী। বান্দরবানের লামায় জহিরুল ইসলাম ও সদরে মোহাম্মদ ইসলাম বেবী নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন- হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে সাব্বির আহমেদ চৌধুরী, সদরে কারাবন্দী জি কে গউছ, চুনারুঘাটে নাজিমউদ্দিন আহমেদ ও কুমিল্লার বরুড়ায় জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি সদরে নাগরিক কমিটির ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। স্থগিত আছে চৌমুহনী পৌরসভা।বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৭ মেয়র : নোয়াখালীর চাটখিলে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ উলাহ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ আহম্মদ হোসেন মীর্জা, পিরোজপুর পৌরসভায় হাবিবুর রহমান মালেক, জামালপুরের মাদারগঞ্জে মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির, ফেনী সদরে হাজী আলাউদ্দিন, পরশুরামে নিজামউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী সাজেল ও চাঁদপুরের ছেঙ্গারচরে মো. রফিকুল আলম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৪০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।পৌরনির্বাচনের ফলাফল: আওয়ামী লীগ ১৭৮, বিএনপি ২২
এনএনবি : পৌরসভা নির্বাচনে প্রাপ্ত বেসরকারি ফলাফলে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ।ক্ষমতাসীন দলটির বিদ্রোহীরা সারা দেশে ১৮টি স্থানে জয় পেয়েছেন। নির্বাচনের আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ৭ জনসহ মোট ১৭৮ পৌর মেয়র নির্বাচিত হয়েছে ক্ষমতাসীন দল থেকে।বিএনপি জয় পেয়েছে ২২ পৌরসভায়। মাত্র একটি পৌরসভায় জয় পেয়েছে এরশাদের দল জাতীয় পার্টি। স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জামায়াত নেতারা উত্তরাঞ্চলের দুটি পৌরসভায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো প্রার্থী জিততে পারেননি। তবে খনি আন্দোলনের একজন নেতা জয় পেয়েছেন রাজশাহীর মুণ্ডুমালায়। মোট ফলাফল অনুসারে মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন আওয়ামী লীগের ১৭৮ জন, বিএনপির ২২ জন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ১৮ জন, বিএনপির বিদ্রোহী ১ জন, জামায়াতের ইসলামীর ২ জন, জাতীয় পার্টির ১ জন, স্বতন্ত্র ৬ জন। এ ছাড়া কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত থাকায় ৬টি পৌরসভায় বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে মেয়র নির্বাচনের লড়াইয়ে অংশ নেয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ ২০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল। বেশির ভাগ অঞ্চলে মূল লড়াই হয়েছে আওয়ামী লীগের নৌকা ও বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের মধ্যেই। নির্বাচনে সবমিলিয়ে ৬৬০ জন দলীয় ও ২৮৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করেছেন। এর মধ্যে ছিলেন আওয়ামী লীগের ২৩৪ জন, বিএনপির ২২৩ জন, জাতীয় পার্টির ৭৪ জন। এ ছাড়া অর্ধ শতাধিক আওয়ামী লীগ-বিএনপির বিদ্রোহীরা স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ ছাড়া এলডিপি ১ জন, জেপি ৬ জন, সিপিবি ৪ জন, ন্যাপ ১ জন, ওয়ার্কার্স পার্টি ৮ জন, বিকল্পধারা ১ জন, জাসদ ২১ জন, বাসদ ১ জন, তরিকত ফেডারেশন ১ জন, এনপিপি ১৭ জন, পিডিপি ১ জন, ইসলামী ঐক্যজোট ১ জন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১ জন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৫৭ জন, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ১ জন, খেলাফত মজলিসের ১ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন।ঢাকা বিভাগ ফলাফল : আওয়ামী লীগ থেকে জয়লাভ করেছেন- ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে মেয়র পদে ইকবাল হোসেন সুমন, নান্দাইলে রফিকউদ্দিন ভূইয়া, ত্রিশালে এ বি এম আনিসুজ্জামান (বিদ্রোহী), গৌরীপুরে সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, ঈশ্বরগঞ্জে আবদুর সাত্তার (বিদ্রোহী), ভালুকায় ডা. মেজবাহ উদ্দিন কাইয়ুম, ফুলবাড়িয়ায় গোলাম কিবরিয়া। ফরিদপুরের নগরকান্দায় রায়হান উদ্দীন মাস্টার। শরীয়তপুর সদরে আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল, ডামুড্যায় হুমায়ুন কবির বাচ্চু ছৈয়াল, নড়িয়ায় হায়দার আলী, ভেদরগঞ্জে আবদুল মান্নান হাওলাদার, জাজিরায় ইউনুছ বেপারী। জামালপুরের মেলান্দহে শফিক জাহেদী রবির, দেওয়ানগঞ্জে শাহনেওয়াজ শাহেনশাহ, সদরে মির্জা সাখাওয়াতুল আলম মণি, ইসলামপুরে আবদুল কাদের শেখ, সরিষবাড়ীতে রোকনুজ্জামান রোকন। কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় মো. পারভেজ, হোসেনপুরে আবদুল কাইয়ুম খোকন, করিমগঞ্জে আবদুল কাইয়ুম (বিদ্রোহী), কটিয়াদীতে শওকত ওসমান শুক্কুর আলী, বাজিতপুরে আনোয়ার হোসেন আশরাফ, কুলিয়ারচরে আবুল হাসান কাজল, ভৈরবে ফখরুল আলম আক্কাস। মানিকগঞ্জ সদরে গাজী কামরুল হুদা সেলিম (বিদ্রোহী)। নরসিংদী সদর পৌরসভায় মো. কামরুজ্জামান, মনোহরদীতে আমিনুর রশিদ সুজন। গোপালগঞ্জ সদরে কাজী লিয়াকত আলী লেকু। গাজীপুরের শ্রীপুরে আনিছুর রহমান। টাঙ্গাইল সদরে জামিলুর রহমান মিরণ, মধুপুরে মাসুদ পারভেজ, ধনবাড়ীতে খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম তপন, গোপালপুরে রকিবুল হক ছানা, ভূঞাপুরে মাসুদুল হক মাসুদ, মির্জাপুরে সাহাদত্ হোসেন সুমন, সখীপুরে আবু হানিফ আজাদ। নেত্রকোনা সদরে নজরুল ইসলাম খান, দুর্গাপুরে হাজী আবদুস সালাম, মোহনগঞ্জে লতিফুর রহমান রতন, কেন্দুয়ায় আসাদুল হক ভূইয়া, মদনে আবদুল হান্নান তালুকদার শামীম (বিদ্রোহী)। মুন্সীগঞ্জ সদরে আলহাজ ফয়সল আহম্মেদ বিপ্লব, মিরকাদিমে শহিদুল ইসলাম শাহিন। শেরপুরের নকলায় হাফিজুর রহমান লিটন, নালিতাবাড়ীতে আবু বক্কর সিদ্দিক, শ্রীবরদীতে মো. আবু সাঈদ, সদরে গোলাম কিবরিয়া লিটন। মাদারীপুর সদরে খালিদ হোসেন, শিবচরে আওলাদ হোসেন। রাজবাড়ী সদরে মহম্মদ আলী চৌধুরী, পাংশায় আবদুল আল মাসুদ। ঢাকার ধামরাইয়ে গোলাম কবির, সাভারে আবদুল গনী। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আওয়ামী লীগের (বিদ্রোহী) প্রার্থী সাদেকুর রহমান, রূপগঞ্জের তারাবোয় হাসিনা গাজী। বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন- ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় শহীদুল ইসলাম শহীদ, ফুলপুরে আমিনুল হক ও টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে আলী আকবর জব্বার। এ ছাড়া স্বতন্ত্র জিতেছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে মোজাফফর হোসেন বাবলু, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে শেখ মো. নিজাম। খুলনা ও বরিশাল বিভাগ : আওয়ামী লীগ জয়লাভ করেছে- খুলনার চালনা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সনৎ কুমার বিশ্বাস মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ৪ হাজার ৯৩৫ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ড. অচিন্ত্য কুমার মণ্ডল জগ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ৫১৯ ভোট। পাইকগাছা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিম জাহাঙ্গীর মেয়র পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে ৬ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৬০৩ ভোট পেয়েছেন। ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তছলিম উদ্দিন চৌধুরী ১৩ হাজার ৪২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মজিবুর রহমান পেয়েছেন ৬৩৫ ভোট। মাগুরায় ২৭ হাজার ৯৫০ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগের খুরশিদ হায়দার টুটুল বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির ইকবাল আকতার খান কাফু পেয়েছেন ১৫ হাজার ৪৯৬ ভোট। বরিশালের বানারীপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র শীল ৫ হাজার ৬৪৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টার পেয়েছেন ৪০৩ ভোট। মুলাদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মো. শফিকুজ্জামান রুবেল ৯ হাজার ৩৫৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আসাদ মাহমুদ পেয়েছেন ৫৯৬ ভোট। কুষ্টিয়া সদরে আনোয়ার হোসেন, মিরপুরে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী এনামুল হক (নৌকা) প্রতীকে ৯ হাজার ৮৩৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাওলানা আবুল হাসেম (মোবাইল ফোন) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৮৮৫ ভোট। কুমারখালীতে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামসুজ্জামান অরুণ ৮ হাজার ৪২৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তরিকুল হক (ধানের শীষ) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৬২৪ ভোট। খোকসায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তারিকুল ইসলাম ৫ হাজার ৭২০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আল মাসুম মোর্শেদ শান্ত পেয়েছেন ৩ হাজার ১৬৮ ভোট। ভেড়ামারায় আওয়ামী লীগের শামীমুল ইসলাম ছানা ৭ হাজার ৬৫৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাসদ মনোনীত প্রার্থী আবদুল আলিম স্বপন পেয়েছেন ৪ হাজার ৪০৬ ভোট। বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে অ্যাডভোকেট মনিরুল হক তালুকদার, ঝিনাইদহের মহেশপুরে আবদুর রশিদ খান, হরিণাকুণ্ডুতে শাহিনুর রহমান, শৈলকূপায় কাজী আশরাফুল আজম, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে কামাল উদ্দিন খান, বাকেরগঞ্জে লোকমান হোসেন ডাকুয়া, গৌরনদী মো. হারিছুর রহমান হারিছ, উজিরপুরে গিয়াস উদ্দিন বেপারি, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিতে মো. গোলাম কবির, বরগুনার পাথরঘাটায় আনোয়ার হোসেন আকন্দ, চুয়াডাঙ্গা সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ওবাইদুর রহমান চৌধুরী ২৪ হাজার ৯৮৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ প্রার্থী (নৌকা) পেয়েছেন ১০ হাজার ৫৭ ভোট। আলমডাঙ্গা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী হাসান কাদির গনু ৭ হাজার ২০০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির মীর মহিউদ্দিন (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৫ হাজার ১৯০ ভোট। দর্শনা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী মতিয়ার রহমান ১১ হাজার ৭৯৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতের আশকার আলী (জগ) পেয়েছেন ৩ হাজার ৪৫৬ ভোট। জীবননগর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম (নারিকেল গাছ) ৬ হাজার ৪০৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির নোয়াব আলী (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৩ হাজার ২৪ ভোট। যশোর চৌগাছায় নূর উদ্দীন আল মামুন হিমেল, বাঘারপাড়ায় কামরুজ্জামান বাচ্চু, মনিরামপুরে মাহমুদুল হাসান, কেশবপুরে রফিকুল ইসলাম মোড়ল, নওয়াপাড়ায় সুশান্ত দাস শান্ত জয়ী হয়েছেন।ভোলা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির নৌকা প্রতীকে ২১,১৩২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হারুন অর রশিদ ট্রুম্যান ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১৭২৭ ভোট। বোরহানউদ্দিনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম নৌকা প্রতীকে ৬২৬৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনিরুজ্জামান কবির ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪৩ ভোট। দৌলতখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকির হোসেন তালুকদার নৌকা প্রতীকে ৬৯৭৪ পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রার্থী বিএনপির আনোয়ার হোসেন কাঁকন পেয়েছেন ৬৭৯ ভোট। নড়াইল সদরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, যশোর সদরে জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিপুলচন্দ্র হাওলাদার, বাগেরহাট সদরে খান হাবিবুর রহমান, কুয়াকাটায় আবদুল বারেক মোল্লা বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি জয়লাভ করেছে- সাতক্ষীরা সদরে তাকসিন আহমেদ সৃষ্টি, কলারোয়ায় গাজী আকতারুল ইসলাম। স্বতন্ত্র জিতেছেন- ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে জাহিদুল ইসলাম জিরা। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন- আওয়ামী লীগ প্রার্থী পিরোজপুর সদরে হাবিবুর রহমান মালেক আগেই নির্বাচিত হন। এ ছাড়া বরগুনার বেতাগী পৌরসভার ৯ কেন্দ্রের মধ্যে ৮টির ফলাফলে আওয়ামী লীগের এ বি এম গোলাম কবির (একটি কেন্দ্রের নির্বাচন স্থগিত) এগিয়ে রয়েছেন।চট্টগ্রাম ও সিলট বিভাগ : আওয়ামী লীগের যারা জয়লাভ করেছেন- সুনামগঞ্জের ছাতকে আবুল কালাম চৌধুরী, জগন্নাথপুরে মো. আবদুল মোনাফ, সদরে আয়ুব বখত, দিরাইয়ে মোশাররফ মিয়া, সিলেটের জকিগঞ্জে আওয়ামী লীগের খলিলুর রহমান, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে জুয়েল আহমেদ, সদরে ফজলুর রহমান, হবিগঞ্জের মাধবপুরে হিরেন্দ্রলাল সাহা, শায়েস্তাগঞ্জে মো. সালেক মিয়া।পঞ্চগড় : পঞ্চগড় সদরে বিএনপি প্রার্থী মো. তৌহিদুল ইসলাম বেসরকারিভাবে ১৩,৮৬৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের জাকিয়া খাতুন পেয়েছেন ৬,৭৯৮ ভোট।ঠাকুরগাঁও : জেলার ৩টি পৌরসভার মধ্যে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ২১ কেন্দ্রের মধ্যে ৩টি স্থগিত থাকায় ১৮ কেন্দ্রে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ১৫,৭৫৯ ভোট এগিয়ে আছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের তাহমিনা আখতার মোল্লা পেয়েছেন ১০,৭০১ ভোট। স্থগিত ৩ কেন্দ্রে ৬,৩৬১ ভোট থাকলেও মির্জা ফয়সলকেই বিজয়ী বলে ধারণা করছে স্থানীয় মহল। রাণীশংকৈলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলমগীর সরকার ৪,৮৮১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থ মোকাররম হোসেন পেয়েছেন ৩,৪৯১ ভোট। পীরগঞ্জে জিতেছেন আওয়ামী লীগের কসিরুল আলম। ভোট পেয়েছেন ৫,৭০৪। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির রাজিউর রহমান রাজু পেয়েছেন ৫,১৩৬ ভোট।দিনাজপুর : জেলার ৫ পৌরসভার মধ্যে সদরে বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম ৩৯,৫৮৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিন্দ্বী আওয়ামী লীগের আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ২৪,৫৩৪। ফুলবাড়ীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী খনি আন্দোলনের নেতা মুরতুজা সরকার মানিক বিজয়ী হয়েছেন ৬,৪০৯ ভোট পেয়ে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের শাহাজাহান আলী সরকার পুতু পেয়েছেন ৪,৭৯১ ভোট। বীরগঞ্জে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামায়াত নেতা মোহাম্মদ হানিফ ৪,৫০০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম আওয়ামী লীগের মোশাররফ হোসেন বাবুল পেয়েছেন ৩,৮৪৮ ভোট। বিরামপুরে বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ নেতা লিয়াকত আলী সরকার পেয়েছেন ৯,৭৬৫ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আক্কাস আলী পেয়েছেন ৯,০২৩ ভোট। হাকিমপুরে আওয়ামী লীগের এন এ এম জামিল হোসেন চলন্ত ৮,৯৮৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সাখাওয়াত হোসেন শিল্পী পেয়েছেন ৪,৯১২ ভোট।নীলফামারী : জেলার দুই পৌরসভার মধ্যে জলঢাকায় বিএনপির প্রার্থী ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী ৯,৬৫৪ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইলিয়াস হোসেন বাবলু পেয়েছেন ৭,৫৪০ ভোট। সৈয়দপুরে প্রায় ১১ হাজার ভোটের ৪টি কেন্দ্র স্থগিত থাকায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করা যায়নি। তবে বিএনপি প্রার্থী আমজাদ হোসেন ২৫,৮৩৫ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের শাখাওয়াত হোসেন পেয়েছেন ১৯,৯৪০ ভোট। তাদের ভোটের পার্থক্য প্রায় ৬ হাজার।লালমনিরহাট : লালমনিরহাট সদর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু ১৪,৫৬১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবদুল হালিম পেয়েছেন ১০,২২২ ভোট। পাটগ্রামে আওয়ামী লীগের শমশের আলী ৭,১৪৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এ কে মোস্তফা সানাউজ্জামান ওপেল পেয়েছেন ৪,১২৪ ভোট।রংপুর : রংপুরের বদরগঞ্জে আওয়ামী লীগের উত্তম কুমার সাহা বিজয়ী হয়েছেন। পেয়েছেন ৬,৯৯২ ভোট। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুল হক পেয়েছেন ৫,৯৯৫ ভোট।কুড়িগ্রাম : সদরে আওয়ামী লীগের আবদুল জলিল ১৮,৭১০ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নুর ইসলাম নুরু। নাগেশ্বরীতে জয় পাওয়া জাতীয় পার্টির আবদুর রহমানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ হোসেন ফাকু। উলিপুরে বিএনপির তারিক আবুল জয় পেয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজাদুর রহমান সাজুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।গাইবান্ধা : গাইবান্ধা সদরে আওয়ামী লীগের অ্যাড. শাহ মাসুদ কবীর মিলন ১০,৬৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র আনওয়ার উল সারওয়ার পেয়েছেন ৭,২৭২ ভোট। গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আতাউর রহমান ১৫,৫১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছে। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ফারুক আহমেদ পেয়েছেন ৫,৭৯৩ ভোট। সুন্দরগঞ্জে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুল্লাহ্ আল মামুন (৫,১৮০ ভোট) নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী আজাদুল করিম প্রামাণিক নিপু পেয়েছেন ১,৯৯৩ ভোট। সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের ৬ পৌরসভার মধ্যে ৫ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীদের জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। তারা হলেন- কাজিপুর পৌরসভায় হাজী নিজাম উদ্দিন, বেলকুচি পৌরসভায় বেগম আশানুর বিশ্বাস, শাহজাদপুর পৌরসভায় হালিমুল হক মীরু, উল্লাপাড়া পৌরসভায় নজরুল ইসলাম ও রায়গঞ্জ পৌরসভায় আবদুল্লাহ পাঠান। সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় সৈয়দ আবদুর রউফ মুক্তা এগিয়ে রয়েছেন। রাজশাহী : রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ ৮ পৌরসভায় ও বিএনপি ২ পৌরসভায় জিতেছেন। গোদাগাড়ী পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনিরুল ইসলাম বাবু ১০ হাজার ৩৮৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির আনোয়ারুল ইসলাম পেয়েছেন ৬ হাজার ২৯৮ ভোট। কাঁকনহাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবদুল মজিদ মাস্টার ৫ হাজার ৮০৭ ভোট ও তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির হাফিজুর রহমান হাফিজ পেয়েছেন ৪ হাজার ৪২৮ ভোট। বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৭ হাজার ৮০৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবু নঈম শামসুর রহমান মিন্টু পেয়েছেন ৩ হাজার ২০৩ ভোট। ভবানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের আবদুল মালেক মণ্ডল ৬ হাজার ৯ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আবদুর রাজ্জাক পেয়েছেন ৫ হাজার ৮৫ ভোট। মুণ্ডুমালায় আওয়ামী লীগের গোলাম রাব্বানী ৬ হাজার ৪৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ফিরোজ কবির পেয়েছেন ৪ হাজার ৪৬ ভোট। মোহনপুরের কেশরহাট পৌরসভায় আওয়ামী লীগের শহিদুজ্জামান শহিদ ৭ হাজার ৩৪৩ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াত সমর্থক হাফিজুর রহমান জগ প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৯৯৬ ভোট। দুর্গাপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের তোফাজ্জল হোসেন পেয়েছেন ৮ হাজার ৮৮ ভোট। তার নিকটতম প্রার্থী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হাসানুজ্জামান সান্টু জগ প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৭২৭ ভোট। বাঘার আড়ানী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মুক্তার আলী ৫ হাজার ১৯৮ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির তোজাম্মেল হক পেয়েছেন ২ হাজার ৭৫০ ভোট। চারঘাট পৌরসভায় বিএনপির জাকিরুল ইসলাম বিকুল ৭ হাজার ৭৩৭ পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নার্গিছ খাতুন পেয়েছেন ৭ হাজার ৩৩০ ভোট। পবার নওহাটা পৌরসভায় বিএনপির মকবুল হোসেন ১২ হাজার ৭৮৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের আবদুল বারী খান পেয়েছেন ১১ হাজার ৬৭৯ ভোট।নওগাঁ : নওগাঁর নজিপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল ইসলাম চৌধুরী জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ২৪৭ ভোট। বিএনপির প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৫ হাজার ৮৩২টি। ৪১৫ ভোটের ব্যবধানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল ইসলাম চৌধুরীকে জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।নাটোর : নাটোরের ছয় পৌরসভা নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে পাঁচটিতে আওয়ামী লীগ এবং একটিতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। নাটোর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের উমা চৌধুরী জলি ২০ হাজার ২৫৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বর্তমান মেয়র শেখ এমদাদুল হক আল মামুন পেয়েছেন ১৬ হাজার ৩৮৬ ভোট। সিংড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের জান্নাতুল ফেরদৌস ১৪ হাজার ৫৭০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বর্তমান মেয়র অধ্যাপক শামিম আল রাজি মো. সিহানুর রহমান পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৯৩ ভোট। নলডাঙ্গা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের শফিরউদ্দিন মণ্ডল তিন হাজার ১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বর্তমান মেয়র আব্বাস আলী নান্নু পেয়েছেন এক হাজার ৬৯৫ ভোট। গুরুদাসপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের শাহনেওয়াজ আলী মোল্লা পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী আমজাদ হোসেন পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৪৯৪ ভোট। বড়াইগ্রাম পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবদুল বারেক সরদার পাঁচ হাজার ৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বর্তমান মেয়র ইসাহাক আলী পেয়েছেন তিন হাজার ২১৬ ভোট। গোপালপুর পৌরসভায় বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মোলাম চার হাজার ৯১৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের রোকসানা মোর্তুজা লিলি পেয়েছেন চার হাজার ৪ ভোট।চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী নজরুল ইসলাম ৩১ হাজার ৫০৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ’লীগের প্রার্থী সামিউল হক লিটন পেয়েছেন ৩০ হাজার ৫৪ ভোট। শিবগঞ্জ পৌরসভায় ১০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কারিবুল হক রাজিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাফর আলী পেয়েছেন ৬ হাজার ১৫৭ ভোট। নাচোল পৌরসভায় ২ হাজার ২১৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আবদুর রশিদ খান ঝালু (নৌকা)। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আমানুল্লাহ-আল মাসুদ পেয়েছেন ২ হাজার ৭২০ ভোট। রহনপুর পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী তারেক আহমেদ ৯ হাজার ৫১৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আ’লীগের প্রার্থী গোলাম রাব্বানী বিশ্বাস পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৩২ ভোট।বগুড়া : ধুনট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ৪ হাজার ভোট পেয়ে এ জি এম বাদশাহ্ (জগ) বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির আলিমুদ্দিন হারুন মণ্ডল (ধানের শীষ) পেয়েছেন ২ হাজার ৪৬৪ ভোট। শেরপুর পৌরসভার আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলহাজ মো. আবদুস সাত্তার নৌকা প্রতীকে ৮ হাজার ৯১১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী স্বাধীন কুমার কুণ্ডু (ধানের শীষ) ৬ হাজার ১৬৫ ভোট। শিবগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী তৌহিদুর রহমান মানিক ৭ হাজার ৩৬৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মতিয়ার রহমান মতি (ধানের শীষ) ৫ হাজার ৯৮৭ ভোট। নন্দীগ্রাম পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল ৪ হাজার ৪৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সুশান্ত কুমার শান্ত (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৪ হাজার ৩৪৬ ভোট। গাবতলী পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম সাইফ (ধানের শীষ) ৭ হাজার ১৭১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল জলিল পাইকার জগ মার্কায় পেয়েছেন ২ হাজার ২৩৬ ভোট। সান্তাহার পৌরসভায় বিএনপির প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু (ধানের শীষ) ৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রাশেদুল ইসলাম রাজা (নৌকা প্রতীক) পেয়েছেন ৮ হাজার ১৫৮ ভোট। কাহালু পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আলহাজ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ নৌকা প্রতীকে ৪ হাজার ৭৫৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থী আবদুল মান্নান ভাটা (ধানের শীষ) ৩ হাজার ৪৬৭ ভোট।জয়পুরহাট : জেলার ৩টি পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। জয়পুরহাট পৌরসভায় মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক ২৩ হাজার ৪৭৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির অধ্যক্ষ শামসুল হক পেয়েছেন ১১ হাজার ১৯০ ভোট। আক্কেলপুর পৌরসভায় মেয়র হয়েছেন গোলাম মাহফুজ চৌধুরী। তিনি পেয়েছেন ৬ হাজার ৬০০ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির রেজাউল করিম পেয়েছেন ৩ হাজার ৮৫৫ ভোট। কালাই পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী হালিমুল আলম জোন ৬ হাজার ৮৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপির সাজ্জাদুর রহমান তালুকদার সোহেল পেয়েছেন ২ হাজার ২৬১ ভোট।পাবনা : পাবনার সাতটি পৌরসভার মধ্যে আওয়ামী লীগ ৫টি, বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র ১টি ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত স্বতন্ত্র ১টিতে জয়ী হয়। পাবনার ফরিদপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের খ ম কামরুজ্জামান মাজেদ মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন। পেয়েছেন ৩ হাজার ৯৯৮ ভোট। ধানের শীষ নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এনামুল হক পান ৩ হাজার ৫৩০ ভোট। ঈশ্বরদী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ মিন্টু মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন। ভোট পেয়েছেন ২৬ হাজার ৯১৩ ভোট। ধানের শীষ নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোখলেছুর রহমান বাবলু পান ৯ হাজার ৩৭২ ভোট। ভাঙ্গুরা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম হাসনায়েন রাসেল ৫ হাজার ২০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান পেয়েছেন ৩ হাজার ২৯৫ ভোট। পাবনার চাটমোহর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মির্জা রেজাউল করিম দুলাল মেয়র পদে জয়লাভ করেছেন। পেয়েছেন ৩ হাজার ৫৩৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রফেসর আবদুল মান্নান। সুজানগর পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী আবদুল ওহাব ৬ হাজার ৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন তোফা পেয়েছেন ৫ হাজার ৯৫ ভোট। সাঁথিয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী মিরাজুল ইসলাম ১২ হাজার ৫৮৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ৯ হাজার ৩৭২ ভোট। সদর পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল হাসান মিন্টু ৩০ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অপরদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী রকিব হাসান টিপু। তার প্রাপ্ত ভোট ২৪ হাজার ৬৫৪ ভোট।বিদ্রোহী : কানাইঘাটে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী নিজামউদ্দিন আল মিজান, গোলাপগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী সিরাজুল জব্বার চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছেন। মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এ কে এম শফি আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় তাকজিল ফলিফা, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মিজানুর রহমান, লাকসামে আবুল খায়ের, হোমনায় নজরুল ইসলাম, চান্দিনায় মফিজুল ইসলাম ও দাউদকান্দিতে নাইম ইউসুফ সেইন। চাঁদপুরের হাজিগঞ্জে আ স ম মাহবুবুল আলম, ছেঙ্গারচরে রফিকুল আলম, ফরিদগঞ্জে মাহফুজুল হক, কচুয়ায় নাজমুল আলম, মতলবে আওলাদ হোসেন। ফেনীর দাগনভূইঞায় ওমর ফারুক খান, সদরে হাজী আলাউদ্দিন, পরশুরামে নিজামউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী। নোয়াখালীর বশিরহাটে আবদুল কাদের, হাতিয়ায় এ কে এম ইউসুফ আলী, চাটখিলে মোহাম্মদ উল্লা। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে আবুল খায়ের পাটোয়ারী, রামগতিতে এম মেসবাহ উদ্দিন, রায়পুরে ইসমাইল খোকন। চট্টগ্রামের ১০ পৌরসভার সব কটিতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বারৈয়ারহাটে নিজাম উদ্দিন, সন্দ্বীপে জাফরুল্লাহ টিটু, রাউজানে দেবাশীষ পালিত, রাঙ্গুনিয়ায় শাহজাহান শিকদার, চন্দনাইশে মাহবুবুল আলম খোকা, সাতকানিয়ায় মোহাম্মদ জোবাইর, পটিয়ায় হারুনুর রশিদ, বাঁশখালীতে সেলিমুল হক, সীতাকুণ্ডে বদিউল আলম ও মিরসরাইয়ে গিয়াস উদ্দিন। রাঙামাটি সদরে আকবর হোসেন চৌধুরী। বান্দরবানের লামায় জহিরুল ইসলাম ও সদরে মোহাম্মদ ইসলাম বেবী নির্বাচিত হয়েছেন। বিএনপি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন- হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে সাব্বির আহমেদ চৌধুরী, সদরে কারাবন্দী জি কে গউছ, চুনারুঘাটে নাজিমউদ্দিন আহমেদ ও কুমিল্লার বরুড়ায় জসিম উদ্দিন পাটোয়ারী। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি সদরে নাগরিক কমিটির ব্যানারে স্বতন্ত্র প্রার্থী রফিকুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন। স্থগিত আছে চৌমুহনী পৌরসভা।বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৭ মেয়র : নোয়াখালীর চাটখিলে আওয়ামী লীগের মোহাম্মদ উলাহ, গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ আহম্মদ হোসেন মীর্জা, পিরোজপুর পৌরসভায় হাবিবুর রহমান মালেক, জামালপুরের মাদারগঞ্জে মির্জা গোলাম কিবরিয়া কবির, ফেনী সদরে হাজী আলাউদ্দিন, পরশুরামে নিজামউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী সাজেল ও চাঁদপুরের ছেঙ্গারচরে মো. রফিকুল আলম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হয়েছেন। এ ছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৯৪ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৪০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

পৌর নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান বিএনপির

বিশেষ প্রতিনিধি: পৌরসভা নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। ‘জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করায়’ সরকারের এবং ‘সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ’ হওয়ায় নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ দাবি করেছে তারা।গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দল ও জোটের পক্ষ থেকে এ সব কথা বলেন।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট পৌর নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করছে। একই সঙ্গে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে প্রতারণা করা এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতার জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের পদত্যাগ দাবি করছি।তিনি বলেন, বুধবার রাতে খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা মন্ডলী, যুগ্ম মহাসচিবদের এক যৌথসভা হয়। এরপর ২০ দলের কয়েকজন নেতাও খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলেন। সেখানে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের সিদ্ধান্তগৃহীত হয়।এ সময় সাংবাদিকেরা জানতে চান, পৌরসভায় বিএনপির যাঁরা জিতেছেন, সে ফলের কী হবে?জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা পুরো ফলই প্রত্যাখ্যান করছি। এ ফলাফল সাংগঠনিকভাবে বিএনপির দুর্বলতা ও নেতা-কর্মীদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করবে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, মোটেও হতাশা সৃষ্টি করবে না। বরং নেতা-কর্মীদের আরও উদ্দীপ্ত করবে। নির্বাচনে সাংগঠনিক দুর্বলতা ফুটে ওঠেনি। সরকার নিজেদের সন্ত্রাসী বাহিনী এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়েছে। তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা সাংগঠনিকভাবে দীর্ঘ এক মাস এই রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অংশ নিয়েছে। তিনি দাবি করেন, গত তিন মাসে বিএনপির ছয় হাজার নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।মির্জা ফখরুল বলেন, বুধবার পৌর নির্বাচনটি ছিল সরকারের নীলনকশা বাস্তবায়নের আরেকটি নাটক। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক নির্বাচন হিসেবে চিহ্নিত হবে। ইতিপূর্বে উপজেলা নির্বাচন, ঢাকার দুই ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন একই প্রক্রিয়ায় হয়েছে। বর্তমান সরকারের অগতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী আচরণ, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতায়- এ কথাই প্রমাণিত হয়েছে যে, এ সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনো নির্বাচনই অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটি সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, যুগ্ম মহাসচিব মো. শাহজাহান, যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার প্রমুখ।প্রসঙ্গত, অনিয়ম ও সংঘর্ষের কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্যে বুধবার প্রথমবারের মতো দেশে দলীয়ভাবে পৌরসভা নির্বাচন হয়। ২৩৪টি পৌরসভার মধ্যে এ পর্যন্ত২২৭টি মেয়র পদের বেসরকারি ফল ঘোষণা করা হয়েছে।এতে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক জিতেছে ১৭৭টিতে, বিএনপির প্রার্থীরা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয় পেয়েছেন ২২টিতে

পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

এনএনবি : এবারের পাঠ্যপুস্তক উৎসবের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৮ জন শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। নতুন বছরের প্রথম দিন প্রাক-প্রাথমিক থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত চার কোটি ৪৪ লাখ ১৬ হাজার ৭২৮ জন শিক্ষার্থীর হাতে ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২টি নতুন বই তুলে দেবে সরকার।এছাড়া প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণির ৩২ লাখ শিক্ষার্থী পাবে তিন কোটি ২৮ লাখ আট হাজার ৫৩টি বই ও অনুশীলন খাতা।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জানান, এবার প্রতিটি বইয়ের জন্য গড়ে খরচ হয়েছে ১৯ টাকা২৪পয়সা।প্রতিটি পুস্তক ছাপা থেকে শুরু করে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত এই খরচ হিসাব করা হয়েছে। স্কুলে স্কুলে যাওয়ার আগে দেশের ৫০৬টি পয়েন্টে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এই বই।প্রধানমন্ত্রী ঢাকার ছয়টি স্কুল, তিনটি মাদ্রাসা, একটি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং দুটি প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন শ্রেণির বই তুলে দেন। বছরের প্রথম দিন শুক্রবার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্থরের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে নতুন বই বিতরণ করা হবে এবার।সকাল ৯টায় রাজধানীর সরকারি ল্যাবরেটরি স্কুলে উৎসবের মধ্য দিয়ে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি এবং ইবতেদায়ীর শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।আর সকাল ১০টায় মিরপুরে ন্যাশনাল বাংলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক স্থরের শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার।শিক্ষামন্ত্রী ও গণশিক্ষামন্ত্রী ছাড়াও তাদের মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও শিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তারা গণভবনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর হাতে মাধ্যমিকের একসেট বই তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী।প্রধানমন্ত্রী তখন হাসতে হাসতে বলেন, “এক সেট যে পেলাম, কোন ক্লাসে ভর্তি হব।”অনেক আগ থেকেই প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের স্বল্প পরিসরে বই দেওয়া হলেও ২০১০ সাল থেকে সরকার প্রথম থেকে নবম শ্রেণির সব শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দিয়ে আসছে।

রাজিব হত্যার রায় প্রত্যাখ্যান : রায়কে প্রভাবিত বলে দাবি

ব্লগার ও স্থপতি আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন রাজীবের বাবা মামলার বাদী ডা. নাজিম উদ্দিন।

Rajib 2

বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুরে ঢাকার ৩নং দ্রুত বিচার আদালতের বিচারক সাঈদ আহমেদ মামলার রায়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র ফয়সাল বিন নাঈম দীপ ও ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলার জয়লস্করের রেদোয়ানুল আজাদ রানাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর ছয় আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন।রায় পরবর্তী এক প্রতিক্রিয়ায় রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দিন বলেন, আমি আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, রাহমানী এদেরকে চিনি না। আমার ছেলেকে হত্যা করেছে জামায়াত-শিবির। কাজেই প্রভাবিত এ রায়কে আমি প্রত্যাখ্যান করি। রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দিনের এ প্রতিক্রিয়া প্রচার করেছে একাত্তর টেলিভিশন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে বাসায় ফেরার পথে ব্লগার রাজীব হায়দার শোভনকে (থাবাবাবা) পল্লবীর কালশীর পলাশনগরে ধর্মীয় জঙ্গিরা কুপিয়ে হত্যা করে। ব্লগার পরিচয়ের বাইরেও রাজীব ছিলেন যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা শাহবাগ গণজাগরণ আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক।

রাজীব হায়দার ছিলেন প্রথম ব্লগার যিনি বাংলাদেশে ধর্মীয় জঙ্গিদের কর্তৃক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এরপর ২০১৫ সালে এক বছরে আরও ৪ ব্লগারকে কুপিয়ে হত্যা করে ধর্মীয় মৌলবাদীরা। এ হত্যাকাণ্ডের শিকার অপরাপর ব্লগাররা হলেন- অভিজিৎ রায়, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, অনন্ত বিজয় দাশ, নিলাদ্রি চট্টোপাধ্যায় নিলয় (নিলয় নীল)। ২০১৫ সালে অপর এক হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন প্রগতিশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফায়সাল আরেফিন দীপন, যিনি এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া অভিজিৎ রায়ের বইয়ের প্রকাশক ছিলেন।

মামলার রায়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র ফয়সাল বিন নাঈম দীপ ও ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলার জয়লস্করের রেদোয়ানুল আজাদ রানার মৃতুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রানা প্রথম থেকেই পলাতক রয়েছেন।

আর মাকসুদুল হাসান অনিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন বিচারক।

পাঁচজনের মধ্যে এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত।

মুফতি মো. জসীমউদ্দিন রাহমানীকে ৫ বছরের কারাদণ্ডসহ দুই হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে আরও দুমাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আর সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে ৩ বছর কারাদণ্ড দেন আদালত।

রাজিব হত্যার দায়ে দু’জনের ফাঁসির রায়: এক জনের যাবজ্জীবন বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা

গণজাগরণ মঞ্চের কর্মি ব্লগার রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। আসামি দু’জন হলেন ফয়সাল বিন নাইম ও বেদোয়ানুল আজাদ। মাকসুদুল হাসান অনিক নামের একজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, এহসান রেজা রুম্মান, নাইম শিকদার ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছর করে এবং সাদমান ইয়ানির মাহমুদকে তিন বছর এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান জসীম উদ্দিন রাহমানীকে পাঁচ বছর কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।Rajib Murderer 2আজ দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইবুনাল-৩-এর বিচারক সাঈদ আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়, নিহত রাজীব হায়দায়কে ব্লগার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তিনি কী ধরনের লেখালেখি করতেন, মামলার তদন্তে তা উঠে আসেনি। কোন উদ্দেশ্যে আসামিরা রাজীব হায়দায়কে হত্যা করেছেন, তদন্তে তা-ও উঠে আসেনি। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ব্লগে লেখালেখির কারণে ব্লগার রাজীবকে হত্যার পরিকল্পনা করার বিষয় এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তা প্রকাশ করেছেন।

Rajib Murdererরাজীব হায়দার যে লেখালেখি করতেন, এ ধরনের কোনো লেখা তদন্ত কর্মকর্তা মামলায় জব্দ করেননি। এ ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপক্ষ ৩৫ জন সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন করে। সাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনা করে আসামিদের বিরুদ্ধে রাজীব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয় প্রমাণে সক্ষম হয়েছে। সাক্ষ্য পর্যালোচনায় ফয়সাল বিন নাইম ও পলাতক আসামি রেদোয়ানুল আজাদকে হত্যা ও হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃতুদণ্ড দেওয়া হয়।
রায়ে জানানো হয়, আসামি জসীম উদ্দিন রাহমানী সম্পর্কে পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানা গেছে, তিনি নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান। কিন্তু মামলার কোথাও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। হত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হলো।

রায় ঘোষণার সময় বিচারক সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নিহত ব্লগার রাজীব হায়দার একজন প্রকৌশলী ছিলেন। আবার মামলার অধিকাংশ আসামি দাবি করেছেন তাঁরা প্রকৌশলী। প্রকৌশলীদের হাতেই প্রকৌশলী খুন হয়েছেন।’

Faisal Bin Nayeemবিচারক আরও বলেন, এ মামলার নথিপত্র পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, এই মামলার মূল হোতা বা পরিকল্পনাকারী রেদোয়ানুল আজাদ রানা। তাঁর পরিকল্পনা অনুযায়ী, আসামিরা দুই ভাগে ভাগ হয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন। একটি দল ব্লগার রাজীব কোথায় যেতেন, কী করতেন—এ-সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেছে। অপর একটি দল সরাসরি রাজীবকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এঁদের মধ্যে ফয়সাল বিন নাইম চাপাতি দিয়ে রাজীবের ঘাড়ে কোপ দেন। তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন আরেক আসামি মাকসুদুল হাসান।
ব্লগারদের উদ্দেশে বিচারক বলেন, ‘শুনেছি, ব্লগারদের অনেকেই এমন লেখা প্রকাশ করেন, যা কেউ পড়লে তাঁদের খুন করতে উৎসাহিত হয়। এ ধরনের লেখা থেকে অবশ্যই ব্লগারদের বিরত থাকতে হবে। আবার সামান্য কারণে মানুষ খুন করার মতো ঘটনাও আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এখনকার কিছু কিছু যুবক বিপথগামী হচ্ছে, এটিও ভাবনার বিষয়।’
২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পল্লবী থানাধীন কালশীর পলাশনগরে নিজ বাড়ির সামনে ব্লগার রাজীব হায়দারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর বাবা নাজিম উদ্দীন পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। গত বছরের ২৯ জানুয়ারি এ মামলায় জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানীসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এ মামলায় মুফতি জসীম উদ্দিন রাহমানীসহ সাত আসামি কারাগারে আটক আছেন। ২৮ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক সাঈদ আহমেদ আজ এ রায় ঘোষণা করেছেন।

পিএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ : পাশের হার ৯৮.৫২ সিলেট বিভাগে ৯৬.৭৯

ঢাকা থেকে বিশেষ প্রতিনিধি: প্রাথমিক সমাপনীতে (পিএসসি) ও ইবতেদায়ি পরীক্ষার ফল আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে। এ বছর প্রাথমিক সমাপনীতে পাসের হার ৯৮.৫২। ঢাকা বিভাগে পাসের হার ৯৮.৭৪, চট্টগ্রাম বিভাগে পাসের হার ৯৮.৪১, রাজশাহী বিভাগে পাসের হার ৯৯, খুলনা বিভাগে পাসের হার ৯৮.৯৭, বরিশাল বিভাগে পাসের হার ৯৮.৩০, সিলেট বিভাগে পাসের হার ৯৬.৭৯ ও রংপুর বিভাগে পাসের হার ৯৮.৫৬। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার কাছে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও মাদ্রাসার জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) এবং প্রাথমিক শিক্ষা (পিএসসি) ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলের অনুলিপি তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার।২২ থেকে ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনীতে মোট ৩২ লাখ ৫৪ হাজার ৫১৪ পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে প্রাথমিক সমাপনীতে ২৯ লাখ ৪৯ হাজার ৬৩ জন ও ইবতেদায়িতে ৩ লাখ ৫ হাজার ৪৫১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।জেএসসির ফলাফলে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম বিভাগে পাসের হার ৮৫.৪৮। এখানে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ২৬৮ জন। সিলেট বিভাগে পাসের হার ৯৩.৫৯। এখানে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৯৫৬ জন। কুমিল্লা বিভাগে মোট পাসের হার ৯২.৪৭। এখানে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ হাজার ৭৪৭ জন।গত ১ নভেম্বর শুরু হয়ে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষা শেষ হয় ১৮ নভেম্বর। এ পরীক্ষায় অংশ নেয় মোট ২৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৩৩ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে জেএসসিতে ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৪৪৭ জন এবং জেডিসিতে পরীক্ষার্থী ৩ লাখ ৫৮ হাজার ৪৮৬ জন।

উচ্চ পর্যায়ের কারচুপি হয়েছে : ওসমান ফারুক

এনএনবি : বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম ওসমান ফারুক বলেছেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের চেয়ে এবারের পৌর নির্বাচনে উচ্চমাত্রার কারচুপি হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে দলের পক্ষে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) অভিযোগ জানিয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা বলেন। চার কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার পর বেলা ১টার দিকে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা যা দেখছি, তাতে এটি অত্যন্ত কারচুপির নির্বাচন। ৫ জানুয়ারিতে যা হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সিটি করপোরেশনে যা হয়েছে, সেগুলোর চেয়ে আরেকটু উচ্চতর পর্যায়ের কারচুপির মধ্যদিয়ে এ নির্বাচনটি হচ্ছে। তবে ভোটাররা যদি ভোট দিতে পারেন তাহলে বিএনপি বিপুল ভোটে জয়লাভ করবে।’ সকালের পর সহিংসতা আরও বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সময়ের মধ্যে সহিংসতা ও ভোটকেন্দ্রে লুটতরাজ আরও বেশি বেড়েছে। আমরা কাউকে প্রভাবিত করতে আসিনি। আমাদের ফিল্ড লেভেলে যে মনিটরিং হয়েছে, সে তথ্য তাদের দেওয়ার জন্যই আসা। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হচ্ছে না এবং নির্বাচন সহিংসতার দিকে রূপ নিচ্ছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেক ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি নির্বাচন যেভাবে হওয়া উচিত ছিল সেভাবে হচ্ছে না। ইতোমধ্যে অনেক কেন্দ্র লুট হয়ে গেছে। অনেক কেন্দ্রে মন্ত্রী-এমপিরা বসে নির্বাচনে হস্তক্সেপ করছেন। বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর হচ্ছে, ছেলেদের ধরে নিয়ে যাচ্ছে। গুলিতে একজন মারাও গেছে।’বিএনপি নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে— আওয়ামী লীগের এমন অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচন করতে এসেছে, নির্বাচনে জয়লাভ করার মানসিকতায় এসেছে। বিতর্কিত করার জন্য আমরা আসিনি। আমরা শেষ পর্যন্ত নির্বাচন করে যাব। প্রত্যাহার করব না। কীভাবে নির্বাচন হচ্ছে তা দেশবাসী বিচার করবে। আমরা দুঃখিত যা আশা করছিলাম, এ নির্বাচনের পরে আরেকটি বড় নির্বাচন গণতন্ত্রকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে। যেভাবে এরা চলছে মূলত গণতন্ত্রের পথে আমাদের পিছিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।’নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘উনারা বলছেন স্টেপ নিচ্ছেন। আমরা প্রত্যক্ষ করেছি ওনারা টেলিফোন করেছেন। এটা বোঝা যাবে বাকি তিন ঘণ্টা কেমন হয়। যদি বাকি তিন ঘণ্টা সুষ্ঠু হয়, আমাদের অভিযোগগুলো পুনরাবৃত্তি যদি না ঘটে, তবে বুঝব যে তারা পদক্ষেপ নিয়েছে। আর না হলে বুঝব যে তারা পদক্ষেপ নেয়নি।’নির্বাচন কমিশন সচিবের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সচিবের ওয়েটিং রুমে বসেছিলাম। আমরা তো রাস্তার লোক না। আমাদের বসিয়ে রেখে বলা হয়েছে দেখা হবে না। এটা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের কর্তাব্যক্তিদের মনোবৃত্তি। আমলাতন্ত্রের কাছে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দাম নেই সেটা প্রমাণ হলো। এ সময় চার নির্বাচন কমিশনারের আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ জানান।

আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলার রায় বৃহস্পতিবার

সিলেট বিভাগের নির্বাচনী ফলাফল আওয়ামীলীগ-১৩ বিএনপি-৩

সিলেট থেকে বিশেষ প্রতিনিধি:  বিপুল উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যে দিয়ে সিলেট বিভাগের ১৬টি পৌরসভায় নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের তিনটি, মৌলভীবাজারে ৪টি, সুনামগঞ্জে ৪টি ও হবিগঞ্জের ৫টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।  নির্বাচনে ১৬টি পৌরসভার মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৩টি পৌ্রসভায় ও ৩টিতে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।৩০ডিসেম্বর ভোর ৮টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাররা তাদের ভোটারধিকার প্রয়োগ করেন।

সিলেট:

সিলেট জেলার তিনটি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই তিনটি পৌরসভার মধ্যে একটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ও দুইটি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

কানাইঘাট: ওই পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী  নিজাম উদ্দিন আল মিজান বিজয়ী হয়েছেন তিনি নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ৩ হাজার ৩৭৮ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের প্রার্থী লুৎফুর রহমান পেয়েছেন ২ হাজার ৮৯৭ ভোট জকিগগঞ্জ:

সিলেটের জকিগঞ্জ পৌরসভায় বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী খলিল উদ্দিন। তিনি পেয়েছেন ১ হাজার ৫৩০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আল ইসলাহ সমর্থিত প্রার্থী হিফজুর রহমান মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ হাজার ৩৭১ ভোট। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফারুক উদ্দিন পেয়েছেন  ১ হাজার ৩৪৩ ভোট।

গোলাপগঞ্জ: আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সিরাজুল জব্বার চৌধুরী বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ৪ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আমিনুর রহমান লিপন নারকেল গাছ প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়েছেন।  এছাড়া আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাকারিয়া আহমদ পাপলু পেয়েছেন ২ হাজার ২০২, বিএনপির গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী শাহীন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২ হাজার ১০২।

 মৌলভীবাজার:

মৌলভীবাজার জেলার চারটি পৌরসভার  মধ্যে মৌলভীবাজার সদর, কমলগঞ্জ ও বড়লেখা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। শুধু মাত্র কুলাউড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

মৌলভীবাজার সদর : পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী ফজলুর রহমান ১৩ হাজার ৬৩৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি  বিএনপি মনোনীত ওলিউর রহমান পেয়েছেন ৭ হাজার ৫৫০ ভোট।

কুলাউড়া : আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) শফি আলম ইউনুছ ৪ হাজার ২৩০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র কামাল উদ্দিন আহমদ জুনেদ পেয়েছেন ৪ হাজার ১৭৪ ভোট।

কমলগঞ্জ : আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী জুয়েল আহমদ ৩ হাজার ৯ শত ৯০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকারিয়া হাবীব বিপ্লব পেয়েছেন ২ হাজার ৮৬০ ভোট।

বড়লেখা : আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী আবুল ইমাম চৌধুরী কামরান ৪ হাজার ৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াত সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী খিজির আহমদ পেয়েছেন ২ হাজার ৫৭৭ ভোট।

হবিগঞ্জ জেলার পাঁচটি পৌরসভার মধ্যে ৩টি বিএনপি ২টি আওয়ামীলীগ:

হবিগঞ্জ জেলায় ৫টি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার মধ্যে হবিগঞ্জ সদর, চুনারুঘাট, নবীগঞ্জে বিএনপি প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়াও মাধবপুর ও শায়েস্তাগঞ্জে আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

হবিগঞ্জ পৌরসভা : হবিগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী জিকে গউছ ১০ হাজার ৭৯৭ ভোট পেয়ে পুণরায় মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৯ হাজার ২৬৪ ভোট।

মাধবপুর : মাধবপুর পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী হিরেন্দ্র লাল সাহাকে বেসরকারী ভাবে মেয়র ঘোষনা দিয়েছে উপজেলা রিটানিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম। হিরেন্দ্র লাল সাহা পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৬৩ ভোট । তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি  বিএনপির মনোনিত প্রার্থী হাবিবুর রহমান মানিক ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৯৪০ ভোট পেয়েছেন।

চুনারুঘাট : বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ধানের শীষ নিয়ে নাজিম উদ্দিন শামছু ৪ হাজার ৭৩৫ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগ সমর্থিত সাইফুল ইসলাম রুবেল পেয়েছেন ৪ হাজার ৭২১ভোট

শায়েস্তাগঞ্জ:  পৌরসভায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ছালেক মিয়া ৩ হাজার ৯৭৩ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্ব›িদ্ব বিএনপি সমর্থিত ফরিদ আহমেদ অলি পয়েছেন ৩ হাজার ৮৯০ ভোট।

নবীগঞ্জ:  পৌরসভায় বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ছাবির আহমেদ চৌধুরী ৫ হাজার ৬২১ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দি আওয়ামী লীগ সমর্থিত তোফাজ্জুল ইসলাম চৌধুরী পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৭৩ ভোট।

 সুনামগঞ্জ: 

: সুনামগঞ্জ জেলায় চারটি পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে চারটিতেই আওয়ামী লীগ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। সুনামগঞ্জ সদর : নৌকা প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী আয়ুব বখত জগলুল ১৪ হাজার ৫৩৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রার্থী দেওয়ান গনিউল সালাদিন ১০ হাজার ৪৩৪ ভোট পেয়েছেন। তিনি মোবাইল প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

জগন্নাথপুর : আওয়ামী লীগের প্রাথী নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী হাজী আব্দুল মনাফ ৯ হাজার ৩২৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপির প্রার্থী রাজু আহমদ ধানের শীষ নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৫ হাজার ৬৫১।

দিরাই : বেসকারীভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী মোশারফ মিয়া ৭ হাজার ৪৪২ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক ধানের শীষ নিয়ে ৬ হাজার ৪৯৫ ভোট পেয়েছেন।

ছাতক : আওয়ামী লীগের সমর্থিত প্রার্থী আবুল কালাম চৌধুরী নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ১০ হাজার ৮২৬ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল ওয়াহিদ মনজু মোবাইল ফোন প্রতীক নিয়ে ৪ হাজার ৬৬১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

 

 

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net