শিরোনাম
লন্ডনে বহুতল ভবনে অগ্নিকান্ড এক বাঙ্গালী পরিবার  এখনও  নিখোঁজ

লন্ডনে বহুতল ভবনে অগ্নিকান্ড এক বাঙ্গালী পরিবার এখনও নিখোঁজ

লনlondon fire-2্ডন প্রতিনিধিঃ ওয়েষ্ট লন্ডনের লাটিমার রোডের বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক বাঙ্গালী পরিবার এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে তাদের আত্মীয়রা জানিয়েছেন। এখনো ২৪ তলা এই ভবনটিতে অসংখ্য মানুষ আটকা পড়ে আছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এর মধ্যে এক বাঙ্গালী পরিবারও নিখোঁজ রয়েছে। নিখোঁজ পরিবারটি হলো বৃহত্তর সিলেটের মৌলভীবাজারের বাসিন্দা কমরু মিয়া (৯০) ভবনটির একটি ফ্ল্যাটে স্বপরিবারে বসবাস করতেন। কমরু মিয়াসহ তাঁর স্ত্রী, দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের সন্ধান পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনরা।

কমরু মিয়ার ভাতিজা চেলসি এলাকার বাসিন্দা আবদুর রহিম বুধবার সংবাদমাধ্যমকে জানান আগুন লাগার পর পরই রাতে তার চাচাত বোনের সঙ্গে তার টেলিফোনে কথা হয়েছিল। তখন তিনি বাঁচার আকুতি জানাচ্ছিলেন।
আব্দুর রহিম বলেন “রাত আড়াইটার দিকে চাচাত বোন হাসনা বেগম (তানিমা) সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। তিনি বলেন তার আকুতি এখনও আমার কানে ভাসে। সে বলছিল, ‘আমরা সবাই এখন বাথরুমে, আমাদের বের হওয়ার কোনো উপায় নেই, দোয়া করেন আমাদের যেন কষ্টে মৃত্যু না হয়’।”আগামী ২৯ জুলাই তানিমার বিয়ের দিন ঠিক ছিল জানিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে রহিম বলেন, “এ নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি ছিল আমাদের। বিয়ের পর বাংলাদেশেও তাদের যাওয়ার কথা ছিল।”তানিমার হবু বর ব্রিটিশ যুবক লেস্টারও অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে রাতে গ্রিনফেল টাওয়ারে ছুটে আসেন বলে জানান রহিম।
মৌলভীবাজারের কৈয়াছড়া গ্রামের ৯০ বছর বয়সী কমরু মিয়া বছর খানেক আগে সপরিবারে গ্রিনফেল টাওয়ারে উঠেছিলেন, অগ্নিকাণ্ডে পর ভবনটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।কমরুর বড় ছেলে আব্দুল হাকিম তার স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে এনফিল্ডে আলাদা বাসায় থাকেন। অন্য দুই ছেলে আব্দুল হামিদ, আব্দুল হানিফ ও মেয়ে তানিমা বাবা-মার সঙ্গে থাকেন।তাদের কারও মোবাইল ফোনেই রাত আড়াইটার পর থেকে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে আব্দুর রহিম জানান। রহিম বলেন, “রাত সোয়া ১টার দিকে তানিমার ফোনে আগুন লাগার খবর পাই। গাড়ি নিয়ে ২০ মিনিটের মধ্যে যাই গ্রেনফেল টাওয়ারের সামনে, তখন সেখানে আগুন জ্বলছিল। হাকিমও ততক্ষণে চলে আসে।”এরপর রাত আড়াইটা পর্যন্ত তানিমার সঙ্গে কথা বললেও তারপর থেকে তারসহ অন্যদের ফোন বন্ধ পাচ্ছেন তিনি।হাকিমকে নিয়ে সকাল ৮টা পর্যন্ত ভবনের সামনেই ছিলেন বলে জানান রহিম। পরে দুজনে বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ নিয়েও স্বজনদের পাননি।পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন জানিয়ে রহিম বলেন, তারাও এখনও কোনো খবর দিতে পারেনি।রহিম বলেন, ওই ভবনটিতে আরও দু-একটি বাঙালি পরিবার থাকেন বলে চাচার কাছে শুনেছিলেন তিনি। তবে কারও সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তিনি জানেন না।আবাসিক ওই ভবনের বাসিন্দাদের বেশিরভাগই আরব ও আফ্রিকান। এযাবত ১২ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়ে পুলিশ, তবে এযাবত ৬৪জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, এদের বেশীর ভাগেরই অবস্থা আশংকাজনক। এখনও উদ্ধার অভিযান চলছে, পুলিশ জানিয়ে এই ভবনটিতে ছয়শ লোক বাসবাস করতেন।
১৯৭৪ সালে নির্মিত ২৪ তলা এই ভবনে দেড়শর মতো আবাসিক ফ্ল্যাট ছিল। ১৪২ নম্বর ফ্ল্যাটে মৌলভীবাজারের কমরু পরিবার থাকতেন বলে তার স্বজনরা জানান। অন্য দুই বাঙ্গালী পরিবাবের বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net