শিরোনাম
হবিগঞ্জে প্রতীক থিয়েটার’র তিন-দশক পূর্তি নাট্যোৎসব

হবিগঞ্জে প্রতীক থিয়েটার’র তিন-দশক পূর্তি নাট্যোৎসব

সংবাদ২৪রিপোর্ট: ১৪ এপ্রিল ২০১৬ থেকে হবিগঞ্জের জনপ্রিয় নাট্যদল ‘প্রতীক থিয়েটার’-এর তিন-দশক পূর্তি নাট্যোৎসব ২০১৬। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকার দেউন্দি চা-বাগানের প্রতীক থিয়েটার মঞ্চে এই উৎসব চলবে ১৪ থেকে ১৬ এপ্রিল ২০১৬ পর্যন্ত। থাকছে ড. মুকিদ চৌধুরী’র রচিত ও বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার শিল্প-নির্দেশনায় নাটক। BritBangla-র (নভম্বের ২০১৩) মন্তব্য, ‘ড. মুকদি চৌধুরীর একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ‘বাংলামুভমেন্ট থিয়েটার’ নির্মাণ করা। তিনি বিশাল নাট্যশিল্পীর অংশগ্রহণে, বিরতিহীন, একটানা একটি নাটক পরবিশেন করনে। প্রতিটি নাট্যশিল্পই যেন এক-একটি বাদ্যযন্ত্র, তাদের নিয়ে একটানা অঙ্গিকাভিনয়ের আবরণে প্রকাশ করেন মূল কাহিনীটি। প্রতিটি শিল্পীই হয়ে উঠনে প্রধান ও মূল অভিনেতা। ‘বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার’-এর জন্মদাতা হিসেবে ড. মুকিদ চৌধুরীর নাম শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হয়। তিনি প্রবাসে নতুন ধারায় মঞ্চনাটক শুরু করনে সেই ১৯৯৬ সাল থেকে। একে একে এল ‘পুরাণ কথার শুকপাখি’, ‘ঋতুরঙ’, ‘মৌসুম’, ‘তালতরঙ্গ’, ‘সৃষ্টি’, ‘অনাহূত অতিথি’ ইত্যাদি। নাট্য গবেষক ড. তানভীর আহমেদ সিডনীর মন্তব্য (রাইজিং বিডি ডট কম, আগস্ট ২০১৪), ‘ড. মুকিদ চৌধুরী ‘বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার’ আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, গবষেক, সম্পাদক ও লখেক। তিনি দেশ-বিদেশে মুভমেন্ট থিয়েটার এবং নৃত্য নিয়ে কাজ করছেন। তার প্রযোজনাসমূহ বাংলাদেশ এবং লন্ডনে মঞ্চায়তি হয়েছে।’
১৪ এপ্রিল ২০১৬: রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ও ড. মুকিদ চৌধুরী’র ‘মুভমেন্ট থিয়েটার’ শিল্প-নির্দেশনায় ‘হৈমন্তী’ (প্রতীক থিয়েটার; চা-বাগানের ভাষায় রূপান্তর: ডা. সুনীল বিশ্বাস)। প্রদর্শনী: রাত ৮.৩০ মিনিট।
১৫ এপ্রিল ২০১৬: ড. মুকিদ চৌধুরী’র রচিত ও বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার শিল্প-নির্দেশনায় নাটক ‘অশোকানন্দ’ (ডাকাতিয়া থিয়েটার, লাকসাম; পরিচালনা: সুশীল আচার্য্য) এবং ‘রাজাবলি’ (নাট্যভূমি, ঢাকা; পরিচালনা: শাহজাহান শোভন)। ‘অশোকানন্দ’: প্রদর্শনী: রাত ৭.৩০ মিনিট। ‘রাজাবলি’: প্রদর্শনী:রাত ৯টা।
ড. মুকিদ চৌধুরী’র রচিত ও বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার শিল্প-নির্দেশনায় নাটক ‘অশোকানন্দ’: সময়: ৩২৩ খ্রি.পূ.। বঙ্গ-মগধের মহারাজাধরিাজ ধনানন্দকে হত্যা করে চন্দ্রগুপ্ত (প্রথম) সংহাসন আরোহণ করেন। তখনই দেখা দেয় নানা জটলিতা ও নাটকিয়তা। গঙ্গা-মগধের আসল যুবরাজ অশোকানন্দ তাঁর পিতার মৃত্যু এবং তার মাতার নতুন স্বামী গ্রহণই এর জন্য দায়ী হয়ে ওঠে। শুরু হয় প্রতিশোধ। ঘটে মৃত্যু, ট্রাজেডিও। চলে ছলচাতুরি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা। প্রর্দশিত হয় ভুলে যাওয়া বাংলা এক ইতিহাস।
ড. মুকিদ চৌধুরী’র রচিত ও বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার শিল্প-নির্দেশনায় নাটক ‘রাজাবলি’: পূজায় নৈবেদ্যর নামে পশুবলির মতো একটি জঘন্য প্রথার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে ত্রিপুরার মহারাজা গোবিন্দমাণিক্য মন্দিরের পুরোহিত রঘুপতির ঈর্ষার কারণ হন। ঈর্ষাকাতর রঘুপতি দেবতার তুষ্টির কথা বরে ক্ষেপিয়ে তুলেন প্রজা-ভক্তদের এবং মহারাজ গোবিন্দমাণিক্যকে বলি বা বিসর্জনের জন্য এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন। রঘুপতির সব ষড়যন্ত্রকে পাশ কাটিয়ে গোবিন্দমাণিক্য পশুবলি প্রথা বন্ধ করে অসুর শক্তিকে পরাস্ত করে মানবিক শক্তির উদ্বোধন ঘটান ত্রিপুরায়। এই ঘটনা নিয়েই নাটক ‘রাজাবলি’। এ নাটকের গোবিন্দমাণিক্য, নক্ষত্ররায়, রঘুপতি প্রভৃতি চরিত্র ঐতিহাসিক, ড. মুকিদ চৌধুরীর সৃজন সত্যবতী, জয়মন্তী এবং পুষ্কর; যাদের মধ্য-দিয়ে তার মূল দর্শন উপস্থিত।
১৬ এপ্রিল ২০১৬: ‘ড. মুকিদ চৌধুরী’র রচিত ও বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার শিল্প-নির্দেশনায় নাটক তারকাঁটার ভাঁজে’ (প্রতীক থিয়েটার, হবিগঞ্জ; পরিচালনা: ডা. সুনীল বিশ্বাস) এবং ‘চম্পাবতী’ (নাট্য জংশন, পরিচালনা: জি এম এস রুবেল)। তারকাঁটার ভাঁজে’: প্রদর্শনী: রাত ৭টা। ‘চম্পাবতী’: প্রদর্শনী:রাত ১০টা।
ড. মুকিদ চৌধুরী’র রচিত ও বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার শিল্প-নির্দেশনায় নাটক ‘তারকাঁটার ভাঁজে’: ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বীরাঙ্গনা যে অংশ নেন এবং পাক-সশস্ত্র-বাহিনীর অত্যাচারের সম্মুখীন হন তা সমগ্র বিশ্ববাসীর অজানা নয়। নারী যে পুরুষের মতোই সাহসী ও যোদ্ধা এরকম একজন বীরাঙ্গনার গৌরবময় দিক নিয়ে রচনা করা হয়েছে এই নাটকটি। এই নারীযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সহযোদ্ধা ছিলেন দুজন পুরুষ। তাদের সহযোগিতায়ই তিনি পাক-বাহিনীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্রভাবে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেন, নিজে যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্বের সঙ্গে সৈন্য পরিচালনা করেন, পরিশেষে তিনি দেশকে স্বাধীন করে রণক্ষেত্র থেকে অবসর নেন।
ড. মুকিদ চৌধুরী’র রচিত ও বাংলা মুভমেন্ট থিয়েটার শিল্প-নির্দেশনায় নাটক ‘চম্পাবতী’: গৌড়ের এক সুন্দর অঞ্চল ছিল চন্দ্রদ্বীপ। প্রাচীন লোকগাঁথায় আর ঐতিহ্যে পরিপূর্ণ এই জনপথ, যা একসময় ছিল গৌড়েশ্বরের অধীনে। সেসময় চন্দ্রদ্বীপে ছিলেন তিনজন জমিদার, তারা অবশ্য গৌড়ের অভিজাতশ্রেণি হিসেবে বিবেচিত হতেন। জমিদার প্রিয়নাথ, রামচন্দ্র রায় ও শাহ সিকান্দার ধন-সম্পত্তি আর ক্ষমতা কোনও অংশেই গৌড়েশ্বরের চেয়ে কম ছিল না। জমিদার প্রিয়নাথ ছিলেন শান্তিপ্রিয় ও সুদর্শন যুবক, তিনি চান রামচন্দ্র রায়ের কন্যা চম্পাবতীকে বিয়ে করতে। অন্যদিকে, রামচন্দ্র রায় ও শাহ সিকান্দার অদ্ভুত প্রকৃতির মানুষ। তারা সহজেই একের সঙ্গে অপর বিবাদে ও বিদ্বেষে ফেটে পড়েন, তাই হয়তো-বা তারা দীর্ঘদিনের এক রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে লিপ্ত। একসময় এই দুই পরিবারের সদস্য গাজী ও চম্পাবতী, ধর্মের বিভেদ ভুলে, একে অপরকে ভালোবাসেন, আর প্রিয়নাথ, সমধর্মের লোক হলেও হন বঞ্চিত। এই হিন্দু-মুসলমান প্রেম-কাহিনী নিয়েই রচিত হয়েছে ‘চম্পাবতী’।
১৪ এপ্রিল উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্থানীয় সাংসদ এড. মাহমুদ আলী আর বিশেষ অতিথি হিসেবে চেয়ারম্যান মো. আবু তাহের (চুনারুঘাট উপজেলা), চেয়ারম্যান মো. ওয়াহেদ আলী (পাইকপাড়া ইউপি), ব্যবস্থাপক মো. রিয়াজ উদ্দিন (দেউন্দি চা-বাগান) ও নাট্যজন লিটন আব্বাস। ১৫ এপ্রিল বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নাট্যজন মো. জাহাঙ্গীর আলম, নাট্যজন পার্থ প্রতিম সেন, নাট্যজন তোফাজ্জল সোহেল, নাট্যজন জালাল উদ্দিন রুমি, নাট্যজন পাবেল রহমান, নাট্যজন শাহজাহান শোভন, নাট্যজন উজ্জল দাশ প্রমুখ। আর ১৬ এপ্রিল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাংসদ এড. আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী। বিশেষ অতিথি সেক্রেটারি জেনারেল মো. আক্তারুজ্জামান (গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন) ও সহকারি অধ্যাপক আল জাবির (কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়)।
এই উৎসবে আরও থাকছে, ১৪ এপ্রিল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্প অবলম্বনে সুনীল বিশ্বাস নাট্যরূপ ও নির্দেশিত আর ‘প্রতীক থিয়েটার’ পরিবেশিত নাটক ‘পূজার সাঁজ’ (প্রদর্শনী: রাত ৮টা); আর ১৬ এপ্রিল থাকছে রওশন জান্নাত রোশনী রচিত, দেবাশীষ ঘোষ নির্দেশিত ও ‘শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্র’ (ঢাকা) পরিবেশিত নাটক ‘বীরাঙ্গনার বয়ান’ (প্রদর্শনী: রাত ৮টা)।

Scroll To Top

Design & Developed BY www.helalhostbd.net