শিরোনাম

Monthly Archives: জানুয়ারি ২০১৬

নবীগঞ্জে ফেসবুকে ভুয়া আইডির বিরুদ্ধে ইউপি আওয়ামীলীগ সভাপতির জিডি

নবীগঞ্জ থেকে রাকিল হোসেন: নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউপি আওয়ামীলীগের সভাপতি গোলাম হোসেন ফেসবুকে নবীগঞ্জ সমাচার নামে এক ভুয়া আইডির বিরুদ্ধে গতক ৩১ জানুয়ারী রবিবার নবীগঞ্জ থানায় সাধারন (ডায়েরী নং ১২১৪)জিডি করেছেন। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন,দীর্ঘ দিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেস বুকে নবীগঞ্জ সমাচার নামে এক আইডি থেকে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ও মানহানিকর সংবাদ পরিবেশন করে আসছে। এতে তার মান সম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। তিনি তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান। তিনি উক্ত আইডির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাস্থা গ্রহন করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানান।

নবীগঞ্জে ফিরাছতপুরে নিজ ভুমিতে গৃহ নির্মান করতে বাধা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন অসহায় দিলারা

উত্তম কুমার পাল হিমেল, নবীগঞ্জ থেকে ঃ নবীগঞ্জে অসহায় বিধবা মহিলার রেজিষ্টি দলিল মুলে ক্রয়কৃত জায়গা অন্যায়ভাবে জোরপূর্বক জবর দখলের চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছে ভুমিদস্যু আব্দুল করিম ও তার লোকজন। নিজের ক্রয়কৃত দলিলমুলে ভুমিতে গৃহ নির্মান করতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করেন দিলারা বেগম। জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার ৫ নং আউশকান্দি ইউনিয়নের ফিরাছতপুর গ্রামের আব্দুল করিমের নিকট থেকে গত ০৩/০৬/২০১৩ ইং তারিখে রেজিষ্টি দলিল মুলে একই গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নানের স্ত্রী দিলারা বেগম তার দেবর আব্দুল করিমের নিকট থেকে মিরাছতপুর মৌজার সাবেক জে এল ১১৬, বর্তমান জে এল ১১৯, এসএ খতিয়ান ১৮১/১, আর এস খতিয়ান ১৮. এস এ দাগ ১১৬, আর এস দাগ নং ১১০, ১১২ মোতাবেক ৫০ শতক ভুমি ২১১৮ নং দলিলমুলে ক্রয় করেন। জায়গা খরিদের পর ঐ ভুমিতে দিলারা বেগম গৃহ নির্মানের জন্য চারদিকে বাউন্ডারী ওয়াল দিয়ে রাখেন। কিন্তু ঐ জায়গা বিক্রি করার প্রায় ৩ বছর পর পরসম্পদলোভী ভুমিদস্যু আব্দুল করিম তার লোকজন নিয়ে প্রতারনার আশ্রয় নিয়ে অন্যায়ভাবে ওই জায়গা আবারো তার নিজের বলে দাবী করে এবং ওই জায়গা দখলের জন্য নানা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা চালায় । ইদানিং ভুমির দলিল মুলে প্রকৃত মালিক ঐ জায়গায় রড সিমেন্ট ,ইট বালু,পাথর এনে গৃহ নির্মানের জন্য উদ্যোগ নিলে আব্দুল করিমের লোকজন দিলারা বেগমের নিকট চাঁদা দাবী করে । এতে দিলারা বেগম চাাঁদা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তার লোকজন গৃহ নির্মান কাজে বাধা দেয় এবং জোরপূর্বক জায়গাটি তাদের দখলে নেওয়ার জন্য কৌশলের আশ্রয় নেয়। লোকজন নিয়ে অবৈধবাবে ভুমি দখল করতে না পেরে মুক্তিযোদ্ধার বরাত দিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ভুল তথ্য দিয়ে পত্রিকায় মনগড়া সংবাদ পরিবেশন করানো হয়। যা দেখে দিলারা বেগম হতবাক হয়ে পড়েন। যেকোন সময় দখলবাজরা দিলারা বেগম তার গৃহ নির্মানের সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যেতে পারে বলে আশংকায় রয়েছেন ন্যায্য টাকা দিয়ে ভুমি খরিদ করে দখলবাজদের হয়রানিতে নিরুপায় হয়ে পড়েন অসহায় বিধবা দিলারা বেগম। তার নিজের ভুমিতে গৃহ নির্মান কাজে নবীগঞ্জ পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করছেন দিলারা বেগম।
নবীগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিরোদ লাল দাশের পরলোক গমন

উত্তম কুমার পাল হিমেল-নবীগঞ্জ থেকেঃ নবীগঞ্জে মুক্তিযেুদ্ধের অকোতোভয় সৈনিক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক সহকারী কমান্ডার ৭ নং করগাঁও ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ক্ষিরোদ লাল দাশ(৭৯) আর নেই। তিনি গতকাল রাত ১০ টায় উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের মুক্তাহার গ্রামে নিজ বাড়ীতে পরলোক গমন করেন । মৃত্যুকালে তিনি ২ পুত্র ৩ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব রতœদীপ দাম রাজু জানান, আজ সোমবার সকাল ১১ টায় নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশানের উদ্যোগে রাষ্ঠীয় মর্যাদা গার্ড অব অর্নার দেওয়ার পর তাঁর অন্তষ্টিক্রিয়া অনুষ্টিত হবে।

নবীগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা ক্ষিরোদ লাল দাশের পরলোক গমন

উত্তম কুমার পাল হিমেল-নবীগঞ্জ থেকেঃ নবীগঞ্জে মুক্তিযেুদ্ধের অকোতোভয় সৈনিক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক সহকারী কমান্ডার ৭ নং করগাঁও ইউনিয়নের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ক্ষিরোদ লাল দাশ(৭৯) আর নেই। তিনি গতকাল রাত ১০ টায় উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের মুক্তাহার গ্রামে নিজ বাড়ীতে পরলোক গমন করেন । মৃত্যুকালে তিনি ২ পুত্র ৩ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব রতœদীপ দাম রাজু জানান, আজ সোমবার সকাল ১১ টায় নবীগঞ্জ উপজেলা প্রশানের উদ্যোগে রাষ্ঠীয় মর্যাদা গার্ড অব অর্নার দেওয়ার পর তাঁর অন্তষ্টিক্রিয়া অনুষ্টিত হবে।

এসডিজি বাস্তবায়নে দক্ষিণ এশিয়ার সংসদ গুলোর সুযোগ রয়েছে সাউথ এশিয়ান স্পীকারস সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

এনএনবি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য আমি দক্ষিণ এশিয়ার পার্লামেন্টগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি গড়ে তোলার উপর জোর দিতে চাই।প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে এসডিজি বাস্তবায়নে পার্লামেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের সুযোগ রয়েছে উলে¬খ করে বলেন, জাতীয় পর্যায়ে এসডিজি লক্ষ্যকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এবং এর কার্যক্রম মনিটর করার জন্য বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি বলেন, ’আমি মনে করি, ২০৩০ এজেন্ডা হচ্ছে একটি সম্মিলিত পথ-পরিক্রমা। এর বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের সরকারি এবং বেসরকারি, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক, সকল উৎস থেকে অধিক পরিমাণে সম্পদের সরবরাহ প্রয়োজন। সুতরাং শুরু থেকেই বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা বা ওডিএ-এর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা হবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।’ তিনি বিভিন্ন স্টোকহোল্ডার যেমন- নারী-পুরুষ, নাগরিক সমাজ, কম্যুনিটি এবং ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, যুবসমাজ ইত্যাদির সঙ্গে অংশীদারিত্ব, আলোচনা এবং সহযোগিতার মাধ্যমে এসডিজি বাস্তবায়নের জন্য আমি দক্ষিণ এশিয়ার পার্লামেন্টগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী এসডিজি’র পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন দেশের স্পীকার এবং সংসদ সদস্যদের প্রয়োজনীয় বাজেট অনুমোদনেরও উদাত্ত আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী গতকাল রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ’সাউথ এশিয়ান স্পীকারস সামিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। দু’দিনব্যাপী সম্মেলনের গতকাল ছিল শেষ দিন। সম্মেলনের যৌথ আযোজক ইন্টার পার্লামেন্টারী ইউনিয়ন (আইপিইউ) এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ। সহযোগিতায় ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো-ফ্রি কিডস। আইপিইউ সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পীকার সুমিত্রা মহাজন, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার এবং কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারী এসোসিয়েশন (সিপিএ) চেয়ারপার্সন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, শ্রীলংকার পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পীকার থিলাঙ্গা সুমাথিপলা, আফগানিস্তানের ওলেসি জিগরার স্পীকার আব্দুর রউফ ইব্রাহিম, ভূটানের জাতীয় সংসদ সংগুর স্পীকার জিগমে জাংপো, মালদ্বীপের মজলিসের স্পীকার আব্দুল¬াহ মাসেহ মোহামেদ বক্তব্য রাখেন। আইপিইউ সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী অনুষ্ঠানে সম্মেলনের ঢাকা ঘোষণা পড়ে শোনান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে তামাকের ব্যবহার মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো যেমন- বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান, মিয়ানমার এবং শ্রীলঙ্কায় তামাক-গ্রহণকারীর মোট সংখ্যা প্রায় ৩৮৩ মিলিয়ন। এটা বিশ্বের মোট ১ দশমিক ১ বিলিয়ন তামাকগ্রহণকারীর সংখ্যার ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। তিনি বলেন, এসব দেশে তামাকজনিত আর্থিক এবং স্বাস্থ্যগত ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। শুধু ভারত এবং বাংলাদেশে তামাক গ্রহণজনিত কারণে প্রতিবছর কমপক্ষে ১ দশমিক ১ মিলিয়ন মানুষ মারা যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার সরকার জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। তামাক নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত কনভেনশন ‘এফসিটিসি’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আমরা ২০১৩ সালে ধূমপান এবং তামাক জাতীয় পণ্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন সংশোধন করেছি এবং ২০১৫ সালে সংশি¬ষ্ট বিধি পাশ করেছি।
তিনি বলেন, ২০১৩ সালের তামাক জাতীয় পণ্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন এবং ২০১৫ সালের বিধি অনুসরণ করে আগামী মার্চ থেকে আমরা তামাকজাত পণ্যের মোড়কে ছবি সম্বলিত সতর্কবার্তা সংযোজন করতে যাচ্ছি। আমাদের প্রতিবেশি ভারত, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কায় এটা ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মকা-কে উৎসাহ দিতে আমরা ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে তামাকের উপর ১ শতাংশ হারে সারচার্জ আরোপ করেছি। বাংলাদেশে এটাই এ ধরণের প্রথম পদক্ষেপ। দেশকে তামাকমুক্ত করার দৃঢ় আশাবাদ ব্যাক্ত করে বলেছেন, আমরা ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তামাকের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে চাই।তিনি বলেন,এই ঈপ্সিত লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য আমরা যে বিষয়গুলোর উপর গুরুত্বারোপ করছি সেগুলো হচ্ছে প্রথম পদক্ষেপে স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ব্যবহার করে একটি তহবিল গঠন করা, যা দিয়ে দেশব্যাপী জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপে, আমরা তামাকের উপর বর্তমান শুল্ক-কাঠামো সহজ করে একটি শক্তিশালী তামাক শুল্ক-নীতি গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিব।’ এর উদ্দেশ্য হবে দেশে তামাকজাত পণ্যের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস এবং একইসাথে এ অঞ্চলের সর্বোত্তম ব্যবস্থা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারের শুল্ক আয় বৃদ্ধি করা বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান। তামাক নিয়ন্ত্রণ কর্মকা- সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য তাঁর সরকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল গঠন করেছে এবং জাতীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি হিসেবে পরিকল্পনা কমিশন বৈশ্বিক এজেন্ডার সাথে মিল রেখে সম্প্রতি ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানান। শেখ হাসিনা বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা প্রণয়ন করছে। এগুলো হচ্ছে- তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রণয়ন। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে- তামাক চাষ প্রসারের ব্যাপকতা হ্রাস এবং খাদ্য নিরাপত্তার হুমকি মোকাবিলা। অন্যটি হচ্ছে তামাকের চাহিদা এবং সরবরাহ হ্রাসের জন্য একটি ব্যাপকভিত্তিক জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রণয়ন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদিও আমরা তামাক নিয়ন্ত্রণে উলে¬খযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছি, কিন্তু আমরা এ নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। এফসিটিসি বাস্তবায়ন এবং বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার উলে-খযোগ্যভাবে হ্রাসের জন্য আমাদের আরও অনেক কিছু করতে হবে। ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তামাকের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করতে চাই।’ শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা জানেন সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণে বাংলাদেশ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। আমরা অতি দারিদ্র্যের হার অর্ধেকে নামিয়ে এনেছি। শহর এবং গ্রামীণ উভয় অঞ্চলেই আমরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পানি সরবরাহ এবং পয়ঃসেবার মত মৌলিক বিষয়ে অধিকতর সুবিধা নিশ্চিত করেছি। বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও গত ৭ বছর ধরে আমাদের জিডিপি’র প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের উপর ছিল উলে-খ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত এক দশকে আমাদের রপ্তানি আয় ৩ গুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে প্রায় ৮ গুণেরও কাছাকাছি। তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের মান অনুযায়ী গতবছর বাংলাদেশ নি¤œ-মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। তবে, আমরা নি¤œ থাকতে চাই না। আমরা এখন ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন এবং সুস্বাস্থ্যের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বিদ্যমান। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি তামাকজনিত রোগ-বালাই এবং অসংক্রামক রোগের অব্যাহত প্রকোপ হ্রাসে এ অঞ্চলের এবং এর বাইরের সংসদকে এসডিজি-৩-তে বর্ণিত সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে তাদের আরও তৎপর হতে হবে। এসব রোগের ব্যাপকতা আমাদের দেশে ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনুষ্ঠানে আইপিইউ সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট উপহার দেন।

শুরু হলো অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬ : মেলা এলাকাজুড়ে দু’শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা

বিশেষ সংবাদদাতা : আজ সোমবার শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভাষার মাস ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন বিকেল ৩ টায় বাংলা একাডেমি চত্বরে উদ্বোধন ঘোষণা করবেন বাঙালির প্রাণের এ মেলা। তিনি পরে মেলাচত্বর পরিদর্শন করবেন। সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন। সভাপতিত্ব করবেন এমিরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মেলা এলাকাজুড়ে দু’শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা বসানো হয়েছে। কোন দুর্ঘটনা যেন না ঘটে সে জন্য টিএসসি ও দোয়েল চত্বরে র‌্যাবের দু’টি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে বলেও তিনি জানান। গ্রন্থমেলায় টিএসসি, দোয়েল চত্বর দিয়ে দুটো মূল প্রবেশ পথ, বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ, সোহরাাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বাইরের আটটি পথ থাকবে। মহাপরিচালক বলেন, এবারই প্রথম সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশের সুবিধার্থে একটি নতুন সুপ্রশস্থ গেট নির্মাণ করা হয়েছে। গ্রন্থমেলার সব প্রবেশ ও বর্হিপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ে রাখা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থারসমূহের নিরাপত্তাকর্মীবৃন্দ। বাংলা ভাষার বিদেশী দুই গবেষক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করবেন। তারা হলেন যুক্তরাজ্যের কবি ও জীবনানন্দ অনুবাদক জো উইন্টার এবং চেক প্রজাতন্ত্রের লেখক ও গবেষক রিবেক মার্টিন। এছাড়া আন্তর্জাতিক প্রকাশনা সমিতির (আইপিএ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক রিচার্ড ডেনিস পল শার্কিন ও জোসেফ ফেলিক্স বুরঘিনো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ২০১৫’ বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ এবং সৈয়দ শামসুল হক রচিত ও বাংলা একাডেমি প্রকাশিত ‘বঙ্গবন্ধুর বীরগাথা’ বইয়ের ব্রেইল ও অডিও সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করবেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত আধুনিক বাংলা অভিধান তুলে দেয়া হবে। এবারের গ্রন্থমেলার মূল থিম নির্ধারণ করা হয়েছে ‘বাংলা একাডেমির হীরকজয়ন্তী’। ঐতিহাসিক বর্ধমান হাউসের আদলে মেলায় বাংলা একাডেমির প্যাভিলিয়ান নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় দ্বিগুণ পরিসর নিয়ে এবারের মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এবছর বাংলা একাডেমি ও একাডেমি সম্মুখস্থ ঐতিহাসিক সোহরাাওয়ার্দী উদ্যানের ৪ লাখ ৭৮ হাজার বর্গফুট এলাকা নিয়ে গ্রন্থমেলার স্টল বিন্যাস করা হয়েছে। গতবছর এ আয়তন ছিল প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার বর্গফুট। একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮২টি প্রতিষ্ঠানকে ১১১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৩২০টি প্রতিষ্ঠানকে ৫৪০টি ইউনিটসহ মোট ৪০২টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৫১টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। মেলায় বাংলা একাডেমিসহ ১৪টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ১৫টি প্যাভিলিয়নের স্থান দেয়া হয়েছে। যার মোট আয়তন ৬ হাজার বর্গফুট। গতবছর ১১টি প্যাভেলিয়নসহ ৫৬৫টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। ৯২টি লিটল ম্যাগাজিনকে বর্ধমান হাউজের দক্ষিণ পাশে স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বই প্রকাশ করেছেন, তাদের বই বিক্রি/প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে। গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বই ৩০% কমিশনে বিক্রি হবে জানিয়ে তিনি বলেন, মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে। একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলা একাডেমির ২টি প্যাভিলিয়ন ছাড়াও একাডেমি প্রকাশিত অভিধান বিক্রয়কেন্দ্র, একাডেমির শিশুকিশোর প্রকাশনাভিত্তিক বিক্রয়কেন্দ্র এবং একাডেমির সাহিত্য মাসিক উত্তরাধিকার’এর বিক্রয়কেন্দ্র মেলায় থাকবে। অমর একুশে গ্রন্থমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশকে ১৫টি গুচ্ছে সজ্জিত করা হয়েছে। চত্বরগুলো নামাঙ্কিত থাকবে ভাষাশহিদ আবুল বরকত, আবদুস সালাম, শফিউর রহমান, রফিকউদ্দিন আহমদ, আবদুল জব্বার, শহিদ বুদ্ধিজীবী মুনীর চৌধুরী, জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা, আলতাফ মাহমুদ, সিরাজুদ্দীন হোসেন, ডা. আলীম চৌধুরী, সেলিনা পারভীন, শিশুসাহিত্যিক সাজেদুল করিম, হাবীবুর রহমান, ফয়েজ আহ্মদ এবং রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই’র নামে। এবার শিশুকর্নার মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শিশুকিশোর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহ যেন বইমেলায় ক্রয়-বিক্রয়ের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে সে জন্যই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ কর্নারকে শিশুকিশোর বিনোদন ও শিক্ষামূলক অঙ্গসজ্জায় সজ্জিত করা হচ্ছে। মাসব্যাপী গ্রন্থমেলায় এবারও শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হবে। মেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্রচার করবে। ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূল মঞ্চে সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। বাংলা একাডেমির হীরকজয়ন্তী উপলক্ষে একাডেমির ইতিহাস এবং বিভিন্ন গবেষণামূলক কর্মকান্ড, অমর একুশে গ্রন্থমেলা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ঐতিহাসিক ৬ দফার সুবর্ণজয়ন্তী এবং শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি-রাজনীতি-সমকালীন প্রসঙ্গ এবং বিশিষ্ট বাঙালি মনীষার জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা হবে। এ ছাড়া মাসব্যাপী প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, সাধারণ জ্ঞান ও উপস্থিত বক্তৃতা এবং সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। গ্রন্থমেলা উপলক্ষে ৩ ফেব্রুয়ারি আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তন এবং মেলার মূল মঞ্চে ২টি অধিবেশনে আন্তর্জাতিক কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলা ও বিশ্বকবিতা বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি ¯ে¬াভাকিয়া, মরক্কো, সুইডেন, তাইওয়ান, যুক্তরাজ্য, ভারত এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রজন্মের কবিবৃন্দ কবিতা পাঠ করবেন। গ্রন্থমেলা ১ থেকে ২৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। ছুটির দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা এবং ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু আজ দেশের ১০টি শিক্ষাবোর্ডের ৩ হাজার ১৪৩টি কেন্দ্রে ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৫২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে

বিশেষ প্রতিনিধি: আজ সোমবার এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষা শুরু হবে।এ বছর দেশের ১০টি শিক্ষাবোর্ডের ৩ হাজার ১৪৩টি কেন্দ্রে ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৫২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। যা গত বছরের চেয়ে ১ লাখ ৭২ হাজার ২৫৭ জন বেশি। পরীক্ষা সম্পূর্ণ নকলমুক্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সফলভাবে অনুষ্ঠানের জন্য সকল ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ছাত্র-শিক্ষক অভিভাবকসহ সকলের নিকট আনন্দদায়ক ও উৎসবমুখর হবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা সম্পন্নর জন্য তিনি শিক্ষক, অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীসহ সংশি¬ষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। এ বছর ৮ লাখ ৪২ হাজার ৯৩৩ জন ছাত্র ও ৮ লাখ ৮ হাজার ৫৯০ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে । গত বছরের তুলনায় এবার ছাত্র ৭৯ হাজার ৫৯৪ জন ও ছাত্রী ৯২ হাজার ৬৬৩ জন বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩১১টি ও কেন্দ্র ২৭টি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বছর নিয়মিত পরীক্ষার্থী ১৪ লাখ ৭৪ হাজার ৯২৭ জন। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এবছর ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৭৪ জন ও বিশেষ পরীক্ষার্থীর সংখ্যা (১, ২, ৩, ও ৪ বিষয়ে) ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ জন। এসএসসিতে এ বছর ছাত্র ৬ লাখ ৪২ হাজার ৫০৭ জন ও ছাত্রী ৬ লাখ ৬১ হাজার ৭৬৭ জন। ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী ১৯ হাজার ২৬০ জন বেশি। দাখিলে ছাত্র ১ লাখ ২৭ হাজার ৯৬ জন ও ছাত্রী ১ লাখ ২১ হাজার ৭৬৯ জন এবং এসএসসি ভোকেশনালে ছাত্র ৭৩ হাজার ৩৩০জন ও ছাত্রী ২৫ হাজার ৫৪ জন । তত্ত্বীয় পরীক্ষা ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ৮ মার্চ শেষ হবে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা ৯ মার্চ শুরু হয়ে ১৪ মার্চ শেষ হবে। নির্দিষ্ট তারিখে পাবলিক পরীক্ষা শুরু ও ফলাফল প্রকাশের যে ধারা শিক্ষা মন্ত্রণালয় শুরু করেছে তা একবারও ব্যত্যয় হয়নি। দেশের বাইরে বিদেশে ৮টি কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে রয়েছে জেদ্দা, রিয়াদ, ত্রিপোলি, দোহা, আবুধাবী, দুবাই, বাহরাইন এবং ওমানের সাহাম। বিদেশে ৮টি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৪০৪ জন। এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় প্রতি বিষয়ে প্রথমে বহুনির্বাচনী ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং উভয় পরীক্ষার মধ্যে ১০ মিনিট সময়ের ব্যবধান থাকবে। গতবারের এসএসসি’র মতই এবারও বাংলা ২য় পত্র এবং ইংরেজি ১ম ও ২য় পত্র ছাড়া সকল বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হবে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রালপালসিজনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী স্ক্রাইব (শ্রুতি লেখক) সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীদের এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (অটিস্টিক এবং ডাউন সিনড্রোম বা সেরিব্রালপালসি আক্রান্ত) পরীক্ষার্থীদের ৩০ মিনিট অতিরিক্ত সময় এবং পরীক্ষার কক্ষে তার অভিভাবক, শিক্ষক বা সাহায্যকারী নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। এ বছর অটিস্টিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ জন।

স্কটল্যান্ডেকে সহজেই হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি রেখেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শেষ আট নিশ্চিত করল বাংলাদেশ

এনএনবি : নাজমুল হোসেন শান্তর অপরাজিত শতকে স্কটল্যান্ডেকে সহজেই হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি রেখেই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের শেষ আট নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ২৫৭ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে স্কটিশদের ইনিংস ৪৭.২ ওভারে শেষ ১৪২ রানেই। গতকাল রোববার কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডকে ১১৪ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় পায় বাংলাদেশ। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে স্পিনারদের দাপট থাকলেও দারুণ বোলিং করেছেন পেসার সাইফউদ্দিন আহমেদ। মাত্র ১৭ রানে তিনি তুলে নিয়েছেন ৩ উইকেট। বাঁহাতি স্পিনার সালেহ আহমেদও নিয়েছেন ৩ উইকেট, তবে তিনি দিয়েছেন ২৭ রান। এ ছাড়া আরিফুল ইসলাম ২টি আর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ নেন ১টি উইকেট। স্কটল্যান্ডের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫০ রান আজিম দারের। তাঁর অর্ধশত রানের ইনিংসটির পাশাপাশি নিল ফ্ল্যাকের ২৮, জ্যাক ওয়ালারের ২৪ আর ররি জনস্টনের ২০ ছাড়া স্কটল্যান্ডের ইনিংসে বলার মতো কোনো স্কোরই নেই।সকালে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের শুরুটা আবারও ছিল অস্বস্থির। আগের ম্যাচের মতো এবারও ত্রাতা শান্ত। দলকে উপহার দিয়েছেন এবারের বিশ্বকাপের প্রথম শতক। বাংলাদেশ ছাড়িয়ে যায় আড়াইশ’। দুর্বল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে যায় তাতেই।রান তাড়ায় কখন জয়ের সম্ভাবনা জাগাতে পারেনি স্কটিশরা। শুরু থেকেই ছিল উইকেট আঁকড়ে রাখার চেষ্টা। ৪৮ রানের উদ্বোধনী জুটিও তাই হুমকি হতে পারেনি। মিরাজের বলে শান্তর দুর্দান্ত ক্যাচে ওই জুটি ভাঙার পর তারা উইকেট হারিয়েছে নিয়মিত বিরতিতেই। শেষ পর্যন্ত ধুঁকতে ধুঁকতে স্কটিশরা অলআউট হয় ১৪২ রানে। ৫০ করেছেন কেবল আজিম দার।আগের ম্যাচে দলকে দারুণ শুরু এনে দেওয়া পিনাক ঘোষ এবার ফিরে গেছেন কোনো রান না করেই। নিজের খেলা প্রথম বলেই বেঁচে গিয়েছিলেন জোরাল আবেদন থেকে। তাতে সতর্ক হননি এই বাঁহাতি ওপেনার। দুই বল পর মোহাম্মদ গাফফারের স্টাম্প সোজা আরেকটি ফুল লেংথ বলে ফ্লিক করতে গিয়ে হন এলবিডবি¬উ। সাইফ হাসান একপ্রান্তে উইকেটে ছিলেন থমকে দাঁড়িয়ে। বলের পর বল করে গেছেন ব¬ক। তিনে নেমে জয়রাজ শেখ অবশ্য শুরুটা ভালো করেছিলেন। দ্বিতীয় বলেই পয়েন্টের ওপর দিয়ে মেরেছেন চার। কিন্তু টেকেননি বেশিক্ষণ, মিডিয়াম পেসার গাফফারকেই ফ্লিক করতে গিয়ে টাইমিংয়ের গড়বড়ে ক্যাচ তুলে দেন পয়েন্টে। শুরু থেকেই শম্বুক গতিতে থাকা সাইফ আরও আটকে যান উইকেটে। আগের ম্যাচে ৩১ বলে করেছিলেন ৬। এদিন প্রথম বাউন্ডারি মারার আগে রান ছিল ৩৮ বলে চার! রানের গতির চেয়েও হতাশাজনক ছিল তার ব্যাটিংয়ের ধরন। নতুন বল হাতে নেওয়া রায়ান ব্রাউনের গড়পড়তা অফ স্পিনেও বলের পর বল শুধু ঠেকিয়ে গেছেন। টানা তিন ওভার মেডেন খেলেছেন ব্রাউনকে; তার বলে প্রথম রান নিয়েছেন ২৩ বল খেলে! একটি বলও সম্ভবত টার্ন করেনি ব্রাউনের; কিন্তু উইকেট থেকে বেরিয়ে বাঁ পায়ের কাজ দেখিয়ে সিঙ্গেল নেওয়ার চেষ্টাই করেননি সাইফ। হাফভলি, লেগ স্টাস্পে থাকা বলও খেলেছেন ফিল্ডারের হাতে। চারে নেমে শান্ত আরেকপ্রান্থে একটু করে করে বাড়িয়েছেন রানের গতি। তার ব্যাটিংয়ে ছিল না কোনো অস্বস্থি। তৃতীয় উইকেটে ১৫০ বলে ১০১ রানের জুটি গড়েন শান্ত ও সাইফ।
সাইফের ব্যাটিংয়ে একসময় তাকে ছাড়িয়ে যান শান্ত; টানা দ্বিতীয় অর্ধশতক তুলে নেন ৭১ বলে। অতি সতর্ক ব্যাটিংয়ের পরও অর্ধশত করতে পারেননি সাইফ। মিচেল রাওয়ের অফ স্পিনে বোল্ড হয়েছেন ১০৮ বলে ৪৯ রান করে; ডট খেলেছেন ৭২টি।
চতুর্থ উইকেট শান্ত ও মিরাজের জুটিতে সত্যিকার অর্থেই গতি পায় দলের ইনিংস। তবে হাতে ৭ উইকেট থাকার পরও শেষ ১০ ওভারে প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেননি দুজন। দুজনের ১০০ রানের জুটি এসেছে ৮৬ বলে। অর্ধশতকের পর গাফফারকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ হয়ে ফিরেছেন মিরাজ (৪৮ বলে ৫১)। পরের বলেই গাফফারকে মিড উইকেট দিয়ে উড়িয়ে শতক ছুঁয়ে ফেলেন শান্ত, ১১১ বলে। শেষ দিকে সাঈদ সরকারের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস দলের কাজে এসেছে দারুণ। ৬ বলে ১৬ রানের ইনিংসে বিশাল এক ছক্কায় স্কোরবোর্ডের ওপর দিয়ে বল পাঠান সাঈদ।শেষ ওভারে দুটি চার মেরে দলকে আড়াইশর ওপারে নিয়ে গেছেন শান্ত শেষ পর্যন্ত অপরাজিত তিনি ১১৭ বলে ১১৩ রানে।

জঙ্গি খালেদা জিয়াকে ক্ষমতা দখল করতে দেওয়া হবে না: ইনু

বিশেষ প্রতিনিধি: তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বিএনপির উদ্দেশে বলেছেন, যদি এ দেশে রাজনীতি করতে চান তাহলে খালেদা জিয়াকে আগে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি রাজাকার, জঙ্গি ও আগুন সন্ত্রাসের নেত্রী না। অনেকেই বলেন, বিএনপির রাজনীতি নিয়ে আমি অগণতান্ত্রিক কথা বলি। কিন্তু আমার প্রস্থব অগণতান্ত্রিক না। গণতন্ত্রকে স্থায়ী নিরাপত্তা দিতে জঙ্গি খালেদা জিয়াকে ক্ষমতা দখল করতে দেওয়া হবে না। খালেদার হাত ধরে বাংলাদেশের মাটিতে আর জঙ্গিদের ঘাঁটি গড়তে দেওয়া হবে না। গতকাল রোববার ময়মনসিংহ টাউন হল মাঠে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) ময়মনসিংহ শাখার দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে ইনু বলেন, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে কটাক্ষ করে তাঁরা হয় পাগল, না হয় আহাম্মক। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সময় মতো নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রেখেছে। আগুন সন্ত্রাসের নেত্রী নির্বাচনে না এলে তাঁর জন্য মায়াকান্না করার কোনো দরকার নেই। সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে ময়মনসিংহ জেলা জাসদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জাসদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহীদ নুরুল আম্বিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন খান, নাজমুল হক প্রধান, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ শিরীন আখতার, লুৎফা তাহের প্রমুখ।

প্রথম চালকবিহীন গাড়ি লন্ডনে !

সংবাদ২৪ডটকম:প্রথম চালকবিহীন গাড়ি চলল লন্ডনের রাজপথে। লন্ডনের হেথ্রোতে সম্পূর্ণ আলাদা ট্রাকে চালানো হয় স্বয়ংচালিত ন্যানো গাড়ি।
ওয়েস্টফিল্ড স্পোর্টসকার কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়, পরবর্তী সময়ে গ্রীনিচের প্রকাশ্য রাস্তাতেও চালানো হবে। ব্রিটিশ কোম্পানি ওয়েস্টফিল্ড স্পোর্টসকার, হেথ্রো এন্টারপ্রাইজ ও অক্সবোটিকার সহযোগিতায় তৈরি স্বয়ংচালিত পডস ব্যবহার করা হবে বিভিন্ন জায়গায় দ্রুত ডেলিভারি, ভ্যালেট পার্কিংয়ের জন্য।যদি পরিষেবা নিয়ে জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক হয় তাহলে এর ব্যবহার আরও প্রসারিত করে হবে বলে জানান তাঁরা।

ঝিনাইদহে বিজিবি গ্রামবাসী সংঘর্ষে একজন নিহত আহত দুই

বিবিএনএ: ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী মাটিলা গ্রামে বিজিবি গ্রামবাসী সংঘর্ষে একজন নিহত আরো দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গরু আনা নিয়ে  ৩০ জানূযারী শনিবার সন্ধ্যায় বিজিবি ও গরু ব্যবসায়িদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এতে রফিকুল ইসলাম (৩৫) নামে ব্যক্তি ঘটনাস্থলে নিহত হন, গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আরো দুজন। ভারত থেকে গরু আনা নিয়ে শনিবার সন্ধ্যায় বিজিবি ও গরু ব্যবসায়িদের মধ্যে সংঘর্ষে সময় এ ঘটনা ঘটে। রফিকুল মাটিলা গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে। আহত ব্যক্তিরা হলেন একই গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে ফিরোজ ও আজিবর রহমানের ছেলে বাবলু। বিজিবির-২৬, যশোর ব্যাটালিয়নের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাহাঙ্গীর হোসেন খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সন্ধ্যায় একদল গরু পাচারকারী ভারত থেকে সীমান্ত পার হয়ে গরুসহ দেশের মধ্যে ঢুকে পড়ে। এ সময় মহেশপুরের জুলুলী বিওপির বিজিবির টহল দল তাদের ধাওয়া করে। এক পর্যায়ে গ্রামের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বিজিবি সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার্থে বিজিবি গুলি চালালে ঘটনাস্থলে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। মহেশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিদুল ইসলাম শাহিন জানান, বিজিবির গুলিতে গ্রামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে বলে শুনেছেন। অপর দিকে ঘটনাস্থল থেকে মাটিলা বাজারের দোকানি আশরাফুল জানান, সন্ধ্যায় এক ব্যক্তি ভারত থেকে একটি গরু নিয়ে সীমান্তপার হয়ে গ্রামে আসে। জুলুলী ক্যাম্পের সদস্যরা তাঁকে ধাওয়া করে আটক করতে ব্যর্থ হয়। এ সময় মাটিলা বাজারের দোকানে বসে থাকা গ্রামবাসীর কাছে বিজিবির সদস্যরা কে গরু এনেছে তা জানতে চান। বাজারের উপস্থিত গ্রামের লোকজন বিষয়টি জানাতে অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে বিজিবি সদস্যরা তাঁদের মারধোর করেন। এ খবর গ্রামে ছড়িয়ে পড়লে শত শত লোক বাজারে ছুটে আসেন। তাঁরা বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করার একপর্যায়ে মারমুখী হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিজিবি গুলিবর্ষণ করতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন রফিকুল। গুলিবিদ্ধ হন আরো দুজন। তাঁদের মধ্যে ফিরোজের বুকে ও বাবলুর হাতের তালুতে গুলি লেগেছে। তাদের যশোর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক মো. মাহবুর আলম তালুকদার জানান, মহেশপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত গ্রামের লোকজন জোটবদ্ধ হয়ে গ্রামেই অবস্থান করছেন। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

 

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net