শিরোনাম
প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রবাসীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই -লন্ডনে আইনমন্ত্রী

প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রবাসীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই -লন্ডনে আইনমন্ত্রী

মতিয়ার চৌধুরীঃ প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে প্রবাসীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোন কারণ নেই, শেখ হাসিনার সরকার এমন কোন সিদ্ধান্ত নেবে না যাতে প্রবাসীরা ক্ষতিগ্রস্থ হন। একটি মহল এই বিষয়টিকে নিয়ে ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। এ মন্তব্য আইন বিচার ও সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হকের। গতকাল ১৪মে রোববার দুপুরে লন্ডন্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের হল রুমে বৃটেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে প্রস্থাবিত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে মতবিনিময় কালে আইনমন্ত্রী এমন্তব্য করেন। তিনি বলেন প্রবাসীদের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয় এমন কয়েকটি ধারা খসড়া থেকে বাদ দেয়া হবে। আর একারনেই আজকের এই মতাবনিময়। ২০১৫ সালের প্রস্থাবিত দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বৃটেনে বসবাসরত সচেতন নাগরিকবৃন্দ ও প্রবাসীদের কয়েকটি সংগঠন প্রস্থাবিত আইনের কয়েকটি ধারা বাতিলের দাবী জানিয়ে বিভিন্ন সময় লন্ডনস্থ বাংলাদেশে মিশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও আইন মন্ত্রী বরাবরে স্মরকলিপি প্রদান করে।
আইনটির বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রবাসীদের মতামত ও উদ্বেগের কথা জানতে লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এতে প্রবাসীরা আইনটির বিভিন্ন ধারা নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা সরাসরি মন্ত্রীকে জানালে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। মতবিনিময সভায় উপস্থিত প্রবাসী নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্যে করে আইন মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা একটি বিষয় মনে রাখবেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অন্যরকম। তিঁনি জীবনে অনেক কষ্ট করেছেন এবং সাধারন জনগনের সেবায় নিজের জীবন বিলিয়ে দিচ্ছেন’। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের জেল থেকে ছাড়া পাবার পর লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে প্রথম এসেছিলেন, তিনি বলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রবাসীদের ভোটাধিকার সহ দ্বৈত নাগরিকত্ব দিয়েছিনে। তার কন্যা এমন কোন সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেনা যাতে প্রবাসীরা হয়রানির শিকার হন। আইনমন্ত্রী আনিসুল আরো বলেন বিএনপি-জামাত সরকার কারও সাথে কোন আলোচনা ছাড়াই একতরফা ভাবে ২০০৫ সালে এই নাগরিকত্ব আইনের এই খসড়া প্রনয়ণ করে, এমনটি স্মরণ করিয়ে দিয়ে আইন মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজ সবার সাথে আলোচনা করে, এটাকে কার্যকরী রূপ দিতে যাচ্ছি’। এই আইনে প্রবাসীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার মত এখন আর কোন ধারা নেই। ব্যারিষ্টার আনিসুল হক বলেন, যে ২/১ টি ধারা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি ছিলো তা বাদ দেয়া হয়েছে’। প্রবাসীদের এই উদ্বেগ লন্ডন হাইকমিশন বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীর অফিস, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় ও তাঁকে জানিয়েছে এমন মন্তব্য করে আইন মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধান মন্ত্রী প্রবাসীদের এই উদ্বেগ আমলে নিয়ে বিষয়টি সম্পর্কে বারবার আমাদের সাথে কথা বলেছেন, আইনের খসড়া চূড়ান্ত করার আগে লন্ডনে এসে প্রবাসীদের সাথে কথা বলতে আমাদের পরামর্শ দিয়েছেন। মূলত তাঁর নির্দেশেই আমাদের আজকে লন্ডনের এই মতবিনিময়। আইন মন্ত্রী বলেন, ২০০৫ সালে তৈরী করা নাগরিকত্ব আইনের অনেক ধারাই আমরা বাদ দিয়েছি। প্রবাসী প্রজন্ম সব সময়ই বাংলাদেশের নাগরিক থাকবে, দ্বৈত নাগরিক হতে তাদের কোন বাঁধা নেই। তিঁনি আরো বলেন ‘দ্বৈত নাগরিকত্ব আইন কোন ভাবেই প্রবাসীদের স্বার্থ খর্ব করবে না, শুধুমাত্র প্রজাতন্ত্রের কিছু চাকুরীজীবি ছাড়া’। আইন মন্ত্রী বলেন, বাস্তবতার প্রেক্ষিতেই নাগরিকত্ব আইন প্রয়োজন, আমরা যে ভিত্তি স্থাপন করলাম, তা ভবিষ্যতে বড় কোন পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করার প্রয়োজন হবে না। এ আইন সকল বাংলাদেশী ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের সমঅধিকার দেবে। এ আইনের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সম্পত্তির অধিকার কোন ভাবেই ক্ষুন্ন হবে না ।
অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ডাঃ দীপু মনি এমপি, হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন, মিনিষ্টার প্রেস সাংবাদিক নাদিম কাদির,লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনের ফাষ্ট সেক্রেটারী মনিরুল ইসলাম কবীর, সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ সভাপতি সুলতান শরীফ, সহসভাপতি জালাল উদ্দিন, সহসভাপতি শামসুদ্দিন মাষ্টার, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীদের সহসভাপতি হরমুজ আলী,সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুক, সত্যবাণীর প্রধান সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা, সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী, সাংবাদিক আনসার আহমদ উল্রাহ, যুক্তরাজ্য যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক জামাল খান, নাগরিকত্ব আইনে প্রবাসী স্বার্থ বিরোধী ধারার প্রথম প্রতিবাদকারী ডা: জাকি রেজওয়ানা আনোয়ার, ব্যারিস্টার নজির আহমেদ, কমরেড মশুদ আহমেদ, কমিউনিটি নেতা আলহাজ্ব আলাউদ্দিন আহমদ, মাহবুব হোসেন ও আব্দুল কাইয়ুম কয়সর, ব্যারিস্টার এনামুল হক, আলহাজ্ব নাসির আহমদ, ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী,চ্যানেল আই ইউরোপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরী শোয়েব, এটিএন বাংলার সিই-ও হাফিজ আলম বক্স, বেতার বাংলার নাজিম চৌধুরী, ব্যারিস্টার অনুকুল তালুকদার ডালটন, বাংলাদেশ সেন্টারের পক্ষে জাহাঙ্গির খান, জাকির হোসাইন, আব্দুল কাইয়ুম, ব্যারিস্টার তাকের চৌধুরী সহ বাংলাদেশী কমউনিটির বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন। নাগরিকত্ব আইনের কোন কোন ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানালেও নতুন এই প্রস্তাবিত আইনটি সময়ের দাবী বলে এর প্রশংসা করেন মতবিনিময় সভায় আগত প্রবাসী নেতৃবৃন্দ। প্রবাসী নেতৃবৃন্দ লন্ডনস্থ বাংলাদেশ মিশনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net