শিরোনাম
বাহুবলের সুন্দ্রাটিকি গ্রামের  চার শিশু হত্যা মামলায় তিন জনের ফাঁসির আদেশ

বাহুবলের সুন্দ্রাটিকি গ্রামের চার শিশু হত্যা মামলায় তিন জনের ফাঁসির আদেশ

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের চাঞ্চল্যকর চার শিশু হত্যা মামলার ঘোষিত রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। তাদের অভিমত, সকল আসামীরা হত্যা পরিকল্পনার সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল, যা তাদের ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতেও প্রকাশ পেয়েছে। এছাড়া আদালতের সাক্ষ্যতেও তা প্রমাণ করা গেছে। এরপরেও মূল আসামী আব্দুল আলী বাগালসহ তিন জন খালাস পেয়েছেন। এ কারণে রায়ে সন্তোষ হতে পারেননি তারা।
বুধবার বেলা ১১টা ৩৩ মিনিটে সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের বিচারক মকবুল আহসান আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে তিন জনকে ফাঁসির দন্ড এবং আরো ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া, আরো দুই আসামীকে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড একই সাথে ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করা হয়। তাছাড়া, অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় তিনজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন আদালত।
রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতের পিপি কিশোর কুমার কর সাংবাদিকদের জানান, এ রায়ে সন্তোষ নন তারা। তাদের আশা ছিল সকল আসামীর সর্বোচ্চ শাস্তি হবে। এ কারণে রায়ের পুরো কপি হাতে পাওয়ার পর পর্যালোচনা করে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন বলেও জানান তিনি।
ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছে-রুবেল মিয়া, আরজু মিয়া ও উস্তার মিয়া। ৭ বছরের কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছে-জুয়েল মিয়া ও শাহেদ। মামলার অপর আসামী আব্দুল আলী বাগাল, বাবুল মিয়া ও বিলালকে খালাস দেয়া হয়েছে।
এর আগে এ মামলায় কারাগারে থাকা আসামি পঞ্চায়েত প্রধান আব্দুল আলী বাগাল, তার দুই ছেলে রুবেল মিয়া ও জুয়েল মিয়া, তার সেকেন্ড ইন কমান্ড আরজু মিয়া ও শাহেদ মিয়াকে আদালতে তোলা হয়। সকাল ১০টা ৪১ মিনিটে প্রিজন ভ্যানে করে তাদের আদালতে নিয়ে আসা হয়।
আসামিদের মধ্যে বাচ্চু মিয়া নামের একজন র‌্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা যান। আর এ মামলার আসামি উস্তার মিয়া, বাবুল মিয়া ও বিল্লাল পলাতক রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরে ১২ ফেব্রুয়ারি বিকালে বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সুন্দ্রাটিকি গ্রামের আবদাল মিয়া তালুকদারের ছেলে মনির মিয়া (৭), ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), আব্দুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) ও আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০)।
মনির সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে, তার দুই চাচাত ভাই শুভ ও তাজেল একই স্কুলে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ত। আর তাদের প্রতিবেশী ইসমাইল ছিল সুন্দ্রাটিকি মাদ্রাসার ছাত্র।
নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ইছাবিল থেকে তাদের বালিচাপা লাশ উদ্ধার হলে দেশজুড়ে আলোচনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় বাহুবল থানায় ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন মনির মিয়ার বাবা আবদাল মিয়া।
২০১৬ বছরের ২৯ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির তৎকালীন ওসি মোক্তাদির হোসেন নয়জনের বিরুদ্ধেই আদালতে অভিযোগপত্র দেন। সুন্দ্রাটিকি গ্রামের দুই পঞ্চায়েত আবদাল মিয়া তালুকদার ও আব্দুল আলী বাগালের মধ্যে পারিবারিক বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে মামলার তদন্ত ও আসামিদের দেয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ জানিয়েছে।
হবিগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এ বছরের ৭ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার কার্য শুরু হয়। হবিগঞ্জ আদালতে মামলার ৫৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৫ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়। পরে গত ১৫ মার্চ মামলাটি সিলেট বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হলে আরও ৭ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net