শিরোনাম
লর্ড কারলাইলের আয়োজনে লন্ডনে বাংলাদেশ বিষয়ক সেমিনার  ‘‘টেররিজম এন্ড দি রোল অব  ল’’

লর্ড কারলাইলের আয়োজনে লন্ডনে বাংলাদেশ বিষয়ক সেমিনার ‘‘টেররিজম এন্ড দি রোল অব ল’’

লন্ডন প্রতিনিধিঃ লন্ডনে লর্ড সভার সদস্য লর্ড কারলাইলে ডাকা বাংলাদেশ বিষয়ক সেমিনার ‘‘টেররিজম এন্ড দি রোল অব ল’’ একপক্ষের বর্জন এবং আমন্ত্রিত অতিথীদের বেশ কয়েকজনের অনুপস্থিতির কারণে একতরফা বক্তব্যের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করা হয়। গতকাল ১৮ জুলাই ওয়েস্ট মিনিস্টারের হাউজ অব লর্ডসে মিলব্যাংক হাউজের আর্চ বিশপ রুমে বিকেল সাড়ে চারটায় শুরু হয়ে সন্ধ্যে সাড়ে ছয়টায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১৫মিনিট আগেই শেষ করা হয়। সেমিনারে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল থেকে স্পীকার হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপষ্টো ড. মশিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গহর রিজভী ও সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি এমপিকে। তারা সকলেই সেমিনার বয়কট করেন। এছাড়া আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে আরো উপস্থিত হননি কয়েকজন ব্রিটিশ এমপি, লর্ড ও বেশ কয়েকজন পর্যবেক্ষক। তারপরেও যথা সময়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। শুরুতেই আয়োজক লর্ড কারলাইল বলেন, বাংলাদেশ ব্রিটেনের একটি বন্ধুপ্রতীম এবং কমনওয়েলথ এর একটি উন্নয়নশীল দেশ, অন্যান্য সময়ে সাংগঠনিক ভাবে ব্যানারের মাধ্যমে এর আয়োজন করা হলেও এই আয়োজনটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত। এই মাত্র জানতে পারলাম, বাংলাদেশ মিশন লন্ডন থেকে জানানো হয়েছে আমন্ত্রিত অতিথিরা আসতে পারবেন না। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপি‘র স্টেনন্ডিং কমির সদস্য আমির খছরু মাহমুদ চৌধুরীকে বক্তব্য রাখতে বলা হলে তিনি বলেন, বাংলাদেশে দু‘রকমের টেররিস্ট রয়েছে একটি হলো যা ধর্মীয় উগ্রবাদের দ্বারা সমগ্র বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে, অন্যটি হলো বাংলাদেশের সরকারের সৃষ্ট। তিনি বলেন, এই সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যে বাংলাদেশে সন্ত্রাস এবং উগ্রবাদকে লালন করছে। এবিষয়ে তিনি ভারতের কয়েকটি দেনিক এবং নিউইয়র্ক টাইমস এর উদ্ধৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বালাদেশে প্রতিদিনই মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে, মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই, বিচার ব্যবস্থা সহ সব কিছু করা হচ্ছে দলীয়করণ। বিএনপির সহকারী আন্তর্জাতিক বিষযক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন গেল কয়েক বছর ধরে ক্রমাগত ভাবে বাংলাদেশ গণতন্ত্র নেই লংঘিত হচ্ছে মানবাধিকার, দেশে নেই আইনের শাসন, প্রতিদিনই বাংলাদেশে সংখ্যালঘুর ওপর নির্যাতন চলছে। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ২৬১টি সংখ্যালঘু পরিবারার বিভিন্ন ভাবে নির্যাতিত হচ্ছে ২০১৭ সালে তা হয়েছে দ্বিগুণ, সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে এবস নির্যাতনের পেছনে সরকারের এমপি, মন্ত্রী ও দলের লোকেরা জড়িত, কোনটিরই বিচার হচ্ছেনা। তিনি রামু এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, এসবস্থানে সংখ্যালঘুদের নির্যানের পেছনে সরকার দলীয় এমপিরা সরাসরি জড়িত। তিনি বলেন, বাড়ছে শিশু শ্রম, র‌্যাবের হাতে প্রতিদিনই মানুষ মরছে, তিনি বলেন দেশের আইন শৃঙখলা পরিস্থি নাজুক । বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সমপাদক হুমায়ুন কবীর বলেন এই সরকার গণতন্ত্রকে কুক্ষিতগ করে রেখেছে, সর্বত্র দুর্নিতি এমন পর্য্যায় পৌছেছে সরকার দলের সকলেই দুর্নিতির সাথে জড়িত। তিনি বলেন এই সরকারের জামাতিদের নির্যাতন করছে । সরকার জামাতের ব্যাংকিং প্রতিষ্টান ইসলামী ব্যাক তাদের কৃর্তত্বে নিয়ে গেছে, মন্ত্রী এমপি সকলেই দেশ থেকে বিদেশে অর্থপাচার করছে। এই দুই বছরে বাংলাদেশ থেকে ৯.৬বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে। বাংলাদেশ পলিসি ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের মিঃ ডরিন মিহা বলেন বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্টানিক রুপ দিতে হলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সকলকেই কাজ করতে হবে। হিউম্যান রাইট ওয়াচের সাউথ এশিয়া ডিরেক্টর মিস মানসী গাংগুলী বলেন বাংলাদেশে গুম খুনের সংখ্য বৃদ্ধি পেয়েছে, সরকার উগবাদের সাথে আপোষ করেছে, উগ্রবাদীদের নির্দেশে আদালত চত্তর থেকে ষ্টেচু সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে, সরকারের আশ্রয় প্রশ্রয়ের কারনে বাংলাদেশে উগ্রবাদীদের দারা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্পৃতি বিনষট হওয়ার আশংকা প্রকাশ করেন। বিসিসি ব্রডকাস্টার উদয় শংকর দাশ বলেন প্রতিদিনই দেশে সংখ্যালঘুরা নির্যাতিত হচ্ছে বিচার না হওয়ার কারনে এর প্রকোপ বাড়ছে। আমন্ত্রিত অথিতিদের মধ্যে আরো উপস্থিত হননি, লিব ডেমের লর্ড ষ্টুনেল, কনজারভেটিবের বরোনেস ব্রেডি, কনজারভেটিভের এ্যান মেইনএমপি, নিকল ল্যামবার্ট, সহ আরো অনেকে।
আয়োজক লর্ড কারলাইলের বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি এমন প্রশ্নের জবাবে আমির খছরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন এবংগণতন্ত্রে বিশ্বাসী, তিনি বলেন সকল দলের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি অবশ্যই অংশ নেবে। তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। দর্শক গ্যালারি থেকে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক বলেন, আমরা ব্রিটিশ বাংলাদেশিরাও এই সরকারের কাছে নিরাপদ নয়, যারা সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন, দেশে গেলে তাদের নির্যাতিত হতে হয়। তিনি বলেন বেশ কয়েকজন ব্রিটিশ বাংলাদেশিকে এই সরকার অকারণে আটকে রেখেছে।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net