শিরোনাম
সুস্থ থাকতে চাইলে রোজায় যা খাবেন, যা খাবেন না

সুস্থ থাকতে চাইলে রোজায় যা খাবেন, যা খাবেন না

পবিত্র রমজান সাধনার মাস।  রমজান মাসের ফজিলত অন্যান্য মাসের চেয়ে অনেক বেশি।  এ মাসে মহান আল্লাহ পাক আল কোরআন নাযিল করেছেন।  এ মাসের শবে ক্বদরের রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম।  এ মাসে সারাদিন উপোস থাকার পর মানুষের খাদ্য চাহিদা বাড়ে।  শারীরিকভাবেও কিছুটা দুর্বল অনুভুত হয়।

রমজান এলে আমাদের খাদ্যাভাস থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই কিছুটা পরিবর্তন আসে।  তাই স্বাস্থ্য নিয়ে কিছুটা জটিলতা হতে পারে।  তবে খাদ্য ও স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকলে এসব সমস্যা এড়িয়ে চলা সম্ভব।

রমজানে আমাদের নতুন রুটিনে খাবার খেতে হয়।  মেনুতেও চলে আসে অনেকটা বৈচিত্র্য।  অনেক সময় প্রথম প্রথম নতুন খাদ্যাভ্যাসে শরীরের ওপর বিরুপ প্রভাবও পড়তে পারে।  যে কারণে অনেকেরই আবার অসুস্থ হয়ে বাকি রোজাগুলো ঠিকমত পালন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।  এর মূলে রয়েছে খাওয়া-দাওয়া।

রমজানে যে ধরনের হতে পারে

কোষ্ঠ কাঠিন্য।  অতিরিক্ত ভাজাপোড়া জিনিস খাওয়া, পানি কম খাওয়া এবং খাবার মেনুতে আঁশযুক্ত খাবার না রাখায় এ সমস্যা হতে পারে।

মাথাব্যথা হতে পারে।  যাদের কফি বা ধূমপানের অভ্যাস আছে তারা অনেকসময় সারাদিনের রোজায় মাথাব্যথায় আক্রান্ত হতে পারেন।

লো ব্লাড প্রেনার হতে পারে।  কারণ তরল খাবার কম গ্রহণ করার কারণে এটি হতে পারে।

হজমে সমস্যা ও পেট ফাঁপা।  অনেক সময় হজমেও সমস্যা হতো পারে।

পেপটিক আলসার, গ্যাস্ট্রিক, বুকজ্বালাও হতে পারে।  সারাদিন উপোস থাকার কারণে অনেকের এসিডিটিও হয়ে থাকে।  মনে রাখবেন, অতিরিক্ত তেল মশলাযুক্ত খাবার, কফি এবং সফট ড্রিঙ্কস এ অবস্থাকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।

যে ধরনের খাবার খাওয়া উচিত

১. রোজা রাখার পর ইফতারির সময় অনেকেই অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন। নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি এড়ানোর জন্যই আপনাকে ইফতারিতে অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।  সারাদিন অভুক্ত থাকার পর হঠাৎকরে বেশি খাবার একসঙ্গে খেলে আপনার পরিপাকযন্ত্রে গণ্ডগোল দেখা দিতে পারে।

২. ইফতারিতে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার বর্জন করুণ।  যতদুর সম্ভব ভাজাপোড়া খাবার কম খাবেন।  এতে করে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

৩. রোজায় লবণ পরিমাণ মত খেতে চেষ্টা করতে হবে।  কারণ লবণ বেশি খেলে পানির তৃষ্ণা বেশি লাগবে।  যেহেতু আপনি সারাদিন পানি পান করতে পারবেন না, তাই আপনার শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

৪. পানিশূন্যতা দুর করতে চিনি দিয়ে গোলানো শরবত অথবা সফট ড্রিঙ্কসের ওপর বেশি নির্ভর না করাই ভালো।  ঘরে তৈরি শরবত ও ফলের রস পরিমাণমত পান করা বুদ্ধিমানের কাজ।

৫. লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে প্রতি ইফতারে এবং সেহরিতে যথেষ্ট ফল ও শাক সবজি থাকে।

বেশি করে যেসব খাবার খাবেন

• আঁশযুক্ত খাদ্য

• কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাদ্য

• দেশি ফল, শাকসবজি ইত্যাদি

• প্রচুর পরিমাণ পানি

বেশি পরিমাণ খাদ্যগ্রহণ, ভাজাপোড়া খাবার, অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার, মাত্রাতিরিক্ত চা পান ও সফট ড্রিঙ্কস থেকে দূরে থাকতে হবে।  প্রথম থেকে  এসব মেনে চললে রোজা রাখার পরও আপনি সুস্থ থাকবেন।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net