শিরোনাম
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ২৬১ জনের  অপরাধের তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ২৬১ জনের অপরাধের তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের সাথে সম্পৃক্ত থাকা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ২৬১ জনের তালিকা ও অপরাধের তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেগুনবাগিচার স্বাধীনতা হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনাকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিচারের দাবিতে ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন’ নামের সংগঠন গঠন করেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান। এরপর পালিয়ে যাওয়া পাকিস্তানি সেনাদের বিচারের দাবিতে ২১ দফা কর্মসূচী পালন করে আসা সংগঠনটি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
মাহবুব উদ্দিন বীরবিক্রমকে আহবায়ক, ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন বীর উত্তম ও হাবিবুল আলম বীর প্রতীককে সদস্য করে গঠন করা ওই তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ কমিটিই ২৬১ জন পাকিস্তানি সেনার যুদ্ধাপরাধের তথ্য প্রকাশ করলো।
এতে জেনারেল ইয়াহিয়া খান, জেনারেল আবদুল হামিদ খান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল পীরজাদাসহ শীর্ষস্থানীয় অনেক পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে মাহবুব উদ্দিন বীরবিক্রম বলেন, আমরা সর্বসাকুল্যে ২৬১ জনের বিরুদ্ধে যে তথ্য সংগ্রহ করেছি তা জাতির সামনে উপস্থাপন করছি। এদের মধ্যে ৪৩ জন সিনিয়র পাকিস্তানি জেনারেল, মেজর জেনারেল ব্রিগেডিয়ার, লেফটেন্যান্ট কর্নেল এবং দু-একজন বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও আছেন।
তিনি বলেন, হামুদুর রহমান কমিশন রিপোর্টেই এদের বিরুদ্ধে অনেক স্বাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া পাকিস্তানি উচ্চ পদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের লিখিত পুস্তকে এই চিহ্নিত সামরিক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে অনেক স্বাক্ষ্য বিধৃত আছে।
মাহবুব উদ্দীন বলেন, আমরা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অপরাধের যে ভয়াবহতা লক্ষ্য করছি তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে, তাদের অপরাধের বিপরীতে এটিই যথেষ্ট নয়। তথ্য সংগ্রহ কমিটির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রাপ্ত তথ্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কমিটির নিকট অর্পণ করা হবে।
এ সংগঠনের আহ্বায়ক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। ৬ জনের ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। অনেকগুলো মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বর্বর পাক সেনাদের বিচার ত্বরান্বিত করা এবং তাদের কাছে বাংলাদেশের পাওনা ৩৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লড়াইয়ে সকলকে এক হতে হবে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের পাক হানাদার ও তাদের এদেশীয় দোসর-রাজাকার-আলবদরদের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ ও সৃষ্টি করতে হবে। পাকিস্তানিরা মুক্তিযুদ্ধের সময় যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, লুট করেছে সেজন্য এখনো তারা বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চায়নি। তাদেরকে অবশ্যই তাদের অপকর্ম ও নৃশংসতার জন্য বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংসদ শিরীন আক্তার, ইসমত কাদির গামা, আলাউদ্দিন মিয়া, ক্যাপ্টেন সাহাবুদ্দিন বীর উত্তম, হাবিবুল আলম বীর প্রতীক প্রমুখ।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net