শিরোনাম

Monthly Archives: ফেব্রুয়ারি ২০১৭

নবীগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধের সাব সেক্টর কমান্ডার প্রয়াত মাহবুবুর রব সাদী স্মরনে আলোচনা সভা

নবীগঞ্জ-প্রতিনিধিঃ নবীগঞ্জের কৃতি সন্তান মহান মুক্তিযুদ্ধের সাবসেক্টর কমান্ডার ও সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম মাহবুবুর রব সাদী স্মরণে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাহবুবুর রব সাদীর শুভাকাংখী ও অনুসারীদের আয়োজনে ২৮ ফেব্রƒযারী মঙ্গলবার দুপুরে নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মাঠে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, হবিগঞ্জ সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট আবু জাহির।
হবিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মুনিম চৌধুরী বাবুর সভাপতিত্বে ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাবেক আহবায়ক ওবায়দুল কাদের হেলাল এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্য সচিব রতœদীপ দাস রাজুর যৌথ পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা- ১৬ আসনের সংসদ সদস্য ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লা, নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা লোকমান আহমেদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জীতেন্দ্র কুমার নাথ, থানার অফিসার ইনচার্জ এস.এম. আতাউর রহমান, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাজমা বেগম, পৌরসভার মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ইমদাদুর রহমান মুকুল, সাধারন সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুর উদ্দিন (বীর প্রতিক), কেন্দ্রীয় জাদস নেত্রী শামিমা আক্তার, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম, ইউপি চেয়ারম্যান আবু সিদ্দিক, নজরুল ইসলাম, জাবেদ আলী, সাবেক চেয়ারম্যান আ.ক.ম ফখরুল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই, জেলা পরিষদের সদস্য এডভোকেট সুলতান মাহমুদ, আব্দুল মালিক, শিরিন আক্তার, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি শামীম আহমেদ। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক, পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য উক্ত অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অনিবার্য কারণবশত তিনি উপস্থিত হতে পারেননি।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘‘দ্য সেভেন মার্চ ফাউন্ডেশনের’’ সেমিনার ৭মার্চ

লন্ডনঃ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘‘দ্য সেভেন মার্চ ফাউন্ডেশন’’ এবারও ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষ্যে লন্ডনে সেমিনারের আয়োজন করেছে। ১৯৭১ সালের ৭ইমার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালী জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে ডাক দিয়ে ছিলেন স্বাধীনতার। জাতির জনকের ঐতিহাসিক ৭ইমার্চের ভাষনে উদ্ভোদ্ধ হয়ে দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ ঝাপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। শত্রুকে পরাস্থ করতে জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল কৃষক শ্রমিক ছাত্র জনতা। প্রকৃত পক্ষে সাতই মার্চের ভাষনই ছিল স্বাধীনতার পরোক্ষ ঘোষনা। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’’ আমি যদি হুকুম দেবার না-ও পারি তোমাদের যার যা কিছু তা নিয়ে রুখে দাড়াও, শত্রুর মোকাবেলা কর।’’ বাস্তবে তাই ঘটেছিল।
২৫ মার্চ কালো রাতে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে বন্ধি হওয়ার পূর্বমুহুর্থে জাতির পিতা তৎকালীন ইপিআরের ওয়ার্লেস মারফত স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে যান, পরবর্তিতে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে অনেকেই তা পাঠ করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করতে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রতি রাতে বজ্রকণ্ঠ নামে বঙ্গুবন্ধুর এই ভাষনটি প্রচার করা হত। ৭ইমার্চ নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবত গবেষনা করে আসছে ‘দ্য সেভেন মার্চ ফাউন্ডেশন’’। আসছে ৭মার্চ ২০১৭ সন্ধ্যে সাড়ে ছয় ঘটিকায় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে ইষ্ট লন্ডনের ১০১ খৃষ্টান ষ্ট্রীটের হারকনেস হাউজ কমিউনিটি সেন্টারে, এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জীবন্ত কিংবদন্তি অমর একুশের গানের রচয়িতা সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রবীন সাংবাদিক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী। এছাড়াও ৭ই মার্চ এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্মৃতিচারন করবেন বিশিষ্ট আলোচকবৃন্দ। সেমিনারে থাকছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রদর্শনী। সকলকে সেমিনারে উপস্থিত হওয়ার জন্যে গবেষনা প্রতিষ্টানের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ নাম্বার আনসার আহমেদ উল্লাহ ০৭৯৫৬৮৯০৬৮৯ ও জামাল আহমদ খান ০৭৯৬১৩৭৪৬২৭ ।

ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে শেকড় থেকে বিচ্যুত না-হয় সেদিকে আমাদের সকলের মনযোগী হতে হবে

লন্ডনঃ প্রবাসীদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যাতে শেকড় থেকে বিচ্যুত না-হয় সেদিকে আমাদের সকলের মনযোগী হতে হবে, সেই সাথে নবপ্রজন্মকে নিজ ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। আমাদের ভূলে গেলে চলবেনা আমরা বাঙ্গালী আমাদের ভাষা বাংলা। বাঙ্গালীর আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২১ ফেব্রুয়ারী আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। গেল ২৬ ফেব্রুয়ারী বিকেলে ইষ্টলন্ডনের খৃষ্টান ষ্ট্রীটের হার্কলেস হাউস কমিউনিটি সেন্টারে প্রগ্রেসিভ ফোরাম আয়োজিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা এঅভিমত ব্যাক্ত করেন। সংগঠনের আহবায়ক ডাঃ কাজী মখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে আন্তর্জাতিক মাতৃুভাষা ও শহীদ দিবসের তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন এডভোকেট মুজিবুল হক মনি, সুশান্ত কুমার বালা, রিনা মোর্শারফ, নজরুল ইসলাম, গয়াছুর রহমান গয়াছ, কাউন্সিলার রহিমা রহমান, কাউন্সিলার আব্দুল আজিজ তকি, গোলাম কবীর, নজরুল ইসলাম, রুবি হক, ড, আক্তার হোসেন, হারুনুর রশিদ, সৈয়দ এনামুল হক প্রমুখ।

জার্মানির বন নগরীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন

বন, ২৫ ফেব্রুয়ারি – মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে জার্মানির বন নগরীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কন, হাতের লেখা, কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
শনিবার সকাল থেকে বিভিন্ন ভাষাভাষী শতাধিক অভিবাসী ও তাদের ছেলে-মেয়েরা এবং জার্মান অতিথিরা বন নগরীর ডুইসডর্ফ এলাকায় অবস্থিত হাউস অফ ইন্টেগ্রেশন এ উপস্থিত হন। প্রথমে তিনটি বিভাগে শিশুদের কোরআন তেলাওয়াত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর শিশুরা নিজেদের মাতৃভাষায় সুন্দর হাতের লেখা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। এরপর উপস্থিত অভিবাসী ও জার্মান অতিথিবৃন্দ এবং শিশু-কিশোররা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতার জন্য আঁকা মনোরম ছবির প্রদর্শণী ছিল মন কাড়া। এছাড়া চিত্র প্রদর্শণীতে ছিল বাংলাদেশী-জার্মান কবি ও আঁকিয়ে মীর জাবেদা ইয়াসমিন ইমির আঁকা বাইশটি আকর্ষণীয় ছবি, যেগুলো দেশী-বিদেশী অতিথিদের কাছে ছিল অত্যন্ত অর্থবহ এবং দৃষ্টি নন্দিত।
হাউস অফ ইন্টেগ্রেশনের ওপেন ডোর ডে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশি-জার্মান বিশিষ্ট সমাজসেবী এবং জার্মান আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম বসিরুল আলম চৌধুরী সাবু এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি কারিম উল্লাহ। ইন্টেগ্রেশন হাউস এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং প্রধান নির্বাহী যুবরাজ তালুকদার এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইন্টেগ্রেশন হাউজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সমাজসেবী নুরুল ইসলাম। ইন্টেগ্রেশন হাউজের শিক্ষা সমন্বয়কারী হোসাইন আব্দুল হাই এর উপস্থাপনায় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন ইন্টেগ্রেশনের হাউজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক তামান্না তালুকদার এবং রেশমা ইসলাম। বাহান্নর একুশের প্রেক্ষাপট, ইতিহাস এবং সেখান থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে একুশে ফেব্রুয়ারির বৈশ্বিক স্বীকৃতির উপরে আলোকপাত করে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক ও আইন বিশারদ মারিনা জোয়ারদার।
অনুষ্ঠানে বক্তাগণ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালি জাতির আন্দোলন ও সংগ্রামের ইতিহাস-ঐতিহ্যের গল্প তুলে ধরেন জার্মানিতে বসবাসকারী বিভিন্ন দেশ ও ভাষার অভিবাসীদের সামনে। তাঁরা বাঙালি জাতির এই গৌরবময় ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও ভাষার মানুষদেরকে এবং বিশেষভাবে অভিবাসী নতুন প্রজন্মের মাঝে নিজ নিজ মাতৃভাষার অধিকতর চর্চা ও বিকাশে আন্তরিকভাবে প্রচেষ্টা চালানো এবং উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
এছাড়া বাঙ্গালির ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দক্ষ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও ভূমিকা তুলে ধরে বক্তাগণ ১৯৭৫ সালে সপরিবারে তাঁর নির্মম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে এ ধরণের ঘটনার যেন কখনও পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেজন্য সকলকে সতর্ক ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান।
ইন্টেগ্রেশন হাউস এর ওপেন ডোর ডে এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এর সকল কর্মসূচির মিডিয়া পার্টনার ছিল অনলাইন মিডিয়া সংগঠন ‘আওয়ার ভয়েস’।
এদিকে, বিকেলে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এর উদ্যোগে বাড গোডেসব্যার্গ এর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ডয়েচে ভেলের সাবেক সাংবাদিক মারিনা জোয়ারদার এর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রের সাংস্কৃতিক সম্পাদক বদরুন্নেসা হোসনে সুলতানা। সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সংগঠক ডঃ তিয়াসা হোসনে আইয়ুব এর নেতৃত্বে একুশের এবং দেশের গান ও নাচ পরিবেশন করে কেন্দ্রের এক ঝাঁক ক্ষুদে শিল্পী ‘সোনামণিরা’। গান ও স্বরচিত কবিতা পরিবেশন করেন যথাক্রমে কোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক আব্দুল্লাহ আল মারুফ এবং পরিকল্পনাবিদ মোঃ খুরশীদ হাসান সজিব।

নবীগঞ্জ থানার কনস্টেবল নীলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা

উত্তম কুমার পাল হিমেল,হবিগঞ্জ) নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ঃঃনবীগঞ্জ থানার কমর্রত নারী কনস্টেবল আয়েশা আক্তার নীলা (২৩) কে তার শ্বশুর বাড়িতে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে নীলার ৩ দেবরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। কনস্টেবল নীলার মৃত্যুতে নবীগঞ্জ থানায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। তার সহকর্মীরা নীলার হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবী করেছেন। গত রোবাবর রাত সাড়ে ৮ টার দিকে নরসিংদি জেলার মনোহরদি থানার চারাকান্দি গ্রামস্থ নীলার শ্বশুর বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সুত্রে জানা যায়, নরসিংদি জেলার মনোহরদি থানার চারাকান্দি গ্রামের জালাল মিয়ার পুত্র রুবেল মিয়ার স্ত্রী আয়েশা আক্তার নীলা দীর্ঘদিন ধরে নবীগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন। সে একই উপজেলার হাফিজপুর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের কন্যা। গত কয়েক দিন আগে ১ মাসের ছুটি নিয়ে তার শ্বশুর বাড়িতে যায় আয়েশা আক্তার নীলা। পুলিশ জানায়, গত রোবাবর রাত সাড়ে ৮ টার দিকে নীলার শ্বশুর বাড়ির লোকজন পুলিশকে খরব দেয় যে নীলা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে লাশটি উদ্ধার করে। এসময় ছুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করতে গেলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশের সন্দেহ হয় যে নীলাকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এ সময় পুলিশ নীলার দেবর কবির, হিমেল ও সোহাগকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। এ ঘটনার পর থেকে নীলার স্বামী রুবেল পলাতক রয়েছে। স্থানীয় লোকজন ধারণা করছেন, তার স্বামীই তাকে হত্যা করে পালিয়ে গেছেন। এদিকে, নবীগঞ্জ থানার নারী কনস্টেবল মনি আক্তার জানান, নীলার মৃত্যুতে আমরা হতবাক হয়েছি। সে অত্যান্ত ভদ্র ও ন¤্র ছিল সব সময় কাজে মনোনিবেশ রাখতো। কারো সাথে অতিরিক্ত কথা বলতো না। দায়িত্বের প্রতি ছিল অত্যান্ত মনোযোগী। এবং তিনি তার সহকর্মী নীলার হত্যার সঠিক তদন্ত ও বিচার দাবী করেন। এ ব্যাপারে মনোহরদি থানার ওসি সাজ্জাত হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পুলিশ ঘটনার খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৩ দেবরকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নবীগঞ্জ থানার ওসি এস এম আতাউর রহমান এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নীলা নবীগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিল। গত কয়েকদিন আগে সে ১ মাসের ছুটি নিয়ে বাড়িতে যায়। তবে তার লাশ উদ্ধারের বিষয়টি জেনেছি।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘‘দ্য সেভেন মার্চ ফাউন্ডেশনের’’ সেমিনার ৭মার্চ মঙ্গলবার ১০১ খৃষ্টান ষ্ট্রীটের হারকনেস হাউজ কমিউনিটি সেন্টারে.

লন্ডনঃ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘‘দ্য সেভেন মার্চ ফাউন্ডেশন’’ এবারও ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষ্যে লন্ডনে সেমিনারের আয়োজন করেছে। ১৯৭১ সালের ৭ইমার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালী জাতিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে ডাক দিয়ে ছিলেন স্বাধীনতার। জাতির জনকের ঐতিহাসিক ৭ইমার্চের ভাষনে উদ্ভোদ্ধ হয়ে দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ ঝাপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। শত্রুকে পরাস্থ করতে জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল কৃষক শ্রমিক ছাত্র জনতা। প্রকৃত পক্ষে সাতই মার্চের ভাষনই ছিল স্বাধীনতার পরোক্ষ ঘোষনা। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘‘এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’’ আমি যদি হুকুম দেবার না-ও পারি তোমাদের যার যা কিছু তা নিয়ে রুখে দাড়াও, শত্রুর মোকাবেলা কর।’’ বাস্তবে তাই ঘটেছিল।
২৫ মার্চ কালো রাতে পাক হানাদার বাহিনীর হাতে বন্ধি হওয়ার পূর্বমুহুর্থে জাতির পিতা তৎকালীন ইপিআরের ওয়ার্লেস মারফত স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে যান, পরবর্তিতে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে অনেকেই তা পাঠ করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করতে স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রতি রাতে বজ্রকণ্ঠ নামে বঙ্গুবন্ধুর এই ভাষনটি প্রচার করা হত। ৭ইমার্চ নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবত গবেষনা করে আসছে ‘দ্য সেভেন মার্চ ফাউন্ডেশন’’। আসছে ৭মার্চ ২০১৭ সন্ধ্যে সাড়ে ছয় ঘটিকায় সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে ইষ্ট লন্ডনের ১০১ খৃষ্টান ষ্ট্রীটের হারকনেস হাউজ কমিউনিটি সেন্টারে, এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জীবন্ত কিংবদন্তি অমর একুশের গানের রচয়িতা সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রবীন সাংবাদিক আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী। এছাড়াও ৭ই মার্চ এবং মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে স্মৃতিচারন করবেন বিশিষ্ট আলোচকবৃন্দ। সেমিনারে থাকছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রদর্শনী। সকলকে সেমিনারে উপস্থিত হওয়ার জন্যে গবেষনা প্রতিষ্টানের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ নাম্বার আনসার আহমেদ উল্লাহ ০৭৯৫৬৮৯০৬৮৯ ও জামাল আহমদ খান ০৭৯৬১৩৭৪৬২৭ ।

জগন্নাথহল এলোমনাই এসোসিয়েশন ইউকের উদ্যোগে প্রয়াত সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন

লন্ডনঃ জগন্নাথহল এলোমনাই এসোসিয়েশন ইউকের বার্ষিক সাধারণ সভায় সদ্য প্রয়াত সুরঞ্জিত গুপ্তের মৃত্যূতে শোক প্রকাশ করা হয়। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় উডফোর্ড চার্চ হলে বাবু অধীর রঞ্জন দাসের সভাপতিত্বে ও তাপস সাহার সঞ্চালনায় সভার শুরুতে সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের বিদেহী আত্মার প্রতি সম্মান জানিয়ে একমিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে প্রয়াতের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। বর্ষিয়ান এই রাজনীতিকের জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোপাত করেন রাখাল সাহা, ধীরেন হালদার,ধীরেন বসু, সমীর দাস ও সুজিত সেন। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন তার মৃত্যুতে জাতি তার এক সূর্যসন্তানকে হারিয়েছে। তার এই শূন্যতার পূরন হবার নয়। আজীব অসাম্প্রদায়িক রাজনীতিতে বিশ্বাসী বর্ষিয়ান এই নেতা ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে ছিলেন শ্রদ্ধার পাত্র। তিনি আমৃত্যু গণমানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

সভার দ্বিতীয় পর্বে সংগঠনের চলতি কর্মকান্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বিশেষ করে সংগঠনের বর্তমান চ্যারিটি কার্যক্রম ও গ্রীহিত নতুন প্রজেক্ট গুলো কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তার রুপরেখা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন তপন সাহা, অধীর দাস, অজিত সাহা, আর সাহা, সুজিত সেন, রতন দাস, মিহির সরকার,মনোজ তালুকদার, শ্যামল রায়, সুশান্ত কুমার বালা, উত্তম দে, কৃষœা সাহা, উত্তম কুমার দে, সঞ্জয় ঘোস, বাবু মজুমদার, সমীর দাস, ধীরেন বসু, ডি এন হালদার, কমলেশ হালদার, তপন পান্ডিত, মিল্টন সাহা, ও কমল সাহা প্রমুখ।

নবীগঞ্জ উপজেলা লোকনাথ সেবা সংঘের উদ্যোগে ৩ দিন ব্যাপী ১৮তম বার্ষিক পাদুকা উৎসব সম্পন্ন

নবীগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নবীগঞ্জ উপজেলা লোকনাথ সেবা সংঘের উদ্যোগে পৌরএলাকার আক্রমপুরস্থ মন্দিরে বিভিন্ন অনুষ্টানমালার মধ্য দিয়ে ৩ দিন ব্যাপী ১৮তম বার্ষিক পাদুকা উৎসব গত শুক্রবার শুরু হয়ে সোমাবার সকালে সম্পন্ন হয়েছে। ঐদিন বিকালে অনুষ্টানমালার মধ্যে ছিল গীতাপাঠ,ভক্তিমূলক গান,অধিবাস। আজ শুনবার অনুষ্টানমালার মধ্যে রয়েছে কীর্তন,বাবার পূজা,বাল্যভোগ,রাজভোগ ও মহাপ্রসাদ বিতরন ও সমবেত প্রার্থনা। গতকাল শনিবার কীর্তন পরিবেশন করেন ভারতের শ্রী শ্রী কমলাদেবী দাস সম্প্রদায়,খুলনার শ্রী শ্রী ব্রজেশ্বরী সম্প্রদায়,সাতক্ষীরার রাই বিনোদিনী সম্প্রদায়,সিলেটের জয়লক্ষী সম্প্রদায়,বি-বাড়ীয়ার শ্রী শ্রী জীবমুক্তি সম্প্রদায়। গতকাল শনিবার অনুষ্টানমালায় উপস্থিত ছিলেন, নবীগঞ্জ-বাহুবল আসনের এমপি এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু, মেজর(অবঃ) সুরঞ্জন দাশ, নবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, পৌরসভার মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডাঃ রথীন্দ্র চন্দ্র দেব,সাবেক মেয়র অধ্যাপক তোফাজ্জল ইসলাম চৌধুরী, নবীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী,নবীগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র এটি এম সালাম,ইউপি চেয়ারম্যান আলী আহমদ মুছা, পৌরহিত মতিলাল ভট্টচার্য্য,ভবানী শংকর ভট্টাচার্য্য,,লোকনাথ সেবা সংঘের সাবেক সভাপতি সুখেন্দু পুরকায়াস্থ, নিতেশ রায়,নবীগঞ্জ উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নারায়ন রায়,সাধারন সম্পাদক প্রভাষক উত্তম কুমার পাল হিমেল,লোকনাথ সেবা সংঘের সাবেক সাধারন সম্পাদক রঞ্জিত চক্রবর্ত্তী,সাধন চন্দ্র দাশ,প্রজেশ রায়,বিধান ধর,চারু দেব,পরিতোষ বনিক,কানাই লাল দাশ,সঞ্জয় দাশ,অজিত কুমার দাশ, উৎসব কমিটির সভাপতি নীলকণ্ট সুত্রধর,সহ-সভাপতি অনজিত দাশ লিটন,কৃপাংশু রায় কাজল,সাধারন সম্পাদক সুজিত পাল,সহ-সাধারন সম্পাদক সঞ্জয় মহালদার,কোষাধ্যক্ষ শংকর দাশ,সহ-কোষাধ্যক্ষ মিশু দাশ,সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল রায়,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নিবাশ দাশ,প্রচার সম্পাদক বিপ¬ব চন্দ্র দাশ বিপুল,সহ-প্রচার সম্পাদক রাহুল ধর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। অনুষ্টানে সংগীত পরিবেশন করেন ফুলন দাশ,জয়িতা দাশসহ অন্যান্য শিল্পীবৃন্দ। এছাড়া নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের আািদত্যপুর ও বাউসা ইউনিয়নের সোজাপুর লোকনাথ সেবা সংঘের উদ্যোগে পরম পুরুষ লোকনাথ ব্রম্মচারী বাবার পাদুকা উৎসব পালন করা হয়েছে।

বাংলার প্রাচীন দুই মহিলাকবি সৈয়দা ছামিনা ভানু ও সহিফা ভানু উরফে (হাজীবিবি) ——-মতিয়ার চৌধুরী

বাংলাসাহিত্যের উজ্বল নক্ষত্র বৃহত্তর সিলেট তথা সমগ্রবাংলার গর্ব দুই প্রাচীন মুসলিম মহিলা কবি সৈয়দা সামিনা ভানু ও সহিফা ভানু উরফে হাজিবিবি সম্পর্কে এই প্রজন্মের অনেকই জ্ঞাত নন। বৃহত্তর সিলেটের কৃতি দুই মুসলিম মহিলাকবিকে নিয়ে আলোকপাত করতে চাই।
নারী জাগরনের কবি সহিফা ভানু ওরফে ( হাজীবিবি)
কবি সহিফা ভানু ওরফে ( হাজীবিবি) আজ থেকে দেড়’শ বছর পূর্বে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সিলেটবাসীর গর্ব এই মহিলা কবির সঠিক জন্ম তারিখ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তবে গবেষকদের অনেকেই মনে করেন তিনি ১৮৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তা-ও অনুমান নির্ভর। কেউ কেউ তাঁকে সিলেটের প্রথম মহিলা কবি বললেও এর সাথে আমাদের দ্বিমত রয়েছে। সিলেটের প্রথম মহিলা কবি হলেন মরমী সাধক সৈয়দ শাহনুরের সহর্ধীর্মিনী দেওয়ান সৈয়দা ছামিনা ভানু। সে যাক প্রথমে আমরা কবি সহিফাভানু উরফে হাজীবিবি ও তার সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে আলোচনা করতে চাই। তার পিতার নাম দেওয়ান আলী রেজা চৌধুরী, বড় ভাই দেওয়ান উবেদুর রাজা চৌধুরী ছিলেন ফার্সী ভাষায় সুপন্ডিত এবং একজন নাম করা কবি। মরমী কবি দেওয়ান হাছন রাজা কবি সহিফাভানুর বৈমাত্রেয় ভ্রাতা। গবেষক মরহুম মনির উদ্দিন চৌধুরী এবং ফজলুর রহমান সাহেবের মতে হাজীবিবি ছিলেন সুশিক্ষিত একজন মহিলা, উর্দূ, ফার্সী এবং বাংলা ভাষায় তাঁর বেশ দখল ছিল। মরমী সাধক দেওয়ান হাছন রাজা এই মহিলাকে বেশ শ্রদ্ধা করতেন ,শুধু বড় বোন হিসেবে নয় একজন কবি হিসেবে। সহিফা ভানুর বিয়ে হয় সিলেট শহরের কুয়ারপার নিবাসী আব্দুল ওয়াহেদ উরফে হাজী হিরন মিয়ার সাথে, হাজী হিরন মিয়া ছিলেন সে সময়কার একজন জ্ঞানী মানুষ, সহজ সরল এবং উদার। সহিফা ভানু একাধিকবার হ্জ্জ্ব পালন কারায় সাধারণ মানুষের কাছে হাজী বিবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ছিলেন ধার্মিক তবে ধর্মান্ধ ছিলেন না। সে আমালে খান্দানী মুসলিম পরিবারের মহিলারা বোরখা ব্যবহার করলেও তিনি তা পছন্ধ করতেন না। তিনি দক্ষতার সাথে জমিদারী পরিচালনা করতেন। কোন সময়ই তিনি সমালোচনার সম্মুখীন হননি। এই মহিলা ছিলেন নিঃসন্তান। তিনি খুব সৌখিন মহিলা ছিলেন, গরীব এবং অসহায়দের সব সময় সাহায্য করতেন। সে সময় হাজী বিবি সিলেট শহরে নিজের বসবাসের জন্যে যে বাড়ী নির্মাণ করেন। ঐ বাড়ীটি ছিল সে আমলে দেখার মতো তাই সিলেটে হাজী বিবির বাড়ীকে ঘিরে এমন একটি গানও আছে।
গানটি হলো ঃ

“ আমরা যাইমুনিগ সুরমা নদীর পাড়
আমরা দেখমুনি’গ হাজী বিবির বাড়ী
সিলেট কুয়ার পাড়।’’

তার ছোট ভাই মরমী সাধক দেওয়ান হাছন রাজা প্রথম জীবনে একজন অত্যাচারী জমিদার ছিলেন। সহিফাভানু হাছন রাজাকে সমীহ করতেন কিন্তু ভাইয়ের অধঃপতনে ব্যথিত হয়ে উর্দূতে একটি কবিতা লিখেন ঃ-
‘‘হাছন রাজনে এয়সা জুলুম কিয়া
এতিম কু -কসকে লেকে আতশ মে ঢাল দিয়া।
ইয়ে দুনিয়া ফানি হায়, একরোজ যানা হোগা,
জোর জুলুম কা মজা উধার যাকে চাখনা হোগা
সহিফা বেউকুফ নে এয়সা বেওকুফি কিয়া-
হাছন কু খাতির করকে , এতিম কু ডুবা দিয়া।’’

’’সহিফা সঙ্গীত’’ ’’ ছাহেবানের জারী’’ ও ’’ইয়াদগারে ছহিফা’’ নামে তার তিনটি গ্রন্থের উল্লেখ পাওয়া যায়। ইতিহাস বেত্তা মনির উদ্দিন চৌধুরীর মতে সহিফাভানুর সাহিত্যে আধ্যাত্মিক সুরে অতরঞ্জিত হলেও মর্ত্য জীবনের প্রতি তার বিমুখতা নেই। তিনি স্বর্গ ও মর্ত্যকে এক করে একেঁছেন তার কাব্যে। তিনি ছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদুত। নির্যাতিত নারী সমাজের বেদনায় তিনি প্রতিবাদ মুখর। নারী জাগরনে বা নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে তার বেশ কয়েকটি সুন্দর লেখা রয়েছে এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য কয়েকটি লিখা আমাদের পাঠকদের জন্যে তুলে ধরতে চাই।

‘সহিফা বলে শোন পুরুষের পাষান মন,
জন্মের সতী সীতা ছিল
রামে সীতা না চি্িনল
তাই সীতারে ত্যাগ করিল , ঘটে গেল অঘটন।’

সমাজের শঠতা ও চৌর্যবৃত্তিতে তাঁর দৃষ্ঠি এড়ায়নি, মন্দ লোকের ব্যাপারে তিনি ছিলেন সোচ্চার তাইতো লিখেছেন ঃ
-‘চোরা যারা ভালা তারা
টাকার বল তাই যায় না ধরা।’
তার লিখা থেকে সে সময়কার বিচার ব্যবস্থারও একটি চিত্র ফুটে উঠেছে সুন্দর ভাবে। বিভাগীয় দীর্ঘসূত্রতা, এবং বিচার দুর্ভোগ নিয়ে তিনি লিখেছেন ঃ
‘‘ মোন্সেফী হইতে হাইকোর্টে যায়
পাঁচ সাত বৎসরে।’’
এছাড়া রাষ্ঠ্রীয় সামাজিক এবং রাজনৈতিক ত্রুটি বিচ্যুতি এবং অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি লিখেছেন, তার সাহিত্যে হিন্দু- মুসলিম সংস্কৃতির সমন্বয় খুঁজে পাওয়া যায়।

স্বরস্বতীকে প্রণাম করে ভক্তি ভরে চরণ ধরে
গাব নাম মধুর স্বরে, যদি মা কৃপা করে।
আবার লিখেছেন ঃ-
‘মা গঙ্গাকে স্মরণ করি গানের বোঝা লৈয়া ফিরি
ছহিফায় বলে মাগো আছি তোমার চরণ ধরি।

কবি সহিফাভানুর লেখনিতে ইসলামী জীবনদর্শন, বৈষ্ণব সাধনা, বাউল চর্চা পীর প্রসস্তি সমান ভাবে স্থান পেয়েছে। শেষ জীবনে তিনি সুফীবাদের প্রতি আকৃষ্ঠ হন। এসব তার লেখনিতেই ফুটে উঠেছে। তার বাছাইকৃত লিখা থেকে কয়েকটি লিখা তুলে ধরতে চাই। প্রথমে তার রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক একটি গান ঃ-
দেখে আস গে রাধা রাণী আছেরে কেমন
মথুরাতে আছি আমি হৈয়া রাজন
রাধার জন্য ত্যাগ করিব রাজ্য সিংহাসন।
সহিফা বলে শুন ভূবন মোহন-
কুঞ্জার কুবুদ্ধিয়ে তুমি হয়েছ বন্ধন।

যখন তিনি হজ¦ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা যাত্রা করেন তখন একটি গান লিখেন জানা যায় এটিই তার শেষ লিখা।
আমি তোমার তুমি আমার আর’ত কেহ নাই।
জন্মের মত বিদায় হয়ে মদিনাতে যাই।
বঙ্গদেশের বড় ওলি শাহজালাল পীর
আনন্দে বিদায় দিয়ে আমায় কর স্থির।

গবেষক ফজলুর রহমান সিলেটের একশতএকজন গ্রন্থে পীর মাহমুদ আলী শাহ সহিফাভানুর মুর্শিদ বলে উল্লেখ করেছেন। সাধক হাছন রজা ও সহিফা ভানু আপন ভাই বোন হলেও সাহিত্য চর্চা করেছেন একই সময়ে। হাছন রাজার কথা এ প্রজন্মের মানুষ জানলেও সহিফাভানু রয়ে গেছেন অজ্ঞাত। হাছন রাজাকে উদ্দেশ্য করে সহিফাবানুর একটি গান তা হলোঃ-

সুনামগঞ্জের হাছন রাজা আলী রাজার নন্দন
টাকা-কড়ি অন্ন-বস্ত্র সদাই করে বিতরন
আইস ভাই ধন , বইস তুমি মসলন্দের উপর।

কবি সহিফাভানু ১৯১৭ সালে ইহলোক ত্যাগ করেন। তবে তার সঠিক জন্মমৃত্যু তারিখ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

বাউল কবি সৈয়দা ছামিনা ভানুঃ
সৈয়দা ছামিনা ভানু বাংলাদেশের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি। অধ্যাপক আসাদ্দর আলী তার জন্মকাল ১৭৬০ খৃস্টাব্দ বলে উল্লেখ করেছেন। কবি সহিফা ভানু উরফে (হাজীবিবি) এবং সৈয়দা ছামিনা ভানু প্রায় দেড়শ বছরের ব্যবধানে একই এলাকা জন্মগ্রহণ করলেও তাদের সাহিত্য সাধনার মাঝে একই ভাবধারা লক্ষনীয়। উভয়েই সোনার চামচ মুখে নিয়ে জমিদার পরিবারে জন্ম নিলেও কাজ করে গেছেন সাধারন মানুষের জন্যে । একজন জমিদারী ত্যাগ করে নিজকে নিয়োজিত করেন সুফী সাধনায়। অন্যজন কোনদিনই জমিদারীর ধারেকাছে যাননি স্বামীর হাত ধরে বাউল হিসেবে ঘুরেছেন গ্রামে গঞ্জে। উভয়ের ক্ষেত্রেই বাউল অভিধা প্রযোজ্য। সাধক কবি সৈয়দা ছামিনা ভানু তার লিখা একটি গানে বলেছেনঃ——
‘‘ কহে বিবি ছামিনা ভানু শাহানুরের তিরি
মুর্শিদের লাগিয়া আমি দিবানিশি ঝুরি।।
সৈয়দা ছামিনা ছিলেন নবীগঞ্জের দিনারপুরের সদরঘাটের দেওয়ান বসির উদ্দিনের প্রথম কন্যা । সৈয়দ শাহনূর তার একটি গানে তিনটি বিয়ের কথা উল্লেখ করেছেনঃ-
তিনবার পাগলে শরীয়ত করিল
এর অর্থ তিনি তিনটি বিয়ে করেন। ছামিনা ভানু ছাড়া অন্য স্ত্রীদের নাম পাওয়া যায়নি।
বর্তমান সময়ে সৈয়দ শাহানুরের অনেক গানই মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। একজনের কাছ থেকে শুনে যখন অন্যজন গায় এতে গানের অর্থ এবং উŽচারন বদলে যাচ্ছে। সৈয়দ শাহানুর শুধু একজন মরমী কবিই ছিলেন না, একজন মওজুফ ফকিরও।

্এছাড়া সৈয়দ শাহনূর তার আরো ্একটি গানে বলেছেনঃ——
কদমহাটা বিনেছিরি
শানূরে না পাইলা বাড়ি
সৈয়দ শাহনূর সিলেটের বিভিন্ন স্থানে গিয়েছেন বসত করেছেন। কোথাও তিনি স্থায়ী আবাস গড়েননি। তিনি যেথায় গেছেন ছামিনা ভানু সব সময়ই তার সাথে ছিলেন। সৈয়দ শাহানুরের তিনপুত্র তারা হলেন সৈয়দ আব্দুল জব্বার, সৈয়দ আব্দুল জহুর, সৈয়দ আব্দুল জাহির। সৈয়দ শাহানুর (১)নূর নছিহত (২) রাগনূর (৩) নূরের বাগান (৪) সাত কইন্যার বাখন এবং মনিহার নামক কয়েকটি মূল্যবান পুঁথি সিলেটী নাগরী হরফে লিখে গেছেন। তার লিখা ঐসব পুঁথিতে কয়েক হাজার মরমী গান স্থান পেয়েছে, লিখেছেন সমসাময়িক ঘটনার কথাও, তার নিজের স¤পর্কে অনেক তথ্য রয়েছে ঐসব পুথিতে।

বাংলার প্রাচীন দুই মহিলাকবি সৈয়দা ছামিনা ভানু ও সহিফা ভানু উরফে (হাজীবিবি) ——-মতিয়ার চৌধুরী

বাংলাসাহিত্যের উজ্বল নক্ষত্র বৃহত্তর সিলেট তথা সমগ্রবাংলার গর্ব দুই প্রাচীন মুসলিম মহিলা কবি সৈয়দা সামিনা ভানু ও সহিফা ভানু উরফে হাজিবিবি সম্পর্কে এই প্রজন্মের অনেকই জ্ঞাত নন। বৃহত্তর সিলেটের কৃতি দুই মুসলিম মহিলাকবিকে নিয়ে আলোকপাত করতে চাই।
নারী জাগরনের কবি সহিফা ভানু ওরফে ( হাজীবিবি)
কবি সহিফা ভানু ওরফে ( হাজীবিবি) আজ থেকে দেড়শ বছর পূর্বে সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। সিলেটবাসীর গর্ব এই মহিলা কবির সঠিক জন্ম তারিখ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, তবে গবেষকদের অনেকেই মনে করেন তিনি ১৮৫০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তা-ও অনুমান নির্ভর। কেউ কেউ তাঁকে সিলেটের প্রথম মহিলা কবি বললেও এর সাথে আমাদের দ্বিমত রয়েছে। সিলেটের প্রথম মহিলা কবি হলেন মরমী সাধক সৈয়দ শাহনুরের সহর্ধীর্মিনী দেওয়ান সৈয়দা ছামিনা ভানু। সে যাক প্রথমে আমরা কবি সহিফাভানু উরফে হাজীবিবি ও তার সাহিত্যকর্ম সম্পর্কে আলোচনা করতে চাই। তার পিতার নাম দেওয়ান আলী রেজা চৌধুরী, বড় ভাই দেওয়ান উবেদুর রাজা চৌধুরী ছিলেন ফার্সী ভাষায় সুপন্ডিত এবং একজন নাম করা কবি। মরমী কবি দেওয়ান হাছন রাজা কবি সহিফাভানুর বৈমাত্রেয় ভ্রাতা। গবেষক মরহুম মনির উদ্দিন চৌধুরী এবং ফজলুর রহমান সাহেবের মতে হাজীবিবি ছিলেন সুশিক্ষিত একজন মহিলা, উর্দূ, ফার্সী এবং বাংলা ভাষায় তাঁর বেশ দখল ছিল। মরমী সাধক দেওয়ান হাছন রাজা এই মহিলাকে বেশ শ্রদ্ধা করতেন ,শুধু বড় বোন হিসেবে নয় একজন কবি হিসেবে। সহিফা ভানুর বিয়ে হয় সিলেট শহরের কুয়ারপার নিবাসী আব্দুল ওয়াহেদ উরফে হাজী হিরন মিয়ার সাথে, হাজী হিরন মিয়া ছিলেন সে সময়কার একজন জ্ঞানী মানুষ, সহজ সরল এবং উদার। সহিফা ভানু একাধিকবার হ্জ্জ্ব পালন কারায় সাধারণ মানুষের কাছে হাজী বিবি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ছিলেন ধার্মিক তবে ধর্মান্ধ ছিলেন না। সে আমালে খান্দানী মুসলিম পরিবারের মহিলারা বোরখা ব্যবহার করলেও তিনি তা পছন্ধ করতেন না। তিনি দক্ষতার সাথে জমিদারী পরিচালনা করতেন। কোন সময়ই তিনি সমালোচনার সম্মুখীন হননি। এই মহিলা ছিলেন নিঃসন্তান। তিনি খুব সৌখিন মহিলা ছিলেন, গরীব এবং অসহায়দের সব সময় সাহায্য করতেন। সে সময় হাজী বিবি সিলেট শহরে নিজের বসবাসের জন্যে যে বাড়ী নির্মাণ করেন। ঐ বাড়ীটি ছিল সে আমলে দেখার মতো তাই সিলেটে হাজী বিবির বাড়ীকে ঘিরে এমন একটি গানও আছে।
গানটি হলো ঃ
“ আমরা যাইমুনিগ সুরমা নদীর পাড়
আমরা দেখমুনি’গ হাজী বিবির বাড়ী
সিলেট কুয়ার পাড়।’’
তার ছোট ভাই মরমী সাধক দেওয়ান হাছন রাজা প্রথম জীবনে একজন অত্যাচারী জমিদার ছিলেন। সহিফাভানু হাছন রাজাকে সমীহ করতেন কিন্তু ভাইয়ের অধঃপতনে ব্যথিত হয়ে উর্দূতে একটি কবিতা লিখেন ঃ-
‘‘হাছন রাজনে এয়সা জুলুম কিয়া
এতিম কু -কসকে লেকে আতশ মে ঢাল দিয়া।
ইয়ে দুনিয়া ফানি হায়, একরোজ যানা হোগা,
জোর জুলুম কা মজা উধার যাকে চাখনা হোগা
সহিফা বেউকুফ নে এয়সা বেওকুফি কিয়া-
হাছন কু খাতির করকে , এতিম কু ডুবা দিয়া।’’
’সহিফা সঙ্গীত’ ’’ ছাহেবানের জারী’’ ও ’’ইয়াদগারে ছহিফা’’ নামে তার তিনটি গ্রন্থের উল্লেখ পাওয়া যায়। ইতিহাস বেত্তা মনির উদ্দিন চৌধুরীর মতে সহিফাভানুর সাহিত্যে আধ্যাত্মিক সুরে অতরঞ্জিত হলেও মর্ত্য জীবনের প্রতি তার বিমুখতা নেই। তিনি স্বর্গ ও মর্ত্যকে এক করে একেঁছেন তার কাব্যে। তিনি ছিলেন নারী জাগরণের অগ্রদুত। নির্যাতিত নারী সমাজের বেদনায় তিনি প্রতিবাদ মুখর। নারী জাগরনে বা নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে তার বেশ কয়েকটি সুন্দর লেখা রয়েছে এর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য কয়েকটি লিখা আমাদের পাঠকদের জন্যে তুলে ধরতে চাই।

‘সহিফা বলে শোন পুরুষের পাষান মন,
জন্মের সতী সীতা ছিল
রামে সীতা না চি্িনল
তাই সীতারে ত্যাগ করিল , ঘটে গেল অঘটন।’
সমাজের শঠতা ও চৌর্যবৃত্তিতে তাঁর দৃষ্ঠি এড়ায়নি, মন্দ লোকের ব্যাপারে তিনি ছিলেন সোচ্চার তাইতো লিখেছেন ঃ
-‘চোরা যারা ভালা তারা
টাকার বল তাই যায় না ধরা।’
তার লিখা থেকে সে সময়কার বিচার ব্যবস্থারও একটি চিত্র ফুটে উঠেছে সুন্দর ভাবে। বিভাগীয় দীর্ঘসূত্রতা, এবং বিচার দুর্ভোগ নিয়ে তিনি লিখেছেন ঃ
‘‘ মোন্সেফী হইতে হাইকোর্টে যায়
পাঁচ সাত বৎসরে।’’
এছাড়া রাষ্ঠ্রীয় সামাজিক এবং রাজনৈতিক ত্রুটি বিচ্যুতি এবং অন্যায় অনিয়মের বিরুদ্ধে তিনি লিখেছেন, তার সাহিত্যে হিন্দু- মুসলিম সংস্কৃতির সমন্বয় খুঁজে পাওয়া যায়।
স্বরস্বতীকে প্রণাম করে ভক্তি ভরে চরণ ধরে
গাব নাম মধুর স্বরে, যদি মা কৃপা করে।
আবার লিখেছেন ঃ-
‘মা গঙ্গাকে স্মরণ করি গানের বোঝা লৈয়া ফিরি
ছহিফায় বলে মাগো আছি তোমার চরণ ধরি।
কবি সহিফাভানুর লেখনিতে ইসলামী জীবনদর্শন, বৈষ্ণব সাধনা, বাউল চর্চা পীর প্রসস্তি সমান ভাবে স্থান পেয়েছে। শেষ জীবনে তিনি সুফীবাদের প্রতি আকৃষ্ঠ হন। এসব তার লেখনিতেই ফুটে উঠেছে। তার বাছাইকৃত লিখা থেকে কয়েকটি লিখা তুলে ধরতে চাই। প্রথমে তার রচিত রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক একটি গান ঃ-
দেখে আস গে রাধা রাণী আছেরে কেমন
মথুরাতে আছি আমি হৈয়া রাজন
রাধার জন্য ত্যাগ করিব রাজ্য সিংহাসন।
সহিফা বলে শুন ভূবন মোহন-
কুঞ্জার কুবুদ্ধিয়ে তুমি হয়েছ বন্ধন।

যখন তিনি হজ¦ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা যাত্রা করেন তখন একটি গান লিখেন জানা যায় এটিই তার শেষ লিখা।
আমি তোমার তুমি আমার আর’ত কেহ নাই।
জন্মের মত বিদায় হয়ে মদিনাতে যাই।
বঙ্গদেশের বড় ওলি শাহজালাল পীর
আনন্দে বিদায় দিয়ে আমায় কর স্থির।

গবেষক ফজলুর রহমান সিলেটের একশতএকজন গ্রন্থে পীর মাহমুদ আলী শাহ সহিফাভানুর মুর্শিদ বলে উল্লেখ করেছেন। সাধক হাছন রজা ও সহিফা ভানু আপন ভাই বোন হলেও সাহিত্য চর্চা করেছেন একই সময়ে। হাছন রাজার কথা এ প্রজন্মের মানুষ জানলেও সহিফাভানু রয়ে গেছেন অজ্ঞাত। হাছন রাজাকে উদ্দেশ্য করে সহিফাবানুর একটি গান তা হলোঃ-

সুনামগঞ্জের হাছন রাজা আলী রাজার নন্দন
টাকা-কড়ি অন্ন-বস্ত্র সদাই করে বিতরন
আইস ভাই ধন , বইস তুমি মসলন্দের উপর।

কবি সহিফাভানু ১৯১৭ সালে ইহলোক ত্যাগ করেন। তবে তার সঠিক জন্মমৃত্যু তারিখ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বাউল কবি সৈয়দা ছামিনা ভানুঃ
সৈয়দা ছামিনা ভানু বাংলাদেশের প্রথম মুসলিম মহিলা কবি। অধ্যাপক আসাদ্দর আলী তার জন্মকাল ১৭৬০ খৃস্টাব্দ বলে উল্লেখ করেছেন। কবি সহিফা ভানু উরফে (হাজীবিবি) এবং সৈয়দা ছামিনা ভানু প্রায় দেড়শ বছরের ব্যবধানে একই এলাকা জন্মগ্রহণ করলেও তাদের সাহিত্য সাধনার মাঝে একই ভাবধারা লক্ষনীয়। উভয়েই সোনার চামচ মুখে নিয়ে জমিদার পরিবারে জন্ম নিলেও কাজ করে গেছেন সাধারন মানুষের জন্যে । একজন জমিদারী ত্যাগ করে নিজকে নিয়োজিত করেন সুফী সাধনায়। অন্যজন কোনদিনই জমিদারীর ধারেকাছে যাননি স্বামীর হাত ধরে বাউল হিসেবে ঘুরেছেন গ্রামে গঞ্জে। উভয়ের ক্ষেত্রেই বাউল অভিধা প্রযোজ্য। সাধক কবি সৈয়দা ছামিনা ভানু তার লিখা একটি গানে বলেছেনঃ——
‘‘ কহে বিবি ছামিনা ভানু শাহানুরের তিরি
মুর্শিদের লাগিয়া আমি দিবানিশি ঝুরি।।
সৈয়দা ছামিনা ছিলেন নবীগঞ্জের দিনারপুরের সদরঘাটের দেওয়ান বসির উদ্দিনের প্রথম কন্যা । সৈয়দ শাহনূর তার একটি গানে তিনটি বিয়ের কথা উল্লেখ করেছেনঃ-
তিনবার পাগলে শরীয়ত করিল
এর অর্থ তিনি তিনটি বিয়ে করেন। ছামিনা ভানু ছাড়া অন্য স্ত্রীদের নাম পাওয়া যায়নি। বর্তমান সময়ে সৈয়দ শাহানুরের অনেক গানই মানুষের মুখে মুখে ফিরছে। একজনের কাছ থেকে শুনে যখন অন্যজন গায় এতে গানের অর্থ এবং উŽচারন বদলে যাচ্ছে। সৈয়দ শাহানুর শুধু একজন মরমী কবিই ছিলেন না, একজন মওজুফ ফকিরও।

্এছাড়া সৈয়দ শাহনূর তার আরো ্একটি গানে বলেছেনঃ——
কদমহাটা বিনেছিরি
শানূরে না পাইলা বাড়ি
সৈয়দ শাহনূর সিলেটের বিভিন্ন স্থানে গিয়েছেন বসত করেছেন। কোথাও তিনি স্থায়ী আবাস গড়েননি। তিনি যেথায় গেছেন ছামিনা ভানু সব সময়ই তার সাথে ছিলেন। সৈয়দ শাহানুরের তিনপুত্র তারা হলেন সৈয়দ আব্দুল জব্বার, সৈয়দ আব্দুল জহুর, সৈয়দ আব্দুল জাহির। সৈয়দ শাহানুর (১)নূর নছিহত (২) রাগনূর (৩) নূরের বাগান (৪) সাত কইন্যার বাখন এবং মনিহার নামক কয়েকটি মূল্যবান পুঁথি সিলেটী নাগরী হরফে লিখে গেছেন। তার লিখা ঐসব পুঁথিতে কয়েক হাজার মরমী গান স্থান পেয়েছে, লিখেছেন সমসাময়িক ঘটনার কথাও, তার নিজের স¤পর্কে অনেক তথ্য রয়েছে ঐসব পুথিতে।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net