শিরোনাম
প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরমী কবি শাহ ইস্কন্দর মিয়া আর নেই

প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরমী কবি শাহ ইস্কন্দর মিয়া আর নেই

লন্ডনঃ প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ওল্ডহ্যাম শহরের বাসিন্দা মরমী কবি বহুগ্রন্থ প্রণেতা পীর শাহ ইস্কন্দর মিয়া আর নেই (ইন্নালিল্লাহি রাজিউন), ১৪ আগষ্ট সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ছয় ঘটিকায় তিনি বাংলাদেশে গ্রামের বাড়ী জগন্নাথপুর উপজেলার আলাগদি তেরাউতিয়া গ্রামে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন, মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। মৃত্যুকালে তিনি চার পুত্র এক কন্যা নাতি নাতনি সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ বাদ আসর গ্রামের বাড়ীতে তাঁকে পারিবারিক গোরস্থানে সমাহিত করা হয়। আজীবন জাতির জনকের আদর্শের অনুসারী ইস্কন্দর মিয়া প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠন হিসেবে কাজ করেন। গান গেয়ে প্রবাসে মুক্তিযদ্ধের ফান্ডসংগ্রহ সহ লন্ডনে প্রতিটি মিছিল মিটিংয়ে অগ্রসৈনিকের ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৩৬ সালের ১৫জুন জগন্নাথপুরের পাইলগ্রাও ইউনিয়নের তেরাউতিয়া মোকামবাড়ীতে জন্মগ্রহন করেন। ছোট বেলা থেকেই গান বাজনা লেখালেখির প্রতি তার আগ্রহ ছিল। পাইলগাঁও ব্রজনাথ উচ্চবিদ্যালয়ে অধ্যনকালীন সময় ময়মনসিংহের সাধক জয়নাল আবেদিন পাঠানের কাছে গানের গানের গুঢ়-তত্ত্ব, রাগ-রাগিনী ও বাজনার উপর তালিম নেন। যৌবন কালে গান-বাজনার পাশাপাশি মঞ্চ নাটক এবং যাত্রাপালায় অভিনয়ও করেছেন। জীবনে অনেক বাউল গান গেয়েছেন। এলাকার মানুষের মতে যৌবনে বাউল গান এবং যাত্রা পালার ভিশাশনি ছিলেন পীর ইস্কন্দর মিয়া। তিনি ১৯৬৩ সালে যুক্তরাজ্যে আগমন করেন, বৃটেনে অভিবাসী হওয়ার পরও তাঁর উৎসাহ উদ্দীপনায় ভাটা পড়েনি। যখন তিনি বিলেতে আসেন তখন ভরা যৌবন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে বন্ধ-ুবান্ধবদের নিয়ে সঙ্গীতচর্চা অব্যাহত রাখেন। বন্ধু-বান্ধব মিলে চিত্ত বিনোদনের জন্য গানের আসরে মিলিত হন নিয়মিত। এশকের আশিক হয়ে প্রাণের কথা গানে লিখতে শুরু করেন। ‘‘সবুজ আসর নামে‘‘ একটি গানের সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন ওল্ডহ্যামে। পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়ার তের খন্ডে রচিত গানের সংখ্যা দেড় হাজারেরও অধিক। ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ইসকন্দর গীতি প্রথম খন্ড প্রকাশিত হয় ১০১টি গান নিয়ে দ্বিতীয় খন্ড প্রকাশিত হয় ১১৪টি গান নিয়ে। পরে সংশোধিত আকারে ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে ১০১টি গান নিয়ে ইসকন্দর গীতি দ্বিতীয়বার পুনঃমুদ্রণ করা হয়। ইসকন্দর গীতি দ্বিতীয় ও তৃতীয় খন্ড একত্রে প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালের ফেব্রƒয়ারী মাসে। দ্বিতীয় খন্ডে গানের সংখা ১১৪টি ও তৃতীয় খন্ডে গানের সংখ্যা ১১৫টি। ইসকন্দর গীতি চতুর্থ ও পঞ্চম খন্ড একত্রে প্রকাশিত হয় ২০০৩ সালের মে মাসে। চতুর্থ খন্ডে গানের সংখ্যা ১৩৩টি আর পঞ্চম খন্ডে গানের সংখ্যা ১৪৫টি। ২০০৭ সালে তার লিখা গান নিয়ে দুটি গানের সিডি প্রকাশ করে ঢাকার একটি প্রতিষ্টান, রূহি ঠাকুর সহ সিলেট অঞ্চলের বহু বাউল তার গানে গেয়ে প্রতিষ্টা পেয়েছেন। মরমী কবি পীর মোহাম্মদ শাহ ইসকন্দর মিয়া প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠক। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন কবি প্রবাসে মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন। ওল্ডহ্যামে প্রবাসী বাঙ্গালীদের সংগঠিত করা বাংলাদেশের পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত আদায়ে কাজ করেন। তখন লন্ডনে অবস্থানরত বিচারপতি আবুসাঈদ চৌধুরীর সাথে কাজ করেন। সুদুর ওল্ডহ্যাম থেকে লন্ডনে এসে প্রতিটি মিছল মিটিং-এ অংশ নেওয়া সহ আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে প্রতিটি সভা সমিতিতে তিনি পালন করেন অগ্রণী ভূমিকা। একজন মরমী কবি হিসেবে সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য মহাকবি সৈয়দ সুলতান সাহিত্য ও গবেষণা পরিষদ সুলতাশী হাবেলী হবিগঞ্জ তাঁকে ২০০১ সালে পুরস্কার প্রদান করে। মরহুমের দ্বিতীয় পুত্র কবি শাহ মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে তার পিতার রুহের মাগফেরাত কামনায় সকলের দোয়া চেয়েছেন, মরমী কবি ইস্কন্দর মিয়ার মৃত্যুতে গভীর ভাবে শোক প্রকাশ করেছেন সাংবাদিক-গবেষক মতিয়ার চৌধুরী, গবেষক এডভোকেট মোমিনুল হক, সাংবাদিক হান্নান মিয়া, আওয়ামীলীন নেতা আজিজুর রহমান দাড়া। শোক বার্তায় তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা ও শোক সমন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net