শিরোনাম
সেই সব দিনের গল্প (পর্ব-২)

সেই সব দিনের গল্প (পর্ব-২)

IMG_0739

 

 

 

মোহাম্মদ গোলাম মাহদী

কিছুদিন হলো আপার বিয়ে হয়েছে। দুলাভাইয়ের আত্মীয়স্বজনের বাড়ি থেকে একের পর এক ছোট ছোট দাওয়াত। বেশির ভাগ দাওয়াতেই আপার সফর সঙ্গী আমি।এবার আসলো দুলাভাইয়ের ঢাকাস্থ খালার বাসা থেকে।বড় দাওয়াত। কমপক্ষে ১০ দিন না থাকলে খালা নাকি খুব রাগ করবেন। এদিকে আপার এতো লম্বা সফরে যাওয়ার ইচ্ছে নেই। আমাকে সঙ্গে দিবেন বলে সবাই আপাকে অনেক বুঝিয়েসুঝিয়ে রাজি করালেন। চিড়িয়াখানাসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরতে পারবো ভেবে আমিও মহাখুশি। তাছাড়া জীবনে প্রথমবারের মত ঢাকা যাওয়ার সুযোগ। কেউ কী মিস করে? আমার জন্ নতুন কাপড়চোপড়,জুতা কেনা হল। আপাও অনেক কেনাকাটা করলো। ঢাকা যাওয়ার জন্য আমরা একদম প্রস্তুত এখন যেতে বললে এখনই চলে যাই এই অবস্থা। কিন্তু ১০দিনের লম্বা সফরে ঢাকা গেলে আমার বকের ছানার কী হবে? কে খাওয়াবে তাকে এতদিন? বিরাট চিন্তায় পড়ে গেলাম। বুদ্ধি দিতে আম্মাকে বললাম ভাই দুজনের কাছে রেখে যাওয়ার বুদ্ধি দিলেন আম্মা। কিন্তু তারা কী মানবে? মানানোর দায়িত্বও আম্মার। আম্মা খুব কম সময় ব্যয় করেই দায়িত্ব পালনে ৯৯ ভাগ সফল হলেন। ভাইয়েরা ছানার লালন পালনে রাজি তবে একটা শর্তে। মালিকানায় সমান সমান ভাগ দিতে হবে। প্রথমে এমন ফাজিল মার্কা শর্ত শুনে রাগ করলেও শেষমেশ ঢাকা যাওয়ার স্বপ্নের কাছে আমার বিড়াল মার্কা রাগটা হেরেই গেল। সব মেনে নিয়ে তখন ছানার কাছে সারাদিন ঘুরঘুর করতাম। আদর করে দিতাম। অতি আদরে আমার প্রতি আপার আদরের ব্যঘাত ঘটতো। শরীরে মাছ আর শামুকের বিদঘুঁটে গন্ধে আমার নতুন বিবাহিত আপা ডাইনির মত মুখ করে আচ্ছা মত চুল টানতো। কান টেনে বাথরুমে নিয়ে শরীর ঘষার নামে চামড়া ছিলতো। কেয়া সাবান ঢলতে ঢলতে মানুষ করার চেষ্টা করতো। আমি মানুষ হতাম না। কিছুক্ষণ পর পরই আবার বকবাবা হয়ে বক ছানার কাছেই যেতাম। ফলে সেই গন্ধ, সেই কানমলা, সেই চামড়া ছেলা গোসল, আর সেই মার আমার সহ্য করতেই হত। অতঃপর একদিন ট্রেনের টিকিট হাতে দুলাভাই হাজির। আমি মানুষের মত গোসলটোসল করে কাপড়চোপড় পড়ে সেন্টবেন্ট মেরে আপার হাত ধরে ঢাকার উদ্দেশ্যে দিলাম রওয়ানা। বকছানা রইল বাড়ি।

( চলবে… )

 

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net