শিরোনাম

Monthly Archives: আগস্ট ২০১৭

বিশ্ব জুড়ে বিশুদ্ধ ভাবে আল কোরআনের খেদমতে দারুল ক্বিরাতের অবদান উল্লেখযোগ্য -আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী

বার্মিংহাম: ইউকে বার্মিংহাম লজেলস উইলস স্ট্রিট বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার এন্ড জামে মসজিদে ইউকে অনুমোদিত দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের অধীনে সামার হলিডে উপলক্ষে মাসব্যাপী পবিত্র কোরআন শরীফ বিশুদ্ধ ভাবে পাঠ দান সম্পন্ন হয়েছে। পাঠ দান শেষে গত ২৬ আগস্ট শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় বার্মিংহাম আস্টন বাংলাদেশ মাল্টিপারপাস সেন্টারে ছাত্র/ছাত্রী ও শিক্ষকদের এ্যাওয়ার্ড প্রদান উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ছাত্র/ছাত্রী, অভিভাবক, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ও উলামায়ে ক্বেরামগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে ছাত্র/ছাত্রীদের ক্বেরাত ও নাশিদ পরিবেশনায় সভাস্থল মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ মাল্টিপারপাস সেন্টারের চেয়ারম্যান বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব আলহাজ নাছির আহমদের সভাপতিত্বে ও সেন্টারের প্রধান শিক্ষক মাওলানা মোঃ হুসাম উদ্দিন আল হুমায়দীর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ’র সভাপতি হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্যান্ডওয়েল কাউন্সিলের মেয়র আলহাজ আহমেদ উল হক এমবিই, বার্মিংহাম সিরাজাম মুনিরা জামে মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টারের খতিব আলহাজ হাফিজ সাব্বির আহমদ। Al Islah
সেন্টারের সেক্রেটারি আলহাজ আজির উদ্দিন আবদাল ও সেন্টারের সহকারী প্রধান শিক্ষক মাওলানা বদরুল হক খান’র শুভেচ্ছা বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দলের প্ররোচনায় মুসলমানরা বিভ্রান্ত হতে চলেছেন। এই দলগুলো পবিত্র কুরআন সহীহ-শুদ্ধ ভাবে শিখার উদ্যোগ না নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, এই দলগুলোর বড় বড় নেতার চেয়ে দারুল ক্বেরাত মজিদিয়া ফুলতলী থেকে শুদ্ধ ভাবে কুরআন শিক্ষা নেয়া ছাত্র/ছাত্রীদের কুরআন তেলাওয়াত অনেক বেশি শুদ্ধ। তিনি বলেন, বিশুদ্ধ ভাবে কোরআন তেলাওয়াত করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ। বিশুদ্ধ ভাবে কোরআন তেলাওয়াত শিক্ষা দেয়ার জন্য দেশ বিদেশে প্রতি বছর দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্টের অধীনে হাজার হাজার ছাত্র/ছাত্রীকে পবিত্র কুরআন শরীফ শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিশুদ্ধ ভাবে কোরআন শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে দারুল ক্বেরাতের অবদান বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি আরও বলেন, আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মকে বিশুদ্ধ ভাবে কোরআন শিক্ষা গ্রহণের জন্য অভিভাবকদের সচেতন ভাবে কাজ করতে হবে। তাদেরকে কোরআন ও হাদিসের শিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে হবে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের শিক্ষার মাধ্যমে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম  দ্বীনের পথে জীবন পরিচালনায় উৎসাহিত হবে। তিনি মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কাজে লিপ্ত লা-মাযহাবি, আহলে হাদিস প্রভৃতি বাতিল ফিরকা থেকে নিজেদের এবং ভবিষ্যত প্রজন্মদের নিরাপদ রাখার জন্য সকল অভিভাককে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লতিফিয়া ফুলতলী কমপ্লেক্সের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ কাজী আংগুর মিয়া, মোঃ গাবরু মিয়া, ফাউন্ডার মেম্বার হাজী আবুল হোসাইন ছাত্তার মিয়া, বাংলাদেশ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ফিরুজ খান, বার্মিংহাম আনজুমানে আল ইসলাহ’র ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট মাওলানা আতিকুর রহমান, ক্যাশিয়ার হাজী মোঃ সাহাব উদ্দিন, সেন্টারের শিক্ষক মাওলানা এহসানুল হক,  হাফিজ রুমেল আহমদ, হাফিজ বদরুল ইসলাম, সেন্টারের ক্যাশিয়ার হাজী তেরা মিয়া, সহকারী ক্যাশিয়ার হাজী রজব আলী, কমিউনিটি নেতা ফখর উদ্দিন, আস্টন এডিংটন রোড জামে মসজিদ কমিটির চেয়ারম্যান সফিক মিয়া চৌধুরী গনি, আহমেদ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ডাইরেক্টার শাফি আহমেদ, সিলেট স্পোর্টিং ক্লাবের চেয়ারম্যান মাসুক মিয়া প্রমুখ।
সভা শেষে বিশেষ মুনাজাতে বিশ্ব মুসলিমের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করা হয়।

নবীগঞ্জে ৫’শ কেজি পোনা মাছ অবমুক্ত

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য দপ্তর এর আয়োজনে গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। ২০১৭/১৮ আর্থিক সালে রাজস্ব খাতের আওতায় প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে প্রায় ৫’শ কেজি পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকতা শাহ মোঃ এনামুল হক, উপজেলা পরিষদের চেয়্যারম্যান এডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল জাহান চৌধুরী, জেলা পরিষদের মেম্বার আব্দুল মালিক, নবীগঞ্জ থানার ও সি এস এম আতাউর রহমান, মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম, মোঃ তানজিমুল ইসলাম, মোঃ রাশেদুজ্জামান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আমিনুর রহমান চৌধুরী সুমন, প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি মোঃ সরওয়ার শিকদার, যুবলীগ নেতা সুমন আহমদ প্রমুখ। এ সময় উপজেলা পুকুরে, উপজেলা হাসপাতাল পুকুর, নবীগঞ্জ সরকারি কলেজ পুকুরসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পুকুরে পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়।

নবীগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার মামলার আসামি গ্রেফতার

নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নে আলোচিত কসবা গ্রামের ট্রিপল মার্ডার মামলার আসামি ছালেহ আহমদের পুত্র পারভেজ মিয়া (৩০)-কে গ্রেফতার করেছে ইনাতগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ । জানান যায়, গত রবিবার রাতে ইনাতগঞ্জ ফাঁড়ীর এস আই ধর্মজিৎ সিনহা একদল পুলিশ নিয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে কসবা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন। নবীগঞ্জ থানার মাধ্যমে তাঁকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এস আই ধর্মজিৎ সিনহা গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে।

বার্মিংহামের লজেলস বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টারের দারুল ক্বিরাতের এ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান ২৬ আগস্ট শনিবার

হুসাম উদ্দিন আল হুমায়দী, বার্মিংহাম থেকে: কুরআন শিক্ষার বিশ্বখ্যাত অন্যতম প্রতিষ্ঠান দারুল ক্বিরাত মজিদিয়া ফুলতলী ট্রাস্ট ইউকে বার্মিংহাম লজেলস উইলস স্ট্রিট বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার এন্ড জামে মসজিদ এর উদ্যোগে সামার হলিডে উপলক্ষে চার সপ্তাহব্যাপি পবিত্র কুরআন শরীফ তাজবিদের সাথে সহিহ-শুদ্ধ ভাবে শিক্ষা দান সম্পন্ন হয়েছে। দারুল ক্বিরাতের ছাত্র-শিক্ষকদের এ্যাওয়ার্ড প্রদান ও বিদায় অনুষ্ঠান উপলক্ষে আগামি ২৬ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার সময় বার্মিংহামের আস্টন বাংলাদেশ মাল্টিপারপাস সেন্টারে এক সভার আহ্বান করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ আনজুমানে আল ইসলাহ’র সভাপতি, আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন ইসলামিক স্কলার হযরত আল্লামা হুছামুদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ সরকারের মেয়র, কাউন্সিলর, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব এবং ওলামায়ে ক্বেরামগণ উপস্থিত থাকবেন। উক্ত অনুষ্ঠানে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। আগতদের জন্য আপ্যায়নের বন্দোবস্ত রয়েছে।-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সিলেট অঞ্চলে নানকার বিদ্রোহ

মতিয়ার চৌধুরীঃ সিলেট অঞ্চলে নানকার বিদ্রোহ borun rayhenadasnurur rahma জমিদারদের বিরুদ্ধে নানকার প্রজাদের একটি আন্দোলন, এ আন্দোলনকে কৃষক-আন্দোলন ও বলা হয়। যা ১৮ আগস্ট ১৯৪৯ সালে সংগঠিত হয়। জমিদারের ভূমিদাসদের একটি প্রথাকে “নানকার প্রথা” বলা হতো। ১৯২০এ শুরু হওয়া এই আন্দোলন ১৯৫০ সালে জমিদার প্রথা বিলুপ্তির মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
কেবল খাবারের বিনিময়ে যেসব জমির ভোগস্বত্ব প্রজাদেরকে দেওয়া হতো সে জমিকেই নানকার জমি বলা হতো। নানকার প্রজাদের জমিদারকে কোন খাজনা বা টেক্স পরিশোদ করতে হত না, বিনিময়ে নানকার প্রজারা জমিদারদের সব হুকুম তামিল করতে হতো, তাদের কোন স্বাধীনতা ছিলনা।
এককথায় এই নানকার প্রজারা ছিলো ভূমির মালিকের হুকুমদাস; প্রজাই নয় তাদের স্ত্রী-সন্তানরাও বংশানুক্রমে ভূমি মালিকের দাস হতো। এর বেশীরভাগই ছিল নিম্নবর্ণের হিন্দু; যেমন: কিরান, নম-শূদ্র, মালি, ঢুলি, নাপিত, পাটনি প্রভৃতি শ্রেণীর লোকেরাই নানকার শ্রণীর প্রজা ছিল। নানকাদের মধ্যে মুসলামদের সংখ্যাও নেহায়েত কম ছিলনা। তবে মুসলমান নানকারের সংখ্যা অন্যান্য এলাকার চেয়ে বিয়ানীবাজার গোলাপগঞ্জে বেশী ছিল । সাধারন প্রজা আর নানকারের মধ্যে ব্যবধান ছিল অন্যান্য প্রজারা খাজনা পরিশোধ করতো, নানকারদের জমিদারদের কোন খাজনা পরিশোধ করতে হতো না বিনিময়ে বংশানুক্রমে দাস হিসেবে থাকতে হতো, সিলেট বিভাগের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ইষ্ট সিলেট বিশেষ করে বিয়ানী বাজার গোলাপগঞ্জ এলাকায় ছিল নানকারে সংখ্যা বেশী। নানকারদের আরেটি পরিচয় রয়েছে কিরান।
নানকার আন্দোলনের সংগঠক কমরেড অজয় ভট্টচার্যের দেয়া তথ্যমতে, সে সময় বৃহত্তর সিলেটের ৩০ লাখ জনসংখ্যার ১০ ভাগ ছিল নানকার এবং নানকার প্রথা মূলত বাংলাদেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে অর্থাৎ বৃহত্তর সিলেট জেলায় চালু ছিল। ১৯২২ সাল থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টি ও কৃষক সমিতির সহযোগিতায় বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, বড়লেখা, কুলাউড়া, বালাগঞ্জ, ধর্মপাশা থানায় নানকার আন্দোলন গড়ে ওঠে। ঐতিহাসিক নানকার বিদ্রোহের সুতিকাগার ছিল বিয়ানীবাজার উপজেলা। সামন্তবাদী শোষণ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার অঞ্চলের নানকার কৃষকরা সর্বপ্রথম বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে।লাউতা বাহাদুরপুর অঞ্চলের জমিদাররা ছিল অতিমাত্রায় অত্যাচারী। তাদের অত্যাচারে নানকার, কৃষক সবাই ছিল অতিষ্ঠ, লোক মুখে শোনা যায়, বাহাদুরপূর জমিদার বাড়ির সামনে রাস্থায় সেন্ডেল বা জুতা পায়ে হাঁটা যেত না। ছাতা টাঙ্গিয়ে চলা ও ঘোড়ায় চড়াও ছিল অপরাধমূলক কাজ। যদি কেউ এর ব্যতিক্রম করতো তবে তাকে কঠোর শাস্তি দেওয়া হতো। জমিদারদের এহেন অত্যাচারে অতিষ্ঠ হলেও তার শক্তির সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করার সাহস কারোরই ছিল না। শোনা যায় নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করেও কেউ জমিদারদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পেত না। দিনে দিনে জমিদারদের অত্যাচার বাড়ত থাকে সেই সাথে বাড়তে থাকে মানুষের মনের ক্ষোভ, এই অনাচারের প্রতিকার চায় সবাই। তাই গোপনে গোপনে চলে শলাপরামর্শ। কেউ কেউ আবার সাহস সঞ্চার করে এ সময় নানকার ও কৃষকদের সংগঠিত করতে কষক সমিতি ও কমিউনিস্ট পার্টি সক্রিয় হয়।
অজয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে চলতে থাকে নানকার কৃষকসহ সকল নির্যাতিত জনগনকে সংগঠিত করার কাজ। ১৯৪৭-এর আগেই অজয় ভট্টাচার্য আত্মনিয়োগ করেন নানকার প্রজাদের সংগঠিত করতে এবং একাধিকবার গ্রেপ্তার হন ব্রিটিশ ভারতের নিরাপত্তা আইনে। দেশ বিভক্তির আগে ও পরে দুই ভাগে সংঘটিত হয় রক্তক্ষয়ী ঐতিহাসিক নানকার বিদ্রোহ, যার অন্যতম রূপকার হলেন কমরেড অজয় ভট্টাচার্য।নিপীড়িত মানুষকে সংগঠিত করতে সে সময় অজয় ভিট্টাচার্যের সাথে কাজ করেছেন গোলাগঞ্জের নুরুর রহমান(পরবর্তীতে যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রী ও ভাসানী ন্যাপ চেয়ারম্যান), শিশির ভট্টাচার্য (লাউতা), ললিতপাল (লাউতা) বিয়ানীবাজার, জোয়াদ উল্ল্যা (নন্দিরপল) বিয়ানীবাজার,, আব্দুস সোবহান (দক্ষিণ পট্টি) বিয়ানীবাজার, ও শৈলেন্দ্র ভট্টাচার্য (লাউতা) বিয়ানীবাজার সহ সহ আরও কয়েকজন। তাদের নেতৃত্বে নানকার কৃষক ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকাশ্য বিদ্রোহ করে জমিদারের বিরুদ্ধে। বন্ধ হয়ে যায় খাজনা দেওয়া এমনকি জমিদারদের হাট-বাজারের কেনাকাটা পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়া হয়। বিভিন্ন জায়গায় জমিদার ও তার লোকজানকে ধাওয়া করে তাড়িয়ে দেয়ার ঘটনাও ঘটে। এতে ভীত সন্ত্রস্থ জমিদাররা তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের শরণাপন্ন হয়ে এ অঞ্চলের নানকার কৃষকদেরকে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন করে। জমিদারদের প্ররোচনায় পাকিস্তান সরকার বিদ্রোহ দমনের সিদ্ধান্ত নেয়।
১৭ আগষ্ট ছিল হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শ্রাবণী সংক্রান্তি। প্রথম দিনের উৎসব আরাধনা শেষে আগামী দিন মনসা পূজার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে গভীর রাতে বিছানার গা এলিয়েছেন সালেশ্বর উলুউরির মানুষ। ভোরে উঠে পূজা আর্চনা, আনন্দ উৎসব আরও কত কি ভাবতে ভাবতে গভীর ঘুমে ঢলে পড়ে সবাই। কিন্তু ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথে পেটোয়া বাহিনী আক্রমণ করে সালেশ্বরে। ঘুমন্ত মানুষ ভীতসন্তস্ত্র হয়ে ঘুম ভেঙ্গে দিগবিদিক পালাতে তাকে। সালেশ্বর গ্রামের লোকজন পালিয়ে পার্শ্ববর্তী উলুউরিতে আশ্রয় নেয়। উলুউরি গ্রামে পূর্ব থেকেই অবস্থান করছিলেন নানকার আন্দোলনের নেত্রী অপর্ণা পাল, সুষমা দে, অসিতা পাল ও সুরথ পাল।
তাদের নেতৃত্বে উলুউরিও সানেশ্বর গ্রামের কৃষক, নারী-পুরুষ সরকারী বাহিনীর মুখোমুখি দাঁড়াবার প্রস্তুতি নেয় এবং লাটিসোটা, হুজা, ঝাটা ইত্যাতি নিয়ে মরণ ভয় তুচ্ছ করে সানেশ্বর ও উলুউরি গ্রামের মধ্যবর্ত্তী সুনাই নদীর তীরে সম্মুখ যুদ্ধে লিপ্ত হয় সরকারি ও জমিদার বাহিনীর সাথে। কিন্তু ইপিআরের আগ্নেয়াস্ত্রের সামনে লাটিসোটা নিয়ে বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি কৃষকরা, ঘটনা স্থলেই ঝরেন পড়ে ৬টি তাজা প্রাণ। এঘটনায় কয়েকজন মুসলমান নানকারও শহীদ হন তবে তাদের বংশধরেরা এটি এখন আর স্বীকার করেননা কারন এদের অনেকেই অবস্থার ‍উন্নতি হওয়ায় নিজেদের নানকার হিসেবে স্বীকার করতে নারাজ।
অজয় ভট্টাচার্য সিলেটের ঐতিহাসিক নানকার বিদ্রোহে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী নানকার বিদ্রোহের প্রাণকেন্দ্র ছিল লাউতা বাহাদুরপুর। ১৯৪৮ সালের মে মাসে গ্রেফতারের পূর্ব পর্যন্ত লাউতা বাহাদুরপুর কেন্দ্রিক পঁয়তাল্লিশ সদস্য বিশিষ্ট নানকার আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা কমিটির সম্পাদক ছিলেন তিনি।

১৯৪৯ সালের ১৮ আগষ্ট নানকারদের উপর পাকিস্থানী মুসলিমলীগ সরকারের ইপিআর, পুলিশ এবং জমিদারদের লাঠিয়ালরা সংগবদ্ধ হয়ে সশ্রস্ত্র হামলা চালালে ৬ জন নানকার নিহত হন; তারা হলেন: রজনী দাস (৫০) – ব্রজনাথ দাস (৫০);
কুটুমনি দাস (৪৭);প্রসন্ন কুমার দাস (৫০);পবিত্র কুমার দাস (৪৫) ওঅমূল্য কুমার দাস (১৭) – পরবর্তী সময়ে বন্দী অবস্থান নিহত।এসময় পুলিশের অত্যাচারে নানকার নেত্রী অন্তঃসত্ত্বা অপর্না পালচৌধুরীর গর্ভপাত ঘটে ঘটনাস্থলে।বীভৎস অত্যাচারে তিনি পঙ্গু হয়ে যান। শ্রীহট্ট, রাজশাহী ও ঢাকা জেলে তিনি ৫ বছর বন্দী থাকেন এই আন্দোলনে কয়েকজন মুসলমানও নিহত হন, তবে তাদের আত্মীয় স্বজনরা এখন তা স্বীকার করতে নারাজ।

১৮ আগস্ট, ১৯৪৯ সালে মানব সভ্যতার ইতিহাসে জন্ম নিয়েছিল এক নির্মম ইতিহাস। ১৯৩৭ সালের ঘৃণ্য নানকার প্রথা রদ ও জমিদারি ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে ওইদিন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সানেশ্বর উলুউরি গ্রামের সুনাই নদীর তীরে পাকিস্থান ইপিআরের ছোড়া গুলিতে প্রাণ দেন পাঁচজন কৃষক। এর প্রায় ১৫ দিন আগে সানেশ্বরে সুনাই নদীর বুকে জমিদারের লাঠিয়ালদের হাতে শহিদ হন রজনী দাস। এ নিয়ে নানকার আন্দোলনে মোট শহিদের সংখ্যা হয় ছয়জন। আহত হোন হৃদয় রঞ্জন দাস, দীননাথ দাস, অদ্বৈত চরণ দাসসহ অনেকে। বন্দি হোন এই আন্দোলনের নেত্রী অপর্ণা পাল, সুষমা দে, অসিতা পাল ও উলুউরি গ্রামের প্রকাশ চন্দ্র দাস, হিরণ বালা দাস, প্রিয়মণি দাস, প্রমোদ চন্দ্র দাস ও মনা চন্দ্র দাস। এ ঘটনার পরেই আন্দোলনে উত্তাল হয় সারাদেশ। তাদের এই আত্মত্যাগের ফলেই ১৯৫০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার জমিদারি ব্যবস্থা বাতিল ও নানকার প্রথা রদ করে কৃষকদের জমির মালিকানার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। তাই বাঙালি জাতির সংগ্রামের ইতিহাসে, বিশেষ করে অধিকারহীন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে সকল গৌরবান্বিত আন্দোলন বিদ্রোহ সংগঠিত হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কৃষক বিদ্রোহ বা নানকার আন্দোলন।নানকার বিদ্রোহের সাথে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন সংগঠক হলেন:অজয় ভট্টাচার্য,নুরুর রহমান,হেনা দাশ, বরুণ রায়। এখানে ‍উল্লেখ্য যে যারা এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন তারাও ছিলেন জমিদার পরিবারের সন্তান, কিন্তু মানবতাবাদী। তাই তারা অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন গড়ে তুলেন।

লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনের উগ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

লন্ডনঃ লন্ডনে যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪২ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করেছে লন্ডস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন।
মঙ্গলবার লন্ডন সময় সকাল সাড়ে ১১টায় চেলসী টাউন হলে এ উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। লন্ডনে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ডাঃ নাজমুল কাওনাইনের সভাপতিত্বে অনুস্ঠিত আলোচনা সভার শুরুতে ১৫ই আগষ্টের শহীদদের সম্মান জানিয়ে একমিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
ফাস্ট সেক্রেটারী সওদিপ্তা আলমের সঞ্চালনায় রাষ্ট্রপতি. প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শুনান যথাক্রমে সহকারী হাইকমিশনার খন্দকার এম তালহা, মিনিস্টার কনসুলার টিএম জোবায়ের, পলিটিক্যাল মিনিষ্টার শ্যামল কান্তি চৌধুরী, কাউন্সেলার মিঃ আবেদিন। এর পর বাংলাদেশ হাইকমিশন ও অন্যান্য সামাজিক সাংসকৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে একে একে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে ফুলদিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
১৫ই আগষ্টের প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় অংশ নেয় প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী নইমুদ্দিন রিয়াজ, সহসভাপতি জালাল উদ্দিন, সামসুদ্দিন মাষ্টার, আনসারুল হক, মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ এনাম, বিমান মল্লিক, জামাম খান, সাজিয়া স্নিগ্ধা, ডাঃ আলাউদ্দিন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন জাতির জনককে স্বপরিবারে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি বসে থাকেনি, তারা চেয়েছিল চিদিনের জন্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলতে, আজও তারা চাইছে দেশকে পাকিস্তানী ভাবধারায় ফিরিয়ে নিতে, আমাদের সকলকে সব ধরনের ষঢ়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে। ভেদাভেদ ভুলে সকলকে জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরমী কবি শাহ ইস্কন্দর মিয়া আর নেই

লন্ডনঃ প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ওল্ডহ্যাম শহরের বাসিন্দা মরমী কবি বহুগ্রন্থ প্রণেতা পীর শাহ ইস্কন্দর মিয়া আর নেই (ইন্নালিল্লাহি রাজিউন), ১৪ আগষ্ট সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ছয় ঘটিকায় তিনি বাংলাদেশে গ্রামের বাড়ী জগন্নাথপুর উপজেলার আলাগদি তেরাউতিয়া গ্রামে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন, মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। মৃত্যুকালে তিনি চার পুত্র এক কন্যা নাতি নাতনি সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ বাদ আসর গ্রামের বাড়ীতে তাঁকে পারিবারিক গোরস্থানে সমাহিত করা হয়। আজীবন জাতির জনকের আদর্শের অনুসারী ইস্কন্দর মিয়া প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠন হিসেবে কাজ করেন। গান গেয়ে প্রবাসে মুক্তিযদ্ধের ফান্ডসংগ্রহ সহ লন্ডনে প্রতিটি মিছিল মিটিংয়ে অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৩৬ সালের ১৫জুন জগন্নাথপুরের পাইলগ্রাও ইউনিয়নের তেরাউতিয়া মোকামবাড়ীতে জন্মগ্রহন করেন। ছোট বেলা থেকেই গান বাজনা লেখালেখির প্রতি তার আগ্রহ ছিল। পাইলগাঁও ব্রজনাথ উচ্চবিদ্যালয়ে অধ্যনকালীন সময় ময়মনসিংহের সাধক জয়নাল আবেদিন পাঠানের কাছে গানের গানের গুঢ়-তত্ত্ব, রাগ-রাগিনী ও বাজনার উপর তালিম নেন। যৌবন কালে গান-বাজনার পাশাপাশি মঞ্চ নাটক এবং যাত্রাপালায় অভিনয়ও করেছেন। জীবনে অনেক বাউল গান গেয়েছেন। এলাকার মানুষের মতে যৌবনে বাউল গান এবং যাত্রা পালার ভিশাশনি ছিলেন পীর ইস্কন্দর মিয়া। তিনি ১৯৬৩ সালে যুক্তরাজ্যে আগমন করেন, বৃটেনে অভিবাসী হওয়ার পরও তাঁর উৎসাহ উদ্দীপনায় ভাটা পড়েনি। যখন তিনি বিলেতে আসেন তখন ভরা যৌবন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে বন্ধ-ুবান্ধবদের নিয়ে সঙ্গীতচর্চা অব্যাহত রাখেন। বন্ধু-বান্ধব মিলে চিত্ত বিনোদনের জন্য গানের আসরে মিলিত হন নিয়মিত। এশকের আশিক হয়ে প্রাণের কথা গানে লিখতে শুরু করেন। ‘‘সবুজ আসর নামে‘‘ একটি গানের সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন ওল্ডহ্যামে। পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়ার তের খন্ডে রচিত গানের সংখ্যা দেড় হাজারেরও অধিক। ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ইসকন্দর গীতি প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয় ১০১টি গান নিয়ে দ্বিতীয় খন্ড প্রকাশিত হয় ১১৪টি গান নিয়ে। পরে সংশোধিত আকারে ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে ১০১টি গান নিয়ে ইসকন্দর গীতি দ্বিতীয়বার পুনঃমুদ্রণ করা হয়। ইসকন্দর গীতি দ্বিতীয় ও তৃতীয় খন্ড একত্রে প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালের ফেব্রƒয়ারী মাসে। দ্বিতীয় খন্ডে গানের সংখা ১১৪টি ও তৃতীয় খন্ডে গানের সংখ্যা ১১৫টি। ইসকন্দর গীতি চতুর্থ ও পঞ্চম খন্ড একত্রে প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালের মে মাসে। চতুর্থ খন্ডে গানের সংখ্যা ১৩৩টি আর পঞ্চম খন্ডে গানের সংখ্যা ১৪৫টি। ২০০৭ সালে তার লিখা গান নিয়ে দুটি গানের সিডি প্রকাশ করে ঢাকার একটি প্রতিষ্টান, রূহি ঠাকুর সহ সিলেট অঞ্চলের বহু বাউল তার গানে গেয়ে প্রতিষ্টা পেয়েছেন। মরমী কবি পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন কবি প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। ওল্ডহ্যামে প্রবাসী বাঙ্গালীদের সংগঠিত করা বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত আদায়ে কাজ করেন। তখন লন্ডনে অবস্থানরত বিচারপতি আবুসাঈদ চৌধুরীর সাথে কাজ করেন। সুদুর ওল্ডহ্যাম থেকে লন্ডনে এসে প্রতিটি মিছল মিটিং-এ অংশ নেওয়া সহ আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে প্রতিটি সভা সমিতিতে তিনি পালন করেন অগ্রণী ভূমিকা। একজন মরমী কবি হিসেবে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য মহাকবি সৈয়দ সুলতান সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদ সুলতাশী হাবেলী হবিগঞ্জ তাঁকে ২০০১ সালে পুরস্কার প্রদান করে। মরহুমের দ্বিতীয় পুত্র কবি শাহ মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে তার পিতার রুহের মাগফেরাত কামনায় সকলের দোয়া চেয়েছেন, মরমী কবি ইস্কন্দর মিয়ার মৃত্যুতে গভীর ভাবে শোক প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক-গবেষক মতিয়ার চৌধুরী, গবেষক এডভোকেট মোমিনুল হক, সাংবাদিক হান্নান মিয়া, আওয়ামীলীন নেতা আজিজুর রহমান দাড়া। শোক বার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শোক সমন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থান ব্রিটিশ এমপিদের সতর্ক করে ইউকে আওয়ামীলীগের চিঠি

লন্ডনঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) সংঘাত এবং সন্ত্রাসের সাথে জড়িত অভিযোগ করে বিএনপি চেয়ার বেগম খালেদা জিয়া এবং তার পুত্র দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থানের বিষয়ে ব্রিটিশ এমপিদের সতর্ক করে চিঠি দিয়েছে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ।

যুক্তরাজ্য আওয়ামীলগের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ এমপিদের কাছে লিখা চিঠিতে সন্ত্রাসের পথ পরিহার করে খালেদাকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসতে এবং তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে এমপিদের সহায়তা চাওয়া হয়।

যুক্তরাজ্য আওয়ামীরীগের পক্ষ থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ৬৫০ জন এমপির কাছে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত বুধবার পার্লামেন্টের ডাক ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার কাছে এসব চিঠি পৌঁছে দেন আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আহাদ চৌধুরী, লন্ডন আওয়ামী লীগ নেতা আশিকুল ইসলাম আশিক ও ছাত্রলীগের যুক্তরাজ্য শাখার সহসভাপতি সারওয়ার কবির।

চিঠিতে বলা হয়, ‘খালেদা জিয়া বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। চিকিৎসার অজুহাতে তিনি লন্ডনে বসে দেশবিরোদী ষঢ়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্চেন, তাঁর দল বাংলাদেশকে সন্ত্রাসবাদ ও সংঘাতের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশিল করার পায়তারা করছে, মূলতঃ বিএনপি যে গণতান্ত্রিক পথ পরিহার করে সংঘাদের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তারা করছে তা ব্রিটিশ এমপিদের অবহিত করতেই এই চিঠি।
(সংবাদ বিজ্ঞপিত)

রিদওয়ান মাইশার বিয়ে সম্পন্ন

লন্ডনঃ মোহাম্মদ রিদওয়ান রহমান ও মাইশা মোমতাজ সালামের এর বিয়ে ও ওয়ালিমা গেল সাত আগষ্ট সন্ধ্যায় রমফোর্ডের সিটি প্যাভিলিয়নে সম্পন্ন হয়েছে। বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা গয়াছুর রহমান গয়াছ ও রাজনীতিবিদ মিনা রহমান দম্পতির দ্বিতীয় পুত্র মোহাম্মদ রিদওয়ান রহমানের বিয়েতে বর-কনেকে আশির্বাদ দিতে রাজনীতিবিদ, সাংস্কৃতিক কর্মী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক কমিউনিটি সংগঠক সহ বৃটেনের বাঙ্গালী কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা উপস্থিতি ছিলেন।

লন্ডনে চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মা নীলা চৌধুরীর সংবাদ সম্মেলন

লন্ডন: আজ থেকে ২১ বছর আগে খুনের শিকার চিত্রনায়ক সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছে আবারও এমন অভিযোগ করে এর বিচার দাবি করেছেন লন্ডনে অবস্থানরত তার মা নীলা চৌধুরী।
সম্প্রতি সালমানকে হত্যা করা হয়েছে, সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল এই মামলার অন্যতম আসামী রুবির এমন ভিডিও স্বীকারাক্তির পর আট আগষ্ট মঙ্গলবার বিকেলে লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিচারের দাবী জানান সালমান জননী নীলা চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে নীলা চৌধুরীর দুই ভাই বুলবুল ও জগলুল হায়াতও উপস্থিত ছিলেন।
রুবি’র ভিডিও স্বীকারাক্তি সম্পর্কে মন্তব্য করে নীলা চৌধুরী বলেন ধর্মের ঢুল বাতাসে নড়ে। ২১ বছর ধরে প্রতিনিয়ত আমি বলে আসছি এটি আত্মহত্যা নয়, আমার ছেলেকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু বারবার আমাকে থামিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ছেলে হত্যার বিচার চেয়েছি বলে আমাকেও হুমকি ধামকি এমন কি মেরে ফেলার চেষ্টা হয়।
সালমান শাহ’র মৃত্যু মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে আমলে নিয়ে অবিলম্বে বিচার শুরুর আকুতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্যে নীলা চৌধুরী বলেন, আপনি আপনার পুরো পরিবার হারিয়েছেন, আমি হারিয়েছি আমার ছেলে। পরিজন হারানোর কি কষ্ট তা আমরা দুজনই অনুধাবন করতে পারি। একমাত্র আপনিই পারেন আমার ছেলে হত্যার বিচার আদায় করিয়ে দিতে।
আমেরিকা প্রবাসী রুবিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে এনে আদালতের মাধ্যমে স্বাক্ষ্য গ্রহনের অনুরোধ জানিয়ে নীলা চৌধুরী বলেন, ‘হত্যাকারীদের প্রভাব খর্ব করে একমাত্র প্রধানমন্ত্রীই পারেন এটি সম্ভব করতে’। সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাসহ বিভিন্ন হত্যাকান্ডের বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের প্রশংসা করে সালমান শাহ জননী নীলা বলেন, আমার ছেলে হত্যার বিচারেও এমন সাফল্য আসবে, এটি আমি বিশ্বাস করি। হত্যাকারীদের প্রভাবে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের সব আলামত নষ্ট করা হয়েছে এমন অভিযোগ করে নীলা চৌধুরী বলেন, আমি বারবার আবেদন জানিয়েছি আমার ছেলের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে হত্যকাণ্ড হিসেবে আমলে নিয়ে মামলা পরিচালিত হোক। আমেরিকা প্রবাসী রুবির সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ভিডিও স্বীকারোক্তির পর আমার দাবিই সঠিক প্রমানিত হলো, হত্যামামলা হিসেবে আমলে নিতে এখনতো আর অসুবিধা থাকার কথা নয়। পুত্রের হত্যামামলা নিষ্পত্তি এবং বিচার না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ যেন তাকে মরন না দেন সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রার্থনা করে সালমান জননী বলেন, আমি না পারলে আমার পরবর্তী প্রজন্মও এই বিচার আদায়ে সবসময় স্বক্রিয় থাকবে।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net