শিরোনাম

Monthly Archives: জানুয়ারি ২০১৭

যুক্তরাজ্য যুবলীগ নেতা তজমুল সরদারের সংবর্ধনা

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা: হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ডা: মুশফিক হোসেন চৌধুরী বলেছেন, আমি উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি। স্বাধীনতার পর নবীগঞ্জ-বাহুবল আসনে কতটুকু উন্নয়ন হয়েছে আপনারা খোঁজ নিয়ে দেখেন। তিনি বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে অনেক যড়যন্ত্র হয়েছে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমার সাথে বেঈমানী করা হয়েছে। খন্দকার মোস্তাকের অনুসারীদের হাত থেকে সতর্ক থেকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের আহবান জানিয়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ গ্রহণ করার ঘোষণা দেন। তিনি গত বৃহস্পতিবার বিকেলে যুক্তরাজ্য কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য তজমুল আলী সরদারের স্বদেশ গমন উপলক্ষে আউশকান্দি কিবরিয়া চত্ত্বরে তাঁকে দেয়া সংবর্ধনা ও বরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।
উপজেলার কুর্শি ইউনিয়নের ইনাতাবাদ গ্রামের যুক্তরাজ্য যুবলীগ নেতা তজমুল সরদার স্বপরিবারে বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার সময় লন্ডন থেকে সিলেট ওসমানী বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। এর আগে সকাল ১০টা থেকে হবিগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ডা: মুশফিক হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে কয়েক শতাধিক নেতা-কর্মী মটর সাইকেল নিয়ে আউশকান্দি কিবরিয়া চত্ত্বরে জড়ো হতে থাকেন। বেলা আড়াইটায় প্রবাসী নেতা তজমুল সরদার আউশকান্দি এসে পৌছলে ডা: মুশফিক হোসেন চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ নেতা জুনেদ চৌধুরী, সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম কালাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক আমিনুর রহমান স্বপন, আওয়ামী লীগ নেতা রাকিল হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জয়েজ আমিন রাসেল,ছাত্রলীগের সভাপতিআবু ছালেহ জীবন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধরণ সম্পাদক উজ্জল সরদার তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আলামীন, ইয়াওর, হাফিজ খান, সালু মিয়া, সালমান আহমেদ, সাজু, জাকির, কামাল, আলীহোসেন, জাহান আহমেদসহ উপজেলা ও প্রতিটি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
পরে ডা: মুশফিক চৌধুরীর নেতৃত্বে সংবর্ধিত প্রবাসী নেতা তজমুল সরদারকে শতাধিক মটর সাইকেল নিয়ে শোডাউন করে আউশকান্দি থেকে নবীগঞ্জ শহর প্রদক্ষিণ করে তার গ্রামের বাড়ি ইনাতাবাদে নিয়ে যাওয়া হয়।

নবীগঞ্জে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত: রাষ্ট্রপতি গঠিত সার্চ কমিটির সদস্যরা জ্ঞানী গুনী ও ভাল লোক

রাকিল হোসেন, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত এমপি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি গঠিত নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য যে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে তা অত্যন্ত নিরপেক্ষ ও খুবই ভাল। সার্চ কমিটির সদস্যরা অত্যন্ত জ্ঞানী গুনী ও ভাল লোক। যারা সার্চ কমিটি নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন তা ভ্রান্ত ও রাবিশ। এর কোন ভিত্তি নেই। pic nabi 2মন্ত্রী গত শনিবার দুপুরে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ জে কে উচ্চ বিদ্যালয়ে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠান প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথাগুলো বলেন। মন্ত্রী আরো বলেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশে কোন দারিদ্র থাকবে না। যারা থাকবে খুবই স্বল্পসংখ্যক। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আইসিটির মাধ্যমে দেশকে ডিজিটালে রূপান্তরিত করেছে। তনি বলেন মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ট জীব। কিন্ত তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করতে নিজেকে যথেষ্ট কষ্ট করতে হয়। শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠ করতে যেটি তার সব চেয়ে বড় অস্ত্র সেটা হলো শিক্ষা। শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও নবীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি মোঃ আবু জাহির, হবিগঞ্জ-১ আসনের এমপি এমএ মুনিম চৌধুরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী, জেলা প্রশাসক সাবিনা আলম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামছুল ইসলাম ভূইয়া, মদন মোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবুল ফতেহ ফাত্তাহ। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নবীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শাহ নেওয়াজ মিলাদ গাজী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান ইমদাদুর রহমান মুকুল, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ মিলু, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য মুকিত চৌধুরী, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম প্রমুখ। এছাড়াও প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই অর্থমন্ত্রী বেলুন উড়িয়ে শতবর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। পরে তাকে পুলিশের একটি চৌকসদল গার্ড অব অনার প্রদান করে।

নবীগঞ্জে হিন্দুু পল্লীতে হামলা, আহত ৮॥ থানায় অভিযোগ

নবীগঞ্জ(হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা: নবীগঞ্জের পল্লীতে হিন্দু  পরিবারের উপর হামলা চালিয়ে বাড়ীঘর ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য’র বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার সকাল ১০টার দিকে নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের সিট ফরিদপুর গ্রামের সুত্রধর পল্লীতে এ ঘটনা ঘঠে। হামলায় নারীসহ ৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের সিট ফরিদপুর গ্রামের সুত্রধর পল্লীর রতিশ সূত্রধর গংদের সাথে ভূমি দখল ও নির্বাচনে পরাজীত হওয়ার জেরে দীর্ঘ দিন ধরে বিরুধ চলে আসছিল সাবেক ইউপি সদস্য হারুন মিয়া ও তার ভাই যুবলীগ নেতা শামিম মিয়ার। গেল ইউপি নির্বাচনে হারুন মিয়াকে ভোট না দেওয়ায় যুবলীগ নেতা শামিম ও সাবেক ইউপি সদস্য হারুন মিয়া গংরা হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনকে  বাড়ি ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বেশ কিছু দিন ধরে হুমকি দিয়ে আসছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন। গত শনিবার বিকেলে রতিশ সূত্র ধরের আত্মীয় ও সুত্রধর পল্লীর লোকজনকে রাস্তা দিয়ে যাতে যাওয়া আসা না করে এজন্য নিষেধ করেন শামিম গংরা। কিন্তু উক্ত রাস্তাটি ডিসি খতিয়ানের। শনিবার বিকেলে রতিশ সূত্রধরের আত্মীয় পিন্টু সুত্রধর ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দেন শামিম মিয়া। এনিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। সুত্রধর পল্লীর লোকজন জানান, শনিবার বিকেলের ঘটনার জের ধরে গতকাল রবিবার সকাল ১০টার দিকে সুত্রধর পল্লীতে গিয়ে হামলা চালায় সাবেক ইউপি সদস্য হারুন মিয়া ও তার ভাই যুবলীগ নেতা শামিম মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক। এ সময় তারা সুত্রধর পল্লীর বাড়ি ঘর ভাংচুর করে। এসময় তাদের হামলায় আহত হন মহিলাসহ ৮জন । এদের মধ্যে রতিশ সুত্র ধর (৫৫), সুরঞ্জিত সুত্র ধর (৩০), পিন্টু সুত্র ধর (৩০), দিপালি সুত্র ধর (৪৫) কে নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এবং অপর আহত চিত্ররঞ্জন সুত্র ধর (৫০), কাঞ্চন সুত্র ধর (৩০), নিল মনি সুত্র ধর (৪০), বিরেন্দ্র সুত্র ধর (৪৫)সহ অন্যান্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় যুবলীগ নেতা শামিম মিয়া ও সাবেক ইউপি সদস্য হারুন মিয়াসহ ৫জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নির্বাচনে ভোট না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এভাবে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের উপর  হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন,বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি নারায়ন রায়,কালীপদ ভট্টাচার্য্য,বাদল কৃষ্ণ বনিক,সাধারন সম্পাদক প্রভাষক উত্তম কুমার পাল হিমেল, দপ্তর সম্পাদক অমলেন্দু সুত্রধরসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ ঘটনার সাথে জড়িত দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।

শেভরনে কর্মচারিদের গুম-খুনের হুমকি: প্রতিবাদে বেনামে লিফলেট বিতরণ

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার ইনাতগঞ্জে বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডে কর্মরত কর্মচারিদের ন্যায্য শেয়ারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি সিকিউরিটি সার্ভিস কোম্পানির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্মচারিদের গুম-খুনের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সেনট্রি সিকিউরিটি সার্ভিসের ফিল্ড সিকিউরিটি ম্যানেজার মুমিনুল ইসলাম

সেনট্রি সিকিউরিটি সার্ভিসের ফিল্ড সিকিউরিটি ম্যানেজার মুমিনুল ইসলাম

জানা যায়, বিগত কিছু দিন পূর্বে শেভরন বাংলাদেশ বিবিয়ানায় কাজ সমাপ্তির ঘোষণার পর গ্যাস ফিল্ডে কর্মরত কর্মচারি কর্মকর্তাগণ নিয়োগকালীন চুক্তি অনুসারে শেভরনের নিকট ৫ শতাংশ হারে লভ্যাংশ পরিশোধের দাবি জানান। শেভরন এক পর্যায়ে কর্মকর্তাদের ৩ শতাংশ হারে এবং সাধারণ কর্মচারিদের ২ শতাংশ হারে লভ্যাংশ পরিশোধে সম্মত হয় এবং প্রত্যেক কর্মকর্তা কর্মচারির ব্যক্তিগত একাউন্ট নাম্বার শেভরনকে সরবরাহ করার নির্দেশ প্রদান করে।

শেভরনের এই ঘোষণার পর বিবিয়ানায় সিকিউরিটি সরবরাহকারী সেনট্রি সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের পক্ষ থেকে তাদের নিয়োগকৃত সিকিউরিটিদের ডেকে কোম্পানির একাউন্টে লভ্যাংশ জমা করার জন্য আদেশ দেয়া হয়। এ সময়, সিকিউরিটিতে কর্মরত অনেকেই এর প্রতিবাদ করে শেভরনের লভ্যাংশের নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ তাদের নিজস্ব একাউন্টে জমা দেয়ার দাবি জানান। এরপর, বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডে কর্মরত সেনট্রি সিকিউরিটি সার্ভিসের ফিল্ড সিকিউরিটি ম্যানেজার মুমিনুল ইসলাম সাধারণ কর্মচারিদের নানা ভাবে হুমকি দেয়া শুরু করেন। সেনট্রি সিকিউরিটি সার্ভিসের ঢাকা অফিসের দু’জন এবং মুমিনুল ইসলাম বিবিয়ানায় কর্মরত সিকিউরিটিদের আলাদা আলাদা করে ডেকে নিয়ে জানান, বর্তমানে দেশে যেভাবে গুম খুন হচ্ছে, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাদের পরিণতিও সে রকম হতে পারে। মুমিনুল ইসলাম এবং সেনট্রি সিকিউরিটি সার্ভিসের উর্ধতন দু’জনের সাথে আলোচনা করার পর বিবিয়ানায় কর্মরত সিকিউরিটিদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে, সিকিউরিটির অনেকেই জানিয়েছেন, সেনট্রি সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেডের অধীনে তাঁদের নিয়োগ হওয়ায় তাদের বেতনাদি আসে এই কোম্পানির একাউন্ট থেকে। কিন্তু, শেভরন বিবিয়ানায় কাজ সমাপ্তি ঘোষণা করলে, শেভরনের প্রতিশ্রুতি মোতাবেক লভ্যাংশ সরাসরি কর্মরতদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা হওয়ার কথা। কর্মরতরা জানান, শেভরনের প্রদেয় লভ্যাংশ সেনট্রি সিকিউরিটি সার্ভিসের একাউন্টে যাতে জমা হয়, সে কারণেই মুমিনুল ইসলাম কর্মরতদের হুমকি-ধামকি ও ভয় ভীতি প্রদর্শন করছেন। এমন কি, তিনি নারায়নগঞ্জসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত গুম-খুনের কথা উল্লেখের পাশাপাশি মামলা-হামলা এবং হয়রানি করা হবে বলেও হুমকি দেন।

মুমিনুল ইসলামের এই হুমকির পর বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ড এলাকার আশেপাশে তাঁর দুর্নীতি ও হুমকি ধামকির বিবরণ দিয়ে লিফলেট সাঁটা হয়েছে। লিফলেট বিতরণের খবর পেয়ে মুমিনুল ইসলাম তাঁর কিছু অনুগত কর্মীদের দিয়ে সব লিফলেট খুলে নিয়ে আসেন এবং এ ব্যাপারে জড়িতদের দেখে নেবেন বলে হুমকি দেয়া হয়।

শেভরনের লভ্যাংশ সিকিউরিটিতে এবং অন্যান্য পদে কর্মরতদের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা দেয়ার এ দাবি নিয়ে বিবিয়ানা এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বাচন : নাহাস প্রেসিডেন্ট জুবায়ের সেক্রেটারি মাছুম ট্রেজারার

অপু রাত, লন্ডনঃ বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রোববার ২৯ জানুয়ারি পূর্ব লন্ডনের ‘ইম্প্রেশন ইভেন্ট’হলে ব্রিটেনের ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠন “লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব”র সাধারণ সভা ও দ্বিবার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। IMG_2141 বিপুল সংখ্যক ক্লাবের সদস্যদের ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে ২০১৭ – ২০১৯ সেশনের ক্লাবের নির্বাচিত কর্মকর্তা হলেন-

প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নাহাস পাশা

ভাইস প্রেসিডেন্ট মাহবুব রহমান

সেক্রেটারি, মুহাম্মদ জুবায়ের

এসিসটেন্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ সুবহান

ট্রেজারার এ এস এম মাসুম।

কমিউনিকেশন সেক্রেটারিঃ এম এ আব্দুল কাইয়ুম

ট্রেনিং এন্ড রিসার্চ সেক্রেটারিঃ ইব্রাহিম খলিল

ইনফরমেশন এন্ডটেকনলজি সেক্রেটারিঃ সালেহ আহমদ

ইভেন্ট এন্ড ফ্যাসিলিটিজ সেক্রেটারিঃ তৌহিদ আহমদ

কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা হচ্ছেন- রহমত আলী, পলি সুলতান, আমিরুল ইসলাম চৌধুরী, রুপি আমিন, ইমরান আহমদ, মোঃ হাবিবুর রহমান।

উল্লেখ্যঃ লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের নির্বচনে এবার দুটি প্যানেল ছিল। একটি হচ্ছে এমদাদ জুবায়ের তাইসির এবং অন্য প্রতিদ্বন্ধি দলে ছিলেন নাহাস মিল্টন মাসুম প্যানেল। ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে প্রেস ক্লাবের সদস্যরা যথাসময়ে ওয়েস্টহ্যামের ইমপ্রেশন হলে এসে পৌঁছেন। দুপুর ১২টায় প্রেস ক্লাবের বিদায়ী সভাপতি নবাব উদ্দিনের স্বাগত বক্তব্যের পর সভার কার্যক্রম শুরু হয়। বার্ষিক রিপোর্ট পেশ করেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি, সেক্রেটারি ও ট্রেজারার। রিপোর্টের বিভিন্ন বিষয়ের উপর ছিল প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল। এব্যাপারে উপস্থিত সদস্যের নানা প্রশ্নের জবাব দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বৃন্দ।

দুপুরে আপ্যায়নের পর বেলা আড়াইটা থেকে বিকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ভোটাররা তাঁদের ভোট প্রয়োগ করেন। রাত সাড়ে ১১টায় নির্বাচন কমিশন ভোটের ফলাফল ঘোষণা করেন এবং বিজয়ীদের নাম ঘোষণা দেন। নির্বাচনের দুই প্যানেলে ২৯জন প্রার্থী ছিলেন। নির্বাচন কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন মাহমুদ হাসান এমবিই, বজলুর রশিদ এমবিই ও হাবিবুর রহমান। ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে আগত প্রেস ক্লাবের সদস্য ও বিভিন্ন অতিথিদের সরব উপস্থিতে নির্বাচন কক্ষ এক উৎসব মুখোর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল।

লন্ডনে শুরু হচ্ছে ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত সত্যবাণীর অনলাইন প্রকাশনা

সংবাদ২৪ রিপোর্টঃ অনলাইন যাত্রা শুরুর ঘোষণা দিয়ে ব্রিটেনে বাংলা সংবাদ পত্রের শতবর্ষ পূর্তী পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার পূর্ব লন্ডনের মাইক্রোবিজনেস পার্ক কমিউনিটি সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে লন্ডনের বাংলা মিডিয়ার সাথে জড়িত প্রবীন, তরুণ ও এখানেই জন্ম ও বেড়ে ওঠা সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত টিম ‘সত্যবাণী’র পক্ষ থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়। সাংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলা ভাষা শহীদদের রক্তে রাঙানো দিন একুশে ফেব্রয়ারী আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদযাপন করা হবে ব্রিটেনে বাংলা সংবাদপত্রের শতবর্ষ পূর্তী, ঐদিনই অনলাইনে যাত্রা শুরু করবে ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জনপদের প্রথম বাংলা সংবাদপত্র ’সত্যবাণী’।

সত্যবাণী টিমের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, লন্ডনের বাংলা মিডিয়ার সিনিয়র সাংবাদিক সৈয়দ আনাস পাশা। তাঁর সাথে মঞ্চে ছিলেন টিমের সদস্য বিশিষ্ট সাংবাদিক, আবু সালেহ মোহাম্মদ মাসুম, মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, জামাল খান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর খান। অতিথি হিসেবে অংশ নেন লন্ডনের বাংলাদেশ হাইকমিশনের মিনিষ্টার প্রেস নাদিম কাদির।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘ব্রিটেনের বাংলা মিডিয়া শতবর্ষ পূরণের গৌরব অর্জন করেছে। ইতিহাসের ভাষ্যমতে ১৯১৬ সালে ‘সত্যবাণী’ নামে প্রথম বাংলা পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে এই জনপদে বাংলা মিডিয়ার যে যাত্রা শুরু হয় তা ১শ বছর পূর্ণ করেছে ২০১৬ সালে।’। শতবর্ষ পুরনের এই সময়কে প্রবাসীদের আরেক গৌরবজনক অর্জনের ইতিহাস সংযুক্তি আখ্যায়িত করে বলা হয়, ‘আমরা এই গৌরবের উত্তরাধিকার বহন করতে চাই, এই মুহূর্তে আমাদের ঘোষণা: ‘সত্যবাণী’কে নিয়ে যাবো ‘আজি হতে শতবর্ষ পরে’র প্রজন্মের কাছে, অনলাইন মিডিয়ায় পুনরুজ্জীবিত করবো ব্রিটেনে বাংলা মিডিয়ার এই ঐতিহ্যের স্মারক’।

প্রবীণ, তরুণ ও এখানে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম এই স্বপ্ন সামনে নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে, এমনটি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘এক সময় দুনিয়া শাসন করা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের হৃদপিন্ড ব্রিটেনে আজ থেকে একশ বছর আগে বাংলা প্রকাশণা শুরু কোন সাধারণ বিষয় ছিলোনা, নিজেদের ভাষা, সাহিত্য ও সংষ্কৃতি সাথে নিয়ে একটি শক্তিশালী কমিউনিটি ভিত্তি গড়তে মূলত এটি ছিলো পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে পূর্ব প্রজন্মের একটি দিকনির্দেশনা।’

এই দিক নির্দেশনার কারনেই পূর্ব প্রজন্ম রচিত ভিত্তির উপর এখন দাড়িয়ে আছে শক্তিশালী কমিউনিটি ইমারত, এমন মন্তব্য করা হয় সাংবাদিক সম্মেলনে। বাংলা সংবাদ মাধ্যমের যাত্রা শুরুর কারিগর কৃতি পুরুষদের স্মরণ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘আমাদের উজ্জল ভবিষ্যতের পথ দেখিয়েছিলেন যারা, যাদের ভিত্তি রচনার কারনে ব্রিটেনে আমাদের আজকের সমৃদ্ধ অবস্থান, আমরা তাদের স্মরণ করতে চাই’।

পূর্ব প্রজন্মের এই ঋন স্বীকারের লক্ষ্য সামনে রেখে ব্রিটেনে বাংলা মিডিয়ার শতবর্ষ উদযাপনের ঘোষনা দেয়া হয় সংবাদ সম্মেলনে। জানানো হয়, আগামী ২১ শে ফেব্রয়ারী, মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এসেক্সের গুড মেইজ মেফেয়ার ভেনুতে অনুষ্ঠিত হবে শতবর্ষ উদযাপনের এ আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠান ও গালা ডিনার। এদিন ‘ব্রিটেনে বাংলা মিডিয়ার ১শ বছর’ শীর্ষক একটি পোষ্টার প্রদর্শনীও অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয় সাংবাদিকদের। বলা হয়, অনুষ্ঠানে দুই প্রজন্মের জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশ গ্রহনে রয়েছে সাংস্কৃতিক পর্বও।

ব্রিটিশ মূলধারার মিডিয়ার অনেকেই বাংলা মিডিয়ার শতবর্ষ উদযাপনে উপস্থিত থাকবেন এমন প্রত্যাশার কথাও জানান আয়োজকরা। অনুষ্ঠান সফলতায় সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলা হয়, ‘বাংলা প্রেসক্লাবসহ প্রতিটি প্রিন্ট, টিভি , বেতার ও অনলাইন মিডিয়াকে সাথে নিয়েই আমরা উদযাপন করবো স্মরণীয় এই মুহূর্তটি। আসুন আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি, শতবর্ষ আগের বাংলা মিডিয়াকে নিয়ে যাই শতবর্ষ পরের প্রজন্মের কাছে।’

উল্লেখ্য, বাংলা মিডিয়ার শতবর্ষ উদযাপনের এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগীতা করছে রুচিতা তান্দুরী রেডহীল, প্রাচীনতম বাংলা সাপ্তাহিক জনমত, গুডমেইজ মেফেয়ার ভেন্যু, চ্যারিটি সংগঠন কমিউনিটি হীরোজ, হার্টলিপুলের সিটন তান্দুরী, সোনালী বিজনেস সেন্টার, প্রাইড অফ এশিয়া, ইন্ডিয়া গার্ডেন রেষ্টুরেন্ট, ঢাকা তান্দুরী ও ফেইথ প্রিন্টিং এন্ড ডিজাইন।

সিরাজ উদ্দিন’র কবিতা

Siraj Uddin

 

 

স্মৃতিকথা

আজও কি মাঘের শীতে পুকুর ঘাটে,
নাইতে গিয়ে, ভাবতে ভাবতে সময় কাটে ?
চালের ছায়ায় মাঝ উঠানে আজও দুপুর হয় নাকি ?
ঝিঙ্গে ফুল ফুটল যে ওই সন্ধ্যার বুঝি নয় বাকি।
আজও কি দুষ্ট ছেলে নানান ছলে, একটা হিস্যা বেশি চায়,
কলাপাতায় সিন্নি নিয়ে,পুকুর ঘাটে দিব্যি খায় ?
আজও কি চৈতি রোদে ক্লান্ত পথিক বটের ছায়ায় বসে,
কাঁধের গামছা হাতে নিয়ে কপালের ঘাম মুছে ?
আজও কি হাট বাজারে ঢোল পিটিয়ে ঢুলী জানায় ?
কোন বেলাতে কোন মাঠেতে হবে খেলা,
কোন গাঙে নৌকা বাইচ, কোন হাটে হবে মেলা..।
বদলে গেছে আনেক কিছু হয়তো অনেক গেছে চলে,
তবু ভাবতে এসব ভালই লাগে একটুখানি সময় পেলে।

সিরাজ উদ্দিন, লুটন, যুক্তরাজ্য

গ্রেটার ফরিদপুর এসোসিয়েশন ইউকের আয়োজনে লিপি হালদার সংবর্ধিত

সংবাদ২৪ রিপোর্টঃ গ্রেটার ফরিদপুর এসোসিয়েশন ইউকের প্রেস এ্যান্ড পাব্লিসিটি সেক্রেটারী লিপি হালদার “কবি এবং কথা সাহিত্য” বিভাগে অমর প্রকাশনীর মহাত্বা শান্তি পুরস্কার ২০১৭ প্রাপ্ত হওয়ায় সংগঠনের পক্ষে পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেনে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে এক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয় । অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা এবং সংগঠনের উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম কচি। IMG_2079অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ত্ব করেন সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, পরিচালনায় সেক্রেটারী মনোয়ার হোসেন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এমদাদ, বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পাস্টর কাজল সরকার, রেইনবো ফিল্ম সোসাইটির কর্নধার মোস্তফা কামাল, সংগঠনের উপদেষ্টা সলিসিটির সামসুজ্জামান, ব্যারিস্টার হাফিজুর রহমান , ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিটানিয়ার চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসান , উপদেষ্টা রফিক উল্লাহ, কোষাধক্ষ কনক কান্তি ঘোষ, সদস্য সেক্রেটারি আইনজীবী মেহেদী হাসান। এছাড়াও স্বাগত বক্তব্য রাখেন ফরিদা কামাল সিসিলি, সাব্বির যামী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কবির সমসাময়িক কবিতা আবৃতি করেন নজরুল ইসলাম। উল্লেখ্য “সে আছে কাছে ” কাব্য গ্রন্থের জন্য কবি লিপি হালদার কে এই পুরস্কারে সম্মানীত করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তাগণ কবির বিভিন্ন ব্যক্তিগত গুনাগুন, জীবন সহ, সাহসী, নির্ভীক লেখা এবং বলিষ্ট চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্যের উপরে আলোকপাত করেন। এছাড়াও সংগঠন, এলাকার মানুষের জন্য এই সম্মান বয়ে নিয়ে আসায় কবিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। একই সাথে লেখার অনুরণনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে আরো এগিয়ে গিয়ে সমাজ পরিবর্তনে গুরুতপুর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে বক্তারা আশা প্রকাশ করেন। সামনের দিনগুলিতে কবির আলোক উজ্জ্বল ভবিষ্যত আরো প্রাপ্তি এনে দেবে এবং সংগঠন থেকে সকলের ভালোবাসা এবং সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে সংগঠন থেকে জানানো হয়। ৩টি পর্বে বিভক্ত এই অনুষ্ঠানের আলোচনা সভা শেষে , ২য় পর্বে কবি লিপি হালদার এর হাতে ফুল এবং সংবর্ধনা ক্রেস্ট তুলে দেন সংগঠনের উপদেষ্টা সিরাজুল ইসলাম কচি, সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সেক্রেটারি মনোয়ার হোসেন সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষে এক প্রীতি ভোজের আয়োজন করা হয়।

শুদ্ধ সুদূরের কবি : আহমদ ময়েজ

Abu Moksud

আবু মকসুদ

শুদ্ধ সুদূরের কবি আহমদ ময়েজের সাথে আমার এক ধরণের মিতালি আছে, ব্যাখ্যাতীত সে মিতালি। তিনি কখনো সুহৃদ, সুজন, ইয়ার, আবার কখনো কঠোর শাসনের বড়ভাই। আমি তাঁর সঙ্গ এনজয় করি, যদিও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আমরা অনেক সময় ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করি তবু হৃদয়ের উষ্ণতা আমাদের কখনো কম হয় না/হয় নি। শ্রদ্ধা ভালবাসার এ সম্পর্ক একদিনে পূর্ণতা পায় নি, দীর্ঘ দিন ধরে একে অপরের সাথে ভাব বিনিময়, সাহচর্য এবং একসাথে কবিতা মাঠে হাঁটতে হাঁটতে এ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে।

আদি এবং অকৃত্রিম কবিতা প্রেমিক যদি কাউকে বলা যায় তিনি হচ্ছেন আহমজ ময়েজ। আমি দেখেছি, নিজে সাক্ষী, পত্রিকা বা সাহিত্য পাতা সম্পাদনায় তার একনিষ্ঠতা। অন্য অনেক সম্পাদকও আমার দেখা হয়েছে। কিন্তু আহমদ ময়েজ আমার দেখা একজন প্রকৃত ও শ্রেষ্ঠ সম্পাদক। নতুন বা তরুণ কবিদের কী যত্নে এবং পরিচর্যায়  তিনি লালন করেন, পালন করেন- তা অবিশ্বাস্য।  কারো মাঝে সামান্যতম স্ফুরণ দেখা গেলে তিনি নিজ দায়িত্বে তাকে প্রস্ফুটিত করান। অর্থাৎ প্রকৃত পরিচর্যার মাধ্যমে তাকে ফুটতে দেন, প্রতিভাকে বেড়ে ওঠতে সাহায্য করেন।

আমরা জানি কবিতা লেখা যায় না অর্থাৎ “চাইলাম আর লিখে ফেললাম” এটা কবিতা না, কবিতা হচ্ছে অন্তর্গত তাগিদ; আমি বলি হৃদয়ের ক্ষরণ।  সবাই এ ক্ষরণ অনুভব করে না, কিন্তু ক্ষারিত হওয়ার ভান কর। প্রকৃত কবির কবিতা পাঠান্তে তার ক্ষরিত হৃদয়ের আভাস, পরিচয় পাওয়া যায়। আহমদ ময়েজের প্রতিটি কবিতায় আমি সেইও ক্ষরণের সন্ধান পাই। মেকি বা প্রলাপবাক্য থেকে যোজন দূরত্বে তার কবিতার অবস্থান। ঐহিত্যবাহী একটা পরিবার বা বাউল ঘরানার আবহে তার বেড়া ওঠা, তাই তার কবিতায় মরমীয় সুর ধ্বনিত হয়। এ সুর আবহমান বাংলার প্রকৃত সুর।

একজন মালী জানেন কি ভাবে বাগান সাজাতে হবে, কিভাবে আগাছা পরিষ্কার করতে হবে; এ ও জানেন, সময়মত জল না দিলে বাগানে ফুল ফুটবে না। প্রকৃত মাপের ফুল বা সৌগন্ধের ফুল পেতে হলে মালীকে জানতে হবে কখন বা কি প্রকার সার প্রয়োগ করা লাগবে। কবিতার মালী আহমদ ময়েজ তা জানেন এবং সঠিক সময়ে প্রয়োগ করেন।

আহমদ ময়েজের কবিতার বাগানে ফুল ফোটে, সুগন্ধ ছড়ায়; কিন্তু মালীর কষ্টকথার মতো তাঁর কথা কেউ মনে রাখে না। তবে এ নিয়ে তাঁকে কখনো আফসোস বা অভিযোগ করতে শুননি।

ফুল ফুটানো যার জীবনের ব্রত তিনি কিন্তু কারো অবহেলার ধার ধারেন না।

লেখক: কবি, ছড়াকার

ফুলতলীতে নবীগঞ্জের বকুল নিহত ।। আজ জানাজা

নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) থেকে নিজস্ব সংবাদদাতাঃ সিলেট জকিগঞ্জে আল্লামা ফুলতলী (রহ.) এর ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে খাবার সংগ্রহের সময় সৃষ্ট ভীড়ের চাপে পদপিষ্ঠ হয়ে নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের বনগাঁও গ্রামের মৃত রইস উদ্দীন এর পুত্র হুমায়ুন কবীর বকুল (৩৭) নিহত হয়েছে। নিহত বকুলের মৃত দেহ বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে ময়না তদন্ত শেষে ওই দিনই বিকেলে ৪টার সময় গ্রামের বাড়ি বনগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাযা শেষে পারিবারিক কবর স্থানে তাকে দাফন করা হবে। নিহত বকুলের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে আল্লামা ফুলতলী (রহ.) জীবিত থাকাবস্থাতেই হুমায়ুন কবীর তাঁর মুরিদ ছিলেন। তিনি সব সময়ই সেখানে যাওয়া আসা করতেন। বিগত ১২/১২বছর ধরে তার নিজ গ্রাম বনগাঁওয়ে লতিফিয়া ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদ নামে একটি সংগঠন রয়েছে। তিনি ছিলেন উক্ত সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ফুলতলী (রহ.)-এর নবম মৃত্যুবার্ষিকী  উপলক্ষ্যে গত ১৫ জানুয়ারি জকিগঞ্জের ছাহেব বাড়ি সংলগ্ন বালাই হাওরে ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে সংগঠনের অন্য সদস্যদের সাথে রোববার সকালে মাহফিলে যোগদান করেন হুমায়ুন কবীর বকুল। বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখ লাখ লোকজন ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে উপস্থিত হয়। রবিবার গভীর রাতে খাবার সংগ্রহ সময় সৃষ্ট ভীড়ের কারণে পদপিষ্ঠ হয়ে বকুল এর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এই অনাকাঙ্খিত মৃত্যুতে তার পরিবারসহ নবীগঞ্জের বনগাঁও গ্রামে সুখের ছাঁয়া নেমে এসেছে ।
ব্যক্তি জীবনে বকুল ৩মেয়ে, ১ছেলের জনক। তিনিই ছিলেন পরিবারের এক মাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।  নিহত বকুলের ভাতিজা আব্দুল মুহিত সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আজ সকালে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে ওই দিনই বিকেল চারটায় বনগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নামাজে জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হবে। তিনি জানান, নিহত বকুল ছিলেন মুদি দোকান ব্যবসায়ী। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারের নেমে এসেছে অন্ধকার।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net