শিরোনাম
সেই সব দিনের গল্প

সেই সব দিনের গল্প

IMG_0739

মোহাম্মদ গোলাম মাহদী

(পর্ব-১)

এক বয়সে বকের ছানা চুরি করতে প্রায়ই দল বেঁধে ঝোপঝাড়ওয়ালা পাশের গ্রামে যেতাম। কতবার যে কত ছানা চুরি করেছি তার হিসেব নেই। একবার আট কি নয় দিনের এক ছানা চুরি করে ছিলাম বাঁশের মাথা থেকে। নরম তুলতুলে তার শরীর।মাত্র লোম ওঠা শুরু করেছিল।আমি বাঁশের ঠিক মাথায়। মা বকের দলবল নিয়ে সে কী হুঙ্কার । দূর থেকে বাড়ির মালিকের চীৎকার করে উজাড় করা লুঙ্গির নিচের গালি। যে যার মতো তাড়াহুড়ো করে নেমে এক দৌড় দিতাম বাড়ির দিকে।

বকের ছানার প্রধান খাবার ছিল শামুক। গ্রামের খাল থেকে শামুক কুড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে খাওয়াতে হত।দিনে কয়েক বেলা। কিন্তু শামুক কাটার দা সংগ্রহ করতে যে আমার কী পরিমাণ বিড়ম্বনার স্বীকার হতে হত, আর এই অপরাধে কী পরিমাণ যে মার খেতে হত তা কেবল আমার পাগলাটে শৈশবই জানে। তারপরও বকছানার পেট ভরে তো মন ভরে না। উনার প্রত্যেক বেলা শামুক খেতে বিরক্ত লাগে। মাঝে মাঝে মাছ চাই। ছোট ছোট পুটি মাছ, মলা মাছ, ঢেলা মাছ… আরও কত কী। বাপ রে, কী নবাব আমার!
রাগ হলেও লুকিয়ে লুকিয়ে মাছ মেরে উনাকে খাওয়াতাম, একখান জোয়ান নেশা মিটতো বলে। মাছ মারার অপরাধেও যে কত মার খেয়েছি তাও আমার ঐ শৈশবই জানে (কোনো দিন তাকে পেলে জিজ্ঞেস করে সত্য-মিথ্যা জেনে নিবেন)।

আমাকে নিয়ম করে প্রতিদিন বড়দের চোখ ফাঁকি দিতে হত, শামুক কুড়োতে হত, মাছ ধরতে হত। মার খাওয়ার ব্যাপারটাও বিপরীত নিয়মে হত না, নিয়ম করেই স্বাভাবিক দু্’য়েক বেলা।

এভাবে পাঁচ সাত দিন চলে গেল।উনার এখন লোম ওঠে যাচ্ছে। শরীর আরও বড় আর লম্বা হয়ে গেল। ইতোমধ্যে আমাকে ভাল করে চিনেও নিয়েছেন। দেখলেই মাথা নিচু করে ডানা ঝাপটে খাবার চান। খাঁচা থেকে বের করলেও দৌড় দেন না। শরীর ঘেষে এমন ভাব করেন যেন আমি উনার মাই-বাপ।

সে যত আদরই করতাম না কেন দুষ্টুমি করলে মাঝেমধ্যে আচ্ছা করে বকেও দিতাম কিন্তু। তার দুষ্টুমির ধরন ছিল এমন- খাবার-দাবার নষ্ট করা। পেট ভরে গেলেও অতি আহ্লাদের চোটে বেখেয়ালে তিনি খেতেই থাকতেন, খেতেই থাকতেন। যখন খেতে খেতে গলা পর্যন্ত চলে আসতো,মানে গেলার আর জায়গা থাকতো না তখন বেমালুম সব উগলে ফেলে দিতেন। মানে ‘নষ্ট করলে বাপের গেল, আমার কী?’ -এই টাইপ। রাগ হত, চরম রাগ। দাঁতে দাঁত চেপে যা মনে আসতো মুখ বন্ধ করে তাই ঝেড়ে দিতাম। শাস্তিস্বরূপ খাঁচার নাগালে বিড়াল এনে রাখতাম।

গেল এমনি করে আরও দিন কয়েক। এই কদিনে আমি ছাড়াও আমার দুই ভাইয়ের সাথে ভাল খাতির জমে গেছে তার। আমি স্কুলে থাকাকালীন তারা তাকে খাবার দিত। এ থেকেই সখ্যতা। এতে আমিও খুশি। কিছু চাপ তো কমলো। তারাও দেখছি চাচার দায়িত্ব পালনে ভালই আগ্রহী। তিন ভাইয়ের যত্নে তিনি তখন রীতিমত আহ্লাদি সোনা।

এবার তার ডানা লোমের চাপে ধীরে ধীরে বেশ ভারী হচ্ছে। শরীর জুড়ে কম বয়সি নরম নরম লোম। ছুঁলে বেশ ভালই লাগে। মায়া বাড়ে। আবার ছুঁতে ইচ্ছে করে।

(চলবে…)

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net